Aoi Bungaku Series [রিভিউ] — Barkat Hridoy

শুরু করি কবির ভাষায়,
কবি বলেছেন :
“যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখো তাই,
পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন”

এনিমের এই বিশাল দুনিয়াকে একটা ছাইয়ের গাদার সাথে তুলনা করা যেতেই পারে। এনিমের এই গাদায় ছাই (পড়ুন আজেবাজে এনিমে) অনেক থাকলেও ‘রত্ন’ খুব কমই আছে যা আমাদের বেশিরভাগরই দৃষ্টিগোচর থাকে। ঠিক তেমনই একটি রত্ন ‘আওই বুঙ্গাকু’।

aoi-bungaku-series-1

এনিমে: আওই বুঙ্গাকু সিরিজ (Aoi Bungaku Series)
জনরা: ড্রামা, সাইকোলজিকাল, সেইনেন, হিস্টোরিকাল, থ্রিলার
পর্ব: ১২
স্টুডিও: ম্যাডহাউস

Synopsis: জাপানের ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা ছয়টি উপন্যাস/গল্পের অ্যাডাপ্টেশন নিয়ে তৈরি এই এনিমে সিরিজ। গল্পগুলো হলো: ওসামু দাজাইয়ের ‘নো লংগার হিউম্যান’ ও ‘রান!মেলস’, আঙ্গো সাকাগুচির ‘আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম’, নাতসুমে সোসেকির ‘কোকোরো’ এবং আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের ‘ দ্য স্পাইডারস থ্রেড’ ও ‘হেল স্ক্রিন’।প্রতিটি গল্প ভিন্ন এবং ভিন্ন ভিন্ন দিক তুলে ধরে।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
সাইকোলজিকাল এনিমে মানেই যে ‘মাথার তিন হাত উপর দিয়ে যাওয়া ‘ স্টোরি বা ভুরি ভুরি গোর সিন ওয়ালা সিরিয়ালকিলিং সাইকোপ্যাথদের কাহিনী না, তার উৎকৃষ্ট উদাহরন হলো ‘আওই বুঙ্গাকু’। এ সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন পর্যায় আর এ পর্যায়কালীন সময়ে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো।এর স্টোরিগুলো এতটাই ক্যাচি আর থ্রিলিং যে দেখতে দেখতে কখন যে সিরিজের চরিত্রগুলোর সাথে এক হয়ে যাবেন আর তাদের সুখ-দুঃখ,কষ্ট,বেদনা আপনার সুখ- দুঃখ হয়ে গেছে বুঝতেও পারবেন না।

aoi-bungaku-series-2

প্রতিটি স্টোরি একে অপর থেকে আলাদা। তাই প্রতিটি স্টোরির আলাদা আলাদা ইনসাইট/রিভিউ তুলে ধরলাম:

নো লংগার হিউম্যান:
সিরিজের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় গল্প। লেখক ওসামু দাজাইয়ের অনবদ্য এই সৃষ্টি অনেকটা অটোবায়োগ্রাফি ই বলা যেতে পারে কেননা লেখক প্রায় নিজের জীবনের কথায় কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। চার এপিসোডের এ গল্পে দেখানো হয়েছে ধনী,হতাশাগ্রস্থ ও প্রত্যাশার ভারে পিষ্ট এক তরুনের সমাজে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা।কোনো মানুষের জীবন যে এতটা দুঃখজনক আর ডিপ্রেসিং হতে পারে তা নো লংগার হিউম্যান না দেখলে জানা সম্ভব না। চিরকাল মনে দাগ কাটার মত ক্ষমতা রাখা এ গল্পটি কেন জাপানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রিত ও সর্বাধিক পঠিত গল্প/উপন্যাস তা দেখলেই জানতে পারবেন।

আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম:
সিরিজের সবচেয়ে টুইস্টেড স্টোরি আর বড় ফ্ল বলা যায়। ফ্ল বলার কারণ হলো এর খারাপ অ্যাডাপ্টেশন। কারন বইয়ে যেখানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একধরনের ইন্টেসিটি ছিল এনিমেতে তা অনুপস্থিত।সেই সাথে প্রেজেন্টেশনও হতাশাজনক ছিল।

কোকোরো:
নাতসুমে সোসেকির অসাধারন সৃষ্টি এবং জাপানের সর্বোচ্চ বিক্রিত উপন্যাস। দুই এপিসোডের এ গল্পতে একটি ত্রিভুজ প্রেম দেখানো হয়েছে।কিন্তু নতুনত্ব হলো, এখানে দুই ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদা আলাদাভাবে গল্পটিকে দেখানো হয়েছে। আমাদের মধ্যে একজনের দৃষ্টিকোণ অন্যজন থেকে কতটা ভিন্ন হতে পারে তাই তুলে ধরা হয়েছে।আর নামের সার্থকতা রক্ষার স্বার্থেই কিনা এটি আপনার ‘কোকোরো’ নিয়ে খেলবে এবং তা চুরমার করবে। কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও এটি সিরিজের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং গল্প।

রান!মেলস:
সিরিজেরএকমাত্র প্যাঁচগোছহীন গল্প। Damon and Pythias নামক এক গ্রিক লেজেন্ড দিয়ে তৈরি নাটিকার সাথে তুলনা করে দুই বন্ধুর বন্ধুত্বের গল্প বলা হয়েছে। হার্টওয়ার্মিং একটা গল্প।

দ্য স্পাইডারস থ্রেড:
‘ডুবন্ত মানুষ খড়কুঁটো ধরেও বেঁচে থাকতে চায়’ কথাটির জাপানিজ সংস্করণ হলো দ্য স্পাইডারস থ্রেড। পার্থক্য শুধু খড়কুটোর বদলে এখানে মাকড়শার সুতাকে দেখানো হয়েছে।একজন মৃত্যুভয়হীন গুপ্তঘাতক যখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছায় তখন তার মধ্যে জেগে উঠা বেঁচে থাকার অদম্য চেষ্টাকে এ গল্পে তুলে ধরা হয়েছে। আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের লেখা এ ছোট গল্পটি মূলত বাচ্চাদের জন্য লেখা হলেও এনিমেতে ম্যাচিউর দর্শকদের উপযোগী করে তুলে ধরা হয়েছে। এর মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো ভালো ছিল।

হেল স্ক্রিন :
আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের এ ছোটগল্পকে দুটি শব্দে প্রকাশ করা যায় এবং সেটি হলো ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’। এতে দেখানো হয়েছে এক সৎ চিত্রশিল্পী ও তার মেয়ের কথা এবং তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর গল্প। এটির গল্প যেমন আপনার রক্ত হিম করে দিবে ঠিক তেমনি এর সৌন্দর্যে আপনি অস্ফুটে বলে উঠবেন ‘অসাধারন!’। অসাধারন একটি অ্যাডাপ্টেশন। আমার পার্সোনাল ফেভারিট।

আরেকটা কথা না বললেই নয়, প্রতি গল্পের শুরুতে সে গল্পের লেখক সম্পর্কিত টীকাগুলো অসাধারন ছিল।

aoi-bungaku-series-3

আর্ট ও অ্যানিমেশন:
প্রথমে আসি অ্যানিমেশনে,আমার দেখা স্টুডিও ম্যাডহাউসের কাজগুলোর মধ্যে বেস্ট। গল্পের ভাব বুঝে কালার আর অ্যানিমেশনের এত সুন্দর প্রেজেন্টেশন আর কোনো এনিমেতে দেখিনি। মন খারাপ করা পরিবেশ থেকে রঙে পরিপূর্ণ পরিবেশের পরিবর্তনগুলো(আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম বাদে) অসাধারন লেগেছে।

আর্ট অসাধারন। বিখ্যাত মাঙ্গাকারা আর্ট করেছেন তাই অসাধারন হওয়াটাই স্বাভাবিক।এনিমের পোস্টারে বসে থাকা ক্যারেক্টারকে দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, “আরে! ইয়াগামি লাইট না!!” এর কারন হলো এ এনিমের পোস্টার এবং দুটি গল্প নো লংগার হিউম্যান আর কোকোরো এর জন্য আর্ট করেছেন মাঙ্গাকা ‘তাকেশি ওবাতা'(ডেথনোট,বাকুমা­ন,প্লাটিনা এন্ড)।এছাড়া আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম, দ্য স্পাইডারস থ্রেড, হেল স্ক্রিনের আর্ট করেছেন ‘টিটে কুবো'( ব্লিচ)। রান মেলসের জন্য আর্ট করেছেন ‘তাকেশি কোনোমি'( প্রিন্স অফ টেনিস)।

aoi-bungaku-series-4

সাউন্ড ও মিউজিক:
এনিমের দূর্বল জায়গা বলা যায়। সিরিজে কোনো ওপেনিং সং ছিল না আর এন্ডিংটা আমার শোনা সবচেয়ে বাজে এন্ডিং সংয়ের মধ্যে একটা। তবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মোটামুটি ভালো ছিল।

এন্জয়মেন্ট:
একটি এনিমের এন্জয়মেন্ট বড় একটি বিষয় কেননা দিনশেষে এনিমেটি এন্জয় করেছি কিনা সেটাই মূখ্য। এক্ষেত্রে আওই বুঙ্গাকুর এন্জয়মেন্টকে অনেকটা মরুভূমি ভ্রমনের সাথে তুলনা করা যায়। মরূভুমির মতো এনিমেটিরও পুরো পথ পাড়ি দিতে অনেক কষ্ট হতে পারে, এ পথ হয়ত মাঝেপথেই শেষ করতে চাইবেন।কিন্তু ধৈর্য্য ধরে যদি পথটি শেষ করতে পারেন তবে এটি হতে পারে আপনার সেরা ভ্রমনের একটি। তাই দেরী না করে দেখে ফেলুন জাপানী সাহিত্যেকে অসাধারনভাবে ফুঁটিয়ে তোলা মারাত্মকরকমের সুন্দর এবং দূর্দান্ত এই এনিমেটি।

My Animelist Rating: 7.92
Personal Rating: 9

aoi-bungaku-series-5

প্লানেটিস [রিভিউ] — Barkat Hridoy

Planetes 1

*** ঈদ স্পেশাল এনিমে রিকমেন্ডেশন+ ছোট এনিমে রিভিউ****

এনিমে: প্লানেটিস (Planetes)
জনরা: সাই-ফাই,ড্রামা,রোমান্স,সেইনেন,স্পেস
এপিসোড: ২৬
স্টুডিও: সানরাইজ

মহাকাশ নিয়ে মানুষের আকর্ষণ সেই আদিমকাল হতেই। মানুষ প্রতিনিয়তই চাইছে মহাকাশের সকল অজানাকে জানতে, মহাকাশের অজানা স্থানগুলো সবার আগে আবিষ্কার করতে ।যা Star Trek এর Captain Kirk এর ভাষায়, “To boldly go where no man has gone before”। ভবিষ্যতে কোনো এক সময় হয়ত মানুষ এতে সফলও হবে। যখন মহাকাশ যাত্রা শুধু স্বপ্ন থাকবে না, হবে বাস্তব। তখন কিরকম হবে আজকের পৃথিবী? তখন মানুষের জীবনধারাই বা কেমন হবে?

Synopsis:
সাল ২০৭৫। মানুষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক উন্নতি করেছে। চাঁদ কিংবা মঙ্গলে যাওয়া এখন আর কোনো স্বপ্ন নয় বরং অনেক বাস্তব! এতটাই বাস্তব যে চাঁদ এখন মানুষের ছুটি কাটানোর জনপ্রিয় জায়গা!! কি নেই এখানে? দালানকোঠা, হাসপাতাল,গবেষণাগার সবই আছে।আরও আছে এই চাঁদ আর পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থানরত অসংখ্য স্পেস স্টেশন ও কৃএিম উপগ্রহ। মানুষ আছে, এতশত জিনিশ আছে, আর আবর্জনা থাকবে না? তা কখনো সম্ভব?

আবর্জনাও আছে। কিন্তু এই আবর্জনা স্পেস ডেভেলপমেন্টের জন্য একটি বড় বাধা কেননা সামান্য আবর্জনা থেকেও ঘটতে পারে বিশাল দূর্ঘটনা। আর এসব আবর্জনা পরিষ্কারের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত, তাদের বলা হয় ডেব্রি(Debris) কালেক্টর।
স্পেস স্টেশনগুলোতে থাকা হাজারো কোম্পানীর মাঝে একটি – “টেকনোরা”-‘র ডেব্রি সেকশনে নতুন যোগদান করল জাপানী তরুণী ‘আই তানাবে’। তার নতুন কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে যা ধারনা ছিল তা প্রথম দেখাতেই তা সম্পূর্ণ বদলে গেল।পৃথিবীতে আবর্জনা পরিস্কারকারীদের মত মহাকাশের আবর্জনা পরিস্কারকারীরাও অবহেলিত,সকলের হাসির পাত্র।যদিও তারাই জীবন বাজী রেখে এই কঠিন কাজ করে যাচ্ছে। এই অচেনা পরিবেশে, অচেনা সহকর্মীদের সাথে জীবনযাপন, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার – ‘আই তানাবে’ এর এই পথচলাকে কেন্দ্র করেই তৈরি ‘প্লানেটিস’, যা একইসাথে স্বপ্ন,জীবন,বাস্তবতা আর একটি মিষ্টি ভালোবাসার গল্প।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
‘প্লানেটিস’ এর বড় শক্তি এবং আকর্ষনীয় দিক এর গল্পের বাস্তবিকতায়। সাল ২০৭৫ নিয়ে চিন্তা করতে গেলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে হাই টেক গ্যাজেট কিংবা সম্পূর্ন রোবট নির্ভর একটি পৃথিবীর চিত্র। কিন্তু আদতেই কি আমরা তাই পাব? উত্তরটা না বোধকই হওয়ার কথা।কেননা এত স্বল্প সময়ে এতটা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। কেমন পৃথিবী পাবো সম্ভবত তার সবচেয়ে আদর্শ রূপটাই তুলে ধরেছে প্লানেটিস।তাছাড়াও প্লানেটিস বিজ্ঞাননির্ভর।প্রায়ই সাই-ফাই এনিমেতে বিজ্ঞানের সূত্রকে তূড়ি মেরে বিভিন্ন কাজ করতে দেখা যায়।কিন্তু প্লানেটিসে অনেকটা বিজ্ঞানসম্মত ভাবেই সবকিছু যেমন: গ্র্যাভিটি, স্পেস স্টেশন,স্পেস ওয়াক, স্পেস সিকনেসের মত বিষয়গুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এবার আসি গল্পে। পুরো এনিমেকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম অংশকে অনেকটা এপিসোডিক স্লাইস অফ লাইফ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু এই এপিসোডিক পর্বের মধ্যে চরিত্রদের মধ্যকার ইন্টারেকশন গুলোই গল্পের পরবর্তী অংশের জন্য শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।দ্বিতীয় অংশ টা অনেক ডার্ক, রোমান্চকর এবং চিন্তাউদ্দোপক। যাতে আছে পুঁজিবাদ,সাম্রাজ্যবাদ, রাজনীতি,জীবন শিক্ষা এবং মিষ্টি ভালোবাসার ছোয়াঁ। এত সবকিছু খুব সুন্দরভাবে কোনো ফ্ল ছাড়াই তুলে ধরা হয়েছে। এ অংশ অনেকটা এই বার্তাই দিয়ে যায় যে, পৃথিবীর বাহ্যিক পরিবর্তন যতই ঘটুক না কেন ভেতরটা সেই আগের মতই থাকবে।আর এন্ডিং নিখুঁত।এর থেকে ভালো এন্ডিং হতে পারেনা।

ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
এনিমেতে প্রধান ক্যারেক্টার হিসেবে তানাবে আর হাচিমাকিকে দেখানো হলেও এনিমের প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং প্রায় প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্টই ছিল অসাধারন যা সচরাচর দেখা যায় না। স্পেশালি হাচিমাকির ডেভেলপমেন্ট আমার দেখা বেস্ট ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের মধ্যে একটি।একগুঁয়েমিতা ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পিছনে দৌড়ানো, নিজের ভয়কে জয় কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন সবকিছুই একটা নির্দিষ্ট পেসে খুব সুনিপুন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া তানাবে, ফি, ইউরিরাও ক্যারেক্টার হিসেবে ছিল অসাধারন।

আর্ট ও আ্যনিমেশন:
নিঃসন্দেহে সানরাইজ স্টুডিও এর বেস্ট কাজগুলোর একটি প্লানেটিস। আর্ট, আ্যনিমেশন, ক্যারেক্টার ডিজাইন, ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইন সবকিছুই টপনচ ছিল।

কিছু কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড এনিমেশন যেমন স্পেস থেকে দেখা সূর্যোদয়ের দৃশ্য, স্পেস স্টেশনের দৃশ্যগুলো দূর্দান্ত ছিল।

সাউন্ড ও মিউজিক:
এনিমেতে ওপেনিং হিসেবে আছে Mikio Sakai এর “Dive in the Sky” এবং ১ম এন্ডিং হিসেবে আছে একই গায়িকার “Wonderful Life”। দুটোই মোটামুটি ভালো। তবে প্লানেটিসের আসল আকর্ষণ এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে ‘Hitomi Kuroishi’ অসাধারন কাজ করেছেন। ইন্সার্ট সং হিসেবে থাকা তার গাওয়া “A secret of the moon” এবং দ্বিতীয় এন্ডিং “Planetes” সারাদিন লুপ দিয়ে শোনার মত গান।

এন্জয়মেন্ট:
ভাল এনিমে খুজঁছেন? সাই-ফাই লাভার? স্পেস বিষয়ক জিনিস ভালো লাগে? হলিউডের “গ্র্যাভিটি” মুভির ভক্ত? ক্লিশে শৌনেন, স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের প্রেম দেখতে দেখতে বিরক্ত? প্রিয়তমাকে ভিন্নভাবে প্রেম নিবেদন করতে চান?

সোজা দেখতে বসে যান এই মাস্টারপিস এনিমেটি।ইউনিক স্টোরি, অসাধারন এক্সিকিউশন,সুথিং মিউজিক, দূর্দান্ত ক্যারেক্টার সমৃদ্ধ এই এনিমেটি আপনাকে হাসাবে,নতুন করে ভাবাবে,মনে রোমান্চ জাগাবে এবং শেষে প্রশান্তি জোগাবে। এজন্যই ‘প্লানেটিস’ অনন্য, পার্ফেক্ট এনিমে এবং ট্রু মাস্টারপিস। তাই দেরী না করে দেখে ফেলুন ‘প্লানেটিস’।

MyAnimelist Rating: 8.30
Ranked: #160
Personal Rating: 10

Planetes 2

গানগ্রেভ (Gungrave) [রিভিউ] — Barkat Hridoy

Gungrave

এনিমে: গানগ্রেভ (Gungrave)
জনরা:অ্যাকশন, ড্রামা, সাই-ফাই, সুপারন্যাচারাল, সেইনেন
পর্ব: ২৬
লেখক: ইয়াসুহিরো নাইতো (Trigun, Kekkai Sensen)
স্টুডিও: ম্যাডহাউস

‘বন্ধুত্ব ‘। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বন্ধনের মধ্যে একটি। এ বন্ধনটির গভীরতা বোঝাতে আমরা প্রায়ই বলে ফেলি যে, ” বন্ধুর জন্য জীবনও দিতে পারি।” কিন্তু আদতেই কি তা আমরা করতে পারি?

Synopsis: হ্যারি ম্যাকডয়েল ও ব্রান্ডন হিট শৈশবকালের দুই বন্ধু। তারা দুজন ও সাথের আরো তিন বন্ধু মিলে তাদের ছোট একটি গ্যাং যাদের কাজ শহরের মানুষের জিনিশপত্র চুরি করা এবং স্থানীয় অন্য গ্যাং এর সাথে মারামারি করা।কিন্তু ঘটনাচক্রে ও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, এক রাতে তারা সম্মুখীন হয় পৃথিবীর নির্মমতার।এতে তাদের সকলের জীবন পাল্টে যায়। ঘটনাক্রমে হ্যারি ও ব্রান্ডন যুক্ত হয়ে যায় সেখানকার সবচেয়ে প্রভাবশালী মাফিয়া ‘মিলেনিয়ন’ এর সাথে।যার মূলমন্ত্র “বিশ্বাঘাতকতা মানেই মৃত্যু “। হ্যারি যে কিনা উচ্চাভিলাষী, তার স্বপ্ন সে এই মাফিয়া গ্রুপের ‘বস’ হবে এবং সে তার বন্ধু ব্রান্ডনকেও এ স্বপ্নের সারথি হবার আহ্বান জানায়। ব্রান্ডন কি তার বন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিবে? সে কি নিজের জীবন বন্ধু হ্যারি এর জন্য উৎসর্গ করবে?

গানগ্রেভ একই সাথে একটি বন্ধুত্বের গল্প, একটি ভালবাসার গল্প এবং একটি বিশ্বাসঘাতকতার গল্প….।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
গানগ্রেভ এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর শিহরণ জাগানো স্টোরি এবং স্টোরি টেলিং।পুরো এনিমের স্টোরিকে দুভাগে ভাগ করা যায়।প্রথম ভাগ(২-১৫)
এক কথায় দূর্দান্ত। গল্প শুরু হবার সাথে সাথেই গল্পের অসাধারন পেসিং ও গভীরতায় আপনি ডুবে যাবেন ।গল্পটি চুম্বকের মত আপনাকে স্ক্রিনের সাথে আটকে রাখবে।কিভাবে যে একের পর এক এপিসোড দেখে যাবেন টের ও পাবেন না।
তবে দ্বিতীয় ভাগ অর্থাৎ ১৬তম এপিসোডের পর এর পেসে কিছুটা ভাটা পড়ে।তাছাড়া সুপারন্যাচারাল কন্টেন্টগুলো একটু খাপছাড়া মনে হলেও শেষটুকু আপনাকে একধরনের অভাবনীয় তৃপ্তি দিতে বাধ্য।যা অনেকটা ‘Bittersweet’ এন্ডিং হিসেবেও ধরে নেওয়া যায়।

ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
এনিমেতে মূলচরিত্র দুজন হলো হ্যারি এবং ব্রান্ডন। চারিত্রিক বৈশিষ্টে্যর দিক দিয়ে দুজন দুই মেরুর।হ্যারি ধূর্ত, বাচাল,উচ্চাভিলাষী,নারীপ্রেমী।অসাধারন বুদ্ধিমত্তা, কুটিলতা এবং তার মাল্টিলেয়ারড পারসোনালিটি, তাকে করেছে অনন্য। অন্যদিকে, ব্রান্ডন স্বল্পভাষী,সৎ,সাহসী। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ব্রান্ডন হ্যারির বিপরীত হলেও তার চিন্তাধারা আপনাকে ভাবাতে বাধ্য করবে।

এছাড়াও এনিমেতে পার্শ্বচরিত্র হিসেবে অনেক চরিত্র দেখা যায়।মারিয়া,বিগ ড্যাডি,ব্যালার্ডবার্ড লি, বেয়ার ওয়াকেন, বব, বুনজি দের পার্শ্বচরিত্র হিসেবে দেখালেও এদের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা মূলচরিত্র হতে কোনো অংশেই কম ছিল না। এবং প্রত্যেকটি চরিত্রের ডেভেলপমেন্ট ছিল চোখে পড়ার মত।যা এনিমেটিকে করেছে আকর্ষনীয়।

আর্ট ও আ্যনিমেশন:
গানগ্রেভ স্টুডিও ম্যাডহাউসের নির্মিত হলেও এতে স্টুডিও ম্যাডহাউসের চকচকে আ্যনিমেশন নেই।বরং এতে রয়েছে ক্লাসিক ধাঁচের আ্যনিমেশন। ব্যাকগ্রাউন্ড ইউরোপীয় ধাঁচের।হয়ত অতটা আহামরি আ্যনিমেশন নয় তবে এনিমের সাথে মানানসই।তাছাড়া গান ফাইটিং সিনগুলো যথেষ্ট ভালো।

ক্যারেক্টার ডিজাইন ও আর্টের ক্ষেত্রেও একি কথা। ক্লাসিক ক্যারেক্টার ডিজাইন ও আর্টওয়ার্ক। তবে ফিমেইল ক্যারেক্টারদের তুলনায় মেইল ক্যারেক্টারদের বিশাল দেহ (মারিয়া বাদে) একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে।এছাড়া সুপিরিয়রদের ক্যারেক্টার ডিজাইনও অনেকটা উদ্ভট ছিল।

সাউন্ড ও মিউজিক:
গানগ্রেভে হয়ত সেরকম আহামরি মিউজিক নেই কিন্তু মিউজিকগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

পুরো এনিমেতেই ওয়েস্টার্ন ধাঁচের মিউজিকের ব্যবহার দেখা যায়।ওপেনিং সং হিসেবে আছে সুনেও ইমাহোরি এর
“Family” যা এই ধরনের এনিমের জন্য উপযুক্ত।এন্ডিং সং হিসেবে আছে ‘Scoobie Do’ এর “Akaneiro ga Moerutoki “। কিন্তু এই এনিমের অসাধারন দিক এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো চমৎকার ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, স্পেশালি ইমোশনাল মুহূর্তগুলোতে ব্যবহৃত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো আপনার মনে গেথেঁ যাবে।

এন্জয়মেন্ট:
পুরো এনিমেটা আমার কাছে অসাধারন লেগেছে। প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি।শিহরন জাগানো স্টোরি, দূর্দান্ত চরিএ, জোস ফাইটিং সিন, অসাধারন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, গল্পের উপস্থাপন এনিমেটিকে অন্য ৮-১০টি এনিমের তুলনায় করেছে অনন্য।’ট্রাইগান’ কিংবা মাফিয়া বেসড এনিমে পছন্দ হলে এটি মাস্ট ওয়াচ। তাছাড়া রোজকার স্কুল সেটআপ এনিমে থেকে মুক্তি পেতে চাইলে অর্থাৎ একটু ম্যাচিউর (এচ্চি নেই) এনিমে দেখতে চাইলে ‘গানগ্রেভ ‘ আপনার জন্য আদর্শ এনিমে। তাহলে আর দেরী না করে দেখে ফেলুন ইয়াসুহিরো নাইতোর অসাধারন সৃষ্টি ‘গানগ্রেভ’!!

MyAnimelist Rating: 7.98
Personal Rating: 8.5

P.S: এনিমেটির প্রথম এপিসোড দেখবেন না!!! কেননা বিশাল স্পয়লার পেয়ে যাবেন।
তাই দ্বিতীয় এপিসোড থেকে দেখা শুরু করুন