এনিমে রিভিউ: Time of Eve — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আমাদের মানুষদের মধ্যে একটা এরোগ্যান্ট ভাব আছে যে , মানুষ ছাড়া অন্য কোন কিছু ইমোশন অনুভব করতে পারবে না । মানুষ হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরী করতে পারবে এবং মনে করতে পারে যে এই বুদ্ধিমত্তাকেও আমারা নিয়ন্ত্রনও করতে পারবে । কিন্তু সবসময় সবকিছু প্ল্যান অনুয়ায়ী হয় না । এখন এই এনিমের কাহিনী আগায় ভবিষ্যত নিয়ে যেখান এন্ড্রয়েড রোবট প্রাত্যহিক জীবনে সহজলভ্য ,এন্ড্রয়েড থেকে মানুষকে আলাদা করা যায় শুধু তাদের মাথার উপরকার হলোগ্রাফিক রিং দেখে । এদের মধ্যকার অজানা অনুভূতি নিয়েই এনিমের কাহিনী ।

Eve 1

এই এনিমের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে রিকোও সাকিসাকা । সে একজন মেধাবী ছাত্র এবং ট্যালেন্টেড পিয়ানোবাদক । কিন্তু এক অনুষ্ঠানে একটি রোবটের পিয়ানো বাজানো শুনে সে একই সাথে মুগ্দ্ধ এবং বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে । তার বাসায় অন্যসবার মতোও একটি এন্ড্রয়েড কাজ করে । এই এন্ড্রয়েড এর প্রত্যেকদিনকার কর্মকান্ড চেক করতে গিয়ে একদিন সে খাপছাড়া কিছু লক্ষ্য করে । একটি নির্দিষ্ট টাইমের জন্য তাদের স্যামি নামের এন্ড্রয়েড রোবটটি অনুপস্থিত ছিল এবং সে সময়কার জাগায় একটি অদ্ভুত কথা লেখা ” Are you enjoying the time of eve ? ,, এবং তার বন্দ্ধুকে নিয়ে খুজে বের করে এক ক্যাফে যার নাম ” Time of eve ,, এবং সেখানের নিয়ম হচ্ছে মানুষ এবং রোবটের মধ্যে পার্থক্য করা যাবে না । সেখানে গিয়ে সে আবিষ্কার করে যে রোবটদের মধ্যেও মনুষ্য আবেগ আছে এবং রোবোটিক্সের ৩ আইনের মধ্যকার কয়েকটি ফাকাফোকড় এর ফলে রোবটরাও মালিকের কাছ থেকে মিথ্যা বলে তথ্য গোপন রাখতে পারে ।রিকোও এটা প্রথমে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না । কেননা রিকোওর আশংকা রোবটরা মানুষকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যাবে । কিন্তু তা কি সত্যিই , নাকি রোবটরা শুধু চায় একটু স্নেহ , ভালবাসা পেতে ? কি হয় সামনে ?
এটি একটি অসাধারন সায়েন্স ফিকশন স্লাইস অফ লাইফ । এটার মাত্র ৬টি এপিসোড এবং একেকটি ১৫মিনিটের । এটাকে আবার মুভি হিসেবেও রিলিজ দেওয়া হয়েছে । এই এনিমের আর্ট এবং গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর এবং বেশ ঠান্ডা ধরনের এনিমে । যদিও এন্ডিংটা কিছু প্রশ্ন রেখে যায় মনে ।সময় থাকলে এবং মাথা ঠান্ডা করা নরমাল কিছু দেখতে চাইলে শুরু করে দিন দেখা Time of Eve !
আমার রেটিং: 7/10

Eve 2

Time of Eve রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

7

“Are you enjoying the time of eve?”

কিছু গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। হলিউড মুভির গল্প না; একেবারে নিখাদ বাস্তব জীবনে ঘটতে থাকা কিছু গল্প। জাপানের চুকিও ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক কিছু বাচ্চাকাচ্চা রোবট বানিয়েছেন। এই রোবটগুলো একেবারে মানুষের বাচ্চার মতন; হাসে, কাঁদে ঘুমায়ে যায়। ওল্ড হোমে থাকা নিঃসঙ্গ মানুষগুলোকে একটু সময় কাটানোর সুযোগ করে দিতেই এই প্রজেক্টের উদ্ভব। ওদিকে টেরাসেম মুভমেন্ট নামে একটা সংগঠন মানুষের স্মৃতি, ব্যাক্তিত্ত, আবেগ – এগুলো রোবটের মধ্যে জমায়ে রাখার কাজ শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যেই। আবার হোন্ডা বানাচ্ছে হাটতে চলতে সিড়ি বাইতে পারে এমন রোবট।

এতো গেল গায়ে গতরে খাটানো যায় এমন রোবট নিয়ে প্যাচাল। টেক্সাস অস্টিন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা রীতিমত কম্পিউটারকে স্কিতজোফ্রেনিকই বানিয়ে ছেড়েছেন। আর জর্জিয়া টেক স্কুলের রোনাল্ড আরকিন তো বানিয়েছেন মিথ্যেবাদী রোবট। এই রোবটে মিথ্যে আগে থেকে প্রোগ্রাম করা থাকে না; সে নিজে নিজেই পরিবেশ দেখে মিথ্যে বলাটা আয়ত্ব করে নেয় !!!

8

জি হ্যা; এতক্ষণে বোধহয় এতো রোবট আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কচকচানির উদ্দেশ্য বুঝে যাবার কথা। যে মুভিটা নিয়ে লিখতে বসেছি সেটা মানুষ, রোবট আর মনুষ্যত্ব, বুদ্ধিমত্তা – এইসব কনসেপ্টকে নিয়েই বানানো।

দেখলাম “Time of eve”. ১০৬ মিনিটের এই মুভির সেটিংস নিকট ভবিষ্যতে; যেখানে মানুষ এবং হিউম্যানয়েড রোবট “এন্ড্রয়েড” এর পাশাপাশি সহাবস্থান। বাস্তবের রোবটরা না করলেও গল্প সিনেমার বেশিরভাগ রোবটই আসিমভ সাহেবের তিনটে সুত্রই মেনে চলে; এখানেও তার ব্যাতিক্রম নয়। তবে সেখানে একটা “কিন্তু” থেকে যায়। আসিমভের ল গুলোতে “রোবট তাকে দেওয়া আদেশের বাইরে কিছু করা যাবে না” কিংবা “রোবট মিথ্যে বলতে পারবে না” এই ধরণের কোন বাইলজ নেই। আমাদের এই গল্পে বেশিরভাগ মানুষই রোবটকে “শুধু মেশিন” হিসেবে দেখে যেভাবে ট্রিট করার কথা – স্বার্থপর, ঠান্ডা এবং নিষ্ঠুর – সেভাবেই ট্রিট করে। কিন্তু এর মাঝেও কিছু কিছু মানুষ থাকে; যারা আসলে “শুধু মেশিন” এর ধারণার বাইরে গিয়ে এন্ড্রয়েডদের আলাদা “সত্ত্বা” হিসেবে দেখার চেষ্টা করে; বোঝার চেষ্টা করে। কিন্তু কেন? রোবটদেরকে অধিক বুদ্ধিমত্তা দিলে সেটা কি মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে না অভিশাপ? একটা খেলনা গাড়ির প্রতিও কিছুদিন পরে একটা মায়া, একটা ভালোবাসা জন্মে যায়; সেখানে একটা বাচ্চাকে লালন পালনের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোন রোবটের হাতে ছেড়ে দিলে সম্পর্কটা কি হতে পারে? মানবিক আবেগ কি শুধু মানুষের করায়ত্ত থাকবে? মানুষ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটা সত্ত্বার সাথে মানবিক আবেগের সম্পর্কের মাত্রাটা কি হবে? এ ধরণের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে মুভিটিতে।

6

মুভিটা দেখার সময় আমার বার বার যে কথাটা মনে হয়েছে সেটা হল “স্নিগ্ধ”। মুভিটার সেটিং সিম্পল, আমাদের বর্তমান পৃথিবীর সাথে সমান্তরাল, কিন্তু তার মাঝেও খুব সূক্ষ্ম একটা পার্থক্য আছে; যেটা মুভির অদেখা কিন্তু সম্ভাব্য ভবিষ্যতে প্লট সাজাতে সাহায্য করে। চরিত্র রুপায়ন, তাদের চলাফেরা, চারপাশের পরিবেশ এতটাই বাস্তবের সাথে মিল যে খুব সহজেই নিজের চেনাজানা জগতের সাথে মিলিয়ে ফেলতে পারবেন। কিন্তু তার মাঝেই, এই এত শত বাস্তবতার ভীড়েও ফুটপাথের বিষণ্ণ ছায়ায় কি যেন লুকনো রহস্য কিংবা উজ্জ্বল সূর্যালোকে ঝলমলে কিন্তু প্রাণহীন শহরের পথ অথবা ধূসর বাদামী আবহ অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দেয় যেন !!

চরিত্র, গল্প অথবা সাউন্ডট্র্যাক – কোন কিছুই নিয়েই আর আলাদা করে তেমন কিছু একটা বলার নেই আসলে। শুধু এইটুকু প্রমিজ করতে পারি মুভিটা দেখা শুরু করলে সবকিছু ভুলে গিয়ে কোন দিক দিয়ে সময়টা পার হয়ে যাবে টেরই পাবেন না !

9

Movie Time With Yami – 29

eve_3

Name- Eve no Jikan / Time of Eve
Duration- 1 hour 46 min.
MAL Score- 8.39
Ranked- 154
Genres- Sci-Fi, Slice of Life

ভবিষ্যতের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত অনেক মুভি এবং অ্যানিমে তৈরি হয়েছে। এবং সেগুলোতে যে ব্যাপারটা প্রায়ই কমন পাওয়া যায়, তা হল রোবট এবং মানুষের সহাবস্থান। এ মুভিটিও রোবট ও মানব প্রজাতির পারস্পারিক সম্পর্কের পরিণতিটাকে খুব সুন্দর এবং হৃদয়স্পর্শীভাবে তুলে ধরেছে।

কাহিনীটি এমন এক সময়ের জাপানকে কেন্দ্র করে, যখন সকল ক্ষেত্রে রোবটের অংশগ্রহন খুব স্বাভাবিক ঘটনা। গৃহস্থলী কাজে মানুষের মত দেখতে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করাটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সমাজে। রোবটদের আলাদা করে চিহ্নিত করার জন্য সরকার থেকে নিয়ম করা হয়েছে যে রোবটদের সবসময় মাথার ওপর সার্কেল ব্যবহার করতে হবে।

রিকুওদের বাড়িতেও এরকম একটি হিউম্যানয়েড মেইড আছে, যার নাম স্যামি। সে হাইস্কুলপড়ুয়া রিকুও এবং তার পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার তৈরি করা থেকে নিরাপত্তা প্রদান- সবরকম কাজ করে।

একদিন স্যামির হিস্ট্রি লগ চেক করতে করতে রিকুও হঠাৎ আবিষ্কার করে, স্যামির বাইরে কাজ করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, সে তুলনায় অনেক বেশি সময় সে বাইরে কাটাচ্ছে। কৌতুহলী রিকুও একদিন তার স্কুলের বন্ধু মাসাকিকে নিয়ে স্যামিকে অনুসরণ করে।

এভাবে স্যামির পেছনে পেছনে গিয়ে দুই বন্ধু এসে হাজির হয় একটি ক্যাফের সামনে, যে ক্যাফের নাম “টাইম অফ ইভ।” এখানকার নিয়ম দেখে তারা হতবাক হয়ে যায়! কারণ, তাদের ক্যাফেতে মানুষ এবং রোবটদের মাঝে পার্থক্য করা নিষিদ্ধ!

টাইম অফ ইভ মুভিটি নিয়ে কথা বলতে গেলে আমার মাথায় সবসময় যে কথাটা আসে- এই মুভিটি সাইফাই এবং স্লাইস অফ লাইফ, দুটি জনরার জন্যই একটি অমূল্য সম্পদ। একই নামের ক্যাফেতে বিভিন্ন অপরিচিত মানুষ এবং রোবটদের জীবনের কিছু মূহুর্তকে খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে- খুব সহজে যা কাহিনীর ভেতর দর্শককে টেনে নিয়ে যায়। তাদের ছোট ছোট আনন্দের মূহুর্তগুলো দেখতে দেখতে কখন তাদেরকে আপনজনের মত মনে হয়, টেরও পাওয়া যায়না। সেইসাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন, রোবট ও মানুষের অনুভূতি এবং ভালবাসায় মোড়ানো একটি এন্ডিং- সবমিলিয়ে মুভিটি আসলেই একটি রত্ন!

মুভিটির আর্টওয়ার্ক উজ্জ্বল এবং পরিপাটি, ক্যারেক্টার ডিজাইন খুবই চমৎকার, রোবট ও মানুষ, দুই দলকেই সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং ইমোশনের অংশটিকে খুব ভালভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর ওএসটি অসাধারণ, কালাফিনা এবং ইউকি কাজিউরার ছোঁয়া স্পষ্ট।

মুভিটির ৬ পর্বের ওভিএ আছে, প্রতিটি পর্ব ১৫মিনিট করে; যা মুভির আগে বের হয়েছিল, তবে মুভিটিতে ওভিএর পুরো কাহিনী কভার করে কিছু নতুন সিন যোগ করা হয়েছে। সুতরাং, মুভিটি হল গল্পটির কমপ্লিট ভার্সন। তাই ওভিএগুলো না দেখলেও কোন অসুবিধা নেই।

তাই, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলুন আমার খুব পছন্দের এই মুভিটি!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Time-of-Eve

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Eve no Jikan anime suggestion by Monirul Islam Munna

Genre: Sci-Fi, Slice of Life
৬টা ONA আর ১টা মুভি

ভবিষ্যতে হয়তো এমন একটা সময় আসবে আমাদের দৈনন্দিন কাজে আমরা রোবট ব্যবহার করবো। ঘরের কাজ থেকে, মার্কেট থেকে কেনাকাটা, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের কার কি লাগবে তার দেখভালও করবে এই রোবট। প্রযুক্তির উন্নতির এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে এই রোবটগুলো দেখতে হুবহু মানুষের মত। এমন কি কথা বলার ভঙ্গি, এক্সপ্রেসন দেখে সাধারণ চোখে মানুষ থেকে এদের পৃথক করা দুষ্কর। তাই রোবটের মাথার উপর থাকে এক বিশেষ ধরণের রিং যা দেখে বোঝা যায় কে রোবট আর কে মানুষ।
গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ‘রুকুও’, হাই স্কুলের ছাত্র। ছোট বেলা শিখে আসছে রোবটরা শুধুই যন্ত্র, মানুষের থেকে তারা আলাদা। রিকুওর ঘরের সাধারণ কাজের জন্য ছিল তাদের নিজেদের রোবট ‘সেমি’। কিন্তু একদিন সেমির ডাটা চেক করতে গিয়ে একটু ভিন্নতা দেখতে পান রিকুও। সেই ডাটার সুত্র ধরে এক রহস্যময়ী ক্যাফের সামনে হাজির হয় সে, যেই ক্যাফের একমাত্র রুল হল ‘ মানুষ এবং রোবটের সাথে একইরূপ আচরণ করতে হবে’ ……… আর এখান থেকে এগুতে থাকে কাহিনী।

সাই ফাই আর স্লাইস অফ লাইফের বেশ ভালো একটা সংমিশ্রণ, সাথে কিছু রহস্যও আছে! তাই বেশ ভালোই লাগছে এনিমেটা।

১ম এ ৬টা ওএনএ বের হয় পরে মুভিটা রিলিজ পায়। মুভিটা আসলে ঐ ৬টা ওএনএ কে একত্র করে, সাথে অল্প কিছু সিন যোগ করে বানানো। তাই শুধু মুভিটা দেখলেই হয়ে যাবে।

MAL rating: ONA –> 8.38 / Movie—>8.41
আমার রেটিংঃ ৮.৫