Area no Kishi রিভিউ — Zakaria Mehrab

হেহ হেহ আসিয়া গেল আরেকটি ইয়া বিশাআল রিভিউ থুক্কু ড়িভিউ
>
>
>
>
এই বলে আমি একখান সুন্দর, সুললিত ড়িভিউ লেখতে চাইসিলাম , কিন্তু আপাততঃ যেইটা নিয়া ড়িভিউ লেখতে যাচ্ছিলাম ঐটা শেষ করার পর থেকে মেজাজ খিচড়ায় আছে , তাই সুন্দর সুললিত রিভিউ এর পরে ইহারে যথাসম্ভব ব্যবচ্ছেদ করা হইবেক

anime: The Knight in The Area (Area No Kishi)

episodes: 37

genre: Sports, Comedy, School, Shounen (জায়গায় জায়গায় shoujo ও মনে হইতে পারে)

অগ্রজ সুগুরু একজন ফুটবল জিনিয়াস এবং প্লেমেকার , অনূর্ধ্ব ১৫ জাপান টিমের সদস্য সে এবং প্রায় সবাই তাকে জাপানের ফিউচার বলে গণ্য করে । সুগুরু নিজেও স্বপ্ন দেখে যে সে একসময় ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি টা হাতে নিবে , তবে আপাততঃ তার প্রধান দুশ্চিন্তা হইল একজন আদর্শ স্ট্রাইকার খোঁজা নিয়ে , যে কিনা পেনাল্টি এরিয়ায় নির্দ্বিধায় শট নিতে ও গোল দিতে পারবে । তার ধারণা তার অনুজ কাকেরু ই হইতে পারে সেরকম আদর্শ স্ট্রাইকার (হম, পক্ষপাতিত্বের গন্ধ পাওয়া যাইতেছে) । কিন্তু সুগুরুর বলদ ভাই কাকেরু তার গুরুর আশা ভঙ্গ করে একটা দুর্ঘটনার পর সে ফুটবল খেলা ছেড়ে দেয় আর তার অগ্রজ এর স্কুলের সকার ক্লাবের বলবয় হিসেবে যোগ দেয় । যাই হোক তার ঘাড়ত্যারামি বেশিদিন টিকে না , কিছু ঘটনা- দুর্ঘটনার পর আবার সে ফুটবল খেলা শুরু করে , আর তার সাথে ঘটনাপ্রবাহে যোগ দেয় তার ছোটবেলার বান্ধবী নানা মিশিমা (হ হ , বুঝতে পারসেন তো ছোটবেলার বান্ধবী মানে কি, এখন হাসি থামান) । কাকেরু তার ভাই এর স্কুল চেঞ্জ করে নতুন আরেক স্কুল এ জয়েন করে এবং সেইখানকার ফুটবল টিম দিয়া তার যাত্রা শুরু করে এবং আমাদের কৃতার্থ করে ।
কাজেই এখন আপনিও তাকে কৃতার্থ করার জন্য হাতে ফুটবল আর পায়ে পপকর্ণ নিয়ে বসে যান এই এনিমেটি দেখতে……

-_- হম ফরমালিটি শেষ , এইবার শুরু করি এক ভুতুড়ে রেটিং সিস্টেম ……… (নিচের অংশ মোটামুটি পারসনাল রি একশান বলা যায় , কোন স্পয়লার নাই , তারপর ও কারো ডর লাগলে এইহানেই ইস্তফা দ্যান)
>
>
>
>
এনিমের প্রথম ৫ এপিসোড হচ্ছে বেশি ইমোশনাল , ট্র্যাজিক এনিমের শেষে যেইরাম ইমোশন এর ফোয়ারা ছুটতে থাকে এই প্রথম ৫ এপিসোড এ মোটামুটি দ্বিগুণ ফোয়ারা বইয়ে দেয় ; আপাতত স্পয়লার না দিয়া এর বেশি কিছু বলা যাইতেছে না , যাই হোক এই ৫ এপিসোড এর জন্য আমার রেটিং ৮/১০

এরপরের ৮-১০ এপিসোড হচ্ছে কাকেরুর নতুন ফুটবল টিম নিয়ে । তাহলে কি ভাবছেন ? এখন শুরু হবে আসল খেলা ? জি না , এই কয়েক এপিসোড এ যা হয় তারে খেলা না বইলা ভগী বললে বেশি ভালো হয় । অধিকাংশের ই হয়ত ফিফা ২০০২ ওয়ার্ল্ড কাপ গেইম টার কত্থা খেয়াল আছে । ঐ যে কিছু প্লেয়ার দের পাশে তারা আঁকা থাকে , মাঝমাঠের পর কোন এক জায়গায় তাদের পায়ে বল এনে দাও , ৫০০ মিলিসেকেন্ড ধরে D বাটন প্রেস কর , দরকার হলে গোলপোস্ট সামনে চলে আসবে , তাও গোল হবেই । এই কয়েকটা এপিসোডেও এমন তারকাখচিত খেলা দেখা যায় , যেইগুলা দেখিয়া আপাতত চারপাশে তারা দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না । বিল্ড আপ এর কোন বালাই নাই , হঠাৎ এরকম অমানুষিক খেলা দেখিয়া এই কথা মনে হওয়া খুব ই স্বাভাবিক যে কেন তারা ওয়ার্ল্ড কাপ না খেলে হাই স্কুল ফুটবল খেলছে !! স্পোর্টস এনিমে আর স্পোর্টস এনিমে নাই , সুপারপাওয়ার এনিমে হইয়া গেসে । তাই এই কয়েকটা এপিসোড এর জন্য আমার রেটিং ৫.৫/১০

তারপর ১৪-১৫ এপিসোড থেকে বলা যায় আসল স্পোর্টস এনিমের রেশ পাওয়া শুরু হয় । ভগী একেবারে নাই হয়ে যায় বলব না , কিন্তু সহনীয় পর্যায়ের ভগী , এট লিস্ট দেখে আর অনন্ত জলিল এর কথা মনে পড়ে না । এনিমেতে এতটুকু ভগী সহ্য করাই যায় , সব তো আর স্ল্যাম ডাঙ্ক এর মত না । মোটামুটি ৩০ এপিসোড পর্যন্ত ভালো একটা ফ্লো নিয়ে কাহিনী আগায় এবং এই অংশতে আমার রেটিং ৮.৫/১০

এরপর ৩০ থেকে শেষ পর্যন্ত দেখে যা মনে হল তা হইল , বাজেট শেষ হয়ে আসছে , এখন লাগাও জোড়াতালি । একটা কেবলমাত্র ভালো খেলা পাওয়া গেছিল এই কয়েক এপিসোড এ , আর বাকি সব হাইলাইটস , এমনিতে স্পোর্টস এনিমেতে শেষ বলে কিছু নাই, যত ইচ্ছা তত টানা যায় , কিন্তু একসময় শেষ করতে হয় । কিন্তু তারপর ও স্ল্যাম ডাঙ্ক কিংবা জায়ান্ট কিলিং যেরকম মোটামুটি একটা লেভেল এ যাইয়া শেষ করসে , এইটার ফিনিশিং সেই তুলনায় খুব ই এব্রাপ্ট , এবং এই মেজাজ খিচড়ানো ফিনিশিং এর জন্য যথাসম্ভব উদার হয়ে রেটিং দিলাম ৬.৫/১০

হে হে , এই অদ্ভুতুরে রেটিং সিস্টেম শেষ প্রায় , আরেকটু ধৈর্য ধরেন

এনিমের মাঝে মাঝে হঠাৎ করে নাদেশিকো জাপান মানে জাপান মহিলা ফুটবল টিম কেও ফোকাস করা হয়েছে । মানে একটু বেশি ই ফোকাস করা হয়েছে , এবং ১৫ এপিসোড এর পর মোটামুটি সব ভগী ই এই মহিলা ফুটবল টিম রে ঘিরে । এম্নিতে আমি জানি না জাপানের মহিলা ফুটবল টিম বা পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে যেইসব মহিলা ফুটবল টিম পারফর্ম করে তারা কেমন খেলে বা কিভাবে খেলে , তবে আর যাই হোক এই লেভেল এর খেলা যে খেলে না তাহা আমি মোটামুটি নিশ্চিত । একেকজন যেই হাফ ভলি , ফুল ভলি , ব্যাকহিল করে গোল দেয় ইহা যদি ইব্রাহিমোভিচ দেখিতেন তিনি হয়ত ফুটবল খেলা ছাড়িয়া আজ গম চাষ করতেন । ইব্রার ফুটবল ক্যারিয়ার কে এমনভাবে হুমকির মুখে ফেলার জন্য নাদেশিকো জাপান এর এই পার্টটুকুর রেটিং ৬/১০

খেলা চলাকালীন এনিমেশন গুলা যথেষ্ট ভালো , বিশেষ করে ড্রিবলিং এবং ফেইন্ট মুভগুলা । রেটিং ৮/১০

ফাইনালি, সব স্পোর্টস এনিমেতেই কিছু মাত্রার কমেডি এক্সপেক্টেড , এইহানেও সেইটা আছে , তবে খেলার মধ্যকার কমেডি খুব কম (যেটা স্ল্যাম ডাঙ্ক এ প্রচুর পরিমাণ এ) । কমেডির জন্য আলাদা এপিসোড আছে , খেলোয়াড় রা খেলা থেকে বিরতি নিয়ে কোথাও ঘুরতে গেল এরকম কিছু এপিসোড কমেডির জন্য বরাদ্দ । মোটামুটি এঞ্জয়েবল , বিশেষ করে ৩২ নম্বর এপিসোড টা কমেডির জন্য প্রাইসলেস । কমেডির জন্য রেটিং ৭/১০

অতএব শেষমেশ আমার রেটিং দাঁড়াইল ৭.১/১০

আর এইদিকে MAL সাহেবের রেটিং ৭.৪৫/১০ (আরেহ কাছাকাছি ই তো দেখি)

“So Lets enjoy soccer” (আমার কথা না কিন্তু , এনিমেতে কেউ একজন বলসে)

জি এতক্ষন ধৈর্য ধরে আপনার পিসি/ল্যাপ্টপ/মোবাইল বা অন্যকিছুর স্ক্রিন না ভেঙ্গে এই আজাইরা জিনিস পড়ার জন্য ধন্যবাদ । 😀 ড়িভিউটি শেষ হইল (বাপ্রে বাপ)

এনিম রিভিউ- Area no Kishi – না দেখলে আপনারই লস লেখক – মো আসিফুল হক


মোটামুটি স্পোর্টস জেনারের প্রায় সব এনিমই আমার ভাল লাগে, কিন্তু এইটা একটু বেশী জোস। অন্যান্য স্পোর্টস জেনারের এনিম গুলার চেয়ে এইটা আগাইয়া থাকবে মেইনলি আর্ট স্টাইলের দিক দিয়া- সো যাদের ক্রুড আর্ট স্টাইল নিয়া হালকা সমস্যা আছে তাদের জন্য এই এনিম বিরাট এক আশীর্বাদ।:):):):):)


এই লোকের নাম আইজাওয়া সুগুরু। বিশাল টেলেন্টেড ফুটবলার। জাপানের আন্ডার ১৫ টিমের মেইন স্ট্রাইকার। প্রথমে ভাবছিলাম ইনারে নিয়াই বোধহয় এনিম। কয়েক পর্ব যাইতেই দেখি, ওমা কি তামশা !!! ইনারে মাইরাই ফালাইল!!!! সুগুরুরে ভালই লাগছিল। তারে মাইরা ফালানর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করতেছি।/:)/:)/:)/:)/:)


ইনি আইজাওয়া কাকেরু। সুগুরু সাহেবের ছোট ভাই। ঠিকই ধরছেন, ইনিই এনিমের মুল চরিত্র। বড় ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল জাপানরে বিশ্বকাপ আইন্না দিবেন, তার স্বপ্ন পূরণই ইনার উদ্দেশ্য। ইনারেও বেশ ভাল লাগে।:D:D:D:D:D:D


ইনি নানা মিশিমা। এই পর্যন্ত যত নারী এনিম ক্যারেকটার দেখছি, ইনি তাদের টপ ১০ লিস্টে থাকবেন অবশ্যই। ইনার জন্যই আরও এনিমটা এত ভাল লাগে। :P:P:P:

আরও বেশ কয়েকটা ভাল চরিত্র আছে, যদিও কোনটাই তেমন শক্তিশালী না। কাহিনী গতানুগতিক, খুব বেশী টুইস্ট নাই অবশ্য। তবে বেশ গতিশীল। এনিমটা পার পেয়ে যাবে এবং বেশ ভালোভাবেই পার হয়ে যাবে তার আর্ট স্টাইল এবং তুলনামুলকভাবে শক্তিশালী ক্যারেকটার সেটের কল্যাণে।

মুল ঘটনা ফুটবল নিয়া। সুগুরু সাহেব ব্যাপক ভাল প্লেয়ার। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন এবং মারা যাওয়ার আগে ওই দুর্ঘটনায় আহত তার ভাই কাকেরু কে “হার্ট” দান কইরা যান। কাকেরু ভাই এর স্বপ্ন পুরনের জন্য আগাইতে থাকে। এনিমটা এখনও চলতেছে। সো, কাকেরু সাহেব এখনও বেশিদুর যাইতে পারেন নাই।

কিছু কিছু স্পোর্টস এনিমে কোন কোন জায়গায় “over acting” বা “over emotion” মনে হইছে। কিন্তু এই এনিমে এই জায়গা গুলা ভাল লাগছে, যেইটুকু দরকার একদম সেইটুকুই দিছে। কোন জায়গায় বাড়াবাড়ি মনে হয় নাই। :):):):)

তো আর দেরি কেন? দেখা শুরু করে দিন এই এনিমটি।

হ্যাপি এনিমিং !!!!!