৩৬০° ম্যাটেরিয়াল
অন্য নামঃ থ্রি-সিক্সটি ম্যাটেরিয়ালস, ৩৬০ ডিগ্রিস ম্যাটেরিয়াল
জানরাঃ শৌজো, রোমান্স, স্কুল লাইফ, ড্রামা
চ্যাপ্টারঃ ৩৩
ভলিউমঃ ৮
মাঙ্গাকাঃ মিনামি তৌকো
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৬০
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯
আপনি কি “সেকেন্ড লিড সিনড্রোমে” ভুগছেন? ঝিলিমিলি করা সুদর্শন তরুণদের চেয়ে তাদের ঝলমলে আলোয় ম্লান হয়ে যাওয়া পাশের ওই সাধাসিধে নম্র ছেলেটিকেই ভালো লাগে? আপনার হৃদয় কি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায় যখন নায়িকা এই অভাগা ছেলেটিকে পাত্তা না দিয়ে প্রধান ছেলে চরিত্রের পিছে দৌড়াতে থাকে? তখন কি স্ক্রিনের দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলেন ‘এই ছেমড়ি এটা কি করলি তুই?!! এত ভালো একটা ছেলেরে ছ্যাঁকা দিলি?! অন্ধ নাকি! আসো “*নাম বসান*”-কুন আমার বুকে আসো! ও তোমাকে মূল্য না দিলেও আমি আছি তোমার জন্য!!’ ইত্যাদি বিড়বিড় করে স্ক্রিনের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন জড়িয়ে ধরার জন্য? তবে আপনাকে আমন্ত্রন জানাচ্ছি এই রিভিউ পড়তে!
(সতর্কবার্তাঃ পুরো রিভিউটি পড়ার পর বুঝবেন কথাগুলো আংশিক সত্য। পাগলী রিভিউয়ার সেকেন্ড লিডের উপর ক্রাশিত হয়ে পুরো মাঙ্গাটিতে তাকে মূলবস্তু বানিয়েছে। আর কারো পাত্তা নেই!)
গল্পের শুরুটা পড়ার জন্য আহামরি কিছু না। ওতাকা মিয়ো একদিন ট্রেন স্টেশনে দেখতে পায় তার ক্লাসমেট তাকি সুনাও আনমনা হয়ে হাঁটছে। হাঁটতে হাঁটতে সে ট্রেন আসছে এমন সময় রেললাইনের খুব কাছাকাছি জায়গায় চলে যায় আর মিয়ো তার হাত টেনে ধরে থামায়। তাকির সাথে কথা বলে মিয়োর মনে হয় তাকি অদ্ভুত ধরণের ছেলে, যদিও সে নিজেই মিয়োকে অদ্ভুত বলে। পরদিন সকালে তাকি আবার মিয়োকে গাড়ির ধাক্কা খাওয়া থেকে বাঁচায়। এরপর থেকে তাদের স্কুলে কথাবার্তা, যোগাযোগ বাড়তে থাকে। তারপর শৌজো মাঙ্গায় যা হওয়ার ঠিক তাই হয়। গল্প নিয়ে আর তেমন কিছু বলার নাই। যা হওয়ার সব এরপরে আসে যেগুলো স্পয়লার হিসেবে নেওয়া যায়।
এই মাঙ্গাটি সস্তা শৌজো মাঙ্গায় যে সস্তা স্কুল লাইফ রোমান্স গল্পগুলো দেখায় ঠিক সেরকমই। একদম খাঁটি শৌজো যাকে বলে (খাঁটি শৌজো বলতে কিন্তু জনপ্রিয় শৌজোগুলো বুঝানো হয়নি। খাঁটি বলতে গাঁজাখুরি শৌজো মাঙ্গা যাকে বলে!)। তাহলে আমি একে ১০ এ ৯ দিলাম কেন? রিভিউয়ের প্রথম প্যারাটাতেই তার আভাস দিয়েছি। প্রধান চরিত্র দুইটি কিংবা শুধু তাদের গল্প কোনটিই আমাকে একদমই আকর্ষণ করতে পারেনি। আমার মাঙ্গাটি ভালো লাগার কারণ শুধুই পার্শ্ব চরিত্রগুলো এবং গল্পে তাদের অবদান। এই অবদান তাকি আর মিয়োর সম্পর্কে নয়; তাদের নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে, নিজেদের অনুভূতি নিয়ে যে দ্বন্দ্ব চলে তা নিয়ে। এই চরিত্রগুলোর নিজ নিজ কষ্টের কোন গল্প নেই। কিন্তু মাঙ্গার গল্পটিকে সাধারণ বাকি গল্পগুলোর মত এগুতে না দিয়ে মাঝে মাঝেই এলোমেলো করে দেওয়াই এই অবদান। প্রচলিত রীতি অনুসরণ করেও মাঙ্গাটি কিছুটা অগতানুগতিক।
প্রথমেই বলা যাক চরিত্রগুলোর কথা। তাকি আর ১০টা শৌজো মাঙ্গার নায়কদের সাথে কোন ভাবেই খাপ খায় না। খুব সুশ্রী, জনপ্রিয়, প্রতিভাবান, হাসিখুশি, বন্ধুসুলভ এই বিষয়গুলো কিছুতেই তাকির ক্ষেত্রে খাটে না। আবার সে প্লেবয় ধরণেরও না। তাকি আসলেই খুব অদ্ভুত। তাকে আনমনা, চুপচাপ, স্বল্পভাষী হিসেবে দেখা যায়। নিজের মত থাকতে পছন্দ করে, বেশ বই পড়ে। মিয়োর এমন কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নেই যা আলাদা করে বলার মত। সাদামাটা একজন মেয়ে, বন্ধুদের সাথে থাকতে পছন্দ করে, পরীক্ষা আসলেই পড়াশোনা নিয়ে টানাটানি অবস্থা। তবে শৌজো মাঙ্গার নায়িকা বলতে আমরা যা বুঝি ঠিক সেরকমও বলা যায় না। এই মেয়ে যা করেছে তা শৌজো মাঙ্গার ইতিহাসে কোন ভালো থেকে খারাপ মেয়ে চরিত্র করতে পারেনি। কোন শৌজো মাঙ্গার নায়িকার কাছ থেকে এমনটা কেউ কখনো আশাও করতে পারবে না। কর্মের দিক থেকে মিয়োর চেয়ে ন্যাকামো আর কান্নাকাটি করা মেয়েরাও মনে হয় ভালো হবে। তবে মেয়েটিকে অপছন্দ হলেও সেই পরিমাণ বিরক্তিকর লাগবে কি লাগবে না তা আপনার উপরেই নির্ভর করছে। তাকি আর মিয়োর সম্পর্কটাও একটু অন্যরকম। এদের মাঝে যে সম্পর্ক আছে এটা মাঝে মাঝে মনে হয় না অন্যদের সাথে তুলনা করলে। হুট করে একটা সম্পর্কে চলে যায় যেখানে কবে, কিভাবে অনুভূতি তৈরি হল তা পরিষ্কার হয় না।
কিন্তু আমার ভালো লেগেছে মারুই, আকানে, শিমিযু এই ছেলেমেয়েগুলোকে। মারুই য়ুউকি হল সেই ছেলে যার কথা শুরুতে বলছিলাম। এই মাঙ্গাতে মারুই আসলে প্রধান ছেলে চরিত্রগুলোর মত। দেখতে সুন্দর, খেলাধুলায় ভালো, মেয়েদের কাছে প্রিয়। তাকির মত চুপচাপ স্বভাব পছন্দ না, নাকি মারুই শৌজো নায়কদের মত বলে নাকি সেকেন্ড লিডদের প্রতি আমার দুর্বলতা বেশি এ কারণে আমার মারুইকে ভালো লেগেছে তা ঠিক নিশ্চিত না। কিন্তু এই চরিত্র গল্পে জড়িয়ে যাওয়ার পরেই আমি টানা মাঙ্গাটি গোগ্রাসে গিলেছিলাম! মারুইয়ের জন্যেই গল্পটি ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেছে। তবে সেটা দুইবার ১৮০ ডিগ্রী করে! তাই নামের মতই মাঙ্গাটি ৩৬০ ডিগ্রী ঘুরে প্রচলিত নিয়মেই শেষ হয়েছে। মারুইকে খারাপ লাগা বা ভালো লাগা দুটার সম্ভবনাই অনেক বেশি। তবে যে চরিত্রটিকে সবাই পছন্দ করতে পারবে সে হল এবিহারা আকানে। প্রথমে সে যে রকম মানুষ হিসেবে ধারণা দিবে পরে দেখা যাবে মোটেও সে তেমন না। আকানে নায়িকা হলেই বোধ হয় বেশি ভালো হত।
কাহিনীর মাঝ থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক নাটকীয়তা আছে। আমার কাছে একটি বিষয় সবচেয়ে মজা লেগেছে। আমরা ভক্তরা কোন সিরিজে কোন কিছু পছন্দ না হলে কিংবা বুঝাই যায় হবে এমন কিছু দেখলেই অভিযোগ শুরু করি। অথবা কোন চরিত্র গল্পে প্রধান না বলে তার সাথে এমন অবিচার করা ঠিক না এসব বলে চেঁচামেচি করি। নিজেদের পছন্দমত শিপিং শুরু করি। কিন্তু আপনার ইচ্ছা যদি আসলেই পূরণ হত তাহলে কি ব্যাপারটা আসলেই ভালো হত? আপনি কি তখন আসলেই সেটা পছন্দ করতেন? এই জিনিসটা হারে হারে টের পাবেন এই মাঙ্গাটি পড়লে। শুরুর দিকে কমেন্ট সেকশনে মানুষকে যেটা সমর্থন করতে দেখেছি পরে সত্যি সত্যি সেটা ঘটতে দেখে আবার সেটা নিয়ে দুয়ো দিতে দেখেছি। পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে বিনোদন লেগেছে! সাধারণ এই প্রথা একটুআধটু ভাঙ্গার জন্যেই বোধ হয় আমার উপভোগ করা হয়েছিল বেশ। তবে শেষে গিয়ে অনেক তাড়াহুড়া করে গল্পটি শেষ করা হয়েছে। এর চেয়ে আরেকটু সময় নিয়ে, সহজ একটা সমাপ্তি না দিয়ে আরেকটু নাটক করে যেরকম হওয়া উচিৎ ঠিক সেরকম করে কাহিনীর ইতি টানাটাই ভালো হত। হঠাৎ করেই কাহিনী শেষ হয়ে যায়।
৩৬০ ডিগ্রীস ম্যাটেরিয়াল কেন আমার এত ভালো লেগেছে এখনো আমি ঠিক ঠাওরে উঠতে পারি না। কারণ এর কিছু কিছু জিনিস পছন্দ করাটাই আসলে ভুল। আমারে মারুইকে ভালো লেগেছে, এই মাঙ্গাটি ভালো লেগেছে এবং এই বিষয়টা ভাবতেও আমি অস্বচ্ছন্দ বোধ করি। আমার মধ্যে অপরাধ বোধ কাজ করে!! সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এটি বিতর্কমূলক একটি শৌজো মাঙ্গা। শৌজো মাঙ্গার বিশাল ভক্ত হলে তবেই এটা পড়ার কথা চিন্তা করতে পারেন। তারপরেও আপনার ভালো লাগবে না খুব খারাপ লাগবে তা পড়ার পরেই বুঝতে পারবেন।

