Atama Yama [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Atama Yama

Atama Yama (Mount Head)- ৭৫তম এ্যাকাডেমি এওয়ার্ড এ শর্ট ফিল্ম এনিমেশন ক্যাটাগরি তে মনোনয়নপ্রাপ্ত ১০ মিনিটের মুভি। গতানুগতিক ধারা থেকে অনেকটাই আলাদা এই মুভি। গ্রাম-গঞ্জে যেমন সুর করে পুঁথিপাঠ করা হয়, অনেকটা তেমনই করেই রাকুগো-টেলার তাকেহারু কুনিমোতো তার দরাজ কন্ঠে গল্পের কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সাথে পুরো মুভি জুড়ে শামিশেনের সুর অন্যরকম আবহের সৃষ্টি করে। মুভিটায় আমরা মানবমনের গভীর ভয়,উৎকন্ঠা কিংবা আত্মগ্লানির এক মিশেল দেখতে পাই।
ছোটবেলায় আমরা কম-বেশি সবাই বড়দের বলতে শুনেছি ফলের বিচি খেলে নাকি মাথায় গাছ উঠবে। যার কারণে কোনসময় ভুল করে খেয়ে ফেললে ভয়ে সারারাত ঘুম হতো না। এই মুভির প্রধান চরিত্র এক মধ্যবয়সী কৃপণ লোক যিনি কিনা কাউকে ধার দেন না এবং কোন জিনিস যতই ফেলনা হোক না কেন তা ব্যবহার করতে চান। যার কারণে তার বাড়িভর্তি আবর্জনার স্তূপ। যাই হোক একদিন তিনি কিছু চেরীফল মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি সেগুলো ঝুড়ি করে বাসায় নিয়ে আসেন। তো একটি চেরী খাওয়ার পর তিনি চিন্তা করেন, বিচিটা শুধু শুধু নষ্ট হবার চেয়ে বরং খেয়েই ফেলি। তো কিছুক্ষণ পর দেখলেন তার মাথায় চেরীফলের গাছ উঠছে। তিনি একবার কাটেন। কিন্তু লাভ হয়না বরং গাছটি বেড়ে উঠতে থাকে। তো একসময় তিনি ব্যাপারটা মেনে নেন। গাছটি চেরীফুলে ভর্তি হয়ে যায় এবং এর খ্যাতি চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। তখন লোকটির মাথা হয়ে উঠে পিকনিক স্পট। সব ভালই চলছিল। একদিন ভীড় বেড়ে যায়। লোকটির মন-মেজাজও খারাপ হতে থাকে। একসময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে তিনি গাছটিকে উপড়িয়ে ফেলেন। এরপরের কাহিনী নিজেকেই জানতে হবে। এটা লিখে বোঝানো সম্ভব না।

এবার গূঢ় অর্থটি ব্যাখ্যা করি। লোকটির মাথা যখন প্রথম পিকনিক স্পটে পরিণত হয় তখন কিন্তু লোকটির লাভ ই হয়। কারণ দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ জায়গাটি দেখতে আসে। যার ফলে লোকটি ফায়দা নিতে পারে। একসময় দেখা যায় মানুষ ঐ জায়গাটি যথেচ্ছ ব্যবহার করছে, ফলস্বরূপ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এবং একসময় লোকটি গাছটি উপড়ে ফেলতে বাধ্য হয়। এখন চেরীব্লসমের জায়গায় নিজেদের মেধা ও মননের কথা একটু চিন্তা করি। আমাদের প্রত্যেকের মেধা আলাদা। এই মেধা যদি মানবজাতির কল্যাণে কাজে আসে তবেই সার্থক। অনেকসময় দেখা যায় এই কল্যাণের পথ পাড়ি দেবার সময় আমাদের অন্য কোন মাধ্যমের দ্বারস্থ হতে হয়। অর্থাৎ আমাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোন মাধ্যম মানব কল্যাণকর কাজে তৎপর হয়। একসময় এই মেধা তাদের স্বেচ্ছাসারীতার কাছে বলি হয়। অনেকটা আমাদের মেধাস্বত্ব কিনে নেবার মত। কিন্তু এর ফলাফল হয় মারাত্মক। যার কারণে আমরা এমন সব হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই যা কখনই কাম্য নয়। একসময় নিজের মেধা নিজের কাছেই অচেনা মনে হয়। ফলে আমরা ক্রমাগত অন্ধকারে ডুবতে থাকি। মানবমনের এই অন্তর্কলহ ফুটে উঠেছে এই মুভিতে।
ওয়েল, আমি এই মুভির সব রিভিউ দেখেছি। কিন্তু আমার চিন্তা-ভাবনার সাথে এর অন্যান্য রিভিউগুলোর কোন সাদৃৃশ্যই নেই। তাই নিজের কাছে নিজের প্রশ্ন আমি কি আসলেই এর তাৎপর্যটা ধরতে পেরেছি?

এই মুভি একেকজনের কাছে একেকরকম লাগতে পারে। তাই আপনার জীবনে যদি সময়ের মূল্য না থাকে এবং গভীর ভাবনায় ডুবে যেতে চান তাহলে আপনার জন্য একদম পারফেক্ট এই মুভি।