Bakuman [লাইভ অ্যাকশন রিভিউ] — Farhad Mohsin

Bakuman live

দেখে ফেললাম বাকুমান লাইভ একশান মুভি।

কদিন আগে গ্রুপেই ডেথ নোটের আম্রিকান লাইভ একশন মুভি নিয়ে কথা হচ্ছিল। কিভাবে মুভিতে মূল আনিমে/মাঙ্গার গল্প তো বটেই, আনিমের “soul” ও ধ্বংস করে ফেলেছে। এর উল্টোটাও যে হয় না, তাও অবশ্য না। রুরৌনি কেনশিনের মুভি ট্রিলজি আমার বেশ লেগেছিল। মনে হয়েছিল, হ্যাঁ ঠিক ঠাকই তো আছে সব। শিশিওর থেকে আসা ভীতিকর আভা পর্যন্ত মনে হয় আনিমের কাছাকাছি যেতে পেরেছিল।

বাকুমানের ক্ষেত্রে চিন্তাটা বেশি, কারণ এর “মূল উপাদান” ও বেশি। একদিকে যেমন বাকুমান চিরকালের জন্য ‘The manga about making manga’ উপাধিটা নিজের করে নিয়েছে, অপরদিকে এটি নাকামা পাওয়ার, রাইভালরি, deplorable antagonists দিয়ে সাজানো বেশ উপভোগ্য ব্যাটল মাঙ্গাও বটে। আর সাথে মাশিরো-আজুকি’র রোমান্স এলিমেন্ট তো আছেই; ব্যাকড্রপে রেখেও শোনেন মাঙ্গার “Final Villain” হিসেবে কিভাবে রোমান্সকে ব্যবহার করা যায়, তার একটা আদর্শ উদাহরণ এই বাকুমান। মুভি করতে গেলে আসলে গুরুত্ব দিবে এই তিন এলিমেন্টের কোনটিকে?

শেষমেশ রোমান্সের দিকে না গিয়ে শোনেন পথটাই বেছে নেয় ফিল্মমেকাররা। এমন না যে রোমান্স নেই, আছে এবং বেশ ভালো ভূমিকাও আছে। তাও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমার মতে বাকুমানের সবচেয়ে রোমান্টিক সিন (স্পয়লারহীন থাকার স্বার্থে বলছি না কোনটা) ব্যবহার না করা, বরং উলটা মুভির এন্ডে সাফল্যের কৃতিত্ব শোনেন এলিমেন্টের দিকে দিয়ে দেওয়াটায় মনে হয়েছে, conscious decision হিসেবেই রোমান্সকে de-priorotize করা হয়েছে। নিজুমা এইজি’র সাথে রাইভ্যালরিকে মুভিতে ভিজুয়ালি একটা ফিজিক্যাল রূপ দিয়ে একটা লম্বা সময় কাটানোটাও এর দিকেই নির্দেশ করে। আর মাঙ্গার প্রোডাকশনের ব্যাপারটা সময়স্বল্পতার কারণেই হয়তো কেটে দিতে হয়েছে। Shonen Jump সম্পর্কে, আর্টিস্টদের প্র্যাক্টিস ও জীবন নিয়ে যা একটু জানি, তা ন্যারেশন থেকে। গল্পের প্রবাহ থেকে না। মূল মাঙ্গাতে অনেক বেশি সময় পেয়েছিল সব flesh out করার জন্য, যা এখানে অনুপস্থিত। তার পরেও, যা করেছে মন্দ করে নি।
ভাল্লাগে নি যা যা: মাশিরোকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে তাকাগির যথেষ্ট ডেভেলপমেন্ট হয় নাই। তাকাগিকে যে ফোকাস দেয় নি, সেটা অবশ্য তার ব্যাকস্টোরি চেঞ্জ করে ফেলা থেকে প্রথমেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মাঙ্গা/আনিমেতে আশিরোগি মুতো’র সাফল্যের জন্য মাশিরোর সমপরিমাণ কৃতিত্বের দাবিদার তাকাগি। এইটা পোর্ট্রে না করায় কিঞ্চিত মেজাজ গরম হয়েছে।

সব মিলিয়ে আমার রেটিং 6.5/10।
বাকুমান ফ্যানদের জন্যও Must watch না।

প্রতিটি অ্যানিমে ভক্তের জন্য যে দুটো অ্যানিমে দেখা বাধ্যতামূলক; অ্যানিমে সাজেশন দিয়েছেন ইশমাম আনিকা

PicsArt_08-14-04.21.40

অ্যানিমে গ্রুপে যারা নিয়মিত ঘোরাঘুরি করেন, এই দৃশ্যগুলোর সাথে তারা সবাই মোটামুটি পরিচিত –

“নারুতো না দেখলে জীবন বৃথা”
“ওয়ান পিস দেখনি মানে তুমি কিছুই দেখনি”
“ড্রাগন বল ভাল লাগেনা? তুমি অ্যানিমে বুঝই না”

এছাড়াও জনরাভিত্তিক, পার্সোনাল চয়েস ভিত্তিক, এমন আরও অনেকভাবে সর্ট আউট করে অনেক মানুষ বিভিন্ন অ্যানিমেকে অবশ্য দেখনীয় (জানিনা শব্দটা ঠিক হল কিনা) বলে দাবি করে থাকেন।

আমি মোটামুটি নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ (হেহে, বিশ্বাস করার দরকার নেই, তবে কথাটা সত্যি), কোনদিন নিজের পছন্দের অ্যানিমেকে বিশ্বসেরা বলে দাবি করার দুঃসাহস দেখাইনি। তবে আমার নজরেও এমন দুটো অ্যানিমে এসেছে, যে দুটো হয়ত আমি টপ ১০, ২০ লিস্ট বানালে সেখানে স্থান পাবে না, তারপরেও বলব, কেউ যদি অ্যানিমে ভক্ত হয়ে থাকে, অর্থাৎ বিনোদনের এই মাধ্যমের সাথে তার মোটামুটি পরিচয় থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই তার এই অ্যানিমে দুটো দেখা উচিৎ। অ্যানিমে দুটো হল বাকুমান এবং শিরোবাকো।

কেন এ দুটো অ্যানিমেকে এত গুরুত্ব দিচ্ছি? কারণ আছে। আপনাদের সকলেরই তো জানা আছে, অ্যানিমের সিংহভাগ তৈরি হয় কোন একটা মাঙ্গার গল্পকে কেন্দ্র করে। আগে মাঙ্গা বা জাপানী কমিক বের হয়, সেটা মোটামুটি জনপ্রিয়তা পেলে সেখান থেকে অ্যানিমে বানানো হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে মাঙ্গার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেও অ্যানিমে বানানো হয়। তো এই যে মাঙ্গাকে ঘিরে এত কাহিনী, সেই কাহিনীটার বাস্তব চিত্রটা আসলে কেমন, আপনাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করে! যে ব্যক্তি মাঙ্গা লিখছে, তার জীবনটা আসলে কেমন, বা মাঙ্গা যে প্রকাশনী থেকে বের করা হয়, তারা কিভাবে কাজ করে, কিভাবে একটা মাঙ্গা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বা কিভাবে একটা মাঙ্গার অজনপ্রিয়তা দুর্ভাগ্য ডেকে আনে, এসব কিছুর চিত্র অসম্ভব নৈপুণ্য এবং যত্নের সাথে তুলে ধরা হয়েছে যে অ্যানিমেতে, তার নাম বাকুমান। “বাকুমান” শব্দটি দুটো শব্দের সমষ্টি; বাকুচি+মাঙ্গা। বাকুচি অর্থ গ্যাম্বল বা জুয়াখেলা; মাঙ্গা লিখে জীবিকা অর্জন করা জুয়াখেলার মত বিপদজনক একটা পেশা, এখানে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে।

আবার একইভাবে এটাও চিন্তা করুন, এই যে এত স্টুডিও পিয়েরট বা তোয়েই অ্যানিমেশন এর ওপর আপনারা মহা বিরক্ত, কিংবা শ্যাফট, পিএ ওয়ার্কস, কিয়োটো অ্যানিমেশন বা সিলভার লিঙ্কের আর্টের মহাভক্ত আমি; বা ব্যতিক্রমধর্মী অ্যানিমে বানানোর জন্য পরিচিত স্টুডিও ম্যানগ্লোবের যে করুণ দশা- এদের পেছনের কাহিনীটা কী? কারা এই স্টুডিওগুলোতে রাতদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যাচ্ছে প্রোপার ফিডব্যাক ছাড়া, কেন এখনকার অ্যানিমেগুলোতে অযথা ফ্যানসার্ভিস দিয়ে ভরিয়ে তোলা হচ্ছে, বা কি উপায়ে এক টুকরো কাগজে আঁকা একটা সাদাকালো চরিত্র আমাদের চোখের সামনে হেটে বেড়াচ্ছে; কিভাবে প্রাণ পাচ্ছে সেই জড়পদার্থগুলো, যারা এই আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কাজটাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের জীবনটা কেমন – সেটা নিশ্চয়ই কখনো না কখনো জানতে ইচ্ছে করে! এই প্রতিটি কৌতুহল নিবারণ করবে যে অ্যানিমে, তার নাম শিরোবাকো।

অসম্ভব সুন্দর আর্ট আর ওএসটি রয়েছে দুটি অ্যানিমেতেই, আর মূল যে ব্যাপারটা রয়েছে, অ্যানিমেদুটি দেখার পর নিশ্চিতভাবে আপনি একটা অ্যানিমে/মাঙ্গাকে ট্র্যাশ বলার আগে দুবার ভেবে নেবেন। আপনি যদি এই ইন্ডাস্ট্রিকে সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করতে চান, এ দুটি অ্যানিমে দেখা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক!

Bakuman/Shirobako Comparison — Farhad Mohsin

শিরোবাকো দেখার সময় প্রথম থেকেই নানা কারণে বাকুমানের কথা মনে পড়ছিল। যতই দেখতে থাকি ততই মনে হচ্ছিল তুলনাটা আসলে অবান্তর।

বাকুমান শেষ পর্যন্ত স্লাইস অফ লাইফের চেয়ে অনেক বেশি একটা ব্যাটল নির্ভর রোমান্স আনিমে। বাকুমান আমি পড়েছি যখন এটা অনগোইং ছিল, পড়ার সময় বা পরে দেখার সময় আমি যে থ্রিল অনুভব করেছি সেটা সত্যি বলতে কি বেশিরভাগ মেইনস্ট্রিম ব্যাটল শোনেনেও আমার হয় নি।

Bakuman

শিরোবাকো আর যাইই হোক না কেন, একটা পিওর স্লাইস অফ লাইফই বটে, অবশ্য রোমান্স বা হাই-স্কুল না। এবং অনেক স্লাইস অফ লাইফ আনিমের ‘ওভারড্রামাটাইজেশন’ এর টেন্ডেন্সি থেকে মুক্ত। স্লাইস অফ লাইফের ক্ষেত্রে (বিশেষত শৌজোর ক্ষেত্রে) একটা অভিযোগ আসে যে এত আনরিয়েলিস্টিক ক্যারেক্টারাইজেশনের কিছুকে কোনভাবেই life-like বলা চলে না। সেখানে শিরোবাকোর ক্যারেক্টারদের ক্যারেক্টারাইজেশন/ডায়ালোগ এগুলো অনেক বেশি জীবনের কাছাকাছি।

Shirobako

এত ডিফারেন্সের পরেও আসলে ঘুরে ফিরে সেই ব্যাপারটাই চলে আসে যে Bakuman is a manga about creating manga, Shirobako is an anime about creating anime. আর দুই ক্যাটেগরেতেই মাঙ্গা/আনিমে ইন্ডাস্ট্রির মানুষের গল নিয়ে তৈরি করা এর থেকে ভালো আর কিছু নেই। এটাই শেষমেশ বাকুমান আর শিরোবাকোকে একই সাথে মাথায় এনে ফেলে।

সুতরাং আপনি যদি নতুন মাঙ্গা/আনিমে ফ্যান হয়ে থাকেন, কিংবা পুরানো হলেও কোন কারণে এটা না দেখা হয়ে থাকে, I suggest go for it. আপনার স্লাইস অফ লাইফ ভালো লাগুক আর নাই লাগুক, দেখে ফেলুন। এ দুইটা ভাল্লাগবে। একই সাথে এত পছন্দের ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত মানুষগুলোর জন্য অন্যরকম একটা রিস্পেক্টও তৈরি হবে।

এনিমে রেকমেন্ডেশান: বাকুম্যান (Bakuman) — S M Nehal Hasnaeen

এনিমে রেকমেন্ডেশান – বাকুম্যান (Bakuman)
আগেই বলে রাখি এটা বাংলায় লেখা আমার প্রথম রিভিউ। কেমন হবে জানি না তাও হঠাৎ মনে হল তাই লিখতে বসলাম, সকল ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। 🙂
বাকুম্যানের কাহিনীর শুরু ১৪-বছর বয়সী মাশিরো মোরিতাকাকে দিয়ে। মোটামুটি নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলের (middle school এর যথাসম্ভব পরিমার্জিত বাংলা :P) গোটা সময়ই ক্লাসমেট আজুকি মিহোর প্রেমে পড়ে থাকে। এদিকে তার চাচা মাশিরো নবুহিরো একজন মোটামুটি পরিচিত মাংগাকা ছিলেন, যার একটা সুপারহিরো গ্যাগ মাংগা এনিমে এডাপটেশান পায়। তিনিও মিডিল স্কুলে একজনকে ভালবাসতেন, যার সাথে তার কেবল চিঠিতে কথা হত, এবং নবুহিরো সাফল্য পাবার আগেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার বিয়ে হয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে তার মাংগা শৌনেন জ্যাক থেকে ক্যানসেলড হয় এবং পরবর্তী সিরিয়ালাইজেশান এর জন্য হাঁড়ভাঙা পরিশ্রমের কারণে তিনি অকালে মৃত্যুবরণ করেন। ছোট্ট মোরিতাকার জন্য তার চাচাই ছিল সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা, চাচার মৃত্যুতে তার নিজের মাংগাকা হবার স্বপ্নও বাধাপ্রাপ্ত হয়। দুই বছর এভাবে যাবার পর তার স্বপ্ন তাকে আবার দেখতে শেখায় তার ক্লাসের মডেল স্টুডেন্ট তাকাগি আকিতো। প্রথমবার মাশিরোকে প্রস্তাব দিলেও সে তা ফিরিয়ে দেয়। এরপর আজুকির প্রতি মাশিরোর অনুভূতিকে পুঁজি করে এবার সে সরাসরি আজুকির বাসায় চলে যায়, মাশিরো মরিয়া হয়ে ছুটে যায় সেখানে। তাকাগির কাছে মাশিরো জানতে পারে আজুকির স্বপ্ন একজন সেইয়ু (voice actress) হওয়া। এরপর তার চাচার কথা স্মরণ করে মাশিরো বলে বসে, তার আর তাকাগির মাংগা এনিমে এডাপটেশান পেলে আজুকিকে মেইন ফিমেল ক্যারেক্টার এর ভয়েস করতে দেওয়া হবে, আর তাদের দুইজনের এই স্বপ্ন যখন পূর্ণ হবে, তখন তারা বিয়ে করবে। সবাইকে অবাক করে আজুকি রাজি হয়, শুরু হয় তাদের স্বপ্ন ছোঁয়ার এক অনবদ্য রূপকথা।
এবার টেকনিকাল বিষয়গুলাতে আসি, স্টোরিলাইন আমার মতে খুঁতবিহীন, একজন মাংগাকার সব ধরণের স্ট্রাগল আর ট্রায়াম্ফের কথা চমৎকারভাবে উঠে এসেছে। রাইভ্যাল, বিবাদ, ভুল বোঝাবুঝি, ইত্যাদি অনেক ক্লিশে এখানে থাকলেও তা কেন জানি ঠিক ক্লিশে মনে হয়না। আশিরোগির (তাকাগি আর মাশিরোর পেন নেম) হাসিকান্নার সাথে আপনার হাসিকান্না একাকার হয়ে মিশে যেতে বাধ্য। এনিমে যত সামনের দিকে যেতে থাকবে স্টোরিলাইন ততই চুম্বকের মত আপনাকে টানবে।
এনিমেশন আর মিউজিক যথেষ্ট ভাল মনে হয়েছে। এনিমেশন এর একটা দুর্বলতা হল মোটামুটি ১০ বছরে কোন চরিত্রের চেহারা বা দেহগঠন এর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই, যদিও মাংগায় তা ভালভাবেই আছে। এটা ছাড়া তেমন অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়েনি। আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পরিবেশের সাথে একদম মানিয়ে গিয়েছে।
আমি যখন ভাল কোন এনিমে দেখি তখন খালি মনে হয় একে আমার টপ টেনে রাখব কিনা। বাকুম্যান দেখার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, সাথে সাথে মনে হয়েছে এটা যেভাবেই হোক আমি আমার প্রথম দশটা এনিমের মধ্যে রাখব। ক্ষনিকের জন্য হলেও আশিরোগির স্বপ্ন আমার স্বপ্ন হয়ে গিয়েছিল। এই এনিমে থেকে শিখার অনেক কিছুই আছে, তবে এর প্রধান উপজীব্য হল, যত বাধাই আসুক না কেন , লেগে থাকলে তোমার স্বপ্ন সত্যি হবেই, তা তিন বছর পরেই হোক আর দশ বছর পরেই হোক, শুধু নিজের কাজকে ভালবেসে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে যেতে হবে।

রিভিউ নয়, ব্যক্তিগত অনুভূতি_ বাকুমান – লিখেছেন সাদিয়া হুমায়রা মৌনতা

1558622_10201703298878787_1222419740_n

Baku(chi) Man(ga)- Gambling Manga
রাইটারঃ অহবা সুগুমি
আর্টিস্টঃ অবাতা তাকেশি
আনিমে জেনারে স্লাইস অফ লাইফের উৎকৃষ্ট উদাহরণ ‘বাকুমান’ আনিমেটি। জীবনের প্রতিটা দিকই এই আনিমেতে সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ডেথ নোট এর পরেই অহবা সুগুমি আর অবাতা তাকেশি কম্বোর আরেকটি সৃষ্টি এই মাঙ্গা। যদিও ডেথ নোট নামটাই একটা সেলিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে দেখার আগেই, কিন্তু যা পাবেন তাতে আশাহত হবেন না, বরং বিস্মিত ও মুগ্ধ করবে মাঝে মাঝে। তারা তাদের জনপ্রিয়তা ও মানদন্ড অক্ষুণ্ন রেখেছেন।

প্লট সংক্ষেপঃ মাশিরো মরিতাকা ও আকিত তাকাগি দুই নাইন গ্রেডের ছাত্র। তাকাগির প্রেরণায় ও আগ্রহে মাশিরো রাজি হয় তাকাগির লেখা কাহিনীকে মাঙ্গার রূপ দিতে। তাকাগি-রাইটার ও মাশিরো-আর্টিস্ট, এভাবেই একদিন ওদের জীবনের যুদ্ধ শুরু হয় এমন এক মাঙ্গা সৃষ্টির যা মাস্টারপিস হিসেবে আলোচিত হবে, এবং পরবর্তীতে আনিমে হবে। প্রেরণা হিসেবে করেছিল মাশিরোর চাচা এবং আযুকি মিহোর সাথে তার প্রতিশ্রূতি এবং অনুঘটক হিসেবে ছিল তাকাগির উচ্ছাভিলাষ। এইযাত্রার শুরু থেকে শেষ নিয়েই এই আনিমেটা।
প্রেরণা, প্রতিদ্বন্দিতা, প্রতিযোগিতা, সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা, অনুরাগ, ভালোবাসা সবই খুঁজে পাওয়া যায়। কিছু অংশে আলোকপাত করা হলো-

1512349_10201703181475852_2092669348_n

প্রেরণাঃ three rule of being mangaka if you arn’t genius
1. be conceited (believe you can do better than anyone else)
2. work hard
3. be lucky
এই কথাটি আসলে যেকোন লক্ষ্য পুরণ করার জন্য সত্যি, শুধু মাঙ্গাকা হওয়ার জন্যই না। সবসময়ই আমরা লক্ষ্য তৈরি করি, পরিশ্রম করি। কিন্তু ভুলে যাই সৌভাগ্যও একটা বড় অবদান আছে। তাছাড়া আমাদের হীনমন্যতাই মাঝে মাঝে আমাদেরকে পিছিয়ে নিয়ে যায়, সামনে আগাতে হলে কিছু দাম্ভিকতা থাকতেই হবে। তাকাগি ও মাশিরোর মাঙ্গা এডিটর কে নিয়ে আমরা ভাগ্যের উদাহরণ দেখতে পাই। একটা ভালো মাঙ্গা সৃষ্টী করার জন্য একজন ভালো এডিটর ও দরকার। এবং একজন উইনার এডীটর পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার। আর দেখা যাবে তাদের দুজনের একগুয়েমি সিদ্ধান্ত তাদের এগিয়ে নিয়ে গেছে! তাদের পরিশ্রম তাদেরকে সহয়তা করেছে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগের কারণেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছে।

1531599_10201703200756334_1864367_o

অনুরাগঃ Love has many different types of form
এই আনিমেতে অনেক ধরনের রোমান্স দেখতে পাই। প্রতিটাই প্রতিটা থেকে আলাদা এবং অনন্য। মাশিরো-মিয়োর প্ল্যাটোনিক ভালোবাসা যেমন আপনাকে বিস্মিত করবে তেমন তাকাগি-কায়া’র সহজ সম্পর্ক আপনাকে আনন্দিত করবে। তাছাড়া পার্শ্ব চরিত্রের প্রেমের একটা বিরাট ভূমিকা আছে এই আনিমেতে। আইকো, হিরামারু, নাকাই, আওকি এদের প্রত্যেকের অনুভূতির গভীরতা, উত্থান-পতন, কৌতুক, হাস্যরস, দৃঢ়তা, কলহ খুব সুন্দর ভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

 

1537414_10201703198116268_1552219425_o

প্রতিদ্বন্দিতাঃ “Eternal rivals, it should be written as formidable enemy but pronounced friend.”
শক্তিশালী ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দির উপস্থিতি এই আনিমেতে এক আকর্ষিত ও ভিন্ন দিক। ততকালীন মাঙ্গাকাদের নিয়ে গঠিত ফুকুদা টিম এর যেকাউকেই পছন্দ হবে,তারা তাদের পরস্পরের কাজকে সম্মান করে, অনুপ্রেরণা দেয়, সাহায্য করে আবার প্রতিযোগিতাও করে।এইযি দ্য জিনিয়াস ও তাকাগি-মাশিরো দুই পক্ষই অপর পক্ষকে দেখে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে যায়। নাকামা শব্দের নতুন এক দিক তুলে ধরা হয়েছে। টিপিকাল শৌনেন এর মত ব্যাটেল ফিল্ড না থাকলেও নিজেদের দক্ষতা দিয়ে তাদের মাঝের যে এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ, সেটা কোন অংশে কম না।

সবশেষে, এই আনিমে থেকে আপনি ইন্সপায়ার হওয়ার প্রচুর কারণ ও সুযোগ পাবেন। আপনার জীবন বদলে যাওয়া টাইপ অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।এবং স্বাগতম আপনাকে এই দুই তরুণের মাঙ্গাকা হওয়ার সফর-যাত্রায়। 🙂

 

মাঙ্গা-আনিমে মিক্সড রিভিউ: বাকুমান (Bakuman) – ফরহাদ মহসিন

বাকুমান মাঙ্গা পড়া এবং আনিমে দেখা, দুই ধরণের অভিজ্ঞতা হওয়ার পরেই রিভিউ লিখছি। কিছুটা পার্শিয়াল হতে পারি, আমার প্রথম পড়া স্লাইস অফ লাইফ। এবং সম্ভবত প্রথম আনিমে, যেটার মাঙ্গা পড়া থাকার পরেও অনেক আগ্রহ নিয়ে আমি আনিমেটা দেখেছি। এবং সত্যি বলতে এরকম মাঙ্গা আর হওয়া সম্ভব বলেই আমার মনে হয় না। পড়া শুরু করেছিলাম শুধুমাত্র এই কারণে যে বাকুমানের লেখক-আর্টিস্ট হচ্ছেন ডেথ নোটের লেখক-আর্টিস্ট সুগুমি ওহবা, তাকেশি ওবাতা। ডেথ নোটের কারণেই হয়তো অন্য কিছু আশা করে গেছিলাম। গিয়ে পেয়েছি পুরোপুরি অন্যরকম এক জিনিস। যাই হোক শুরু করি।

মরিতাকা মাশিরো আপাতদৃষ্টিতে একজন সাধারণ জাপানিজ মিডল স্কুল ছাত্র। সে একসময় খুব ভালো ছবি আঁকাতো, হতে চাইতো তার চাচা, মরিতাকা নবুহিরোর (যে কিনা কাওয়াগুচি তারো ছদ্মনামে মাঙ্গা লেখে) মত। কিন্তু চাচার মৃত্যুর পর বড্ড বেশি উদাসীন হয়ে পড়ে সে। তার বাবা-মা ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা সম্বন্ধে জানতে চাইলে কিছু বলতে পারে না, নিজের মত করে কোন স্বপ্ন দেখতে পারে না, পারে না আজুকি মিহো, যাকে অনেকদিন ধরে পছন্দ করে সে, তার সাথে গিয়ে কথা বলতে।

এই অবস্থায় হঠাৎ করেই তাকে অ্যাপ্রোচ করে ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্র তাকাগি আকিতো। জানায় তার স্বপ্নের কথা, সে হতে চায় জাপানের সবচেয়ে বড় মাঙ্গাকা। সে চায় মাশিরো তার লেখা গল্পের সাথে ছবি আঁকাক। মাশিরোকে কনভিন্স করানর জন্য সে তাকে নিয়ে যায় আজকি মিহো’র বাসায়। সেখানের কথোপকথন থেকেই মাশিরো আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করে, যে স্বপ্ন জড়িয়ে যায় আজুকি আর তাকাগির সাথে। বাকুমানের বাকি কাহিনী তাদের স্বপ্নপূরণের কাহিনী।

bakuman-349320

সামারি দেওয়া শেষ, এবার রিভিউ:

বাকুমানের ক্যারেক্টারাইজেশন বেশ ইন্টারেস্টিং। প্রধান দুই প্রোটাগোনিস্টের চরিত্র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুবই ভালোভাবে ডেভেলপড হয়েছে। তাকাগি’র লেখার স্টাইল, মাশিরোর আঁকার স্কিল, মোটকথা তাদের মাঙ্গার ধরণ নিয়ে এক্সপেরিমেন্টের সাথে সাথেই যেন তারা নিজেদের জীবন নিয়েও এক্সপেরিমেন্ট করতে থাকে।

এর প্যারালালি চলতে থাকে মাশিরো আর আজুকির প্রেমকাহিনী। এটা সম্বন্ধে আমি এতটুকুই বলব, বাকুমান পড়া/দেখার সময় একটা সময় গিয়ে এরকম একটা সম্পর্ক থাকার কথা আপনি নিজে চিন্তা করবেন না তা সম্ভবই না।

এবং তার সাথে আরেকটা যে সম্পর্কের কথা না বললেই না তা হল মাশিরো-তাকাগির সাথে, তাদের রাইভাল, নিজুমা এইজির সম্পর্কে। নিজুমা এইজি সম্ভবত বাকুমানের সবচেয়ে ‘রঙচঙে’ ক্যারেক্টার। পুরো সিরিজ জুড়েই যখনই প্যানেলে এইজি থাকে, মনোযোগ তার দিকে যেতে বাধ্য। ওয়ান পিস ফ্যানদের উদ্দেশ্যে বলছি, এইজির চরিত্র অনেকটাই ওয়ান পিসের মাঙ্গাকা এইচিরো ওদার কথা ভেবে লেখা। যাইহোক বাকুমান, সবকিছুর পরেও একটা শৌনেন মাঙ্গা। সুতরাং, এটাতে লড়াই থাকবেই। কিন্তু টিপিক্যাল শৌনেন লড়াই থেকে এখানকার সব লড়াইও অন্যরকম, প্রতিপক্ষরাও সবাই, শুধু এইজি না, অন্যরকম। এবং ‘Rivalry’ শব্দটা এত সুন্দরভাবে ডিফাইনড হতে আর কোন মাঙ্গা/আনিমেতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না।

বাকুমানের সাপোর্টিং কাস্ট খুবই ভালো, শুধুমাত্র মূল চরিত্রগুলো না। সাইড ক্যারেক্টার হিসেবে এসে ফুকুদা শিনতা বা আওকি কো যদি আপনার প্রিয় চরিত্র হয়ে যায়, তাও আসলে কিছু বলার নাই। বাকুমানের ব্যাপারে একটা অভিযোগ আসে যে এর নারী চরিত্রগুলো সেভাবে ডেভেলপড না। প্রথম দিকে কখনো কখনো এটা মনে হলেও পরের দিকে গিয়ে এটা মোটামোটি কাটিয়ে ওঠেন ওহবা সেনসেই।

ক্যারেক্টারাইজেশন নিয়ে অনেক কথা হয়ে গেছে। গল্প নিয়ে একটু বলি। মনে হতে পারে দুজন উঠতি মাঙ্গাকার জীবনে কি এমন ঘটতে পারে যা নিয়ে মাঙ্গাই লিখে ফেলা সম্ভব। বাস্তব-অবাস্তব সব ধরণের সিনারিও মিলিয়ে পুরো গল্পটা আসলেই অনেক অসাধারণ। আর আগে যেরকম বললাম, শৌনেন মাঙ্গার লড়াই সম্বন্ধে আপনার আইডিয়াটাই পরিবর্তিত হয়ে যাবে বাকুমানের পর। তারপর, ডেথ নোটের আর এটার মাঙ্গাকা একই শুনে যারা ভাবছেন, তাহলে নিশ্চয়ই খুব গম্ভীর ধরণের সেটাপ হবে, হাসির এলিমেন্ট থাকবে না, তারাও ভুল করছেন। বাকুমান স্টোরির সেটাপ, ডায়ালোগ, ক্যারেক্টার বিহেভিয়ার সব কিছু মিলিয়েই প্রচণ্ড হাস্যরসাত্মক একটি মাঙ্গা, গ্যাগ মাঙ্গা না হয়েও।

যাই হোক, শেষ কথা হচ্ছে: কখনো যদি আপনি লিখালিখি বা এ ধরণের কিছুর জন্য কলম হাতে নিয়ে থাকেন, ছবি আঁকা যদি আপনার প্যাশন হয়ে থাকে, যদি মারত্মক উচ্চাভিলাষী কোন স্বপ্ন থেকে থাকে আপনার, অথবা আপনি যদি এখনও ভীষণ রোমান্টিক কোন আইডিয়া নিয়ে বসে থাকেন, বাকুমান আপনার ভাল্লাগবেই।

এবং নিশ্চিত ভাবেই প্রকৃত মাঙ্গাকাদের জন্য, মাঙ্গা/আনিমের সাথে জড়িত সবার জন্য একটা অন্যরকমের সম্মান তৈরি হয়ে যাবে।

রেটিং:

মাঙ্গা: MyAnimeList rating: 8.54, আমার রেটিং: 9.5

আনিমে: MyAnimeList: 8.36, আমার রেটিং 8

Bakuman。.full.1225692