[ প্রথমেই বিশাল Spoiler Alert দিয়ে রাখি ]
এই এনিমে মুভি নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার নেই। এরপরেও বলি – “অসাধারণ মাপের মুভি”! কাহিনীর মূল চরিত্র Hana, যে কলেজে পড়াশুনা করে। আপনজন কেউ নেই। কলেজে পড়ার সময়ই তার পরিচয় হয় এক ছেলের সাথে। তার সাথে সে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে। আর এক সময় Hana সেই ছেলের কাছ থেকেই জানতে পারে, ছেলেটি আসলে Wolf (OOkami). তার মাঝে Human আর Wolf – দুই সত্ত্বাই বিদ্যমান। কিন্তু এটা জানার পরেও Hana ভালোবাসে সেই ছেলেকে। তাদের দুই সন্তান জন্ম নেয়। বড় মেয়ে Yuki, ছোট ছেলে Ame. কিন্তু Ame এর জন্মের পর পরই তাদের বাবা মারা যায়। Hana পড়ে অকূল পাথারে। এই দুই Wolf Children কে কীভাবে বড় করবে? ৪ বছর পর সে চলে যায় অনেক দূরের এক পাহাড়ে, যে জায়গায় বাস করাটা মোটামুটি সংগ্রামের পর্যায়ে পড়ে। সেখানে চলে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য – সবার চোখের আড়ালে, নিঃসঙ্গভাবে কাউকে না জানিয়ে বাচ্চাদের বড় করে তোলা। দুই বাচ্চাকে নিয়ে Hana কে অবতীর্ণ হতে হয় জীবন যুদ্ধে। আর প্রতি পদক্ষেপে সে অভাব অনুভব করতে থাকে তার স্বামীর। এক সময় দুই সন্তানকে Hana স্কুলে ভর্তি করে। Yuki যেমন দুরন্ত, Ame ঠিক তেমন চুপচাপ। কিন্তু ঘটনার প্রবাহে তাদের চরিত্রে চলে আসে বৈপরীত্য। Yuki নিজের মানব-বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। আর অন্যদিকে Ame’র রক্তে খেলা শুরু হয় তার অন্য সত্ত্বার! সময় আসে তাদের নিজেদের পথ নিজেদেরই বেছে নেওয়ার।

আমার মনে হয় এই এনিমের মধ্যে মা-সন্তানের ভালোবাসা বেশ ভালোভাবেই তুলে ধরা হয়েছে; বিশেষ করে Yuki আর Ame কে নিয়ে Hana’র Struggle করার মুহূর্তগুলো, তাদেরকে নিয়ে ছুটে বেড়ানো, Ame’র পানিতে ডুবে যাওয়া, শেষ দিকে Ame কে জঙ্গলে খুঁজে বেড়ানো – সব দৃশ্যই মনে জায়গা করে নেওয়ার মত। এই মুভিতে আরো একটা জিনিস কিন্তু ভালো লাগার মত – মানুষের সামাজিক জীবনের উপর নির্ভরশীলতা। আবার এখানেই নিঃসঙ্গতার কষ্টটাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতির জীবন? নাকি সামাজিক ধরাবাঁধা জীবন? এই চিরন্তন প্রশ্নটাই যেন এই মুভিতে ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন চিন্তার মধ্য দিয়ে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে। জবাবটা আসলে নিজেকেই খুঁজে পেতে হবে …
এই পোস্টেই মনে হয় কাহিনীর বেশিরভাগটাই বলে দেওয়া হয়ে গেছে। যারা এই এনিমে মুভিটা দেখেন নাই তাদের নিজ দায়িত্বে পুরো মুভিটা অবশ্যই দেখে নিতে বলা হল। [ বি.দ্রঃ এই পোস্টে উল্লেখিত মতামত একান্তই নিজস্ব। কারো সাথে কাকতালীয়ভাবে মিললে দায়ী নই, আর না মিললেও কেউ দায়ী থাকবে না! ]
