Coffee With Asif (CWA): Anime Review – পর্ব ৭ – Black Lagoon

2014-04-Black-Lagoon-Pictures

এনিম – Black Lagoon (Season 1)
অবস্থা – Completed
টোটাল এপি সংখ্যা – ১২

রিভিউ –

Okajima Rokuro একজন জাপানি ব্যাবসায়ী; আট দশ জন ব্যাবসায়ীর মতনই খাওয়া; ঘুম; ব্যাবসা আর উপরের বসের লাত্থি গুতো খেয়ে তার কাটে। তার জীবনে হটাত একটা পরিবর্তন আসে; যখন সে একদল ভাড়াটে গুন্ডাদের দ্বারা অপহৃত হয়। সে দেখা পায় নতুন এক জগতের; যে জগত নিদারুণ; যে জগত বিশ্বাসঘাতকতার; আবার একই সাথে যে জগত পরস্পরকে ভালবাসার; একে অন্যকে অবলম্বন করে বেচে থাকার!!!

নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখলে Black lagoon একশন প্যাকড; গল্পে খুব বেশি গভীরতাহীন; কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল চরিত্রায়নে পূর্ণ চানাচুর মার্কা একটা এনিম!! কিন্তু এর সফলতা হচ্ছে; সিরিজটা নিজের দুর্বলতাগুলো সমন্ধে যথেষ্ট সচেতন এবং সেগুলোকে নিজেদের শক্তিতে রুপান্তর করে নিয়েছে। একটু গভীরে দেখা যাক।

মোটামুটি চারটে প্রধান চরিত্রকে ঘিরেই সিরিজটি। প্রধান চরিত্র Revi কম বেশি প্রোটোটিপিকাল “sexy girl with guns” ক্যাটাগরিরই একজন। নিহিলিস্টিক;নীরস; স্রষ্টা আর আবেগ ভালবাসায় অবিশ্বাসী রেভির ৮-১০টা এইরকম চরিত্র থেকে বিশেষত্ব কোথায়? বিশেষত্ব সংলাপে। witty and crude – Rock এর সাথে তার কথা চালাচালি অন্তত উপভোগ্য – to say the least. এছাড়া অর্থলোভী এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে sociopath revir’র ভেতর নরম সত্ত্বার প্রকাশটাও এই সিরিজের একটা শক্তিশালী দিক।

 

তবে Revi কে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে বিবেচনা করলে বাকি চরিত্রগুলো পাতে তুলতে খানিক কষ্ট হবার কথা। মুল চরিত্র rock occasionally ব্রিলিয়ান্স দেখালেও সেটা প্রায় ক্ষেত্রেই অপ্রতুল।

এনিমেশন স্টাইল এর দিক থেকে এটা হয়ত Madhouse এর সেরা কাজগুলোর একটা নয়; তবে কাজ চমৎকার। একটা সিরিজ যার মুল থিমই ভায়োলেন্স – Black lagoon এ সে হিসেবে গোর ভাবটা যথেষ্ট কম। কিছু কিছু হলিউডি মুভির মতন টিডিয়াস on-your-face ধাঁচের brainless stupid গোলাগুলি না; বরং একশন সিনগুলো যথেষ্ট মুন্সিয়ানার সাথে করা হয়েছে। এছাড়া ক্যামেরা এঙ্গেলের কাজও বেশ দেখার মতন।

সাউন্ডট্র্যাকগুলোও চমৎকার; অন্তত একটা action based series এর কাছে যেমন আশা থাকে। সিরিজ দেখার পর খুব সম্ভবত কোন ট্র্যাক ডাউনলোডের জন্য youtube এ দৌড়াবেন না; কাজ চালিয়ে নেবার মতন সাউন্ডট্র্যাক; তবে এদের সার্থকতা সিরিজের Dark humorous টোন তৈরি করে দিয়েছে বেশ ভালভাবেই।

সিরিজের সবচেয়ে বলার মতন দিক বোধহয় ভয়েস এক্টিং। Toyoguchi Megumi রেভির ভয়েসের সারকাস্টিক এবং মোহনীয় টোন ফুটিয়ে তুলেছেন চমৎকার দক্ষতায়। এছাড়া বাকিদের কাজও ছিল বেশ চমৎকার।

দিনশেষে black lagoon এ যেমন খুব চোখ ধাঁধানো কিছু নেই; তেমনি criticize করারও খুব বেশি কিছু নেই। ভাল মন্দ মিলিয়ে একটা বেশ উপভোগ্য একটা সিরিজ!!!

211538_1403490665518_full

‘ব্ল্যাক ল্যাগুন’- রিভিউ- by Syed Tawsifuzzaman

নামঃ ব্ল্যাক ল্যাগুন

জানরাঃ অ্যাকশন, ক্রাইম ফিকশন,
ড্রামাl

ম্যাঙ্গাকাঃ রেই হিরই

পরিচালকঃ সুনাও কাতাবুচি

ম্যাল রেটিং- ৮.২৫

ম্যাল র্যাঙ্কিং- ২৫৩

আপনি কি হার্ডকোর অ্যাকশন পছন্দ করেন? আপনি কি গোলাগুলি দেখলে উচ্ছ্বসিত হন? রক্তাক্ত মানুষ দেখতে আপনার ভালো লাগে?

তাহলে আপনার জন্যই ব্ল্যাক ল্যাগুন। এই আনিমেটিতে এক এক এপিসোডে এক এক কাহিনী পাবেন যার প্রত্যেকটিই অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। যদিও এখানে নির্দিষ্ট কোন রাইভাল বা ভিলেন পাওয়া যাবে না যার সাথে শেষ পর্যন্ত লড়াই হবে। তবুও একেক এপিসোডে একেক ভিলেনও কম রোমাঞ্চকর নয়।

এর মূল কাহিনী হল একজন চাকুরীজীবী কে নিয়ে যার নাম ওকাজিমা রকুরো। যে দিনের পর দিন
তার বোরিং জব নিয়ে থাকে। তাকে বেশিরভাগ সময়ে তার উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে মাথা নত
করে চলতে হয়। তার এই একঘেয়ে জীবনকে পালটে দেয় একটি মাত্র সমুদ্র সফর।

পূর্ব চীন এর সমুদ্রপথে কোম্পানির একটি জরুরী ডকুমেন্ট নিয়ে যাত্রা করার সময় আধুনিক জলদস্যুদের হাতে পড়ে সে। এই জলদস্যুরা ল্যাগুন কোম্পানি নামে পরিচিত। তাদের হেড হল এক্স মেরিন লিডার ডাচ। এছাড়াও আছে রেভি নামের এক গান শুটার ও বেনি যে টেকনিক্যাল কাজ করে।

এই জলদস্যুদের সাথে পরিচিত হয়ে রকুরো বুঝতে পারে যে মানুষ কি পরিমাণ নিকৃষ্ট হতে পারে।
অবস্থা আরও বেগতিক হয়ে গেল যখন রকুরোর কোম্পানি ডকুমেন্ট ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে জলদস্যুদের মারার জন্য লোক পাঠাল এবং জলদস্যুদের সাথে রকুরোকেও খুন করার অর্ডার দিল।
এভাবেই কাহিনী এগোতে থাকে এবং বিভিন্ন পরিক্রমায় রকুরো পরবর্তীতে জলদস্যুদের সাথে যোগ দেয়।

এই আনিমেটিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যাকশন সিকুয়েন্স আছে। কাজেই যারা অ্যাকশন পছন্দ করেন
আনিমেটি যে তাদের ভালো লাগবে এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। তাই এই আনিমেটি আজ থেকেই দেখা শুরু করে দিতে পারেন, তাহলে উপভোগ করতে পারবেন হার্ডকোর অ্যাকশন থ্রিলার।

আমার নিজস্ব রেটিং – ৮

[এটা আমার প্রথম রিভিউ তাই আশা করি কোন ভুল হলে তা ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ!]

Black Lagoon Wallpaper

Black Lagoon: Roberta’s Blood Trail – by Tariqul Islam Ponir

3 Black Lagoon - Roberta’s Blood Trail
Revi: Hey chniglish. Want a job? You get to kill a whole lot of dipshits.
Shenhua: I’ll be happy to skin you for free, slut.
Revi: Jesus, what’s with the attitude.

Black Lagoon: Roberta’s Blood Trail দেখলাম। যদিও দুইবছর আগের টাইটেল কিন্তু ইংলিশ ডাব এর জন্য ওয়েট করাতে এত দেরি হল দেখতে।

আগের সিজনের মত অস্থির ডায়ালগ বেশ কম। রক এর ক্যার‍্যাক্টার এ যে চেঞ্জটা এনেছে সেটাও বেশ মজাদার। এইভাবে চলতে থাকলে মনে হয় সিরিজটাকে আরো অনেকদূর নেয়া সম্ভব। আর একটা দিক, রবার্টা মনে হয় আর কখনোই আসবে না সিরিজটাতে, তার গল্পের এখানেই সমাপ্তি। অবশ্য আমি প্রথম সিজনের কিডন্যাপিকং আর্ক এর পরই এই ক্যার‍্যাক্টার আবার আসবে এটা আশা করলেও এভাবে আসবে ভাবি নাই।

তবে, আগের দুইটা সিজনই রোজার মধ্যে দেখার উপযোগী না (Don’t get me wrong. শুধুমাত্র গালাগালির কারনে) আর এই সিজন এসেছে ওভিএ ফরম্যাট এ। তো বুঝতেই পারছেন!! তবে টু বি অনেস্ট, FLCL এর পর একমাত্র এই ওভিএটাকেই আমি রেকমেন্ডেবল বলতে পারি (And yes, I have watched Hellsing Ultimate) কমিক রিলিফগুলো আগেরবারের মতই সুন্দর করে করা হয়েছে। এবং ফাইটিং অবশ্যই অভার দা টপ এন্ড অফ কোর্স লজিকলেস। আমি যখন প্রথম সিজন দেখেছিলা তখন অনেক লজিক খুজেছিলাম সিরিজটাতে, সেকেন্ড সিজনে এসে বাদ দিয়ে দিয়েছি আর মজা পেয়েছি +_+  তবে এই আর্কে মজাও সেই তুলনায় কম। কিন্তু চলে।

প্রথম তিন পর্বে রবার্টার হার্ডকোর পার্ফর্মেন্স এর পর পঞ্চম পর্বে আবার মেইড আউটফিটে আসা তা খুব একটা ভালো লাগে নাই। ফ্যান সার্ভিস ফ্যান সার্ভিস মনে হইসে। T_T

আর ডাবটার ব্যাপারটা বলতেই হয়। আমি বেশিরভাগ সময়ই ডাব দেখার পর সাব টা চালু করে দেখি (ডুয়াল অডিও এনকোড আরকি )। এটার জাপানিজ অডিওটাতে দেখলাম লাভলেস ফ্যামিলি এর আরেক পিচ্চি মেইড ফ্যাবিওলাকে ‘শ্রিম্প’ বলে ডাকে পুরা এনিমেতে। কিন্তু ইংলিশটা বলেছে Minimaid যা চরম হাসির, অন্যদিকে Shenhua কে জাপানিজ ভার্সনে Revi তার নাম ধরে ডাকলেও এখানে দেকেছে Chinglish (Cninese+English) হিসাবে। আর রেভির ডায়ালগ ডেলিভারি দেখলে অনেকটা টারান্টিনো আর গাই রিচি এর ফিল্মে বিভিন্ন গ্যাংস্টার এর ডায়ালগ ডেলিভারি এর কথা মনে পরে। হুইচ ইজ অসাম। আফটার অল, ইটজ অল এবাউট ডায়ালগস। 

“I appreciate the help. But after all these is finished and my hunt is complete, I’ll reward you with a painless death.”

 

সিজন ১ আর ২ ডাউনলোড করতে পারেন।

Click This Link

এনিম রিভিউঃ Black Lagoon – অন্ধকার জগতের গল্প — লেখক নিঃসঙ্গ নির্বাসন

অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম এনিম নিয়ে একটা পোস্ট দেব। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সময়ই করে উঠতে পারি না। অবশেষে ঈদের ছুটিতে মার্কেটিং করা বাদ দিয়ে রিভিউ লিখতে বসলাম।

4 Black Lagoon

 

অন্ধকার জগতের খুনে গুন্ডা পাণ্ডাদের নিয়েই এই ব্ল্যাক লেগুন রিভিউতে যাওয়ার আগে একটু ভূমিকা দিতে চাচ্ছি। আমি একজন অত্যন্ত কুটিল প্রকৃতির খারাপ মন মানসিকতার মানুষ। আমার পছন্দও হয়ে থাকে সেই রকমেরই। আমার অল টাইম ফেভারিট লিস্টে অবশ্যই থাকবে ডেথ নোট লাইট ইয়াগামির একজন হার্ডকোর ফ্যান আমি। পুরোপুরি পারফেক্ট এভিল। কোড গিয়াসও আমার অত্যন্ত পছন্দের। তবে লেলুশকে কিন্তু আমি একদমই দেখতে পারি না। আমার পছন্দ শ্নাইজেল এল ব্রিট্যানিয়া- সেকেন্ড প্রিন্স। ভয়ংকর এক ভিলেন। evil minded. puppet master. (অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি, জাপানিজ এনিম গুলোয় ভিলেনদের দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া হয়। হলিউডের কি এখান থেকে শিক্ষণীয় কিছু আছে? )

সাইকোলজিক্যাল এনিম হিসেবে মনস্টার আমার অত্যন্ত প্রিয়। মনস্টারের ভিলেন সবারই টপ ভিলেন লিস্টে থাকেই। কিন্তু আমার তাকে খুব একটা ভাল লাগে নাই। সে আগের দুইজনের মতো পারফেক্ট এভিল না। আমি ওইধরনের খারাপ এনিম খুঁজার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পাই নাই। বাচ্চা মেয়েদের ধরে ধরে অ্যাসাসিন বানানো হয়গানস্লিঙ্গার গার্লে হার্ট টাচিং একটা এনিম। কিন্তু না, সেখানেও আমার পছন্দের কোন সাক্ষাৎ শয়তান পাই নাই।  আবার হেল গার্ল কিংবা এলফিন লেইড এগুলোও অনেক পছন্দ হয়েছে। কিন্তু আমার যেই চাহিদা, খারাপ কিছু, সেটাই আমি পাচ্ছি না।  ভালোমানুষি ব্যাপারটাই আমার সহ্য হয় না। মনস্টার থেকে এলফিন লেইড সবগুলোতেই সেটাই আমার আপত্তির একটা বড় কারণ। সেখানে পারফেক্ট এভিল তো নেইই, বরং ভাল কিছুর কথাই বলা হয়েছে।

ভূমিকা অংশটা মোটামুটি শেষ। এরকম একটা প্যারাগ্রাফ আসলে লেখার কোন দরকার ছিল না, আজকের এই রিভিউটার জন্য। আমি এসব কথা বললাম, ব্ল্যাক লেগুন দেখার আগে আমি কিরকম মানসিক অবস্থায় ছিলাম, সেটা বুঝানোর জন্য।  এনিমটা আমার অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে। আর কাউকে এখনো পাই নাই, যার ব্ল্যাক লেগুন এতো পছন্দ হয়েছে।  প্রকৃত পক্ষে ব্ল্যাক লেগুন এরকম আহামরি কোন এনিমও না। যদি ৮০ – ৯০ দশকের এনিম হত, তাহলে এটা আরও জনপ্রিয় হত।

লেগুন কোম্পানি হচ্ছে মূলত একটি জলদস্যু গ্যাং। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে স্মাগলিং করাই তাদের মূল কাজ। দলের সদস্য মাত্র তিনজন। লিডার ডাচ, শুটার রেভি, টেকনোলোজি গিক বেনি। লেগুন কোম্পানির বেস ক্যাম্প রোয়েনাপারে। সিটি অফ গডের কথা মনে আছে? সেরকম একটা শহর হচ্ছে থাইল্যান্ডের বন্দরশহর রোয়েনাপার। শহরে সক্রিয় বিভিন্ন মাফিয়া দল। তাদের প্রায় সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে ডাচ। বিভিন্ন মাফিয়া সংগঠনের হয়ে, মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মিশনেও যায় সে। সবচেয়ে প্রভাবশালী দুটি মাফিয়া গ্যাং হচ্ছে, রাশিয়ান ক্রাইম সিন্ডিকেটঃ হোটেল মস্কো এবং চাইনিজ হংকং ট্রেইড। ডাচের সঙ্গে অত্যন্ত ভাল সম্পর্ক হোটেল মস্কোর প্রধান কাপিতান বেলালাইকার। কাহিনীর দিকে যাওয়ার আগে রোয়েনাপারের একটা ছবি মনের মধ্যে এঁকে নিন। অস্ত্র, রক্ত, খুন, মাদক, পতিতাবৃত্তি এগুলোই রোয়েনাপারের দৈনন্দিন চিত্র।

এনিমটা দুই সিজনের। প্রতিটা সিজনে ১২ টা করে এপিসোড। প্রতিটা এপিসোডের লেংথ ২০ মিনিটের মতো। প্রতি ২ – ৩ এপিসোডে একটা করে ছোট ছোট কাহিনী। এভাবেই এই অপরাধ নগরের সাথে পরিচিত হয়ে ওঠা। আমি সবগুলো কাহিনী বলে আপনাদের মজা নষ্ট করতে চাই না। শুধু প্রথম গল্পের শুরুটা বলি।

রোকারো ওকাজিমা একজন জাপানিজ বিজনেসম্যান। তার জীবনের গল্পটা শুনে নিন, তার নিজের মুখেই।

Graduating from a National University, I somehow managed to get my way into corporate world. This is a businessman’s town.I get my ass kicked by my boss all day. But in the same time I hope to be in his place someday. It’s the only way to maintain your sanity here. This is the city of winter.

একদিন একটা বিশেষ কনফিডেনসিয়াল ডিস্ক নিয়ে সে যাচ্ছিল একটি বিজনেস ট্রিপে। তাকে কিডন্যাপ করে লেগুন কোম্পানির ক্রুরা। বেলালাইকা তাদের হায়ার করেছে, ওই ডিস্কের জন্য। ওকাজিমাকে হয়তো মেরেই ফেলত তারা। কিন্তু রেভির মাথায় বুদ্ধি এলো, ওকাজিমাকে কিডন্যাপ করে মুক্তিপণ আদায় করার। কিন্তু ওকাজিমার মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে হতাশই হতে হল রেভিদের। তারা জানিয়ে দিল, তারা ঘোষণা করে দিয়েছে রোকারো ওকাজিমা মারা গিয়েছে। ভাল কথা, ততক্ষণে কিন্তু তার নাম বদলে গেছে; লেগুন কোম্পানির ক্রুরা তাকে রক বলে ডাকছে। যাই হোক, ডাচের মনে হলো, তার ক্রুতে একজন বিজনেসম্যান থাকা দরকার। এভাবে লেগুন কোম্পানিতে যোগদান রকের। আর এখান থেকেই ব্ল্যাক লেগুনের যাত্রা শুরু।

আমি চাচ্ছি, ব্ল্যাক লেগুনের তিনটা ক্যারেকটার সম্পর্কে কিছু লিখতে লিখতে। (মানে আপনাদের ব্ল্যাক লেগুনের ব্যাপারে ইন্টারেস্টেড করা আর কি!  কাহিনীটা খুব জোরালো কিছু না, আমি নিজেও স্বীকার করি। কিন্তু ক্যারেকটারগুলো অছাম।  ) জানি না, ক্যারেকটার গুলো কিরকম লাগবে আপনাদের। আমি এখানে তিনজনের কথা বলব। একত্রে এই তিনজনকে বলা হয়,

Three most terrifying women of the world.

এরকম আরও অনেক ক্যারেকটারই আছে সিরিজটায়। আমার ভাল লেগেছে, প্রতিটা ক্যারেকটারের পেছনের গল্পগুলো। আজকে তারা অন্ধকার জগতের মানুষ। কিন্তু তারা অতীতে এরকম ছিল না।

What happened to them, created them monster.

আর ক্যারেকটার গুলোর অতীত আমরা সেভাবে দেখতেও পাই না। ছাড়া ছাড়া ভাবে মাঝে মাঝে দেখানো হয় আরকি।

ভাল কথা, এনিমটা কিন্তু TV-MA রেটিং প্রাপ্ত। এবং সেটার প্রধানতম কারণ ভাষা।সেটা মাথায় রাখতে হবে।  আমার অবশ্য খুব একটা খারাপ লাগে নাই ব্যাপারটা। অন্ধকার জগতের মানুষদের ভাষা আর কিই বা হবে?

আরেকটা কথা না বললেই নয়, সিরিজের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ক্যারেকটারই মেয়ে। শুনে আবার হতাশ হয়ে যাবেন না। কেউই লুতুপুতু টাইপের মেয়ে না। পারফেক্ট ক্রিমিনাল। যাই হোক, চলুন পরিচিত হয়ে আসি, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ানক তিন মহিলার সাথে।

রোসারিতা সিস্নেরোসঃ

 

প্রথম জীবনে সে ছিল একজন দুর্ধর্ষ প্রশিক্ষিত অ্যাসাসিন। কিউবার গেরিলা সংগঠন FARC এর সদস্য। সে পরিচিত Bloodhound Of Florencia নামে। তাকে আরও অনেক নামেই ডাকা হয়।

Hardcore Terrorist

Killer Robot From The Future

কিউবান মাফিয়া বিপ্লবী দলের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে তার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু একসময় সে বুঝতে পারে, সে কোন বিপ্লবী হতে পারে নি। সে একটি Watch Dog এ পরিণত হয়েছে। যার কাজ হচ্ছে মাফিয়াদের কোকো ক্ষেত পাহারা দেওয়া। সে তখন চাইলো, এই জীবন থেকে পালিয়ে যেতে। ভেনিজুয়েলার বিখ্যাত লাভলেস ফ্যামিলির প্রধান ডিয়েগো লাভলেস তাকে নিজের দেশে নিয়ে এলো। ব্লাডহাউন্ডের দায়িত্ব ৮-১০ বছরের Garcia কে দেখাশোনা করা। সেই ব্লাডহাউন্ড এখন হাউজমেইড।

 

ব্লাডহাউন্ডের নাম এখন Roberta. প্রথম সিজনে Young Master Garcia কে অপহরণ করে কলম্বিয়ান একটি মাফিয়া দল। তখন নিজের পুরাতন পরিচয় আবার জাগিয়ে তুলে রোসারিতা। লাভলেস ফ্যামিলিই তাকে কুকুরের জীবন থেকে উদ্ধার করে একটি মানুষের জীবন দিয়েছিল। তার প্রতিদান দিতে তুলকালাম শুরু করে দেয় সে অপরাধনগর রোয়েনাপারে।

ব্লাডহাউন্ডের যুদ্ধ শুরু করার স্টাইলটা আপনাদের পছন্দ হবেই।

 

In the name of Santa Maria, a hammer blow of righteousness to all injustice.

এরকম একটা হাউজমেইড থাকলে চরমই হত।  ব্লাডহাউন্ড নিঃসন্দেহে এই সিরিজের বেস্ট অফ দা বেস্টস ফাইটার। তবে তার সম্পর্কে সমালোচনা করতে গেলে বলতে হবে, সে কথা কম। কাজ বেশি। এই পলিসিতে বিশ্বাসী। এদিক দিয়ে সে রেভির থেকে পিছিয়ে আছে। প্রথম সিজনেই শুধু পাওয়া যায় ব্লাডহাউন্ডকে। তাও মাত্র অল্প কয়েক পর্বের জন্য।

ভ্লাডিলেনাঃ

 

রাশিয়ান ক্রাইম সিন্ডিকেট হোটেল মস্কোর প্রধান। প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়ন মিলিটারির একজন ক্যাপ্টেন। আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় তাকে অনৈতিকভাবে ডিসচার্জ করা হয় মিলিটারি থেকে। তিনি চলে যাওয়ার সাথে সাথে তার কম্যান্ডে থাকা দুর্ধর্ষ প্রশিক্ষিত বিশেষ স্কোয়াডের কমান্ডো সোভিয়েত সেনারাও তার সঙ্গে চলে যায়। রোয়েনাপারে নিজের পরবর্তী গন্তব্য ঠিক করেন বেলালাইকা। বেলালাইকা নামের আড়ালে তার আসল নামটা সবাই ভুলেই যায়। বেলালাইকা একটা রাশিয়ান স্নাইপার রাইফেল। নিন্দুকেরা তাকে Fry Face বলে সম্বোধন করে। আফগান যুদ্ধে তার মুখের অর্ধেক পুড়ে গিয়েছিল। হোটেল মস্কো হচ্ছে রোয়েনাপারের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মাফিয়া দল। শহরে খুন খারাপি কোন ব্যাপারই না। কিন্তু কেউই হোটেল মস্কোর সাথে সম্পৃক্ত কারো দিকে ফুলের পাপড়ি দিয়েও আঘাত করার কথা ভাবতেই পারে না। নিজের জীবন রক্ষা করার জন্য ডাচ ও লেগুন কোম্পানির প্রতি বেলালাইকা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। সিজন টুতে হোটেল মস্কোর উপর একের পর এক আক্রমণ শুরু হয়। যেরকম কঠোর ভাবে বেলালাইকা ব্যাপারটার প্রতিশোধ নেয়, তাতে পুরোই তার প্রেমে পরে যাই।

 

বেলালাইকা পারতপক্ষে তার কম্যান্ডে থাকা সেই রাশিয়ান কমান্ডো সেনাদের ব্যবহার করে না। হোটেল মস্কোর বিশেষ অপারেশনেই কেবল মাঠে নামে Desantniki তাদের মুখে শুধু একটা কথাই শোনা যায়। কাপিতান। এই কাপিতানের জন্য, যে কোন কাজ করতেই তারা বদ্ধপরিকর। বেলালাইকা একজন এক্স মিলিটারি। তাই মাফিয়া সংগঠন হলেও, তার কাজের স্টাইল মিলিটারির মতো। রোয়েনাপার শহরে প্রবেশ করার পর তৎকালীন প্রধান মাফিয়া বস মি চ্যাং (চাইনিজ হংকং ট্রেইড) এর সাথে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। পরে ডাচের হস্তক্ষেপে মিউচুয়ালি কো এক্সিস্ট করার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে বেলালাইকাই শহরের প্রধান মাফিয়া বস হয়ে উঠে। বুঝতেই পারছেন, কি রকম মাস্টার মাইন্ড লিডার এই কাপিতান।

 

রেভিঃ

 

আসল নাম রেবেকা (রেভেকা), বেশিরভাগ সময় রেভি বলেই সম্বোধন করা হয়। তার নিক হচ্ছে, Two Hand. একসাথে দুই হাতে শুটিং করায় পারদর্শী বলে। লেগুন কোম্পানির বেশিরভাগ অপারেশন সেই চালায়। সে একজন জাপানিজ আমেরিকান। জন্ম চায়নাটাউনে। তার অতীত সে খুব বেশি বলে না। কিন্তু ছাড়া ছাড়া ভাবে যা বলে, তাতেই বোঝা যায়, আজকের এই Two Hand সে একদিনে হয় নি। সেটার পেছনে আছে একটা বিশাল গল্প। হাসতে হাসতে মানুষ খুন করে রেভি। একটু কপি পেস্ট করতে চাচ্ছি।

Revy is one of the deadliest fighters in the series, whose skill with firearms and ability to dodge bullets is almost superhuman and unparalleled—there are only a few other characters, such as Roberta and Ginji, that can hold their ground against her in combat.

 

নিজেকে রেভি সম্বোধন করে, Best Shooter In The East হিসেবে। সে অত্যন্ত বদরাগী, চেইন স্মোকার। সব কিছুর সমাধান সে করতে চায় বুলেটের মাধ্যমে। এই ব্যাপারটা নিয়েই রকের সাথে তার মাঝে মাঝেই ঝগড়া লেগে যায়। রকের অনেক কিছুই সহ্য করে না রেভি। রেভি বলতে চায়, রক লেগুন কোম্পানিতে আছে পিকনিকের জন্য। যখন তার মনে হবে পিকনিক শেষ, তখনই সে চলে যাবে। যদিও পরে রকের ব্যাপারে তার ধারণা চেঞ্জ হয়। রেভির মুখ সম্পর্কে আলাদা করে বলতেই হবে! একথা বলাই যায় , এনিমটা TV MA রেটিং পেয়েছে শুধু রেভির জন্যই! মুখে কথা বলেই রেভি যুদ্ধ জিতে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।  আর অস্ত্রের কথা বলার দরকার কি? শুধু শুধু কি আর Two Hand নিক অর্জন করেছে। রেভিকে আমার পছন্দ একই সাথে মুখে কথা বলা আর কাজ করে দেখানর জন্য। রেভি এরকম মেজাজি ক্যারেকটার হলেও সে রেসপেক্ট করে বেলালাইকাকে। এতেই বুঝা যায়, বেলালাইকা কি জিনিস!

 

ডাচের কামান হচ্ছে রেভি।

This is showtime revy, can you make them dance?

এরকম আরও অনেক ক্যারেকটার আছে। ডাচ, মি চ্যাং, সেনহুয়া, গিনজি এবং আরও অনেকে। সিরিজটার সমালোচনা করতে হলে বলব, এখানে গোলাগুলি ব্যাপারটা খুব সহজভাবে দেখান হয়েছে। আর এখানে কাহিনীর মারপ্যাচ কম। আশা করবো, আপনারা Bourne সিরিজ টাইপের কিছু দেখার ইচ্ছা নিয়ে বসবেন না।

আমি সিজন থ্রিকে রিভিউ থেকে বাদ দিয়ে দিলাম। সিজন ১ আর ২ ডাউনলোড করতে পারেন।

Click This Link

ঈদের ছুটিতে দেখে ফেলুন ব্ল্যাক লেগুন। সিরিজটা কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। সবাইকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা।

পাদটীকাঃ কথা প্রসঙ্গে আমি দুইজনকে বলেছিলাম ব্ল্যাক লেগুন নিয়ে কোন পোস্ট দেওয়ার কথা। তাদের গুঁতাগুঁতিতেই মূলত লেখাটা পোস্ট করা হলো। সেই দুইজনকেই লেখাটা উৎসর্গ করলাম।

 

মূল লেখা http://www.somewhereinblog.net/blog/persian_knot/29659959