ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস
জাপানী নামঃ কিস য়োরি মো হায়াকু
জানরাঃ রোমান্স, স্কুল, কমেডি, ড্রামা, শৌজো
চ্যাপ্টারঃ ৫৮
ভলিউমঃ ১২
মাঙ্গাকাঃ তানাকা মেকা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.১২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০
নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেশি কথাটা আমরা সবাই জানি। আনিমে এবং মাঙ্গা জগতে এসব নিষিদ্ধ জিনিস বলতে সাধারণত ইয়াওই, ইয়ুরি বা এ ধরণের এহেম এহেম মার্কা জিনিসই বোঝানো হয়। তবে এমন কিছু পেলে কেমন হয় যেটা কোন এক নিষিদ্ধ সম্পর্ক নিয়েই তৈরি কিন্তু পড়ার সময় বারবার মনে হবে না আপনি উল্টাপাল্টা কিছু পড়ছেন বরং খুব বেশি মিষ্টি আর নিষ্পাপ একটি গল্প বলেই মনে হবে? এমনই এক মাঙ্গা হল “ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস” যা গড়ে উঠেছে শিক্ষক-ছাত্রীর নিষিদ্ধ সম্পর্ককে নিয়ে।
বাবা-মা হারা অনাথ মেয়ে কাজি ফুমিনো। শেষ সম্বল বলতে আছে ফুমিনোর পিচ্চি ভাই তেপ্পেই যার বয়স আবার মাত্র ৪ বছর। যেই বয়সে বাবা-মায়ের আদর আর শাসনে বেড়ে ওঠার কথা সেখানে ফুমিনোর চিন্তা কিভাবে হাই স্কুল পাশ করবে আবার একই সাথে ছোট্ট ভাইটির দেখাশুনা করবে। এক আত্মীয় থেকে আরেক আত্মীয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কারো বাড়িতে ঠাই হয় না এই দুই ভাইবোনের। হয়তবা পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে ভাইকে বড় করে তোলাই ছিল ফুমিনোর একমাত্র উপায়। কিন্তু কোন এক বিকেলে পালিয়ে গিয়ে পার্কে তেপ্পেইকে নিয়ে বসে থাকতে গিয়েই ভাগ্যটা পরিবর্তন হয়ে গেল। তার স্কুলের শিক্ষক ওজিরো কাযুমা-সেন্সেই ফুমিনোকে তার বাড়িতে আসতে বললেন। ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত ফুমিনো সেন্সেইয়ের এই করুণা দেখে তো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল। সে বলেই বসলো, সেন্সেইয়ের যদি এতই সহানুভূতি হয় তো ফুমিনোকে বিয়ে করে উনি ফুমিনো আর তেপ্পেইয়ের দেখভাল করার দ্বায়িত্ব নিয়ে দেখাক না কেন!! সেন্সেইও তার ছাত্রীর কাছে হারতে রাজি নন। উনি সাথে সাথেই ফুমিনোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন! সেন্সেই ঠাট্টা করছে না করুণা দেখাচ্ছে তা ভাবার মত অবস্থা নেই বলে ফুমিনো শুধু হাতখরচ পাওয়া আর তেপ্পেইকে বড় করার লক্ষ্যে সুযোগটা লুফে নিল। ব্যস, ফুমিনোর নতুন বাসস্থান হল ওজিরো-সেন্সেইয়ের বাসা। স্কুলে সর্বদা শিক্ষক-ছাত্রীর ভূমিকা পালন করলেও বাসায় এখন তারা স্বামী-স্ত্রী। তেপ্পেইসহ ৩ জনের এই ছোট্ট পরিবার এবং তাদের আশেপাশের মানুষদের নিয়েই ফ্যাস্টার দ্যান এ কিসের গল্প।
অনেকটা ঝোঁকের বশেই আমি এই মাঙ্গাটা পড়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু একটা ব্যাপারে শুরুতে আমি সন্দিহান ছিলাম। বিয়ের কারণে এই জুটির সম্পর্ক কতদূর নিয়ে যাবে এটা নিয়ে আমার প্রশ্ন ছিল। ভিতরে ভিতরে বিবাহিত হলেও এই সম্পর্কটা বেশি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যাবে কিনা এ নিয়ে সংকোচে ছিলাম। কিন্তু ওজিরো-সেন্সেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিক্ষক হিসেবে তার অবস্থানটার কথা কখনোই ভুলে যাননি। অনুভূতির বশে এখানে কোনভাবেই একজন শিক্ষক আর তার ছাত্রীর মাঝে যে সম্পর্ক থাকে তার মর্যাদাটা পুরোপুরি হারিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। তাদের আসল সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই সেন্সেই তার একজন ছাত্রীকে পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়া থেকে রক্ষা করেছিলেন। সেন্সেই নিজের ইচ্ছা আর অনুভূতিগুলোকে দমিয়ে রাখতেন ফুমিনো তার ছাত্রী এবং ফুমিনো যাতে কোন সমস্যায় না পড়ে শুধু এজন্যে। মাঙ্গাটির এই দিকটির প্রশংসা না করলেই নয়। আমার ভয়ের আরেকটি কারণ ছিল এই মাঙ্গার নামটি। নাম শুনে এতে কি না কি আছে ভেবেছিলাম! বিশ্বাস করেন, এই রকম ভুল ধারণা দেওয়া নাম খুব কমই আছে! একটা কিস যে এখানে কত বড় একটা বিষয় তা পড়লেই বুঝবেন। অন্যান্য স্বাভাবিক জুটিগুলোও ওজিরোx ফুমিনো’র মত এতটা “নিষ্পাপ” হয় না! এই নামের একমাত্র কারণ এত ঝড়ের গতিতে স্বামী-স্ত্রী হয়ে যাওয়া। তাই সাধারণত এ ধরণের নিষিদ্ধ সম্পর্কের গল্প আমার পছন্দ না হলেও এই মাঙ্গাটি যথেষ্ট ভালো লেগেছে।
বদমেজাজি, সহজেই মারামারিতে জড়িয়ে যাওয়া ফুমিনোর ধীরে ধীরে একজন সাধারণ টিনএজ মেয়ে থেকে মানসিকভাবে বেড়ে উঠা, দ্বায়িত্বশীল হওয়া এই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টটা ছিল চোখে পড়ার মত। ওজিরো-সেন্সেই আর ফুমিনো দুজনেরই কষ্টের পেছনের গল্প রয়েছে যা নিত্যদিনের ঘটনা না বলে বরং সত্যিকার অর্থেই গল্পটিকে ভালোভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এছাড়া শৌমা, মার্গারেট, কুরোসাওয়া, কাজি পরিবার, ওজিরো পরিবার, র্যিঊ-সেন্সেই প্রভৃতি চরিত্র ড্রামা এবং কমেডি যোগ করেছে। জায়গায় জায়গায় বেশ ভালোই হাসিয়েছে চরিত্রগুলো। ড্রামার পরিমাণও সঠিক ছিল বলে মনে হয়েছে। বিরক্ত হওয়ার সম্ভবনা অনেক কম। মার্গারেট বা মেগ নায়িকার চিরচেনা শত্রু হতে গিয়েও হয়নি উল্টা শেষে বেশ ভালো একটা সাপোর্টিভ মেয়ে ছিল। যদিও মাঝে মাঝে শৌমাকে ধরে পিটাতে ইচ্ছা করবে আবার শৌমার জন্যই খারাপ লাগবে। সেই চিরাচরিত “থার্ড হুইল” ছেলে। আসলে আর ৮/১০টা শৌজো মাঙ্গার মতই সবকিছু আছে এখানে বলতে গেলে। সেই “স্পার্কলিং”, “বাবলি”, “ফ্লাফি” রোমান্টিক মুহূর্ত; স্কুলের বার্ষিক উৎসব, সমুদ্রে যাওয়া, পিকনিকে যাওয়া, ক্রিস্টমাস, নিউ ইয়ার ইত্যাদি। কিন্তু তারপরেও মাঙ্গাটি অনেক বেশি রকমের উপভোগ্য লাগে। এখানেই মাঙ্গাকার সার্থকতা।
শৌজো মাঙ্গার মোয়ে মোয়ে চোখের আর্ট এখানে শুধু তেপ্পেইয়ের জন্য প্রযোজ্য। বাকিদের ক্ষেত্রে এতটা মোয়ে ব্যবহার করা হয়নি। তবে দেখলে বুঝা যায় যে এটি শৌজো মাঙ্গা। আর্ট মোটামোটি ভালোই আছে। শুরুতে কাজ চালিয়ে নেওয়ার মত হলেও শেষের দিকে আরও বেশি গাঢ়, ঝকঝকে এবং বেশ সুন্দর ছিল। আর শৌজো মাঙ্গার “কিরা কিরা” ভাবের উপস্থিতিও আছে ভালমতো।
উম… কিছু কি বলতে ভুলে গেলাম? সবই তো বলেছি… ও হ্যাঁ! কিউটনেসের কথা বলা হয়নি। এই মাঙ্গার কিউটনেস! সেটা কিন্তু রোমান্সের কিউটনেস না। পুচকি তেপ্পেইয়ের কিউটনেস! ফুমিনোর স্কুলের বন্ধুরাই তেপ্পেইকে অ্যাঞ্জেল ডাকে। এই অ্যাঞ্জেলকে দেখে তারাই গলে যায় আর আপনি গলবেন না তা কি করে হয় বলেন! এতটুকু পিচ্চি যেভাবে তার বোনকে কেউ বিরক্ত করলে বাঁচাতে যায়, “মা-কুন” আর “বুন-চানের” জন্য কাগজের আংটি বানিয়ে দেয় আর ফুমিনো আর সেন্সেইয়ের মাঝের বন্ধনটাকে আরও দৃঢ় করে তা দেখলেই তেপ্পেইকে শক্ত করে জড়িয় ধরে চুমু দিতে ইচ্ছে করবে! এই ছোট্ট মানুষটাও গল্পে বেশ ভালোই ভূমিকা পালন করেছে।
সবমিলিয়ে ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছে। ভালো না লাগলে অনগোয়িং অবস্থায় ড্রপ করে শেষ হওয়ার পর আবার পুরোটা নতুন করে পড়তাম না। একজন শৌজো ভক্তকে সন্তুষ্ট করতে যা যা দরকার তার সব উপাদানই এতে আছে। তাই শৌজো ভক্ত হলে বা শিক্ষক আর ছাত্রীর মাঝে সম্পর্ক নিয়ে গল্প ভালো লাগলে মাঙ্গাটি পড়ে ফেলবেন অবশ্যই।

