Freedom [রিভিউ] — Tahsin Faruque Aninda

Freedom 0

Freedom
Type: OVA
Episode: 7 + 1 Prologue
Genre: Action, Adventure, Sci-Fi, Space

পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক সময় + স্পেস ট্রাভেল + Akira, এই ধরণের একটা আনিমের কম্বিনেশন খুঁজছেন? অপেক্ষা না করে দেখে ফেলুন “ফ্রিডম” নামের ৭ পর্বের এই ওভিএ। আকিরার মাঙ্গাকা/ডিরেক্টর Katsuhiro Otomo-এর আরেক কাজ এটি, তবে এখানে তাঁর ভূমিকা শুধুমাত্র Storyboard, Mechanical Design আর Character Design-এই সীমাবদ্ধ। তবে এর কারণেই আনিমেটিতে আকিরার ছাপ পাওয়া যায়।

Freedom 2

মানুষ চাঁদে মানব-কলোনি তৈরির পরে কোন এক সময়ে এক দুর্ঘটনার কারণে একটি স্পেস স্টেশন পৃথিবীতে পতিত হয়, আর পৃথিবীতে মানবসভ্যতা ধ্বংসকারী এক বিপর্যয় ঘটে। চাঁদে থেকে যাওয়ারা তৈরি করে ‘ইডেন’ নামের এক মেগালোপোলিস।
এখানেই আমাদের গল্পের নায়ক তাকেরুকে দেখা যায় অন্যান্য স্ট্রিট গ্যাং-এর সদস্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে হোভারক্রাফট রেস চালাতে। একদিন ঘটনাক্রমে ‘ইডেন’-এর আসল রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে সে, আর সেখান থেকে গল্প ভিন্ন এক মোড় নিয়ে ফেলে।

Freedom 3

আকিরার সাথে ক্যারেক্টার ডিজাইনই শুধু নয়, বরং বাইক রেসের সাথে এখানে হোভারক্র্যাফট রেস, স্ট্রিট গ্যাং – ইত্যাদি কিছু কিছু ব্যাপারও আকিরার মত লাগে। তবে গল্পের ধরণটা একদমই অন্যরকম হবার কারণে সেই ব্যাপারগুলি উপভোগ্যই হয়ে উঠে।

3D আর 2D-এর অদ্ভুত সুন্দর মিশ্রণ আর ব্যবহার অ্যানিমেশনকে চমৎকার করে তুলেছে। ক্যারেক্টারগুলি সব CGI-এর, তবে CGI-এর ভাল ব্যবহার হয়েছে এই আনিমেতে, যার কারণে দেখতেও আরাম লেগেছে। অন্যদিকে ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট মুগ্ধ করার মত।

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুবই খুবই সুন্দর, আর ওপেনিং ও এন্ডিং গান দুইটা আমার অনেক পছন্দের।

ক্যারেক্টার তৈরি অনেক ভালমত হয়েছে এই আনিমেতে। ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট সময় নিয়ে হয়েছে বলে খুব ভালমত ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে সবাইকে।

Freedom 5

গল্পটি অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার হলেও স্লাইস অভ লাইফ উপাদানও আছে অনেক, আর Space সম্পর্কিত আনিমেতে যেটা আসলে অনেক বেশি দরকার বলে মনে হয়। ধীরস্থির মুহুর্তগুলা মনে শান্তি দেবার মত, আবার অ্যাকশনের মুহুর্তগুলি অস্থিরতা উপহার দিতে পারে।

সব মিলিয়ে বলবো, ৭টি মাত্র পর্বের এই ওভিএ সিরিজ দেখার জন্যে অবশ্যই সময় বের করে নিবেন। এরকম হিডেন জেম দেখার জন্যে সময় না থাকলেও সময় বের করে নেওয়া উচিৎ।

Freedom 4

আকিরা: জাপানের ইতিহাসের আয়না — Anirban Mukherjee

আকিরা নিয়ে আমার দু-পয়সা

প্রথমত ,”সিনেমা vs মাঙগা ” এটা সম্পূন ফালতু তুলনা আমার কাছে,কারন যে জিনিসটাকে বেস করে সিনেমা বানানো হয়(সাহিত্য অথবা মাঙগা) সেটা অনেকটা আর্ট ক্লাসের ছবি আঁকার জন্য সাজানো মডেলের মত,সিনেমা হচ্ছে মডেল দেখে আঁকা চিত্রটা । আর অবশ্যই, আমরা যদি একই মডেল দিয়ে ,তিশিয়ান, পিকাসো এবং কোন পোস্ট মর্ডান চিত্রকরকে বসিয়ে দি ছবিটা আঁকতে ,তবে আউটপুট তিনটিতেই আলাদা হবে ।এখানেই সিনেমা পরিচালকের কৃতিত্ব,যেমনটা মডেল দেখে আঁকা কোন চিত্রকরের ।সেজন্য কলা মাধ্যম হিসাবে ,সিনেমাকে ,সাহিত্যের চেয়ে চিত্রশিল্পের সবচেয়ে কাছের মনে হয়,আমার ।

দুটো আলাদা মাধ্যম ,এবং দুটো আলাদা মাধ্যমে পরিচালক এবং লেখক (দুজনা একই লোক) দুটো আলাদা ভাবে জিনিসটা দেখাতে চেয়েছে ।
আমার মনে হয় কাটসুও ওতোমো সিনেমাতে সেটা সবচেয়ে ভালো সফল হয়েছে ,
আসলে গোটা সিনেমাটা হচ্ছে জাপানের ইতিহাসের আয়না। জিনিসটা ব্যাখ্যা করা যাক ,

1/সিনেমার প্রথমে আকিরার ধংস হয়ে যাওয়া হচ্ছে হিরোসিমা আর নাগাসাকির রুপক(মেটাফোর)।
2/তারপর নিউ টোকিও গঠন, সেখানে একটা আপাত উন্নত কিন্তু ভেতরে ধংস হওয়া ভোগবাদী সমাজ গঠন হচ্ছে,সেটা 1945 থেকে 19985 এর জাপানের প্রচণ্ড উন্নত অর্থনীতি অগ্রগতির প্রতীক(লক্ষ রাখবেন সিনেমাতে যে 2019 সালে অলিম্পিক দেখানো হয়েছে সেটা 1964 টোকিও অলিম্পিক এর প্রতীক)।

3/আপাত গনতন্ত্রের প্রভাব থাকলেও নিউ টোকিও এবং জাপানে মিলিটারির প্রভাব খুব ছিলো,এই মিলিটারি আবার আকিরাকে সৃষ্টির জন্য দায়ী ।এই মিলিটারি হচ্ছে আমেরিকার প্রতীক,যে আবার হিরোসিমা, নাগাসাকির জন্য দায়ী কিন্তু যুদ্ধে জিতে যাওয়ার জন্য পোস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জাপানের মিলিটারি গঠন ,সংবিধান প্রনয়ন এবং অন্য অনেক ক্ষেত্রেই ভূমিকা নেয়,যেমন নিউ টোকিওর মিলিটারি আকিরার জন্য দায়ী হয়েও পোস্ট আকিরা ঘটনার পর সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদের নির্ভর যোগ্যতা পেয়েছিল ।
4/ তেটসুও এর বিশাল মাংসের ডেলাতে পরিনত হওয়া এবং তার জন্য হওয়া ক্ষতি এগুলো হচ্ছে 1980s এর জাপানের অর্থনৈতিক বাবলস ধংস হওয়ার প্রতীক,যে অর্থনৈতিক বাবলসটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৈরি হয় ।এবং তেটসুও- পরবর্তী নিউ টোকিও এর সঙ্গে আমরা দর্শকরা 1990 দশক এর জাপানকে মিলিয়ে দিতে পারি,যাকে জাপানের লস্ট জেনারেশন বলে,যেটা 1980 দশকের অর্থনৈতিক অস্তিরতা থেকে উঠছে এবং কিন্তু চারিদিকে রুগন চেহারা।
মাঙগাতে অনেক ঘটনা আছে যেগুলো গল্প হিসাবে শুধুই গল্প, কোন বাস্তব ঘটনাকে দেখতে পাচ্ছি না ।সেজন্য সিনেমাটা হয়ে উঠেছে জাপানের ইতিহাসের আয়না ।

Akira

সিনেমাতে অনেক ধর্মীয় রেফারেন্স আছে , অন্য সিনেমার রেফারেন্সও ।যেমন প্রথম দিকে blade runner এর রেফারেন্স বা শেষে কুরবিকের 2001 এর সঙ্গে সঙ্গতি রাখা ।
সব ধরনেই ধর্মে এইরকম একটা মত আছে ,যে ধর্মে বিশ্বাসী প্রবল ভাবে ঈশ্বরের অনুসন্ধান চালাতে লাগল তখন দেখল সে আর ঈশ্বর আলাদা নয়,যেমন সুফিবাদ ।ফেসবুকে সুফিবাদ নিয়ে একটা পোস্টে কদিন আগে একজন লিখেছিলো যে সুফিবাদকে পাখির রুপক দিয়ে ব্যাখা করা যায়, পাখিরা সবাই তাদের বাদশা সী মোরগের কাছে যাচ্ছিল তাদের দলপতি হুদহুদের নেতৃত্বে ,যখন পৌছল তখন দেখল তারা নিজেরাই সবাই এক এক জন সী মোরগ হয়ে গেছে ।
কল্প বিজ্ঞানের জগতে একটা জনপ্রিয় অংশ হচ্ছে পোস্টহিউম্যানের কনসেপ্ট ।বাঁদর জাতীয় প্রানী থেকে মানুষের বিবর্তন ,এবং সেখান থেকে আরও আরও সুপিরিয়র কিছু ঈশ্বর প্রতীম এনট্রিটিতে বিবর্তন ।সেজন্য কুরবিকের 2001 এ ডেভিড ব্যোওম্যান ,আর একটা ঈশ্বর প্রতীম সভ্যতার সাহায্যে অসীম শক্তিশালী স্টার চাইল্ডে পরিনত হয়, যা আকিরাতে, আকিরার সাহায্যে তেটসুও এর ঈশ্বর হওয়ার মতনই ।মাঝে সিনেমার যা বিষয়বস্তু ,আকিরাকে খোঁজা,সেটা আমাদের মানতিকুত তৈয়ায়ের পাখিদের সী মোরগের খোঁজকেই মনে করায়,অথবা আমাদের রক্ত পিচ্ছিল মানবসভ্যতাকে ।

লেখাটা লিখতে একটা ভালো ভিডিও রিভিউ এর সাহায্য পেয়েছিলাম,যেটা অনেকদিন আগে দেখার হেতু হারিয়ে ফেলেছি ।নাহলে ভিডিওটার লিংক দিতাম ।

Movie Time With Yami – 63

japan akira knight motor moto science fiction anime kaneda 1500x974 wallpaper_www.wall321.com_12

Name: Akira
Duration: 2 hr. 4 min.
MAL Score: 8.13
Ranked: 364
Genres: Action, Adventure, Horror, Military, Sci-Fi, Supernatural

এই মুভিটির রিভিউ/রিএকশন খোঁজ করার সময় আমি দেখেছি, দর্শকদের মাঝে এটি নিয়ে বেশ মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ এটাকে অন্যতম সেরা মুভিগুলোর একটি বলেন, তো কেউ আবার এটিকে তেমন একটা পছন্দ করেন না। তবে একটা কথা সত্যি, এই মুভিটি আসলেই অ্যানিমেটেড মুভির জগতে একটি মাইলফলকের মত, এবং ২৭ বছর আগের একটি ভবিষ্যত নির্ভর সাই-ফাই মুভি হিসেবে এর এক্সিকিউশন চমৎকার।

মুভিটি ২৭ বছর আগে তৈরি হলেও, এর পটভূমি আজ থেকে চার বছর পরে, ২০১৯ সালের জাপানে। ওয়ার্ল্ড ওয়ার ৩ এর পরে পেরিয়ে গেছে ৩১ টি বছর। জাপানে এখন চলছে অরাজকতা, দেশের শাসক শ্রেণীর মধ্যেও চলছে বিভিন্ন ধরণের গোপন এক্সপেরিমেন্ট।

এরকম সময়ে একটি তরুণ বাইকার গ্যাং এর সদস্য হঠাৎ মিলিটারীর এক্সপেরিমেন্টাল গিনিপিগে পরিণত হয়। তারা তার ওপরে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষমতা বৃদ্ধির পরীক্ষা চালায়। কিন্তু এই গবেষণা পরবর্তীতে ডেকে আনে এক ভয়াবহ বিপর্যয়, যা ঐ শুধু ঐ বাইকার গ্যাংকেই নয়, পুরো শহরকেই বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়।

মুভিটির কাহিনী ভয়াবহ রকমের জটিল, আমি প্রথমবার দেখে কাহিনীর পুরোপুরি বুঝতেই পারিনি, অন্যদের সাথে আলোচনা করে এবং রিভিউ/এক্সপ্লানেশন পড়ে বোঝা লেগেছে। তাই মুভিটি দেখার পরে আমি বুঝতে পারছিলাম না রিএকশন কি হওয়া উচিৎ। কিন্তু পরে এটি নিয়ে গবেষণা করার পরে কাহিনীটা আমার খুব ভাল লেগেছে, তাই আমি এটা সবাইকে দেখতে সাজেস্ট করি। আশির দশকের অ্যানিমে, তাই আর্টওয়ার্কটাও ঐ আমলের মতই, অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে, তবে কাহিনীর জন্যে এটা কনসিডার করা যায়। সাউন্ডট্র্যাক আমার কাছে মোটামুটি লেগেছে, আর শেষের দিকে একটা বিরক্তিকর শব্দ বেশ অনেকক্ষণ ধরে চলে, সেটা বেশ কানে লেগেছিল।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Akira

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!