অরেঞ্জ [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Orange

অরেঞ্জ
জানরাঃ ড্রামা, সাই-ফাই, স্কুল, শৌজো, রোমান্স
ভলিউমঃ ৫
চ্যাপ্টারঃ ২৭
মাঙ্গাকাঃ তাকানো ইচিগো
মাইআনিমেলিস্ট র‍্যাঙ্কিং: ২৩
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৮২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

অনুশোচনা-শব্দটি বলা যতটা সহজ অনুভব করা বোধ হয় ততটা সহজ নয়। প্রত্যেক মানুষই জীবনে ভুল করে। ছোট্ট একটা কর্ম বা সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের বড় একটা অংশ নির্ধারন করে ফেলতে পারে। কখনও তা হয় মঙ্গলজনক কখনও বা নিজের অজান্তেই আমরা জীবনটিকে অশুভ কিছুর দিকে ঠেলে দেই। তারপর অসহনীয় অনুশোচনার আগুনে পুড়ি। বারবার মনে হয়; যদি ফিরে যেতে পারতাম অতীতে, শুধরে নিতে পারতাম ভুলগুলো। দুঃখের বিষয় সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। কিন্তু কেমন হত যদি আপনার অতীতের সত্তাকে আগেভাগে জানিয়ে দিতে পারতেন সামনে কি আসতে যাচ্ছে, কি করা উচিৎ? কিংবা বলা যাক, আপনার ভবিষ্যতের সত্তা আপনাকে হঠাৎই জানিয়ে দিল সামনে কি হবে এবং আপনার কি করা উচিৎ?

তাকামিয়া নাহোর জীবনে ঠিক এমনটিই ঘটে। হঠাৎ একদিন নাহো তার ১০ বছর পরের ভবিষ্যতের নাহোর কাছ থেকে একটি চিঠি পায়। স্বাভাবিকভাবেই সে ধরে নেয় কেউ তার সাথে ঠাট্টা করছে। কিন্তু নাহো অবাক হয়ে লক্ষ্য করে চিঠির কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে ফলছে। চিঠির কথা মতই তার ক্লাসে আসে একজন নতুন ছেলে, যার নাম নারুসে কাকেরু। এবং সে নাহোর পাশের সিটে বসে ঠিক যেমনটা চিঠিতে বলেছে। এরপর একের পর এক ঘটনা সাক্ষ্য দিয়ে দেয় যে আর যাইহোক চিঠিটিতে মিথ্যা কিছু বলা নেই। কিন্তু তবু নাহোর মন থেকে সন্দেহ আর দ্বিধা দূর হয় না। ভবিষ্যতের নাহোর অনুরোধ সে শুরুতে রাখতে পারে না। এই চিঠি যেহেতু তার ভাগ্যের কথাই বলে দেয় তাই তার মনে চিঠিটি পড়তে এক প্রকার ভয় তৈরী হয়। কিন্তু কাকেরু যখন স্কুলে আসে না অনেক দিন তখন নাহো ভাবে চিঠিতে হয়ত এর উত্তর পাওয়া যাবে। এরপর চিঠিতে পাওয়া অনুরোধগুলো মেনে চলে নাহো দেখল এতে বরং ভালো ফলাফল পাচ্ছে সে। এভাবে চিঠি পড়তে পড়তেই সে আবিষ্কার করল কেন ভবিষ্যৎ থেকে সে নিজেকে এভাবে লিখেছে। ১০ বছর পরে কাকেরু আর তাদের সাথে থাকবে না। চিরতরে সে চলে যায় পৃথিবী ছেড়ে। কাকেরুকে চিরতরে হারিয়ে ফেলাসহ জীবনের ছোট ছোট কিন্তু মূল্যবান অনেক মুহুর্ত হেলায় হারিয়ে ফেলে নাহো অনুতপ্ত বোধ করে। তাই সে অতীতে নিজের কাছে চিঠি লেখে যাতে অতীতের নাহো ভবিষ্যতের নাহোর মত একই ভুলগুলো না করে। নিজের কাছেই নাহোর একটাই অনুরোধ, জীবনের মূল্যবান সময়গুলোকে আক্ষরিক অর্থেই মূল্য দিয়ে এবং কাকেরুকে রক্ষা করে নিজেকে অনুশোচনামুক্ত করা।

এ পর্যন্ত পড়ে যে কেউই বুঝতে পারবে অরেঞ্জ মাঙ্গাটির কেন এত সুনাম আর ভালো স্কোর। আর তা হল শৌজো মাঙ্গা হিসেবে এর গল্পে রয়েছে নতুনত্ব। আজব ধরণের মেয়ে সুন্দর ছেলের প্রেমে পড়বে কিংবা একটু দুঃখের অতীত, মানসিক আঘাত, বুলিং, বিষণ্ণতা ইত্যাদি হয়তোবা খুব অপরিচিত গল্প নয়। কিন্তু প্রধান চরিত্র ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছে আগেভাগে সামনে কি হবে জেনে এরকম গল্প অহরহ দেখা যায় না। আর দেখে গেলেও এ ধরণের গল্পগুলো হয় খুব আকর্ষণীয়। অরেঞ্জও তার বাইরে নয়। এই মাঙ্গার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হল এর কাহিনীটি। একদম শুরু থেকেই আপনি গল্পে বুঁদ হয়ে যাবেন। আর সামনে কি হতে যাচ্ছে এই প্রশ্নটা আপনাকে একের পর এক চ্যাপ্টার টানা পড়ে যেতে বাধ্য করবে। বিশেষ করে শেষের দিকের চ্যাপ্টারগুলো একটু বেশিই উত্তেজনাপূর্ণ। তাই শৌজো হলে কি হবে, অরেঞ্জকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে না পড়লে আপনি নিজেই পস্তাবেন। এই মাঙ্গাটি অনেক বেশি রোমাঞ্চকর।

তবে গল্পের কথাই যদি বলা হয় তো আমি কিছু কথা তুলতে চাই। মানুষকে শৌজো মাঙ্গা নিয়ে ‘শৌজো মাঙ্গায় কোন নতুনত্ব নেই’, ‘শৌজো মাঙ্গায় নাটকীয়তা বেশি’, ‘শৌজো মাঙ্গা একঘেয়ে”, শৌজো এই শৌজো সেই ইত্যাদি সমালোচনা করতে দেখা যায় খুব। শুধু অরেঞ্জের বেলায় সবার মুখে মুখে প্রশংসা শোনা যায়। ব্যাপারটা দেখে বরং আমার হাসিই পায়। কেন জানেন? কারণ অরেঞ্জ মোটেও নতুন কিছু না!! ভাবছেন কিভাবে এটা সম্ভব যখন একটু আগেও বললাম এটার গল্পে নতুনত্ব আছে? ব্যাখাটা এই যে এটার নতুনত্ব শুধু ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করা এই অংশটুকু। বাদ বাকি নতুন কিছুই না। আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণ শৌজো মাঙ্গা পড়ে থাকেন তবেই এই কথাটার মর্ম বুঝবেন। কাকেরুর যে কাহিনী রয়েছে তা ইতিমধ্যেই আমার আও হারু রাইড, বকুরা গা ইতা, ওওকামি শৌজো তো কুরো ঔজি ইত্যাদি মাঙ্গায় পড়া শেষ। কাকেরুর পরিস্থিতি কৌ, ইয়ানো বা কিওয়ার থেকে একটুও আলাদা নয়। সে জনপ্রিয় শৌজো মাঙ্গার নায়কদের মতই ছকে বাঁধা। অন্য মাঙ্গায় এই অবস্থাটা মানিয়েছিল কিন্তু কাকেরুর গল্প যতটা রাশভারী ধরণের তাতে তার পেছনের গল্পটায় আরও গভীরতা থাকলে ভালো হত। তাই আপনি যদি হন শৌজো মাঙ্গার ভক্ত তবে একটু আশাহত হলেও হতে পারেন।

এই মাঙ্গার দ্বিতীয় বড় সমস্যাও এর গল্পে। পুরো কাহিনী শুরু হয় যেদিন নাহো প্রথম চিঠিটা পায়। ভবিষ্যতের নাহোর যদি এতটাই অনুশোচনা থাকে তবে কেন সে প্রথম দিনেই সবকিছু খোলাসা করে ঠিক মত যুক্তি দিয়ে বা জোর দিয়ে কাকুতিমিনতি করে অতীতের নাহোকে বোঝালো না যাতে সে তার কথা অনুযায়ী কাজ করে? শুরুতেই সব ঠিক করে দিলে হয়ত মাঙ্গার গল্পটাই আর থাকত না যেটা সত্য। কিন্তু তারপরেও ব্যাপারটা যুক্তিযুক্ত হত। তখন পুরোপুরি আলাদাভাবে অতীতের ঘটনাগুলো ঘটত যেটা মাঙ্গাটিকে আরও বেশি অনিশ্চিত আর রোমাঞ্চকর করে তুলত। এবং এই মাঙ্গার তৃতীয় ও সবচেয়ে বড় ত্রুটিও এর গল্পে!! চিঠিটা ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে আসল কিভাবে? অরেঞ্জ পড়ার আগেই আমার সন্দেহ ছিল একটি শৌজো মাঙ্গায় আদৌ এটার ভালো ব্যাখা থাকবে না। অত্যন্ত দুঃখের সাথেই জানাচ্ছি যে আমার সন্দেহ শতভাগ সত্যি হয়েছে! এটার সাই-ফাই ব্যাখাটি ছিল নিতান্তই হাস্যকর। আর সাই-ফাইই যদি বানাবে তবে মাঙ্গাকা মাঙ্গাটি সম্পূর্ণরূপে সাই-ফাই করলেই পারত। কিংবা বিষয়টা ফ্যান্টাসি বা সুপারন্যাচারাল বানালেও হত। কিন্তু কাহিনী বানাতে হবে বলে গাঁজাখুরি যাচ্ছেতাই ঢুকানো আমার মোটেও পছন্দ নয়। গোঁড়ায় গলদ না থাকলে মাঙ্গাটি প্রায় ত্রুটিহীন হত।

চরিত্রায়নের দিক থেকে কাকেরু সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যেহেতু পুরো গল্পটি তাকে ঘিরেই। তবে সেই গুরুত্ব এতই বেশি যে যত যাইহোক অন্যান্য চরিত্রদের অনেকটা উপেক্ষা করেই পুরো মনোযোগ তার উপরে দেওয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে এতে একটু খারাপ লাগলেও কাকেরুকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টার কারণে বুঝাই যায় কেন বাকি চরিত্রগুলো গুরুত্ব পায়নি। চিনো, মুরাসাকা, হাগিতা প্রধান ফ্রেন্ড সার্কেলের অংশ হলেও এরা পার্শ্ব চরিত্র হিসেবেই ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এদের বন্ধুত্বটা সত্যিই খুব সুন্দর। ওদের দেখলে ক্ষণে ক্ষণেই আপনার মনে হবে ‘এত বেশি ভালো বন্ধু যদি আমার জীবনেও থাকত!’। তবে নাহোকে আমার নায়িকা হিসেবে অযোগ্য লেগেছে বেশ। নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির জীবন যখন মৃত্যুর মুখে তখন এই মেয়ে কিভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে আর প্রায়ই কোন পদক্ষেপ না নিয়ে চুপচাপ থাকে তা আমি ভেবে পাই না।

এখন বলব এই মাঙ্গার সেই জিনিসটার কথা যেটা না বললেই নয়। কি সেটা? সুওয়া হিরোতো! সুওয়া হল এখানে তৃতীয় প্রধান চরিত্র এবং দ্বিতীয় নায়ক। তবে সেটা তার আসল পরিচয় না। তার আসল পরিচয় হল সে এই মাঙ্গার সেরা চরিত্র এবং খুব সম্ভবত শৌজো মাঙ্গার ইতিহাসেও সেরা একজন চরিত্র। আপনি হয়ত উসুই(মেইড-সামা), কেই(স্পেশাল এ), কুরোসাকি(ডেনগেকি ডেইযি) ইত্যাদি অবাস্তবতার কাছাকাছি সুদর্শন সব তথাকথিত “মিস্টার পার্ফেক্ট” ছেলে দেখেছেন। কিন্তু যা দেখেননি তা হল সুওয়ার মত ছেলে। সে সুদর্শন কোন নিখুঁত ছেলে না। কিন্তু তার মন এবং হৃদয়টা অনেক বড়। কথাটা শুনে এখন আহামরি কিছু নাও মনে হতে পারে কিন্তু মাঙ্গাটা পড়ার সময় বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা আসলে কত বড়। সুওয়ার জন্য মেয়েরা হয়তবা সেই পরিমাণ পাগলামি করে না কিন্তু মন থেকে তার জন্য শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা চলে আসবে ঠিকই। আমি নিজে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যার জীবনে সুওয়ার মত মানুষ আছে তার কপালটা অনেক ভালো। সুওয়া এতটাই অসাধারণ! কাকেরুর জন্য নয় বরং সুওয়ার জন্যেই অরেঞ্জ পড়া উচিৎ।

অনেক কিছুই তো জানলেন অরেঞ্জ নিয়ে। এবার কি ভাবছেন এটা পড়বেন কি পড়বেন না? আপনি শৌজো ভক্ত হোন বা না হোন অরেঞ্জ অবশ্যই পড়বেন। কম হলেও খুঁত তো সবকিছুরই থাকে। অরেঞ্জের খুঁত এড়িয়ে যেতে পারলে মাঙ্গাটি অনেক উপভোগ করবেন। টাইম প্যারাডক্স, সুন্দর আর্ট, দারুণ বন্ধুত্ব, সুওয়ার মত চরিত্র, অল্প কিছু চ্যাপ্টার- আর কি লাগে?! সামনেই সামার ২০১৬ সিজনে আসছে এর আনিমে। আনিমে যে সাধারণত মাঙ্গার ধারের কাছেও যেতে পারে না তা তো এখন জানা কথা। তাই তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি। আর ২৭ চ্যাপ্টার হলেও ২২ চ্যাপ্টারেই মূল গল্প শেষ। বাকি ৫টি চ্যাপ্টার এখনো স্ক্যানলেশনের অপেক্ষায়। তবে শেষটা কেমন হবে তা জিজ্ঞেস করবেন না। ওটার জন্যেই না এত প্রতীক্ষা! অরেঞ্জ পড়ে চোখের কোণে অশ্রু আসতেও পারে নাও আসতে পারে। কিন্তু অন্যরকম বিষাদময় ভালোলাগার এক তৃপ্তি অনুভব করবেন। কেননা “অরেঞ্জ” নামেই তো লুকিয়ে আছে এর ভাবার্থ। কমলা-শত হতাশার মাঝেও হার না মেনে ঝুঁকি নিয়ে হলেও আশাবাদী হয়ে, আস্থার সাথে, উদ্দ্যমতা নিয়ে জীবনে এগিয়ে চলার প্রতীকী রঙ!

সেইশুন কৌরয়াকুহন (Seishun Kouryakuhon) [রিভিউ] — Fatiha Subah

Seishun Kouryakuhon

সেইশুন কৌরয়াকুহন (Seishun Kouryakuhon)
জানরাঃ শৌজো, স্লাইস অফ লাইফ
ভলিউমঃ ১
চ্যাপ্টারঃ ৮
মাঙ্গাকাঃ আকিযুকি সোরাতা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.০৫
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

শৌজো মাঙ্গাগুলোতে সাধারণত মেয়েরাই হয় প্রধান চরিত্র। মেয়েগুলোও আবার সব একই রকম ব্যক্তিত্বের। যে কারণে ঘুরেফিরে সবগুলো মাঙ্গাই একই রকম লাগে এবং অনেকেই, বিশেষ করে ছেলেরা পড়তে চায় না। তাই আপনাদের ছোট একটা শৌজো মাঙ্গার কথা জানাব যেটা শুধু ছেলেদেরকে নিয়েই। অনেকটা নিজীরো ডেইয ধাঁচের। নিজীরো ডেইযের তো ভালোই প্রশংসা শোনা যায়। তাই আশা করছি এটা পড়তেও আগ্রহী হবেন।

মাঙ্গাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে ৪ জন বন্ধুকে নিয়ে। একেকটি চ্যাপ্টার এদের একেক জনকে নিয়ে বানানো। প্রথমে কাহিনী শুরু হয় যখন ইসেযাকি একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে পাশের মেয়েদের স্কুলের বিল্ডিংয়ের জানালায় একটা মেয়েকে পানি খেতে দেখে হা করে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটি ইসেযাকিকে লক্ষ্য করে কঠোর দৃষ্টিতে তাকালে ইসেযাকি ভড়কে গিয়ে শুধু হাত নাড়ে। মেয়েটিও উত্তরে ইসেযাকির দিকে হাত নাড়ে। এরপর থেকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে ইসেযাকি কাগজে লিখে লিখে মেয়েটির সাথে কথা বলে। নাগিসে, ইসেযাকি’র সিনিয়র মেয়েটি পড়ে মেয়েদের সাকুরানো হাই স্কুলে যেখানে মেয়েদের ছাত্রীনিবাসে থেকে পড়ালেখা করতে হয়। ইসেযাকি পড়ে ঠিক তার পাশের ছেলেদের কামিয়ামা প্রাইভেট হাই স্কুলে। কিন্তু এই দুই স্কুলের মাঝে বিশাল বড় দেয়াল তৈরি করে আলাদা করে রাখা। নাগিসের সঙ্গে ইসেযাকির দেখা করা সম্ভব না। এর উপর হঠাৎ করেই নাগিসের আর দেখা পাওয়া যায় না। সাকুরানোর আরেকটি নিয়ম হল সিনিয়ররা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ছাত্রীনিবাস ছেড়ে চলে যায় এবং স্কুলে আসে না। এটা আগে না জানা থাকায় ইসেযাকির মাথায় হাত! এখন সে কিভাবে তার ম্যাডোনার দেখা পাবে?! আর ১০টা ছেলে যেমন মরিয়া হয়ে উঠত ইসেযাকিরও ঠিক তাই হয়। সে বুদ্ধি করে আসছে গ্র্যাজুয়েশন সেরেমোনির সময় নাগিসে যখন প্রথম হেঁটে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরবে তখন ইসেযাকিও তার সঙ্গে হাঁটবে। কিন্তু ঠিক সেদিনই আবার তার পরীক্ষা পরে। পরীক্ষা দিয়ে বহু বাধা পেরিয়ে পৌঁছুতে পৌঁছুতে ততক্ষণে অনুষ্ঠানই শেষ হয়ে যাবে! ভাগ্য তার সহায় হয় না। তাই বলে ভালবাসার শক্তিকে অবমুল্যায়ন করা ঠিক না মোটেও! এই দুই স্কুলের মাঝে একমাত্র যোগসূত্র হল একটি কমন ইমার্জেন্সি হলওয়ে যেটা সবসময় বন্ধ রাখা। আরও আছে সাকুরানোর বিশাল গেট আর দেয়াল। এতকিছুর বাধা পেরোতে ইসেযাকি তার দুই বন্ধু নোগামি, উয়েমুরা আর ক্লাসমেট ইয়ুইয়ের সাহায্য চায়। কিন্তু কিভাবে কি করবে তারা…?

উত্তরটা আমি বলব না অবশ্যই। প্রথমে মনে হতে পারে এটার একটু বেশিই লুতুপুতু কাহিনী। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও তেমন না। এরপরের চ্যাপ্টারগুলো কোনটা শুধু বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে আবার কোনটা আরেকটি প্রেমের গল্প নিয়ে। ইসেযাকি আর তার বন্ধুদের কান্ডকির্তী দেখে আমি হেসেছি পাগলের মত। পুরোটা পড়ার সময় শুধু একটা জিনিসই মাথায় ঘুরত। ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এরকম দৈনন্দিন জীবনের ঘটনাগুলো দেখা যে এত মজার তা কখনো ভাবিইনি। আর প্রেম কাহিনী হলে তো কথাই নেই! মেয়েরা সাধারণত ছেলেদের চিন্তাভাবনাগুলোর সাথে অত পরিচিত না। তাই আপনি যদি মেয়ে হয়ে থাকেন এবং এসব জানতে আগ্রহী হন তাহলে বলব অবশ্যই অবশ্যই এটা পড়তে। ছেলেরা প্রেমে পড়লে কি করে তা একদম দেখার মত জিনিস! আর ছেলে হলে তো ছোটবেলায় করে আসা কোন অকাম-কুকামের সাথে মিল খুঁজে পেলেও পেতে পারেন! ইসেযাকির দলটার পাগলামি দেখে মাঝে মাঝে মনে হবে আপনিও তাদের সাথে কোন অ্যাডভেঞ্চারে বেড়িয়ে পরেছেন। কিসমাঙ্গাতে আক্ষরিক অর্থেই এটার জন্য অ্যাডভেঞ্চার ট্যাগ মারা আছে! এরকম মজার আর অ্যাডভেঞ্চারাস হলে শৌজো মাঙ্গার মত কাহিনী যে কেউই চাবে তার জীবনে।

মাঙ্গাটির আর্টও বেশ সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। আমি মাঙ্গাটি প্রথম পড়তে গিয়েছিলাম শুয়ে থাকা অবস্থায়। তারপরেও মাঙ্গার কভার দেখে মনে হল আমি উল্টায় গেলাম! হতে পারে সেটা ফ্যানগার্ল ফিলিং। কিন্তু ছবিগুলো আসলেই খুব সুন্দর। আর হবে নাই বা কেন? এ যে আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমের মাঙ্গাকার আঁকা! যারা আকা-শিরা পরেছেন তারা তো আকিযুকি সোরাতার আর্ট আর গল্পের ধরণের সাথে পরিচিত। এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেন আমি এত এই মাঙ্গার প্রশংসা করছি। বিশেষ করে আর্টের দিক থেকে তার আঁকাআকির ছাপ স্পষ্ট। ইসেযাকিকে দেখে পুরো ‘যেন উইস্তালিয়া’র মত লাগে। আবার উয়েমুরা দেখতে পুরোই ওবির মত। ইয়ুই আর নোগামির মাঝেও এই ভাবটা কিছুটা হলেও আছে।

বেশির ভাগ স্লাইস অফ লাইফ গল্প বুলিং, দুঃখ, কষ্ট, সংগ্রাম ইত্যাদির কথা বলে। আর শৌজোগুলো শুধু সুদর্শন ছেলে x একটু অন্যরকম মেয়ের গল্প বলতে ব্যস্ত। সেখানে সেইশুন কৌরয়াকুহন কিশোর বয়সের ছেলেদের ছোট ছোট ঘটনার মাঝে খুঁজে পাওয়া উন্মাদনার চিত্র দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এটার থিমটা যদি মনে ধরে কিংবা আপনি যদি নিজীরো ডেইয, কিমি তো বকু’র ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে এই মাঙ্গাটি পড়তে ভুলবেন না।

মাঙ্গা রিভিউ: Kouishou Rajio, Fuan No Tane এবং Fuan No Tane plus — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

3

আমাদের প্রত্যেকের ছোটবেলার একটা চেনা চিত্র, চিত্রটা হল আম্মু বা বড়বোনের কাছে ভূতের গল্প শোনার আবদার করা এবং তাদের শত ওয়ার্নিং দেওয়া সত্ত্বেও ভূতের গল্প শোনা এবং সবশেষে গুটিশুটি মেরে অতি গরমেও চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়া। ভূতের গল্প না পড়লে রাতে ঘুম আসতেই চাইতো না এবং পড়ার পর ঘুম যে বেশ আরামের হত তা বলা যায় না। ভৌতিক গল্প বিশ্বের প্রতিটি লোকগাথার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের বাংলাদেশেও কম ভূত থুক্কু ভৌতিক সাহিত্য বা লোকগাথার অভাব নেই। নিশি ডাকা, জ্বীন, কল্লা কাটা, ভুলা ভুত, বোবায় ধরা গল্প প্রচুর চালু রয়েছে এবং এগুলো অনেকে এখোনো বিশ্বাস করে। এসব ভৌতিক অভিঙ্গতা গুলো শুনলেই গা ছমছম করে তো ইলাস্ট্রেটেড দেখলে কি হবে ভাবুন। ধরুন রাত একটায় ঘুম ভেঙ্গে গেল, হঠাত্‍ চোখ গেল জানালায়, একটি সুন্দরী মেয়ে আপনার জানালায় নক করছে কিন্তু আপনি থাকেন বিল্ডিংয়ের পাঁচ তালায়। তো এরকম ছোট ছোট লোকগাথা নিয়েই মাঙ্গাকা নাকাইয়ামি মাসাকির তিনখানা অসাধারন মাঙ্গা।

1
এ মাঙ্গাগুলোর বৈশিষ্ট্য হল এগুলোর সুনির্দিষ্ট কোন কাহিনী নেই, আমাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া আধিভৌতিক ঘটনা, কোন এলাকায় প্রচলিত ভৌতিক কাহিনী অথবা বিভিন্ন লোকের জীবনে ঘটে যাওয়া ভৌতিক ঘটনাগুলোই এ মাঙ্গাতে তিনি একে দেখিয়েছে। প্রত্যেকটা চ্যাপ্টারের সাইজ বহুত ছোট। মিনি গল্পের মতো মিনি মাঙ্গা। কোন কোনটার তো কাহিনী এক পৃষ্ঠাতেও শেষ। কিন্তু তা বলে এর মজা কিন্তু কমেনি। মাঙ্গাগুলোর কাহিনী জাপানের লৌকিক ভৌতিক গল্পের উপর বেস করে।
এই মাঙ্গার আর্ট খুবই ভালো এবং এর কভারগুলোও সেই ইন্টারেস্টিং। আর এ মাঙ্গাগুলো ভরদুপুরে অলস সময়ে পড়লে হবে না কিন্তু!! রাতে বেশ একটা ভালো রকমের হরর মুভি দেখে বেশ করে ঘুমটা চটকাবেন, এরপর সবাই ঘুমিয়ে গেলে, চারিদিক সুনসান। আপনার রুম অন্দ্ধকার, ঘড়িতে বিরক্তিকর টিক টিক শব্দ এবং আপনি পড়ছেন ফুয়ান নো তানে, তাহলেই এ মাঙ্গার ভাইব ভালো ভাবে পাওয়া যাবে!! বলা যায় না, রাতে হঠাত্‍ ঘুম ভেঙ্গে চোখ মেলে দেখলেন যে আপনার মুখের উপর একজোড়া নিষ্প্রাণ চোখ মেলে রয়েছে। তাহলে পড়ুন এবং ভয় পান।

রেটিং: ৩টাই ৭করে পাবে।

2
শেষটা বিশ্বের ছোট হররগল্প দিয়েই করি, গল্পটি স্টিফেন কিংয়ের।” বিশ্বের শেষ জীবিত মানব ঘরে বসে আছে, এমন সময় তার দরজায় কেউ নক করলো ,, ।

4

আন্নারাসুমানারা- স্বপ্নভঙ্গ, প্রত্যাশা ও বড় হওয়ার গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

আচ্ছা, বড় হওয়ার মানে আসলে কি? শরীরটা আকারে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে মানুষের মনটায় কি এমন পরিবর্তন আসে, যার কারণে একসময় তার কাছে যা খুব আকর্ষণীয় ও আরাধ্য মনে হত, তা হঠাৎ করে যুক্তিহীন ও হাস্যকর লাগতে থাকে? প্রাপ্তবয়স্ক হলেই কেন মানুষকে স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিতে হয়? নাকি স্বপ্ন দেখা ছাড়তে তাকে বাধ্য করা হয়! স্বপ্ন দেখলে যে সমাজ তোমাকে পাগল বলবে! তোমার দিকে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে বলবে, দেখ, সে এখনও বড় হতে পারল না! সে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হতে ব্যর্থ। কারণ সে সমাজের ঠিক করে দেয়া নিয়ম মেনে বড় হয়ে ওঠেনি। সে সাহস করেছিল তার জন্য সাজিয়ে রাখা চকচকে পথ ছেড়ে নেমে নতুন করে পৃথিবীটাকে দেখার।

ইউন আই মেয়েটিকে এই সত্যের মুখোমুখি হতে হয় খুব অল্পবয়সে। ঋণের বোঝায় জর্জরিত বাবাকে ছেড়ে চলে যায় তার মা, আর পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়ায় তার বাবা। নিরুপায় আই তার এবং তার ছোটবোনের জীবন চালানোর জন্য তাই অমানুষিক পরিশ্রম করে। নিজে না খেয়ে থাকে, যেন ছোটবোন স্কুলে টিফিন নিয়ে যেতে পারে। স্কুল শেষ হওয়ার পর অনেক রাত পর্যন্ত একের পর এক পার্টটাইম জব করে, যেন বাড়িভাড়াটা সময়মত দিতে পারে। এতকিছুর সাথে সে কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশুনা করে নিজের গ্রেডটাও ঠিক রাখে, কারণ আই জানে, গ্রেড ভাল রাখলে একসময় হয়ত সে একটা ভাল চাকরি করে এই অভাবী জীবনটাকে পরিবর্তন করতে পারবে। ছোট্ট বয়সে বড় হয়ে ওঠা এই মেয়েটি জানে, তার কাছে যা বিলাসিতা, অন্যদের কাছে তা স্বাভাবিক জীবনের অংশ। আর সেই স্বাভাবিক জীবন পাওয়ার জন্য যা কিছু করা সম্ভব, আই সে সবই করবে।

profile_picture_by_no_hurry_to_shout-d6y3rlz

আই এর ক্লাসমেট ইল দং। সবকিছু আছে তার। ধনী পিতামাতা, বিলাসবহুল জীবন, স্কুলে ভাল গ্রেড – সবকিছু। আই এর আরাধ্য জীবন জন্মগত ভাবে পাওয়া ইল দং কখনো জীবনে না শব্দটি শোনেনি। এতকিছু থাকার পরেও কোন না কোন দিক দিয়ে ইল দং ও খুশি নয়। কারণ তার উপরে রয়েছে সীমাহীন প্রত্যাশার পাহাড়। ক্লাসে সবসময় ফার্স্ট হতে হবে, দেশের সেরা ল’ স্কুলে ভর্তি হতে হবে, বাবা-মায়ের মুখ সমাজের সামনে রক্ষা করতে হবে; এর অন্যথা হলে যে সে পরিণত মানুষ হতে ব্যর্থ হবে!

সমাজের সেট করে দেয়া স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নিজেদেরকে গড়ে তুলতে চেষ্টা করা এই মানুষদের ভীড়েও রয়েছে কিছু অলস মস্তিস্কের স্বপ্নবাজ মানুষ। এরা এখনো স্বপ্ন দেখা ভোলেনি। এদের চোখে পৃথিবীটা এখনো রঙিন এক আনন্দময় ভুবন। সমাজ তাদের আখ্যায়িত করে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হিসেবে; তাতে তাদের থোড়াই কিছু আসে যায়! এমনই একজন মানুষ হল শহরের পরিত্যক্ত থিম পার্কে এক পুরনো তাবুতে বাস করা “ম্যাজিশিয়ান”। প্রতিটি মানুষের পরিত্যক্ত স্বপ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করা সত্যিকারের জাদু জানা এই ম্যাজিশিয়ান প্রথম দেখাতেই আইকে প্রশ্ন করে, “Do you believe in magic?”

tumblr_ngp0pu5g9Y1s2jureo1_1280

মানহোয়াটি পড়ার আগে এটির বেশ কিছু রিভিউ পড়েছিলাম, সেগুলো পড়ে আমার ধারণা হয়েছিল যে গরীব এবং খুব সিরিয়াস টাইপের একটি মেয়ে ও লেইড ব্যাক জাদুকরকে নিয়ে কাহিনী হবে, মাঝে থার্ড পার্টি হিসেবে বড়লোকের ছেলের উপস্থিতি থাকবে। আমি যে আসলে কতটা ভুল ধারণা করেছিলাম, সেটা কয়েক চ্যাপ্টার পড়েই বুঝতে পারি। শুরুর দিকে মজা লাগছিল, ইউন আই এর জীবনটা অনুভব করছিলাম, আর জাদুকরের প্রশ্নে আই এর মত আমারও মনে হচ্ছিল, জাদুবিদ্যা হল একধরণের ভ্রম। কিন্তু মানহোয়াটি যত এগিয়ে যেতে থাকে, কাহিনীটা যেন আরও গভীর হতে থাকে। প্রতিটি মানুষের আলাদা আলাদা কাহিনী গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠতে থাকে। কে জানত, এতদিন পরে একটা মানহোয়া পড়ে এভাবে নিজের সাথে মিল খুঁজে পেয়ে কাঁদব! ইল দং ও ম্যাজিশিয়ান এর পরিপূর্ণ রূপটা আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম ও অনুভব করতে পারলাম। আর তাই শেষ দিকে গিয়ে বলতে ইচ্ছে করছিল, “I do believe in magic!”

মানহোয়াটি সম্পূর্ণ রঙিন, আর্টওয়ার্ক খুবই সুন্দর। পৃষ্ঠাগুলোতে রঙের কারুকাজের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। মানহোয়াটির আর্ট দেখে বারবার শ্যাফটের কথা মনে পড়ছিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর, যদিও ইল দং ও তার বাবা-মাকে দেখে শুরুতে প্রচণ্ড হাসি পাচ্ছিল!! কাহিনীর পেসিং খুবই ভাল, একটার পর একটা পৃষ্ঠা উলটে গেছি বিরতিহীন ভাবে, একটুও ক্লান্ত বা বোরড না হয়ে। কাহিনী, এই আর্ট আর পেসিং এর পারফেক্ট কম্বিনেশন এই মানহোয়াটি; দেখে মনে হচ্ছিল কাহিনীটা যেন জীবিত হয়ে চোখের সামনে ভেসে উঠছে। শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত একইরকম ভাবে মুগ্ধ করেছে এটি আমাকে।

সবমিলিয়ে মাত্র ২৭ চ্যাপ্টারের মাস্টারপিস লেভেলের এই মানহোয়াটি আমার খুব বেশি ভাল লেগেছে, তাই আমি রিকমেন্ড করছি, হাতে সময় নিয়ে টানা ২৭ টা চ্যাপ্টার শেষ করে ফেলুন, খুব ভাল সময় কাটবে আশা করি।

045

অনন্য মাঙ্গা আসর – ৪ (Hideout)

নভেম্বর ৩০,২০১০……

কোন এক পাহাড়ের রাস্তায় এক দম্পতির গাড়ির ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়।এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মেকানিক্যাল পাওয়া রীতিমত অসম্ভব।উপায় না দেখে গাড়ি থেকে নেমে পাহাড়ে রাত কাটানোর জায়গা অনুসন্ধান করছে তারা।তারপর হাটতে হাটতে কথার ফাকে তাদের স্মরণে আসে পাহাড়ের এই অংশ নিয়ে জনশ্রুতি আছে – “পর্যটকরা এ জায়গায় প্রায়শই হারিয়ে যায় এবং আর ফিরে আসে না।“ তো ২০১০ সালে এসব আজগুবি গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।হাটতে হাটতে একটি পুরোনো গাড়ি চোখে পরে তাদের।এ আমলের নয় তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।২৫-৩০ বৎসর আগের মদেল।গাড়ির পাশেই একটা ছেড়াবেড়া পুরনো নোটবুক।নোটবুকে লেখা ছিল—
“I wonder How much time has passed since the story started… 2 years? maybe 3? But Even with that,I still have trouble remembering…..
My name is Kirishima Seiichi.I am a writer in Profession,and for me,This Book will no doubt be my Last. My Only wish is to tell everything in this manuscript…. Before it is too late. I pray that someday,it will find itself in the hands of someone.
…………..
…………..
…………..
Hey You,The reader of this Book… If you happen to find the entrance to the cave,Don’t hesitate to come in.”
আর তারপরই তারা সামনে একটা অন্ধকার গুহা দেখতে পেল……

Hideout 1

 

স্বাগতম “অনন্য মাঙ্গা আসর” এ।আজকে যে মাঙ্গা নিয়ে কথা বলব তার জনরা কি? উপরের লেখাটুকু পড়েও বুঝতে পারছেন না? হরর,হুম ঠিক শুনলেন হরর।উপরের লেখাটুকু Masaumi Kakizake’রHideout মাঙ্গা থেকে। একটা প্রশ্ন – উপরের অংশটা মাঙ্গার প্রথম না শেষ অংশ?? রিভিউর শেষভাগে উত্তর জানিয়ে দেওয়া হবে…
কিরিশিমা সেইচি – একজন লেখক।স্ত্রী মিকি আর ছেলে জুন কে নিয়ে তার পরিবার।কিন্তু আচমকা বিপদাপন্ন হয়ে পরে সে,তার লেখা আর পছন্দই হচ্ছে না প্রোডাকশন হাউজগুলোর।এদিকে পরিবারের কাছ থেকে সে এ কথা গোপন করে যায়।কিন্ত একদিন সব ওলটপালট হয়ে যায়,বড় একটা ধাক্কা খায় সেইচির পরিবার যার দোষটুকু সেইচির ঘারে চাপিয়ে দেওয়া হয় যদিও তা ছিল একটি দুর্ঘটনা।

সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠার জন্য এক দ্বীপ ভ্রমণে যায় সেইচি আর মিকি।পাহাড়ে গাড়ি চালাতে চালাতে এক জায়গায় এসে গাড়িটির ফুয়েল শেষ হয়ে যায়।আর তারপরই গল্প মোড় নেয় এক অন্য দিকে……… যা পাঠককে শোয়া থেকে বসানোর জন্য বা চেয়ার থেকে মনিটরের দূরত্ব কমানোর জন্য যথেষ্ট।

আঁকার কথা বলাটা আমার সাজে না – কারন আমার আঁকা খুব বেশি সুন্দর আর কি। :3
তাও বলি,আমার দেখা সেরা আর্ট এর মধ্যে একটা।বলে রাখা ভালো,সেইচি আর জুনের পাহাড়ে ভ্রমণের সময় বৃষ্টিপাত হচ্ছিল।আর সেই বৃষ্টিপাতের দৃশ্য এত ভালোভাবে আঁকা হয়েছে যে মনে হচ্ছিল যেন আমার কম্পিউটারে বৃষ্টি হচ্ছে।তবে চরিত্রগুলোর আঁকাও ভালো লেগেছে।আর রক্ত ও অন্যান্য Horror Material গুলো এত সুন্দরভাবে অঙ্কিত হয়েছে যে জীবন্ত আঁকা উপাধি দেওয়া যায়…

হরর মাঙ্গা হলেও বেশি ভয় পাওয়ার মত কিছু নেই… অর্থাৎ পড়ার পর আপনি ভয়ে রাতে ঘুমোতে পারবেন না তেমনটি হওয়ার কোন কারণ নেই।
আর মাত্র ৯ চাপ্টারে এত সুন্দরভাবে গল্পটা গুছিয়ে আনা হয়েছে যে পড়ার পর মনে হবে –“না,টাইম ওয়েস্ট হয়নি,ভালো কিছুই পড়লাম।“

এন্ডিং সংক্রান্ত—-
আমার মনে হয়েছে এই মাঙ্গার কোন এন্ডিং নেই।কারণটা মাঙ্গাটা পড়লেই বোঝার কথা।আর এরকম অসম্পূর্ণ প্রছন্ন এন্ডিং এর জন্যই এর জনরা ট্যাগে “হরর” শব্দটি সার্থকতা পেয়েছে।
উপরের অংশটা মাঙ্গার শেষভাগ ও প্রথমভাগের সংমিশ্রণ।সেগমেন্ট সম্পর্কে মতামত একান্তভাবে কাম্য…

মাঙ্গাঃ Hideout
মাঙ্গাকাঃ Masaumi Kakizake
চাপ্টারঃ ৯
জনরাঃ হরর,সেইনেন,সাইকোলজিক্যাল,একশন
রেটিং(ব্যক্তিগত): ৭.৭

মাঙ্গা পড়ুন,অন্যকেও পড়তে বলুন…

আইরিস জেরো (Iris Zero) [মাঙ্গা রিভিউ] — Zuhayer Anjun Dhruba

Iris Zero

২৭ বছর আগে, পৃথিবীতে কিছু শিশুরা বিশেষ দৃষ্টিশক্তি নিয়ে জন্মগ্রহন করে, যাকে বলে আইরিস (IRIS)। সবার আইরিসের যোগ্যতা ভিন্ন ভিন্ন। কারও আইরিস মানুষের মধ্যে ত্রুটি দেখতে পারে, তো আরেকজনেরটা মানুষের মধ্যে যোগ্যতা দেখতে পারে।

কাহিনী শুরু হয় Toru Mizushima কে নিয়ে, যার নীতি হলো Low Exposure; অর্থাৎ সবার নজরের আড়ালে থাকা, কারণ তার কোন আইরিস নেই। এই নিয়ে কাহিনী। আইরিস এর যোগ্যতা সম্পন্ন দেশে যাদের আইরিস নেই তাদের কেউ পছন্দ করে না। কিন্তু তার Low Exposure এর জীবনে বাঁধা আসে যখন স্কুলের আইডল সবার প্রিয় Koyuki Sasamori তাকে পুরো ক্লাসের সামনে কনফেস করে।

কোয়্যুকির আইরিসের ক্ষমতা হল কোনো কাজের জন্য সঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করা। সে সবার মাথার উপর ‘X’ আর ‘O’ চিহ্নটি দেখে বুঝতে পারে কোন একটা কাজের জন্য মানুষটি সঠিক কিনা। কোয়্যুকি আইরিস ব্যবহার করে স্টুডেন্ট কাউন্সিলের জন্য যোগ্য প্রেসিডেন্ট খোঁজার ব্যাপারে তোরুর কাছে সাহায্য চায়। আর তোরু প্রথমে সাহায্য করতে রাজি না হলেও, পরে বুদ্ধি খাটিয়ে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। কিভাবে করে, তা মাঙ্গা পড়ে জানতে হবে। এভাবে তোরুর বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা দেখে আরো মজা পাওয়া যাবে।

পরে মাঙ্গায় দেখা হয় আরো কিছু নতুন চরিত্রের সাথে, যেমন, Asahi Yuki এবং Hijiri Shinozuka; যারা তোরুর ছোটবেলার ফ্রেন্ড, সেইসাথে Nanase Kuga এবং আরও অনেকের সাথে। সবার আইরিস তাদের চরিত্রকে আরো ইউনিক করে তোলে।

মাঙ্গাটির আর্ট অনেক সুন্দর। কোয়্যুকির মোয়ে মোয়ে স্বভাব। আর তোরুর বন্ধুদের অতীতের কাহিনী সবই ভাল। মাঝে তোরুকে নিয়ে মজার কিছু মুহূর্তও রয়েছে। আর একটা মজার বিষয় হলো এই মাঙ্গাটি পড়ে Hyouka-র Orekiর কথা মনে পড়বে। (⊙.⊙(☉̃ₒ☉)⊙.⊙)

মাঙ্গাকার হঠাৎ অসুস্থতার কারণে এখনো মাঙ্গাটির সম্পূর্ণ হয়নি। তারপরেও অবশ্যই সময় করে এই মাঙ্গাটা পড়ে ফেলবেন।

Status: Publishing
MyAnimeList Score: 8.13
My Score: 8
Genre: Mystery, Drama, Fantasy, Romance, School, Supernatural, Psychological, Seinen

মাঙ্গা রিভিউঃ ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ড — Rezo D. Skylight

Deadman Wonderland 1জনরাঃ অ্যাকশান, অ্যাডভেঞ্চার, ড্রামা, সাই-ফাই, শৌনেন, সুপারনেচারাল
মাঙ্গাকাঃ কাজুমা কন্দউ এবং জিনসেই কাতাওকা
চাপ্টারঃ ৫৮
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.২৭
মাঙ্গাআপডেটস রেটিংঃ ৮.৩০
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০

“Only frustrated adults and naive kids believe themselves to be special.” – Kiyomasa Senji

“If you can’t see what’s important, then it’s because you’re too ashamed to open your eyes.” – Ganta Igarashi

ধরুণ আপনি প্রতিদিনের মত স্কুলে ক্লাস করতে এলেন, বন্ধুদের সাথে হাসি-ঠাট্টা করছেন। ঠিক এই সময়ে হটাৎ করেই অজ্ঞাত কেউ এসে আপনি বাদে আপনার সকল সহপাঠিকে আপনার চোখের সামনে মেরে ফেলল এবং পরবর্তীতে সেই মৃত্যুর দায়ভার পড়ল আপনার ঘাড়ে। আপনার কথা-বার্তা কেউ না শুনেই মিথ্যা কারণ দেখিয়ে আপনাকে পাঠানো হল টোকিয়োর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আর ভয়াবহ কারাগার ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডে। যেখানে আপনার নিজের জীবন বাজি রেখে অংশগ্রহণ করতে হবে বিভিন্ন সারভাইভাল-গেমে। তখন আপনার অবস্থা কি হবে ভেবেই দেখুন? ঠিক এই একই রকমের কাহিনীর স্বীকার হয় মাঙ্গার মেইন প্রোটাগোনিস্ট গান্তা ইগারাসি। তার জীবনের এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডের কাহিনী।

Deadman Wonderland 2

ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডের প্রতিটি ক্যারেক্টারই ইন্টারেস্টিং। বিশেষ করে এর সকল ক্যারেক্টারগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরিগুলো অসাধরণ। প্রতেকেই জীবনে কিছু না কিছু ভুল করেই বাদ্ধ হয়ে প্রবেশ করেছে ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ড নামক কারাগারে। কেউ হয়তবা নিজের আপন কাউকে বাঁচাতে গিয়ে, কেই হয়তবা বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে, কেউ হয়তবা নিজের জীবনকে বাঁচাতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। আবার কেউ কেউ মিথ্যা হত্যার দায়ভার বহন করে কারাগারে প্রবেশ করেছে। এভাবে বিভিন্ন ধরণের মানুষের সমাবেশ এই কারাগারে। প্রতেকেরই নিজের জীবন রক্ষার্থে সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। এখানে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না, কেননা যে কেউ যে কোন সময় বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। ঠিক এরকম ক্যারেক্টারদেরকে ফোকাস করেই স্টোরি বিল্ড-আপ হয়েছে। ক্যারেক্টারদের মধ্যে আমার ক্রো (কিয়োমাসা সেনজি) খুব পছন্দের। মেইন ক্যারেক্টার গান্তাকে প্রথমে তেমন ভালো লাগেনি, তবে পরবর্তীতে গান্তার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট দেখানোর জন্য শেষমেশ তাকে বেশ ভালোই লেগেছে। আর সিরোও আমার খুব পছন্দের ক্যারেক্টার।

Deadman Wonderland 3

ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডের আর্টও বেশ দারুণ। প্রতিটি প্যানেলে অ্যাকশানের দৃশ্যগুলো বেশ সুন্দরভাবে বুঝা যায়। আর গোরের দৃশ্যগুলাও বেশ ডিটেইল করে দেখানো হয়েছে। সবমিলিয়ে, মাঙ্গার কাহিনীর সাথে আর্ট বেশ মানানসই।

আমি এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ শৌনেন মাঙ্গা পড়েছি, তাতে কম বেশি শৌনেন মাঙ্গার ভাব-সাব দেখলে বুঝি। বেশিরভাগ সময় শৌনেন মাঙ্গাগুলতে স্ট্রেট-প্রেডিকটেবল স্টরিলাইন থাকে, তাই সহজেই কাহিনী কিভাবে আগাবে তা অনুমান করা যায়। একইভাবে আমি ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডকে সাধারণ শৌনেন মাঙ্গা ভেবে পড়া শুরু করেছিলাম এবং পরে পড়তে গিয়ে বেশ চমকেছি। এটি শৌনেন মাঙ্গা হয়া শর্তেও এতে গোর আর সেইনিন এলিমেন্ট তুলনামূলক খবু বেশি। এছাড়া রয়েছে আনপ্রেডিকটেবল স্টরিলাইন, চমৎকার কিছু প্লট-টুইস্ট, আর অসাধরণ মিস্টেরি-সাস্পেন্স, আর মারাত্মক কিছু অ্যাকশান-সিন। এজন্যই বাকি পাঁচ-দশটা শৌনেন মাঙ্গা থেকে এটি ব্যতিক্রমধর্মী। আর এই কারণেই একেবারে প্রথম চ্যাপ্টার থেকেই আমার আকর্ষণ ধরে রেখেছিল।

Deadman Wonderland 4

যারা এখনো ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ড পড়েননি বা এনিমে দেখেছেন কিন্তুু মাঙ্গা পড়েননি তারা মাঙ্গাটা পড়া শুরু করে দিন। এনিমের পর মাঙ্গা চ্যাপটার ২২ থেকে শুরু করতে পারেন। আশা করি মাঙ্গাটা আপনার খুবই ভাল লাগবে, এমনকি আপনার পছন্দের মাঙ্গার তালিকায় স্থানও পেতে পারে।

[ওহ!! ডেডম্যান ওন্ডারল্যান্ড এনিমের OST গুলাও শুনে ফেলুন। অত্যন্ত চমৎকার চমৎকার OST – https://youtu.be/fhiXua2Q-to?list=PL26CF63D7FD1BE5CC]

Deadman Wonderland 5

Holyland [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Holyland 1

বক্সিং বা মার্শাল আর্ট ভিত্তিক মাঙ্গা অনেক আছে । কিন্তু পুরোপুরি স্ট্রিট ফাইট অর্থাৎ রাস্তার মাস্তান মার্কা মারামারি ভিত্তিক অস্থির মাঙ্গা ও আছে এবং তার নাম হল Holyland.
মাঙ্গার স্টার্টিং প্লট খুবই কমন । কামিশিরো ইয়ু এক হাইস্কুল বালক যে মধ্যস্কুলে থাকতে প্রচুর বুলিইং এর শিকার হতো । এই অত্যাচারের জ্বালায় সে স্কুলে যাওয়াও বন্দ্ধ করে দেয় ।এবং আত্নহত্যার কথাও ভাবে , কিন্তু পারে না । পরে একটি মিক্স মার্শাল আর্টের বই দেখে ঘরে বসে সে স্ট্রেইট জ্যাব কম্বো প্র্যাকটিস করা শুরু করে এবং এই অল্পবিদ্যা নিয়ে রাতের রাস্তায় চলে কিছু মাস্তান পিটিয়ে থাগ হান্টার তকমা পায় । পরে সে ধীরে ধীরে আরো শক্তশালী প্রতিপক্ষ পায় এবং তাদের বিরুদ্ধে মারামারি করতে করতে সে নিজেও শক্তশালী হয়ে ওঠে এবং একসময়কার প্রতিপক্ষদের বন্ধু বানিয়ে ফেলে ।

Holyland 2
তো এই কমন প্লট দেখে কেউ এড়িয়ে যাবেন না । হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাটের ক্ষেত্রে ইপ্পোর পরে দেখা বেস্ট রিয়েলিস্টিক আর্ট আমার কাছে এই মাঙ্গায় । এবং মারামারি শিখার জন্য এই মাঙ্গাটাকে টেক্সটবুকের মতও ব্যাবহার করা যাবে , কেননা প্রত্যেকটি ফাইটের মুভমেন্ট বিস্তৃত ভাবে সচিত্র ব্যাখ্যা করা হয়েছে ।আর এই মাঙ্গায় পাড়ার মাস্তানদের ভিতরকার জীবনচিত্রও ভালোভাবে দেখিয়েছে । কাহিনী ,আর্ট সবমিলিয়ে বেশ ভালো একখানা মাঙ্গা ।আর এর ভেতরকার কিছু ক্যারেকটারও আছে অস্থির । আপনি যদি রিয়েলিস্টিক একশানের ভক্ত হন তাহলে পড়া শুরু করে দিন হলি ল্যান্ড ।
চ্যাপ্টার : ১৮৮
এখানে পড়তে পারেন : http://kissmanga.com/Manga/Holyland

Holyland 3

কিও নো কিরা কুন(Kyou no Kira-kun) [মাঙ্গা রিভিউ] — Ahmed Samira Niha

কিও নো কিরা কুন (Kyou no Kira-kun)
জন্রা:শৌজো,রোমান্স,হাইস্কুল,স্লাইস অফ লাইফ,কমেডি,ট্রাজেডি

প্রত্যেকটা শৌজো বেসিকালি হালকা একটু ঊনিশ বিশ করলেও প্রায় সেইম প্লট ফলো করে। পপুলার/আনপপুলার ছেলে/মেয়ের সাথে পরিচয় হয় পপুলার/আনপপুলার আরেক ছেলে/মেয়ের সাথে। প্রথম প্রথম একজনের সাথে আরেকজনের দা-কুমড়া সম্পর্ক থাকলেও কাহিনির মাঝপথে যেয়ে একজন আরেকজনের প্রতি নিজের আকর্ষণের কথা টের পেলেও তা আর বলতে পারেনা।বাংলা সিনেমার ভাষায় “বুক ফাটে তো মুখ ফাটেনা” টাইপ অবস্থা। এরকম করে প্রায় কয়েক শতাব্দী কেটে যায় নিজের ফিলিংস এক্সপ্রেস করতে করতে,অবশেষে কাহিনীর সমাপ্তি ঘটে বহু প্রতিক্ষিত চুম্বনের মাধ্যমে।

KnKK 1
যে মাঙা নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি সেটা টিপিকাল স্টোরিলাইন ফলো করলেও নট সো টিপিকাল।
নায়িকা নিনো ওকামুরার ছোটকালে বুলিইং এর শিকারের ফলে কপালে মস্ত একটা কাটা দাগ থেকে যায়। তারপর থেকে সে হয়ে যায় বিশিষ্ট ইন্ট্রোভার্ট,অগোছালো, অপ্রস্তুত এক মেয়ে যার কপালের উপরের বিশাল ব্যাংস তার কাটা দাগ সহ মুখের অর্ধেকখানি ঢেকে রাখে। ষোলকলা পূর্ণ করতে তার সাথে সবসময় একটা পাখি থাকে,যে আসলে কিনা সুপার জিনিয়াস এবং কথা বলতে ও বুঝতে সক্ষম। যার কারণে স্কুলে নিনোর নাম হয়ে যায় “ক্ষ্যাত bird woman”।
নায়ক কিরা ইয়ুজি স্কুলের পপুলার+ইতর প্রজাতির এক ছেলে যে কিনা আবার নিনোর সামনের বাসায়ই থাকে। নিনো এবং ইয়ুজির ব্যালকনি এত কাছাকাছি যে ছোটখাটো একটা লাফ দিলে অনায়াসেই একজন আরেকজনের রুম ভিজিট করতে পারবে। দুজনের কেউই কোনোদিন কারো সাথে ইহকালে একটা বাক্যবিনিময় করেনি প্লাস নিনোর রুমের এপাশ থেকে ওপারে কিরার রুমে বিভিন্ন মেয়ের সাথে ইতরামির সমস্ত সাক্ষী হওয়াতে নিনো কখনো তার প্রতিবেশীর সাথে আলাপ করতে আগ্রহী হয়না।

KnKK 2
হঠাতই একদিন নিনোকে তার মা জানালো যে পাশের বাড়ির ছেলের হয়েছে এক মরণব্যাধি,যার কারনে কিরার হাতে আছে কেবল এক বছর্। কিরাকে স্কুলে দেখাশোনা করার সমস্ত দায়িত্ব দেওয়া হলো নিনোকে। একটু একটু কৌতূহলী নিনো যখন সত্যতা যাচাই করতে যায়,তখন ব্যাড বয় কিরার অন্য রূপ আবিষ্কার করে সে। বহু ঘটনার মধ্য দিয়ে একজন আরেকজনের কাছাকাছি আসে,ভাল বন্ধু হয়,এবং বন্ধুত্ব একসময়ে প্রেমে পরিণত হয়। কিন্তু কিরার টাইম লিমিট ছাড়াও তাদের দুজনের মাঝে আসে অনেক প্রতিবন্ধকতা। নিনো আর কিরা কি শেষ পর্যন্ত পারবে দুজন দুজনের হতে?যদি আগ্রহ জাগাতে পারি,তাহলে অবশ্যই মাঙ্গাটা আপনি পড়বেন।
কেন পড়বেন?

KnKK 3
টিপিকাল শৌজো হলেও কাহিনী খুব একটা টিপিকাল না।
মেইন নায়িকা অনেক কিউট,মোয়ে টাইপ,কিন্তু ক্রাইবেবি না বা এনয়িং না। হ্যাঁ,সে কাঁদে। যেসব জায়গায় কাঁদতে হবে সেসব জায়গায় কাঁদে। কিন্তু তাছাড়া সে যেভাবে লজ্জা-জড়তা কাটিয়ে কিরাকে সাহায্য করার জন্য নিজেকে চেঞ্জ করে,সেটা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। আর নায়ক পুরাই ক্রাইবেবি। এরকম ক্যারেক্টার দেখে খুবই মজা পেয়েছি। নায়ক উপরি উপরি শক্ত ভাব দেখালেও একটুখানি ভাল ব্যবহার কিংবা নিনোর দয়ালু কাজকর্মে পুরোই গলে যায় এবং লিটারেলি আবেগে কেঁদে দেয়। আর তাছাড়া কিরার ফ্রেন্ড,ইয়াবে,সাইড ক্যারেক্টার নাম্বার ওয়ান,কাহিনীর পেস চেঞ্জ করার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। মাঝে মাঝে সাইড ক্যরেক্টারদের স্ট্রাগলদের কাহিনি,হতে হতেও হয়নি একটা লাভ ট্রায়াঙ্গল,ক্লিশে শৌজো ভুল বুঝাবুঝি-এসবের জন্যই এই মাঙ্গাটি এঞ্জয়েবল হয়েছে। মাঙ্গার আর্ট অনেক সুন্দর। আহামরি ডিটেইল্ড না,কিন্তু ভাললাগার মত ভাল।
আর সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো -জায়গামত দোকি দোকি মোমেন্টস,যা সত্যিই মন ছুঁয়ে যাবার মত।

KnKK 4
না পড়ার কারন-
আপনি যদি এক্সট্রিম খুঁতখুঁতে হয়ে থাকেন জন্রা কিংবা শৌজোর ব্যাপারে,তাহলে এটা না পড়াই ভাল। “unpopular girl meets bad popular boy and they change each other life” টাইপ কাহিনি অনেক কমন।এটাও ব্যতিক্রম না।
চ্যাপ্টার ৩৬ কিন্তু সবকয়টা এখনো স্ক্যানটেলেড হয়নি। সবখানে ২২ পর্যন্তই আছে। সে হিসেবে এখনো অনগোয়িং।
আর মাঙ্গাকার নাম মিকিমোতো রিন। ইনার আর কোনো কাজ কখনো পড়া হয়নি কিন্তু এই মাঙ্গা পড়ার পরে ইনার অন্য মাঙ্গা পড়ার আগ্রহ হয়েছে।
আপনি যদি লাইট হার্টেড কিছু পড়তে চান,কিংবা শৌজো পছন্দ করে থাকেন,তাহলে পড়ে দেখতে পারেন । আপনার সময় বৃথা যাবেনা।
পার্সোনাল রেটিং: ৯/১০
ম্যাল রেটিং: ৮.১৬/১০

KnKK 5

মাঙ্গা রিএকশান: The Flowers Of Evil — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

এ মাঙ্গা নিয়ে আগে বেশ কয়েকটা পোস্ট দেখে আমি আগ্রহী হয়ে পড়তে শুরু করলাম আকু নো হানা। পড়া শেষ করার পর আমার মনে হলো অসাধারণ কিছু পড়া শুরু করেছি এবং তা ছিলোও কিন্তু শেষে গিয়ে ভাবলাম যে আরো অস্থির কিছু হতে পারত ।

The Flowers Of Evil 1
মাঙ্গার মেইন ক্যারেকটার তাকাও কাসুগা , এক মাধ্যমিক পড়ুয়া বইপোকা । ছেলে সবদিক দিয়ে ভালো এবং ক্লাসের এক সুন্দরী সহপাঠী নানাকো সায়েকির উপর ক্রাশ খাওয়া । তো একদিন ক্লাস থেকে বের হবার সময় দেখে যে নানাকোর জিমের পোশাক নিচে পরে আছে এবং কেমন করে জানি এই ভালো ছেলে তাকাও সেই পোশাক অনিচ্ছাকৃত ভাবে চুরি করে ফেলে । তো ভালো ছেলে হওয়ায় আত্নগ্লানিতে সে প্যারনয়েড হয়ে ওঠে এবং মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে সে নজরে পরে যায় ক্লাসের পাগলী স্যাডিস্ট মেয়ে সাওয়া নাকামুরার খপ্পরে যে তাকে পোশাক চুরি করতে দেখেছে এবং তাকে সেটা নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে গিয়েও না করে একধরনের মানসিক টর্চার শুরু করে !তাকাও পাগলপ্রায় হয়ে উড়াধুরা কাজ শুরু করে এবং অবস্থা আরও খারাপ হয় যখন নানাকো তাকাওর কাছে আসতে চায় ।

The Flowers Of Evil 2
মাঙ্গার ফেস্টিভালের ইনসিডেন্ট পর্যন্ত আমার অস্থির লেগেছে । কিন্তু তাকাও এর চেইন্জ আর ভালো লাগেনি । আর লাস্ট পর্যন্ত সবশেষে ওই হ্যাপি এন্ডিং । আমি ভাবছিলাম পরে নাকামুরা আরও অস্থির বা ডেন্জারাস কিছু হবে । তবে স্বপ্নের ব্যাপারটা অস্থির ছিল । আর নাকামুরাকে ভাল লাগসে কারন সে ছিল ট্রু স্যাডিস্ট । আমি যখন জ্বলবো তখন আশেপাশের সবাইকে নিয়ে জ্বলবো । এরকম সোসাইটি থেকে বিচ্ছিন্ন স্যাডিস্টদের মানসিকতা নাকামুরার মধ্য দিয়ে দেখেছি ।
সবশেষে মাঙ্গাটা সত্যি খুবই ভালো লেগেছে । এরকম থ্রিলিং জিনিস পড়তে খুবই ভালো লাগে । আর্ট কোয়ালিটিও যথেষ্ট ভালো ! এবং ক্যারেক্টার গুলো যে মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে ,তা মাঙ্গায় ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ।যারা পড়েননি তারা পড়ে ফেলুন , আপনার সময়টা নষ্ট হবে না বলতে পারি!!

The Flowers Of Evil 3