King Golf [মাঙ্গা রিভিউ] — Arnab Basu

King Golf

মাঙ্গাঃ King Golf
MAL Rating: 7.87/10
Personal Rating: 8/10
গলফ খেলাটা ঠিক আর দশটা খেলার মত না। সব দিক থেকেই এটা বেশ বিলাসবহুল খেলা। গলফ টুর্নামেন্টগুলোর প্রাইজমানিও অনেক বেশি। এরকম একটা খেলা নিয়েই এই মাঙ্গা। হাই স্কুলের ছেলে-মেয়েরা এই খেলা খেলছে, টুর্নামেন্ট হচ্ছে এটা দেখে প্রথমে বেশ অবাক লেগেছে। জাপানে হাই স্কুলগুলোতে গলফ খেলার সুযোগ আসলে আছে কিনা জানি না, তবে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

প্রোটাগনিস্ট ইয়ুকি সৌসকে(aka Predator) তার স্কুলের সবচাইতে বড় Delinquent, মারামারিতে অপরাজেয়। একই স্কুলের কাজুমি নামকরা Amateur গলফার, এক দিন ইয়ুকিকে দেখে পাত্তা না দিয়ে চলে যায়। এতে নায়কের বেশ গায়ে লাগে। কাজুমিকে খুঁজতে খুঁজতে সে চলে আসে স্কুলের গলফ ক্লাবে। এখান থেকেই শুরু হয় ইয়ুকির গলফের রাজা হওয়ার পথচলা।

মাঙ্গার গল্প আসলে আহামরি কিছু না। টিপিকাল স্পোর্টস-শোউনেন গল্পগুলো যেমন হয় আর কি। তাহলে বারবার এই টিপিকাল জিনিসগুলো কেন পড়ি বা দেখি? আসলে এ ধরণের গল্পগুলোর মজা ছোট ছোট মোমেন্টগুলোতে। কিং গলফও তার ব্যতিক্রম না। ইয়ুকির গলফ ক্লাবের সুইং, তার ডায়লগ বা এমন জিনিসগুলোই এই মাঙ্গার আকর্ষণ। তাছাড়া দারুণ আর্ট তো আছেই।

ড্রেডলক চুলের প্রোটাগনিস্ট আমি প্রথম এই মাঙ্গাতেই দেখেছি। ইয়ুকির আচরণ অনেকটাই স্ল্যাম ডাঙ্কের হানামিচির মত। তবে একটা জিনিস আমাকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। গল্পে ইয়ুকির যে প্রোগ্রেস দেখানো হয়েছে, সেটা বেশ অবিশ্বাস্য। তবে এমন না যে সে ট্রেইনিং বা পরিশ্রম ছাড়া সেটা করছে। কিন্তু সে এত দ্রুত এত ভাল খেলোয়াড় হয়ে গেল, যেটা আসলে আমার চোখে লেগেছে। আমি জানি না গলফ বেশ সহজ কোন খেলা কিনা, তা যদি না হয়, তাহলে ইয়ুকি আমার দেখা এখন পর্যন্ত সবচাইতে প্রোডিগাল প্রোটাগনিস্ট।

স্পোর্টস ভক্তদের জন্য মাস্ট রিড এই মাঙ্গাটা পড়ে ফেলুন। গলফ নিয়ে নতুন মাঙ্গা Robot x Laserbeam কেমন হবে জানি না। তবে কিং গলফ এর সমপর্যায়ে আসা বেশ কঠিন হবে।

JoJo’s Bizarre Adventure Part 5: Vento Aureo [মাঙ্গা সাজেশন] — Arnab Basu

JoJo 5

জোজোদের অদ্ভুত অভিযানের পঞ্চম কিস্তি। সাধারণত জোজোর প্রতিটা কিস্তির নাম মূল চরিত্রের স্ট্যান্ডের সাথে মিল রেখে দেওয়া হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইটালিয়ান Vento Aureo এর অর্থ Golden Wind, যা মূল চরিত্র Giorno Giovanna এর স্ট্যান্ড Gold Experience এর সাথে মিল রেখে দেওয়া হয়েছে।

Vento Aureo এর পটভূমি ইটালিতে। এবারের জোজো Giorno Giovanna এর মা জাপানিজ, সে ছোট থাকতে তার মা ইটালিতে এসে নতুন একজনকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে। Giorno জানে না তার আসল বাবা কে। ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন গ্যাংস্টার হওয়া। সে সময় ইটালির সবচাইতে বড় এবং কুখ্যাত গ্যাং হল Passione, যাদের বিভিন্ন ব্যাবসার মধ্যে একটি হল ড্রাগ চোরাচালান। এই ড্রাগের নেশায় মত্ত যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য Giorno সিদ্ধান্ত নেয় সে Passione গ্যাঙের বস হবে। কিন্তু সে কি পারবে? কারণ গ্যাঙের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য স্ট্যান্ডধারী, যারা পদে পদে Giorno কে রুখবার জন্য তার উপর হামলা করে। তার উপর আছে Passione এর বস, যার স্ট্যান্ডের অমিত শক্তি এবং যার পরিচয় গ্যাঙের মধ্যেও এক বিশাল রহস্য। এই আপাত অসম্ভব অভিযানে Giorno এর সঙ্গী হয় Bruno Bucciarati এবং তার দলের সদস্যরা। Bruno Bucciarati নিজেই Passione এর সদস্য, কিন্তু সে Giorono এর মত গ্যাঙ্গের নেশার ব্যাবসার প্রতি বিদ্বেষের কারণে Giorno এর পক্ষ নেয়। শুরু হয় তাদের Passione গ্যাঙের বসকে খুঁজে বের করা এবং তাকে হারানোর অভিযান যার বিস্তার প্রায় পুরো ইটালিজুড়ে।

Diamond is Unbreakable শেষ করার পর আসলে Vento Aureo এর এনিমের অপেক্ষা করার ধৈর্য হচ্ছিল না, তাই মাঙ্গা পড়ে ফেলা। মাঙ্গা পড়ার পরে যেটা মনে হচ্ছে, Vento Aureo এর এনিম যদিও বা আসে, তবে সেস্নরশিপের কাঁচিতে অনেক কিছুই বাদ যেতে পারে। এই পর্বের প্রতিটা ফাইট বেশ ব্রুটাল, আর ফাইটের সঙ্খ্যাও আগের যে কোন পর্বের তুলনায় অনেক বেশি। আরাকি সেন্সেই তার Bizzare ফ্যাশন Vento Aureo তে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। Vento Aureo এর মাঙ্গার অর্ধেকের মত কালার হয়েছে, এ কারণে শেষের দিকে একটু পড়তে কষ্ট হলেও, যারা এনিমের আশায় বসে থাকতে না চান, তারা মাঙ্গা পড়ে ফেলতে পারেন।

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১৬: Shigatsu wa Kimi no Uso [Your Lie in April] — Arnab Basu

[NOTE: রিভিউতে বেশ বড় কিছু স্পয়লার আছে, তাই আনিমেটি দেখে না থাকলে রিভিউ পড়বার সময়ে সতর্ক থাকুন। – Animekhor Admin Panel]

———————————————————————————————–

এনিম/মাঙ্গা : শিগাতসু ওয়া কিমি নো উসো (Your Lie in April)
মাঙ্গাকা : নাওশি আরাকাওয়া
জনরা : মিউজিক, ড্রামা, রোম্যান্স, ট্রাজেডি
পর্ব : ২২
ম্যাল রেটিং :.৯৩

শিগাতসু ওয়া কিমি নো উসো দেখে আপনি হাসবেন, কাঁদবেন আর অসাধারণ সুরের মূর্ছনায় নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন। মিউজিক ভিত্তিক এনিম হিসাবে এর মূল আকর্ষণ হল ক্লাসিকাল ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিকের অসাধারণ প্রদর্শন। এর সাথে আছে হৃদয়স্পর্শী কাহিনী।

 

কাহিনীসংক্ষেপ ও রিভিউ :

ছোটদের পিয়ানোর জগতে ধূমকেতুর মত প্রবেশ আরিমা কৌসেইর। একের পর এক প্রতিযোগিতা জয় করে নিজের প্রতিভার পরিচয় দেয় সে। কিন্তু সবকিছু বদলে যায় যখন তার মা মারা যায়। ছোটবেলা থেকে তাকে পিয়ানো শেখানো মায়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে বিদ্ধস্ত হয় আরিমা, তার শ্রবণশক্তিতে কোন সমস্যা না থাকার পরেও সে তার নিজের পিয়ানোর শব্দ শোনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে। এই ঘটনার দুই বছর পরেও আরিমার অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না। পিয়ানো থেকে দূরে সরে যাওয়া আরিমার জীবন ওলট-পালট হয়ে যায় মিয়াজোনো কাওরির আবির্ভাবে। কাওরি বেহালা বাজায়। সারা জীবন নিখুঁতভাবে নোট অনুসরণ করে পিয়ানো বাজানো আরিমা কাওরির উচ্ছল এবং স্বাধীনচেতা বেহালার সুরে মুগ্ধ হয়। অনেকটা জোর করেই আরিমাকে আবার সঙ্গীতের জগতে ফিরিয়ে আনে কাওরি। তার বিশ্বাস, আরিমা তার সুরের মাধ্যমে নিজের অনুভূতিগুলো সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেবে। শুরু হয় সঙ্গীতের জগতে তাদের নতুন করে পথচলা।

শিগাতসু ওয়া কিমি নো উসো কে বাংলা করলে দাঁড়ায় “এপ্রিলে তোমার মিথ্যা”। কখনো কখনো কিছু মিথ্যার দাম সত্যের চেয়ে বেশি, বিশেষ করে সত্যটা যখন খুব কষ্টদায়ক। সুন্দরী আর প্রাণোবন্ত কাওরিকে প্রথম দেখাতে তার প্রতি আকৃষ্ট হয় আরিমা। কিন্তু কাওরি আরিমাকে যখন “Friend A” হিসাবে আখ্যায়িত করে, তখন আরিমাও তার ভাগ্য মেনে নেয়, কাওরি হয় তার “বন্ধুর প্রেমিকা”। অথচ কাওরিরও পছন্দ আরিমাকে। এভাবে দুজনই তাদের সত্যিকার অনুভূতিগুলোকে লুকিয়ে এক মিথ্যা খেলায় অবতীর্ণ হয়। কারণ সত্যটা মেনে নেওয়া দুজনের কাছেই অনেক বেশি কঠিন। নিজেদের সত্যিকারের অনুভূতিগুলোর প্রকাশ তারা দেখিয়েছে তাদের সুরের মাধ্যমে। এনিমের কাহিনী ট্র্যাজিক, কিন্তু তাই বলে এটা শুধুমাত্র একটা ট্র্যাজেডির গল্প না। প্রিয়জন হারানোর শোক একটা মানুষের জীবনকে কিভাবে থমকে দিতে পারে  কিংবা জীবনের আশা হারিয়ে ফেলা একজন মানুষের মানসিকতাগুলো এই গল্পের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চরিত্রগুলোর নিজেদের অনুভূতি নিয়ে সংশয়, সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা, নিজেদের প্রমাণ করার লড়াই ও পরিশ্রম, কঠিন সত্যগুলোকে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে চলার মত বিষয়গুলোও গল্পে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কাহিনীর কিছু ত্রুটির মধ্যে ড্রামার আধিক্য অন্যতম। তবে এনিমের কাহিনী একটু সিরিয়াস ধরণের হওয়ায় এই ত্রুটি মেনে নেওয়া যায়। তবে মাঝখানের পর্বগুলো বেশ ধীরগতির আর একই ফ্ল্যাশব্যাক বার বার দেখাটা মাঝে মাঝে বিরক্তিকর লাগতে পারে।

 

চরিত্র :

এই এনিমটি শুধুই আরিমা আর কাওরিকে নিয়ে। আরিমার বন্ধু হিসাবে ওয়াতারি কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে এমি আর তাকেশিকে দেখানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা কেউই তেমন গুরুত্ব পায়নি। সুবাকি আরিমার ছোটকালের বন্ধু, আরিমাকে সবসময় নিজের ছোটভাই এর মত দেখে এলেও একসময় তার প্রতি সুবাকির অনুভূতিগুলো পালটে যায়। এ কারণে সুবাকি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কাওরির ঔজ্জ্বলের সামনে সুবাকি অনেকটা ম্লান। এনিমের বাকী চরিত্রগুলো শুধুমাত্র  প্রয়োজনের তাগিদ মিটিয়েছে।

 

মিউজিক ও এনিমেশন:

এনিমের মূল থিম মিউজিক, যেটা তার সবচাইতে শক্তিশালী দিক। আসলে মিউজিকই এই এনিমের সব। কাওরি আর আরিমার বেহালা আর পিয়ানো বাজানোর মিউজিকগুলো তো আছেই; OST, ওপেনিং আর এন্ডিং এর গানগুলোও অসাধারণ। আর তার সাথে যোগ হয়েছে চমৎকার আর্টওয়ার্ক আর বর্ণিল এনিমেশন, যা একই সাথে চক্ষু ও কর্ণের জন্য আনন্দদায়ক।

 

শিগাতসু ওয়া কিমি নো উসো তার কাহিনী দিয়ে হয়তো সবার মন জয় করতে পারবে না, তবে এই এনিমটা প্রমাণ করেছে যে অসাধারণ গল্পই সবসময় শেষ কথা না। মিয়াজোনো কাওরি আর চমৎকার মিউজিকে মন্ত্রমুগ্ধ হওয়ার জন্যই সবার উচিৎ অন্তত একবার হলেও এই এনিমটা দেখা।

16 Shigatsu wa Kimi no Uso

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৪: Hajime no Ippo — Arnab Basu

“এনিমখোর রিভিউ কন্টেস্ট [২০১৫] – তৃতীয় স্থান অধিকারী এন্ট্রি”

————————————————————————————————————-

এনিম/মাঙ্গা : হাজিমে নো ইপ্পো
মাঙ্গাকা : জর্জ মোরিকাওয়া
জনরা : স্পোর্টস, কমেডি, একশন, ড্রামা, শৌনেন

হাজিমে নো ইপ্পো দেখেছে অথচ জ্যাব প্র্যাক্টিস করে নাই এমন মানুষ বোধহয় খুব একটা নেই। এটা এমন একটা এনিম যা দেখে খুব সহজেই অনুপ্রাণিত হওয়া যায়, “পরিশ্রমের ফল কখনও বৃথা যায় না” এ কথা সহজেই বিশ্বাস করা যায়। হাজিমে নো ইপ্পো তাই শুধুমাত্র বক্সিং এর গল্প না, জীবনের গল্প, বাধা ও বাধা অতিক্রমের গল্প এবং সর্বোপরি, অণুপ্রেরণার গল্প।

মাকুনৌচি ইপ্পো সহজ সরল ছেলে, যার জীবন স্কুল আর তার মাকে মাছ ধরার জাহাজের ব্যবসায় সাহায্য করার মাঝেই গণ্ডীবদ্ধ। স্কুলে সহপাঠীদের হাতে রোজকার মত অপদস্থ হওয়ার সময় তাকে রক্ষা করে তাকামুরা। এই তাকামুরাই তাকে পরিচয় করিয়ে দেয় বক্সিং এর জগতের সাথে। ইপ্পো যখন বক্সিং শিখতে চায় তখন তাকামুরা তাকে এক কঠিন শর্ত দেয়। তাকামুরাকে অবাক করে সেই শর্ত পূরণ করে ইপ্পো। তাকামুরা তখন তাকে নিয়ে আসে কামোগাওয়া বক্সিং জিমে যেখানে অভিজ্ঞ মিয়াতার সাথে প্রথমবার রিং এ ঢোকা ইপ্পোর হার না মানা মনোভাব জয় করে নেয় কোচ কামোগাওয়ার মন। শুরু হয় বক্সার হিসাবে তার পথচলা। তবে গল্প শুধুমাত্র ইপ্পোর ম্যাচগুলোর মধ্যেই শেষ না, প্রতিটি ম্যাচের আগে প্রস্তুতি, প্রতিপক্ষের কাহিনী, অন্যান্য চরিত্রদের কাহিনী, তাদের লড়াইগুলো সমান গুরুত্ব পেয়েছে। বক্সারদের জীবনের কষ্ট, আত্নত্যাগ আর সীমাবদ্ধতাগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে কাহিনীতে।

হাজিমে নো ইপ্পোর সবচাইতে শক্তিশালী দিক এর চরিত্রগুলো। মিয়াতা, মাশিবা, ভর্গ, সেন্দো, দাতে এইজি, সাওয়ামুরার মত চরিত্রগুলোকে শুধুমাত্র ইপ্পোর প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখানো হয়নি, দেখানো হয়েছে তাদের জীবনের সংগ্রাম আর বক্সিং নিয়ে তাদের একাগ্রতা। তাকামুরার ম্যাচগুলা দেখার সময় মনে হবে এই লোকটাই বোধহয় নায়ক। প্রায় প্রতিটি চরিত্রকে কেন্দ্র করেই একটা মাঙ্গা বা এনিম তৈরি করা সম্ভব। এ থেকেই প্রতিটি চরিত্রের গভীরতা বোঝা যায়। তার পরেও এই গল্পের নায়ক ইপ্পো। সে এমন একটা চরিত্র যার শুরু শূন্য থেকে, যার প্রতিটি ম্যাচের পিছনে রয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম, যে রিং এর বাইরে নিতান্তই সহজ সরল। ইপ্পোর থেকে অনেক ক্যারিশম্যাটিক চরিত্র থাকার পরেও সেই এই গল্পের নায়ক, কারণ তার সাথে খুব সহজেই একাত্নতা প্রকাশ করা যায়। রিং এর বাইরে কোচ কামোগাওয়ার কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। ইপ্পো বা তাকামুরার উত্থানের পিছনে এই মানুষটির অবদান সবচেয়ে বেশি। বক্সিং আর দশটা স্পোর্টস থেকে আলাদা। অধিকাংশ স্পোর্টস এনিমগুলো হাইস্কুল ভিত্তিক, যা জাপানের সীমানারর মধ্যেই গণ্ডীবদ্ধ। ব্রায়ান হক, ডেভিড ঈগল আর রিকার্ডো মারটিনেজ এর মত চরিত্রগুলো এটাই প্রমাণ করে যে ইপ্পোর কাহিনী জাপানের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত।

এনিমের আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এর কমেডি। ডায়লগ তো আছেই, চরিত্রগুলোর বিভিন্ন অভিব্যক্তিই হাসির খোরাক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। অসাধারণ সব ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছাড়াও আছে দুর্দান্ত কিছু ওপেনিং আর এন্ডিং সং। ১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া এই মাঙ্গার এখন পর্যন্ত ১০০০ এর উপর চ্যাপ্টার বের হয়ছে। ২০০০ সালে আসে এনিমের প্রথম সিজন। এর পর আরো দুই সিজনসহ আছে একটি মুভি আর একটি ওভিএ।

দুর্দান্ত একশন, টানটান উত্তেজনা কিংবা দমফাঁটানো কমেডি, বিনোদনের জন্য প্রয়োজন সবকিছুর সাথে আছে সাবলীল কাহিনী। কোন ধরণের অতিপ্রাকৃত কিছু ছাড়াই এ কারণে হাজিমে নো ইপ্পো অনন্যসাধারণ। তাই অসাধারণ কিছু থেকে বঞ্চিত হতে না চাইলে দেখে ফেলুন হাজিমে নো ইপ্পো।

4 Hajime no Ippo