পেলে পুষে রাজকীয় ঘোড়াটাকে বড় করেছে তরুনী। রেসের ঘোড়া। কিন্তু তরুনীর চাচা মেরে ফেলতে চায় ঘোড়া, পিওর ব্লাড না বলে। একরকম অনার কিলিং বলা যায়। ভাড়া করে হিটম্যান। ঘটনাক্রমে তরুণী জেনে ফেলে হিটম্যানের নাম। তাঁর হোটেলরুমে গিয়ে চেষ্টা করে কনট্রাক্ট বাতিল করার, টাকা-পয়সাসহ সবরকম প্রলোভন দেখিয়ে। প্রিয় পোষ্যর জীবন বাচাতে মরিয়া তরুণী। তাঁর মুখখানি দেখলে যে কারও মায়া লাগবে।
হিটম্যান কী করে? ঘোড়া, ঘোড়ার মালকিন—তরুণী এবং তরুণীর চাচা, তিনজনকেই পরপারে।
.
হিটম্যান জাতীয় সিনেমার সাজেশন খুঁজতে গিয়েছিলাম Reddit-এ। রিকমেন্ডেশনে আসা সিনেমাগুলো সব দেখা থাকলেও, একজন Golgo 13 অ্যানিমে সাজেস্ট করলেন, বেশ জোর দিয়ে। তখনই দেখতে বসেছিলাম। ৫০ পর্ব, একটানা দেখে চারদিনেই শেষ করে ফেলেছি।
.
প্রোটাগনিস্ট Golgo 13 বা Duke Togo বিশ্বসেরা হিটম্যান, এক নম্বর স্নাইপার। তাঁর স্কিলের কাছে ক্রিস কাইলেরা নস্যি। রহস্যময় চরিত্র, চাইলেই খোঁজ পাওয়া যাবে না। তাঁকে ভাড়া করতে চাইলে সেই হাজির হবে। মূল্যও চড়া, প্রতিটা চুক্তির বিনিময়ে গুণতে হবে ৩ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্বজোড়া সবাই তাঁর ক্লায়েন্ট। হোক সে মাফিয়া, CIA, FBI, লোকাল কোন বস বা প্রতারিত স্ত্রী। মিশন পছন্দ হলেই গ্রহণ করবে।
.
সিরিজের বৈশিষ্ট্য হলো, পুরোটাই এপিসোডিক, একটা এপিসোডের গল্প ওই এপিসোডেই শেষ। প্রায় প্রতিটা এপিসোডেই কোন না কোন খুনের কনট্রাক্ট এবং তাঁর বাস্তবায়ন দেখানো হয়।
সুতরাং খুব দ্রুতই একঘেয়ে লাগবার কথা। প্রথম দুই/তিন এপিসোডের পরের পাঁচ/ছয়টা এপিসোড লাগেও। সম্ভবত ক্রিয়েটরও বুঝতে পেরেছিলেন। এর পরের এপিসোডগুলোতে অ্যাসাসিনেশনের গল্প থাকলেও বিভিন্ন শর্ত আর জটিলতা যোগ করে গল্পে বিভিন্ন মাত্রা দেয়া হয়েছে। দেখতে ভালোই লাগে তখন। এছাড়া এপিসোডিক সিরিজের প্রতি বিশেষ পছন্দ কাজ করে। ধারাবাহিক গল্পের চেয়ে এপিসোডিক কিছু বিঞ্জ করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
.
এছাড়াও গলগো ১৩ এর চরিত্রায়ন পছন্দ করেছি। “নো উইটনেস” কথাটাকে আক্ষরিকভাবেই নেয়, কনট্রাক্ট কিলিং তাঁর কাছে বাস্তবিকই পেশা, ভালো-খারাপ, শুভ-অশুভের পার্থক্য বা পাপবোধ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় গলগো। মানবরচিত নিয়মের সাথে সে কতখানি অসম্পর্কিত, সেটা ভালোভাবে টের পাওয়া যায় সিরিজের ৪৯ নম্বর এপিসোডে।
স্পাইদের মতো রোমাঞ্চকর জীবনে অভ্যস্ত নয় সে, ওম্যানাইজারও নয়। তবে কোন এক অদ্ভুত কারণে প্রায়শই নারীরা তাঁর শীতল, নির্লিপ্ত, পাথরে খোঁদাই মূর্তির প্রেমে পড়ে যায়।
এছাড়া আরেকটা কথা বলে নেয়া উচিৎ হবে, এই সিরিজে এক্সপ্লিসিট সিনের অভাব নেই, হুটহাট হাজির হয়। তাও একদম খুল্লাম-খুল্লা এবং এক দুই সেকেন্ডের নয়। । দর্শকের ব্যাপারটায় সমস্যা থাকলে একা দেখতে হবে।
.
অ্যানিমেশন স্টাইল দেখে মনে হয় কেউ যেন গামার নবটা ধরে জোরে ঘুল্লি দিয়েছে। অনেকটা Kino no tabi-র মতো সাদাটে ভাব। তবে কিনো থেকে কম ডিটেইল্ড ফ্রেমগুলো। চরিত্রগুলোর ডিজাইন কাউবয় বিবপ ঘরানার এবং আবহগত ভাবে মুশিশির সাথে মিল আছে খানিকটা, নৈশব্দ নির্লিপ্ততা বলা যায়।
.
গ্রেট সিরিজ? নাহ। স্ক্রিনপ্লেতে বড় ধরণের সমস্যা আছে।
তবে উপভোগ্য অবশ্যই। এই সিরিজ থেকে মূল পাওনা আসলে Golgo 13 চরিত্র। তাঁকে 47 এর অলটার ইগো বলা যায়।
এফ এ সি ৪৬
রান্ডম টপিক
শিরিতোরি[Shiritori]
গ্রুপে মাঝে মাঝে দেখা যায় এক ধরনের খেলা হয়, যেখানে একজন একটা আনিমে/চরিত্রের নাম বলবে, তার শেষ বর্ণ ধরে আরেকজনকে পরের নাম বলতে হবে। এই খেলার জাপানী ভার্শন হল শিরিতোরি, তবে এমনিতে খেলাটাকে অসীম গোছের কিছু মনে হলেও আসলে তা নয়, শিরিতোরিতে হার-জিত নির্ধারণ করার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে, সেটা হল, যার উচ্চারিত শব্দের শেষ বর্ণ “ন[ん]” হবে, সে খেলায় হারবে, কারণ জাপানী ভাষায় “ন[ん]” দিয়ে কোন শব্দ শুরু হয় না।
আনিমে সাজেশন
গোলগো থার্টিন[Golgo 13]

পেশীবহুল লোকটাকে দেখলেই বোঝা যায় চিতার ক্ষিপ্রতা তার শরীরে। অন্তর্ভেদী দৃষ্টি গায়ে জাগায় কাঁপুনি। নাম তার ডিউক তোগো, কিন্তু এটা স্রেফ বাইরের চেহারা। তার আসল পরিচয়? সে সবার সেরা হিটম্যান, কোন লক্ষ্যই যার অভেদ্য নয়। সে হল গোলগো থার্টিন!
কেন দেখবেনঃ অভারপাওয়ারড মেইন ক্যারেক্টারকে নিয়ে আনিমে দেখার একটা অন্য রকম মজা আছে, আপনি জানেন সে পরিষ্কার ব্যবধান রেখেই জিতবে, কিন্তু এই ব্যবধানটা সে কিভাবে গড়ে তুলছে, এটা আনিমেতে দারুণভাবে দেখানো হয়েছে।
কেন দেখবেন নাঃ স্ট্রিক্টলি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, নারীদের “রমণীয়তা” দেখানো হয়েছে খুব বেশি পরিমাণে[বাংলায় মোটামুটি ভালো দখল থাকলে আপনি বুঝতে পারবেন আমি কি বুঝিয়েছি।]। আর গোলগোর ভয়েস আমার বেশি ভাল্লাগেনি, আরও আকর্ষণীয় হতে পারত।
ম্যাল রেটিং ৭.৫৮
আমার রেটিং ৮
মাঙ্গা সাজেশন
তোমি[Tomie]

অপূর্ব সুন্দরী মেয়েটাকে দেখলেই প্রায় সবাই মুগ্ধ হয়ে যায়। “প্রায়” কেন বলছি? আপনারা মুগ্ধ হবে না, যখন জানবেন এই মেয়ে মরলেও ফিরে আসে বারবার, আরও ভয়ঙ্কর হয়ে!
কেন পড়বেনঃ ইতো জুঞ্জির মাঙ্গা, হরর আবহের কমতি নেই। ছোটগল্পগুলো ভারী আকর্ষণীয়।
কেন পড়বেন নাঃ তেমন কোন কারণ নেই। মাঝে মাঝে পেটের মধ্যে গুলাতে পারে অবশ্য।
ম্যাল রেটিং ৭.৭২
আমার রেটিং ৮


