One Week Friends রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Screenshot_2016-03-26-17-36-00-1

আজ দেখে শেষ করলাম ব্রেইনস বেইজের অ্যানিমে- Isshuukan Friends / One Week Friends.

কাওরি ফুজিমিয়াকে বলা যায় ক্লাসের সবচেয়ে ইউনিক মেয়ে। কারও সাথে কথা বলে না, যন্ত্রের মত স্কুলে আসে যায় আর পড়াশোনা করে। তার শীতল নির্বিকার চাহনি দেখে ক্লাসের অন্য স্টুডেন্টরা তার সাথে কথা বলতে ভরসা পায় না। এই কাওরিকে হঠাৎ একদিন বলে বসল হাসে ইউকি নামের ছেলেটি, “I’d like for us to be friends!!”

চমকে গেল কাওরি। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে বিনীতভাবে হাসেকে প্রত্যাখ্যান করে দৌড়ে চলে গেল সে।

Screenshot_2016-03-26-17-35-18

এইটুকু বর্ণনা শুনলে যে কারও মনে হতে পারে, Yet another typical romance story. কিন্তু না, এরপরের কাহিনীতে আছে একটা রহস্য।

নাছোড়বান্দা হাসে তারপরেও কাওরির সাথে কথা চালিয়ে যেতে লাগল। এবং কাওরি নিজেও খেয়াল করল না যে কখন সে না চাইতেও নিয়মিত হাসের সাথে বন্ধুর মতই সময় কাটাচ্ছে। কিন্তু এদিকে সোমবার যে এগিয়ে আসছে! সোমবার এলেই তো কাওরির পৃথিবী রিসেট হয়ে যাবে! কিভাবে হাসের সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করবে তখন সে?

অ্যানিমেটার কাহিনী নরমাল রমকম অ্যানিমের মতই, কিন্তু এই রহস্যটার কারণে কাহিনীটা আমার কাছে বেশ ইউনিক লেগেছে। যদিও এই প্লট নতুন দেখছি না, বহু আগে দেখা একটি ইংরেজি মুভিতে প্রায় এরকম একটা কাহিনী দেখেছিলাম, তাও এই অ্যানিমেতে রহস্যটা যেভাবে ব্যবহার করেছে, তা আমার ভাল লেগেছে। রোমান্সের দিকে নজর না দিয়ে কাওরি ও হাসের অন্যান্য ক্লাসমেটদের সাথে সম্পর্ক ও তাদের নিজেদের ডেভেলপমেন্ট এর দিকে বেশি ফোকাস করা হয়েছে – এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক যেটা অ্যানিমেটাকে বোরিং হতে দেয়নি। স্লাইস অফ লাইফের মত কিছুটা ধীরগতির হলেও তা কাহিনীটাকে উপভোগ্য করে তুলেছে বলে আমি মনে করি।

Screenshot_2016-03-26-20-37-02-1

শুরুতেই ব্রেইনস বেইজের কথা উল্লেখ করেছিলাম, কারণ এই স্টুডিওটি আমার অত্যন্ত পছন্দের অ্যানিমে নাতসুমে ইউজিনচৌ এবং মুভি হৌতারুবি নো মোরি ই তৈরি করেছে, আর এ দুটোর আর্টের সাথে ইশশুকেন ফ্রেন্ডস এর আর্টে অনেক মিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর, ব্রেইনস বেইজের কাজ মনে হয়েছিল দেখার সময়ই। ওএসটি অ্যানিমের থিমের সাথে মানানসই, ওপেনিং টা বেশ সুন্দর।

সবমিলিয়ে মাত্র ১২ পর্বের বেশ সুন্দর একটা স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে এটি, চাইলে দেখে ফেলতে পারেন।

Screenshot_2016-03-26-17-35-36-1

রোমিও এক্স জুলিয়েট রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

12513956_586684758162701_8807651964706537406_o

নায়ক এবং নায়িকা, দুজনেই শহরের দুই অন্যতম প্রভাবশালী গৃহস্থের সন্তান। এই দুই পরিবারের মাঝে আবার সাপে-নেউলে সম্পর্ক। কিন্তু তারপরেও ঘটনাক্রমে (!) নায়ক-নায়িকার সখ্যতা গড়ে ওঠে। এরপর শুরু হয় লড়াই ও যত দুনিয়ার ঝামেলা।

শেকসপীয়ার সাহেব সেই কবে এই এক কাহিনী শুরু করে দিয়ে গেছেন, এরপরে এই কাহিনীই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে সারা দুনিয়াতে অন্তত কয়েক হাজারবার ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য মুভি/সিরিজ। আর এই নতুন মোড়কে পুরান কাহিনী সিরিজেরই আরেকটি হল আজকের আলোচ্য অ্যানিমে, “রোমিও এক্স জুলিয়েট”।

প্রশ্ন জাগতে পারে, রোমিও জুলিয়েট এর প্রেমকাহিনী তো জানিই, তাহলে আর এই অ্যানিমে নিয়ে এত ভেজাল করার দরকার কি? ২৪ এপিসোড সময় নষ্ট করে সেই “হোয়্যারফোর দাউ আর্ট রোমিও?” র গাপানি ভার্শন কে দেখে?

এখানেই মজাটা। সেটিংটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, আপনার মনেই হবে না যে এটা আসলে শেকসপীয়ার সাহেবের কাছ থেকে ধার করা কাহিনী। কারণ এই অ্যানিমেতে শেকসপীয়ার সাহেব নিজেই যে একজন চরিত্র!! সেটিং টা এমনভাবে করা, যেন মনে হয় যে এই ঘটনার থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই উইলিয়াম শেকসপীয়ার তার বিখ্যাত উপন্যাসটি লিখেছেন।

12604943_586684761496034_684024832718483953_o

অনেক অনেক কাল আগে, মানুষ লাপুতার মত এক ভাসমান রাজ্য নিও ভেরোনাতে বসবাস করত। সেখানকার দয়ালু শাসক ছিলেন ক্যাপিউলেট পরিবারের প্রধান। কিন্তু এক রাতে অতর্কিতে ক্যাপিউলেটদের প্রাসাদে হামলা চালায় মন্টাগিও ফ্যামিলি। নৃশংসভাবে তারা খুন করে ক্যাপিউলেট পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে ক্যাপিউলেট পরিবারের কয়েকজন ফলোয়ার চেষ্টা করে উদ্ধার করে আনে এই পরিবারের উত্তরাধিকারী জুলিয়েট ফিয়াম্মাটা অ্যাস্টো ক্যাপিউলেটকে।

এরপর কেটে যায় ১৪ টি বছর। রাজ্যে অত্যাচারী মন্টাগিও পরিবারের শাসন প্রতিষ্ঠিত। জুলিয়েটের বিরূদ্ধে জারি করা হয়েছে মৃত্যু পরোয়ানা। জুলিয়েটকে তাই মানুষ করা হয় পুরো পৃথিবীর থেকে লুকিয়ে; মেয়ে নয়, তাকে সবাই চেনে ওডিন নামের এক বালক হিসেবে।

এই ওডিনের সাথে ঘটনাক্রমে দেখা হয়ে যায় মন্টাগিও পরিবারের দয়ালু সন্তান রাজপুত্র রোমিওর। এই এনকাউন্টার কি প্রভাব ফেলবে তাদের জীবনে? বিশেষত যখন ক্যাপিউলেট পরিবারের ফলোয়াররা একত্রিত হচ্ছে, জুলিয়েটকে নতুন লীডার বানিয়ে মন্টাগিও পরিবারের পতন নিশ্চিত করার আশায়?

অ্যানিমেটির শুরুটা খুবই ভাল ছিল, শুরুর ৮-১০ টা এপিসোড দেখার সময় আমি চোখের পলক ফেলতে ভুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। জুলিয়েটের দ্বৈত জীবন, অত্যাচারী মন্টাগিও পরিবারের কাজকর্মের নমুনা, সেখান থেকে শহরবাসীকে বাঁচানোর জন্য জুলিয়েটের আপ্রাণ প্রচেষ্টা, রোমিওর সাথে পরিচয়, বন্ধুত্ব; আর নিজের অতীত জানার পর একটু একটু করে পরিণত হতে থাকা জুলিয়েট – সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল যে সে জুলিয়েট ড্যামসেল ইন ডিস্ট্রেস হবে না, সে স্বাবলম্বী এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে।

কিন্তু এরপর কাহিনীটা কেমন যেন খাপছাড়া হয়ে যেতে থাকে। ক্যাপিউলেটদের সম্মান ফেরত নেয়ার যুদ্ধ হঠাত করে রূপ নেয় জার্নি টু সেভ জুলিয়েটে। এর মাঝে রাজকুমার রোমিও তার বাবার সাথে কলহের পরিণামে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ে যায়, সেখান থেকে পৃথিবীকে সে নতুন রূপে চিনতে শেখে। শেষের দিকে এসে কাহিনীটা আবার লাইনে ফেরত আসে, এবং এপিসোড ২৩ এ যদি কাহিনীটা শেষ করে দিত, তাহলে এটি আমার অন্যতম পছন্দের একটি অ্যানিমের তালিকায় যুক্ত হত। কিন্তু সুপারন্যাচারাল ফেনোমেনা ঢুকিয়ে যেভাবে কাহিনীর এন্ডিং দেয়া হয়, আমার ভাল লাগেনি, তবে এটা কেবলমাত্র আমার অভিমত, অনেকের ভাল লাগতেও পারে।

স্টুডিও গনজোর এই অ্যানিমেটার আর্ট ভালই, ওএসটি খুবই সুন্দর, মনে রাখার মত। ওভার অল অ্যানিমেটা ভালই, সোর্ডফাইটগুলো দেখার মত ছিল। আপনি রোমান্স ফ্যান হয়ে থাকলে এই অ্যানিমেটি নিশ্চিতভাবে ভাল লাগবে।

12509602_586684801496030_1513153742687139574_n

Movie Time With Yami – 68

safe_image

Name: Giovanni’s Island / Giovanni no Shima.
Duration: 1 hr. 42 min.
MAL Score: 7.89
Ranked: 680
Genres: Drama, Historical

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের কথা। জাপানের এক প্রান্তে একটি শান্ত, সুন্দর অচেনা দ্বীপে হঠাৎ আগমন ঘটে রাশিয়ান সৈন্যবাহিনীর। দ্বীপের বাসিন্দারা নিরীহ মৎস্যশিকারী, সেনাবাহিনীর আগ্রাসন মাথা পেতে মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোন উপায় থাকে না।

এই গ্রামেই বাস করে জুনপেই ও কান্তা নামের দুই কিশোর। মিয়াজাওয়া কেনজির একটি বিখ্যাত উপন্যাসের দুই চরিত্র জিওভান্নী ও ক্যাম্পানেলার নাম থেকে তাদের নাম অনুপ্রাণিত। এ কারণেই হয়ত এই দুই ভাইয়ের “নাইট অন দ্য গ্যালাকটিক রেইলরোড” উপন্যাসটি অনেক প্রিয়। তারা স্বপ্ন দেখে, একদিন গ্যালাকটিক রেইলরোডের দেখা পাবে তারাও, আর সেই রেইলরোড অনুসরণ করে তারা পৌছে যাবে এমন এক পৃথিবীতে, যেখানে কোন ভিনদেশী সৈন্য এসে তাদের ঘরছাড়া করবে না, পরিবারের সবাইকে নিয়ে অনেক সুন্দর জীবন যাপন করবে তারা।

জিওভান্নী নো শিমা মুভিটি যুদ্ধের গল্প, নিরূপায় মানুষদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প, শত কষ্টের মাঝেও আপনজনদের কাছে পাওয়ার আকুতির গল্প, ভাষা ও সংস্কৃতির বাঁধা অতিক্রম করে মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার গল্প। মিয়াজাওয়া কেনজির গল্পের বিভিন্ন লাইন ব্যবহার করে কল্পনা ও বাস্তবতার মিশেলে অনেক হৃদয়স্পর্শী একটি গল্প তুলে ধরা হয়েছে। জুনপেই এর স্মৃতিগুলো যেন ছড়িয়ে রয়েছে দ্বীপটির কোনায় কোনায়, এত বছর পরেও তা এখনো তাজা!

মুভিটির আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত বেশি সুন্দর, অনেক বেশি ফ্লুইড অ্যানিমেশন, যা চোখকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। ক্যারেক্টারগুলো নিজের অজান্তেই কখন যে আপন হয়ে যায়, টেরও পাওয়া যায় না। কাছে টেনে নেওয়ার অদ্ভুত এক ক্ষমতা আছে মুভিটির। সাউন্ডট্র্যাক পরিস্থিতি অনুযায়ী খুব মানানসই, বাচ্চাদের অপরিণত গলায় গাওয়া গানগুলো মনটাকে জুড়িয়ে দেয়। আর এ মুভিটির এন্ডিংটা অতিরিক্ত সুন্দর, আমার খুব বেশি পছন্দ হয়েছে কাহিনীটা; সর্বোপরি এর বর্ণনাশৈলী।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Giovanni-no-Shima

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 67

Name: Bungaku Shoujo / Literature Girl
Duration: 1 hr. 40 min.
MAL Score: 7.71
Ranked: 981
Genres: Drama, Mystery, Romance, School

একটা সুন্দর মুভি বা টিভি সিরিজ দেখার পরে আপনার ভাললাগার অনুভূতিটা নষ্ট করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়টা কি বলতে পারেন? উত্তর- বিভিন্ন ফোরামে গিয়ে “বিখ্যাত” ক্রিটিকদের বিশ্লেষণমূলক রিভিউ পড়া। বুঙ্গাকু শৌজো মুভিটি দেখার পর আমার এত বেশি ভাল লেগেছিল যে, আমি দৌড়ে গেছিলাম এটার রেটিং, রিভিউ ঘাটাঘাটি করতে। এবং সেগুলো দেখার পরে আমি উপলব্ধি করি, কোনরকম ধারণা ছাড়া মুভিটি দেখা শেষ করে আমি আসলেই ভাল কাজ করেছি।

ইনৌয়ে কোনোহা, আমাদের অ্যাভারেজ হাইস্কুল স্টুডেন্ট। শান্তশিষ্ট, চুপচাপ এ ছেলেটির সাথে একদিন স্কুলের ক্যাম্পাসে দেখা হয় একটি অদ্ভুত মেয়ের। নিজেকে “বুঙ্গাকু শৌজো” বা লিটারেচার গার্ল নামে পরিচয় দেয়া এ মেয়েটি প্রতীকী অর্থে নয়, বরং আক্ষরিক অর্থেই বই এর পৃষ্ঠা চিবিয়ে খায়। এক একটি গল্প এ মেয়েটির কাছে এক একটি সুস্বাদু স্ন্যাক!

এ পর্যন্ত শোনার পর মনে হতে পারে, এইতো, শুরু হল হাইস্কুল রোমান্স এর প্যানপ্যানানি, খালি এই বই চিবিয়ে খাওয়ার ব্যাপারটা একটু নতুন লাগছে। আমিও তাই ভেবে বসেছিলাম! এই মুভিটি দেখার আগে এর ১৫ মিনিটের একটি ওভিয়ে দেখা ছিল, সেটিও এমনই একটা আভাস দিয়েছিল। সুন্দর আর্টওয়ার্ক, প্রশান্তিদায়ক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কাহিনীটাকে উপভোগ করতে বেশ সাহায্য করছিল।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই মোড় ঘুরে গেল কাহিনীর!! বেরিয়ে এল কোনোহার অতীত জীবনের এক বেদনাদায়ক কাহিনী, হাইস্কুল রোমান্স পরিণত হল মানবিক টানাপড়েন এর এক অপরিচিত গল্পে।

আচ্ছা, অনেকেই তো বলে, ভালবাসার মানুষকে কাছে রাখার জন্য আমি সবকিছু করতে পারব। সেই সবকিছুর দৌড়টা আসলে কতদূর? মিরাই নিক্কির গাসাই ইউনোর কল্যাণে সেই কতদূরের দৌড় কিছুটা হয়ত জানা আছে আমাদের, কিন্তু সেটা আমার কাছে অতি অবাস্তবতার মত লেগেছিল। এই মুভিটিতে বরং ব্যাপারগুলো বাস্তবতার খুব কাছাকাছি রেখে দেখানো হয়েছে, আর তাই আরও বেশি ভাল লেগেছে।

এ পৃথিবীতে কোন কিছুই নিখুঁত নয়, অবশ্যই এ মুভিটিও তার ব্যাতিক্রম নয়। আমার কাছে মনে হয়েছে মুভিটি তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরে গেছে, অবশ্য এটা রিভিউ নিয়ে ঘাটাঘাটি করার আগে তেমন বড় হয়ে চোখের সামনে আসেনি। আর তা হল, লিটারেচার গার্ল নিজে। মুভিটির মাঝখানের বড় একটা অংশে তার কোন খোঁজ নেই, যদিও ঠিক সময়ে সে তার গুরুত্ব ঠিকই ফিরে পেয়েছে। কিন্তু তার এই বই চিবিয়ে খাওয়ার ব্যাপারটায় কোন আলোকপাত করা হয়নি, এটা একটু হতাশার ব্যাপার।

যাই হোক, সবমিলিয়ে মুভিটি আমার অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে, মানবিক সম্পর্ক ও টানাপড়েন এর ব্যাপারটা এর আগে কোন মুভিতে এত সুন্দরভাবে পাইনি, আর ভুলোমনা লিটারেচার গার্ল এর পরিণত আচরণ আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Book-Girl
OVA Link-
http://kissanime.com/Anime/Book-Girl-OVA

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 66

5cm

Name: Byousoku 5 Centimeter / 5 Centimeters per Second
Duration: 3 episodes- 22 min per episode
MAL Score: 8.19
Ranked: 311
Genres: Drama, Romance, Slice if Life

এই মুভিটা দেখার আগে আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল, দুটো কারণে। প্রথমত এটি মাকোতো শিনকাই এর পরিচালিত, এটি আগে এই ডিরেক্টরের একটাই মুভি দেখেছিলাম, “গার্ডেন অফ ওয়ার্ডস”, আর সেটি বেশ ভাল লেগেছিল; আর দ্বিতীয় কারণ হল এটি নিয়ে আমি সবধরণের অ্যানিমে গ্রুপে অনেক প্রশংসামূলক রিভিউ/রিএকশন দেখেছিলাম। কিন্তু মুভিটি দেখার পরে সত্যি কথা বলতে আমি কিছুটা নিরাশই হয়েছিলাম।

তাকাকি তোনো এবং আকারি শিনোহারা এলিমেন্টারি স্কুলের ক্লাসমেট এবং খুব কাছের বন্ধু। এলিমেন্টারী স্কুল পাসের পর আকারির বাবার বদলির কারণে আকারি অন্য একটি শহরে চলে যায়। দুজন যোগাযোগ রক্ষা করে একে অপরকে চিঠি লেখার মাধ্যমে।

এরপরে মিডল স্কুলে পড়ুয়া আকারি এবং তাকাকির আবার দেখা হয় তুষারঝড়ের মাঝে এক রেলওয়ে স্টেশনে, তাকাকি শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে তাদের শেষ দেখা এটি। তারা একজন আরেকজনকে মনের কথা জানিয়ে চলে যায় নিজেদের দ্বিখন্ডিত পথ ধরে। এরপর দুজনের ব্যস্ততা, প্রায়োরিটি এবং বাস্তবতা ও যৌক্তিকতার সাথে আবেগের সংঘাত দেখা দিতে থাকে।

মুভিটি তিনভাগে বিভক্ত, এই তিনভাগের মধ্যে তাকাকি এবং আকারির জীবনের কিছু চুম্বক অংশ তুলে ধরা হয়েছে। এলিমেন্টারি স্কুলের বাচ্চাদের অ্যাডোলেসেন্ট লাভ, মিডল স্কুলের ছেলেমেয়ের অপরিণত আবেগ ও আরেকটু পরিণত বয়সের অপ্রয়োজনীয় যুক্তিবোধ। কাহিনীকার ভালবাসা সংক্রান্ত আবেগীয় টানাপড়েন, বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ এবং দুটো ছেলেমেয়ের আস্তে আস্তে পরিণত মানুষে রূপান্তর হওয়ার ধাপগুলো ড্রামাটিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন, এবং কিছুদূর পর্যন্ত তিনি সফলও। কিন্তু আমার যে ব্যাপারটি ভাল লাগেনি তা হল, অতি নাটকীয়তা। মানুষের জীবনের কাহিনী, অর্থাৎ স্লাইস অফ লাইফ, এই ধরণের কাহিনীতে একটু নাটুকেপনা মেনে নেয়া যায়, কিন্তু তাই বলে “এলিমেন্টারী” স্কুলের বাচ্চা ছেলেমেয়েদের আবেগে ভেসে যাওয়ার ব্যাপারটা বেশ চোখে লেগেছে। চিঠি লিখে যোগাযোগ রক্ষার ব্যাপারটা খুব রোমান্টিক, মানছি, কিন্তু যেখানে তোমাদের হাতে সেলফোন নামক বস্তুটা আছে, একটু কষ্ট করে বস্তুটা মাঝে মাঝে ব্যবহার করলে তো এত ভেজাল বাঁধে না! ভালবাসলে সেটার প্রকাশটা স্ট্রংভাবে বের হয়ে আসেই, আমি বিশ্বাস করি এটা, কাজেই মুভির বেশকিছু জায়গা আমার কাছে বাড়াবাড়ি রকমের অবাস্তব লেগেছে। আর, মানছি জাপানের মানুষ আমাদের দেশের প্যারেন্টস দের মত ওভারপ্রোটেক্টিভ না, তাই বলে কোন বাপ মা নিজের এলিমেন্টারি স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে তুষারঝড়ের মাঝে একা একা ট্রেনে করে ৪-৫ ঘন্টার জার্নিতে যাওয়ার অনুমতি দেয়?

মুভিটির আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত ভাল, মাকোতো শিনকাই এর থেকে এর কম আশাও করা যায়না, এই আর্টওয়ার্ক আমাকে সাহায্য করেছে মুভিটা শেষ পর্যন্ত দেখতে। ঠাট্টা করে একজন ইউটিউব রিভিউয়ার এই মুভির নাম দিয়েছিলেন “5 wallpapers per second”!! সাউন্ডট্রাকও চমৎকার, এন্ডিং সংটা বেশ সুন্দর।

সবমিলিয়ে মুভিটি ওভারঅল খারাপ লাগেনি, তবে বেশ ওভাররেটেড লেগেছে। কে জানে, হয়তো আমার মেলোড্রামা ভাল না লাগাই এর পেছনে দায়ী!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/5-Centimeters-per-Second

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

অ্যানিমে রিঅ্যাকশন- শার্লট; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

charlotte

অবশেষে শার্লট দেখে শেষ করলাম। কালকেই শেষ হত আসলে, একেবারে শেষ এপিসোডের সাবটাইটেলে গন্ডগোল থাকায় সম্ভব হয়নি।

শুরুতে তেমন আহামরি লাগেনি, হাইস্কুলের স্টুডেন্টদের চূনিবিও সিন্ড্রোমের মত কিছু অস্বাভাবিক ক্ষমতা প্রাপ্তি ঘটে, সেগুলো ব্যবহার করে একদল শয়তানি করে বেড়ায়, আর আরেকদল সেটা থামিয়ে তাদের পথে আনে। মনে হচ্ছিল, “ওকে, দেখা চলে, দেখা যাক এই চূনিবিওর দৌড় কতদূর।”

এরপর আগাতে থাকলাম, জিনিসটা ইন্টারেস্টিং হওয়া শুরু করল। নতুন নতুন পাওয়ার আসে, তাদের সাথে এবং স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সদস্যদের নিজেদের মাঝে সম্পর্কের উন্নতি দেখে বেশ ভাল লাগছিল।

তারপর, এলো এপিসোড ৬!! হঠাৎ করে একটা হাসিখুশি অ্যানিমে পুরো ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেল। ব্যাপারটা এতটা আচমকা ঘটে যে আমারই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। এরপর ইউ এর অবস্থা, রিকভারী, ঘটনাগুলো কষ্টদায়ক ছিল, আবার সুইট ছিল (ইউ নো হোয়াই)। ভাবলাম যে হ্যা, এখন বোধহয় লাভ ষ্টোরি ঢুকায়ে দিবে।

কিন্তু আবার চমক, কিসের লাভ স্টোরি, কিসের নরমাল লাইফ!! কাহিনী তো কেবল শুরু!! একের পর এক টার্ন অফ ইভেন্ট, মানসিক চাপ আর দুঃখজনক ঘটনা। এপিসোড ১২ তে পৌছে অনেক ভাল লাগল, এটা ভেবে অবাক লাগল যে এই অল্প কয়টা এপিসোডের মাঝে এতকিছু কিভাবে দেখাল!!

তবে একেবারে লাস্ট এপিসোডটার কোন প্রয়োজনীয়তা আমি খুঁজে পেলাম না। সারা দুনিয়া ঘোরাটা যেন ডাল মাখায়ে ভাত খাওয়ার মত সহজ, তাই এত ডেঞ্জারাস একটা কাজে জনাব নায়ক একাই বের হয়ে পড়লেন, জাস্ট লাইক দ্যাট!!

যাহোক, ভালই লেগেছে সবমিলিয়ে, আর্টওয়ার্ক, ওএসটি অনেক ভাল, আর স্টোরিটাও ঘোটপাকানো হলেও ভাল।

 

628927

Movie Time With Yami – 61

ocean-waves

Name: The Ocean Waves / Umi ga Kikoeru
Duration: 1 hr. 12 min.
MAL Score: 7.01
Ranked: 3124
Genres: Drama, Romance, School, Slice of Life

মোরিসাকি তাকু একজন ইউনিভার্সিটির ছাত্র। তার বাড়ি জাপানের সমুদ্র তীরবর্তী শহর কোচিতে। হাইস্কুলের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্যে সে টোকিও থেকে কোচিতে ফিরে আসার সময়টায় মুভির কাহিনী শুরু। তাকু মনে করতে থাকে তার হাইস্কুলের দিনগুলোর কথা, তার বন্ধুদের কথা, এবং তার প্রথম প্রেমের স্মৃতির কথা।

মুভিটির কাহিনী কিছুটা টিপিক্যাল হাইস্কুল প্রেমকাহিনীর মত, কিন্তু এখানে মিষ্টি মিষ্টি ভাবটা একেবারেই অনুপস্থিত, বরং কিছুটা কাঠখোট্টা এবং রূক্ষ ভাব রয়েছে। হাইস্কুল ছাত্রদের জীবনের নির্মম দিকটায় বেশি ফোকাস করা হয়েছে মুভিটাতে, আবার একইসাথে কিছু রোমান্টিক এবং হালকা দৃশ্য দিয়ে কাহিনীটাকে হালকা করতে চেষ্টা করা হয়েছে।

স্টুডিও জিবলীর আর্ট সবসময়ই সুন্দর, কিন্তু এই মুভিটির আর্ট আমার তেমন ভাল লাগেনি। ক্যারেক্টারগুলো এক্সপ্রেশনলেস, তাই সিরিয়াস কনভার্সেশনের সময় দেখে বেশ অস্বস্তি লেগেছে। কাহিনীর পেসিং বেশ খাপছাড়া, তাই মাঝে একটু বোরিং লেগেছিল, তবে এন্ডিং দেখে ভালই লেগেছে। সাউন্ডট্র্যাক ভাল, দেখা চালিয়ে যেতে বেশ সাহায্য করেছে।

সবকিছু মিলিয়ে মুভিটি আমার খুব ভাল লেগেছে বলতে পারব না, তবে একেবারে দেখার অনুপযোগীও লাগেনি। তাই, সাহস করে নিজ দায়িত্বে কেউ দেখতে চাইলে মানা করব না! tongue emoticon

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/The-Ocean-Waves

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

 

Movie Time With Yami – 59

Mononoke.Hime.full.1474844

Name: Princess Mononoke / Mononoke Hime
Duration: 2 hr. 10 min.
MAL Score: 8.81
Ranked: 24
Genres: Action, Adventure, Fantasy

বিখ্যাত ডিরেক্টর হায়াও মিয়াজাকি সম্পর্কে একটা কথা প্রচলিত আছে, তিনি সভ্যতা পছন্দ করেন না। ইট, কাঠ, পাথরের অট্টালিকা এবং যান্ত্রিক পৃথিবীর বদলে তিনি সবুজ বনাঞ্চল এবং গ্রামীণ স্নিগ্ধ পরিবেশ বেশি পছন্দ করেন। আর তার এ পছন্দের ছাপ পাওয়া যায় তার পরিচালিত অনেক মুভিতেই। প্রকৃতি ও পশুপাখির কষ্ট, তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম নিয়ে অত্যন্ত শৈল্পিক উপায়ে কাহিনী বর্ণনা করেছেন তিনি মুভিগুলোতে। দর্শককে বাধ্য করেছেন সভ্যতার দিকে নতুন দৃষ্টিতে তাকাতে। তেমনই এক গল্প রাজকুমারী মোনোনোকের, হায়াও মিয়াজাকি পরিচালিত স্টুডিও জিবলীর বিখ্যাত মুভিগুলোর একটি।

গহীন বনের ভেতরে বাস করে এক আদিবাসী গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর ওপর একদিন অতর্কিতে হামলা চালায় এক রোগাক্রান্ত বন্য শূকর। গোত্রের রাজকুমার আশিতাকা মুখোমুখি হয় সেটির, শূকরটিকে হত্যা করে নিজের গোষ্ঠীকে বিপদ থেকে রক্ষা করে সে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে আশিতাকার হাতে কামড় দিয়ে এক অভিশপ্ত ক্ষত সৃষ্টি করে দেয় শূকরটি মরার আগে।

গোত্রের নিয়ম অনুযায়ী আশিতাকাকে নির্বাসনে যেতে হয় নিজের শরীরে প্রবেশ করা অভিশাপের প্রতিকার খুঁজতে। নিজের এলাকা থেকে অনেক দূরের পাহাড়ে জঙ্গলে ঘুরতে থাকে সে, আর দেখতে থাকে বিভিন্ন এলাকার পশুপাখিদের দুরবস্থা। একসময় সে এসে হাজির হয় একটি শহরে, যেখানে গোলাবারূদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হয় আশেপাশের বনাঞ্চলের ক্ষতি করে। আশিতাকা কি পারবে এই শহর ও বনাঞ্চলের মাঝে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে? তার নিজের সময়ও যে খুব জলদি শেষ হয়ে আসছে!

মুভিটির আর্টওয়ার্ক স্টুডিও জিবলীর অন্যান্য মুভিগুলোর মতই ছিমছাম, পরিপাটি, বনাঞ্চলের দৃশ্যগুলো খুব চমৎকারভাবে দেখানো হয়েছে। আমার ভাবতেও অবাক লাগে, ১৯৯৭ সালের একটি মুভির আর্টওয়ার্ক কিভাবে এত সুন্দর হয়। সাউন্ডট্র্যাক মানানসই, সেইসাথে চরিত্রগুলো খুব সহজেই আপন করে নেয়ার মত।

মুভিটি জিবলী ফ্যানদের কাছে পুরো পৃথিবী জুড়ে অত্যন্ত সমাদৃত, এর রেটিংও তাই বলে, তবে শেষের দিকে আমার কাছে কাহিনীটা কিছুটা খাপছাড়া লেগেছে। সেটুকু বাদ দিলে বেশ ইন্টারেস্টিং একটি মুভি, হাতে সময় থাকলে দেখে ফেলতে পারেন, সময়টা ভালই কাটবে আশা করি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Mononoke-Hime

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 58

place-promised-in-our-early-days1

Name: Kumo no Mukou, Yakusoku no Basho / The Place Promised in Our Early Days
Duration: 1 hr. 30 min.
MAL Score: 7.98
Ranked: 543
Genres: Drama, Romance, Sci-Fi, Military

মুভিটির কাহিনী এমন এক জাপানে, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেশটিকে দ্বিখণ্ডিত করে দিয়েছে। হোক্কাইডো পড়েছে ইউনিয়ন এর ভাগে, অপরদিকে হোনশু এবং দক্ষিণ দিকের অন্যান্য এলাকা পড়েছে ইউএস এর ভাগে। হোক্কাইডোতে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল এক রহস্যময় টাওয়ার, যা দক্ষিণাঞ্চলের অনেক দূর পর্যন্তও দৃশ্যমান।

এই সময়ে হোনশু এলাকায় বাস করত তিন হাইস্কুল পড়ুয়া বন্ধু। আর দশটা হাইস্কুল শিক্ষার্থীর মতই তাদের জীবন। টাওয়ারটার ব্যাপারে তাদের কৌতুহলের সীমা নেই। তারা তিনজন প্রমিস করে, একদিন একটা এয়ারক্রাফট বানিয়ে তারা এই টাওয়ারের রহস্য সমাধান করবে।

কিন্তু এর মাঝে অদ্ভুত এক রোগে আক্রান্ত হয় সাওয়াতারি। চিকিৎসার জন্যে টোকিও চলে যেতে হয় তাকে। এই ঘটনার পরে তিন বন্ধু তাদের প্রমিসের কথা প্রায় ভুলতে বসে। তারা কি কখনো জানতে পারবে, টাওয়ারের সাথে সাওয়াতারির রোগের সম্পর্কের কথা?

মুভিটির পরিচালক মাকোতো শিনকাই, এই একটা নামই যথেষ্ট এর আর্টওয়ার্কের সৌন্দর্য বুঝানোর জন্য। ঝলমলে প্রাকৃতিক দৃশ্য, খোলা আকাশ, বিস্তীর্ণ মাঠ- প্রতিটা ক্ষেত্রে মাকোতো শিনকাই এর ছাপ স্পষ্ট। ওএসটি বেশ মানানসই, এন্ডিংটা মনে রাখার মত। স্টোরিটা এই পরিচালকের অন্যান্য কাজের মতই একটু ধীরগতির, তবে মনে ছাপ রেখে যায় সহজে। আর এন্ডিংটা আমার অনেক ভাল লেগেছে।

তাই সময় পেলে দেখে ফেলতে পারেন এই মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/…/The-Place-Promised-in-Our-Early…

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 52

ponyo2007g

Name: Ponyo on the Cliff by the Sea / Gake no Ue no Ponyo
Duration: 1 hr. 41 min.
MAL Score: 7.95
Ranked: 580
Genres: Adventure, Fantasy

একদা এক বিশাল সমুদ্রের গভীর অতলে বাস করত এক জাদুকর। তার ক্ষমতা দিয়ে সে সমুদ্রের নিচে বসে বিভিন্ন রকম গবেষণা চালাত। এবং তার কাছে ছিল বিভিন্ন ধরণের ঔষধ, যা খেয়ে প্রাণিদেহে অদ্ভুত ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এই জাদুকরের মেয়ে পনিও। তাকে একপ্রকার মাছই বলা চলে।পনিওর বাবা সবসময় তাকে তাদের সমুদ্রের নিচের বাড়িতে আটকে রাখতে চাইত, যেখানে সে নিরাপদে থাকবে।কিন্তু দুষ্টু পনিও যে এভাবে ঘরে পড়ে থাকতে নারাজ! সে বাইরের পৃথিবী ঘুরে দেখতে চায়। তাই একদিন বাবার কড়া নজরকে ফাঁকি দিয়ে সে বেরিয়ে পড়ে সমুদ্র ভ্রমনে, আর শুরু হয় পনিওর মজার অ্যাডভেঞ্চার।

হায়াও মিয়াজাকি পরিচালিত স্টুডিও জিবলীর এ মুভিটি এ স্টুডিওরর বাকি মুভিগুলোর তুলনায় কিছুটা অন্যরকম, বলা যায় যে এটি তুলনামূলক ভাবে কিছুটা শিশুতোষ। প্লটটা অনেকটা ডিজনী মুভিগুলোর মত, তবে এখানেও পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয়টা রয়েছে। আর্টওয়ার্ক অত্যন্ত উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন, দেখে মনে হয় যেন রংপেন্সিল দিয়ে স্কেচ করে আঁকা। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে পুরোটা সময়। সাউন্ডট্রাক মানানসই, তেমন উল্লেখযোগ্য না হলেও ভাল। কাহিনীর গতি খারাপ না, একটু ধীরগতিতে শুরু হয়, যেটা ভাল লাগছিল, কিন্তু পরে গিয়ে আবার হঠাৎ করে বেশ তাড়াহুড়ো করে একসাথে অনেক কিছু দেখিয়ে ফেলতে চেষ্টা করা হয়েছে, তাতে কাহিনীটা একটু খাপছাড়া হয়ে গিয়েছে। তবে ওভারঅল বেশ উপভোগ্য একটা মুভি এটি।

তাই, সময় পেলে দেখে ফেলুন ছোট্ট পনিওর বড় অভিযানের এ কাহিনীটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Ponyo-on-a-Cliff

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!