Movie Time With Yami – 62

earthsea

Name: Tales from Earthsea / Gedo Senki
Duration: 1 hr. 55 min.
MAL Score: 7.21
Ranked: 2464
Genres: Adventure, Fantasy, Magic.

বলা হয়ে থাকে, চাপ নিয়ে কাজ করলে সেই কাজটা নাকি ভাল হয়। কোন একটা কাজের ওপর যখন মানুষ ভরসা করে থাকবে, সেই কাজটা ভালভাবে করার স্পৃহা তত বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু, অনেক সময় দেখা যায়, বেশি প্রত্যাশার পাহাড় মাথায় নিয়ে মানুষ ভেঙে পড়ে। গেদো সেঙ্কি মুভিটার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা তাই হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।

মুভিটি বানানো হয়েছে তিনটি উপন্যাসের কাহিনী একত্রিত করে। স্টুডিও জিবলীর ব্যানারে তৈরি এ মুভিটি বিখ্যাত পরিচালক হায়াও মিয়াজাকির পুত্র গোরো মিয়াজাকির ডেবিউ ফিল্ম। সবমিলিয়ে মুভিটির ওপর প্রত্যাশার চাপ ছিল আকাশছোঁয়া, এবং খুব সম্ভবত এটিই কাল হয়েছে মুভিটির জন্য।

স্টোরির শুরুটা বেশ প্রমিজিং। হঠাৎ করেই রাজ্যে দেখা দেয় অভাব অনটন, রাজ্যের মানুষের আচার আচরণে আসে পরিবর্তন, এবং রাজ্যে ড্রাগনের দেখা পাওয়া যেতে থাকে। তবে কি শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে? রাজ্যের রাজকুমার এক ভয়াবহ অপরাধ করে রাজ্যছাড়া হল। দিশেহারা এ বালকের সাথে দেখা হল জাদুকর স্প্যারোহক এর। কিভাবে এতগুলো রহস্যের সমাধান হবে?

শুরুটা খুব প্রমিজিং হলেও মুভিটি পরবর্তীতে এই প্রমিস রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কাহিনীটা কিছুদূর আগানোর পর কেমন যেন খাপছাড়া হয়ে যায়, কোথা থেকে কি হচ্ছে বুঝতে বেগ পেতে হয়। কোন চরিত্রই মনে রাখার মত লাগেনি। এন্ডিংটা ভাল করেছে, তবে অনেক রহস্য অমীমাংসিত রেখে, এটা বেশ হতাশার ব্যাপার।

তাহলে মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, এত সমস্যাযুক্ত মুভি তাহলে কেন দেখব? অবশ্যই দেখার পক্ষেও যুক্তি রয়েছে। মুভিটির আর্ট খুবই চমৎকার, প্রতিটা দৃশ্যে যত্নের ছাপ স্পষ্ট। স্টুডিও জিবলীর আর্টের মর্যাদা রাখতে পেরেছে এটি। আর সেইসাথে রয়েছে মনোমুগ্ধকর ওএসটি। এগুলোর কারণে শেষপর্যন্ত মুভিটি অন্তত উপভোগ্য হয়েছে। আপনি যদি প্রশ্নের ঝাঁপিটা বন্ধ রেখে দেখতে বসেন, সময়টা খারাপ কাটবে না।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Tales-from-Earthsea

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Gedo Senki (Tales from Earthsea) রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

 

Gedo 1

কি দেখলাম – Gedo Senki (Tales from Earthsea)

স্টুডিও – জিবলী।
সময় – ১ ঘন্টা ৫৫ মিনিট।

হায়াতো মিয়াজাকির ছেলে গোরো মিয়াজাকির ডেব্যু মুভি। Ursula K. Le Guin এর তিনটে বই এর মুভি এডাপশন; যার কাহিনী আবর্তিত হয় এমন এক পৃথিবীতে; যেখানে খুব অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটা শুরু হয়। দুর্ভিক্ষ, জনগনের অদ্ভুত আচরন – এসব কিছুর সাথে যুক্ত হয় ড্রাগনের আবির্ভাব; যারা কিনা কখনই মানুষের সীমানায় প্রবেশ করে না। এরই মাঝে যাদুকর Sparrowhawk এর দেখা হয় ১৭ বছরের এক ছেলের সাথে; যার নিষ্পাপ চেহারার পিছনে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীত।

জিবলীর মুভিগুলোর মধ্যে গেডো সেনকি খুব উপরের দিকে থাকবে না সম্ভবত। তার পিছনের কারণগুলোও যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত। গেডোকে Ursula বলেছিলেন – ‘It is not my book. It is your movie. It is a good movie’; কিন্তু শেষমেশ তিনি তার অসন্তুষ্টিই প্রকাশ করেছিলেন মুভি নিয়ে। তিনটে বই এর এডাপশন হলেও শেষ বইটাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে; আগের বইগুলো থেকে আসা এলিমেন্টগুলো বেশিরভাগই ব্যাখ্যা করা হয়নি যথাযথভাবে।

মুভিটা রীতিমত একগাদা প্রশ্নের উত্তর অসম্পূর্ণ রেখে দিয়েছে। খুনের রহস্য কি, শহরে দাস কেন, কে দাস হতে পারবে আর কে পারবে না; Sparrowhawk এর সাথে টেনারের সম্পর্ক কি এবং তার ভিত্তি আসলে কি (আমাকে রক্ষা করেছে – আসলে খুব সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না); থেরুর অতীত কি জন্য এতো অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল; যাদুকর কারা হতে পারে; তাদের সংখ্যা কত আর এই ক্ষমতার উৎসই বা কি – এরকম অনেক প্রশ্ন এবং অনেক এঙ্গেলই মুভিটা গুরুত্ব দেবার প্রয়োজন বোধ করেনি।

Gedo 2

তাছাড়া চরিত্রগুলো এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি খুবই অসম্পূর্ণ। Sparrowhawk প্রধান যাদুকর এটুকুই শুধু জানা যায়; তার পিছনের আর কোন কাহিনীই আমাদের জানা নাই; অথচ তার চেহারার দাগ ইঙ্গিত দেয় যে এখানে অনেক কিছুই ব্যাখ্যা করার অবকাশ ছিল। তাছাড়া মুভির মেইন ক্যারেক্টার আরেনের চরিত্র অসম্ভব রকমের সোজাসাপ্টা। পুরো মুভিতে আমি এমন কিছু পাই নি তার চরিত্রে যেটা তাকে পছন্দ করতে সাহায্য করবে। পুরো মুভিতেই সে ভয়াবহ বিভ্রান্ত এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরক্তিকর চরিত্র হিসেবেই সামনে এসেছে।
মুভিটা তার যে মেসেজ সেটাতে ট্রু ছিল শেষপর্যন্তই; কিন্তু জিবলীর অন্য মুভিগুলোর মতন গল্পের আড়ালে মেসেজ না দিয়ে রীতিমত গিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছিল কিছু জায়গায়; যেটা মোটেও সুখকর ছিল না।

মুভির সাফল্যও ছিল কিছু। মধ্যযুগীয় কল্পনারাজ্যর যে সেটিং মুভি দিতে চেয়েছিল তাতে এটা পুরোপুরি সফল। ব্যাকগ্রাউন্ড, শহরের দৃশ্য – দুর্দান্ত; যদিও চরিত্র রুপায়ন আরেকটু ভাল হতে পারত। কিংবা এটাই হয়ত পরিচালক চেয়েছিলেন। সবচেয়ে শক্তিশালী দিক বোধহয় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। মাঝখানে একটা সময়ে কোন রকম ইন্সট্রুমেন্ট ছাড়া একটা গান আছে – যেটা আপাতত আমার নিউজিক প্লেয়ারে রিপিট অন করে বাজতেসে।
(লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=1hN3iGc1uW8)

ইন্টারনেট অবশ্য অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর একটা ব্যাখ্যা দেয় এই বলে যে, বইগুলো পড়ে নিতে হবে আগে; তাতে অনেক প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বসা যাবে; মুভিটা পুরোপুরি উপভোগও করা যাবে। কিন্তু যে মুভি দেখে বোঝার জন্য আমাকে তিনটে বই পড়ে নিতে হয়; সেটা যে তার উদ্দেশ্য পুরণে এবং নির্বর্তনে কিছুটা হলেও ব্যর্থ – একথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

Gedo 3