মাঙ্গা রেকমেন্ডেশনঃ Koe no Katachi, Onani Master Kurosawa ও Aku no Hana — Rezo D. Skylight

মাঙ্গা রেকমেন্ডেশনঃ Koe no Katachi, Onani Master KurosawaAku no Hana

মানুষ তার নিজেকে বদলে কিভাবে নতুন মানুষে পরিণত হতে পারে তার উজ্জ্বল উদাহরণ Koe no Katachi, Onani Master Kurosawa এবং Aku no Hana এই তিনটি মাঙ্গায় খুব ভালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই মাঙ্গাগুলো না পড়ে থাকলে পড়তে পারেন। পড়লে অবশ্যই আপনার ভালো লাগবে। এমনকি আপনার ফেভরাইট মাঙ্গাতেও পরিণত হতে পারে। যে কোন ‘স্লাইস অফ লাইফ’ জনরার ফ্যানদের জন্য এগুলো ‘Must Read’ মাঙ্গা।

3 in 1

Koe no Katachi:
প্রথমে Koe no Katachi এর কথায় আসি। Koe no Katachi তে প্রথমে কিছুটা সাইকোলজিকাল টাইপের থাকে। পরবর্তীতে অনেকটা লাইট হার্টেড হয়ে যায়। তবে এর প্রতিটি ক্যারেক্টারই ইন্টারেস্টিং, যদিও দুই একটা অত্যন্ত বিরক্তিকর ক্যারেক্টার রয়েছে। এই মাঙ্গায় বুলি করা ব্যাপারটাকে ভালো ভাবে দেখানো হয়েছে। অবশ্য পরবর্তীতে গিয়ে প্রত্যেকের মধ্যেই পরিবর্তন আসে আর সবাই সবাইকে বুঝতে শুরু করে। সবমিলিয়ে, Koe no Katachi বেশ ভালো একটা মাঙ্গা। এন্ডিংও বেশ ভালো। তাই এই মাঙ্গাটা একবার পড়ে দেখুন, অবশ্যই ভালো লাগবে। আর্টও বেশ ভালো। আর সামনে বছর Kyoani এর এনিমে মুভি অ্যাডাপশন নিয়ে আসছে, এখন তার অপেক্ষায় বসে আছি।

চ্যাপ্টারঃ ৬৪
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.৬৭
আমার রেটিংঃ ১০/১০

Onani Master Kurosawa:
Onani Master Kurosawa কিছুটা বেতিক্রমধর্মী মাঙ্গা (Doujinshi)। প্রথম চ্যাপ্টার পড়ে অনেকেই এর থিম দেখে পিছপা হতে পারে। কিন্তুু আপনারা যদি ধৈর্য নিয়ে পুরো মাঙ্গাটা পড়তে পারেন তাহলে নিঃসন্দেহে এই মাঙ্গা আপনার অন্যতম ফেভরাইট স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গায় পরিণত হবে। তবে মাঙ্গার মেইন ক্যারেক্টার কুরোসাওয়া বেশ ইন্টারেস্টিং। তার চরিত্রের সাথে অনেকটাই ‘ডেথ নোট’ এর লাইটের মিল আছে। মাঙ্গার শুরুতে কুরোসাওয়া ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার হয় এবং পরবর্তীতে নানা ধরনের কুকর্ম করতে থাকে। কিন্তুু একটা সময়ে তার ভুল বুঝতে পারে এবং সে নিজেকে পরিবর্তনের চেষ্টা করে। এভাবে Onani Master Kurosawa-র কাহিনী খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। এর এন্ডিং খুব চমৎকার। মাঙ্গার আর্ট কিছুটা বাজে। তবে আমার কাছে ওভারওল মাঙ্গাটা খুব ভালো লেগেছে।

চ্যাপ্টারঃ ৩১
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.৬৪
আমার রেটিংঃ ১০/১০

Aku no Hana:
উপরের দুইটি মাঙ্গা থেকে Aku no Hana সবচেয়ে বেতিক্রম। তবে এর কাহিনীর শুরুটাও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে, যা অনেকটা Onani Master Kurosawa-র মতো। তবে বাকি কাহিনী সম্পূর্ণ আলাদা। এর সাইকোলজিকাল এলিমেন্ট তুলুনামূলক অনেক বেশি। তাই সাইকোলজিকাল যাদের ভালো লাগে না তাদের না পড়াই ভালো। এই মাঙ্গা প্রথমে আমার কাছে খুব ডিস্টার্বিং মনে হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে খুব মেজাজ গরম হয়েছিল, মনে হয়েছিল ড্রপ মারি। কিন্তুু শেষ করার পর বুঝলাম মাঙ্গাটা আসলে কত ভালো। অর্থাৎ শুরুটা কিছুটা বিরক্তিকর হলেও শেষমেশ Aku no Hana খুব ভালো একটা মাঙ্গায় পরিণত হয়। কিছু ক্যারেক্টার এখানে খুব বিরক্তিকর ছিল। তারপরেও মাঙ্গার শেষ পর্যায়ে গিয়ে সবাইকে ভালো লেগেছে। এর ১৩ এপিসোডের এনিমে অ্যাডাপশনও আছে। কিন্তুু ‘Rotoscoping animation’ ব্যাবহার করার জন্যে অ্যাডাপশন খুব বাজে হয়েছে। তাই এনিমে না দেখাই ভালো। মাঙ্গার আর্ট অনেক ভালো।

চ্যাপ্টারঃ ৫৮
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.২০
আমার রেটিংঃ ১০/১০

যারা একটু বেতিক্রমধর্মী স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গা খুঁজছেন তারা এই তিনটি মাঙ্গা পড়ে দেখতে পারেন। আমার কাছে এই তিনটি মাঙ্গার প্রতিটিই অনেক ভালো লেগেছে। বলতে গেলে এই তিনটি মাঙ্গাই আমার পড়া সেরা স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গার তালিকায় থাকবে।

Aku no Hana (Flowers of Evil) মাঙ্গা রিএকশন — Farhad Mohsin

নোট: আপনি যদি শুধু আনিমে দেখে থাকেন (যেটার সিজন টু বেরোতেও পারে), তাহলে আপনি মাঙ্গার কাহিনীর হয়ত ওয়ান থার্ডের মত দেখেছেন। আমি রিয়েকশন পোস্ট আন-স্পয়লারিশ রাখার চেষ্টা করব, তারপরেও কিছু স্পয়েল করে দিলে দুঃখিত।

প্রথমত, এটা একটা coming-of-age গল্প, সেইখানে অস্বীকার করার কিছু নাই। কিন্তু এটা আপনার এভারেজ কামিং-অফ-এজ মাঙ্গা না। সিনোপ্সিস দেখতে গেলে আপনি দেখবেন সেখানে লেখা –
কাসুগা তাকাও, যে অনেক গভীর সাহিত্যিক জিনিস-পত্র পড়ে। সে ক্লাসের সায়েকি নামে এক মেয়েকে পছন্দ করে, অনেকটা অবসেশনের পর্যায়েই, এবং একদিন হঠাত ঝোঁকের মাথায় সে সায়েকির gym clothes চুরি করে বসে। এবং এই সময়েই সে ধরা পড়ে ক্লাসের ‘সাইকো’ মেয়ে নাকামুরার কাছে। এখানে শুরু হয় নাকামুরার ব্ল্যাকমেইল।

আকু নো হানার সিনোপ্সিস পড়ে কোনভাবেই প্রকৃত গল্পের টোন সম্বন্ধে আইডিয়া পাওয়া সম্ভব না। পড়ে মনে হতে পারে একটা পার্ভার্টেড ধরণের গল্প হতে পারে। কিন্তু পুরো টোনটা আসলেই অন্যরকম। মাঙ্গায় অনেক বেশি লিটারেসি রেফারেন্স আছে, প্রায় কিছুই কমন পড়ে নি। তবে টোনটা, কমন anarchic টোনটা ধরা খুব একটা কঠিন না। আর সেটাই গল্পকে মূলত ড্রাইভ করে নিয়ে যায়। অন্যতম মূল চরিত্র, নাকামুরার মত চরিত্র হিস্ট্রিতে, ফিলসফিতে কম দেখা যায় না। যেন সে অনেক কাছ থেকে সোসাইটিকে দেখেছে। সমাজের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, জীবিকার জন্য তাড়না, একটা রুটিনময় জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একইভাবে চলা, যে শহরে জন্ম সে শহর থেকে এক পাও বাইরে না দেওয়া, এসব কিছুই যেন তার কাছে অনেক অর্থহীন। আশেপাশের সকল মানুষকে তার মনে হয় ফাঁকা খোলসের মত।
এসব কিছু থেকেই বের হওয়ার ইচ্ছা তার। পারলে সে সাথে বের করে আনবে তাকাও কে। গল্পের প্রথম অংশ মূলত তার “Other side” এ যাওয়ার ইচ্ছা নিয়েই। আশেপাশের এই নর্দমার কীটদের মধ্য থেকে বের হয়ে, সে চলে যেতে চায় অন্য পারে। যেখানে এসব থাকবে না তার আশেপাশে।

চরিত্রায়নকে আমি বেশিই ভালো বলব। আমি পড়তে পড়তে মাঝে মাঝেই চিন্তায় পড়ে যেতাম, কোন চরিত্রটা বেশি ‘অসহ্য’, ক্যাওটিক। মাঙ্গাকা যা করতে চেয়েছেন ভালোমতই করেছেন মনে হয়। মূল চরিত্র, তাকাওকে একটা বিশাল সময় ধরে স্পাইনলেস একটা এম্পটি ক্রিচার ছাড়া কিছু মনে হয় না। মোটামোটিভাবে মাঙ্গার দ্বিতীয় ভাগের একটা সময়ের আগ পর্যন্ত কখনোই আমার তারে ভাল্লাগে নাই।

আর্টওয়ার্ক প্রথম দিকে জেনেরিক ও মিনিমাল ছিল। খুব আহামরি কিছু না। ধীরে ধীরে শেষের দিকে গিয়ে আর্টওয়ার্ক বেশ খানিকটা ইম্প্রুভ করে। তবে পুরো সময়েই যে জিনিসটা বেশ ভালো নজর কেড়েছে, তা হল ভিজুয়ালস।

আর শেষে এনজয়মেন্টের দিক দিয়ে বলব, পড়তে পড়তে যতই মেজাজ গরম হোক, রেখে দেওয়ার মত ছিল না। আকর্ষণ ধরে রেখেছে শেষ পর্যন্ত। গল্পের দ্বিতীয় পার্ট প্রথম পার্টের তুলনায় খানিকটা বেশি soothing ছিল, পরিবর্তনটা ভাল্লাগসে। পুরো গল্পে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্রের আবির্ভাবও মূলত এই সময়েই হয়।

সব মিলিয়ে বেশ বেশ ভালো একটা মাঙ্গা আকু নো হানা। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে সবার জন্য না। আপনার যদি একটু ডার্ক ধরণের সাইকোলজিকাল গল্প ভালো লেগে থাকে তাহলে ট্রাই করে দেখতে পারেন। এ কথা মনে হয় এর আগে বলেছিলাম Goodnight Punpun এর ব্যাপারে।

MAL rating:
manga – 8.15
anime – 7.19

আমার মাঙ্গা রেটিং – 8.5