Gosick রিভিউ — Rafiul Alam

“I don’t mind being unsightly. I found something more important than pride!” — Victorique

এই মাত্র দেখে শেষ করলাম।মনে ভয়ংকর সুন্দর অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে।এটি এমন এক অনুভূতি যা বলে বোঝানোটা দায়।নির্মল সুন্দর একটি এনিমে।Bones স্টুডিওয়ের এনিমে বলে কথা।এই স্টুডিওয়ের অন্যান্য এনিমের ছাপ উল্লেখযোগ্য।উদাহরণ স্বরুপ ফুলমেটাল আলকেমিস্ট।তবুও এনিমেটা স্বতন্ত্র।

Synopsis: সাল১৯২৪। ফ্রান্স ও ইতালীর মাঝে একটি কাল্পনিক দেশ হল Saubure.এই Saubure এর কোন গ্রামে অবস্থিত Saint Marguerite Academy.একাডেমিটা এমন এক জায়গায় অবস্থিত,যেখান থেকে আল্প্স পর্বত দেখা যায়।এই একাডেমিতে পড়তে আসে আমাদের গল্পের নায়ক জাপানি ট্রান্সফার স্টুডেন্ট কাজুইয়া কুজো।তার চোখ ও চুল কালো বলে একাডেমির শিক্ষার্থিরা তাকে কালো শিনিগামী বলে ডাকে এবং কাছে আসতে ভয় পায়। অগত্যা বেচারা একা একা থাকে।একদিন একাডেমির লাইব্রেরি টাওয়ারে গল্পের বই পড়তে গিয়ে সোনালী চুল আবিষ্কার করে।তার উৎসের সন্ধান করতে গিয়ে পরিচয় হয় অদ্ভুত স্বভাবের মেয়ে ভিক্টোরিকার সাথে।অদ্ভুত স্বভাবের হলেও খুব দ্রুতই কুজোর সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।রহস্যপ্রিয় ভিক্টোরিকা এবং কুজো নানা ধরনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।এগিয়ে যায় কাহিনী।


Theme setup, Background Music & Animation: “20th century europe”…এমনিতেই আমার ভালো লাগে।এক্ষেত্রে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপ।এমন প্রেক্ষাপটের এনিমে খুবই কম আছে বলে মনে হয়।গথিক এনভাইরোমেন্ট সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।তৎকালীন জীবনযাত্রা ও প্রযুক্তি ভাল ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এক কথায় ওয়ান অফ এ কাইন্ড।আপনাকে মুডে আনতে বাধ্য। মিউজিকও বেশ ভালো।বিশেষ করে দ্বিতীয় এন্ডিংটা কিছুটা সেল্টিক মিউজিকের মত।আমার ভাষায় “খানদানী”।এনিমেশন নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। Bones স্টুডিওয়ের গতানুগতিক এনিমেশন।
Characters setup: এক্ষেত্রে মেইন ফোকাস হল ভিক্টোরিকা।ব্যাপারটা অনেকের ভাল নাও লাগতে পারে।টিপিকাল tsundere ক্যারেকটার আমার খারাপ লাগেনি।সরল ছেলে কুজোকে বেশ পছন্দ হয়েছে।

Overall Rating:

MAL rating: 8.27/10
My rating: 8.5/10

2nd Ending: http://youtu.be/4lXMrkq-NEc

Gosick anime review by Shafiul Munir

সে অনেক দিন আগের কথা, ইউরোপের এক রাজ্যে বাস করত এক গোল্ডেন ফেইরী, সে ছিল মহাজ্ঞানী, এমন কিছুই নেই যা সে জানে না, যেকোন রহস্যের সমাধান করতে পারত সে, পারত সমস্ত ধাঁধাঁর জবাব দিতে, কিন্ত কেউ তার কাছে কিছু চাইলে সেটা বলে দেবার বদলে তার আত্মা শুষে নিত সে।
এরকম হাজারো রুপকথা আর ভূত-প্রেতের কাহিনীতে ভরপুর ইউরোপের সেভিল রাজ্য। প্রথম মহাযুদ্ধ শেষ হলো প্রায় ১০ বছর, জাপানি টিনএজার কুজো সেদেশের এক ইউনিভার্সিটিতে যায় আর তার পরিচয় হয়ে যায়, শীতের মৃত্যুদূত হিসাবে। সেদেশের এইসব পৌরানিক আর ভৌতিক গল্পে খুব বিশ্বাসী সবাই তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। ঘটনাক্রমে কুজোর পরিচয় হয় ভিক্টোরিয়া নামের এক অদ্ভুত মেয়ের সাথে, দেখতে খুব ছোট, ভঙ্গুর, চোখগুলা সবুজ, সবসময় লাইব্রেরীর উপর একগাদা বই নিয়ে পড়ে থাকে রহস্যময় এই ভিক্টোরিয়া। কেউ থাকে বলে লাইব্রেরীর গোল্ডেন ফেইরী, আবার কেউ বলে ‘গ্রে উলফ’, লিজেন্ডারী এক ব্লাডলাইন, যারা তাদের এক্সট্রা-অর্ডিনারী বুদ্ধিমত্তার জন্য বিখ্যাত।


এসব ভূত-পিশাচের কাল্পনিক কাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে ঘটতে থাকে নানাধরণের হত্যাকান্ড, একদম ছোট্ট থেকে শুরু করে পুরো দেশ দখলের ষড়যন্ত্র, সবকিছুই হচ্ছে সাধারণ মানুষের ভূতুড়ে কিচ্ছার প্রতি আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে। কুজো ঘটনাক্রমে নানাভাবে জড়িয়ে পড়ে একের পর এক রহস্যের সাথে, আর ভিক্টোরিয়া অদ্ভুত দক্ষতায়, এফোর্টলেসলি সবগুলো রহস্যের জাল উন্মোচন করতে পারে, ঠিক যেন গোল্ডেন ফেইরী কিংবা গ্রে উলফের মত। কে এই ভিক্টোরিয়া? ‘গ্রে উলফ’ রা আসলে মানুষ না অন্য কিছু? বিভিন্ন প্রচলিত গল্প আর লিজেন্ডের আড়ালে কি ষড়যন্ত্র চলছে সবকিছুকে উলটপালট করে দিতে?

একগাদা রিলেটেড-আনরিলেটেড বেশ স্টান্ডার্ড রহস্য আর গল্পের মধ্য দিয়ে মূল কাহিনী খুব সুন্দরভাবে এগিয়ে গেছে এনিমেটিতে, তাই গতানুগতিক ডিটেকটিভ-মিস্ট্রি জেনারের এনিমে থেকেও কিছুটা ভিন্ন এই চমৎকার এনিমেটি। এছাড়া সংলাপ খুব ভালমানের এবং অনেক মজার।
রেটিং- সাড়ে ৮- ৮ সম্ভবত (তবে আমার ৯ দেবার মতই ভালো লেগেছে)
না দেখার কোন কারণ নাই, অবশ্যই ভালো লাগবে।

আরো কিছু ডিটেক্টিভ-মিস্ট্রি এনিমেঃ ডিটেকটিভ কোনান(রেটিং- ৮), শিনরেই তানতে ইয়াকুমু (৮), মোওরিওনো হাকু (৮), ডিটেকটিভ একাডেমী কিউ (সাড়ে ৮), স্পাইরালঃলাইন্স অব রিজনিং (৮-সাড়ে ৮) ,হিউকা (৯) ইত্যাদি।