Majin Tantei Nougami Neuro [রিএকশন/রিকমেন্ডেশন] — Bashira Akter Anima

Majin Tantei Nougami Neuro

গত কয়দিনে রাতে মশার কামড় খেয়ে-ঘুম মেরে এবং নানান হাবিজাবি করে Majin Tantei Nougami Neuro এনিমে টা দেখলাম। আমার আবার রিকমেন্ডেশন দেখে এনিমে বের করার হালকা অভ্যাস আছে আর নতুন এনিমে দেখলে সিনোপসিস বা রিভিউ একটু পড়ে ফেলি হয়তো সেটা ভালো অভ্যাস না তাও পড়ে ফেলি। এইটার রিভ্যু ভালো দেখলেও কাহিনী কেমন জানি সাদামাটা লাগতেছিলো। এনিমে এর ঘটনা হইলো নেওরো নামের এক ডেমন হেল এর সকল মিস্ট্রি সল্ভ করে পৃথিবীতে আসছে পৃথিবীর মিস্ট্রির আশায়। তার রহস্যের ক্ষুধা মিটছিলোই না যেনো। এখানে এসে সে এক হাইস্কুলের মেয়ের সাথে পার্টনারশীপ করে কারণ এখানে সে নিজের পরিচয় রিভিল করবে না। তাই সকল রহস্য সমাধানে সে মূলে থাকলেও সবাই জানে যে হাইস্কুল ডিটেকটিভ ইয়াকো ই সব রহস্যের সমাধান করে। দুনিয়ার সবার সামনে সে সেনসেই সেনসেই করে আহ্লাদ করলেও পিছনে মেয়েটারে কিলাইয়া, ঘুষাইয়া, পিডাইয়া সে অস্থির। এভাবে ঘটনা আগায় প্রতি পর্বেই নতুন রহস্য তবে একটা চলমান বিশাল রহস্যের উপস্থিতি ও পাওয়া যায় যার সাথে জড়িয়ে যায় সবাই।

আমি ভাবলাম কি না কি, দেখি এমনে এক-দুই পর্ব। এই এনিমে থেকে যদি এটা আশা করা যায় যে এখানে নানান ক্লু থাকবে এরপর সেগুলা ধরে অপরাধী ধরবে সেটা এখানে নাই। অনেক অপরাধীকে আগে থেকেই বুঝা যায়, বা নেওরো বিভিন্ন হেল থেকে আনা টুল ব্যবহার করে ধুম ধাম করে সব ধরে ফেলে। কিন্তু মজার ব্যাপার হয় যখন অপরাধী ধরা পরে তখন সে তার আসল সত্ত্বার রূপ ধারণ করে। একটা সময় খেয়াল করলাম আমি এই পার্ট টার জন্য বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতেছি। আমার ১২ পর্বে আঁটকা পড়ার অভ্যাস আছে, অনেক এনিমে দেখতে পারি না কিন্তু দেখলাম কেমনে জানি এটা আমি ২৫ পর্ব দেখে ফেলছি। রিভ্যু পড়ে দেখলাম অনেকের ই এই অবস্থা হইছে, প্রথমে কাহিনী পড়ে লেইম লাগলেও দেখতে গিয়ে বেশ মজা পাইছে। উইকি তে পরে দেখলাম এটার মাঙ্গা টা বেশি জনপ্রিয় ছিলো, এনিমেটা এত না। অবশ্য মাঙ্গা মনে হয় না পড়বো। ভালো লাগছে এটাই আসল। আর ২৫ পর্বের এনিমে দেখে আমার সফলতা এই যে আমি নারুহোদো মানে যে I see এটা শিখছি। 😐 এরপর এনিমে শেষের দুঃখে তাদের নানান ফ্যান আর্ট ডাউনলোড করে স্বান্তনা দিছি নিজেকে।

A Poet’s Life [মুভি রিভিউ] — Bashira Akter Anima

a-poets-life

A Poet’s Life নামে একটা শর্ট স্পপ মোশন মুভি দেখে শেষ করলাম এখন। বরাবরের মতোই আমার এমন জিনিস ভালো লাগে, সেটা যদি এরকম উইয়ার্ড হয় তাহলে তো কথাই নাই।
গল্পের শুরুতে দেখা যায় এক কারখানার শ্রমিককে যে কিনা চাকরী হারায় কারখানার মালিকের সাথে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বাক-বিতন্ডায়। বিষন্ন শ্রমিক বাড়িতে পড়ে থাকে হতাশায়। বাড়িতে তার সাথে থাকে বৃদ্ধা মা যে কিনা সর্বদায় সুতা তৈরীতে ব্যস্ত।

সুতো বুনতে বুনতে তিনি ক্লান্ত যেনো, একদম তিলে তিলে ক্ষয় হয়ে গিয়েছেন জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে। তেমনি সেদিন ক্লান্ত মা সুতো বুনে শেষ করলেন, বরাবরের মতোই ক্লান্ত ছেলে ঘুমিয়ে পড়েছে মেঝেতেই। ঠিক তখনই এক অদ্ভুত কান্ড ঘটে গেলো, হঠাৎ করে নিজেই যেনো সুতোতে বনে গেলেন তিনি। অবশ্য এটা হওয়াই হয়তো বাকী ছিলো। সবার অন্তরালে ঘুমন্ত ছেলেকে পাশে রেখে সুতোর বান্ডিলে পরিণত হলেন তিনি। সেই সুতো এই হাত থেকে সেই হাতে হলো স্থানান্তর।
কারখানার মালিকরা তাদের আনন্দে মশগুল, সেই আনন্দে পিষে যাচ্ছে কারখানার শ্রমিকেরা। বিষন্ন-হতাশ-দরিদ্র শ্রমিকেরা বেঁচে থাকার লড়াইয়ে যেখানে হেরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত সেখানে উঁচু শ্রেণীর মানুষেরা ব্যস্ত কি করে ব্যবসাতে আরো লাভ করা যায়। কিন্তু সেই হতাশা-বিষন্নতা যেনো পৃথিবীকে ঘিরে ফেললো, ঘিরে ফেললো শহরবাসীকে শুরু হলো প্রচন্ড তুষারঝড় এবং ঠান্ডা। যার কাছে কোনো শ্রেণীর ভেদাভেদ নেই, ধনী-গরীব কাউকে সে মানে না, কখনো মানেও নি। এইখানে হেরে যেতে লাগলো সেই উঁচু শ্রেণীর মানুষেরা।
সিনেমাটাতে প্রচন্ড বিষন্নতায় ভরপুর হলেও কি করে যেনো শেষ দৃশ্যে এক টুকরো আনন্দ যেনো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দেখানো হয়েছে বৃদ্ধা মা এর ছেলের প্রতি অসীম ভালোবাসা এবং সবশেষে কবি হিসেবে নিজেই যেন আবিষ্কার করা নিজের কাছে।

**এনিমেশন টা চমৎকার লেগেছে আমার কাছে, সবচেয়ে বেশি ভাল্লাগছে আমার সুতো হয়ে যাবার অংশটা। গল্প লেখলে এই অংশটা বলা যত সহজ কিন্তু ভিজ্যুয়ালি এই জিনিসটাই পোট্রে করা এবং দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করা ততটাই কঠিন বলে আমি মনে করি। কিন্তু আমি দেখে পুরা ওয়াও অবস্থা। আহ ভাল্লাগছে।

The Story of Mr. Sorry [মুভি রিভিউ/রিএকশন] — Bashira Akter Anima

The Story of Mr. Sorry 1

যেহেতু আমার আজাইরা লেইম অথবা উইয়ার্ড জিনিসের প্রতি একটা টান আছে সেই হিসেবে একটু আগে দেখা শেষ করলাম কোরিয়ান একটা এনিমেশন মুভি “দি স্টোরি অফ মিস্টার সরি” যদিও জিনিসটা জাপানিজ না কিন্তু এর আগে হয়তো একটা দুইটা কোরিয়ান জিনিস নিয়ে আলোচনা হতে দেখছিলাম বলে ভাবলাম দেখার রিএকশন টা লিখে যাই।

মুভির শুরুতে দেখায় এক টক শো নয়তো বিচারকের ঘর। পক্ষে বিপক্ষে বিভিন্ন নেতা-নেত্রী। চলছে বিশাল তর্ক-বিতর্ক। চাপড়ে প্রায় ভেংগে ফেলা হচ্ছে টেবিল। আসামীর কাঠগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে একটি মাকড়শা। কারণ ঘটনাস্থলে প্রায় পাগল হওয়া রাজনীতিবিদের কাছে তখন এই মাকড়শা ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায় নি তাই সেই হইলো এক নম্বর আসামী। এসময় মনে অনেক খটকা জাগে সাথে সাথে কাহিনী পিছনে ফেরা শুরু করে। মুভির মূল চরিত্র মিস্টার সরি খুবই লাজুক, মিন-মিন স্বভাবের লোক, কাউকে জোরে কথা বলতে পারে না সাথে সাথে বেশ ভীতু। কাজ করে সে এক কান পরিষ্কার করা কোম্পানীতে। জ্বী ঠিক ই শুনছেন তাদের কাজ ই হলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবার কান পরিষ্কার করা যে যত বেশি করতে পারবে তার তত লাভ। কিন্তু সরি তার দূর্বল চরিত্রের জন্যই বারংবার পিছিয়ে যেতে থাকে সবার কাছ থেকে। কোনোরকম বাড়ী ফেরে সে দৈনিক, ঘরে ঢুকেই নিঁখোজ মানুষ খোঁজার এজেন্সীতে ফোন করে সে, সেই ছোটবেলা থেকে সে খুঁজে বেড়াচ্ছে তার বড় বোনকে। বোনের একদম ন্যাওটা ছিলো যে। এজেন্সী দিন দিন বিল বাড়াতেই থাকে কিন্তু ফলাফল শূন্য। শেষ রাত কাটে তার পোষা মাকড়শার সাথে গল্প করতে করতে।

কিন্তু এই দূর্বল চরিত্রের সরি খেয়াল করতে থাকে যে মানসিক ভাবে দূর্বলতার সাথে সাথে তার শারীরিক দূর্বলতাও দেখা দিয়েছে এবং একদিন টের পায় আকারে ক্ষুদ্র হতে থাকে সে দিনকে দিন। কিন্তু এতেই যেনো শাপে বড় হয়ে আসে তার পেশা, তার মালিক সবার জন্য।

মুভিটা দেখে আসলে নিজের দেশে কি হয় তা মনে পড়লো। খুব কৌশলে ওরা পৃথিবীতে কি হচ্ছে তা ই বুঝিয়ে দিলো। এইসব টক শো, টক শো তে অসংখ্য ইস্যু, প্রশ্ন, সমাধান কি হচ্ছে এতে? একটা প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত এসে ওরা তুলে দিয়ে গেছে যে আমরা যে নাগরিকরা জাস্টিস দিচ্ছি বলে দাবী জানাই, আসলেই কি ন্যায়বিচার হচ্ছে, আমরা কি আমাদের বিবেক, বুদ্ধির উপর আসলেই আস্থা রাখতে পারি? নাকি ঘটনার আড়ালেও অনেক কিছু চাপা থাকবে যা আমরা দেখতে পাবো না কোনোদিন। আর যারা দেখতে পায় তারা হয়ে পড়ে আসামী।

The Story of Mr. Sorry 2

Taro the Dragon Boy [মুভি রিভিউ] — Bashira Akter Anima

Taro 1

ফ্রেঞ্চ এনিমেশন মুভি খুঁজতে গিয়ে এটাকে পেয়ে গেলাম হঠাত করে। এটা যে জাপানিজ তাও বুঝি নি প্রথমে।
১৯৭৯ সালে নির্মিত মুভি “Taro the Dragon Boy” প্রথম থেকেই কিছুটা জিবিলি, বেয়ারফুট জেন বা প্রথমদিকের দেখা এনিমে গুলোর ভাইব দিচ্ছিলো। গ্রামের পরিবেশ, বা হেলতে দুলতে গান গাওয়া দেখে কেনো জানি “The Tale of the Princess Kaguya” এর কথাও মনে পড়লো। মুভিটি জাপানের এক বিখ্যাত লোকগাঁথা এর অবলম্বনে করা।
গল্পের মূল চরিত্র ছোট ছেলে তারো হলো সারাদিন পড়ে পড়ে ঘুমোনোর দলের লোক। বুড়ো নানী আর সে মিলেই তাদের ছোট্ট সংসার। জীবনে তার নেই কোনো লক্ষ্য নেই কোনো কাজ। সারাদিন হয় পড়ে পড়ে ঘুমোয় সে নয়তো উঠে নানান খাবার নিয়ে সে নিজে খায় এবং বনের পশুপাখিদের খাওয়ায়। তার সব বন্ধু হলো বনের পশুপাখি, তাদের সাথে খেলে বেড়ায়, সুমো রেসলিং করে। এর মাঝে সে একদিন এক বর পায়, যার কারণে সে একাই ১০০ জন মানুষের শক্তি অর্জন করে কিন্তু তা শুধু সে ব্যয় করতে পারবে মানুষের কল্যানেই নিজের জন্য নয়। পরিচয় হয় চমৎকার এক মেয়ের সাথে, খুব সুন্দর বাঁশী বাজায় সে, পাহাড়ের বনের সব পশুপাখি সে সুরে মোহিত হয়ে ছুটে আসে তার সাথে।

Taro 2
এভাবে ভালোই চলছিলো সবকিছু কিন্তু একরাতে সে এক তীব্র সত্যের সম্মুখীন হয়। জানতে পারে যে তার মা হয়তো বেঁচে আছে কোথাও, এই ই সব নয়। সে জানতে পারে তার মা কোনো এক অজ্ঞান কারণে ড্রাগনে পরিণত হয়েছিলো তার জন্মের সময়ই। কিন্তু সে থাকতে পারে নি এখানে চলে গেছে বহুদূরে শুধু বৃদ্ধ মা কে বলে গেছে তার ছেলেকে দেখে রাখতে এবং সে চিরজীবন তারোর অপেক্ষা করবে। তারো এ শুনে আর নিজেকে আঁটকে রাখতে পারে না। কেনো তার মা ড্রাগন হলো, তার মাকে দেখার জন্য এবং ফিরিয়ে আনার জন্য সে ঘরছাড়া হয়।
তখনো সে বুঝে উঠতে পারে নি যে তার সামনে অপেক্ষা করছে এক দীর্ঘ এডভেঞ্চার। কিন্তু এই এডভেঞ্চার, একেকটা গ্রাম দেখা, নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হওয়ার মাধ্যমে তারো যেনো আরো বড় হয়ে উঠে, বুঝতে পারে তার জীবনের লক্ষ্য কি। আরো বুঝতে পারে যদি মনে আশা থাকে এবং তীব্র ইচ্ছা থাকে তাহলে যেকোনো বাঁধা পার হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়। তারো আসলেই তার মা কে খুঁজে পায় কিনা বা কেনো তার মা ড্রাগনে পরিণত হয়েছিলো তা জানতে হলে দেখে ফেলুন মুভিটি।
মুভিটি হয়তো অনেকে বাচ্চাকাচ্চাদের জিনিস বলতে পারে কিন্তু আমার ভালো লেগেছে। আমার ধারণা যারা জিবিলী মুভি পছন্দ করে তাদের এটা ভালো লাগবে।

Taro 3