I Want to Eat Your Pancreas [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

যদি আপনাকে বলা হয়, আপনি আর দুই কি তিনমাস বেঁচে থাকবেন এই পৃথিবীতে, আপনি তখন কী করবেন? ঘরে বসে থেকে অজস্র চিন্তায় সময় নষ্ট করবেন নাকি আরও চমৎকার বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন, ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বেন ক্ষুদ্র জীবনের ছোট্ট বাকেটলিস্টটার কিছু ইচ্ছে পূরণ করতে? ওয়েল, আমার মত অনেকেই দ্বিতীয় অপশনটা খপ করে ধরে নিবে। কিন্তু ধরেবেঁধে নিয়ম দিলেই আপনার কেন সেই ইচ্ছেটা পূরণ করতে হবে? আপনি তো আগামীকালও মারা যেতে পারেন ঘর বসে থেকেই, কিছু জেনে বুঝে ওঠার আগেই। তাহলে প্রতিদিন যে চমৎকার বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন না, নিজের ছোট্ট বাকেটলিস্টটার প্রতিটি অপশনে টিক দিচ্ছেন না, this was a life worth living কথাটা ভাবার আগেই যদি হারিয়ে ফেলেন সমস্ত অস্তিত্ব, তখন কেমন হবে? এখন, যদি উত্তর হয়, কারণ সাধারণ জীবনে আমাদের কিছু দায়িত্ব থাকে, সময় ও সুযোগ হয়ে উঠবে না অনেক ক্ষেত্রেই, দুইয়ে দুইয়ে চার হয় না, তাহলে বলুন, দুটি মৃত্যুর ভেতরে আসলে পার্থক্য কি খুব বেশি? জন্মিলে মরিতে হয় – এর চেয়ে সত্য যেমন নাই, তাহলে মৃত্যুটা নিশ্চয়তার জালে আটকা পড়ে গেছে অনেক আগেই; বেঁচে থাকার লিমিটটা জানা যদি হয়েও যায়, তবুও কেন তাকে আলাদা চোখে দেখতে হবে? আগামীকাল আপনি মারা যাবেন সম্ভাবনার সাথে এটা সত্য এই যে, একদিন না একদিন আপনি মারা যাবেনই; তাহলে দুই কি তিনমাস পরে যে মৃত্যুটাকে বরণ করতে যাচ্ছে, তার সাথে আপনার তো তেমন পার্থক্য নেই। তার জন্য মন খারাপ না করে, তাকে করুণার চোখে না দেখে বরং তার সাথে জীবনটাকে, নিজের সময়টাকে একটু মিলিয়ে নিজের স্বাভাবিক জীবনের মত তার জীবনকে স্বাভাবিক উপহার দিলে যে সৌন্দর্যের রচনা হয়, সে সৌন্দর্যের মতন সৌন্দর্য কমই আছে পৃথিবীতে, অনুভব করতে পারেন?
 
এমন অদ্ভুত নামের মুভিটাতে এই চিন্তার দেখা মিলেছে এবং মুভিটা সত্যিকার অর্থেই জানতে চেয়েছে, তার গল্পের মাঝে, আপনার কাছে, প্রিয় দর্শক, বেঁচে থাকাটা আপনার কাছে কি?
 
এবং মুভির উত্তরটা পেতে হলে আপনাকে নিজেরই দেখতে হবে।
 
 
প্যানক্রিয়াস নামের সাথে যদি পরিচয় না থাকে, অদ্ভুত নামটা দেখে ভাববেন না, হাতে তৈরি মিষ্টি, লোভনীয় কোনো খাবার, সাধারণ অর্থে প্যানক্রিয়া হইলো মানুষের দেহের পাচকতন্ত্রের একটা অঙ্গ, যা খাবার হজমে সহায়তা করে এবং মানুষকে তার দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতাকে চালু রাখার জন্য শক্তি প্রদান করে (ডাক্তারদের হাই!)। ওয়েট ওয়েট, এইটা ক্যানিবালিজম নিয়ে কোনো মুভিও না, মুভিতে শুধু একটুখানি প্যানক্রিয়া খাওয়ার ইচ্ছেই প্রকাশ করছে কারণ জাপানিজ এক প্রবাদ বা বিশ্বাস অনুযায়ী, আপনার কোনো দেহের কোনো অংশে যদি কোনো সমস্যা থাকে এবং প্রিয়জনের সেই অংশটা যদি আপনি খান, তাহলে আপনার সেই বডি পার্টটা সুস্থ হয়ে যাবে।
 
সাকুরা, গল্পের মূল চরিত্র প্যানক্রিয়াটিক ডিজিজে ভুগছে এবং শ্রীঘ্রই সে মারা যাবে। তারই ক্লাসের নামহীন এক ক্লাসমেইট হাসপাতালে একদিন তার ডায়রি আবিষ্কার করে এবং ডায়রিতে চোখ বুলিয়ে সে জানতে পারে, কিছুদিন পরেই সাকুরা মারা যাচ্ছে। সাকুরার কাছে জানতে পারে, ক্লাসের একমাত্র সেই জানলো এই তথ্যটা এবং ক্লাসমেইট বি লাইক, হু কেয়ারস। চললাম।
 
জীবন তাদের কাছে কি, বেঁচে থাকাটা কি সেটাই গল্পে উঠে এসেছে একদম শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত।
আই মিন, মার্ভেল ইউনিভার্সের মত ক্রেডিটের শেষেও গল্প রাখা আছে। দেখিয়েন।
 
মুভিটা প্রেডিক্টেবল। মুভির ডিরেক্টরও জানতেন, তাই শুরুতেই তিনি স্পয়লার খাইয়ে দিয়েছেন, লেখা পড়ে সেটাও আপনি বুঝতে পারছেন সহজেই। এই ধরনের মুভিতে উঠে আসার কথা যে যে বিষয়গুলো – কমবেশি সবই উঠে এসেছে এবং আপনি যদি ভাবেন, প্রেডিক্টেবল মুভিটা দেখে লাভ কি – ওয়েল, প্রেডিক্টেবল, তবুও সুন্দর। অনেক সুন্দর! এক্সট্রোভার্ট আর ইন্ট্রোভার্ট দুই প্রোটাগনিস্ট জীবনকে কিভাবে নিচ্ছে, নিতে যাচ্ছে – দেখতে দেখতে মন খারাপ হয়তো হবে আবার ভালোও লাগবে ভীষণ। মানুষ হিসেবে আমরা অন্য মানুষের কাছে কি চাই? সুন্দর কিছু স্মৃতি? হ্যাঁ, আর বুকের গভীরে কোথাও লুকিয়ে থাকা ছোট্ট একটা ইচ্ছে, আমাকে একটু মনে রাখুক।
 
আপনি কেন বাঁচবেন জানেন? কারণ, আপনি মারা যাওয়ার সাথে সাথেই আপনাকে ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষগুলোর স্মৃতি আপনার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যাবে। আর এই স্মৃতিগুলো ইউনিক কারণ মানুষ হিসেবে আপনি নিজেই ইউনিক, আপনার মতন মানুষ পৃথিবীতে আর একটাও নাই, আপনার চোখ দিয়ে দেখা সেই মানুষগুলোর ছবি আর কারো চোখে দেখা নাই। তাই হয়তো মানুষ বাঁচে, তাই হয়তো বাঁচতে হয়। আনিমের কিছু শক্ত ভিত্তির ভেতর এই অনুভূতিটা অন্যতম একটা উপাদান এবং এই মুভিতেও এই ভাইভটা উঠে এসেছে শক্তভাবেই।
 
চমৎকার এনিমেশনের সাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে, নরম, আরামদায়ক অথচ ব্যথাতুর উপস্থাপনার প্রেডিক্টেবল এই মুভিটা দেখা শেষ করে একটু ব্যথাই লেগেছে – প্রিয় মানুষগুলো চলে গেলেও ব্যথা বুকে নিয়ে মুখে হাসি রেখে বেঁচে থাকা জীবনটা এত সুন্দর, এত সুন্দর! সেই সৌন্দর্যটা অনুভব করে নিতে হয় কিন্তু চোখে দেখা যায় না কেন? এত অদ্ভুত সৌন্দর্যের কোনো মানে হয়?
 
সাজেশনঃ আবারও বলছি, প্রেডিক্টেবল মুভি। কিন্তু দেখে আশা করি মনে হবে না, সময় নষ্ট করেছি।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime : I want to eat your pancreas.
  • Type : Movie
  • Genre : Drama
  • Director : Shin’ichirō Ushijima
  • Studio : Studio VLON
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Weathering with You [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

আনিমের এই জগতে আমার পা রাখাই মাকাতো শিনকাই -এর হাত ধরে এবং অবশ্যই সেই আনিমের নাম ছিলোঃ Your name. এরপর আর পেছন ফিরে তাকানো হয় নি, একের পর এক আনিমে দেখছি, মাকাতো শিনকাই-এর কাজগুলোকে আনিমে ইউনিভার্সের অভিজাত এলাকার সদস্য বলে দাবি করতে করতে তার মুভিগুলো দেখেছি। এবং তিনি আবারো ফিরে এলেন তার মুভি Weathering with You দিয়ে; এই রিভিউটি মাকাতো শিনকাই, মুভির ভালো এবং খারাপ এবং আমার কিছু ব্যক্তিগত ভাবনা মিলিয়েই।
 
 
গল্পঃ হোদাকা ঘর পালানো ষোল বছরের একজন কিশোর যে টোকিওতে এসেছে অন্য এক জীবনের আশায়। জাপানের ব্যস্ততম শহর টোকিও তার কাছে বিভীষিকাময় লাগে কেননা টোকিও এবং এর বাইরের অঞ্চল যেন দুটো দুই পৃথিবী (উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা নতুন কোন মানুষের প্রথম ঢাকা দর্শনের অনুভূতির মতন); তবু টোকিওর পথে দিন পার করতে করতে তার পরিচয় হয় আঠারো বছরের হিনা নামের এক মেয়ের সাথে এবং সে আবিষ্কার করে, হিনা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ঠিক একই সময়ে টোকিওতে প্রচুর ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, টোকিওর ব্যবসায়িক অবস্থা পরিবেশের এই খারাপ অবস্থার জন্য নিম্নগামী। হোদাকা হিনাকে “সানশাইন গার্ল” হিসেবে ব্যবসা শুরু করতে বলে যে টাকার বিনিময়ে মানুষের প্রয়োজন অনুসারে আবহাওয়া পরিবর্তন করে মানুষকে সাহায্য করবে।
 

স্পয়লার এলার্ট

(ইওর নেম দেখেছেন, ভালো লেগেছে এবং এটা দেখেন নি – এমন হলে স্পয়লার না পড়াই শ্রেয়)
 
মাকাতো শিনকাই ইজ ব্যাক উইথ হিজ সিগনেচার স্টাইল – স্টোরি টেলিং এবং আর্ট।
 
একটা বড় প্রবলেম বলি, ইওর নেইম খুব বড় একটা ঝড় তুলে দিয়েছিলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড; ওয়েদারিং উইথ ইউ স্ট্যান্ড এলোন আনিমে হিসেবে চমৎকার কিন্তু একই ডিরেক্টরের দুটো মুভির উপস্থাপনের এনভায়রনমেন্ট স্টাইলটা একই হওয়ায় রিভিউগুলোতে খুব ভুগতে পারে। কেননা, আমি মুভি দেখার সময় বারবারই ফিরে ফিরে ইওর নেইমের কথা মনে পড়ছিলো। এবং (গভীর স্পয়লার এলার্ট), ইওর নেইমকে মনে পড়তে বাধ্য করে ছাড়লোও।
 
ওয়েদারিং উইথ ইউ এর পৃথিবী আলাদা। অন্যরকম। ব্যস্ত টোকিও শহরের অলিগলি উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউ -এর সাথে। শহরের সৌন্দর্যের পরিবর্তে শহরের স্বাভাবিক জীবনের ছুটে চলা সময়টা উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউতে যেটা ইওর নেইম থেকে একেবারেই আলাদা। মাঙ্গা ক্যাফে, শহরের কুৎসিত জায়গা, অসহ্যকর আবহাওয়া, অসম্ভব মনে হতে থাকা শহরের জীবনধারণ প্রক্রিয়া, মাফিয়া, ড্যাম কেয়ার মানুষজন – যেগুলো সাধারণ সৌন্দর্যের কথা বলে না, সেগুলোই উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউতে। তার অন্যান্য মুভির মত চকচকে, ঝকঝকে টোকিও শহরটা নেই, সাদামাটা একটা শহরে রঙিন দুটো প্রজাপতির মত কিশোর কিশোরীর একে অন্যকে আঁকড়ে ধরে বেড়ে ওঠার গল্পটা হয়তো ইওর নেইমের অসাধারণ উপস্থাপনার কাছে মিইয়ে এসেছে বলে মনে হবে প্রচুর দর্শকের কাছেই। কিন্তু আমার কাছে এর আবেদন একেবারেই অন্যরকম, একেবারেই আলাদা! টোকিওর আনাচে কানাচে সারভাইভ করতে করতে যে প্রেম গড়ে ওঠে, রূপ নেয় পরিবারে অথবা যায় ঝরে; মাকাতো শিনকাই এবারে সেই পৃথিবীর প্রেমটাকেই তুলে এনেছে ওয়েদারিং উইথ ইউ এর গল্পে, আরও বিশুদ্ধ রকম করে। যে প্রেমের ভেতর হয়তো অন্য কোন কিছুর স্থান নেই।
 
শিনকাই -এর মুভিগুলো দেখে আমার ভেতর একপ্রকার বিষণ্ণতা কাজ করে। আমার ভেতর একপ্রকার ব্যথাও করে। কারণ, শিনকাই তার প্রতিটি মুভিতে কেবল দূরত্ব তুলে ধরে। দুটো মানুষ যেন দুই পৃথিবীর, যারা একটু কাছে আসতে চায়, বসতে চায় মুখোমুখি, হয়তো বলতে চায় অগোছালো দু তিনটে কথা কিন্তু তাদের মাঝে কি বিশাল দূরত্ব! এই দূরত্ব কি করে পাড়ি দিয়ে কাছে এসে একবার বসা যাবে? আমার এ ভাবলে অদ্ভুত এক ব্যথা হয় যেন শিনকাই যে জীবনের কথা বলতে চায় তার দৃষ্টিকোণ থেকে, সে জীবনের অদৃশ্য দূরত্ব যেন ব্যক্তিগত জীবনে আমিও অনুভব করতে পারি, কোথাও কিছু একটা থাকার দরকার ছিলো। দ্য প্রমিজ ইন আওয়ার আরলি ডেইজ, ফাইভ সেন্টিমিটার পার সেকেন্ড, দ্যা গার্ডেন অব ওয়ার্ডস, ইওর নেইম এমনকি ওয়েদারিং উইথ ইউতেও এই দূরত্বের অনুভূতি টের পাওয়া যায়, দুটো মানুষের ভেতর কিন্তু ওয়েদারিং উইথ ইউতে এর গন্ধটা অন্যরকম। একেবারেই অন্যরকম।
 
তার অন্যান্য কাজের থেকে একটু আলাদা এই মুভিকে অনুভব করতে হলে হয়তো ভাবতে হতে পারে টোকিওর ছুটে চলা দিনগুলোর কথা, হয়তো ভাবতে হতে পারে আমাদেরই ঢাকা, আমাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং আমারই মত সারভাইভ করতে থাকা এই শহরের অচেনা কোনো প্রেমিকা। একদিন দেখা হলে বলে দেওয়া যেতে পারে, the world has always been crazy, it’s no one’s fault that it’s like this. I’m sure that I’ll be alright, we’ll be alright here, in this world.
 
যে প্রেমের কথা শিনকাই বলে গেলো ওয়েদারিং উইথ ইউতে সেটা কান্নার রংয়ে আঁকা, ব্যথার মতন সুন্দর। যে প্রেম শুধু মানুষটাকে চায় এই ব্যস্ততম শহরে, ব্যান্ড রডউইম্পসের সাথে বরাবরের মতই জীবন্ত হয়ে ফিরে এসেছে, বলতে চেয়েছে অনুভূতিটার কথা, দর্শক হয়তো খুব গোপন করে একসময় লালন করেছিলো সেই অনুভূতি।
 
অবশ্যই মুভিতে প্লটহোল আছে, ফ্যান্টাসি জনরার উপাদান আছে, স্টোরি এডভান্স হওয়ার কিছু জায়গা দুর্বল মনে হয়েছে বেশ কিন্তু যে গল্প আমি শুনতে চেয়েছি, বুঝতে চেয়েছি সে গল্পটা আমাকে টান দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে এসেছে সেসব জায়গা হতে। আমাকে বলতে চেয়েছে শিনকাই ইউনিভার্সের কথা, পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তার পৃথিবীর সাথে। আর মেজর স্পয়লারটা এখানেই, ইওর নেইমের তাকি আর মিতসুহার দেখা পাওয়া (মিতসুহার মত রূপবতী আর কেউ নাই।
 
মুভিটা শেষ করে আমি ভাবছি, অবশ্যই আরও দশজন দর্শকের মত করে ভাবছি, দুটো গল্পের পৃথিবী একই। দুটো গল্প না শুধু, যেমন দ্য গার্ডেন অব ওয়ার্ডসের ইউকিনোকেও দেখা গিয়েছিলো ইওর নেইমে, বলা যায় তিনটে গল্পের পৃথিবী একটাই। শিনকাই পৃথিবী, যে পৃথিবীতে শিনকাই বাস করেন, শিনকাই বেঁচে আছেন এবং শিনকাই এর সমাপ্তির সাথে সাথেই পৃথিবীটা শেষ হয়ে যাবে। শিনকাই যেন বলতে চাইছেন, একই পৃথিবীতে সুখ দুঃখ হাসি কান্নার কথা, আমাদের ব্যক্তিগত পৃথিবী আলাদা এবং সবাই ঘুরেফিরে একে অন্যের সাথে কানেক্টেড। আমার মনে হলো, শিনকাই নিজেও চাচ্ছেন, তার চরিত্রগুলোর পৃথিবীতে, তার পৃথিবীতে তার নিজেকে লুকিয়ে রাখতে। অবশ্য এসবই আমার ব্যক্তিগত ভাবনা কিন্তু আমার মনে হলো, একই পৃথিবীকে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের চোখ দিয়ে উপস্থাপন করতে চাইছেন তিনি, কারণ রিয়ালিটিতে আমাদের দেখার দৃষ্টিকোণ আলাদা। আপনি যে চোখে ঢাকাকে দেখেন, যে ভাবনায় ভাবেন, সেভাবে আমি অবশ্যই দেখি এবং ভাবি না এবং শিনকাই তার পৃথিবীকে চেনার জন্য তুলে ধরছেন ভিন্ন ভিন্ন মানুষের চোখে। আমার মনে হয়, সামনেও তিনি একই কাজ করবেন এবং অন্য কারো চোখে তুলে ধরবেন শিনকাই-পৃথিবীকে কিন্তু তখনো মিতসুহা সবচেয়ে রূপবতী তরুণীই থাকবে আমার কাছে। আই লাভ মিতসুহা। মুভিতে ওকে দেখার পর পজ করে অনেকক্ষন দেখে নিয়েছিলাম মিতসুহাকে।
 
সাজেশনঃ ইওর নেইম থেকে ভালো হবে না খারাপ হবে ভাবা ছেড়ে দিয়ে উপভোগ করুন অন্যরকম টোকিওকে যদিও, ইয়ে মানে মিতসুহাই তখনো সেরা রূপবতী থাকবে, এটা না মানলে চলবে না।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime: Weathering with You
  • Type: Movie
  • Genre: Slice of life, romance, fantasy
  • Director: Makoto Shinkai
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Weathering with You [মুভি রিভিউ] — Nazmus Sakib

মুভির নাম – Tenki no Ko (Weathering with You)
ডিরেক্টর + স্ক্রিপ্ট + ক্রিয়েটর – মাকোতো শিনকাই
ম্যাল রেটিং – ৮.৫৮
ব্যক্তিগত রেটিং – ৭

মোটামুটি ভাল জিনিস। খারাপ না। মোটের উপর বেশ এঞ্জয়েবল।

গল্পঃ ৬

রোমান্স মুভি হিসেবে বেশ ভাল। উনার এর আগে করা কিছু ফ্যান্টাসি রোমান্সের তুলনায় এইটাতে ফ্যান্টাসি এলিমেন্টটা অতটা বেখাপ্পা লাগে নি। কিন্তু বড় বড় ত্রুটিগুলো এখানেও রয়ে গিয়েছে। যেমনঃ ট্রোপের ব্যবহার (পিতামাতার অনুপস্থিতি, Onee-san ক্যারার উপস্থিতি, পিতা-কন্যা বা ভাইবোনের হৃদয়বিদারক(?!) গল্প) আর সস্তা প্লট ডিভাইস (বন্দুকটা ছাড়াও গল্প এগুনোর জন্য আরও কিছু কাকতালীয় ঘটনা)।

চরিত্রায়ণঃ ৮

এই দিকটা বেশ ভাল লাগল। গল্পের মূল দুই চরিত্র ওদের বয়স অনুযায়ী আচরণ করেছে আর ওদের রক্তমাংসের মানুষ বলেই মনে হয়েছে।

আর্ট ও এনিমেশনঃ ৫

এই দিকটা বেশ হতাশাজনক। উনার মুভিগুলোর এই দিকটার যেই সমস্যার কথা অনেকে বলে, তার সবই এইটাতে দেখলাম। অর্থাৎ ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে মনে হচ্ছিল ফটোগ্রাফ থেকে এডিট করা, আর ক্যারাকটারগুলি ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে যাচ্ছিল না। সিজিয়াই মুভমেন্টগুলো কোথাও কোথাও আড়ষ্ট মনে হয়েছে। আর টোকিওর ঘিঞ্জি এলাকাগুলো সেটিং হিসেবে কতোটা উপযুক্ত, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

সাউন্ডঃ ১০

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অসাধারণ ছিল। প্রতিটা গান গল্পের ভাবের সাথে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। গানগুলি এতই ভাল, যে এমনি শুনতেও ভাল লাগবে। আর মুভির শেষের গানটা তো পুরা গল্পটাকেই সামারাইজ করে দিল কী সুন্দর করে। গানের সাবটাইটেল ছিল বলে কৃতজ্ঞ।

এঞ্জয়মেন্টঃ ৮

লো এক্সপেকটেশন নিয়ে দেখেছি। খারাপ লাগেনি। একবারে দেখে উঠার মত ছিল মুভিটা। সময়টা ভালই কেটেছে।

আপনারাও এইটা যদি স্রেফ সময় কাটানোর জন্য দেখেন, তাইলে ঠকবেন না অন্তত আশা করি। তাই ইচ্ছা থাকলে দেখেই ফেলুন না

The Garden of Words [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

বৃষ্টির দিনে মরে যাই যাই অনুভূতি হয় একটা। হরমোনগুলোর নিঃসরণ হয়তো একটু বেশিই হয়। মনে হয় কারো গন্ধ চাই আবার মনে হয়, না, এভাবেই তো ঠিক আছে। বারান্দায় জল জমে বৃষ্টির, ভেজা গ্রিলে হাত রাখলে শিরশির করে গোটা দেহ, মনে হয়, এভাবেই বেঁচে থাকাটাও খুব সুন্দর। একা একা। ভেতর থেকে বহুকিছু ধীরে ধীরে চলে গেছে, একলা সুন্দর একটা স্বপ্নের ইচ্ছেয় দিনগুলো পার করতে থাকার অনুভূতিটাও সুন্দর। খুব সুন্দর।
 
আমি প্রায় সকল কিছুর ভেতরেই সৌন্দর্য খুঁজতে থাকি। সৌন্দর্যের তৃষ্ণা চোখে, বুকে, ঠোঁটে, মুখে।
 
আমার একটা ব্যক্তিগত ব্লগ আছে। নাম Garden of words; একটা প্রিয়, খুব প্রিয় আনিমের নামে নাম। আনিমের নামটাই, The Garden of Words. শব্দদের বাগান। এছাড়া আর কি! যে বাগান শব্দ দিয়ে তৈরি। আসলেই তাই। কিন্তু এই কথাটাই ভাবতে বসলে বুকের ভেতর আমার ভীষণ আলোড়ন তোলে। ভীষণ! শব্দদের বাগান! ব্লগটা আমার নিজস্ব একটা বাগান, যার ফুলগুলো শব্দ//অক্ষর দিয়ে ঘেরা, এরা মাঝে মাঝে ফোটে। যত দিন যায়, এদের রূপগুলো কমতে থাকে বলে মনে হয়, বারান্দায় ফিরে যাই, সিগারেট ধরিয়ে বৃষ্টির জলকে আহবান করতে থাকি আরও, আরও, আরও অনেকক্ষণ পড়ার। মন খারাপ না, তবু মন খারাপ করতে ইচ্ছে করছে। ভীষণ মন খারাপ ডুবিয়ে দেয়া যেত গোটা শহর!
 
 
গল্পঃ আনিমের গল্প নিয়ে কথা বলি বরং। বৃষ্টি ভালোবাসেন আমার মতো?
 
অবশ্য আমি বৃষ্টি ভালোবাসি একটু একটু।
এই মুভির পুরোটা জুড়ে কেবল বৃষ্টি আর বৃষ্টি।

১৫ বছর বয়সী একজন ছেলে, Takao (বাংলায় অদ্ভুত দেখতে লাগে নাম), একজন স্কুলছাত্র, যার ধ্যান-জ্ঞান হাতে জুতো ডিজাইন করা ও বানানো। বৃষ্টির দিন হলেই তার নিজের সাথে নিজের কথা দেওয়া আছে, স্কুল মিস সেদিন। এমনিতে সরগরম থাকা সিনজুকু ন্যাশনাল গার্ডেন সেদিন থাকে চুপচাপ, সে নিজের মত নিজের কাজে মনোযোগ দিতে পারে। তার এই কাজ তার ভালো লাগে।

এবং ২৭ বছর বয়সী একজন নারী, ইউকিনো, তাকে একদিন আবিষ্কার করে ন্যাশনাল গার্ডেনে; কেউ কাউকে চেনে না, শুধু যাবার আগে একটু ধাঁধা হয়ঃ

 
A faint clap of thunder
Clouded skies,
Perhaps rain comes,
If so, will you stay.. with me
 
এ এক খেয়ালী প্রশ্ন যেন। এক প্রাচীন জাপানিজ কবিতা।
চাই এর খেয়ালী সঠিক উত্তর।
এর উত্তর কি দেওয়া হবে?

সেখান হতে গল্পের পথ চলা আপন ভঙ্গিতে..

 
***Spoiler Alert***
 
এটা হয়তো রিভিউ, আবার রিভিউ না। আমার মত করে বলা একটা গল্প।
 
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি; আবার ভারী ভারী। এমন সময়ে মনে হয়, বোধহয় অন্য কোন পৃথিবীতে বেঁচে আছি। সময়টা থমকে আছে, থমকে আছে – বৃষ্টিরা আছড়ে পড়ছে ধীর থেকে ধীরে – ইউকিনো কোনো স্টেশন থেকে নেমে এগোচ্ছে কি না পার্কের দিকে, দেখার জন্য বাইরের জমে থাকা জলে পা বাড়াতে ইচ্ছে করে।
 
আমি বের হলাম। সেকেন্ডের কাটাটাও আছড়ে পড়ছে ধীরে, যেমনটা ধীরে আছড়ে পড়ছে প্রতিটা জল। আমার মনে পড়লো, এই মুভিটার একটা বিশেষত্ব আছে। এতে মাকাতো শিনকাই ক্যারেক্টারগুলোর ভাবনা বোঝার কোন উপায় রাখেন নি। ক্যারেক্টারগুলোর থটস বোঝার জন্য অনেকসময় ভেতরকার মনোলগ ব্যবহার করে ভাবনার দৃষ্টিকোণটা বুঝতে সাহায্য করে। মুভিতে এরকমটা নেই, যার রিপ্রেজেন্টশনটা হয় অনেকটা রিয়ালিটির মতন। আমরা শুধু আমাদেরটাই ভাবতে পারি, আমরা ভাবতে পারি না আমাদের সামনের মানুষটার ভাবনা। পুরো মুভিতে একটা রহস্য রহস্য ভাবনা, পা বাড়াতেই বিচলিত হয়ে উঠলো আমার মন, ইউকিনো কি ভেবেছিলো? কি ভেবেছিলো তাকাও? আজ বৃষ্টিতে তাকাও আর ইউকিনো পার্কে আসবে?
 
মন খারাপ হয়ে গেলো। অসম্পূর্ণ গল্পের সম্পূর্ণটা জানতে আমার ভীষণ পোড়ায়। চিরাচরিত, সাধারণ অনুভূতির চেয়ে আলাদা একটা প্রেম, সে কি করে এগোবে, আদৌ আগাবে কি না, জানতে ইচ্ছে করে। কেউ এক টানে নিয়ে বসিয়ে দিলো তাকাও এর সিটে – টের পেলাম, আমার বুক ছিঁড়ে আসে কারো মুখ দেখার। হয়তো বাস্তবের আমির মত।
 
আমি প্রতিটা দৃশ্য ধরে ধরে এগোতে থাকি।
 
আমার মনে পড়লো, মুভিতে কথোপকথন অনেক কম। মৃদু হাসলাম। যেখানে প্রতিটা ফ্রেম নিজেই এক একটা গল্প, সেখানে আলাদা করে কথোপকথনের কি দরকার আছে? দুজন পাশাপাশি চুপচাপ বসে থাকায় যে দুই পৃথিবীর দূরত্ব তুলে ধরে, কোন কথোপকথনটা সেখানে ঠিক মানাবে?
 
বৃষ্টি কি ভেতরের কান্নার কথা বলে? নাকি, বৃষ্টির পর প্রকৃতির নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার মতন, আবারও বেঁচে ওঠার মতন, তাদের আবারও নতুন করে হাঁটতে থাকার কথা বলে? আমি ভাবি, জীবনটা তো এইটুকু, স্বাদ শেষ হবার আগেই মনে হয়, জীবন শেষ হয়ে গেলো মনে হয় আমার এখনই, এই যে না বলা রহস্যটুকু, নিংড়ে পুরো পরিবেশটাকে দুচোখের ভেতরটাকে আটকে রেখেও তৃপ্তি না পাওয়া গল্পটা এরকমই থেকে যাবে?

Weathering With You/ Tenki no Ko [মুভি রিভিউ] — Rumman Raihan

 

অ্যানিমে: WEATHERING WITH YOU / Tenki no Ko / 天気の子

টাইপ: মুভি
জনরা: সুপারন্যাচারাল, ড্রামা, ফ্যান্টাসি, রোম্যান্স, স্লাইস অফ লাইফ
দৈর্ঘ্য: ১ ঘন্টা ৫৪ মিনিট
স্টুডিও: CoMix Wave
গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায়: মাকোতো শিনকাই
সময়কাল: ২০১৯

এই রিভিউটি স্পয়লারবিহীন। তবে নিচে আলোচনা দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে। স্পয়লারযুক্ত ও স্পয়লারমুক্ত আলোচনা মূল রিভিউয়ের পরে।

 
স্পয়লার বিহীন রিভিউঃ
 
১৭ জানুয়ারি তারিখে লন্ডনের প্রথম পাবলিক স্ক্রিনিং-এ দেখতে গিয়েছিলাম মাকোতো শিনকাই এর অ্যানিমে ফিল্ম – “Wheathering with you”. একই সিনেমায় কয়েকবছর আগেই দেখেছিলাম Your Name. সেটার রিভিউ পাওয়া যাবে এখানে
 
কাহিনী সংক্ষেপঃ
টোকিয়োতে বৃষ্টি হচ্ছে খুব, অনেকদিন ধরেই। অন্তহীন সেই বৃষ্টির মাঝে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘর পালানো এক ছেলে, হোদাকা । ক্ষুধা আর ভয় নিয়ে অচেনা এই শহরে সে একটা কাজের সন্ধান করছে।
এই শহরেই নাকি একটা মেয়ে আছে। যে কিনা প্রার্থনা করে বৃষ্টি থামিয়ে দিতে পারে। কালো মেঘ সব দূর করে দিতে পারে। অবশ্যই সেটা অলৌকিক কল্পকাহিনী আর রহস্য ম্যাগাজিনের গল্পের কথা।
তবে একদিন হোদাকা সেই মেয়েটার দেখা পেল। হিনা। রৌদ্র-বালিকা হিনা এসে হোকাদার জীবনে এনে দিল একফালি রোদ্দুর।
পারবে কি তারা একসাথে তাদের জীবনের ঝড়ঝঞ্জা আর বাঁধা পেরিয়ে যেতে?
 
কেমন লেগেছে:
অভিভূত হয়েছি।
মাকোতো শিঙ্কাইয়ের অ্যানিমের প্রোডাকশন শুরু হবার আগে লেখা ওয়েদারিং উইথ ইউ উপন্যাসের শেষে লেখকের ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন যে তিনি এমন গল্পের ফিল্ম তৈরি করতে চান যা কিনা খাঁটি অনুভূতির কথা বলে। হলিউডের বানানো আর্টিফিশিয়াল “লাভ” স্টোরি নয়, আবার সামার ব্লকবাস্টারের গৎবাঁধা মোরালিটির কোনো প্রোডাক্ট নয়। ইয়োর নেইম মুভিটাকে যখন পশ্চিমারা আকাশে তুলে ধরলো আবার কেউ কেউ গালমন্দ করতে লাগলো এর অগভীরতা নিয়ে, তখন শিনকাই উঠে পড়ে লাগলেন তার মনের মত একটা গল্পের উপহার দিতে। যেখানে ইয়োর নেইমে অনুপস্থিত আবেগ আর পশ্চিমাদের চিরচরিত নীতিবোধের তোয়াক্কা না করা গল্প। যেমনটা তিনি এর আগেও তৈরি করে এসেছেন।
এবং সত্যিই তাই। এই ফিল্ম দেখতে এসেছিল অনেক বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে এবং ভুল করেছেন। কারণ অনেক অংশে তাদের সংকোচের আওয়াজ শুনেছি।
আবার এই মুভিতেই কিছু মুহূর্তে শুনেছি থিয়েটারে কে জানি কাঁদছে।
আমার আর আমার বন্ধুর চোখেও পানি এসে গিয়েছিল…
 
RADWIMPS এর অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক dolby atmos সিস্টেমে শুনে আর বড় স্ক্রিনে কমিকস ওয়েভ স্টুডিয়োর সিগ্নেচার সিটিস্কেপ দৃশ্যগুলোর নিখুঁত ও জীবন্ত সব ডিটেইলস্‌ দেখে যে কেউ বিহ্বল বা অভিভূত হয়ে যাবে। কিন্তু তার উপর হোকাদা আর হিনা আর তাদের চারপাশের রঙিন সব চরিত্রগুলোর প্রতি আবেগ কাজ না করলে এই অ্যানিমেটা এত উপভোগ করতাম না।
 
সিনেমা থেকে বের হয়েই আবার দেখতে ইচ্ছে করেছে। তেনকি নো কো
~~ হাওয়ার টানে তোমার সনে~~

স্পয়লারযুক্ত আলোচনা:

মুভিটা দেখার পরে এই অংশটি পরবেন, ঠিক আছে?  স্পয়লার না চাইলে শেষের অংশে চলে যান।
স্পয়লার অ্যালার্ট
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
 
কোনো বাসার ছাদে লাল তোরী গেইট সহ শ্রাইন দেখলে ভুলেও সেখানে গিয়ে দেখে আসার ইচ্ছে পোষণ করবেন না। এরিয়ে যাবেন। যেভাবে নিচের মেজর স্পয়লার এরিয়ে যাবেন, সেভাবে।
 
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
 
তাকি আর মিতসুহাকে দেখে আমি আর আমার বন্ধু দুজন হা করে একে অপরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
(বলেছিলাম না এখানে স্পয়লার দিবো?!!)
এমন ক্যামিও আশা করিনি। যদিও ইয়োর নেইম দেখার সময়ও গার্ডেন অফ ওয়ার্ডসের ইউকারিকে দেখা যায়। তাই বলে ইয়োর নেইমের তাকি যে হোদাকাকে রিলেশনশিপ অ্যাডভাইসও দিবে তা কি আর আশা করা যায়? (হেহে no pun intended হেহে)
মুভিটা আবার দেখতে হবে, কেননা ইয়োর নেইমের অন্যান্য সাউড ক্যারেক্টারও নাকি ক্যামিও হিসেবে দেখা গিয়েছে, তাদেরকে ধরতে পারিনি।
ফ্যান থিওরি হচ্ছে, মুভির শেষের অংশে যখন তুষার পড়ছিল, ঠিক সেই সময়েই মিতসুহা আর তাকির ইয়োর নেইম-এ স্টেয়ারকেইসে দেখা হয়। কি জানি!
যাইহোক…
হোদাকা যখন হিনাকে নিয়ে প্রথম দৌড়ে পালানোর সময় পিস্তল টা বের করলো, তখন দেখে শ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল! একদম ইন্টেন্স একটা মোমেন্ট!
 
মুভিতে ড্রাগনটা দেখে স্পিরিটেড অ্যাওয়ের কথা মনে পড়েছিল। এমনকি একজন তো স্পিরিটেড অ্যাওয়ে হয়ে যাওয়ার রেফারেন্স ও দেয়। আর মুভির শেষে ইভাঙ্গেলিওনের টোকিয়োর কথা মাথায় এসে গেল। একটা চরিত্রের নামও তো ছিল আসকা। মনে হয় ইন্টেনশনাল রেফারেন্স। কেননা ইভাঙ্গেলিওনের মত এই মুভিটাও একটা অ্যান্টি-সেকাই-কেই (look up sekai-kei if you don’t know what it is)।
 
বেড়ালটা ছিল এত্ত সুন্দর দেখতে! কিন্তু টাইমস্কিপ হবার পরে ইয়া মোটকা হয়ে গেল। xD হাসতে হাসতে শেষ!
কেইস্কে সুগা বেড়ালটাকে কি খাইয়েছে কে জানে!
 
হোটেলের রাতটাতে যখন হিনা ষদচ্ছ/ হয়ে যেতে থাকে আর হোদাকা কাঁদতে শুরু করে, তখন আসলেই চোখে পানি এসে গিয়েছিল। অনেক ইমোশনাল একটা মুহুর্ত। আবার যখন cumulonimbus মেঘের উপর থেকে নিচে পৃথিবীতে ফিরে আসতে থাকে তখন একদম গুসবাম্পস এসে গেছে। আনন্দে চোখে পানি এসে গেছে আবার।
 
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️

স্পয়লারমুক্ত আলোচনা:

তবে এইরকম চমৎকার অ্যানিমের অত্যন্ত আনফেয়ার রিভিউ দেখা যাচ্ছে। যারা বলছে যে এই অ্যানিমেটা ইয়োর নেইমের কপি পেস্ট, তারা কি মাকোতো শিনকাই দূরে থাক, মামুরো ওশিও বাদ থাক, স্টুডিও জিব্লিরও কি কোনো অ্যানিমে দেখে নাই? ফিল্ম স্ট্রাকচার এক রেখে একটা ভিন্ন গল্প যে বলা যায় সেটা এরা কি জানে না? জেনে থাকলে এমন বাজে রিভিউ কেন?
 
এর কারণ হচ্ছে ঐযে বলেছি না মাকোতো শিনকার তার হলিউডে আর মেইন্সট্রিম অ্যানিমের মোরালিটির বাইরে গেছেন। তাই এই মুভি ভালো লেগেছে এটা অনেকেই মানতে পারছে না। প্রোস্টিটিউশন, গান-ভায়োলেন্স এর উপর কমেন্ট্রি, গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ আর টিনেইজ নন-ফিযিকাল, ইনোসেন্ট লাভ – এসব বিষয় পশ্চিমের অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। ওয়েস্টার্ন পলিটিক্যাল এই এনভায়রনমেন্টে তাই এই মুভির তেমন প্রচারও করা হয় নি যেমনটি হয়েছিল ইয়োর নেইমের সময়। জি-কিডসের প্রচারণা একদম নগণ্য, কেননা আমি মুভিটার ট্রেইলার পর্যন্ত দেখিনি মুভিটা দেখে আসার আগে।
 
জাপানে কিন্তু এর জনপ্রিয়তা কোনোআংশে কম ছিল না। ৬ মাস ধরে সিনেমাতে চলেছে। এখানেও স্ক্রিনিং শিডিউল এক্সটেন্ড করা হয়েছে, কারণ প্রত্যেক সাবটাইটেল্ড স্ক্রিনিং দেখা যাচ্ছে ফুল হাউজ।
তাই অনলাইন রিভিউ বা অ্যানিটিউবারদের কথা না শুনে দেখে এই অ্যানিমেটা নিজে যাচাই করার চেষ্টা করবেন।

 

আমার রেটিংঃ ১০/১০

Penguin Highway (মুভি রিভিউ) — Loknath Dhar

পেঙ্গুইন হাইওয়ের গল্পটা সাদামাটা রঙের সুন্দর। আইওমা ফোর্থ গ্রেডের একজন ছাত্র যার প্রিয় কাজ হচ্ছে – শেখা, জানা এবং রিসার্চ করা। অসংখ্য ভাবনায় ডুবে থেকে একটা একটা করে আমাদের পৃথিবীটাকে চিনতে শেখা। আর দশটা বাচ্চা থেকে সে আলাদা কারণ সে জানে, সে স্মার্ট এবং সে আরও স্মার্ট হতে চায়। মানুষকে স্মার্ট করে তার জ্ঞান এবং তার জানার আগ্রহ। আইওয়ামার ক্রাশ তার ডেন্টিস্ট লেডি যে তাকে দাবা খেলা শিখায়, তার দাবা খেলার পার্টনার। এবং অনেক মেয়ে তাকে বিয়ে করতে চাইবে কিন্তু এটা একটা স্যাড সিচুয়েশন যে সে তাদের কাউকে বিয়ে করতে পারবে না। কারণ তার মনে একজনই, ডেন্টিস্ট লেডি। একদিন আইওয়ামা স্কুলে যাবার পথে রাস্তার পাশের একটা মাঠে একদল পেঙ্গুইন দেখতে পায়। পেঙ্গুইনরা সাধারণত থাকে এন্টার্কটিকায় এবং এছাড়া এদের একমাত্র দেখা যায় চিড়িয়াখানায় – এটাই সে জানতো। তাহলে, এই পেঙ্গুইনরা কোথা থেকে এলো?
 
এই রহস্য উদঘাটনে সে নামে এবং তার সাথে যোগ দেয় তার বন্ধু উচিদা এবং অবশ্যই ডেন্টিস্ট লেডি।
 
মুভিটা নিয়ে আমি খুব বেশি নাড়াচাড়া দেখি নি। আন্ডাররেটেড? জানি না। তবে মুভিটা সত্যিই চমৎকার লেগেছে, অন্তত আমার কাছে। মুভির গল্পের ফ্লো সমান্তরালে গেছে। মেইন ক্যারেক্টারের শান্ত স্বভাব আমি বেশ উপভোগ করি বলে আমার কাছে চমৎকার লেগেছে। ম্যাচিউর হলেও দশ থেকে বারো বছরের বাচ্চা যতটুকু ম্যাচিউর হতে পারে, এর বেশি আমার কাছে মনে হয় নি। চমৎকার!
 
আনিমের একটা বড় ব্যাপার হলো, গল্প এবং তথ্য। এগুলো আনিমেকে আরও উপভোগ্য এবং ম্যাচিউর করে তোলে। ব্যতিক্রম নেই এটাতেও। সাই-ফাই গল্প হিসেবে মোটেও খারাপ না এবং যেসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে ফ্লো চলে যাওয়া (উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পেঙ্গুইনের স্বভাব) – উপভোগ্য।
 
এনিমেশন, ভিজুয়াল, আর্ট স্টাইল চমৎকার ছিলো! সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, ধুমধাম (যেগুলোকে ফ্লাশি ইফেক্ট বলে আরকি) ইফেক্টের বদলে এনিমেশনটা ডিটেইলে যত্ন করে বানানো হয়েছে, যেটা খুবই খুবই উপভোগ্য এবং এটা মুভিটাকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে!
 
সাজেশন ক্যাটাগরিঃ আরামদায়ক দুটো ঘন্টা চলে যাবে আশা করি।
 
সংক্ষেপেঃ
 
  • Anime : Penguin Highway
  • Type : Movie
  • Genre : Fantasy, Sci Fi
  • Script : Makoto Ueda
  • Novel : Tomiko Morimi
  • Director : Hiroyasu Ishida
  • Studio : Studio Colorido
 
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Movie Time With Yami – Pseudo Episode (টিং টং মুভি টাইম)

টিং টং, সিউডো মুভি টাইম উইথ ইয়ামি

আজকে মুভি দিবস পালন করলাম, তাই মেলাদিন পরে মুভি নিয়ে আবার কিছু লিখতে ইচ্ছা হল। রিভিউ টিভিউ দেয়া ধাতে পোষাবে না, কোনটা কেমন লাগল খালি সেটা লিখতেসি।

Penguinhighway

১. পেঙ্গুইন হাইওয়ে –

খুবই ভাল লেগেছে। বাচ্চাকাচ্চা পোলাপানের ইঁচড়েপাকা গবেষণা, ট্যান্ট্রাম থেকে শুরু করে শহরের মাঝখানে পেঙ্গুইনের আবির্ভাব, সবমিলিয়ে মোটামুটি উদ্ভট একটা প্লটকে খুব এঞ্জয়েবল ভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। একটা মুহূর্তের জন্যও স্লো বা বোরিং লাগেনি। অ্যানিমেশন, ওএসটি খুবই সুন্দর। যেকোনো আনিমেতে আমি ব্যাকগ্রাউন্ড, বাড়িঘর, গাছপালা, আকাশ বাতাসের দিকে আলাদা করে নজর দেই, এইখানে সেগুলো খুবই যত্ন নিয়ে বানিয়েছে, so I’m happy!!

Kimitonamininoretara

২. কিমি তো নামি নি নোরেতারা –

আমি খুবই খুশি যে সিনোপসিস না পড়ে বা কোনোরকম গবেষণা ছাড়া শুধুমাত্র পোস্টার দেখে এই মুভি দেখতে বসেছিলাম। এইজন্য শুরুর ২৪ মিনিটের মিষ্টি অংশটুকু খুব ভাল লেগেছে দেখে। এরপরে মোটামুটি ইমোশনের আপ ডাউনের উপর দিয়ে পার করেছি। প্লট মোটেও নতুন না, এর আগে এরকম প্লট নিয়ে আরও মুভি হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে, এক্সিকিউশনের কারণে কাহিনিটা আপন আপন লেগেছে। এন্ডিং পছন্দ হয়েছে। অ্যানিমেশন, ওএসটি ভাল, আমার মাথায় এখন মুভিতে অতি ব্যবহৃত গানটা কন্টিনিউয়াস ঘুরপাক খাচ্ছে।

Ninokuni

৩. নি নো কুনি –

উপরেই রাইড ইওর ওয়েভ নিয়ে যেটা বললাম, সেটার উল্টা ভার্সন এখানে বলব। ইসেকাইতে যাতায়াত, এই টাইপ প্লট মনে হয় তেমন আনকমন না, ওয়েল রিসিভড বলেই হয়ত, কিন্তু আমার মুভিটা তেমন ভাল লাগে নি। 30 minutes into the movie I got bored. পেসিং বাজে লাগল, একেবারেই টানছিল না আমাকে। অন্তত ২০/৩০ বার বোরড হয়ে উঠে গিয়ে অন্য কাজ করে এসে আবার বসেছি। কাহিনী বেশিই প্রেডিক্টেবল, ওয়েল প্রেডিক্টেবল হলে আমার কোনো সমস্যা হয় না ইউজুয়ালি, এটার এক্সিকিউশন ভাল লাগে নি। মেদেতাশি মেদেতাশি মার্কা এন্ডিংটা আমি দুই মাইল দূর থেকে চারচোখো হওয়া সত্ত্বেও দেখতে পাচ্ছিলাম, খুব পেইনফুল ভাবে সেটাই ঘটল। অ্যানিমেশন আহামরি লাগেনি, ওএসটি আদৌ শুনসি কিনা মনে পড়ে না

(নোট – এককালে কোনো কিছু বেশি ভাল লাগলে বলতাম “অতিরিক্ত ভাল লেগেছে”। Today this award goes to Penguin Highway )

Haikara-san ga Tooru Movie 1: Benio, Hana no 17-sai [রিভিউ] — Trisha Islam

Haikara-san 1

Haikara-san ga Tooru Movie 1: Benio, Hana no 17-sai
Genres: Comedy, Historical, Romance, Shoujo

এই এনিমে মুভিটির প্লট আসলে ১৯৭৫ সালের একটা বিখ্যাত মাঙ্গার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। মুভিটির নামের ট্রান্সলেশন করলে দাঁড়ায় Here Comes Miss High-Collar বা Here Comes Ms. Modern.

মুভিটার সেটিং হল ১৯১৭ অর্থাৎ ১ম বিশ্বযুদ্ধের টাইম পিরিয়ডকে কেন্দ্র করে কাহিনির বিচরন। ঐ সময়টাতে জাপান আস্তে আস্তে একটা আইসোলেটেড আইল্যান্ড থেকে মডার্ন জাপানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সে সময়টা তে ট্রাডিশন আর মডার্নিজম এর মধ্যে যে কনফ্লিক্ট কাজ করছিলো, কিভাবে ট্রাডিশনাল রোলস গুলো পরিবর্তন হচ্ছিল আর বিভিন্ন বয়স এবং শ্রেনীর মানুষ এই পরিবর্তনকে কিভাবে নিচ্ছিলো তা এই এনিমেতে বেশ সুন্দর করে দেখানো হয়েছে। আবার যেহেতু ১ম বিশ্বযুদ্ধে জাপান মিত্রপক্ষের একটা দেশ ছিল, তাই যুদ্ধের ব্যাপারটাও কিছুটা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে এইসব কঠিন কঠিন হিস্টোরিক্যাল বিষয়গুলোর থেকেও বড় কথা হচ্ছে, এটি একটি লাভ-কমেডি। তাই অনেকটা হাসতে হাসতে শেখার মত ব্যাপার আছে।

এখন কাহিনিতে চলে যাই, আমাদের Haikara-san বেনিও হানামুরা (Benio Hanamura) নিজেকে Modern লেডি হিসাবে ভাবেন এবং কিছুতেই ট্রাডিশনাল অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করতে রাজি নন। কিন্তু তার ভ্যাগেই যেন কার সাথে বিয়ে হবে দুই জেনারেশন আগে ঠিক করে রাখা হয়েছে। Modern লেডি, বিদ্রোহি কন্যা তোহ ঝাসির রানি। সে কিছুতেই বিনা যুদ্ধে হার মানবে না।

Haikara-san 2

কাহিনির শুরু হয় এভাবে। এরপর চলতে থাকে বিভিন্ন টুইস্ট অ্যান্ড টার্নের মাধ্যমে তার প্রেমে পড়ার কাহিনি। অনেক ধরনের বাধা আর বিপত্তির মধ্যে কি পারবে বেনিও হানামুরা তার নিজের পছন্দ করা কাউকে জীবন সঙ্গী পেতে? নাকি সে বাধ্য হবে দুই জেনারেশন আগে ঠিক করে রাখা মানুষটার সাথেই ঘর বাধতে? এমনটাও হতে পারে “Fate has some other plans for our miss High-collar”.

এই মুভির আসলে দুইটা পার্ট, যার প্রথমটা হলো এইটা। শেষ পার্ট এখনো আসেনি। বেশ উপভোগ্য একটা মুভি আর আপনার যদি History নিয়ে আগ্রহ থাকে তাহলে তোহ কথাই নেই – ভালো লাগতে বাধ্য। আর্ট ওয়ার্ক বেশ ভালো। আমার নিজের পুরান আর্টের প্রতি এলার্জি আছে তাই অনেক ভালো ভালো সিরিজ দেখা হয় না। কিন্তু এরকম ক্লিন আর্ট দিয়ে সব পুরান এনিমে গুলা রিমেক করলে বেশ হয়।

বেনিও হানামুরা ভয়েস এক্টর হচ্ছে Hayami Saori যার করা Yukinoshita Yukino কে অনেক বেশি ভালো আর Shiba Miyuki কে অনেক বেশি বিরক্তিকর লেগেছিলো। কিন্তু এখানে আবার বেশ উপভোগ করেছি তার কাজ। আর লিড মেইল এর ভয়েস এক্টর হচ্ছে Miyano Mamoru, যার কাজ বেশ ভালো লাগে।

আমার কাছে বেশ লেগেছে আর রেটিং হচ্ছে: ৮।

Miyori No Mori [আনিমে ও মাঙ্গা রিভিউ] — Krista King

Name: Miyori No Mori
Genre: fantasy, drama, spiritual (nature).
Demographic: All
Anime Duration: 1hr 47min
Manga: vol2, ch.8
Author: Hideji Oda
Director: Nizo Yamamoto
Aired: 2007

সারসংক্ষেপ–
একদা মিয়োরি নামক একটি মেয়ে শৈশবে খেলতে খেলতে অরণ্যের গভীরে হারিয়ে গিয়েছিল। সেখানে ডিভাইন ট্রী-এর স্পিরিট তাকে অরণ্যের রক্ষী হিসাবে নির্বাচন করে। এখন মা ও বাবার মধ্যে অনবরত কলহের মাঝে ছোট্ট মিয়োরি একা হয়ে যায়। বড় হওয়ার সাথে সাথে সে মানুষের চেয়ে প্রকৃতিকে বেশি আপন করে ফেলত। মা বাবার বিচ্ছেদের দরুন এগারো বছরের মিয়োরি থাকতে শুরু করে ঠাকুমা-ঠাকুরদার সাথে সেই অরণ্য সংলগ্ন গ্রামে। প্রথমে অসুবিধা হলেও পরে গ্রামের মানুষ ও অরণ্যের স্পিরিটদের সাথে মিশে যায়। ইতিমধ্যে গ্রামে একদল মানুষের আবির্ভাব হয় যারা সেখানকার নদীতে বাঁধ বানাতে চায় কিন্তু সেটা হলে গ্রামসহ অরণ্য ডুবে যেতে পারে। সমস্ত অরণ্যের স্পিরিটদের একত্রিত করে তাদের এমন চমকায়, যাতে তারা আর ফেরত না আসে। এইভাবেই ছোট্ট মিয়োরি সকলকে বাঁচিয়ে নেয়।

Miyori No Mori 1

My View-
অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলি। বেশ একটা গিবলি সিনেমাগুলোর মত অনুভব হয়। ক্যারেকটার ডিজাইন বাস্তবিক যেটা সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে আমার। মিয়োরির চরিত্রটি সবচেয়ে আকর্ষক। ছিচকাঁদনে অতিমিষ্টি চরম উৎসাহী নয় বরং শান্ত-শিষ্ট, নম্র অথচ দৃঢ়-মনস্কা, বাস্তবিক। শৈশব থেকে মা-বাবা, সহ-পাঠীদের কাছে তিরস্কৃত হওয়ার পরও, সবকিছু ভুলে মানসিকভাবে আরো দৃঢ় হয়ে ওঠার পরিণতিটি দেখার মত। মানুষের চেয়ে প্রকৃতির প্রতি এত টান, কোথায় একটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বলাই”এর কথা মনে করিয়ে দেয়। সবমিলিয়ে গল্প শেষে বেশ একটা ভালো লাগা থেকে যায়।

(আপনি এর মাঙ্গাটাও পড়ে দেখতে পারেন, মাত্র আটটি চ্যাপ্টারের, সেখানেও চিত্রগুলো খুব সুন্দর ও বাস্তবিক, মাঙ্গাতে আরোকিছু details আছে ঘটনাতে।)

Miyori No Mori 2

The Red Turtle [মুভি রিভিউ] — Torsha Fariha

Red Turtle 3

মুভির নামঃ Red Turtle
Production Company: স্টুডিও জিবলি ও ওয়াইল্ড বাঞ্চ। 
IMDb Rating: ৭.৬
Personal Rating:

২০১৭ সালের অস্কারের best animation feature film এর ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পাওয়া।

খুব ছিমছাম সুন্দর ৮০ মিনিটের একটা মুভি। জটিল কোন কাহিনী না, স্নায়ুতে টান ধরানো কোন ক্লাইম্যাক্স না, খুব খুব খুব সাধারন একটা মুভি। এবং খুব চুপচাপ। হাসি আর কিছু চিল্লানো ছাড়া এখানে আর একটা কথাও নেই। মুভির সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং জিনিস মনে হয় এটাই। একটা কথাও না বলে কিভাবে এত সুন্দর একটা কাহিনী ফুটিয়ে তোলা যায়!

কাহিনী খুবই সরলরেখার। জাহাজভাঙ্গার পর এক লোকের জ্ঞান ফিরে নাম না জানা এক দ্বীপে। কয়দিন ধাতস্ত হওয়ার পর প্রথম সুযোগেই সে ভেলা বানায় দ্বীপ ছাড়তে যায়। কিন্তু প্রতিবারই একটু কিছুদূর যাওয়ার পর ভেঙ্গে যায় ভেলাটা। কয়েকবার চেষ্টার পর সে আবিষ্কার করে একটা লাল রঙের কচ্ছপের কাজ এটা।

গল্পটা বেশ ছোটই তাই আর বলতে গেলে এক-দুইটা যে টুইস্ট আছে সেগুলাও বলা হয়ে যায়। তাই বাকিটুকু জানতে দেখতে হবে মুভিটা।

Red Turtle 1

এবার আসি সৌন্দর্যের কথায়। মুভিটা এককথায় চোখের শান্তি। ধূ-ধূ সাগরতট, সবুজ বন, নানা শেডের নীল পানি, উঁচু উঁচু ঢেউ দেখতে খুব ভাল লাগে। কিন্তু সাথে একটা একাকীত্বের অনুভূতি আসে। আমার দেখতে গিয়ে মনে হয়েছে, খাবার-পানি ছাড়া যেমন বাঁচা যায় না, তেমনি বি-শা-ল একটা জায়গায় একা থেকেও বাঁচা যায় না।

এবার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ডায়ালগের ঘাটতি আসলে এখানে অনেকখানিই মিটিয়ে দিয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। খুব সুদিং।

Red Turtle 2

এমনিতে ড্রব্যাকের কথা যদি খুঁজে খুঁজে বলতে হয়, তবে বলব মুভিটা একটু স্লো। যারা এক্সাইটিং কিছু খুঁজছেন তারা মনে হয় কিছুটা হতাশই হবে। তবে এটা ঠিক ড্রব্যাক না। মুভির জানরাই এমন। স্লাইস অফ লাইফ- সুপার ন্যাচারাল যাদের পছন্দ কিংবা বেশ কিছুদিন ধরে যারা একশন-থ্রিলার দেখছেন, অথবা আমার মত আনিমে দেখা থেকে প্রায় অবসর নিতে বসেছেন- মোট কথা সবারই এই মুভি পছন্দ হবে।

মুভিটা আমার কাছে অনেকটা ছুটি কাটানোর মত রিল্যাক্সিং লেগেছে।

তাই, না দেখে থাকলে দেখে ফেলতে পারেন। সময়টা সুন্দর কাটবে।

Red Turtle 4