Kono Subarashii Sekai ni Shukufuku wo! [লাইট নোভেল রিভিউ] — তৌফিক সরকার

KonoSuba 2

Kono Subarashii Sekai ni Shukufuku wo! /Give Blessings to This Wonderful World!

জনরা- ফ্যান্টাসি, কমেডি, অ্যাডভেঞ্চার
মোট ভলিউম- ১৩

সাতৌ কাজুমা পারফেক্ট হিকিমোরি। হিকিমোরি হচ্ছে নিজের রুমে সারাদিন বসে কম্পিউটার গেম, অ্যানিমে ও সিনেমার মাঝে ডুবে থাকা। খুব কমই ঘর থেকে বের হয় হিকিমোরিরা। কিন্তু কাজুমা একদিন বাসা থেকে বের হলো, তবে এক ফেভারিট গেম কেনার জন্য। বিপত্তি বাধে সেখানেই, গেম কিনে ফিরে আসার সময় সে দেখে এক স্কুল পড়ুয়া মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, এক ট্রাকের ছায়া এগিয়ে আসছে মেয়েটার দিকে। মেয়েটাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে মারা যায়, আর আবিষ্কার করে অন্য এক জায়গায়। সেখানে এক সুন্দরী মেয়ে বসে ছিল তার অপেক্ষায়।

সুন্দরী মেয়েটি ছিল পানির দেবী আকুয়া। তার কাজ হলো জাপান থেকে মৃত লোকদের স্বর্গে নাইলে অন্য আরেক দুনিয়ায় পাঠানো। আর ভালো কথা, কাজুমা কিন্তু ট্রাকের চাপায় পড়ে মারা যায়নি। মারা গেছে ট্রাক্টরের কারণে। কিন্তু সেটাও ওকে চাপা দেয়নি, সময়মত থেমে যায়। কিন্তু ট্রাক্টরকে ট্রাক মনে করে সে হার্ট অ্যাটাক করে, আর মরার আগে নিজের প্যান্ট ভেজাতে ভুল করে না!

আকুয়া এটা নিয়ে হাসাহাসি করে, কাজুমা যায় রেগে। তাকে বলা হয় যে সে প্যারালাল এক ফ্যান্টাসি দুনিয়ায় যেতে পারবে যেখানে ডেমন কিং আছে, এবং তার চ্যালা-পুলা মানুষদের উপর বারবার আক্রমণ করছে। তাদের রক্ষা করতে হবে। ডেমন কিং-কে পরাজিত করার জন্য সে নিজের ইচ্ছেমত যেকোনো নিতে পারবে, সেটা অস্ত্র কিংবা অসীম ক্ষমতা, যেকোনো কিছু। কাজুমা এক পায়ে খাড়া। কিন্তু দেবী আকুয়ার তাচ্ছিল্য সে সহ্য করতে পারল না। তাই সে দেবীকে নিয়েই ফ্যান্টাসির মাটিতে নামল। আর দেবী আকুয়া তো বাকহারা।

KonoSuba 1

কাজুমা মনে করেছিল আকুয়া যেহেতু দেবী, সেই কাজুমার অর্ধেকের বেশি কাজ করে দিবে। কিন্তু বিধিবাম, দেবী কোনো কাজের না, অলস আর নারসিসিস্ট টাইপের। আর ফ্যান্টাসি দুনিয়ার হিরো হবার যোগ্যতা নেই কাজুমার। সবচেয়ে নিচু লেভেলের অ্যাডভেঞ্চারার হতে হলো তাকে। তার দলে যোগ দিল আরো দুটো মেয়ে, প্রতিভাবান জাদুকর মেগুমিন, যে কিনা বিস্ফোরণের জাদু ছাড়া আর কোনো জাদুতে আগ্রহী না। আর ডার্কনেস, হাজার ধাক্কা সহ্য করতে পারলেও শত্রুর গায়ে ফুলে টোকা মারতে পারে না, আর মেয়েটা প্রচুর পরিমানে masochist।

এই অদ্ভুত টিম নিয়ে কাজুমা কীভাবে ডেমন কিং ও তার চ্যালা-পুলাদের সামলাবে?

তবে আরেকটা কথা বলি, কাজুমা কিন্তু দুধে ধোঁয়া তুলসী পাতা না। শত্রুর সামনে দুই নাম্বারী, চালিয়াতি করতে তার মন বিন্দুমাত্র কাঁপে না। তাছাড়া সাথীদের ঢাল বানিয়ে নিজেকে রক্ষা করতেও দ্বিধা করে না, তবে বিপদে পড়লে তাদের আবার ঠিকই রক্ষা করে। সাথে সে প্রচুর পরিমাণে অলস আর পার্ভাট স্বভাবের।

আর ভাবেই এগিয়ে যায় তাদের অ্যাডভেঞ্চার। আর তাদের অ্যাডভেঞ্চারের মাধ্যমে এগিয়ে যায় কোনোসুবা সিরিজ।

এখন আপনি যদি ইংরেজী কোনো সিরিজ পড়তে চান, কিন্তু সেটা সহজ ভাষায়। আর হাসতে চান দম ফাটিয়ে। তাহলে আমি আপনাকে এটা রেকমেন্ড করব। এই সিরিজটা লেখাই হয়েছে আপনাকে হাসানোর জন্য। কখনো কাজুমার কীর্তিকালাপে, কখনো মেগুমিনের পাগলামি, কখনো আকুয়ার বোকামি, কখনো ডার্কনেসের নিজের চাহিদা(!) এর উপর সঁপে পড়তে দেখে আপনি নির্দ্বিধায় হাসবেন। পড়ে আরো কিছু মজার চরিত্র আসে, প্রাক্তন ডেমন কিং দলের সদস্য ও লিচ (আনডেড জাদুকর) উইজ যে কিনা এক ম্যাজিকশপ খুলেছে কিন্তু লসের মুখে আছে। আরেক ডেমন কিং দলে সদস্য ভানির, যার একমাত্র লক্ষ্য মানুষকে ধোঁকা দিয়ে মজা করা। মেগুমিনের সহজ সরল বান্ধবী (কাজুমার ভাষায় একমাত্র স্বাভাবিক মেয়ে) ইয়ুনইয়ুন। ডার্কনেসের বান্ধবী, ও বিখ্যাত চোর ক্রিস। সাথে আছে কাজুমার তলোয়ার চুনচুনমারু (নাম মেগুমিনের দেয়া), মেগুমিনের অদ্ভুত বিড়াল চমুস্কে, আর আকুয়ার তথাকথিত ড্রাগন কিন্তু অন্যের চোখে বাচ্চা মুরগী এম্পায়ার যেল (সে অনেক পড়ে আসে)।

এখন কেন এই নভেল সিরিজ পড়বেন? আগেই বলেছি দম ফাটিয়ে হাসার জন্য। বইয়ের প্রতিটি পরতে পরতে হাসির এলিমেন্ট ঢুকানো আছে যা আপনাকে হাসিয়ে ছাড়বে। আর প্রচুর সহজবোধ্য করে জাপানি থেকে ইংলিশে ট্রান্সলেট করা হয়েছে। ডেমন কিং দলের সাথে মারামারি করা সময় কাজুমা ও তার দলের পাগলামি পড়লে তো হাসাহাসি খাবেন। আর ওদের পাগলামির একটু বর্ণনা যদি দিই তাহলে গল্পের কিছুটা স্পয়লার হয়ে যাবে। তাই দিলাম না। এছাড়া এটার অ্যানিমে সিরিজও আছে। সেটাও কিন্তু কম হাসির না, ভয়েস আর্টিস্টরা খুব যত্নের সাথে চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন। কিন্তু অ্যানিমে চারটা নভেল অ্যাডাপ্ট করেছে, সেখানে মোট নভেলের পরিমাণ ১৩টা, তাই আমি বলব প্রথম থেকেই পড়া শুরু করে দিন। মজা শতভাগ উসুল হবে।

KonoSuba 3

Mushoku Tensei [লাইট নোভেল/ওয়েব নোভেল রিভিউ] — তৌফিক সরকার

Mushoku Tensei 2

মুসোকো তেনসাই: ইসসেকাই জনরার এক গল্প

বর্তমানে জাপানির লাইট নভেলে যে ধরনের গল্প রাজ্যত্ব করেছে, সেটা হচ্ছে ইসসেকাই বা অন্য জগতকে নিয়ে গল্প। যেখানে সিরিজের মূল নায়ক তার জগত ছেড়ে অন্য আরেক জগতে চলে গিয়েছে এবং সেখানে খারাপদের বিরুদ্ধের যুদ্ধে নেমেছে।
এর আগে যারা লাইট নভেল সম্পর্কে জানেননা তাদের একটা হালকা ধারণা দিয়ে রাখি। লাইট নভেল হচ্ছে জাপানি ইয়াং অ্যাডাল্ট ফিকশন। মূলত কিশোর-কিশোরীদের কেন্দ্র করে এই নভেল লেখা হয়। নভেলের পরিধি থাকে ৪০,০০০ হাজার থেকে ৫০,০০০ হাজার শব্দের মধ্যে, অবশ্য এরচেয়ে বেশি শব্দের উপন্যাসও হয়ে থাকে।
আর লাইট নভেলগুলো মূলত ফ্যান্টাসি জনরার হয়ে থাকে (জাপানিরা আবার ফ্যান্টাসির চরম ভক্ত)। অবশ্য সামাজিক জীবন, সাই-ফাই জনরার কিছু লাইট নভেলও আছে। সেগুলোর আলোচনা পরে হবে। এখন মুসোকো তেনসাই সিরিজ নিয়ে কথা হয়ে যাক—

কাহিনী সংক্ষেপ:
উপন্যাসের কাহিনী শুরু হয় এক জাপানি ওতাকু নীট নিয়ে (ওতাকু মানে গীক, জাপানে যারা অ্যানিমে, লাইট নভেল, মাঙ্গা নিয়ে পড়ে থাকে তাদের ওতাকু বলে। আর নীট [NEET] No Education, Earn & Training সহজ কথায় ঘরে বসে থাকা লোকদের নীট বলে থাকে)। সে তার মৃত বাবা-মা অন্ত্যষ্টোক্রিয়ায় না অংশগ্রহণ করে নিজের রুমে বসে পর্ন দেখছিল। এর ক্ষিপ্ত হয় তার ভাই-বোনেরা। নায়ককে মেরে-ধুরে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়।
রাস্তায় নামার পর নায়ক তার ভুল বুঝতে পারে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করতে থাকে তার ভুলগুলো নিয়ে, কিন্তু কিছু করার থাকেনা তার। ঠিক সেইসময় রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে তর্ক করছিল তিন কিশোর-কিশোরী, আর একটা ট্রাক তাদের দিয়ে ধেয়ে আসছে, সেদিকে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। তিন কিশোর-কিশোরীদের ট্রাক চাপার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে সে পড়ে যায় ট্রাকের নিচে…
নায়ক মনে করেছিল এখানেই তার কাহিনী শেষ, কিন্তু না— সে চোখ খুলে দেখতে পারে সে একজন মহিলার কোলে। সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়েছে সে। বুঝতে পারে শুরু হয়েছে তার নতুন জীবন।
নায়ক যে জগতে জন্ম নিয়েছে সেটা ছিল জাদুর জগত, যেটা কিনা শুধু ফ্যান্টাসি উপন্যাসের পাওয়া যায়। যেখানে সাধারণ মানুষের জাদুর ক্ষমতা আছে, আছে ডেমন জাতি থেকে শুরু করে ডেমি হিউম্যান জাতি। আর সেই জগত মাত্র কয়েকশ বছর আগে বিশাল যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেছে, এবং শান্তির সাথে বসবাস করছে।
সেই জগতে নায়কের নাম হয় রুডিয়াস, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন উপাখ্যান।
ছোট বেলা থেকেই রুডিয়াসের জাদুর প্রতিভা বের হয়, খুশি হয় তার বাবা-মা। জাদুর শিক্ষকের জন্য আবেদন জানায় তারা। এর আগে রুডিয়াসের বাবা-মার সম্পর্কে একটু আলোকপাত করি, দুজনই সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে থেকে এসেছে, রুডিয়াসের বাবা পল গ্রে-র‍্যাটের পরিবার ছিল রাজার কাছের লোক এবং সম্রাজ্যের প্রভাবশালী পরিবার, আর মা জেনিথ ছিলেন অন্যরাজ্যে এক প্রভাবশালী ল্যাটেরিয়া পরিবারে মেয়ে যারা কিনা পোপের (খৃষ্টিয় ধর্মের আদলে হলে সম্পূর্ন আলাদা ব্যাপার এটা।) কাছাকাছির লোক ছিল। তারা পালিয়ে বিয়ে করায় পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় এবং পলের দুঃসম্পর্কের চাচাতো ভাইয়ের সাহায্যে পল দূরে ছোট এক গ্রামের জমিদারি পায়।
এক জাদুকর আসে, রুডিয়াসকে জাদু শেখানো জন্যে। নাম রক্সি, জাতি ডেমন। ডেমন জাতির হওয়ার কারণের রুডিয়াসের বাবা-মা প্রথম ইতস্তত করলেও রাজী হয় তারা। কারণ রক্সি যে জাতির ডেমন ছিল, তারা ছিল ছোট-খাট আর নিরীহ ধরনের।
রুডিয়াস পেয়ে গেলো তার জাদুর শিক্ষক, আসলে শিক্ষিকা। ছোট খাট ডেমন এই রক্সির সাথে রুডিয়াসের সম্পর্ক খুব ভালো হয়ে যায়, এবং ভালো বন্ধুত্বে পরিণত হয়। যখন রুডিয়াসের বছর পাঁচ তখন রক্সির জানা যত জাদু ছিল সে তার শিখে ফেলে। রক্সি তখন বুঝতে পারে তার জাদুর জ্ঞান এখনো অনেক সীমিত, সে বেরিয়ে পড়ে ভ্রমণে। যাওয়ার আগে পরামর্শ দিয়ে যায় যে রক্সির পড়া জাদুর বিশ্ববিদ্যালয়তে রুডিয়াস যেন অবশ্যই ভর্তি হয়।
তারপরে ঘটে যায় আরেক ঘটনা, রুডিয়াসের বাবা পল, জেনিথের সাথে সাথে চাকরানী লিলিয়াকে অন্তসত্ত্বা করে ফেলে, ফলে পরিবারের মধ্যে ভাঙ্গন আসতে শুরু করে। আগের জীবনের ঘটনার কথা মনে পড়ে যায়, কিভাবে তার পরিবারে মধ্যে দূরত্ব চলে আসে এমং সেটা কত কষ্টের, রুডিয়াস নিজেই এই ভাঙ্গন থামায় এবং জানায় যে লিলিথকে মা হিসেবে নিতে সমস্যা নেই তার। জেনিথকেও মেনে নিতে বলে সে। পরিবারে ভাঙন থামে, দুই বোনের ভাই হয় সে।
এরপর পরিচয় এক মেয়ের সাথে, নাম সিলফিট্টে সংক্ষেপে সিলফি। হাফ এল্ভস আর হালফ ডেমিহিউম্যান আর মানুষের সংমিশ্রণ সে। তার সাথে বন্ধুত্ব হয় এবং সেটা বন্ধুত্বের একটু বেশিতে গড়ায়। রুডিয়াস তার বাবার কাছে দাবী করে যে সে আর সিলফি মিলে জাদুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। কিন্তু ছোট জমিদার হিসেবে রুডির বাবার ক্ষমতা ছিল একজনকে পড়ানোর। পল তখন জানায় যে, সে শুধু রুডিয়াস মানে রুডির খরচ দেয়ার সামর্থ্য আছে, সিলফির নেই। যদি চায় তাহলে নিজ থেকে খরচ আনতে হবে। রাজী হয় রুডি। বাবা তাকে পাঠিয়ে দিয়ে সে চাচাতো ভাইয়ের কাছে, সেখানের পরিচয় হয় এরিস গ্রে-র‍্যাট নামের এক এটম বোম মেয়ের সাথে।
প্রথম দিনই এরিসের হাতে ধোলাইখুড়ি হয় রুডির । কিন্তু রুডির চালাকি আর সাহসীকতার কারণে এরিসের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায়, সেটা আবার বন্ধুত্বের চেয়ের একটু বেশি (মেয়েদের পিছনে ছোক ছোক করার স্বভাব সে তার বাপ পলের কাছে থেকেই পেয়েছে)!
সবকিছুই চলছিল ভালোভাবে, হঠাৎ ঘটে যায় এক দূর্ঘটনা। বিশাল এক টেলিপোর্ট ইন্সিডেন্ট ঘটে যায়। হয়ে যায় সবকিছু এলোমেলো। রুডি নিজেকে আবিষ্কার করে ডেমন কন্টিনেন্টে তার সাথে শুধু এরিস। স্বপ্নে দেখা দেয় হিতোগামি (বাংলা বললে মানব দেবতা) নামের এক রহস্যময় দেবতা। সে পরামর্শ দেয়, রুইজার্ড নামের ডেমনের সাথে থাকতে সেই নাকি তাদের ডেমন কন্টিনেন্ট থেকে মানুষের কন্টিনেন্টে পাঠাতে সাহায্য করবে। কিন্তু রুইজার্ড হচ্ছে সাপ্রাডিয়া জাতির ডেমন, যারা কিনা কুখ্যাত। শুরুতেই রুডিয়াস সন্দেহ করে বসে হিতোগামিকে। তারপরেও রুডি রুইজার্ডের সাহায্য নেয়।
ভুল ভাঙ্গে রুডির, রুইজার্ড আসলে দয়ালু প্রকৃতির, তবে সেটা বাচ্চাদের বেলায়। রুডি, এরিস আর রুইজার্ড মিলে ডেমন কন্টিনেন্ট থেকে যাত্রা শুরু করে মানব কনিনেন্টের উদ্দ্যেশে। মাঝখানে দিয়ে জানতে পারে রুইজার্ডের অতীত আর দূর্ভাগ্য নিয়ে। সমব্যাথিত হয় রুডি, এরিস আর খুব ভালো বন্ধুত্বে পরিণত হয় তারা।
এর মাঝে হিতোগামি নামের সেই রহস্যময় দেবতা রুডির কাছে বেশ কয়েকবার আসে, তাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। কিন্তু দেবতার সন্দেহময় আচরণের কারণে রুডি তাকে বিশ্বাস করতে পারেনা। একসময় তারা এসে পরে মানব কন্টিনেন্টে, দেখা পায় তার বাবা আর নিজ মায়ের পক্ষের ছোট বোন নর্নের, জানতে পারে সেই বিশাল টেলিপোর্টেশোনের কারণে রুডিয়াসের পরিবার আলাদা হয়ে গিয়েছে, মা— জেনিথ, সৎ মা ও বোন— লিলিয়া ও আশিয়া।
হিতোগামির সাহায্য সে তার সৎ মা ও বোনকে খুঁজে পায়। আর এরপরেই চলে যায় এরিস, কারণে সে মনে করে রুডিয়াসের যোগ্য সঙ্গী হবার যোগ্যতা নেই তার। এছাড়া টেলিপোর্টেশন ঘটনার কারণে তারা বাবা-মাও মারা গিয়েছে, এরিস তার তলোয়ার চালানোর শিক্ষিকাকে নিয়ে বের হয়ে পরে অভিযানে যাতে সে রুডিয়াসের যোগ্য সঙ্গী হতে পারে। রুডিয়াসকে না জানিয়েই চলে যায়।
হতাশ হয়ে যায় রুডি। তার বাবা সৎ মা আর বোনকে নিয়ে চলে যায় জেনিথের খোঁজে। আর রুডি একা একা অ্যাডেভাঞ্চারার হিসেবে ঘুরতে থাকে। আবার আসে হিতোগামি, সে পরামর্শ দেয় জাদুর ইউনিভার্সিটিতে যেতে। রুডি তা মেনেই যায়, এতদিনে সে হিতোগামিকে হালকা বিশ্বাস করা শুরু করেছে। সেখানে যায়, অনেক কাহিনীর পর সিলফির সাথে দেখা হয়, তার সাথে বিয়ে হয় রুডির। সুখের সংসার শুরু হয়েছে, বাবা হবে সে তখনই জানতে পারে, তার বাব পল খুঁজে পেয়েছে জেনিথকে। রুডি ছুটে চলে যায়, হিতোগামির সাবধানতা ও হুমকি না গ্রাহ্য করেই।
মাকে উদ্ধার করে, কিন্তু বাবাকে হারায় সে, আর দেখা হয় তার জাদুর শিক্ষিকা রক্সির সাথে। মা জীবিত আছে কিন্তু আশেপাশে জগত সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই, বাবাও চলে গেছে না ফেরা দেশে, হতাশ হয়ে পড়ে সে, রক্সি সঙ্গ দেয়। সিলফির অনুমতিতেই রক্সিকে বিয়ে করে রুডি। আবার সুখের জীবনে চলে যায়।
কিন্তু এক ভয়ংকর সত্য জানতে পারে রুডি, হিতোগামি তার বন্ধু সেজে থাকলেও সে আসলে শত্রু। সে চায় রুডির পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে। রুডি যখন মরিয়া হয়, তখন হিতোগামি জানায় সে যদি ড্রাগন গড ওরস্ট্রেড কে পরাজিত করতে পারে তাহলে হিতোগামি রুডিয়াসের পরিবারকে ছেড়ে দিবে। কিন্তু ড্রাগন গড ওরস্ট্রেড হচ্ছে পুরো মানব আর ডেমন কন্টিনেন্টে শক্তিশালী। তার সাথে লড়াই করে এই পর্যন্ত কেউ জিততে পারেনি।
এখন রুডিয়াস কি পারবে পুরো ডেমন গড ওরস্ট্রেডকে হারাতে? পারবে হিতোগামির জাল থেকে বের হতে? পারবে তার পরিবারকে বাঁচাতে?
এটা নিয়েই আগায় মুসোকো তেনসাইয়ের কাহিনী।

Mushoku Tensei 1

অনেক বড় হয়ে গিয়েছে তাই না?
আসলেই, কারণে এটা প্রথম ষোল ভলিউমের কাহিনী সংক্ষেপ। আমি যতটুকু পেরেছি স্পয়লার এড়িয়েই লিখেছি, অল্প কিছু যা দিয়েছি সেটা কাহিনীর গুরুত্বপূর্ণতা উল্লেখ করতেই। এবার আসি আলোচনায়।
এই সিরিজ প্রথম প্রকাশ হয় ওয়েবে। সোয়েতসু নামে একটা ওয়েব সাইটে প্রকাশ হয় সিরিজটি (ওই সাইট থেকে অনেক হিট লাইট নভেলও বের হয়েছে এবং সেগুলোর অ্যানিমেও বের হয়েছে)। এরপর সেখান থেকে লাইট নভেল আকারে বের হয়। আই অবশ্য ওয়েব নভেলের প্রেক্ষিতেই আলোচনা করছি।
প্রথমেই আসি কাহিনী সম্পর্কে, প্রথম দিকে একটু কাঁচাভাব থেকেইগিয়েছিল সিরিজের বেলায়, হয়তো লেখকের প্রথমে লেখা বলেই, কিন্তু আস্তে আস্তে লেখকের লেখনীর মাঝে দক্ষতা এসেছে এবং সেটা পাঠক টেনে রাখার মত করেই। আর কাহিনীর প্ল্যানিং দেখলেই আপনি অবাক হবেন, শেষের দিকে এসে মনে হবে— আরে আমি কী আরেকটা কাহিনীর ভূমিকা পড়ছি নাকি? নায়ক কি আরেক নায়কের জন্য সবকিছু তৈরী করে রাখছে নাকি? আর শেষের টুইস্টটা ছিল অসাধারণ।
আর যে জিনিষটা ভালো লেগেছে সেটা হচ্ছে নায়কে চরিত্রের ধীরে ধীরে উন্নতিটা। একদিনের কেউ লিজেন্ড হয় না, অনেক পরিশ্রম আর ত্যাগ তিতিক্ষার পর লিজেন্ড হয় সেটা লেখক নায়কের মাধ্যমেই বুঝিয়েছেন। লেখক নায়ক রুডিকে ধীরে সুস্থেই শক্তিশালী করেছেন, হুট করেই না।
জাপানিজ লাইট নভেলে যেটা দেখা যায়, একটা বইয়ের মধ্যে সব ঝামেলা মিটিয়ে আরেক বইয়ে আরেকটা ঝামেলা নিয়ে আসে। আর লেখক মুসোকো তেনসাইয়ে সেই ঝামেল কীভাবে আসলো, কীভাবে সমাধান হবে সেটা খুব সুন্দর সাবলীল ভাবে দেখিয়েছে এবং সেখানে তাড়াহুড়ো আনেনি যেটা অন্যলাইট নভেল লেখকরে করে থাকেন।
কিছু ব্যাপার খারাপ লেগেছিল, অবশ্য সেতা উল্লেখ করতে নভেলের স্পয়লা হয়ে যায়। তবে যেটা উল্লেখ করলেই নয়, সেটা হচ্ছে নায়কের বিয়ে— আসলে তিন নায়িকাই ছিল বেস্ট, তবে রক্সি আর এরিসে ব্যাপারে একটু মনোযোগ দিলে ভালো হত, কারণে হুট অনেকদিন পর দেখা হল তারপর হল বিয়ে, এটা মানা যায়নি। সিলফি কিন্তু আবার অনেক সুযোগ পেয়েছে।
এবার আসি চরিত্রের বেলায়, লেখক এখানেও নিজের দক্ষতার সাথে চরিত্রগুলো সাজিয়েছেন, এবং প্রতিটা চরিত্র যাতে পাঠকের মনে ছাপ ফালাতে পারে সেই দিকেও ভালো নজর দিয়েছেন। তবে একটা ব্যাপার খারাপ লেগেছিল সেটা হচ্ছে নায়ক এক নায়িকার সাথে থাকাকালীন বাকী দুই নায়িকার কথা ভুলে গিয়েছিলেন, মাঝে মধ্যে হয়তো মনে করেছেন কিন্তু পরে আবার ভুলে গিয়েছিলেন।
তবে নায়কের চরিত্রের বেলায় যে লেখক অনেক মনোযোগী ছিলেন সেটা পরিষ্কার বুঝা গিয়েছিল। তিনি সাধারণ লাইট নভেল নায়কদের মত হালকা বোকা-সোকা বা সম্পূর্ণ পার্ভাট না বানিয়ে। চালাক চতুর এর সাথে অনেক পার্ভাট বানিয়েছেন। যদিও সে একদিক দিয়ে সৎ ছিল, তিন বউ ছাড়া সে আর কোনো মেয়ের দিকে এগোয়নি, একটু উল্টা-পাল্টা চোখে তাকালেও সে তাদের কাছাকাছি যায়নি, এমনকি এক মেয়ে সিডিউস করার পরেও। এই কারণে তাকে বাহবা দিতে হয়, তাছাড়া বাবা হিসেবে নায়কের তুলনা ছিলনা, নিজের ছেলে মেয়ের জন্যে নিজের প্রাণ বিকিয়ে দেয়ার জন্যে প্রস্তুত ছিল সে।
নায়িকা হিসেবে সিলফির তুলনা হয়না (আমার ফেভারিট সে!)। মহৎ না হলে নিজের স্বামীকে আরো দুইটা বিয়ে করতে দেয় এবং তাদেরকে নিজের বন্ধুর করে মত নেয় (ভাগ্যিস ইন্ডিয়ান সিরিয়াল ছিল না এটা, তাহলে চুলোচুলি লাগিয়ে দিত ডিরেক্টর)। তাছাড়া নায়কের পরিবার মানে,অসুস্থ মা, দুই বোন আর সৎ মায়ের সাথেও মানিয়ে নিয়েছে। যতটুকু পেরেছে রুডিয়াসকে সাহায্য করেছে। এমন মেয়ের কী আর কারো সাথে তুলনা দেয়া যায়!
রক্সি ছিল সব চেয়ে আন্ডার লাইটে। পুরো সিরিজেই সে আন্ডার লাইটে রাখা হয়েছে যেটা তেমন ভালো লাগেনি।
এরিস, প্রথমে তার উপর অনেকেই রাগ করতে পারে। হুট করে চলে যাওয়াতে আরো ক্ষেপে যেতে পারেন অনেকেই। কিন্তু সেই মনে হয় বাকী দুইজনের চেয়ে সে রুডিকে বেশি ভালোবাসতো, মুখে প্রকাশ না করতে পারলেও সে হাতে প্রকাশ করেছিল! আর তার ডেডিকেশন দেখে নায়ক নিজেও অনেক হতবাক হয়েছিল।
এছাড়া আরো অনেক ইন্টারেস্টিং চরিত্র আছে, তাদের নিয়ে কথা-বার্তা বলতে গেলে লেখা আরো বড় হয়ে যাবে। তাই সিরিজটা পড়ে নিয়ে তাদের সম্পর্কে জানালে ভালো হয়।

এবার আসি কেন পড়বেন?
আমার প্রশ্ন হল কেন পড়বেন না? এমন সিরিজ সত্যি কথা বলতে হাতে গোণা কয়েকটা পাবেন। যেটা টিপিকাল পথে চলেও আলাদা একটা ভূমিকা রেখেছে।
লাইট নভেলে এমন কোন নায়ককে পাবেন, যে নিজের ভালোবাসার কথা সরাসরি প্রকাশ কয়েছে, নিজের পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থেকেছে। হাজার রকমে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছে শুধু নিজের পরিবারকে রক্ষা করার জন্যে।
রিডার্স ব্লকে আছেন? তাহলে একবার পড়ে দেখেন রিডার্স ব্লকটা কাটে কিনা।
নতুন কিছুর খোঁজে আছেন? তাহলে একবার ধরে দেখেন এটা আপনার তেষ্টা মেটাতে পারে কিনা।
আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি এই সিরিজ আপনার চাহিদা মেটাতে পারবে। পড়ার পর মনে হবে যাক অনেকদিন পর একটা ভালো কিছু পড়লাম।
আর লেখা বাড়াবো না কারণ অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। আশা করি আপনারা এই সিরিজ পড়ে অনেক আমোদিত হবেন আপনারা।
ছবিতে:
লাইট নভেলের ভলিউম একের কভার। কভারে পল, জেনিথ, রুডিয়াস, লিলিয়া , রক্সি আর সিলফিট্টে।
ভলিউম তের কভার। কভারে, রুডিয়াস, সিলফিট্টে— কোলে তাদের বাচ্চা, রক্সি, জেনিথ, লিলিয়া, আর দুই ছোট বোন নর্ন আর আশিয়া।

Mushoku Tensei 3

ছবিতে, রুডিয়াস, সাদা চুলের মেয়ে সিলফিট্টে, নীল চুলের মেয়ে রক্সি আর লাল চুলের এরিস।

Owari no Chronicle/The Ending Chronicle [লাইট নোভেল রিভিউ] — তৌফিক সরকার

owari-no-chronicle-1

Owari no Chronicle বা The Ending Chronicle
লেখকঃ Minoru Kawakami
জনরাঃ সাইন্স ফিকশ, ফ্যান্টাসী, একশন,রোমান্স

এই সিরিজ নিয়ে লেখার আগে এর ইউনিভার্স নিয়ে কথা বলি। Owari no Chronicle এর লেখক মিনোরু কাওয়াকামি নিজস্ব একটা ইউনিভার্স তৈরী করেছেন। সেই ইউনিভার্স ছয়টা এরা (era) ভাগে ভাগ করেছেন। সেই ছয়টা এর নিচে দেয়া হলঃ

১) FORTH- সিরিজ নামঃ Rapid-fire King – এর দুটো বই বের হয়েছে (ইংরেজী অনুবাদ হয়নি)।

২) AHEAD- সিরিজ নামঃ Owari no Chronicle – মোট ১৪টা বই বের হয়েছে এবং সম্পূর্ন হয়েছে (সম্পূর্ন ইংরেজী অনুবাদ হয়েছে।)

৩) EDGE- এখনো কোনো বই বের হয়নি।

৪) GENESIS- সিরিজ নামঃ Kyoukai Senjou no Horizon- ২৩ টা বই এবং এখনো চলমান (ইংরেজী অনুবাদ চলছে।) [Owari no Chronicle এর সিক্যুয়েল এটা।]

৫) OBSTACLE- সিরিজ নামঃ Clash of Hexennacht- ৩ টা বই বের হয়েছে এবং চলমান (ইংরেজী অনুবাদ চলছে।)

৬) CITY- CITY সিরিজ নামে পরিচিতি ৭টা ভাগে মোট ১৭ টা বই বের হয়েছে এবং সম্পূর্ন (ইংরেজী অনুবাদ চলছে।)

Owari no Chronicle সিরিজটা AHEAD- era এর মধ্যে অন্তর্গত। এটাকে জাপানের সেরা সাইন্স ফিকশন সিরিজের কাতারে ফেলা হয়, এবং এই সিরিজ বেশ কয়েকটা পুরষ্কারও পেয়েছে।

কাহিনী শুরু একসম ১৯৪৫ সালের দিকে। তখন ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলছে, কিন্তু এই বিশ্ব যুদ্ধের আড়ালে আরেকটা যুদ্ধ হয়েছে সেটাকে বলা হয় কনসেপ্ট ওয়ার ( Concept War), যেটা কিনা ইতিহাসের পাতায় লেখায় হয়নি।

এরপর ষাট বছর পর, গল্পের নায়ক সায়ামো মিকোটোর দাদা মারা গিয়েছে। মারা যাওয়ার আগে তার জন্যে একটা উইল রেখে গিয়েছেন তিনি। সে উইল জানার জন্যে একটা বিশাল কম্পানী ও রিসার্চ সেন্টার আইএআই( IAI) তে যায় জানতে পারে, পৃথিবী ধ্বংসে কাছাকাছি, কারণ নেগেটিভ কনসেপ্ট এর পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, তার কাজ হচ্ছে এখন অন্যন্যা প্যারালাল ওয়ার্ল্ড থেকে তাদের কনসেপ্ট নিয়ে আসতে হবে, তবে সেটা নেগোসিয়েশন বা সন্ধি করে।

এখন সে কিভাবে অন্যান্য প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের সাথে সন্ধি করবে যেখানে তার পূর্বসূরীরা সেই ওয়ার্ল্ডকে ধ্বংস করেছে বলা বাহুল্য সেই পূর্বসূরীদের মধ্যে তারা দাদাও ছিল।

আর এভাবেই Owari no Chronicle এর কাহিনী শুরু।

কাহিনী সংক্ষেপ গুরুগম্ভীর দিয়ে শুরু হলে পুরো কাহিনীতে একশন, রোমান্স আর কমেডিতে ভরপুর। আর প্রতিটা চরিত্রই ইউনিক একেক দিক দিয়ে। তবে সিরিজের মেইন নায়ক সায়ামা মিকোটো ইউনিকের দিক দিয়ে রাজা। তার হ্যালিরিয়াস যুক্তি এবং সেটা দিয়ে যেকোনো বিপদ কাটানোতে তার জুড়ি নেই।

তাছাড়া এই সিরিজের আসলে যে ব্যাপারটা হচ্ছে সম্পূর্ন নায়ক কেন্দ্রিক না হওয়াটা। জাপানিজ লাইট নভেলের বেলায় দেখা যায় যে নায়কই সব করে দিচ্ছে, A-Z সব। কিন্তু এই সিরিজে তা নয়, নায়কের সাথে সাথে আরো বেশ কয়েকটা ডিপেন্ডেবল চরিত্র আছে যারা নায়কের সন্ধি স্থাপনায় সাহায্য করেছে, যেখানে সায়ামা একটা সন্ধিতে ব্যস্ত সেখানে তার সঙ্গীরা এই সন্ধিতে যাতে ব্যাঘাত না ঘতে সেটা নিয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আর লেখক সবার চরিত্র একদম সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের আচার আচরণ, রোমান্স, স্ট্রাগল, সুখ-দুঃখ সব ।উদাহরণ দেয়া যায় তৃতীয় আর্কের বেলায়, মেইন ক্যারেক্টার বাদের, দুই সাইড ক্যারেক্টার (অবশ্য তারা পরের দিকের বেশ ভালো ভূমিকা রাখে) এর রোমান্স ছিল আমার ফেভারিট। খুব কম সময়ের মধ্যে তাদের রোমান্সটা লেখক খুব দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন।

আর রোমান্স যখন আসলোই, তখন নায়ক সায়মা ও নায়িকা শিনজৌ সাদাগিরি রোমান্সটুকু খুব সুন্দরভাবে ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, এমনকি সাদাগিরির সিক্রেট (নভেলের খুব ক্রুশিয়াল পয়েন্ট এটা।) জানার পরেও সায়ামা সাদাগিরিকে গ্রহণ করেছে এবং নভেলের শেষে অফিশিয়ালি কাপোল হয়েছে।

এই সিরিজটা সাইন্স ফিকশন হলেও, এর মধ্যে ফ্যান্টাসীর মিশ্রণ ছিল। এবং লেখক ফ্যান্টাসী ও সাইন্সের মধ্যে জগাখিচুড়ী লাগিয়ে দেয়নি বরং একে অপরের সাথে এত সুন্দরভাবে যোগ করেছে যে সহজে ভ্রু কুঁচকে উঠবে না।

আর কাহিনীর শেষের দিকে টুইস্টটা ছিল মারাত্মক, একদম কল্পনার করা যায়নি এমন কিছু একটা হবে।

তাই যারা সাইন্স ফিকশন পড়তে পছন্দ করেন তারা নির্দ্বিধায় পড়ে ফেলতে পারেন এই সিরিজ।

ছবিতে Owari no Chronicle বইয়ের এক অংশ দেখানো হলো, ডান পাশেরটা Owari no Chronicle এর সব বই আর Kyoukai Senjou no Horizon এর প্রথম ৮ টা বই।

owari-no-chronicle-2