Movie Time With Yami – 58

place-promised-in-our-early-days1

Name: Kumo no Mukou, Yakusoku no Basho / The Place Promised in Our Early Days
Duration: 1 hr. 30 min.
MAL Score: 7.98
Ranked: 543
Genres: Drama, Romance, Sci-Fi, Military

মুভিটির কাহিনী এমন এক জাপানে, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেশটিকে দ্বিখণ্ডিত করে দিয়েছে। হোক্কাইডো পড়েছে ইউনিয়ন এর ভাগে, অপরদিকে হোনশু এবং দক্ষিণ দিকের অন্যান্য এলাকা পড়েছে ইউএস এর ভাগে। হোক্কাইডোতে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল এক রহস্যময় টাওয়ার, যা দক্ষিণাঞ্চলের অনেক দূর পর্যন্তও দৃশ্যমান।

এই সময়ে হোনশু এলাকায় বাস করত তিন হাইস্কুল পড়ুয়া বন্ধু। আর দশটা হাইস্কুল শিক্ষার্থীর মতই তাদের জীবন। টাওয়ারটার ব্যাপারে তাদের কৌতুহলের সীমা নেই। তারা তিনজন প্রমিস করে, একদিন একটা এয়ারক্রাফট বানিয়ে তারা এই টাওয়ারের রহস্য সমাধান করবে।

কিন্তু এর মাঝে অদ্ভুত এক রোগে আক্রান্ত হয় সাওয়াতারি। চিকিৎসার জন্যে টোকিও চলে যেতে হয় তাকে। এই ঘটনার পরে তিন বন্ধু তাদের প্রমিসের কথা প্রায় ভুলতে বসে। তারা কি কখনো জানতে পারবে, টাওয়ারের সাথে সাওয়াতারির রোগের সম্পর্কের কথা?

মুভিটির পরিচালক মাকোতো শিনকাই, এই একটা নামই যথেষ্ট এর আর্টওয়ার্কের সৌন্দর্য বুঝানোর জন্য। ঝলমলে প্রাকৃতিক দৃশ্য, খোলা আকাশ, বিস্তীর্ণ মাঠ- প্রতিটা ক্ষেত্রে মাকোতো শিনকাই এর ছাপ স্পষ্ট। ওএসটি বেশ মানানসই, এন্ডিংটা মনে রাখার মত। স্টোরিটা এই পরিচালকের অন্যান্য কাজের মতই একটু ধীরগতির, তবে মনে ছাপ রেখে যায় সহজে। আর এন্ডিংটা আমার অনেক ভাল লেগেছে।

তাই সময় পেলে দেখে ফেলতে পারেন এই মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/…/The-Place-Promised-in-Our-Early…

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Detective School Q! [এনিমে রিএকশন] — যারীন তাসনিম হায়দার

আগে একটা মজার কথা একটু শেয়ার করে নিই- এই অ্যানিমেটা যখন দেখি,তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি।এখানে Q নামের ছেলেটা (মেইন ক্যারাক্টার) একটা কথা বলেছিল। “If a detective gives up,the case can never be solved.” কথাটা আমাকে অনেকবেশি নাড়া দেয়।নাড়া দেয় এই হিসেবে না যে আমি একজন ডিটেকটিভ হতে যাচ্ছি,গিভ আপ করা চলবে না; বরং এই হিসেবে নাড়া দেয় যে, কোন লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ফুলফিল করতে হলে গিভ আপ করলে চলবে না।সেই বছরেই একবার গ্রামের বাড়িতে আমি,আমার বড়বোন আর কয়েকটা পিচ্চি ভাইবোন মিলে আম্মা আব্বার নিষেধ অমান্য করে একটা বিরাট পুকুরওয়ালা খাঁদের মত (অত স্পেসিফিকালি মনে করতে পারছি না) একটা জায়গায় সবাই মিলে মজার করার জন্য নেমেছিলাম।একদম শেষ বিকাল।একটু পর সন্ধ্যা হবে।আমরা সবাই পরে উপরে ধরাধরি করে উঠে যেতে পারলে আমার বোন সেখানে কিছু বড় বড় ইটের মত একটা জায়গায় (খাঁদ বলে কিছু ইট ফেলা ছিল) ব্যথা পেয়ে তার মধ্যে আটকে যায় আর কান্নাকাটি শুরু করে।আযান দেয়।দ্রুত ফিরতে হবে।কেউ কিছু করেই ওগুলোকে সরিয়ে বোনকে তুলতে পারছিলাম না।ও ভয়ে বলা শুরু করে,”তোমরা চলে যাও,তোমরা পারবা না,আম্মু আব্বুকে ডাকো,আমি আর উঠতে পারব না” এই সেই।এইসময় আমিও যখন অনেকটা হতাশ,তখন হঠাৎ করে Q এর ডায়ালগটা মনে পড়ল। “If you give up………” হঠাৎ একটা বল পেলাম মনে।সবাইকে বললাম আমরাই পারব।আবার ট্রাই করতে।বোনকে বললাম ভয় না পেতে আর সাহস আনতে (একটু ঝাঁড়ি মেরে বলতে হয়েছিল বড় বোনকে,আমার আবার ঝাঁড়ি মারার অভ্যাস আছে, খুব বাজে অভ্যাস… :v ) এবং অবশেষে সেই খাঁদ থেকে আস্তে আস্তে তাকে তুললাম সবাই। I thanked Allah first obviously and then secondly Q. 😛

যাই হোক,২০০৮ সালে Animax চ্যানেলে এটা ছিল আমার দেখা ফার্স্ট ডিটেকটিভ অ্যানিমে সিরিজ।ডিটেকটিভ বেসড অন্যান্য অ্যানিমেগুলো এটার পরে দেখা শুরু করি।কয়েকটা দিন থেকেই আগের দেখা অ্যানিমেগুলো, অথবা যেই টুনামি দিয়ে অ্যানিমে দেখার যাত্রা শুরু সেইগুলোর কথা,মোদ্দা কথা হল পিচ্চিকালের নিশ্চিন্তে বসে শুধুই আর শুধুই অ্যানিমে টিভির সামনে বসে গিলতে থাকার কথা মনে পড়ছে,যা এখন এই লেভেলে এসে এত পড়াশুনা বা অন্যান্য কাজের প্রেসারের চাপে নিশ্চিন্তে করা হয়ে উঠে না।

এই অ্যানিমে ওয়ার্ল্ড, I repeat, এই অ্যানিমে ওয়ার্ল্ড আমার লাইফে যত অসাধারন কোটেশন শিখিয়েছে,ইন্সপিরেশন দিয়েছে; আমি মাঝে মাঝে মনে হয় হাজারটা বই পড়লেও এত সহজে হয়ত ইন্সপিরেশন পেতাম না।

লাইফের অনেক বড় বড় বাঁধা এইসব কোটেশন দিয়েই পার করেছি।And honestly speaking,I succeeded every time Alhamdulil Allah. 🙂

আগে মানুষকে বললে হাসত। “অ্যানিমে????এইগুলা দেখে কেউ???তুমিও দেখো!!!!ওহ ঐসব ‘কার্টুন ‘……… কী শিখবা দেখে এইগুলা…….” আর এখন,ঐ মানুষগুলাই আমার কাছে অ্যানিমে, যেটা তাদের ভাষায় নিছক ‘কার্টুন ‘, তার সাজেশন চায়।

Detective School Q

‘ইফ ইউ লাইক দিস ইউ মে অলসো লাইক দ্যাট’ – ১৭

ইফ ইউ লাইকড ‘Shiki’ ইউ মে অলসো লাইক ‘Higurashi no Naku Koro ni’

1

আপনার কাছে ‘Shiki’ ভালো লাগলে ‘Higurashi no Naku Koro ni’ ও ভালো লাগতে পারে

কারণ-

Shiki’ ও ‘Higurashi no Naku Koro ni’ এর মধ্যে মিল-

* দুইটা অ্যানিমেই এর কাহিনি ই একটা ছোট শান্ত গ্রামে ঘটে। * একই আবহ আর পরিবেশ।
* সুপারন্যাচারাল মার্ডার মিস্টেরি নিয়ে কাহিনি।
* অনেক গোরি আর ভায়োলেন্ট সিন আছে।
* মেইন মেইল ক্যারেক্টার শহর থেকে গ্রামে ট্রান্সফার হয়ে আসার পর ই কাহিনি শুরু হয়।
* ক্যারেক্টারদের মধ্যে মিল।
* গা ছমছমে আবহ সৃষ্টি করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউসিক।
* এক বিশেষ ধরণের ‘অসুখ/রোগ’ যা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তা কাহিনির অনেকটা মূল বিষয়।
* ‘অসুখ/রোগ’ যা গ্রামের সবাই ‘অভিশাপ’ বলে মনে করে।
* মিস্টেরি, সুপারন্যাচারাল, হরর, থ্রিলার জনরার।

2

Shiki’ ও ‘Higurashi no Naku Koro ni’ এর মধ্যে অমিল-

* Shiki তে ভ্যাম্পায়ার আছে যা Higurashi তে নাই।
* Shiki এর ২য় সিসন নাই কিন্তু Higurashi এর ২য় সিসন আছে এবং ২ সিসন মিলেই কাহিনি পূর্ণতা পায়।
* Higurshi তে সাইকোলজিক্যাল অংশ Shiki এর চাইতে বেশি।
* Higurshi তে হালকা স্ল্যাপস্টিক কমেডি আছে যা Shiki তে একেবারেই কম।
* Shiki, Higurashi no Naku Koro ni এর ৪ বছর পরে রিলিস পেয়েছে তাই Shiki এর অ্যানিমেশন Higurashi no Naku Koro ni এর চেয়ে ভালো।

3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14

Movie Time With Yami – 57

maxresdefault (4)

Name: K- Missing Kings
Duration: 1 hr. 15 min.
MAL Score: 8.12
Ranked: 383
Genres: Action, Super Power, Supernatural

শুরুতেই বলে রাখি, এ মুভিটি কে প্রজেক্ট নামের আনিমেটির সিক্যুয়াল, কাজেই কে প্রজেক্ট আনিমেটি না দেখে মুভিটি কোনভাবেই দেখা উচিৎ হবে না।

আনিমের ট্র্যাজেডীর পর ছন্নাছড়া অবস্থা হয় হোমুরা ক্ল্যান এর। ক্ল্যানসম্যানরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আলাদাভাবে জীবন-যাপন করতে থাকে। ইয়াতা শুধু একা তাদের আড্ডায় বসে পুরনো দিনের স্মৃতিগুলোকে মনে করে ভিডিও দেখে দেখে। ওদিকে শিরোর খোঁজে চারদিক থেকে তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াতোগামি আর নেকো।

এমন সময় হঠাৎ আন্নাকে কিডন্যাপ করে গ্রীণ ক্ল্যান। তাকে বাঁচাতে ছুটে যায় ইয়াতা, নেকো ও ইয়াতোগামি। কিন্তু তারা সকলেই সম্মুখীন হয় তাদের সমতুল্য শত্রুর।

মুভিটি আনিমেটিতে থেকে যাওয়া অনেক প্রশ্নের জবাব দেয়, সে কারণে আমার এটি অনেক ভাল লেগেছে। হোমুরা ক্ল্যানের বিক্ষিপ্ত অবস্থা থেকে উত্তরণ দেখে স্বস্তি পেয়েছি, শেষদিকে আন্নাকে নিয়ে টুইস্টটা অনেক বেশি চমৎকার ছিল, এই অংশটুকু মুভিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। তবে মুভিটি বেশ বড় একটা ক্লিফহ্যাঙ্গার দিয়ে শেষ হয়, একারণে শেষ করার পর কিছুক্ষণ হতাশ লাগে; আশা করছি এই হতাশা সিজন ২ দূর করে দেবে।

মুভির আর্ট আনিমেটির মতই সুন্দর, সেইসাথে ওএসটিও ভাল, যদিও আনিমের ট্র্যাকগুলো মিস করেছি আমি। কাহিনীর পেসিং ভাল, আর ফাইট সিনগুলোও ভাল।

তাই, সময় পেলে দেখে ফেলুন আনিমেটি এবং এই মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/K-Missing-Kings

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Bakuman/Shirobako Comparison — Farhad Mohsin

শিরোবাকো দেখার সময় প্রথম থেকেই নানা কারণে বাকুমানের কথা মনে পড়ছিল। যতই দেখতে থাকি ততই মনে হচ্ছিল তুলনাটা আসলে অবান্তর।

বাকুমান শেষ পর্যন্ত স্লাইস অফ লাইফের চেয়ে অনেক বেশি একটা ব্যাটল নির্ভর রোমান্স আনিমে। বাকুমান আমি পড়েছি যখন এটা অনগোইং ছিল, পড়ার সময় বা পরে দেখার সময় আমি যে থ্রিল অনুভব করেছি সেটা সত্যি বলতে কি বেশিরভাগ মেইনস্ট্রিম ব্যাটল শোনেনেও আমার হয় নি।

Bakuman

শিরোবাকো আর যাইই হোক না কেন, একটা পিওর স্লাইস অফ লাইফই বটে, অবশ্য রোমান্স বা হাই-স্কুল না। এবং অনেক স্লাইস অফ লাইফ আনিমের ‘ওভারড্রামাটাইজেশন’ এর টেন্ডেন্সি থেকে মুক্ত। স্লাইস অফ লাইফের ক্ষেত্রে (বিশেষত শৌজোর ক্ষেত্রে) একটা অভিযোগ আসে যে এত আনরিয়েলিস্টিক ক্যারেক্টারাইজেশনের কিছুকে কোনভাবেই life-like বলা চলে না। সেখানে শিরোবাকোর ক্যারেক্টারদের ক্যারেক্টারাইজেশন/ডায়ালোগ এগুলো অনেক বেশি জীবনের কাছাকাছি।

Shirobako

এত ডিফারেন্সের পরেও আসলে ঘুরে ফিরে সেই ব্যাপারটাই চলে আসে যে Bakuman is a manga about creating manga, Shirobako is an anime about creating anime. আর দুই ক্যাটেগরেতেই মাঙ্গা/আনিমে ইন্ডাস্ট্রির মানুষের গল নিয়ে তৈরি করা এর থেকে ভালো আর কিছু নেই। এটাই শেষমেশ বাকুমান আর শিরোবাকোকে একই সাথে মাথায় এনে ফেলে।

সুতরাং আপনি যদি নতুন মাঙ্গা/আনিমে ফ্যান হয়ে থাকেন, কিংবা পুরানো হলেও কোন কারণে এটা না দেখা হয়ে থাকে, I suggest go for it. আপনার স্লাইস অফ লাইফ ভালো লাগুক আর নাই লাগুক, দেখে ফেলুন। এ দুইটা ভাল্লাগবে। একই সাথে এত পছন্দের ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত মানুষগুলোর জন্য অন্যরকম একটা রিস্পেক্টও তৈরি হবে।

কে প্রজেক্ট; কলিযুগের রাজতন্ত্র- লিখেছেন ইশমাম আনিকা

611081

জনরাঃ অ্যাকশন, সুপার পাওয়ার, সুপারন্যাচারাল
পর্বসংখ্যাঃ ১৩

অ্যানিমেটির কাহিনী অল্টারনেটিভ সেটিং এর জাপানে; প্রযুক্তি যেখানে বর্তমান পৃথিবীর তুলনায় অনেক এগিয়ে। সেখানকার একটি শহর শিজুমে সিটিতে একটি দ্বীপের ওপর অবস্থিত স্কুল আশিনাকা হাইস্কুল। এই স্কুলেরই এক সাধারণ ছাত্র ইসানা ইয়াশিরো। খামখেয়ালি, কেয়ারলেস এবং ফ্রেন্ডলি স্বভাবের “শিরো-কুন” কে ওর ক্লাসের সবাই বেশ পছন্দ করে। সেজন্য সারাক্ষণ ফাঁকিবাজি করে বেড়ানোটা শিরোর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

ওদিকে শহরের অন্য প্রান্তে রেড কিং এর অধীনস্থ হোমুরা গ্যাং তান্ডব চালাচ্ছে। উদ্দেশ্য, তাদের এক গ্যাং মেম্বারের খুনিকে খুঁজে বের করা। কিন্তু এদের সাথে শিরোর সম্পর্ক কি! স্কুল ফেস্টিভালের জন্য জিনিস কিনতে শহরে এসেই হোমুরা গ্যাং এর রোষের সামনে পড়ল শিরো। কোনমতে তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রাণ নিয়ে পালাতে পালাতে সে গিয়ে পড়ল আরেক বিপদের মুখে। ইয়াতোগামি কুরোহ, বা কুরোইনু নামে পরিচিত এই ব্যক্তিটি হল পূর্ববর্তী কালারলেস কিং এর ফলোয়ার, যার বর্তমান উদ্দেশ্য নতুন কালারলেস কিংকে খুঁজে বের করে তাকে হত্যা করা।

মোটামুটি এভাবে একটি প্রমিজিং স্টোরিলাইন নিয়ে শুরু হয় কে প্রজেক্ট অ্যানিমেটির কাহিনী। এরপরে কাহিনী আরও ডালপালা মেলতে থাকে, একে একে বেরিয়ে আসে প্রতিটি ক্যারেক্টারের ব্যাকস্টোরি। জাপানের আবহাওয়ার ওপর প্রভাব খাটানো “কিং” দের ও তাদের ক্ল্যানসম্যানদের সাথে দর্শকের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, এগোতে থাকে কাহিনী। হোমুরা গ্যাংকে ঘিরে অসম্ভব সুন্দর ও ইমোশনাল কিছু দৃশ্য রয়েছে, এই অংশগুলো আমার নিজের অসম্ভব ভাল লেগেছে।

Homra-k-32742846-1280-720

অ্যানিমেটির সেটিংটা যথেষ্ট ভাল, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে মাঝে মাঝে এক্সপ্লানেশনগুলো কেমন যেন অসম্পূর্ণ। অনেক ব্যাপারে আরও বেশি ব্যাখ্যা আশা করেছিলাম, যা মুভিটিতেও দেয়া হয়নি, তবে আশা করছি সামনের আপকামিং সিজনে সেগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে। এছাড়া কাহিনীটা সহজেই মনকে ছুঁয়ে যাওয়ার মত, বেশ কয়েকটি ক্যারেক্টারের প্রতি মায়া জন্মে গিয়েছে খুব সহজেই। আন্না কুশিনা এবং ইয়াতোগামি কুরোহ- এই দুটি চরিত্রকে আমার খুবই ভাল লেগেছে, তবে ভাল লাগার মত আরও অনেক চরিত্র আছে অ্যানিমেটিতে।

অ্যানিমেটির আর্টওয়ার্ক খুব বেশি সুন্দর, চোখ ধাঁধানো অ্যানিমেশন আর খুব চমৎকার ক্যারেক্টার ডিজাইনের কারণে দেখার সময় অনেক শান্তি লেগেছে, ফাইট সিনগুলো খুব ভাল, আর উজ্জ্বল অ্যানিমেশনের জন্য এই সিনগুলো আরও উপভোগ্য হয়েছে। সেইসাথে সাউন্ডট্র্যাকও অতিরিক্ত সুন্দর; প্রতিটি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আমার মনে ছাপ ফেলেছে। ক্যারেক্টারগুলোর সাথে মানানসই থিম, ইমোশনাল দৃশ্যতে চমৎকার মন ছুঁয়ে যাওয়া ট্র্যাক এবং ফাইট সিনগুলোতে এক্সাইটিং মিউজিক- সবমিলিয়ে এই অ্যানিমেটার প্রতিটি ট্র্যাকই সুন্দর। এর মাঝে আমার সবচেয়ে পছন্দের ট্র্যাক হল “কিস অফ ডেথ”। (https://youtu.be/ceWxUIQyDaw?list=RDceWxUIQyDaw)

তবে অ্যানিমেটির যে ব্যাপারটি আমার কাছে অতিরিক্ত বিরক্তিকর লেগেছে, তা হল প্রতিটি নারী চরিত্রই ফ্যানসার্ভিসের শিকার হয়েছে। এই ব্যাপারটি না থাকলে অ্যানিমেটি আরও উপভোগ্য হত বলে আমার মনে হয়েছে।

1362421840014-2

Anime Suggestion: Honey and Clover — Tufika Anwar

বড় হয়ে কি হবে বাবা?? এই ছেলে জীবনে কি হবার ইচ্ছা?? তারপর লাইফ প্লান কি??
ছোট বয়স থেকেই “এইম ইন লাইফ” প্যারাগ্রাফের সাথে সাথে এই ধরণের (ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাঁচি) প্রশ্নেরও সম্মুখীন আমরা প্রত্যেকেই হয়ে থাকি বিভিন্নভাবে জীবনের বিভিন্ন ধাপে।
তখন হয়ত আমরা বুঝে বা না বুঝে, জেনে বা না জেনেই এর উত্তর তৈরি করি। মজার ব্যাপার হল প্রশ্ন যতটা সহজ উত্তর ততটাই কঠিন। এর সাথে জড়িয়ে আছে সময়, আছে নিজেকে জানার ব্যাপার, আছে ভাগ্যের খেলা।
আর একটা বড় প্রশ্ন আপনার পাশের মানুষটি কে হবে?? আপনি যার জন্য রাত দিন সব এক করে ফেলছেন, আদৌ সেই জন কিনা- এই সব বড় বড় অনিশ্চিত বিষয়গুলো হয়ত এক দৌড়ে ভবিষ্যতে গিয়ে দেখে আসতে পারলে দারুন হত কিন্তু তা তো আর হবার নয়।
জীবনের এই সব ফাইনাল ব্যাপারগুলোর উত্তর মেলে বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেরিয়েই। আর অনিশ্চয়তাই এই যাত্রার প্রধান আকর্ষণ।

HnC 2
এনিমে “হানি অ্যান্ড ক্লভার” এইম ইন লাইফ টাইফ প্রশ্ন থেকে পালাবার যখন আর উপায় থাকে না তেমনি বয়সের কাহিনী। দীর্ঘ ২৪ পর্ব জুড়ে আছে আর্ট কলেজের কয়েকজন ছেলেমেয়ে কারো হয়ত শেষ বর্ষ কেউ বা প্রথম বর্ষে তাদের বন্ধুত্ব, আছাড় খেয়ে প্রেমে পড়া তারপর ভালো মতো নাকানিচুবানি খাওয়া, প্রথম দৃষ্টির প্রেমও আছে, অসাধারণ কমেডি, অসাধারণ সিরিয়াস সব বিষয়ও আছে, জীবনের দর্শন বা লক্ষ্যের অনুসন্ধান। যদিও গল্পের প্রত্যেকটা চরিত্র ভিন্ন ভিন্ন গল্পের বাহক আবার একে অপরের সাথেও জড়িত।
সব মিলিয়ে খুব ভালো লাগার একটা এনিমে। শেষ পর্যন্ত আশ্চর্য হবার মতো আছে অনেক চমক, সময় ও ভাগ্যের খেলা, কোন আশ্চর্যের জন্য অপেক্ষা।

HnC 1

Movie Time With Yami – 56

maxresdefault (2)

 

Name: When Marnie Was There / Omoide no Marnie
Duration: 1 hr. 43 min.
MAL Score: 8.43
Ranked: 138
Genres: Mystery, Psychological

জাপানের কোন এক প্রান্তে একটি শহর স্যাপ্পোরো। এই শহরে বাস করে আন্না নামের একটি মেয়ে। কিছুটা চুপচাপ, অমিশুক স্বভাবের এই মেয়েটির কোন কাছের বন্ধু নেই; ছবি আঁকার খাতা-কলমই তার একমাত্র সঙ্গী। আন্নার জন্য তার মায়ের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই; তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা দূর করার জন্য ডাক্তারের পরামর্শে অনিচ্ছাস্বত্ত্বেও তাকে গ্রামে আত্মীয়দের বাড়িতে কিছুদিনের জন্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন আন্নার মা, কিন্তু আন্না বরাবরের মতই তাকে ভুল বোঝে এবং কিছুটা রাগ করেই ট্রেনে চড়ে বসে গ্রামে যাওয়ার জন্য।

গ্রামের নিশ্চুপ ছিমছাম পরিবেশ, আত্মীয়দের হাসিখুশি আপন আপন ব্যবহার, সবই আন্নার পছন্দ হয়, কিন্তু একটা ব্যাপারে রয়ে যায় সেই আগের মতই, অচেনা মানুষদের সাথে কখনই সহজ হতে পারেনা সে। আন্নার দিন তাই কাটে আশেপাশের জঙ্গল এবং পুরনো বাড়িঘর দেখে আর সাগরপাড়ে বসে ছবি এঁকে।

এভাবেই সে একদিন আবিষ্কার করে একটি রহস্যময় বাগানবাড়ি। বাড়িটির প্রতি সে কেমন যেন একটা টান অনুভব করে। তাই সাগরের মাঝে একটি দ্বীপের মত জেগে থাকা বাড়িটির কাছে সে ছুটে যায় বারবার। এভাবেই সে আবিষ্কার করে এক গভীর রহস্য, যা আন্নার পুরো জীবনটাকেই বদলে দেয়।

মুভিটি স্টুডিও জীবলীর শেষ মুভি (তাদের ভাষ্যমতে), আর এই শেষ মুভিটিই তাদের এত বেশি সুন্দর হয়েছে, যে মুভিটি দেখার পর থেকেই আমার খুব আফসোস হচ্ছে যে এত সুন্দর একটা জার্নি কেন হঠাৎ করে এভাবে থেমে যাবে! মুভির কাহিনী খুব বেশি চমৎকার, জিবলী স্টুডিওর করা সেরা কাহিনীর মুভি এটি। খুব সাধারণ একটা শুরুর পরে আস্তে আস্তে অসাধারণ একটা সাইকোলজিক্যাল মুভিতে টার্ন নেয় এটি; আর সবচেয়ে স্পেশাল ব্যাপারটা হল, পুরোটা সময় দর্শককে একইভাবে মন্ত্রলুগ্ধ করে রাখার ক্ষমতা আছে মুভিটির। কাহিনীর পেসিং খুব বেশি চমৎকার, অল্প সময়ের মাঝেই ভেতরে টেনে নেয় দর্শককে। এটির আর্টওয়ার্ক জিবলীর সেরা আর্টওয়ার্কগুলোর একটি; কাহিনীর রহস্যময়তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুরো মুভিতে যে আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে- এককথায় অসাধারণ! সেইসাথে কৃতিত্ব দিতে হবে এর সাউন্ডট্র্যাককেও, কাহিনীর গতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মনকাড়া ওএসটি নিমেষেই যে কারও মন ভাল করে দেবে!

তাই, সময় পেলে দেখে ফেলুন আমার খুব পছন্দের এই সুন্দর মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/When-Marnie-Was-There

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

অ্যানিমে রিভিউঃ আন-গো; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

UN-GO.full.890295

 

জনরাঃ মিস্ট্রি, সুপারন্যাচারাল
পর্বসংখ্যাঃ ১১

ভবিষ্যতের যুদ্ধ-পরবর্তী বিধ্বস্ত জাপান। দেশটির শাসনের ভার মিলিটারীর হাতে, সাময়িক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কঠোরভাবে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্র নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মাঝে ইন্টারনেট ও তথ্য সরবরাহের সকল উৎসও রয়েছে।

এরকম সময়ে টোকিওতে বাস করে ইউকি শিনজুরৌ। তার সম্পর্কে প্রচলিত কথাটি হল, “ডিফিটেড ডিটেকটিভ”, যদিও সে নিজেকে “লাস্ট গ্রেট ডিটেকটিভ” বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। এই অস্থিতিশীল জাপানের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চুনোপুঁটি থেকে শুরু করে রুই-কাতলারা পর্যন্ত করতে থাকে বিভিন্ন চক্রান্ত, যার মাঝে হত্যা থেকে শুরু করে ক্ষমতা দখলের লড়াই পর্যন্ত সবই অন্তর্ভূক্ত। ইউকি শিনজুরো তার অদ্ভুত সঙ্গী ইংগা কে সাথে নিয়ে প্রতিটি রহস্যের তলানি পর্যন্ত যায়, যদিও এর জন্য তাকে বিভিন্ন সময়ে অনেকের রোষানলের কবলে পড়তে হয়। তাও তাকে চালিয়ে যেতে হবে সত্যের অনুসন্ধান, নাহলে যে এক ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে ইংগা! এই পথে ইউকির সাথে কখনো বন্ধু, আবার কখনো প্রতিযোগী হিসেবে কাজ করেন কাইশৌ রিনরোকু, একটি বড় কোম্পানির ডিরেক্টর তিনি, ঘরে বসে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ক্রাইম সিন পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

১১ পর্বের অ্যানিমে, খুব বেশি ডেভেলপমেন্টের আসলে তেমন সুযোগ নেই, তবে তারপরেও আস্তে আস্তে প্রধান চরিত্রগুলোর ব্যাকস্টোরি রিভিল হয়, ব্যাপারটা ভালভাবেই এক্সিকিউট করা হয়েছে। মিস্ট্রির অংশটা আসলেই অনেক ভাল, হত্যা, চুরি-ডাকাতি বা ষড়যন্ত্র, যাই হোক না কেন, প্রতিটি পর্বেই নতুন নতুন কেস আনা হয়েছে, এবং শেষের দিকে কয়েকটি কেসকে একসূত্রে গেঁথে একটি বড় মিস্ট্রি বানানো হয়েছে, ব্যাপারটা বেশ ভাল লেগেছে। প্রোটাগনিস্ট হিসেবে ইউকি শিনজুরৌ খারাপ না, যদিও মাঝে মাঝে তার আচরণ একটু খাপছাড়া লেগেছে আমার কাছে।

প্রশংসার সাথে সাথে খুঁত জিনিসটাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এই অ্যানিমেও তার ব্যাতিক্রম নয়! শুরু থেকেই যে জিনিসটা আমার কাছে বিরক্তিকর লেগেছে, তা হল “ইংগা” নামের চরিত্রটি। আপনারা যারা অ্যানিমেটি দেখেছেন, তারা হয়ত বুঝতে পারবেন আমি কি বলতে চাচ্ছি, আমার মনে হয়েছে, শুধুমাত্র ঐ একটা প্রশ্ন করার জন্য এরকম একটা ক্যারেক্টারের আসলে খুব দরকার পড়েনা, অপরাধীর মুখ খোলানোর আরও হাজারটা উপায় রয়েছে। তারপরেও সে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ অ্যানিমেটির, তাই অস্বস্তিটাও বেশি লেগেছে। এছাড়া মিস্ট্রি যখন সলভ করা হয়, মাঝে মাঝে এক্সপ্লানেশনগুলো খাপছাড়া লেগেছে, কিছু ক্ষেত্রে আরেকটু ডিটেইলড এক্সপ্লানেশন জরুরী ছিল।

অ্যানিমেটির আর্টওয়ার্ক ভাল, ওএসটিও মন্দ নয়, মাঝে পপ আইডল “ইয়োনাগাহিমে” নিয়ে একটি কেস ছিল, সেই কেসটিতে এই (https://youtu.be/mf6VOxXKqus) গানটি ব্যবহার করা হয়, আমার বেশ দারুণ লেগেছে এটি। কাহিনীর গতি ভাল, তবে মাঝে মাঝে একটু বেশিই দ্রুত এগিয়েছে বলে মনে হয়েছে আমার কাছে।

সবমিলিয়ে মিস্ট্রি অ্যানিমে হিসেবে এটি ভালই, ১১ পর্বের ছোট একটা অ্যানিমে, তাই অল্প সময়ের মাঝেই শেষ করা সম্ভব, সিনোপসিস পড়ে ভাল লাগলে একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন।

UN-GO.full.887252

Colorful – মুভি রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

 

Colorful 1

Are you alive?

মাঝে মাঝে কি এমন সময় এসেছে যখন কোন একদিন মনে হয়েছে চিরজীবন বেঁচে থাকতে পারলে বোধহয় খুব ভাল হত? অথচ ঠিক তার পরদিনই হটাৎ করে সব কিছু অর্থহীন মনে হয়েছে? বেঁচে থাকার ইচ্ছের জায়গাগুলো কি হটাৎ করেই দখল করে নিয়েছে একরাশ হতাশা, নিজের উপর; চারপাশের মানুষগুলোর উপর? নিজের ভুলগুলোর জন্য নিজের উপর প্রবল আক্রোশ এসে ভর করেছে?
আমার ধারনা আমাদের সবার জীবনেই কখনো না কখনো এমন সময় এসেছে। এবং আমরা সেই অবস্থা কাটিয়েও উঠি, আবার ফিরে যাই যান্ত্রিক জীবন যাপনে; কখনো কারো সাহায্য নিয়ে; কখনো কখনো হয়ত নিজের মনের জোরেই।

আমরা অনেক সময়েই আসলে বেচে থাকাটাকে পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারি না। কারণ আমরা আসলে পুরোপুরি বেঁচে থাকি না কখনই। আমরা তিন বেলা খাই, সারারাত ঘুমাই আর সারা দিন ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ুতে থাকি; ক্যারিয়ার; পড়াশুনা; দায়িত্ব; কর্তব্য – এখান থেকে সেখানে। একটু স্থির হয়ে বসে গোটা দুনিয়াটাকে, আকাশটাকে; চারপাশে মানুষগুলোকে চোখ মেলে দেখার একটুও ফুরসত মেলে না আমাদের। আমরা পুরোপুরি বেঁচে থাকি না; বেঁচে থাকার অভিনয় করি যাই আসলে।

খুব প্রিয়জন যখন বড় কোন ভুল করে ফেলে; এমন কিছু করে বসে যা জন্ম দেয় একগাদা অবিশ্বাসের; সেই ঘটনা ভুলে গিয়ে তাকে পুরোপুরি ক্ষমা করে দিতে আসলে কত সময় লাগে? ১মাস? ৬ মাস? ১ বছর? পুরোপুরি কি ভুলে যাওয়া যায় আদৌ? যদি না যায় সেক্ষেত্রে করণীয় আসলে কি? আর সেই প্রিয়জনেরই বা কি করার থাকে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য?

Colorful 2

 

কালারফুল মুভিটা দেখতে শুনতে আট দশটা স্বাভাবিক পরিবারের মতন অথচ নানারকম মানসিক টানাপোড়েনে থাকা এক পরিবারের গল্প, যে পরিবারের সবচেয়ে ছোট, বিষাদগ্রস্থ, জুনিয়র হাই স্কুলে পড়া ছেলেটি একের পর এক খারাপ ঘটনার পিঠে জীবনের চরমতম সিদ্ধান্তটি নিয়ে নেয়। সৃষ্টিকর্তা অপর একটা অপরাধী আত্মাকে পাঠান সেই শরীরে; আত্মার শুদ্ধির জন্য। আমরা সেই আত্মার চোখে পরিবারটাকে দেখতে পাই; ছেলেটার চারপাশের পরিবেশটা দেখতে পাই; প্রতিদিনের সংগ্রামগুলো দেখতে পাই; একে একে সবার বদলে যাওয়াটা দেখতে পাই এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্যে একসময় আসলে জীবনের সৌন্দর্যগুলোরও খোজ পেতে আরম্ভ করি। প্রত্যেকটা মানুষের পিছনে যে আসলে অনেকগুলো মানুষের সহযোগিতা জড়িয়ে আছে; নীরবে হোক অথবা সরবে – কেউ না কেউ যে তার উপর ভরসা করে আছে, তাকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছে – এই সহজ সত্যগুলো আমরা ভুলে যাই মাঝে মাঝেই। এই মুভিটা সেই সত্যগুলোকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখতে শিখায়; সব কিছুকে মেনে নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়; সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কি করে জীবনটাকে উপভোগ করতে হয় তার একটা ছোট্ট উদাহরণ দেয় আমাদের।

জীবনের আসল উত্তরটা কি? তার সফলতা আর বিফলতাটাই বা কোথায়? একটা ভাল রেজাল্টে? ভাল চাকরিতে? একগাদা টাকা পয়সায়? নাকি পরিবারের সবাইকে নিয়ে; প্রিয় মানুষগুলোকে নিয়ে একটু ভাল থাকায়? তাদেরকে সময় দেওয়ায়? চারপাশের দুনিয়াটাকে দেখায়, মানুষজনের সাথে মেশায়, জীবনটাকে নিজের মতন করে উপলব্ধি করায়, উপভোগ করায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরগুলো আসলে কখনোই মেলে না। কিংবা আমরা হয়ত মেলাতে চাই-ও না। চারপাশের মানুষগুলোকে দেখে; তাদের চিন্তাভাবনা আর তাদের উত্তরগুলোকেই নিজের উপর চাপিয়ে নেই, অবলীলায়। অথচ নিজেকে একবারও প্রশ্ন করে দেখি না – আমি কি আসলেই এটাই চেয়েছিলাম? আমরা কখনোই বুঝতে চেষ্টা করি না যে অপরের সফলতা মানে কখনোই নিজের ব্যার্থতাও নয়; আর ৮-১০ জনের মতন হতে না পারাটা কোন বড় সমস্যাও নয়।

প্রত্যেকটা মানুষের ভিতরেই আরেকটা মানুষ বাস করে। যে মানুষটাকে আমরা কাউকে দেখাতে চাই না; তাকে লুকিয়ে রাখতে চাই নিরন্তর। কিন্তু খুব দুর্বল মুহূর্তগুলোতে সে কি করে কি করে যেন ঠিকই বেড়িয়ে আসে। এবং সে কারণে নিজের উপর খুব অভিমান হয় পরে। কিন্তু আমরা ভুলে যাই মানুষের রঙ আসলে একটা না; অনেকগুলো। সবার আলাদা আলাদা রঙ মিলেই পুরো পৃথিবীটা রঙিন। সবার জন্য একই ছাঁচ, একই ব্লুপ্রিন্ট খাটে না; খাটা উচিতও না। দিনশেষে শুধুমাত্র একগাদা রঙকে ধারণ করে, নিজের সবগুলো অপূর্ণতাকে মেনে নিয়ে নিজের মত করে বেঁচে থাকার মাধ্যমেই আমরা বুঝতে পারি –
Yes, I am alive.

…………

মুভিঃ কালারফুল।
সময়ঃ ২ ঘন্টা ৭ মিনিট।
ম্যাল স্কোরঃ ৮.১৩।

Colorful 3