Anohana: The Flower We Saw That Day [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Anohana 1

এনিমে: Anohana: The Flower We Saw That Day
পর্ব: ১১
স্টুডিও: A-1 Pictures
মুক্তি: ২০১১
MAL রেটিং: ৮.৬

কাহিনী সংক্ষেপ: সিক্সস্থ গ্রেডে পড়া ছয় কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে কাহিনীর শুরু। ছয় বন্ধুর তিনজন ছেলে, তিনজন মেয়ে। তারা একে অপরকে ডাক নামেই ডাকে। নাম: জিনতা, মেনমা, আনারু, সুরুকু, ইয়োকিয়াতসু ও পোপ্পো। সমবয়সী আর সব ছেলেমেয়েদের মত তারাও মাঠে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। পুরাতন এক কাঠের কেবিনে তাদের সংগঠনের হেডকোয়ার্টার। তাদের দলের নাম: Super Peace Busters.

অনেকটা তিন গোয়েন্দা বা ফেমাস ফাইভের কথা মনে পড়ছে না? চলুন দেখে আসি এরপর কী হয়।

হুট করে দলের সবচেয়ে উচ্ছল সদস্য মেনমা রহস্যজনক ভাবে মারা যায়। মনমালিন্যে ভেঙ্গে যায় সুপার পিস বাস্টারস। বাকী পাঁচ বন্ধুকে জোড়া দেবার জন্য মেনমা আর রইলো না, সবাই চলে গেল যার যার পথে।

কিন্তু কাহিনীর এখানেই শেষ নয়। দলের নেতা জিনতা হাইস্কুল ফাঁকি দিয়ে অলস দুপুর কাটাচ্ছিল একদিন বসে বসে। হুট করে তার ঘরে এসে হাজির হয় মেনমা! জিনতা তো অবাক, প্রথমে ভেবেছিল অতিরিক্ত গরমের কারণে মরীচিকা বুঝি। পরে ভূত মনে করে ভয়ই পেয়েছিল!

মেনমা আসলে ভূতই বটে। পরকাল থেকেই এসেছে সে। তবে কেনই বা তার পরকাল থেকে এই ইহলোকে আসার দরকার পড়লো! কারণ একটাই: মেনমার শেষ আবদার! মেনমা জানায় যে বেঁচে থাকতে তার একটা অপূর্ণ শখ ছিল। সেটা পূরণ না হওয়ায় সে পরকালে ফিরে যেতে পারছে না অতৃপ্ত আত্মা বলে। জিনতার প্রতি তার একটাই অনুরোধ, যেভাবেই হোক তার এই উইশ পূরণ করতে হবে। মজার ব্যাপার হল সেই ইচ্ছের কথা মেনমা নিজেই মনে করতে পারছে না!

অনুরোধটা কঠিন হয়ে যায় জিনতার কাছে। সুপার পিস বাস্টারসের সবাই প্রায় বিচ্ছিন্ন। সবাইকে একই ছাতার নিচে আনা সম্ভব হবে না সহজে। আরো বড় বিপদ হল মেনমাকে জিনতা ছাড়া আর কেউ দেখতে পায় না। এখন কিভাবে জিনতা বাকী চারজনকে মেনমার কথা বিশ্বাস করাবে! তাই বলে কী বেচারী মেনমার শেষ ইচ্ছাটা পূরণ হবে না!

জানতে হলে এনিমেটার এগারোটা পর্ব পেরিয়ে যেতে হবে মন শক্ত করে।

Anohana 2

প্রতিক্রিয়া:

রোমান্টিক এনিমে তো এই জীবনে কম দেখা হল না। বেশীরভাগ এনিমেতে বন্ধুত্ব জিনিসটা প্রধান থিম থাকে না। বন্ধুতা একপর্যায়ে রাইভাল বা প্রেমের সম্পর্কে গিয়ে গড়ায় জাপানিজ কালচারে। সেই জায়গায় আনোহানা একটি উজ্জ্বল ব্যতিক্রমী উদাহরণ। আনোহানার আগাগোড়া থিমটাই গড়ে উঠেছে বন্ধুত্বকে নিয়ে।

বাকী চার বন্ধুকে একত্র করতে গিয়ে জিনতা আর মেনমাকে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তা অত্যন্ত বাস্তবিক। না বলা অনেক কথা-আবেগ-অনুভূতি অনেক সময় বন্ধুত্বের কাল হয়ে দাঁড়ায়। সুপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাও অনেক সময় দেয়াল তুলে দেয় বন্ধুত্বের মধ্যে। অতিরিক্ত অনুরক্ততা ও লুকিয়ে রাখা ভালবাসা যথেষ্ট একটা সার্কেলের জমাট দেয়ালে ফাটল ধরাতে। কুড়ে কুড়ে খাওয়া অপরাধবোধের কারণে যে অনেকে নিজের বন্ধুদের ছেড়ে চলে যায় তার উদাহরণ অনেক আছে। আর হীনম্মন্যতার মত বড় শত্রু বুঝি বন্ধুত্বের আর নেই।

তো আনোহানার চরিত্রগুলোকে উপরের মোটামুটি সবগুলা সমস্যাতেই ভুগতে দেখা যায়। এনিমেটা শুধুই বন্ধুত্বকে নিয়ে। এনিমেটা শুধুমাত্র এক মৃত বন্ধুর অসম্ভব ইচ্ছাকে পূরণ করার অনেকগুলা মানুষের আত্মগরিমা বিসর্জনের গল্প। ভুল বোঝাবুঝি হতে হতে যখন জিনতার সব প্রচেষ্টা যখন ভেঙে পড়ার যোগাড় তখন বন্ধুত্বের সুতোর টানে সবাই এক হয়। সেই এক হওয়া কি ক্ষণস্থায়ী হবে নাকি চিরস্থায়ী হবে তা বলে দেবে এনিমের গল্পটা। মেনমার অপূর্ণ ইচ্ছা কি আসলেই তাদের এত এত বিসর্জনের যোগ্য কিনা তাও বলে দেবে গল্পটা। সাথে বের আসবে ছয় বন্ধুর মনে লুকিয়ে থাকা যত খেদ-ক্ষোভ-অভিযোগ-বিরাগ আর ভালবাসা।

ব্যক্তিগতভাবে বন্ধুত্ব জিনিসটা মূল থিম হওয়ায় আনোহানা দেখতে আমি আগ্রহী হয়েছিলাম। যদিও চেইন রিয়্যাকশনের মত প্রেমের ব্যাপার ছিল তবে তা বেশী বাঁধা দেয় নি গল্পটা উপভোগের রাস্তায়। এনিমেটা দেখার পর ভয়ানক ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল অন্তরের ভেতরটা। ইচ্ছে করছিল বন্ধুদের সাথে এতদিন যা যা অন্যায় করেছি তার জন্য করজোরে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আসলেই আনোহানা আপনাকে এই চিন্তার যোগান দেবে, ইচ্ছে করবে লুকিয়ে রাখা সকল অপরাধবোধের কথা বন্ধুদের বলে দিতে। সেটা যে অবশ্যই একটা খাঁটি কাজ তা শেষ পর্বের সমাপ্তির পর একটা অদ্ভুত পূর্ণতা অনুভবের মাধ্যমে উপলদ্ধিও হবে। দু ফোঁটা অশ্রু গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লেও একে চেপে রাখা উচিত হবে না।

এনিমের গল্প লিখে দিয়েছেন মারি ওকাদা যিনি True Tears, Nagi no Asukara, Anthem of the Heart, Hanasaku Iroha ইত্যাদি এনিমের গল্প লিখে দেবার জন্য খ্যাত। গাদা গাদা মিডিওকোর এনিমের মধ্যে আনোহানার মত কিছু এনিমেই A-1 Pictures এর সবেধন নীলমণি। ভাল কাজ দেখিয়েছে A-1 তা বলতেই হবে। পুরো এনিমেটার অ্যানিমেশনেই একটা আলোকিত ভাব ছিল। বিশেষ করে দিনের বেলার দৃশ্যগুলা ছিল উজ্জ্বল ও মনমাতানো। জঙ্গল, কেবিন, নদী, ব্রিজ, মাঠঘাটের দৃশ্যের অ্যানিমেশন এনিমেটার ইমোশনাল সাইডটাকে ভালভাবে সাহায্য করেছে। রাতের দৃশ্যগুলা আরেকটু ভাল হতে পারতো বলে আমার মতামত। তবে ফায়ারওয়ার্কসের পর্বটার বেলায় এই অভিযোগ খাটবে না।

আর আনোহানা যে জিনিসটার জন্য বিখ্যাত তা হল এর ওপেনিং আর এন্ডিং সং। Aoi Shiori
ওপেনিং সংটা বারবার দেখতাম, বিশেষ করে বাকী পাঁচ বন্ধুর মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা মেনমার ফুল হয়ে যাওয়ার জায়গাটা। গ্যালিলিও গ্যালিলাই ব্যান্ডটা আর নেই, তাদের ভোকালের আরো দুয়েকটা গান শুনেছি, তবে আওই শিয়োরিই সেরা আমার মতে।

এখন আসি এন্ডিং সংয়ের বেলায়। Secret Base Kimi ga Kureta mono- 10 years after ver. নামের এই গানটা শুনে অন্তর কাঁদে নাই এমন দর্শক মনে হয় আর পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রতিটা পর্বের একেবারে শেষে এমন জায়গায় গানটা বাজানো শুরু করে দিত যে বুকটা কেঁপে উঠতো প্রতিবারই। শেষ পর্বে ফুল ভার্সনটাই ছেড়ে দেওয়ার পর আর সহ্য না করতে পেরে পজ করে দিয়েছিলাম ভিডিও প্লেয়ার। এনিমের তিন নারী চরিত্রের তিন হেভিওয়েট ভয়েস অ্যাক্ট্রেস কায়ানো আই, তোমাতসু হারুকা আর হায়ামি সাওরির গাওয়া এই জাদুকরী গানের তালে তালে পিচ্চি মেনমা, আনারু আর সুরুকোকে দেখতে খুব ভাল লাগতো। একটা লাইভ পারফরমেন্স আছে এই গানের, দেখলে আবেগে ভেসে যেতে হয়।

আসলে আনোহানা ঐ ধরণের এনিমে যার হয়তো বিধ্বংসী কোন প্লট নেই, ডিরেক্টর সাহেবের ক্যামেরার কারিকুরিও নেই অতটা, মাকাতো শিনকাইয়ের মত সিনেমাফটোগ্রাফি নেই, সিরিয়াস বা ম্যাচিউরড থিমও অল্পই। তারপরেও ইমোশনাল রাইড আর সুন্দর সমাপ্তির জন্য এনিমেটা ভক্তদের মনে মনে অনেক অনেক দিন অক্ষয় হয়ে থাকবে তা নিশ্চিত হয়েই বলা যায়।

Anohana 3

Anohana: The Flower We Saw That Day [এনিমে রিভিউ] — Mehedi Zaman

এনিমে রিভিউ
Anohana: The Flower We Saw That Day
(Ano Hi Mita Hana no Namae wo Bokutachi wa Mada Shiranai)

পর্বঃ ১১
জনরাঃ জীবনের খণ্ডাংশ (Slice Of Life), অতিপ্রাকৃত (Supernatural)।

শৈশব, এক অসাধারণ আনন্দময় সময় আমাদের সকলের জন্য। এ সময় আমাদের থাকে কিছু অন্তরঙ্গ বন্ধু যাদের নিয়ে আমরা গড়ে তুলি আমাদের মনের মতো একটি দল। এই দলের জন্য সকলে মিলে ঠিক করি একটি আজগুবি নাম এবং ওই দলের মিটিং এর জন্য থাকে এক গুপ্ত স্থান। কিন্তু আমাদের সবার ক্ষেত্রেই কি শৈশব অত্যন্ত আনন্দের ছিল? আমাদের এই বন্ধুদের মাঝেও কিছু বন্ধুর শৈশবে হয়ত ঘটে গেছে কোন দুর্ঘটনা। যেই ঘটনা তাদের সুখময় শৈশবকে করে তুলেছিল দুঃসপ্নময়। যদি আপনারও এমন কিছু অভিজ্ঞতা থেকে থাকে অথবা আপনিও পেতে চান সেইসব অভিজ্ঞতা, তাহলে আপনারই জন্য আনোহানা।

কাহিনীঃ
ইয়াদমি, ছোটবেলায় যে জিনতান নামে পরিচিত ছিল এখন এক ঘরকুনো কিশোর, যে ঠিকমতো স্কুলেও যায় না। কিন্তু শৈশবে এই জিনতান-ই ছিল তার অন্তরঙ্গ দলের নেতা। তার দলের নাম ছিল “সুপার পিস বাসটারস্‌” (Super Peace busters)। সময় অনেক ভালই কাটছিল সুপার পিস বাসটারস্‌ -এর, হঠাৎ সেই দলের সবচেয়ে ছোট এবং পছন্দনীয় সদস্য, মেনমা, এক দুর্ঘটনায় তার জীবন হারায়। ভেঙ্গে যায় সুপার পিস বাসটারস্‌ এবং সকলে একে অপর হতে বিছিন্ন হয়ে যায়। বেশ কিছু বছর পর মেনমার ভূত (আত্মাও বলা যায়) জিনতান এর কাছে এসে হাজির হয়। প্রথমদিকে জিনতান নিজের দেখার ভুল বলে মেনমাকে এড়িয়ে চলে, কিন্তু কিছুদিন পর সে বাধ্য হয়েই মেনমার কথা শুনে এবং জানতে পারে যে মেনমার কোন এক ইচ্ছা অপূর্ণ থাকায় সে এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে পারছে না। জিনতান তার সকল বন্ধুদের একত্র করে মেনমার অজানা ও অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণে সচেষ্ট হয়। কিন্তু সে কি পেরেছিল তার শৈশবের বন্ধুদের একত্র করে মেনমাকে মুক্তি দিতে?

চরিত্রঃ
আনোহানা এনিমেটির মূল চরিত্র ছয়জন- জিনতান, মেনমা, আনারু, ইয়ুকিয়াটসু, সুরুকো এবং পোপ্পো। এদের প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য এবং সকলের জীবনধারণই ভিন্ন। তবে এরা সবাই ছেলেবেলায় ‘সুপার পিস বাসটারস্‌’- এর সদস্য ছিল। জিনতান এর কথা আগেই বলেছি এখন অন্যদের কথা বলি। মেনমা ছিল এক মিষ্টি মেয়ে। সে সবসময় সকলের কাছে অনেক ভাল বলে পরিচিত ছিল। আনারু শৈশবে ভাল থাকলেও পরবর্তীতে কিছু অসৎ বান্ধবীর সাথে মিশে তাদের মতো আচরণ শুরু করে। তবে সে তার পুরনো বন্ধুদের সঙ্গ পেয়ে আবার নিজের আগের পরিচয় ফিরে পায়। ইয়ুকিয়াটসু ও সুরুকো দুজনেই পড়াশোনায় মনোযোগী এবং এদের চরিত্র কিছুটা একে অপরের সাথে মিলে যায়। তবে আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে পোপ্পোকে। সে হচ্ছে সবকিছু মেনে নেওয়া রকমের এবং সবসময় হাসি-তামাশায় মেতে থাকার মতো ছেলে। তো, চরিত্র ভালোভাবে তুলে ধরার দিক দিয়ে আনোহানা চমৎকার কাজ করেছে মাত্র ১১ পর্বে।

এনিমেশনঃ
এনিমেশনের ক্ষেত্রে আমার তেমন কিছু বলার নেই কারণ এর এনিমেশন বেশ সাধারণ ছিল এবং আমার এটা ভালই লেগেছে। আর্ট ও পরিবেশ বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। প্রত্যেকটি চরিত্রের মুখভঙ্গি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে মেনমার বয়স বাড়ার পরও তাকে অনেকটা একই রকম লেগেছিল যা আমার কাছে একটু অস্বাভাবিক।

সাউন্ডট্র্যাকঃ
Kimi to natsu no owari shourai no yume Ookina kibou wasurenai
Juu nen go no hachigatsu mata deaeru no wo shinjite…
আনোহানার এই এন্ডিংটা আমার অনেক প্রিয়। এই অসাধারণ গানটি গেয়েছে Kayano Ai & Tomatsu Haruka & Hayami Saori। গানটি হল secret base ~Kimi ga Kureta Mono~ (10 years after ver.) । বুঝতেই পারছেন আনোহানার সাউন্ডট্র্যাক গুলো আমার কাছে মারাত্মক লেগেছে। ওপেনিং-ও বেশ ভাল ছিল এবং প্রায় প্রত্যেকটি পর্বের শেষে এন্ডিং থিম সং বাজানোর জন্য পরের পর্ব না দেখে থাকা যায় না। এককথায়, আনোহানা তার সাউন্ডট্র্যাক এর জন্য আমার কাছে আরও বেশি ভাল লেগেছে।

আনন্দঃ
আনোহানা এনিমেটি দেখার সময় আমি ভেবেছিলাম ১১টি পর্বে কিই বা আনন্দ দিবে? কিন্তু না, ১১টি পর্বে আনোহানা আমাকে এতো স্মৃতিকাতরতা, কান্না এবং আনন্দ দিয়েছে যে আমি পুরোপুরি মুগ্ধ। এছাড়াও, বাস্তবতার সাথে অতিপ্রাকৃতিক কিছু বিষয়ের মিশ্রণের ব্যাপারটি অনেক দুর্লভ এবং আমি এই এনিমেতে এই বিষয়ের একটি সেরা উদাহরণ পেয়েছি। তাই অবশ্যই আনোহানা আমাকে অনেক আনন্দের পাশাপাশি নতুন কিছু অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

সার্বিকঃ
সবকিছু মিলিয়ে আমি আনোহানাকে ৯/১০ দিব। আসলে এই এনিমেটি দেখার পর থেকেই আমি Slice Of Life জনরার ভক্ত হয়ে গিয়েছি। আনোহানার বাস্তবিক দৃশ্যপট, অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক, বিভিন্ন চরিত্রের মানসিকতা এবং আরও অনেক কিছুর দ্বারা এটি আমার মন জয় করেছে। সত্যি বলছি, হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি এনিমেই আনোহানার মতো আমার এতটা ভাল লেগেছে।

পরিশেষে আমি সকলকে (যারা আনোহানা দেখেননি) এটি দেখার জন্য আহ্বান জানাবো। যদি আপনি Slice Of Life এর ভক্ত না-ও হন তাও আনোহানা দেখার চেষ্টা করবেন, এতটুকু বলতে পারি যে এনিমেটি আপনার খারাপ লাগবে না। একটি উদ্ধৃতি দিয়ে আমার লেখা শেষ করব।
“I thought I could apologize to you tomorrow. But that tomorrow…never came.”-Jinta Yadomi.

anohana

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১: Anohana — Rafid Azad

আনোহানা (anohana)

জনরা : সুপার ন্যাচরাল , রোম্যানস্,   ড্রামা
এপিসোড  : ১১
পারসোনাল রেটিং : ৮.৮/১০

আমার মতো এমন কেউ কি আছোযে ছোটবেলায় বন্ধুদের নিয়ে গোয়েন্দা বা অন্য কোন বিষয়ের উপর  খুবই অদ্ভুত একটি নাম দিয়ে ক্লাব খুলেছিলেসত্যি কথা বলতে আনোহানা আ্যনিমেটি আমার এত ভাল লাগার একটি মুল কারন, প্রোটগো্নিস্ট জিন্টান এর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আমার অস্বাভাবিক রকমের মিল । তবে সাধারন গ্রুপ এর সাথে এই পিস বাস্টার্ড’ গ্রুপ এর কিছু অমিলও রয়েছে । মুল তফাৎটি বোধহয়পিস বাস্টার্ড’ গ্রুপের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মেনমার একি্সডেন্টে হঠাৎ মৃত্যু । তার মৃত্যুর পর পিস বাস্টার্ডগ্রুপটি ভাঙতে সময় নেয় নি বেশি। বাইরে না দেখালেও গ্রুপ এর বাকি ৫ জন সদস্যের প্রত্যেকেই মেনমার মৃত্যু এর জন্য মনে মনে নিজেকে দায়ী করতো। তাই মুলত অতীতকে পিছনে ফেলার জন্যই জিন্টান পোপ্পো ,ইয়ুকিআটসু সুরুক নারুক আলাদা হয়ে যায় একে অপর থেকে এবং শুরু করে দেয় তাদের নতুন জীবন ।

আ্যনিমের প্লটটি চলে তারও ১০ বছর পরে যখন হঠাৎই মেনমার ১০ বছর পরের ভার্সন ভুত উপস্থিত হয় জিন্টান এর বাড়িতে । প্রথমে প্রথমে এটিকে হ্যালুসিনেশন হিসেবে ভেবে ছেড়ে দিতে চাইলেও পরবর্তীতে জিন্টান বুঝতে পারে মেনমা আসলেই ফিরে এসেছে ( যদিও এটি কেবল একটি ভুত ) ।মেনমা জিন্টান কে জানায় যে তার ইচ্ছে পুরণ হইনি বলেই সে পরকালে যেতে পারছে না । কিন্তু কি ইচ্ছা তা যে মেনমা নিজেও জানে না । তাই রীতিমত বিপদেই পরে যায় জিন্টান । একে তো মেনমা কে অন্য কেও দেখতে না পারায় সবাই জিন্টান এর কথা বিশ্বাস না করে সবাই উলটো গাজাখুরি’ হিসেবে নেয় । আবার অপর দিকে মেনমার সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তাকে আবারও তার অতীতের (তার পিস বাস্টার্ড গ্রুপ এর বন্ধুদের ) মুখোমুখি হতে হয় যার থেকে সে এত বছর দূরে ভাগছিল । কিছু দিন যেতে না যেতেই জিন্টান বুঝতে পারে মেনমার ইচ্ছা পুরনের জন্য পিস বাস্টার্ড গ্রুপ এর বাকি সদস্যদের সাহায্য তার লাগবেই। কিন্তু মেন্মার জন্য এতটুকু করা যেন জিন্টান এর কাছে কিছুই না কেননা সে যে অনেক ভালবাসে মেন্মা কে । কিন্তু অতীত বন্ধুদের মধ্যে কেও কেও তাকে বিশ্বাস করলেও অনেকেই করে না । কিন্তু এতো সব সমস্যার পরও জিন্টান হার মানে না এবং তার চেষ্টা চালিয়ে যায় । এবং সে প্রতিজ্ঞা করে নেয় যেমেনমা কে সে সাহায্য করেই ছাড়বে ।

আ্যানিমেটিতে ভাল দিকের পাশাপাশি খারাপ দিকও যে নেই তা কিন্তু নয়। প্রথমে ভাল দিয়েই শুরু করি । ক্যারেক্টার গুলির আর্টস্টাইল এবং তাদের সভাব চরিত্র এতইসুন্দর ভাবে ফুটে উঠে যে এই আ্যানিমের ভেতরে ঢুকে যাওয়া কোন ব্যাপারই হয়ে উঠে না। এর পাশাপাশি রয়েছে আ্যানিমেটির চমৎকার একটি অপেনিং (শুরুর) আর এন্ডিং(সমাপ্তি) গান।পারলে এখনি শুনে দেখ আমি ভুল বলছি কিনা ।

এবার যে বিষয় গুলি তোমাদের অতো বেশি ভাল না লাগতে পারে তা সম্পর্কে বলি । প্রথমে যেই বিষয়টি সম্পর্কে তোমাদের কে বলতে চাই তা হল তোমরা যদি কেবল ডেথ নোট অথবা কোড গিয়াস এর মতো সাসপেনসিভ আ্যনিমে পছন্দ করো এবং সাসপেন্স ছাড়া আ্যনিমে একেবারেই না দেখ তাহলে আগেই বলে রাখি আনোহানা টুইস্ট এর চেয়ে ইমোসোন এর দিকে বেশি মনোযোগ দেয় । পুরা কাহিনীতে একেবারে মোড় ঘুড়ানোর মত টুইস্ট না থাকলেও একেবারেই যে টুইস্ট নেই তা কিন্তু বলা যাবে না ।

শেষ পর্যন্ত কি হয় তা জানার জন্য এক্ষুনি শুরু করে দিতে পার মাত্র ১১ এপিসোডের এই চমৎকার আ্যনিমেটি । তোমাদের যে ভালো লাগবে তার ১০০% গ্যারানি্ট  দিতে পারি ।

1 Anohana

Anohana রিভিউ — Fatiha Subah

1

আনোহানা
জানরা : স্লাইস অফ লাইফ, সুপারন্যাচারাল, ড্রামা, ট্রাজেডি
পর্ব: ১১+ ১ টা মুভি
বয়স রেটিং: ১৩+
ব্যক্তিগত স্কোর: ৯/১০

কত জানরা, কত কি কিছু নিয়েই তো অ্যানিমে তৈরি হয়। একটা খুব সাধারণ বিষয় হিসেবে অনেক অ্যানিমেতেই বন্ধুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে। তবে কেউ যদি কোন অ্যানিমে দেখতে চায় যেটা শুধুমাত্রই বন্ধুত্বকে উৎসর্গ করে তৈরি করা তাহলে তার জন্যে আনোহানা একটি আদর্শ অ্যানিমে। পুরো নাম “আনো হি মিতা হানা নো নামায়ে য়ো বকুতাচি ওয়া মাদা শিরানাই”। অনেক বিশাল নাম তাই না?! ইংরেজিতে নাম “উই স্টিল ডোন্ট নো দ্যা নেম অফ দ্যা ফ্লাওয়ার উই সও দ্যাট ডে”। সংক্ষেপে “আনোহানা: দ্যা ফ্লাওয়ার উই সও দ্যাট ডে।“
কাহিনীটি গড়ে উঠেছে ছয়জন ছোটবেলার বন্ধুকে ঘিরে। জিনতা ইয়াদোমি (জিনতান), মেইকো হোনমা (মেনমা), নারুকো আনজোও (আনারু), আৎসুমু মাৎসুয়ুকি (য়ুকিইয়াতসু), চিরিকো সুরুমি (সুরুকো), তেৎসুদো হিসাকাওয়া (পোপ্পো); এই ছয়জনের একটা দল ছিল যার নাম সুপার পিস বাসটারস্। বনের মত এক জায়গায় রয়েছে তাদের গোপন আস্তানা যেখানে ছোটবেলায় হাসি-আনন্দ, হইহুল্লোর, ছুটে বেড়ানো আর খেলায় কাটত তাদের দিনগুলো। কিন্তু সেই সুখের দিনগুলো হারিয়ে যায় যখন মেনমা এক দুর্ঘটনায় পানিতে পড়ে মারা যায়। তাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠে হাই স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েগুলো পরস্পর থেকে আলাদা হয়ে যায়। ইয়ুকিয়াতসু আর সুরুকো চলে যায় এক স্কুলে। পোপ্পো স্কুল ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরায় এবং পার্ট-টাইম জব করে টাকা আয় করে। আনারু আর জিন্তানও পড়ে একই হাই স্কুলে। কিন্তু জিন্তান মেন্মার মৃত্যুতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। স্কুলে, মানুষের মাঝে না গিয়ে নিজেকে ঘরের মাঝে বন্দী রাখতেই সে বেশি সাছন্দ্য বোধ করে। সেই জিন্তানের সামনে এক গ্রীষ্মে হাজির হয় মেন্মা। জিন্তান ব্যাপারটিকে তার মানসিক চাপ থেকে তৈরি নিছক কল্পনা হিসেবে ধরে নেয়। কিন্তু জিন্তান বুঝতে পারে মেন্মা তার কল্পনা থেকে সৃষ্টি কেউ নয়। সে আসলেই তার সামনে এসেছে একটি অনুরোধ নিয়ে। মেন্মা জানায় সে একটি অপূর্ণ ইচ্ছে নিয়ে মারা গিয়েছিল। যেটার কারণে তার আত্মা স্বর্গে প্রবেশ করতে পারছে না। মেন্মার আত্মা পৃথিবী থেকে চলে যেতে পারবে যদি তার সেই ইচ্ছে পূরণ হয়। কিন্তু কি সেই ইচ্ছে? মেন্মা সেটাই মনে করতে পারে না। সে জিন্তানকে অনুরোধ করে তার সেই ইচ্ছে পূরণ করে দেয়ার জন্যে। তবে তাতে অবশ্যই লাগবে তাদের সেই ছোটবেলার বন্ধুদের সাহায্য।
কি করবে জিন্তান? খুঁজে কি পাবে বিছিন্ন হয়ে যাওয়া বন্ধুদের? যাদের সাথে এত দূরত্ব তৈরি হয়েছে পারবে কি তাদের মাঝের দূরত্ব আবার কমিয়ে ফেলতে? ফিরে পাবে সেই হারানো দিনগুলো? জোড়া লাগবে কি তাদের বন্ধুত্ব? মেন্মা কি স্বর্গে যেতে পারবে? উত্তরগুলো জানা নেই জিন্তানের…
অ্যানিমেটিতে বন্ধুদের মাঝের মান-অভিমান, বিরোধ, কিছু চাওয়া-পাওয়ার জন্যে স্বার্থপর আচরন, অপরাধ বোধ, ভালবাসার মানুষকে না পাওয়ার বেদনা, ছোট থেকে বড় হয়ে উঠে মানসিকতার পরিবর্তন, জীবনে কাছের মানুষের মৃত্যুর প্রভাব ইত্যাদি বিষয়গুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গল্পের অগ্রগতির সাথে সাথে প্রতিটা প্রধান চরিত্রই বিকশিত হয়েছে। আর এই সিরিজটি নিয়ে কথা বলতে গেলে এর এন্ডিং সং “সিক্রেট বেস” বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অসম্ভব সুন্দর এই গানটি। গানটির কথাগুলোও অপূর্ব। অ্যানিমে ফ্যানদের কাছে এই গানটি অতি জনপ্রিয়।
মাত্র ১১ পর্বেই অ্যানিমেটির কাহিনীর সমাপ্তি হয়। কিন্তু সব অ্যানিমে এটার মত সন্তোষজনক সমাপ্তি দিতে সক্ষম হয় না। আনোহানা এক অসাধারণ অ্যানিমে যা মনে গভীর দাগ কেটে রাখবে। খুব কম মানুষই আছে যারা এটা দেখে কাঁদেনি। তবে না কাঁদলেও চোখের কোণে এক ফোঁটা অশ্রু আসবেই এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি! এর মুভিটিতে কাহিনী বেশি আগায়নি বরং সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পুনরায় দেখায়।
এই ব্যস্ত জীবনে এখন আমাদের সময় কই পুরনো দিন আর বন্ধুদের নিয়ে ভাবার? তবু কেউ যদি সময় পান তো দেখে ফেলতে ভুলবেন না এই ছোট অ্যানিমেটা। আর যদি বন্ধুদেরও সাথে পান তাহলে তো বাজিমাত! বন্ধুরা মিলে একত্রে বন্ধুত্ব নিয়ে অ্যানিমে দেখার চেয়ে ভালো আর কিই বা হতে পারে?! যারা ইতিমধ্যে এটা দেখে ফেলেছেন এবং আনোহানা’র মত আরও অ্যানিমে দেখতে চান তারা দেখে ফেলতে পারেন “আনো নাতসু দে মাত্তেরু” বা “ওয়েটিং ইন দ্যা সামার”।