Yawara! A Fashionable Judo Girl [রিভিউ] — Nazmus Sakib

আনিমে – Yawara! A Fashionable Judo Girl
এপিসোড সংখ্যা – ১২৪ + ১টি মুভি
লেখক – নাওকি উরাসাওয়া
স্টুডিও – ম্যাডহাউজ
ম্যাল রেটিং – ৭.৫০
ব্যক্তিগত রেটিং –
 
ধীরলয়ের, রিল্যাক্সিং, ও ব্যতিক্রমী স্পোর্টস কমেডি ড্রামা। “মন্সটার”- খ্যাত উরাসাওয়ার অপেক্ষাকৃত হাল্কা স্বাদের ও হ্যাপি মুডের কাজ এটি। পুরোনো দিনের স্লো পেসড ড্রামা দেখতে চাইলে এটি হতে পারে আইডিয়াল।
 
সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
সময়কাল আশির দশকের শেষদিক। ভীষণ প্রতিভাধর এক জুডো খেলুড়ে পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের কিশোরী মেয়ে ইয়াওয়ারা। জুডোতে তার জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু জুডোতে মোটেও আগ্রহ নেই ওর। সে বরং চায় সাধারণ মেয়ের মতই জীবনটাকে উপভোগ করতে, যৌবনের স্বাদ নিতে, ট্রেন্ডি স্টাইলের কাপড়চোপড় পরতে। কিন্তু বাদ সাধেন ওর দাদু। এক সময়কার ডাকসাইটে জুডোকা ঐ দাদুর শাসনে ইয়াওয়ারাকে প্রতিনিয়ত জুডোর প্র্যাকটিস করতে হয়। তার দাদুর একটাই ইচ্ছা – ইয়াওয়ারা যেন বার্সেলোনা অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় করে। শুরু হয় ইয়াওয়ারার স্বাভাবিক জীবন আর জুডোকা হিসেবে ক্যারিয়ারের মাঝে ব্যালেন্স করে পথচলা। পথে ওর অনেক বন্ধু জুটে, ভালোবাসার পাত্রও জুটে যায়। এভাবেই আমাদের চোখের সামনে সে বেড়ে উঠতে থাকে আর জীবনের নানা মোড় পেরোতে থাকে।
 
গল্পঃ ৭
ট্রাডিশনাল স্পোর্টস সিরিজগুলো থেকে এটি একটু আলাদা। এখানে মেইন ক্যারেক্টার ইতিমধ্যেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হবার দাবি রাখে। কিন্তু সে কিছু মানসিক বাধার কারণে নিজের ফুল পটেনশিয়ালটা ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করে। উল্টাদিকে ওর সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেশ কিছু রাইভ্যালের আবির্ভাব ঘটে, যারা দিনরাত খেটে ওর লেভেলে যাবার চেষ্টা করতে থাকে। এর পাশাপাশি গল্পে ঐ সময়কার জীবনের নানা দিক ও আবেগ ফুটে উঠেছে নৈপুণ্যের সাথে।
 
চরিত্রায়ণঃ ৯
সিরিজের স্ট্রং পয়েন্ট আসলে এই জায়গাতেই। ইয়াওয়ারাকে ভালো না লেগে থাকাই যায় না, এমন করেই বাস্তবতার ছোঁয়া দিয়ে তাকে গড়ে তুলেছেন লেখক। প্রায় প্রতিটা পার্শ্বচরিত্রের আছে আলাদা বৈশিষ্ট্য, যা মনে গেঁথে যায়। বেশ দীর্ঘ এই সিরিজে মূল চরিত্র ছাড়াও এদের সবাইকে সময় নিয়ে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন লেখক। প্রায় কেউকেই ওয়ান ডিমেনশনাল বলা যাবে না।
 
আর্ট ও এনিমেশনঃ ৮
আনিমের সময়কার আর্ট ও এনিমেশন স্টাইল ফলো করা হয়েছে। উরাসাওয়ার চিরাচরিত বাস্তবধর্মী ডিজাইনের প্রয়োগ ঘটেছে এখানে, যা গল্পের সাথেও যুতসই হয়েছে। “A Fashionable Judo Girl ” তকমা পাওয়া ইয়াওয়ারাকে একেক এপিসোডে একেক সাজে দেখতে পাওয়া যায়। জুডো ম্যাচের ডাইন্যামিক মুভমেন্টগুলো যত্নের সাথে দেখানো হয়েছে।
 
সাউন্ডঃ ৭
তিনটার মতো আলাদা ওপেনিং ও এন্ডিং গান ব্যবহার হয়েছে। কয়েকটা বেশ মনে ধরার মতো। তাছাড়া পুরনো দিনের কিছু সুদিং মিউজিক শোনা যাবে এই আনিমেটিতে।
 
এঞ্জয়মেন্টঃ ৯
উরাসাওয়ার ও পুরনো দিনের আনিমে ভক্ত হিসেবে এটি সত্যিকার অর্থেই এঞ্জয় করেছি। মধ্যভাগে এসে খুব বেশি স্লো হয়ে যাওয়ায় ধৈর্যচ্যুতি যে একেবারেই হয়নি তা বলতে পারি না, তবে মোটের উপর এটি দেখে সময়টা দারুণ কেটেছে। দেখার পর আনিমেটাকে মিস করছি। আনিমেটি দেখতে গিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন রকম আবেগ অনুভব করেছি। চরিত্রগুলিকে খুব কাছের মনে হয়েছে।
 

Kenichi the Mightiest Disciple [রিভিউ] — Zunaid Mashrafee

কেনিচি দ্য মাইটিয়েস্ট ডিসাইপল
Kenichi the Mightiest Disciple
 
জাপানি উচ্চারণ: শিজো সাইকিয়ো নো দেশি কেনিজি
মাঙ্গা:
(original)
লেখক:-সিয়ুন মাৎসুয়েনা
প্রকাশকাল:-১৯৯৯-২০০২
ভলিউম:-৫
(Remake)
এপ্রিল ২০০২-সেপ্টেম্বর ২০১৭
ভলিউম:-৬১টি
এনিমে:
প্রকাশকাল:-অক্টোবর ২০০৬- সেপ্টেম্বর ২০০৭
এপিসোড সংখ্যা: ৫০টি
স্টুডিও:- TMS entertainment
নির্দেশনা:-হাজিমে কাগেয়ামা
ওভিএ:
প্রকাশকাল: মার্চ ২০১২-২০১৪
স্টুডিও: Brains Base
পর্বসংখ্যা: ১১
 
 
একটি চরম underrated এনিমে।
শোনেন জনরায় কিছু বিষয় এতোই কমন যা প্রতিটি এনিমেতেই এসে হাজির হয়। তাদের মধ্যে একটি বিষয় হলো, দুর্বল চিকনচাকন প্রধান চরিত্রের হাট্টাকাট্টা বিশ্ববিজয়ী হয়ে ওঠার গল্প। এইটা প্রায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সব শোনেনে পাওয়া যায়, যার ফলে এটাই সবচেয়ে কমন “ট্রোপ”।
বিরিয়ানি তো দিনশেষে গিয়ে ভাত আর মাংস‌ই। কিন্তু রন্ধনের পদ্ধতি আর গুণে কিছু হয় কাচ্চি, কিছু হয় তেহারি কিছু হয় স্রেফ খাওয়ার অযোগ্য। শোনেন‌ও তেমনি এক‌ই কনসেপ্টের উপর বেজ করে হলেও কাহিনী বর্ণনার গুণে কোনগুলো লিজেন্ড, কোনগুলো উল্লেখ করার মতো না।
আর তারপর আসে কেনিচি দ্য মাইটিয়েস্ট ডিসাইপলের মতো আন্ডাররেটেড, কেউ চিনে না টাইপ রত্ন।
জাপানি স্কুল পড়ুয়া চিকন চাকন বুলির হাতে পেদানি খাওয়া ছেলে কেনিচি। নিজেকে ডিফেন্ড করা শিখতে তাই বিভিন্ন ব‌ইপত্র পড়ে কেনিচি। কিন্তু গ্রন্হগত বিদ্যা দিয়ে কি আর বাস্তবজীবনে টিকে থাকা যায়?
বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। বিশ্বাস হোক, আর যা হোক কোনো না কোনোভাবে রিওজানপাকু বলে একটা মার্শাল আর্ট দোজোর সন্ধান পায়। পায় বলতে, দোজোটা তাকেই একধরণের খুঁজে নেয়।
এই এনিমেটাতে যেই জিনিসটা ভালো লেগেছে, সেটা হলো মার্শাল আর্টের বাস্তবসম্মত উপস্হাপন। টেকনিক ও প্রাক্টিসের সমন্বয়ে যে সাধারণ মানুষ‌ও অসাধারণ কিছু করে দেখাতে পারে, এই মেসেজটা এখানে স্পেশাল। পপুলার মার্শাল আর্ট এনিমেগুলো বলতে সাধারণত আমরা যেগুলো চিনি, যেমন বাকি দ্য গ্রাপলার, কেনগান আশুরা এগুলোর থেকে কেনিচি দ্য মাইটিয়েস্ট ডিসাইপলের একটা দিক একটু অনন্য বলতে হবে। এখানে নেই কোন ভয়ংকর রকমের রক্তারক্তি বা masculine fantasy. এটা আমার আপনার মতো স্রেফ একটা সাধারণ ছেলের বুলির বিপক্ষে রুখে দাঁড়ানোর একটা অসাধারন কাহিনী।
কাহিনীর পেসিং শুরুর দিকে ভালো থাকলেও মাঝখানে একটু বোরিং লাগতে পারে, তবে ধৈর্য ধরে দেখতে থাকলে রতন পেতে পারেন। এনিমেশনটা পুরনো যুগের এনিমের মতোই, ঐখান থেকে ঝা চকমকে ইউফোটেবল বা মাপ্পা ক্লাসের কিছুই পাবেন না। কমেডি আছে প্রচুর, কারো কাছে একটু sketchy লাগতে পারে। কেনিচির সময় সময় হাল্কা করে মরে যাওয়ার expression টা দারুণ লেগেছে।
তো, সময় করে দেখে নিতে পারেন এই আন্ডাররেটেড এনিমেটা। কম ভালো লাগলেও হতাশ হবেন না। আর Ost টা মিস করবেন না।

Sakib’s Hidden Gems – Episode #53

আনিমে: High Score Girl

জানরা: রোমান্স, গেইম, সেইনেন, কমেডি
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ৩ + ৯
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/21877/High_Score_Girl

সময়টা নব্বইয়ের দশক। গেমিং ইন্ডাস্ট্রি তরতরিয়ে বেড়ে উঠছে। পাড়ায় পাড়ায় গেম সেন্টার গড়ে উঠছে, যেখানে পয়সা খরচ করে কিশোর ও তরুণ বয়সীরা গেম খেলার স্বাদ নিচ্ছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে একই গেমের নানা নতুন সংস্করণ আসছে।

এমতাবস্থায় আমরা দেখতে পাই প্রাইমারি স্কুলপড়ুয়া আমাদের গল্পের নায়ক ইয়াগুচি-কে। লেখাপড়া বা বন্ধুদের সাথে মেলামেশার চাইতে গেম খেলার দিকেই তার আসক্তি বেশি। একমাত্র গেম খেলার জগতেই সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। একদিন সে গেম সেন্টারে তারই বয়সী এক মেয়ে প্লেয়ারের খোঁজ পায় ও ওর খেলার প্রতিভা দেখে খুবই আশ্চর্য হয়।

এই মেয়েটি হল গল্পের নায়িকা ওনো। সে খুব বড়লোক পরিবারের মেয়ে। পরিবারের অতিরিক্ত শাসন ও শৃঙ্খলে অতিষ্ঠ হয়ে সে মাঝেসাঝে গেম সেন্টারে গিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। শিশুকাল থেকেই তার সমবয়সীদের সাথে মেলামেশার সুযোগ না পাওয়ায় কারণেই হয়তো সে একেবারেই চুপচাপ থাকে। ইয়াগুচি আর ওনোর মাঝে একটা সুন্দর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয় আর ওরা একে অপরকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে ওদের সম্পর্কের উত্থান-পতন-পরিবর্তন হতে থাকে।

এদিকে সময় এগিয়ে যায়। রঙ্গমঞ্চে হিদাকা নামের আরেকটি মেয়ের আবির্ভাব হয়। ইয়াগুচির প্রভাবে সেও গেমিং-এর জগতে প্রবেশ করে। এই তিনজনের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে কাহিনী এগিয়ে যায় আর ওরাও বড় হয়ে উঠতে থাকে।

গল্পের সবচাইতে আকর্ষণীয় দিক হলো এর চরিত্রগুলি। খুব যত্নের সাথে লেখক ওদের ফুটিয়ে তুলেছেন যাতে ওদের ব্যাকগ্রাউন্ড আর চিন্তাচেতনা আমরা বুঝতে পারি। গল্পের পার্শ্বচরিত্রগুলিও বেশ সুগঠিত আর গল্প এগিয়ে নেওয়ায় ও প্রয়োজনে হাস্যরস সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গল্পের নায়কের ক্যারেক্টার প্রোগ্রেশন আর গল্পের সমাপ্তি এনে দেয় অনির্বচনীয় তৃপ্তি।

গেমিং ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আগ্রহ থাকলে বা নস্টালজিক হতে চাইলে এই আনিমেটি দেখবেন। সত্যিকার অর্থেই একটি উৎকৃষ্ট মানের রোমকম দেখতে চাইলে এই আনিমেটি দেখবেন। গল্পের শুরুর কয় এপিসোড দেখতে অসুবিধা হতে পারে – এনিমেশন স্টাইল খাপছাড়া লাগতে পারে – তবুও পুরোটা শেষ করার মেন্টালিটি নিয়ে দেখুন। আশা করি আপনার পছন্দের তালিকায় স্থান পাবে।

 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #52

আনিমে: Hakumei to Mikochi (Hakumei and Mikochi)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, ফ্যান্টাসি
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ১
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/36094/Hakumei_to_Mikochi
 
কিউট পিচ্চি কিছু লিলিপুটদের নিয়ে এই আনিমের গল্প। গল্পের প্রধান চরিত্র হলো কাপড় সেলাই, রান্না ও অন্যান্য নানা কাজে পারদর্শী মিকোচি আর ছটফটে ও হাসিখুশি হাকুমেই নামের দুইটি মেয়ে। মাকানাতা নামের মফস্বল এলাকার একটি গাছের কোটরে তাদের বাড়ি। মজা ও আবেগ মিশানো ওদের নিত্যদিনের জীবন ও খুনসুটি নিয়েই গল্পের বুনন।
 
গল্পের প্রতিটি চরিত্রকেই পছন্দ হয়ে যায়। ওদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি সুন্দর করে ফুটে ওঠে আর ওদের একান্ত আপন বোধ হয়। এছাড়া প্রকৃতিঘেঁষা ওদের নৈমিত্তিক জীবনাচরণ দেখে দারুণ একটা প্রশান্তি কাজ করে। তার সাথে মনোরম ভিজুয়াল ও সাউন্ড একটি রিল্যাক্সিং অভিজ্ঞতা দেয়।
 
ধীরলয়ের ও প্রশান্তিকর একটি এপিসোডিক আনিমের খোঁজে থাকলে এটি বেছে নিতে পারেন। মাঝেমধ্যে এক দুইটি এপিসোড দেখলে তা আপনাদের কর্মক্লান্ত জীবনের ফাঁকে টনিক হিসেবে কাজ করবে আশা করছি।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #51

আনিমে: Shirokuma Cafe (Polar Bear Cafe)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, কমেডি, জোসেই
এপিসোড সংখ্যা: ৫০
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/12815/Shirokuma_Cafe
 
জাপানের কোন এক শহরতলীতে আছে “শিরোকুমা কাফে” নামের একটি চা-নাস্তা খাওয়ার রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টের মালিক কিন্তু কোন মানুষ নয়, বরং একটি শ্বেতভল্লুক! সকালে কাজে যাওয়ার আগে বা কাজ শেষে অবসাদ দূর করতে মানুষ আর জন্তু-জানোয়ার উভয়ের কাছেই এই ক্যাফেটি জনপ্রিয়। ক্যাফেতে কাজ করে সুন্দরী ও মিশুকে সাসাকো আপা। আর ক্যাফের নিয়মিত খদ্দেরের মধ্যে আছে বোকাসোকা কিউট পান্ডা এবং ব্যঙ্গে আর ব্যর্থ প্রেমে পারদর্শী পেঙ্গুইন। এছাড়াও আছে লামা, কচ্ছপ, স্লথ, আরো অনেক পশুপাখি। এছাড়া আছে শিরোকুমার বন্ধু গ্রিজলি ভালুক। এদের মজাদার দিনকাল নিয়েই এই স্লো ও রিল্যাক্সিং এনিমেটি বানানো হয়েছে।
 
আনিমের কমেডি অংশটুকু বিশেষ করে নজর কাড়ে। মুলত স্ল্যাপস্টিক কমেডি ঘরানার এই হাস্যরসে অনেক বাস্তব জীবনের ও বুদ্ধিদীপ্ত বিষয়ের মিশেল থাকায় বেশ ফ্রেশ আর উপভোগ্য হয়। ভয়েস কাস্টে বেশ কয়েকটি পরিচিত নাম খুঁজে পাবেন। এছাড়া আর্টস্টাইল ভালো, পর্ব শুরু বা শেষের গানগুলো উপভোগ্য, কিছু হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মুহূর্তও আছে। চরিত্রগুলিকে anthropomorphize করা হলেও ওদের জান্তব বৈশিষ্ট্যগুলি থেকে গিয়েছে। ইউনিক বৈশিষ্ট্যের চরিত্রগুলির দু-তিনটেকে পছন্দ হয়ে গেলে আপনি এটাতে হুকড হয়ে যাবেন আশা করি।
 
ধীরলয়ের কমেডির মুডে থাকলে এইটে ট্রাই করে দেখার প্রস্তাব রইল।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #50

আনিমে: Tenkuu no Escaflowne (The Vision of Escaflowne)

জানরা: এডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি, রোমান্স, মেকা, সাইকোলজিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/182/Tenkuu_no_Escaflowne
 
গল্পের নায়িকা হাইস্কুল পড়ুয়া ছাত্রী কানযাকি হিতোমি। সে তার ভালোবাসার পাত্রকে কনফেস করার মুহূর্তে জাদুবলে চলে যায় পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী Gaea নামক এক জগতে। সেখানে প্রকাশিত হয় তার এক আশ্চর্য ক্ষমতা – সে ভবিষ্যতে কী ঘটবে তার কিছু খন্ডচিত্র দেখতে পায় (premonition) আর তীব্র মনোনিবেশ করলে অজানা জিনিসের সন্ধান পায়। তার এই এবিলিটির কথা টের পেয়ে সাম্রাজ্যবাদী Zaibach এর রাজা ওকে নিয়ে যেতে চায়। এতে অলরেডি চলমান Fanel আর Zaibach রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ আরো প্রকট আকার ধারণ করে। এরই মধ্যে হিতোমি পার্শ্ববর্তী Asturia রাজ্যের নাইট এলেনের প্রতি দুর্বলতা অনুভব করে। ফানেল আর তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলি কি পারবে Zaibach রাজার আগ্রাসনকে ঠেকাতে? হিতোমি কি পারবে ওর ভালোবাসার মানুষকে নিজের হৃদয়ের কথা জানাতে? ও কি পারবে নিজের জগতে ফিরে যেতে?
 
নব্বই-এর দশকের ট্র্যাডিশনাল আর্টস্টাইল এতে রক্ষিত হয়েছে। বেশ এস্থেটিক বলা যায়। চরিত্রগুলির বৈশিষ্ট্য বেশ নিপুনভাবে ফুটে উঠেছে। তাদের মনের অন্তর্দ্বন্দ্বগুলি তুলে ধরা হয়েছে বেশ বাস্তবিকভাবে। ক্লাসিক ঘরানার বৈচিত্র্যপূর্ণ ওএসটি আনিমেটিকে আরো উপভোগ্য করেছে। Mecha গুলোর ডিজাইন আর ফাইটগুলিও ভালোই বলা চলে। তবে সবচাইতে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে নায়িকার মানসিক বিকাশ ও তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি বেশ ম্যাচিওর ধাঁচের প্রেমের বহুভুজ।
 
যারা পুরোনো যুগের আনিমে পছন্দ করেন বা ফ্যান্টাসি জগতে ড্রামা খুঁজছেন তাদের হাই প্রায়োরিটি তালিকায় এটা জায়গা করে নেবার যোগ্যতা রাখে বলে আমি মনে করি।
 
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #49

আনিমে: Ristorante Paradiso

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, জোসেই, রোমান্স
এপিসোড সংখ্যা: ১১
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/5984/Ristorante_Paradiso
 
গল্পের মূল চরিত্র নিকোলেত্তা নামের প্রায় মধ্য বিশের ঘরের একটি মেয়ে। গল্পের শুরুতে সে ছোটবেলায় তাকে ছেড়ে চলে যাওয়া মায়ের খোঁজে ইতালির রোম নগরীতে আসে। ওর মা সেখানকার “রেস্তোরেন্তে দেল অরসো” নামের এক হোটেলের মালিকের সাথে ঘরকন্না করছে। ওর মার শখ অনুযায়ী ওখানকার প্রত্যেক স্টাফ হলো মধ্যবয়স্ক বা তারো বেশি বয়সের চশমা-আঁটা পুরুষ। ওর মা ওকে ওর বান্ধবির মেয়ে হিসাবে পরিচয় দেয় আর কিছুদিন সেখানে থেকে যেতে বলে। চাকুরির সন্ধানে থাকা নিকোলেত্তা ওর রান্নার আগ্রহের কারণে ওই হোটেলের শিক্ষানবিশ রাঁধুনি হিসেবে যোগদান করে। একই সাথে হোটেলের হেড ওয়েইটার
মাঝবয়েসি ডিভোর্সি ক্লাউডিওর উপর ওর দুর্বলতা এসে পড়ে। শুরু হয় নিকোলেত্তার এই নতুন শহরে ও একই সাথে ক্লাউডিওর হৃদয়ে নিজের জায়গা করে নেবার চেষ্টা।
 
আনিমের পুরোটা জুড়ে একটা শান্ত স্নিগ্ধতা আছে। কোন তাড়াহুড়ো নেই। নিকোলেত্তা আর ক্লাউডিওর উপরে বেশি ফোকাস থাকলেও আস্তে আস্তে অন্যান্য স্টাফ আর চরিত্রদেরও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ম্যাচিওর স্বাদের এই আনিমেতে কিছু জীবনধর্মী ইস্যু উঠে এসেছে, সবই মূলত নরনারীর সম্পর্ক সংক্রান্ত।
 
ভিজুয়াল একই সাথে সিমপ্লিস্টিক আর স্টাইলিশও। গল্পের মুডের সাথে বেশ মিলে গেছে। ক্লাসিক ঘরানার ওএসটি একে এনে দিয়েছে আভিজাত্য। আর গল্প এসে ঠেকেছে এক তৃপ্তিদায়ক পরিসমাপ্তিতে।
 
কিছুটা স্লো কিন্তু ম্যাচিওর স্বাদের বাস্তবিক কাহিনিওয়ালা কিছুর সন্ধানে থাকলে এটা চেখে দেখতে পারেন। কিছুটা ওপেন মাইন্ডেড হয়ে দেখতে পারলে ভালো লাগবে আশা করি। একই লেখিকার ACCA 13-ku আর House of Five Leaves দেখার প্রস্তাব রইল। এই দুটিকে নিয়েই আগে লিখেছি।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #48 [Movie Special]

Giovanni no Shima
https://myanimelist.net/anime/19115/Giovanni_no_Shima
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর জাপান এই কাহিনীর প্রেক্ষাপট। রাশিয়ার দখলকৃত শাখালিন (জাপানী ভাষায় কারাফুতো) দ্বীপে বসবাসকারী কিছু অভাগা জাপানী ও তাদের সাথে রাশিয়ানদের বিনিবনা নিয়ে এই গল্প এগিয়েছে। গল্পের কিছু রোমান্টিক দিক ফোরসড লাগলেও হিস্টরিকাল আনিমে ভক্তদের এটা দেখা উচিত।
 
Shikioriori
https://myanimelist.net/anime/37396/Shikioriori
 
কমিকস ওয়েভ স্টুডিওর চোখধাঁধানো ভিজুয়াল আর হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কয়েকটি ছোটগল্পের মিলনে এই মুভিটি। সবাই দেখবেন কিন্তু।
 
Omoide Poroporo
https://myanimelist.net/anime/1029/Omoide_Poroporo
 
আমার ফেভারিট মুভি এটা। এই মুভিতে স্টুডিও ঘিবলি তাদের চিরাচরিত হাসিখুশি ফ্যান্টাসি থেকে সরে এসে বেশ ম্যাচিওর থিমের, পুরোই বাস্তব ও জীবনধর্মী কিছু বানিয়ে দেখিয়েছে। গল্পের চরিত্রায়ন, ম্যাসেজ, আর এন্ডিংটা এক্কেবারে নিখুঁত। অবশ্যই অবশ্যই দেখবেন।
 
Kaijuu no Kodomo
https://myanimelist.net/anime/5655/Kaijuu_no_Kodomo
 
অত্যন্ত নান্দনিক ভিজুয়াল এইটার। মনে হবে যেন ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখছেন। গল্পটা একটু ডীপ। পুরো সৃষ্টিজগতের রহস্য আর মহাবিশ্বের সাথে মানুষের যোগটা কোথায় – এটাই এই আনিমের আলোচ্য বিষয়। এটা সবার ভালো লাগবেনা। তবে এই বর্ণনা পড়ে যদি দেখতে ইচ্ছে করে তো অবশ্যই দেখবেন।
 
Flanders no Inu
https://myanimelist.net/anime/2623/Flanders_no_Inu_Movie
 
গ্রেভ অফ ফায়ারফ্লাইজ দেখে যেরকম কষ্ট লাগে, এইটা দেখেও সেইরকম কষ্ট লাগে। ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের এক গরিব দুর্ভাগা বালক আর তার সাথী কুকুরের মর্মান্তিক জীবনকাহিনী এটা। দুঃখের কিছু দেখার মুড আসলে দেইখেন।
 
Steamboy
https://myanimelist.net/anime/565/Steamboy
 
স্টিমপাঙ্ক, ছিমছাম ভিজুয়াল, আর জুলভার্নের থিমওয়ালা সাইফাই ভালো লাগলে এইটাও খুব এঞ্জয় করবেন আপনারা। বেশ গতিময় ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হবে এটি দেখলে।
 
Kaguya-hime no Monogatari
https://myanimelist.net/anime/16664/Kaguya-hime_no_Monogatari
 
আর্টস্টাইলের দিক দিয়ে এটি একটি অনন্য ঘিবলি মুভি। শিশুতোষ রুপকথা এখানে প্রাণ পেয়েছে নান্দনিক স্কেচবুক ধাঁচের আর্টে। গল্পটাও খুব সুন্দর আর শিক্ষণীয়।
 
Pom Poko
https://myanimelist.net/anime/1030/Heisei_Tanuki_Gassen_Ponpoko
 
আমার মতে এটা ঘিবলি মুভির মধ্যে প্রচুর আন্ডাররেটেড। উপর থেকে দেখলে বাচ্চাদের জন্য উপযোগী ফ্যান্টাসি মনে হলেও এই গল্পের কিন্তু বেশ শিক্ষণীয় অন্তর্নিহিত ম্যাসেজ আছে। বেশ ইমোশনাল ও হৃদয়স্পর্শী এই মুভিটি সবাই দেখবেন।
 
Colorful
https://myanimelist.net/anime/8142/Colorful_Movie
 
বেশ জীবনধর্মী ও শিক্ষামুলক একটি গল্প। একটি কিশোর কী কারণে আত্মহত্যা করতে পারে আর কী করে একটি আপাত বিষাদময় জীবনকেও সুখী ও সুন্দর করে তোলা যায় – তা এই মুভিতে তুলে ধরা হয়েছে।
 
Kono Sekai no Katasumi ni
https://myanimelist.net/anime/15227/Kono_Sekai_no_Katasumi_ni
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে একটি জাপানী পবিবারের কাহিনী এটি। যুদ্ধের ভয়াবহ দিক ও তা থেকে মানুষের উঠে দাঁড়ানোর আরেকটি যুদ্ধ এই মুভিতে শক্তিশালী লেখনীর দ্বারা ফুটে উঠেছে কোন রাখঢাক ছাড়াই। আর্টও নয়নাভিরাম।
 

Maquia: When the Promised Flower Blooms [মুভি রিভিউ] — Md. Anik Hossain

Iorph – এক পৌরাণিক জাতিবিশেষ। অন্য মানুষদের থেকে যারা একটুখানি আলাদা। স্বাভাবিকের থেকে যারা বাঁচে অনেক বেশি বছর। তাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিও তাই ঘটে খুবই ধীরে ধীরে। ফলে শত শত বছর যাবত্ তারা যেন ধরে রাখে নিজেদের তারুণ্য। মানব সভ্যতা থেকে দূরে পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা প্রত্যন্ত কিন্তু অপার সৌন্দর্যে ঘেরা ছোট্ট একটা গ্রামে তাদের বসবাস। চিরযৌবনা এ জাতির জীবন আবর্তিত হয় “হিবিওল” নামের তাঁতের এক বিশেষ মিহি কাপড় বুনে। তাঁতের বুননে বুননে তাদের ইতিহাস, ধর্মবিশ্বাস ,সংস্কৃতি ফুটে উঠে। নিজেদের মনের ভাষা পর্যন্ত এই কাপড়ের মাধ্যমে আদান-প্রদান করার কৌশল রপ্ত করেছে তারা। আর তাদের ই একজন Maquia. লাজুক, একাকী এতিম কিশোরী মেয়ে। গ্রাম প্রধানের আশ্রয়ে থাকে আর তার ছোটো-খাটো কাজে সাহায্য করে। একাকীত্বে ভোগা মাকিয়া দেখতে চায় এই জগত্টাকে, অনুভব করতে চায় অকৃত্রিম ভালো লাগার। কিন্তু গ্রাম প্রধান তাকে নিষেধ করে বাইরের জগতের মানুষের সাথে মিশতে, তাদের ভালোবাসতে। কারণ সেই মানুষগুলো মরে যাবে দীর্ঘজীবি Iorph দের তুলনায় অনেক আগেই। তখন প্রিয় মানুষগুলো হারিয়ে যাবে এক এক করে। অথচ Iorph রা থেকে যাবে প্রায় অনন্ত সময় ধরে। হারানোর এই ব্যাপারটি শুধু কষ্টই দিয়ে যাবে… সৃষ্টিকর্তা যেন Iorph দের এভাবেই তৈরি করেছে।
 
মাকিয়া ও অন্যান্য Iorph রা সুখে শান্তিতেই বাস করছিল। ছবির মতো সুন্দর জনপদ আর আছে অপূর্ব কাপড়। যার কদর চারিপাশজুড়ে। কাপড় বিক্রি করেই মিটে যায় পেশা নির্বাহের কাজ। কিন্তু কোনো সুখ চিরস্থায়ী নয়। Iorph দের এই চিরযৌবনের দিকে নজর পড়ে Mezarte রাজ্যের রাজার। সেই কুনজরে এক রাতে পুরো Iorph দের গ্রামে নেমে আসে ধ্বংসলীলা। অধিকাংশ Iorph মারা যায় ড্রাগনের পিঠে চরে আসা রাজকীয় বাহিনীর হাতে, নয়ত ধরে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীতে। কিন্তু কোনো এক ভাবেই হোক , মাকিয়া সেই নারকীয় অবস্থা থেকে বেঁচে যায় আর এক বনে এসে উপস্থিত হয়। কিন্তু পুরো গ্রামকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়ে মাকিয়া….. আর উঁচু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার জন্য উদ্যত হয়, ঠিক তখন ই বনের অদূরে ভেসে ওঠে এক বাচ্চার কান্নার আওয়াজ। হতোদ্যম মাকিয়া এগিয়ে যায় কান্নার উত্সের দিকে, আর এক তছনছ করা বসতিতে খুঁজে পায় একটি শিশুকে… মৃত মা শেষপর্যন্ত তার জীবন দিয়ে রক্ষা করেছে কলিজার টুকরো ঐ বাচ্চা শিশুটিকে। প্রথম নজরেই ছোট্ট এই বাবুর প্রতি মমতা অনুভব করে মাকুয়া। তারপর উদ্ধার করে খুঁজে পাওয়া অনাথ এই শিশুকে সাথে করে নিয়ে যায় আরেক অনাথ মাকিয়া। অতঃপর নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে মাকিয়া খুঁজে পাওয়া সেই বাবুকে নিজের সন্তানের মতো বড় করতে থাকে। কিন্তু সেই মা নিজেই মনের দিক থেকে শিশুশুলভ, সে কীভাবে আরেক শিশুকে লালন পালন করবে? তারচেয়েও বড় কথা – একদিন এই বাচ্চাটি বড় হবে, নিজের সন্তানের বাবা হবে, বৃদ্ধ হবে, একদিন চোখের সামনেই মারা যাবে। কিন্তু শত শত বছর ধরে বাঁচতে সক্ষম Maquia চিরদিন দেখতে একই রকম থেকে যাবে, দিন পেরিয়ে বছর যাবে, তবুও বাহ্যিক কোনো পরিবর্তন তাকে ছুঁতে পারবে না। একদিন সে বেঁচে থাকবে, কিন্তু প্রিয় সন্তান আর অন্যেরা তাকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যাবে। মূলত এমন বাস্তবতাকে ঘিরেই এগিয়ে যায় এই বছর মুক্তি পাওয়া এনিমে মুভি “Maquia : When the Promised Flower Blooms” এর কাহিনী।
উপরের অংশটিতে মূলত মুভি নিয়ে একটু জানানোর চেষ্টা করেছি, আরো ছোটো করে লিখতে চেয়েছিলাম তবে সহজ করে বর্ণনা করতে গিয়ে একটু বড় হয়ে গেল। তবে মুভির পটভূমি নিয়ে আজকের লেখাটা নয় প্রধানত। ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণ, ভালো লাগা-মন্দ লাগা নিয়ে অল্প-স্বল্প লিখব নির্দিষ্ট করে বললে।
 
মুভিটা সম্পর্কে প্রথম জেনেছিলাম অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড অঞ্চলে এনিমে ডিস্ট্রিবিউটর Madman Entertainment এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে, সেখানে মুভির ট্রেইলারটা দেখে বড়ই সন্তুষ্ট হয়েছিলাম। তয় অনলাইনে তখনো আসেনি তাই সেসময় দেখতে পারিনি।এই ৬-৭ মাসে প্রায় ভুলেই গেছিলাম এটার কথা। কিন্তু দিন কতক আগে দেখলাম ইতোমধ্যেই অনলাইনে এসে গেছে! কেন যেন এতদিন চোখে পড়েনি এটা। দীর্ঘসূত্রিতা না করে তত্ক্ষণাত্ নাফিয়ে ফেলি পুরো মুভি। আর আজ শুক্রবার বন্ধের সকালে নাশতা খাওয়ার পরই দেখতে বসে যাই। প্রায় দু’ঘন্টার এক চমত্কার মুভি উপভোগ করলাম তা নিঃসংকোচে বলা যায়।
 
 
প্রথমত, মুভির visual ছিল এক কথায় দারুণ! P.A. Works কে ধন্যবাদ দিতে হয় এজন্য। তবে ক্যারেক্টার ডিজাইনগুলো কোনো এক কারণে খুব বেশি আকর্ষণ করেনি আমাকে। বিশেষত মাকিয়া এর ডিজাইন। হতে পারে চিরায়ত চোঁখা চোঁখা আকৃতির মুখ দেখতে দেখতে গোলগালা ডিজাইনের সাথে মানিয়ে নিতে পারিনি। কিন্তু এটুকু বলতে পারি কিছু কিছু দৃশ্যে সাইডের দিক থেকে মাকিয়া এর চেহারা খুব বেমানান ছিল। এক্ষেত্রে সম্ভবত উন্নতি করার সুযোগ ছিল। যাই হোক, সব দিক বিবেচনায় আমি ৯/১০ দিব এনিমেশন আর্টওয়ার্ক বিভাগে। এই বিভাগটি যদিও একান্ত ব্যক্তিগত ভালো লাগার জিনিস। হতে পারে ওভাররেটিং করছি, তবে মনে করি কেউ আশাহত হবেন না মুভির এনিমেশন দেখে।
 
দ্বিতীয়ত, মুভির পটভূমি ছিল আগ্রহজাগানিয়া, কাহিনী প্রবাহও বেশ স্মুথ লেগেছে। এখানে একটা বিষয় বলে রাখি, টাইম স্কিপের একাধিক দৃশ্য ছিল। যার বেশিরভাগ খাপ ছাড়া লেগেছে। টাইম স্কিপগুলো আরো ভালো করতে পারত।একেবারে খারাপ লেগেছে তা নয়, কিন্তু আহামরি ছিল না। ডিরেক্টর ও একইসাথে রাইটার হিসেবে মারি ওকাদা এর প্রথম মুভি ছিল এটি। আশা করি ভবিষ্যতে আরো জোড় দিবেন টাইম স্কিপিং এর ব্যাপারটাতে। সামগ্রিকভাবে এই ডিপার্টমেন্টে ৮/১০ দিব।
 
তৃতীয়ত, ইমোশনাল ব্যাপার নিয়ে আমার আলাদারকম দূর্বলতা আছে। আর এক্ষেত্রে মুভির আবহ, চরিত্রগুলোর মধ্যে মিথস্ক্রিয়া,বাস্তবতার নিরিখে মাকিয়া ও তার ছেলের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট টানাপড়েন খুব বাস্তবসম্মত লেগেছে। প্রচন্ড রকম ইমোশনাল ছিল। মুভি শেষে চোখ ভিজে গিয়েছিল একদম। অবশ্য অনেক ক্ষেত্রেই দূর্বল চরিত্রায়নও চোখে লেগেছে। কয়েকটা চরিত্রকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। রাজার সেনাপ্রধানের কথা এ ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে। এখানে আমি কোনো রেটিং দিব না কিছু সংগত কারণে।
 
চতুর্থত, মুভিতে গান না থাকলে হয় নাকি :v ? Ending সাউন্ডট্র্যাক টা অসাধারণ ছিল! একদিকে প্রাণ জুড়িয়ে দিচ্ছিল পিয়ানোর বাজনায় সুরেলা কন্ঠের গানটা। অন্যদিকে চোখের কোণে অনবরত পানি ঝরছিল গানটা শুনে। কোনো এক শূন্যতা অনুভূত হচ্ছিল। যদিও বাকি মুভিতে উল্লেখ করার মতো আর কোনো গান বা এজাতীয় কিছু ছিল না। মোটমাটে ৮/১০ দিব মিউজিকে। আর হ্যা ভয়েস কাস্টিং কিন্তু ভালো লেগেছে খুব। মাকিয়া এর কন্ঠ যে কী মিষ্টি লেগেছে! বলে বোঝানো যাবে না।
 
সব দিক বিবেচনায়, ৯/১০ দিব ফাইনাল স্কোর হিসাবে (মুভিতে আমি এক ধাপ বেশিই রেটিং দেই অবশ্য)।
 
সবশেষে এটাই বলব, আমার মতে এটা ২০১৮ সালে বের হওয়া সবচেয়ে সেরা এনিমে মুভি। এটা হয়ত কোনো কিংবদন্তীতুল্য মুভি নয়, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ এনিমে মুভিগুলোর একটি নয় কিন্তু নিঃসন্দেহে চমত্কার একটা মুভি। মায়ের মমতা, সমাজ বাস্তবতা নিয়ে এরকম মুভি খুব বেশি আছে বলে বোধ করি না। যারা Wolf Children দেখেছেন এবং পছন্দ করেছেন, তারা খুব উপভোগ করবেন আশা করি। এত সুন্দর একটা মুভি অথচ এটা নিয়ে এনিমে গ্রুপগুলোতে সাড়া শব্দ নেই তেমন। ব্যাপারটি খুব হতাশাজনক। Kimi no na wa আর Koe no Katachi পরবর্তী কোনো মুভি নিয়েই কোনো হইচই দেখি না।
 
তো আপনারাও দেরী না করে দেখে ফেলুন “Maquia : When the Promised Flower Blooms”…..
 
একটা শেষ কথা , ফ্যান্টাসি-ড্রামার এই মুভি তে ন্যুডিটি, সেক্সুয়াল সিনারি নেই। ফলে পরিবার পরিজন সকলকে নিয়ে নিশ্চিন্তে উপভোগ করার মতো আদর্শ এক মুভিটা।
 
তো আজ এটুকুই থাকুক।
Happy anime watching!

Odd Taxi [রিভিউ] — Nazmus Sakib

আনিমে – ODD TAXI
এপিসোড সংখ্যা – ১৩
ডিরেক্টর – বাকু কিনোশিতা
স্ক্রিপ্ট – কাযুইয়া কোনোমোতো
ম্যাল রেটিং – ৮.৫৯
ব্যক্তিগত রেটিং – ১০
 
এক কথায় একটা মডার্ন মাস্টারপিস। না দেখার কোনই কারণ নেই। মিস্টেরি জানরার সর্বকালের একটা রত্ন হয়ে থাকবে এইটা।
 
সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
গল্পের স্থান জাপানের টোকিও শহর। গল্পের নায়ক ওদোকাওয়া নামের এক মধ্যবয়স্ক ট্যাক্সি ড্রাইভার। তার স্বভাব হল কথা কম বলা আর বললেও সিনিকাল টোনে কথা বলা। গল্পের একেক পর্বে সে ভিন্ন ভিন্ন যাত্রীদের সার্ভিস দেয়। ঘটনাক্রমে সে এক হাইস্কুল ছাত্রীর কিডন্যাপিং এর ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই না, জাপানী মাফিয়ার দুই সদস্য ওর পিছনে হন্যে হয়ে লেগে যায়। ওদোকাওয়া কী পারবে নিজেকে বাঁচিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে?
 
গল্পঃ ১০
দারুণ প্লট। যেমন আনপ্রেডিক্টেবল, তেমনি মজাদার। অনেকগুলি আপাত বিচ্ছিন্ন প্লট পয়েন্ট এখানে প্যারালেলি চলেছে। প্রতি পর্বে দর্শকদের ছোটবড় ক্লু দেওয়া হয়েছে, যেন তারা ওদোকাওয়ার সাথে গল্পের মূল রহস্য সমাধানে অংশ নিতে পারে। এর সাথে দারুণ ডিরেকশন আর স্ক্রিপ্টরাইটিং-এর জোরে গল্পটিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আর গল্পের শেষ এপিসোডের টুইস্টটি একে নিয়ে গেছে মাস্টারপিসের উচ্চতায়।
 
 
চরিত্রায়ণঃ ১০
মূলত গল্প নির্ভর এই আনিমেতে যতটুকু চরিত্রায়ণ আশা করা যায়, তার সবই আছে। গল্পটির এপিসোড সংখ্যা কম হলেও অনেকগুলি চরিত্র আছে। তা সত্ত্বেও চরিত্রগুলির সাথে সহজেই নিজেকে কানেক্ট করা যায়, ওদের মনমানসিকতা বোঝা যায়, ওরা কখন কী করতে পারে তা আন্দাজ করা যায়। ওদেরকে বাস্তব চরিত্র বলেই মনে হয়। সাইড ক্যারেক্টারগুলোকেও যত্নের সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
 
আর্ট ও এনিমেশনঃ ৮
গল্পের সাথে তাল মিলিয়ে কিছুটা ইউনিক আর্টস্টাইল আর ক্যারেকটার ডিজাইন এখানে ব্যবহৃত হয়েছে। চোখ ধাঁধানো কিছু না হলেও তাতে এঞ্জয়মেন্টে কোনই ব্যত্যয় ঘটেনি।
 
সাউন্ডঃ ৯
ওপেনিং গান, এন্ডিং গান, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক – সব জায়গায় মূলত সিটি পপ থিমের আলোকে সাউন্ড ব্যবহার করা হয়েছে। টোকিও শহরে ঘটা থ্রিলিং গল্পের সাথে এক্কেবারে খাপে খাপ মিলে গেছে। গল্পের মুড অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সাউন্ড ইউজ করতে ডিরেক্টর কার্পণ্য করেননি।
 
এঞ্জয়মেন্টঃ ১০
মিস্টেরি জানরার ফ্যান হিসেবে এই আনিমেটা এই বছরের সেরা উপহার ছিল আমার কাছে। প্রতি সপ্তাহে এটার জন্য সবচাইতে বেশি মুখিয়ে থাকতাম। গল্পের চরিত্রগুলি, ওদোকাওয়ার সিনিকাল কথাবার্তা, গল্পে উঠে আসা এক্কেবারে বাস্তব ইস্যুগুলি, আর গল্পের শেষের সেই জব্বর টুইস্টটা আমার অনেকদিন মনে থাকবে।
 
দেরি না করে এইটা দেখে ফেলুন। বারবার দেখুন। কারণ খুব চাতুর্যের সাথে নানা ক্লু ছড়ানো আছে এই রত্নটির মধ্যে!