রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৯: Grisaia no Kajitsu — Fuad Hassan

Grisaia no Kajitsu (গ্রিসাইয়া নো কাজিতসু)
English: Le Fruit de la Grisaia
Synonyms: The Fruit of Grisaia

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=rta5-jcNgvA)]

“In this world, when you face forward, that’s the future. When you look back, it’s a memory. And if you clip a part of it out, that becomes a story.”- Kazami Yuuji.

সেইসব মানুষদের কি হয় যারা তাদের পরিস্থিতির শিকার হয়েই অন্যদের থেকে একটু আলাদা?

তারা তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া বোঝা নিয়েই সারাজীবন কাটাতে বাধ্য হয় নাকি তারাও পেতে পারে মুক্তির সন্ধান? অন্যদের থেকে আলাদা এমনই ৬ জনকে নিয়েই Grisaia no Kajitsu এর কাহিনি যারা তাদের পরিস্থিতির শিকার হয়েই একই ছাদের নিচে পড়তে  আসে।

স্টোরি/ কাহিনিঃ (৮.৫/১০)

কাহিনি এর শুরু হয় Kazami Yuuji এর Mihama Academy তে ট্রান্সফার করার মাধ্যমে। পুরো স্কুলে মাত্র ৫ জন মেয়ে আর Yuuji ই একমাত্র ছেলে। ১ম এপিসোড থেকেই এই অ্যানিমের জনরা সাইকোলজিক্যাল হওয়ার আবহ পাওয়া যায়। এই অ্যানিমের কাহিনি প্রধানত মেয়েগুলোর ব্যাকস্টোরি নিয়ে যার প্রতিটা কাহিনি ই সাইকোলোজিক্যাল আর কষ্টের। ৫ জনের ৫ টা আর্ক, প্রতিটা ২-৩ এপিসোডের। ৫ টা মেয়ে; কেন তারা এইরকম আর Yuuji এর তাদের সাহায্য করে তাদের অতীত জীবন থেকে মুক্ত করার চেষ্টা নিয়েই পুরো কাহিনি। ৫ জনের ৫ টা রুট এডাপ্ট করেছে এই ১৩ এপিসোড এ। যদিও VN এর তুলনায় কাহিনিগুলো বেশ রাশড ছিলো তাও দেখতে আর বুঝতে খারাপ লাগে না। কাহিনিতে হিউমার, ফ্যানসার্ভিস, সিরিয়াসনেস বেশ ভালোভাবেই মেইনটেইন করা হয়েছে।

আর্টঃ (৮.৫/১০)

8bit এর করা অ্যানিমেশন বেশ ভালো আর হাই কোয়ালিটির ছিলো, কাহিনির ডার্ক সাইডগুলো বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে। ক্যারেক্টার ডিসাইন অনেকটা পরিচিত মনে হতে পারে কারণ Monogatari series এর ক্যারেক্টার ডিসাইনার Akio Watanabe এর করা। ভিএন এর সাথে অ্যানিমেই এর ক্যারেক্টার আর ব্যাকগ্রাউন্ড দৃশ্যগুলোর মিল থাকার জন্য দেখতে ভালোই লেগেছে।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=XpGBzWvcNTI)]

সাউন্ডঃ (৯/১০)

Junpei Fujita এর করা Grisaia no Kajitsu এর OST গুলো অনেক ভালো আর সবচাইতে ভালো হয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউসিক এর ব্যাবহারগুলো। OST গুলো VN এর টাই ইউস করেছে কিন্তু বেশ ভালোভাবেই প্রতিটা মুহূর্তকে ফুটিয়ে তুলেছে। কমেডি এর জায়গায় কমেডিক আর সাসপেন্স এর জায়গায় সাসপেন্স ইনডিউস করা OST গুলো দৃশগুলোকে আরো ইনটেন্স করে তুলেছে। Maon Kurosaki এর গাওয়া Opening song টা বেশ ভালো ছিলো, গানের লিরিক্স টাও গানের সাথে মিশে যেন সবার ব্যাকস্টোরিটাই তুলে ধরেছে (https://www.youtube.com/watch?v=bTOIl8Uwotw). আলাদা ফিমেইল ক্যারেক্টারদের আর্ক শেষে তাদের ED থাকেলেও কমন Ending song টাই সবচাইতে ভালো লেগেছিলো (https://www.youtube.com/watch?v=cs1L9FUbsBI), এই এন্ডিং সং এর চিবি ক্যারেক্টারগুলো একটু বেশই কিউট।

ক্যারেক্টারঃ (৯/১০)

Grisaia no Kajitsu এর সবগুলো ক্যারেক্টারই ইন্টারেস্টিং আর মনে রাখার মত। Onee-san টাইপ ক্যারেক্টার Amane Suou, Tsundere-blonde ক্যারেক্টার Michiru Matsushima, loli ক্যারেক্টার Makina Irisu, Maid ক্যারেক্টার Sachi Komine, Kuudere ক্যারেক্টার Yumiko Sakaki আর Stoic ক্যারেক্টার Yuuji Kazami. প্রতিটা ক্যারেক্টারই টাইপ দেখে জেনেরিক মনে হতে পারে কিন্তু একেকজনের ব্যাকস্টোরি একেকটা ক্যারেক্টারকে মেমোরেবল করে তুলে। Makina এর করা পারভার্টেড জোকগুলো, Sachi এর করা কমেন্টগুলো, Yuuji আর Yumiko এর বলা philosophical কথাগুলো মনে রাখার মতো।

এঞ্জয়মেন্টঃ (৮.৫/১০)

৫ টা আর্ক অনেকটা রাশড হওয়ায় কাহিনির ফ্লো একটু কম মনে হলেও দেখতে বোরড লাগে না। ঠিক জায়গায় OST এর ব্যাবহার আর অ্যানিমেশন ভালো হওয়ার জন্য দেখতে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগে। Amane এর আর্কটাই বেশ ভালোভাবে এডাপ্ট করা হয়েছে ৪ এপিসোড নিয়ে আর এই আর্কটাই সবচেয়ে বেশি এক্সাইটিং আর এঞ্জয়েবল ছিলো।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=EPPOK-sJBfM)]

ওভারঅলঃ (৮/১০)

Front Wing visual novel কোম্পানির প্রোডিউস করা Griasaia no Kajitsu ভিসুয়াল নভেল থেকে এডাপ্ট করা অ্যানিমেই Grisaia no Kajitsu. এই অ্যানিমেই দেখার সময়ই একটা কথা চিন্তা হতে থাকে যে প্রায় ৫০+ ঘন্টার visual novel মাত্র ২৩ মিনিটের ১৩ টা এপিসোডে কেন এডাপ্ট হচ্ছে?! কিন্তু visual novel টা না পড়েও অ্যানিমেই টা দেখতে খুব বেশি খারাপ লাগে না বরং অ্যানিমেই টা দেখেই visual novel টা পড়ার আগ্রহ বেড়ে যায়। হারেম, সাইকোলজিক্যাল জনরার অ্যানিমেই হলেও সবকিছু মিলিয়ে Grisaia no Kajitsu বেশ ইন্টারেস্টিং একটা অ্যানিমেই।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=jqniKQJCvfQ)]

9 Grisaia no Kajitsu

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৮: Saekano: How to Raise a Boring Girlfriend — Imamul Kabir Rivu

Anime- Saekano: How to Raise a Boring Girlfriend

জানরাঃ কমেডি, স্কুল, রোমান্স, এচি, হারেম
মাই অ্যানিমে লিস্ট রেটিং: 7.82
ব্যাক্তিগত রেটিং: 8.5

একজন অ্যানিমে ভক্ত হিসেবে জীবনে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনাকে ঘিরে কোন অ্যানিমে, নভেল, মাঙ্গা অথবা গেম বানানোর ইচ্ছা- এটা অনেকেরই থাকে| একজন ওতাকুর এই ইচ্ছাগুলো বাস্তবায়নের যাত্রা এই অ্যানিমেটাতে সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে|

কাহিনী (৮/১০):

অ্যানিমের প্রধান চরিত্র তোমোইয়া আকি, যিনি একজন হার্ডকোর ওতাকু। এক বসন্তের সকালে সাইকেলে চড়ে ঢাল থেকে নামার সময় দমকা হাওয়ায় তার সামনে উড়ে এসে পড়ে একটি মেয়েদের হ্যাট। হ্যাটটি হাতে নিয়ে এদিক ওদিক তাকাতেই সে দেখতে পায়, বসন্তের বাতাসে সাকুরার পাপড়িতে ভরা পরিবেশে ঢালের ওপর সাদা ফ্রক পরা এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই দৃশ্য নায়কের কাছে অপরূপ লাগে। সে ঠিক করে ফেলে, এই দৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সে এমন এক ডেটিং সিম তৈরি করবে, যা সবার মন গলিয়ে দেবে। এ নিয়ে সে তৈরি করে তার নিজের দৌজিন সার্কেল। তাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে এই অ্যানিমেটি। খুব হালকা ধাঁচের বাস্তবসম্মত এবং হাস্যরসে ভরা কাহিনী এই অ্যানিমেটির।

ক্যারেক্টার ডিজাইন (৭/১০):

আমাদের প্রধান চরিত্র তোমোইয়া আকি হল একজন টিপিক্যাল ওতাকু। তিনি প্রকৃতিগতভাবে বোকা,তার চারপাশ সম্বন্ধে উদাসীন এবং নিজের সিদ্ধান্ত করা পথ  অনুসরণ করে।

অ্যানিমের আরেক চরিত্র কাসুমিগাওকা উতাহা সেনপাই; একজন ‘পারফেক্ট গার্ল’। সে সুন্দরী, মেধাবী, স্কুলের জনপ্রিয় ছাত্রী এবং একজন ভালো লেখিকা। আকির দৌজিন সার্কেলের জন্য স্টোরি লেখার দায়িত্ব তার ওপর। আপনার যদি “ওনেসামা” টাইপের চরিত্র পছন্দ হয়, তবে আপনার এই চরিত্রটিকে অনেক বেশি ভাল লাগবে।

এছাড়াও রয়েছে সাওয়ামুরা স্পেনসার এরিরি, আকির ছোটবেলার বান্ধবী ও একজন প্রতিভাধর দৌজিন চিত্রশিল্পী এবং সেইসাথে সুনদেরে। কাতৌ মেগুমি, সিরিজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সে আকির গেমের হিরোইনের মডেল। নরম এবং ক্লুলেস স্বভাবের এই মেয়েটিকে যে কারও পছন্দ হবে। সবশেষে বলব হিয়োদৌ মিচিরুর কথা, আকির চাচাতো বোন সে। অ্যানিমেতে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এছাড়াও বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে অ্যানিমেটিতে, তবে তারা মনে রাখার মত তেমন কিছু করে না। ১২ পর্বের অ্যানিমেটিতে তেমন কোন ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট হয়নি; এত কম পর্বের মাঝে তা আসলে সম্ভবও নয়।

সাউন্ড এফেক্ট (৭/১০):

আমার মতে, অ্যানিমেটির ওএসটি বেশ ভালোই ছিল। খুব আহামরি কিছু না, আজকালকার আর দশটা স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমের মতই; তবে সিনগুলার সাথে মানানসই ছিল। ওপেনিং এবং এন্ডিং, দুটিই হালকা ধাঁচের গান, অ্যানিমের থিমের সঙ্গে মানানসই। বিশেষ করে মিকু সাওয়াই এর গাওয়া ‘কালারফুল’ গানটা অনেক সুন্দর এবং আমার প্রিয় এন্ডিংগুলোর একটি। অ্যানিমেটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মাৎসুওকা ইয়োশিৎসুগু এবং কায়ানো আই এর মত অভিজ্ঞ সেইয়ুরা।

আর্টওয়ার্ক (৯/১০):

অ্যানিমেটি এ-ওয়ান পিকচার্সের তৈরি, তবে শ্যাফট স্টুডিওর আর্টের সাথে এর প্রচুর মিল। এ-ওয়ান পিকচার্সের আর্ট আমার বরাবরই ভালো লাগে, তবে তাদের অন্যান্য কাজের তুলনায় সায়েকানোর আর্ট একটু অন্যরকম। ব্যাকগ্রাউন্ড এবং চরিত্রগুলো অনেক উজ্জ্বল করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে; অনেকটা নিসেকোই অথবা ওরেগাইরু যোকু শো-এর মত। এর আর্টের সবচেয়ে অনন্য দিকটি হল, বিশেষ কোন মূহুর্ত দেখানোর সময় যে কোন একটা রং এর ওপর বেশি ফোকাস করা হয়- এই ব্যাপারটি আমার বেশ দারুন লেগেছে।

বিনোদন (১০/১০):

হালকা ধাঁচের রসাত্মক অ্যানিমেটি যে কোন দিনেই আপনার মন ভালো করে দিতে পারবে। তবে এটি একটি টিপিক্যাল হারেম অ্যানিমে, তাই হারেম ভালো না লাগলে অ্যানিমেটি ভাল লাগার সম্ভাবনা কম। আর এই অ্যানিমেটিতে ফ্যানসার্ভিসের পরিমাণ একটু বেশি; কাজেই আপনি যদি ফ্যানসার্ভিস সহ্য করতে না পারেন তাহলে অ্যানিমেটি না দেখাই ভালো বলে আমি মনে করি।

ত্রুটি:

আমার চোখে অ্যানিমেটির বেশ কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। যেমন, অ্যানিমেটা শুরু হয় ধীর গতিতে, যা একটা স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমের জন্য মানানসই, কিন্তু শেষে খুব তাড়াহুড়ো করা হয়েছে। এছাড়া কাহিনীটা কিছুদূর আগানোর পর একটু খাপছাড়া হয়ে গিয়েছে।

আমার কাছে অ্যানিমেটা ভালো লাগার এক অন্যতম কারণ হল এর প্রতিটি মূহুর্ত আমি উপভোগ করেছি। আপনি যদি মনে করেন অ্যানিমেটি আপনার ভালো লাগতে পারে, তাহলে সময় নিয়ে দেখে ফেলুন সায়েকানো, আশা করি ভালো লাগবে।

8 Saekano

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৭: Kuroko no Basuke — Shawana Adbiah

কুরোকোর বাস্কেটবল (Kuroko no basuke)
Genre: Sports, Comedy, Shõnen
Studio: Production I.G

আপনি কি সময় সময় এমন কিছু anime এর সমনা সামনি হয়েছেন যার একটি episode দেখার পর পরেরটি না দেখলে আপনার ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে ? কিংবা কলিজা ছিরে গিয়েছে ? কিংবা পেট ব্যথা শুরু হয়েছে? কিংবা নিজের অজান্তেই মাথার সব চুল ছিরে ফেলেছেন? যদি হয়ে থাকেন তবে কুরোকোর বাস্কেটবল সেই গোষ্ঠি ভুক্ত। এটি কুরোকোর বাস্কেটবল নামের manga এর উপরেই ভিত্তি করে তৈরি করা এবং manga চলিতেছে (ongoing) । manga এর আঁকাআঁকি অনে্যর কাছে কেমন লেগেছে জানি না তবে আমার অসাধারন লেগেছে! কুরোকোর বাস্কেটবল আনিমেটির তিনটি season বের হয়েছে এ পর্যন্ত। প্রথম season ২০১২ তে প্রাচারনা শুরু করে এবং তিন নম্বর season এর প্রচারনা শুরু হয় এ বছরের জানুয়ারিতে ( এর জন্য ভক্তদের চুল ছেরা অপেক্ষার কথা নাই বলি 😀 )।

আমার দেখা গুটি কয়েক sports আনিমের মধ্যে যে কুরোকোর বাস্কেটবল শ্রেষ্ঠ তাও নাই বললাম। sports আনিমে জগতে আমার আনাগোনা কম তাই sports আনিমে হিসেবে কুরোকোর বাস্কেটবল কতটা স্বার্থক তা জানি না। তবে আনিমে হিসেবে এটা যে স্বার্থক তা এটির বিশাল fan base দেখে আপনি যদি না বুঝে থাকেন তবে বলি এ আনিমে আপনারই জন্যে! আর যদি বুঝে থাকেন তবেও এটি আপনার জন্য হতে পারে। কারন এর story line খুবই simple । কুরোকোর বাস্কেটবলের শুরুটা হয়ত অনেকরই আনিমেটা না দেখার পরও জানা। তার পরও বলি , শুরুটা হয় আমাদের প্রধান চরিত্র কুরোকোকে দিয়ে। সে তার উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম দিনই সেই বিদ্যালয়ের বাস্কেটবল ক্লাবের মেম্বার হতে যায়।সে সময় কাগামি টাইগা নামের আরেক ব্যক্তিও ক্লাবের সদস্য হতে আসে। সকলেই কাগামির উপস্থিতি ভালোভাবে টের পেলেও কুরোকোকে কেউই মনে রাখতে পারে না। কারন কুরোকোর প্রকৃতিটাই এমন যে কেউ সহজে তাকে লক্ষ্য করে না ( তাই এরপর আপনাকে কেউ পাত্তা না দিলে মন খারাপের দরকার নাই। কারন কুরোকোকেও কেউ পাত্তা দেয় না ! 😛 )। কিন্তু কুরোকোর এ lack of presence ই তাকে টেইকো middle school বাস্কেটবল টিমের phantom sixth সদস্য বানিয়েছে। এ দলটিকে সবাই generation of miracles হিসেবে চিনে । কারন এ দলের নিয়মিত বাকি পাঁচ জন সদস্যই এক শব্দে monster । এর কারন এদের মত অসাধারন খেলয়ার প্রতি দশকে একবারই আসে। middle school থেকে গ্রাডুয়েট করার পর এ পাঁচ জন আলাদা আলাদা highschool এ ভর্তি হয় যদের বাস্কেটবল টিম গুলো top লেভেলের । কারন একটাই , competition এ বাকি চার জনের বিপক্ষে খেলা। কুরোকোর Seirin highschool এর বাস্কেটবল টিমকে top লেভেলের বলা না গেলেও তাদের determination সব থেকে বেশি। একসাথে কুরোকো , টাইগা এবং seirin এর বাকিদের generation of miracles দের বিপক্ষে বাস্কেটবলের লড়াই এর উপর ভিত্ত করেই এ story । খুবই simple। আসলেই কি?

মনে আছে ? শুরুতে আমি চুল ছেড়া অপেক্ষার কথা বলেছিলাম। কুরোকোর বাস্কেটবল আনিমেটার প্রায় ৬০% ই বলা যায় বিভিন্ন বাস্কেটবল match । আর একেকটি খেলা প্রায় ৩-৪ episode স্থায়ি হয়। আর এর মাঝে খেলা অসমাপ্ত রেখে উঠে যাওয়া আসলেই অসস্থিকর। একটু পরপর মনে হতে থাকে এর পর কি হবে?! আরেকটি কারন হল , প্রতিটি episode একটি cliff hanger রেখে শেষ হয় । যেহুতু খেলার কথা বলছি তাই বলা যায় প্রতিটি match ই লোম খাড়া করে দিবে !  সেটি আপনার main protagonist এর খেলা না হলেও। খেলার মধ্যে আপনি invest হতে বাধ্য ! কারন খেলার বাইরের episode গুলো দিয়ে প্রায় প্রত্যেকটি চরিত্র এমনভাবে flesh out করা যে তাদের সাথে অজান্তেই connected হয়ে যাবেন। বলাই বহুল্য যে এ সিরিজের প্রধান শক্তি হল এর চরিত্র গুলো। character development অসাধারন! আপনি তাদের এ যাত্রার প্রতিটি মুহুর্তই সাথে থাকবেন। খেলা সম্পর্কে বলা যায় এর শুরু থেকে শেষ পুরো সময়টাই উত্তেজনাকর। আর হিরো কখনো হারে না – এই নিয়মের ব্যবহার করা হয়নি। হিরো হারতেও পারে । আর তার জন্যই আপনি tension বেশি করবেন XD !  খেলা চলা সময়ে tricks , individual চরিত্রের সক্ষমতা / অক্ষমতা, game changing moves সবই আসাধারন! character designing টাও অসাধারন । কারন তদের শুধু face আর hight এর পার্থক্যই না body structure এর পার্থক্যও দেখা যায়। তবে সব ক্ষেত্রে না। কারন চরিত্র সংখা অনেক বেশি।

আনিমের কমেডি গুলিও ভালোই তবে আসাধারন কিছু পাই নি। টিপিকাল আনিমের অনেক বিষয়ও আছে । যেমন,  একজনের চুল blonde দেখে সবাই বিচলিত যেন গোলাপি, বেগুনী, আকাশি, সবুজ রঙের চুল খুবই natural।

এখন কিছু কটুক্তি করা যাক। ( এ বিষয়ে আমি অতিব পারদর্শী :3  )। আমার যে বিষয়টি অসহ্য লেগেছে তা হল কাগামির ইংরেজি উচ্চারণ! অন্য চরিত্রগুলির উচ্চারন আমি বহুত কষ্টে সহ্য করেছি । কারন গাপানিদের ইংরেজি কোন কালেই ভালো ছিল না । তবে কাগামির voice শুনে আমার প্রতিকি্রয়া — ” হে আল্লাহ্! এ আমি কি শুনলাম!!!” আমি অবশ্যই sub এর কথা বলছি । কারন কুরোকোর বাস্কেটবলের dub আছে কিনা আমার জানা নেই।

অনেকরই একটি বিষয় নিয়ে অসন্তোষ আছে। তা হল , খেলার সময় ১ সেকেন্ডেরও কম সময়ে লম্ফরত অবস্থায় বাতাসে ভর করে একেকটি খেলয়ার ২০ মিনিট সময় worth কথা বলে ফেলে। আমি বলি এটিই আনিমে নামক বস্তুর কারিশমা। কারন এ অবাস্তব জিনিস আনিমে ছাড়া আর কোথাও ভালো লাগে না। আর এ লম্ফরত অবস্থার কথাবার্তা mode build up এ crucial !

অনেকরই নাকি খেলার মধে্য চরিত্রগুলোর power ups গুলো অবাস্তব লেগেছে । এর জন্যও একই কথা প্রযোয্য । কারন এ power up বা zone না থাকলে অন্তত আমার কাছে বিষয়টি boring হয়ে যেত। এগুলো আছে বলেই একেকটি খেলাকে battle এর মতো লেগেছে।

Personally আমার কাছে বাস্কেটবল ডোজটা একটু বেশি বেশি মনে হয়েছে । কুরোকোদের জীবনে বাস্কেটবল ছাড়া কি আর কিছুই নাই? ঘুমাইতে, জাগতে, খাইতে , টিভি দেখতে, ঘরে , বাইরে, ক্লাসে সব জায়গায় সব সময়ই কি বাস্কেটবল আর বাস্কেটবল? পরে মনে হল হয়ত তাদের জীবনের বাকি অংশ বাদ দিয়ে mangaka বাস্কেটবলের উপর spotlight ফেলেছেন ।

সব শেষে , কুরোকোর বাস্কেটবল কি the best আনিমে ? হয়ত না। এটাকি groundbreaking unique? নাহ্ ! এতে প্রচুর আনিমে cliche আছে। এটাকি অনেক realistic ? কখনই না । এটাকি খুবই entertaining ? অবশ্যই !!

এতে কোন dull মহুর্ত নেই। প্রতিটি মুহুর্তই আপনি উপভোগ করবেন। যদি আপনার খোদ sports genre টাই ভালো না লেগে থাকে তবে কথা ভিন্ন। সবার sports আনিমে ভালো লাগবে না এটাই স্বাভাবিক।

তাহলে আমি কুরোকোর বাস্কেটবলকে কি rating দিব? দেখতে থাকা অবস্থায় ১১/১০ । কিছুদিন পর ৯+/ ১০ । আরো কিছুদিন পর হয়ত ৮+/ ১০ ।তবে কখনই এর থেকে কম না।

7 Kuroko no Basket

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৬: Great Teacher Onizuka (GTO) — Debashish Paul

এনিমে- Great Teacher Onizuka(GTO)
এপিসোড- ৪৩
জনরা- কমেডি, ড্রামা, স্কুল, শৌনেন, স্লাইস অফ লাইফ
MAL রেটিং-  ৮.৭৯

প্লট এবং রিভিউঃ ‘গ্রেট টিচার অনিজুকা’ এনিমের মূল চরিত্র, এইকিচি অনিজুকা। তাকে কেন্দ্র করেই এনিমের কাহিনী।  তিনি একজন ২২ বছর বয়সী জাপানিজ বাইক গ্যাং লিডার। ব্যাচেলর এবং ভার্জিন। তিনি কারাতের ব্ল্যাকবেল্টধারী। তার ইচ্ছে তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক হবেন, যাতে করে তিনি হাই স্কুলের মেয়েদের সাথে প্রেম করতে পারেন। তিনি খুবই ‘Perverted’ এবং এটি প্রকাশ্যে বলতে তার কোন লজ্জা নেই। আপাতত কোন কাজ ছাড়াই আছেন। একদিন তিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতার কাজ পেয়ে যান এবং ওখানের ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন ব্যাক্তিগত ও পারস্পরিক সমস্যা দূর করতে থাকেন।

‘গ্রেট টিচার অনিজুকা’ হাস্যরসের উপাদানে ভরপুর। প্রত্যেকটি এপিসোডই খুব মজার। ছাত্র ছাত্রীদের সাথে অনিজুকা খুব সহজেই মিশতে পারেন। এতে করে তাদের সমস্যা সমাধান করা তার জন্য সহজ হয়। অনিজুকা যেমন সবাইকে হাসাতে পারেন, আবার কেউ যদি তার সাথে ঝামেলার চেষ্টা করে, তাকে শায়েস্তা করতেও তিনি একাই যথেষ্ট। ফুয়ুতসুকি সেন্সেইয়ের সাথে তার গোপন প্রেম চলে। দুজনেই জানেন, কিন্তু কেউই মুখ ফুটে বলেন না। উচিয়ামাদা সেন্সেই অনিজুকাকে দেখতে পারেন না। তার দুই চোখের বিষ হচ্ছেন অনিজুকা, কিন্তু তাকেও অনিজুকা শায়েস্তা করেন। ছাত্র ছাত্রীরা অনেক সময়ই অনিজুকার মনে খুব আঘাত করে, কিন্তু অনিজুকা তাদের আঘাতে বিব্রত না হয়ে মজা করে তাদের সাথে সম্পর্ক ঠিক করে নেন। শুরুতে ছাত্র ছাত্রীরা অনিজুকাকে দেখতে পারে না কিন্তু একসময় তাদের প্রিয় শিক্ষক হয়ে উঠেন তিনি।

অনিজুকা চরিত্রটির সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, তিনি কোন ব্যাপারেই সিরিয়াস না! অতি জটিল সমস্যাও তিনি খুব হাসিখুশিভাবে সমাধান করেন। এমন অনেক ঘটনা ঘটে অনিজুকার সাথে যখন মনে হয় তিনি রাগের মাথায় কিছু করে বসবেন(তার শিক্ষক জীবনের আগের স্বভাব থাকলে তেমন করাই স্বাভাবিক) কিন্তু দেখা যায় তিনি তেমন কিছুই করেন না। খুব ঠাণ্ডা মাথায় সমস্যার মোকাবিলা করেন।

এনিমেটি মূলত কমেডি হলেও এই এনিমে থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। যেমন, বিশেষ পরিস্থিতিতে কিভাবে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। এনিমে দেখার সময় হাসতে হাসতে বেশ কিছু ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার শিখে ফেলবেন। একটুও বোরিং লাগবে না, বরং শেষ করার পর মনে হবে আরও কিছু এপিসোড যদি অনিজুকা এন্ড কোং এর কাণ্ডকারখানা দেখতে পারতেন!

এনিমের ওপেনিং এবং এন্ডিং OST গুলো বেশ ভাল। বিশেষ করে ‘লাস্ট পিস’ নামের OST টি।

এনিমেশন কোয়ালিটি সেই সময়ের হিসাবে বেশ ভাল। তবে মেয়ে চরিত্রগুলোর গালগুলো একটু ফোলা!

একশন দৃশ্যগুলো বেশ মজার। কমেডি দৃশ্যগুলো আরও বেশী মজার। অনেক সময় হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরার মত অবস্থাও হতে পারে। এককথায় ‘গ্রেট টিচার অনিজুকা’ মানেই হচ্ছে ‘খাটি বিনোদন’। সোনালি চুলওয়ালা, হাতে/মুখে সিগারেটধারী অনিজুকার কাণ্ডকারখানা ভাল লাগতে বাধ্য।

6 GTO

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৫: BACCANO! — Rafiul Alam

BACCANO! রিভিউ:

“I don’t understand any of it,but it’s absolutely incredible!”

-Miria Harvent

এই রকম সাধারণ একটা কোট দিয়ে শুরু করলাম কেন?ওয়েল….প্রথম দুইটা এপিসোড দেখার পর এই ছিল আমার অনুভূতি।নন লিনিয়ার ন্যারাটিভে স্টোরি সবসময়ই বুঝতে খুব কষ্টসাধ্য কিন্তু উপভোগ্য হয়।আনিমে জগতে এমন বর্ণনাশৈলীর সবচে দর্শকপ্রিয় শো হল বাকানো।বিখ্যাত হলিউড মুভি পাল্প ফিকশন যদি আপনার ভাল লেগে থাকে,তাহলে এই আনিমে আপনার ভাল লাগবেই।মাফিয়া বিষয়ক অন্যতম আনিমে,আনিপ্লেক্স স্টুডিও প্রযোজিত,তাকাহিরো ওমরির পরিচালনায় ২০০৭ সালে প্রচার করা হয় ১৩ এপিসোডের এই সিরিজটি।পরের বছর রিলিজ হয় ৩ এপিসোডের বাকানো স্পেশাল।ও হ্যা…আনিমেটার ডাবড ভার্শন দেখার জন্য অনুরোধ করব।

Synopsis:আগে কিছু বিষয় বলে নেই….১ম এপিসোডে কিছু বিচ্ছিন্ন সময়কালের ঘটনা দেখাবে,ফলে কি ঘটবে,তা আপনি জানেন।কিন্তু কিভাবে ঘটবে,সেটা জানতে আপনাকে শেষ এপিসোড পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।এইরকম প্রথম কয়েকটি এপিসোডে আপনি কয়েকটি ভিন্ন স্থান এবং সময়ের  ঘটনা দেখতে পারবেন।পরবর্তী এপিসোডগুলোতে নিজেই ডট মিলাতে পারবেন,বুঝতে পারবেন যে চরিত্রগুলো একে অপরের সাথে কোন না কোনভাবে সংযুক্ত।এবং সব মিলিয়ে মুলত একটি ঘটনাই বিভিন্ন চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখানো হচ্ছে।তো যাই হোক,একেবারে শুরুতে ক্যারল নামের এক ছোট্ট মেয়েকে কিছু বই ঘাঁটতে দেখা যায়।এরপর স্ক্রিনে আগমন ঘটে এক রাশভারী বয়স্ক লোকের।বুঝা যায় যে ক্যারল তার অ্যাসিস্ট্যান্ট,এবং তিনি কোন পত্রিকার বড় কর্তা।গল্পের ন্যারাটর তিনিই।ঘটনা হল ১৯৩১ সালের,ডালাস জেনোয়ার্ডের খোঁজে মাফিয়া বাহিনী ও তার বোন ইভ জেনোয়ার্ড। এদিকে লাইব্রেরীতে লাক গ্যান্ডর ও ফিরোর উপর বন্দুকের হামলা চালানো হয়।কিন্তু বুলেট তাদের শরীরের কোন ক্ষতি করতে পারে না।অন্যদিকে আন্তঃপ্রদেশ ট্রেন দ্যা ফ্লায়িং পুসিফুট শিকাগো হতে নিউইয়র্কের দিকে যাত্রা শুরু করে,সেই ট্রেনের যাত্রী হিসেবে আসার কথা আইজ্যাক ও মিরিয়ার।কিন্তু ট্রেনের কিছু যাত্রীর একেক রকমের উদ্দেশ্য,সবই পুরো ট্রেনের বাকি যাত্রীদের ঘিরে।এখন তারা কেউই অন্যদের উদ্দেশ্য জানে না।ফলাফল,সব মিলিয়ে এক ভয়ানক রক্তাক্ত পরিস্থিতি।রেল ট্র্যাকের পাশে এক হাত ছেড়া অবস্থায় পাওয়া যায় ল্যাড রুশোকে।কিভাবে তার এ অবস্থা হল?এই রকম অনেকগুলি ঝামেলাপূর্ণ ঘটনা নিয়ে আনিমেটির গল্প।এক্ষেত্রে আনিমেটির নাম স্বার্থক।ইতালিয়ান ভাষায় BACCANO শব্দের অর্থ হল ছোট খাট ঝামেলা।

Characters Setup:অনেকগুলো চরিত্র।অটিস্টিক  চরিত্রেরও অভাব নেই।এবং মজার ব্যাপার হল এতে কোন নায়ক বা ভিলেন নেই।প্রত্যেকটি চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গল্পটি দেখানো হয়েছে।চরিত্রগুলোর মাঝে রয়েছে আইজ্যাক ও মিরিয়া,আনিমে জগতের অন্যতম ফানি কাপল।যারা কিনা মাফিয়ার কাছ থেকে অনায়াসে টাকা ছিনতাই করতে পারে,যাদের নামে পুলিশের ওয়ারেন্ট।কিন্তু তাদের সরল সহজ মন মানসিকতা মুগ্ধ করবে।ফিরো প্রোচাইনেযো,সুদর্শন,দয়ালু এই ১৮ বছর বয়সীকে ক্যারল বলেছে,”He is kind of main character-ish”.ফিরোর মেন্টর,মাইযা আভারো।চশমা পড়া এই লোক দেখতে সাধারণ হলেও আসলে তা নয়।গ্যান্ডর ফ্যামিলির হেড লাক গ্যান্ডর।জেনোয়ার্ড পরিবারের দুই ভাই বোন ডালাস ও ইভ।ডালাস হল ঝামেলা পাকানো বখে যাওয়া ছেলে।অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী সিযলার্ড কোয়াটস,এবং তার সহকারী এনিস।হিংস্র,সাইকো খুনি ল্যাড রুশো,ও তার প্রেমিকা লুয়া ক্লেইন।অপার্থিব আক্রোব্যাটিক ক্ষমতাসম্পন্ন আরেক হিংস্র,বিকারগ্রস্ত লোক ক্লেয়ার ভিনো স্ট্যানফিল্ড।কথা বলতে অক্ষম এক মেয়ে চানে ল্যাফোর্ড,যার অতীত মোটেই সাধারণ নয়।ছোটবেলার দুই বন্ধু,মুখে তরোয়ালের ট্যাটু করা জ্যাকুযি স্পলট ও এক চোখ হারানো নিস হলিস্টোন।ছোট ছেলের মত দেখতে হলেও আসলে ছোট নয়,চ্যাযলো মেয়ার,তারও অতীত ঘটনা রয়েছে।আরও অনেক চরিত্র রয়েছে,আনিমে অ্যাডাপশনে কয়েকজনকে বাদ দেয়া হয়েছে।এতগুলো চরিত্রের কাহিনী যখন দেখতে থাকবেন,কনফিউজড হলেও প্রতি এপিসোডে নতুন কিছু বুঝতে পারবেন।

Theme setup,music and animation:১৯৩০ দশকের আমেরিকা,আনিমের প্রেক্ষাপট হিসেবে একেবারেই বিরল।যার কারণেই এই আমার কাছে এই আনিমের এত কদর।সেই সময়কার মাফিয়া বিজনেস,এক পরিবারের সাথে আরেক পরিবারের দ্বন্দ,বিশাল অঙ্কের ডলারের বাউন্টি এবং স্বার্থ হাসিলের জন্য কূটচাল খুবই উপভোগ্য ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।এছাড়াও ওই সময়ের ক্ষমতা ও আতঙ্ক তৈরির যন্ত্র, টমিগানের ব্যবহার,নতুন আবিষ্কৃত v16 ইঞ্জিনের গাড়ী,জ্যাজ মিউজিক,শিল্পায়নের প্রভাব এবং মিলিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন,সব দিক থেকেই ৩০ দশকের আমেরিকান জীবনযাত্রার হুবহু প্রতিফলন তুলে ধরতে অসাধারণভাবে সক্ষম হয়েছে আনিমেটি ডিরেক্টর ওমরি তাকাহিরোর নেতৃত্বে।এবার আসি মিউজিকে,জ্যাজ মিউজিকের ব্যাবহার আর কোন আনিমেতে এত সুন্দর লাগেনি।একেবারে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।ওপেনিংটা আমার শোনা সবচে প্রিয় ওপেনিং গুলোর মাঝে একটা।এন্ডিংটাও বেশ ভালো ছিল।আর্টওয়ার্ক আর আনিমেশন হল আ্যনিপ্লেক্স আ্যট ইটস বেস্ট।চরিত্রগুলো খুবই সুন্দর লেগেছে এই আর্টওয়ার্কে।এবং তাদের জীবন্ত এক্সপ্রেশনগুলো।

পরিশেষে বলতে চাই,আমি কোন আনিমে দেখার সময় তার ডেপথ কিরকম সেই ব্যাপারটা সবার আগে বিবেচনা করি।তো সেইদিক বিচারে এই আনিমে আমাকে এমনভাবে সন্তুষ্ট করেছে যে আমার দেখা টপ ১০ টি আনিমের মধ্যে থাকবে।তাই যারা এখনও দেখেননি,তারা চটজলদি দেখে ফেলুন!

Overall Rating:

Mal Rating: 8.6
My Rating: 9.5

5 Baccano

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৪: Hajime no Ippo — Arnab Basu

“এনিমখোর রিভিউ কন্টেস্ট [২০১৫] – তৃতীয় স্থান অধিকারী এন্ট্রি”

————————————————————————————————————-

এনিম/মাঙ্গা : হাজিমে নো ইপ্পো
মাঙ্গাকা : জর্জ মোরিকাওয়া
জনরা : স্পোর্টস, কমেডি, একশন, ড্রামা, শৌনেন

হাজিমে নো ইপ্পো দেখেছে অথচ জ্যাব প্র্যাক্টিস করে নাই এমন মানুষ বোধহয় খুব একটা নেই। এটা এমন একটা এনিম যা দেখে খুব সহজেই অনুপ্রাণিত হওয়া যায়, “পরিশ্রমের ফল কখনও বৃথা যায় না” এ কথা সহজেই বিশ্বাস করা যায়। হাজিমে নো ইপ্পো তাই শুধুমাত্র বক্সিং এর গল্প না, জীবনের গল্প, বাধা ও বাধা অতিক্রমের গল্প এবং সর্বোপরি, অণুপ্রেরণার গল্প।

মাকুনৌচি ইপ্পো সহজ সরল ছেলে, যার জীবন স্কুল আর তার মাকে মাছ ধরার জাহাজের ব্যবসায় সাহায্য করার মাঝেই গণ্ডীবদ্ধ। স্কুলে সহপাঠীদের হাতে রোজকার মত অপদস্থ হওয়ার সময় তাকে রক্ষা করে তাকামুরা। এই তাকামুরাই তাকে পরিচয় করিয়ে দেয় বক্সিং এর জগতের সাথে। ইপ্পো যখন বক্সিং শিখতে চায় তখন তাকামুরা তাকে এক কঠিন শর্ত দেয়। তাকামুরাকে অবাক করে সেই শর্ত পূরণ করে ইপ্পো। তাকামুরা তখন তাকে নিয়ে আসে কামোগাওয়া বক্সিং জিমে যেখানে অভিজ্ঞ মিয়াতার সাথে প্রথমবার রিং এ ঢোকা ইপ্পোর হার না মানা মনোভাব জয় করে নেয় কোচ কামোগাওয়ার মন। শুরু হয় বক্সার হিসাবে তার পথচলা। তবে গল্প শুধুমাত্র ইপ্পোর ম্যাচগুলোর মধ্যেই শেষ না, প্রতিটি ম্যাচের আগে প্রস্তুতি, প্রতিপক্ষের কাহিনী, অন্যান্য চরিত্রদের কাহিনী, তাদের লড়াইগুলো সমান গুরুত্ব পেয়েছে। বক্সারদের জীবনের কষ্ট, আত্নত্যাগ আর সীমাবদ্ধতাগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে কাহিনীতে।

হাজিমে নো ইপ্পোর সবচাইতে শক্তিশালী দিক এর চরিত্রগুলো। মিয়াতা, মাশিবা, ভর্গ, সেন্দো, দাতে এইজি, সাওয়ামুরার মত চরিত্রগুলোকে শুধুমাত্র ইপ্পোর প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখানো হয়নি, দেখানো হয়েছে তাদের জীবনের সংগ্রাম আর বক্সিং নিয়ে তাদের একাগ্রতা। তাকামুরার ম্যাচগুলা দেখার সময় মনে হবে এই লোকটাই বোধহয় নায়ক। প্রায় প্রতিটি চরিত্রকে কেন্দ্র করেই একটা মাঙ্গা বা এনিম তৈরি করা সম্ভব। এ থেকেই প্রতিটি চরিত্রের গভীরতা বোঝা যায়। তার পরেও এই গল্পের নায়ক ইপ্পো। সে এমন একটা চরিত্র যার শুরু শূন্য থেকে, যার প্রতিটি ম্যাচের পিছনে রয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম, যে রিং এর বাইরে নিতান্তই সহজ সরল। ইপ্পোর থেকে অনেক ক্যারিশম্যাটিক চরিত্র থাকার পরেও সেই এই গল্পের নায়ক, কারণ তার সাথে খুব সহজেই একাত্নতা প্রকাশ করা যায়। রিং এর বাইরে কোচ কামোগাওয়ার কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। ইপ্পো বা তাকামুরার উত্থানের পিছনে এই মানুষটির অবদান সবচেয়ে বেশি। বক্সিং আর দশটা স্পোর্টস থেকে আলাদা। অধিকাংশ স্পোর্টস এনিমগুলো হাইস্কুল ভিত্তিক, যা জাপানের সীমানারর মধ্যেই গণ্ডীবদ্ধ। ব্রায়ান হক, ডেভিড ঈগল আর রিকার্ডো মারটিনেজ এর মত চরিত্রগুলো এটাই প্রমাণ করে যে ইপ্পোর কাহিনী জাপানের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত।

এনিমের আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এর কমেডি। ডায়লগ তো আছেই, চরিত্রগুলোর বিভিন্ন অভিব্যক্তিই হাসির খোরাক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। অসাধারণ সব ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছাড়াও আছে দুর্দান্ত কিছু ওপেনিং আর এন্ডিং সং। ১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া এই মাঙ্গার এখন পর্যন্ত ১০০০ এর উপর চ্যাপ্টার বের হয়ছে। ২০০০ সালে আসে এনিমের প্রথম সিজন। এর পর আরো দুই সিজনসহ আছে একটি মুভি আর একটি ওভিএ।

দুর্দান্ত একশন, টানটান উত্তেজনা কিংবা দমফাঁটানো কমেডি, বিনোদনের জন্য প্রয়োজন সবকিছুর সাথে আছে সাবলীল কাহিনী। কোন ধরণের অতিপ্রাকৃত কিছু ছাড়াই এ কারণে হাজিমে নো ইপ্পো অনন্যসাধারণ। তাই অসাধারণ কিছু থেকে বঞ্চিত হতে না চাইলে দেখে ফেলুন হাজিমে নো ইপ্পো।

4 Hajime no Ippo

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩: Non Non Biyori — Fuad Hassan

Non Non Biyori (নন নন বিয়োরি)

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=iYEaitHu1T4)]

আপনার জীবন কি অনেক স্ট্রেসফুল? অনেক কিছু নিয়ে চিন্তিত আর মনের শান্তি নাই? Non Non Biyori দেখতে বসে যান কিছুক্ষণের মধ্যেই সব চিন্তা ভাবনা নাই হয়ে যাবে আর আপনার মন এক অন্যরকম পরিপূর্ণতায় আর স্নিগ্ধ প্রশান্তিতে ভরে যাবে। Non Non Biyori তার সাধারন প্লট, আর্ট, সাউন্ডট্র্যাক, আর হাল্কা মজার ঘটনাগুলো দিয়েই আপনাকে অন্য এক আবহ আর পরিবেশে নিয়ে যাবে।

স্টোরি/ কাহিনিঃ (৮.৫/১০)

নন নন বিয়োরি এর কাহিনি খুবই সাধারণ। Hotaru এর বাবার কাজের কারণে Hotaru তার পুরো পরিবারের সাথে গ্রামে ট্রান্সফার করে। সে যেই স্কুল এ যায় সেখানে বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রী একই শ্রেণীকক্ষে একসাথে ক্লাস করে আর সেই পুরা স্কুল এ মাত্র এই ৫ জন ছাত্র-ছাত্রী আর একজন শিক্ষক ছাড়া আর কেউ নেই। Hotaru আর তার স্কুলে পরিচিত হওয়া ৩ জনের সাথেই নিত্যদিনের কাজকর্ম নিয়ে নন নন বিয়োরি এর কাহিনি। কাহিনি অনেকটা এপিসোডিক আর কোন ধরণের টুইস্ট নেই। আর প্রতি এপিসোড এ এদের ইন্টার‍্যাকশন আর ছোট-খাট মজার, হাসির আর হার্ট মেল্টিং গল্প দিয়েই কাহিনি আর সেটিংস এর বিল্ড-আপ। কাহিনিগুলো লাইট টোনের আর আর এইসব কাহিনি ই আপনার মধ্যে বিভিন্নরকম ইমোশোনের সৃষ্টি করবে।

আর্টঃ (১০/১০)

Non Non Biyori এর সবচাইতে বেশি ভালো দিক হচ্ছে এর আর্ট। গ্রামের প্রত্যেকটা দৃশ্যই অসাধারণ আর শ্বাসরুদ্ধকর। সবুজ এ ভরপুর প্রতিটা দৃশ্যই এতটাই প্রাণবন্ত যে শুধু দৃশ্যগুলার দিকেই একটানা তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। গ্রামের দৃশ্যগুলো দেখতে এতটাই সুথিং যে দেখলে মন ঠাণ্ডা হয়ে যায়। Silver Link এর করা অ্যানিমেশন এর জন্যই আর্ট এতটা সুন্দর লেগেছে, যেটাকে সিনারিপর্ণ বললেও ভুল হবে না। একই সাথে ক্যারেক্টার ডিসাইন ও বেশ ভালো আর ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে ভালোভাবেই মানিয়ে গেছে। সব ঋতু কেই খুব ভালোভাবে অ্যানিমেট করেছে আর রাতের আকাশ, সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত তো আছেই।

[শুনতে থাকুন (https://soundcloud.com/tasogarekeshiki/26-natsu-yasumi)]

সাউন্ডঃ (৮.৫/১০)

নন নন বিয়োরি এর সুথিং ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে সুথিং সাউন্ডট্র্যাকগুলো খুব ভালোভাবে মানিয়ে গেছে আর সাউন্ডট্র্যাকগুলোর জন্যই নন নন বিয়োরি এর প্রশান্ত আবহ টা আরো ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। হালকা মুড এর এই সাউন্ডট্র্যাকগুলো এমনিতে শুনতে যতটা প্রশান্তিকর আর প্রাণবন্ত তা কাহিনি এর সাথে মিলে প্রতিটা মুহূর্তকে আরও বেশি প্রশান্তিকর আর প্রাণবন্তময় করে তুলে। ওপেনিং আর এন্ডিং সং টাও বেশ ভালো। nano.RIPE এর গাওয়া ওপেনিং সং টা যেমন অনেকটা প্লে-ফুল আবহ তুলে ধরে[https://www.youtube.com/watch?v=dXQPjubIHJI] তেমনি মেইন ৪ ক্যারেক্টার এর ভয়েস এক্টরদের গাওয়া এন্ডিং সং টাও ক্যারেক্টারদের ইনোসেন্ট দিক টা তুলে ধরে। এন্ডিং সং টা অনেক এডোরেবল। [https://www.youtube.com/watch?v=dXQPjubIHJI]

ক্যারেক্টারঃ (৮/১০)

নন নন বিয়োরি এর ক্যারেক্টারগুলো ডিসেন্ট। Hotaru শহর থেকে আশা ভালো মেয়ে, গ্রামের দুই বোন Komari আর Natsumi আর সবচাইতে ছোট Renge. প্রতিটা ক্যারেক্টার ই ইউনিক আর ইন্টারেস্টিং। ক্যারেক্টারদের মাঝে ইন্টারেকশনের মাধ্যমেই ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট হয়। Natsumi এর Komari সেনপাই এর জন্য বাড়তি অ্যাফেকশন, এমনকি সাইড ক্যারেক্টার দাগাশিয়া (সুইট শপ অওনার) এর সাথে Renge এর মজার কথাবার্তা, বাইরে থেকে দাদিবাড়িতে গ্রীষ্মের ছুটিতে আশা Honoka এর সাথে Renge এর ঘুরেবেড়ানো এইসব ছোটখাট জিনিস ও মনে রাখার মত। এইসব ইন্টার‍্যাকশন এতটাই কিউট যে এমনিতেই ‘Aweee…’ বলে ফেলতে হয়।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=vwxeYwdL_9A)]

এঞ্জয়মেন্টঃ (১০/১০)

Non Non Biyori এর প্রতিটা কাহিনি ই এর সাউন্ডট্র্যাক আর প্রাণবন্ত দৃশ্যের জন্য অনেক বেশি সুথিং হয়ে উঠে। আর একবার ভালো লাগলে একটানা না দেখে উঠতে ইচ্ছা করে না। কাহিনি এর ফ্লো এতটাই ভালো যে যদিও সব নিত্যদিনের সাধারণ কাহিনি তবুও দেখতে বোরিং লাগে না, বারবার দেখলেও মন এ একই প্রশান্তি লাগে।

ওভারঅলঃ (৯/১০)

এককথায় বলতে গেলে Non Non Biyori আমার দেখা সবচাইতে সুথিং অ্যানিমেই আর Slice of Life genre এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অ্যানিমেই। অশান্ত মন এর জন্য এই অ্যানিমেই টা ওষুধ হিসেবে কাজ করে। রিল্যাক্স করার জন্য আর মন ঠাণ্ডা করার জন্য এর মত আর অ্যানিমেই কমই আছে। সবকিছু মিলিয়ে Non Non Biyori slice of life জনরা এর মাস্টারপিস আর ডিফাইনিং টাইটেল।

[শুনতে থাকুন (https://www.youtube.com/watch?v=46OcuKblgGE)]

3 Non Non Biyori

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২: Uchuu Kyoudai — Hussain Shoykot Ash

আনিমে- উচু কিওদাই / স্পেস ব্রাদার্স

জনরা- কমেডি, সাই-ফাই, স্পেস, স্লাইস অফ লাইফ, সেইনেন
এপিসোড- ৯৯ টি
মাই আনিমে লিস্ট স্কোর- ৮.৬১

ছোটবেলা থেকেই আমাদের অসীম আগ্রহ মহাকাশের প্রতি, আকাশের তারা আর চাঁদ কিন্তু সবাইকেই আকর্ষণ করে, মনের মাঝে কিন্তু সবারই কখনও না কখনও এমন প্রশ্ন এসেছেই যে, আচ্ছা, আকাশের তারা কিভাবে ভেসে থাকে? চাঁদ এত কাছে আর সূর্য এত দুরে কেন? হয়ত বাবা-মাকে প্রশ্ন করে কিছু জানা গেছে, কিন্তু অনেক কিছুই অজানাই রয়ে গেছে। সময়ের সাথে সাথে হয়ত মন থেকেই মুছে গেছে কথা গুলো। আরেকটু বড় হওয়ার পর হয়ত শোনা গেছে যে মহাকাশে মানুষ গেছে। তাদের আবার এস্ট্রোনট বলে। তখন থেকেই মনের ভেতর হয়ত উঁকি দিয়েছে যে আমিও এস্ট্রোনট হতে চাই, কিন্তু জ্ঞানের অভাবেই হোক আর পরিবারের চাপেই হোক ভুলে গেছি মনের ভেতরের সেই আকাঙ্ক্ষাটাকে। আবার হয়ত কেউ এখনও এস্ট্রোনট হতে চায় কিন্তু জানেনা কিভাবে কি করে হতে হয়। আবার অনেকে আমার মত থাকতে পারেন যারা জানতে চান কেমন জীবন এস্ট্রোনটদের? তারা কেমন মানুষ? কি করতে হয় তাদের? চাঁদে গিয়ে তারা কি করে? আচ্ছা চাঁদে তারা কি ধরণের বিপদে পড়তে পারেন? আচ্ছা, আমি যদি এস্ট্রোনট হতাম, তাহলে আমার জীবনটা কেমন হত? হ্যা, এই সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে এই আনিমেটাতে, স্পেস ব্রাদার্স এমন একটা আনিমে যেটা দেখলে এই সকল উত্তর এমনিতেই পাওয়া যাবে, বা কেউ যদি মহাকাশ সম্পর্কে আগ্রহ না থাকা সত্ত্বেও দেখে, তাও সে মহাকাশের প্রতি একটা অজানা আগ্রহ অনুভব করবে।

এতো গেল কেন দেখবেন এই আনিমেটা। এখন আসা যাক এই আনিমের স্টোরিতে- এখানে দুই ভাইয়ের কথা বলা হয়েছে (নাম স্পেস ব্রাদার্স যেহেতু, দুই ভাইয়ের কথা কল্পনা করে নেওয়া যায়) তবে এরা কিন্তু একভাই এক স্পেসে আরেকভাই আরেক স্পেসে এমন না, বরং দুই ভাই এই পৃথিবীরই মানুষ। তাহলে মনে প্রশ্ন আসতে পারে, নাম স্পেস ব্রাদার্স কেন? আসছি সেই কথায়, ছোটবেলায় দুই ভাই নাম্বা মুত্তা আর নাম্বা হিবিতো একটা অদ্ভুত উজ্জ্বল আলো বিশিষ্ট জিনিস দেখতে পায়। কিছুক্ষণ পরেই যদিও সেই বস্তু চোখের আড়ালে খুব দ্রুত আকাশের দিকে চলে যায়, দুই ভাইয়ের মনে প্রশ্ন জাগে, এটা কি ছিল? মনে করে এটা বোধহয় এলিয়েন সসার ছিল। শুরু হয় মহাকাশের প্রতি আগ্রহের সূচনা। যদিও এই আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কিভাবে যেন নিজের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে বড় ভাই এস্ট্রোনট হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে যায়। ছোট ভাই লেগে থাকে সেই ছোটবেলায় দেখা স্বপ্নের পিছনে, দেখা পায় সেই আশ্চর্য স্বপ্নের, এস্ট্রোনট হওয়ার সেই দীর্ঘ অসম্ভবপ্রায় স্বপ্ন। জাক্সা থেকে নাসাতে চাঁদে যাওয়ার জন্য ট্রেনিং নিতে থাকে সে। এখানে আপনারা দেখতে পারবেন এস্ট্রোনটদের কিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়। এবার আসি বড় ভাইয়ের কথায়। স্বপ্ন ভুলতে শুরু করেছিল সে, নিজের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে, কিন্তু যে অফিসে সে কাজ করত সেখানে বস তার ছোট ভাইকে নিয়ে তামাশা করলে মেরে বসে সে বসকে। সহজেই চাকরি হারাতে হয় সেকারণে, অন্য কোথাও চাকরি পাওয়াও অসম্ভব, কারণ, অফিসের বসকে যে মারতে পারে তাকে চাকরি দিতে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক সবার। এমন সময় ছোট ভাই হিবিতো বড় ভাইকে তার স্বপ্নের কথা মনে করিয়ে দেয়। যেহেতু কাজ কাম নেই, মুত্তা আর কি করবে স্বপ্নকে আবার জাগ্রত করতে এস্ট্রোনট হওয়ার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অংশগ্রহণ করে, শুরু হয় এস্ট্রোনট হওয়ার যুদ্ধ।

এখান থেকে যারা জানতে চায় এস্ট্রোনট কিভাবে বাছাই করে বা কিভাবে ধাপে ধাপে একজন মানুষ এস্ট্রোনট হয়, তারা ভাল ধারণা পাবে, কেননা মুত্তাকে অনেকগুলা পরীক্ষা যে দিতে হবে নিজেকে প্রমানিত করার জন্য, স্বপ্নকে পাওয়ার জন্য। এখন যেই প্রশ্নটা মনে আসছে সেটা হল, তাহলে চাঁদে এস্ট্রোনটরা কি করে? কিসব বিপদে পড়ে? তা কিভাবে জানবো? এক ভাই তো এস্ট্রোনট হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, আরেকভাই এস্ট্রোনট হবে তাই পরীক্ষা দিচ্ছে। ব্যাপার না, একটু ধৈর্য্য ধরে দেখুন, এস্ট্রোনটদের নিয়ে সবকিছু পরিস্কার করে দেখিয়ে দেওয়া আছে আনিমেটাতে। মোটামুটি এই হল এই আনিমের স্টোরিলাইন। তবে এই এনিমের সবচাইতে ভাল লাগতে পারে যে জিনিসটা আপনাদের তা হল দেখার সময় কখনও এমন মুহূর্তে পরবেন যে না হেসে পারবেন না। কখনও আবার মন খারাপ করার মত অবস্থাই পরবেন, হয়ত কেদেও দিতে পারেন কে জানে? তবে যে জিনিসটা আপনি এই এনিম থেকে আবিস্কার করবেন তা হল এইটা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে, যেইটা এই এনিমের সবচাইতে বড় বিশেষত্ব।

এবার আসি গ্রাফিক্স, ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড, ওপেনিং আর এন্ডিং গানের দিকে- স্পেস ব্রাদার্সের গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর। মহাকাশ, নাসা, জাক্সা, এস্ট্রোনটদের প্রয়োজনীয় সকল জিনিস খুব সুন্দর ও নিখুঁতভাবে দেখানো হয়েছে। এর গ্রাফিক্স এমন যে আপনি দেখার সময় এক ধরনের আকর্ষণ অনুভব করবেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে যে স্লো মিউজিক ব্যাবহার করা হয়েছে তা প্রতিটা মুহূর্তের সাথে মানানসই। ওপেনিং আর এন্ডিং গানগুলো অসাধারণ রকম সুন্দর। যে গানগুলা ব্যবহার করা হয়েছে চোখ বন্ধ করে শুনে দেখতে পারেন, ভাল না লেগে যাবেনা।

স্পেস ব্রাদার্স আসলেই অসাধারণ একটি আনিমে। যদি কোন নতুন আনিমে খুঁজছেন দেখার জন্য বা সুন্দর একটা আনিমে দেখতে চান তাহলে আমি এই আনিমেটাকে দেখার কথা বলবো, দেখলেই বুঝবেন এই আনিমেটা কতটা সুন্দর। তাই হাতে কোন কাজ না থাকলে দেখা শুরু করে দিন আনিমেটা।

2 Uchuu Kyoudai

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১: Anohana — Rafid Azad

আনোহানা (anohana)

জনরা : সুপার ন্যাচরাল , রোম্যানস্,   ড্রামা
এপিসোড  : ১১
পারসোনাল রেটিং : ৮.৮/১০

আমার মতো এমন কেউ কি আছোযে ছোটবেলায় বন্ধুদের নিয়ে গোয়েন্দা বা অন্য কোন বিষয়ের উপর  খুবই অদ্ভুত একটি নাম দিয়ে ক্লাব খুলেছিলেসত্যি কথা বলতে আনোহানা আ্যনিমেটি আমার এত ভাল লাগার একটি মুল কারন, প্রোটগো্নিস্ট জিন্টান এর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আমার অস্বাভাবিক রকমের মিল । তবে সাধারন গ্রুপ এর সাথে এই পিস বাস্টার্ড’ গ্রুপ এর কিছু অমিলও রয়েছে । মুল তফাৎটি বোধহয়পিস বাস্টার্ড’ গ্রুপের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মেনমার একি্সডেন্টে হঠাৎ মৃত্যু । তার মৃত্যুর পর পিস বাস্টার্ডগ্রুপটি ভাঙতে সময় নেয় নি বেশি। বাইরে না দেখালেও গ্রুপ এর বাকি ৫ জন সদস্যের প্রত্যেকেই মেনমার মৃত্যু এর জন্য মনে মনে নিজেকে দায়ী করতো। তাই মুলত অতীতকে পিছনে ফেলার জন্যই জিন্টান পোপ্পো ,ইয়ুকিআটসু সুরুক নারুক আলাদা হয়ে যায় একে অপর থেকে এবং শুরু করে দেয় তাদের নতুন জীবন ।

আ্যনিমের প্লটটি চলে তারও ১০ বছর পরে যখন হঠাৎই মেনমার ১০ বছর পরের ভার্সন ভুত উপস্থিত হয় জিন্টান এর বাড়িতে । প্রথমে প্রথমে এটিকে হ্যালুসিনেশন হিসেবে ভেবে ছেড়ে দিতে চাইলেও পরবর্তীতে জিন্টান বুঝতে পারে মেনমা আসলেই ফিরে এসেছে ( যদিও এটি কেবল একটি ভুত ) ।মেনমা জিন্টান কে জানায় যে তার ইচ্ছে পুরণ হইনি বলেই সে পরকালে যেতে পারছে না । কিন্তু কি ইচ্ছা তা যে মেনমা নিজেও জানে না । তাই রীতিমত বিপদেই পরে যায় জিন্টান । একে তো মেনমা কে অন্য কেও দেখতে না পারায় সবাই জিন্টান এর কথা বিশ্বাস না করে সবাই উলটো গাজাখুরি’ হিসেবে নেয় । আবার অপর দিকে মেনমার সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তাকে আবারও তার অতীতের (তার পিস বাস্টার্ড গ্রুপ এর বন্ধুদের ) মুখোমুখি হতে হয় যার থেকে সে এত বছর দূরে ভাগছিল । কিছু দিন যেতে না যেতেই জিন্টান বুঝতে পারে মেনমার ইচ্ছা পুরনের জন্য পিস বাস্টার্ড গ্রুপ এর বাকি সদস্যদের সাহায্য তার লাগবেই। কিন্তু মেন্মার জন্য এতটুকু করা যেন জিন্টান এর কাছে কিছুই না কেননা সে যে অনেক ভালবাসে মেন্মা কে । কিন্তু অতীত বন্ধুদের মধ্যে কেও কেও তাকে বিশ্বাস করলেও অনেকেই করে না । কিন্তু এতো সব সমস্যার পরও জিন্টান হার মানে না এবং তার চেষ্টা চালিয়ে যায় । এবং সে প্রতিজ্ঞা করে নেয় যেমেনমা কে সে সাহায্য করেই ছাড়বে ।

আ্যানিমেটিতে ভাল দিকের পাশাপাশি খারাপ দিকও যে নেই তা কিন্তু নয়। প্রথমে ভাল দিয়েই শুরু করি । ক্যারেক্টার গুলির আর্টস্টাইল এবং তাদের সভাব চরিত্র এতইসুন্দর ভাবে ফুটে উঠে যে এই আ্যানিমের ভেতরে ঢুকে যাওয়া কোন ব্যাপারই হয়ে উঠে না। এর পাশাপাশি রয়েছে আ্যানিমেটির চমৎকার একটি অপেনিং (শুরুর) আর এন্ডিং(সমাপ্তি) গান।পারলে এখনি শুনে দেখ আমি ভুল বলছি কিনা ।

এবার যে বিষয় গুলি তোমাদের অতো বেশি ভাল না লাগতে পারে তা সম্পর্কে বলি । প্রথমে যেই বিষয়টি সম্পর্কে তোমাদের কে বলতে চাই তা হল তোমরা যদি কেবল ডেথ নোট অথবা কোড গিয়াস এর মতো সাসপেনসিভ আ্যনিমে পছন্দ করো এবং সাসপেন্স ছাড়া আ্যনিমে একেবারেই না দেখ তাহলে আগেই বলে রাখি আনোহানা টুইস্ট এর চেয়ে ইমোসোন এর দিকে বেশি মনোযোগ দেয় । পুরা কাহিনীতে একেবারে মোড় ঘুড়ানোর মত টুইস্ট না থাকলেও একেবারেই যে টুইস্ট নেই তা কিন্তু বলা যাবে না ।

শেষ পর্যন্ত কি হয় তা জানার জন্য এক্ষুনি শুরু করে দিতে পার মাত্র ১১ এপিসোডের এই চমৎকার আ্যনিমেটি । তোমাদের যে ভালো লাগবে তার ১০০% গ্যারানি্ট  দিতে পারি ।

1 Anohana