রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২: Uchuu Kyoudai — Hussain Shoykot Ash

আনিমে- উচু কিওদাই / স্পেস ব্রাদার্স

জনরা- কমেডি, সাই-ফাই, স্পেস, স্লাইস অফ লাইফ, সেইনেন
এপিসোড- ৯৯ টি
মাই আনিমে লিস্ট স্কোর- ৮.৬১

ছোটবেলা থেকেই আমাদের অসীম আগ্রহ মহাকাশের প্রতি, আকাশের তারা আর চাঁদ কিন্তু সবাইকেই আকর্ষণ করে, মনের মাঝে কিন্তু সবারই কখনও না কখনও এমন প্রশ্ন এসেছেই যে, আচ্ছা, আকাশের তারা কিভাবে ভেসে থাকে? চাঁদ এত কাছে আর সূর্য এত দুরে কেন? হয়ত বাবা-মাকে প্রশ্ন করে কিছু জানা গেছে, কিন্তু অনেক কিছুই অজানাই রয়ে গেছে। সময়ের সাথে সাথে হয়ত মন থেকেই মুছে গেছে কথা গুলো। আরেকটু বড় হওয়ার পর হয়ত শোনা গেছে যে মহাকাশে মানুষ গেছে। তাদের আবার এস্ট্রোনট বলে। তখন থেকেই মনের ভেতর হয়ত উঁকি দিয়েছে যে আমিও এস্ট্রোনট হতে চাই, কিন্তু জ্ঞানের অভাবেই হোক আর পরিবারের চাপেই হোক ভুলে গেছি মনের ভেতরের সেই আকাঙ্ক্ষাটাকে। আবার হয়ত কেউ এখনও এস্ট্রোনট হতে চায় কিন্তু জানেনা কিভাবে কি করে হতে হয়। আবার অনেকে আমার মত থাকতে পারেন যারা জানতে চান কেমন জীবন এস্ট্রোনটদের? তারা কেমন মানুষ? কি করতে হয় তাদের? চাঁদে গিয়ে তারা কি করে? আচ্ছা চাঁদে তারা কি ধরণের বিপদে পড়তে পারেন? আচ্ছা, আমি যদি এস্ট্রোনট হতাম, তাহলে আমার জীবনটা কেমন হত? হ্যা, এই সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে এই আনিমেটাতে, স্পেস ব্রাদার্স এমন একটা আনিমে যেটা দেখলে এই সকল উত্তর এমনিতেই পাওয়া যাবে, বা কেউ যদি মহাকাশ সম্পর্কে আগ্রহ না থাকা সত্ত্বেও দেখে, তাও সে মহাকাশের প্রতি একটা অজানা আগ্রহ অনুভব করবে।

এতো গেল কেন দেখবেন এই আনিমেটা। এখন আসা যাক এই আনিমের স্টোরিতে- এখানে দুই ভাইয়ের কথা বলা হয়েছে (নাম স্পেস ব্রাদার্স যেহেতু, দুই ভাইয়ের কথা কল্পনা করে নেওয়া যায়) তবে এরা কিন্তু একভাই এক স্পেসে আরেকভাই আরেক স্পেসে এমন না, বরং দুই ভাই এই পৃথিবীরই মানুষ। তাহলে মনে প্রশ্ন আসতে পারে, নাম স্পেস ব্রাদার্স কেন? আসছি সেই কথায়, ছোটবেলায় দুই ভাই নাম্বা মুত্তা আর নাম্বা হিবিতো একটা অদ্ভুত উজ্জ্বল আলো বিশিষ্ট জিনিস দেখতে পায়। কিছুক্ষণ পরেই যদিও সেই বস্তু চোখের আড়ালে খুব দ্রুত আকাশের দিকে চলে যায়, দুই ভাইয়ের মনে প্রশ্ন জাগে, এটা কি ছিল? মনে করে এটা বোধহয় এলিয়েন সসার ছিল। শুরু হয় মহাকাশের প্রতি আগ্রহের সূচনা। যদিও এই আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কিভাবে যেন নিজের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে বড় ভাই এস্ট্রোনট হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে যায়। ছোট ভাই লেগে থাকে সেই ছোটবেলায় দেখা স্বপ্নের পিছনে, দেখা পায় সেই আশ্চর্য স্বপ্নের, এস্ট্রোনট হওয়ার সেই দীর্ঘ অসম্ভবপ্রায় স্বপ্ন। জাক্সা থেকে নাসাতে চাঁদে যাওয়ার জন্য ট্রেনিং নিতে থাকে সে। এখানে আপনারা দেখতে পারবেন এস্ট্রোনটদের কিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়। এবার আসি বড় ভাইয়ের কথায়। স্বপ্ন ভুলতে শুরু করেছিল সে, নিজের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে, কিন্তু যে অফিসে সে কাজ করত সেখানে বস তার ছোট ভাইকে নিয়ে তামাশা করলে মেরে বসে সে বসকে। সহজেই চাকরি হারাতে হয় সেকারণে, অন্য কোথাও চাকরি পাওয়াও অসম্ভব, কারণ, অফিসের বসকে যে মারতে পারে তাকে চাকরি দিতে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক সবার। এমন সময় ছোট ভাই হিবিতো বড় ভাইকে তার স্বপ্নের কথা মনে করিয়ে দেয়। যেহেতু কাজ কাম নেই, মুত্তা আর কি করবে স্বপ্নকে আবার জাগ্রত করতে এস্ট্রোনট হওয়ার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অংশগ্রহণ করে, শুরু হয় এস্ট্রোনট হওয়ার যুদ্ধ।

এখান থেকে যারা জানতে চায় এস্ট্রোনট কিভাবে বাছাই করে বা কিভাবে ধাপে ধাপে একজন মানুষ এস্ট্রোনট হয়, তারা ভাল ধারণা পাবে, কেননা মুত্তাকে অনেকগুলা পরীক্ষা যে দিতে হবে নিজেকে প্রমানিত করার জন্য, স্বপ্নকে পাওয়ার জন্য। এখন যেই প্রশ্নটা মনে আসছে সেটা হল, তাহলে চাঁদে এস্ট্রোনটরা কি করে? কিসব বিপদে পড়ে? তা কিভাবে জানবো? এক ভাই তো এস্ট্রোনট হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, আরেকভাই এস্ট্রোনট হবে তাই পরীক্ষা দিচ্ছে। ব্যাপার না, একটু ধৈর্য্য ধরে দেখুন, এস্ট্রোনটদের নিয়ে সবকিছু পরিস্কার করে দেখিয়ে দেওয়া আছে আনিমেটাতে। মোটামুটি এই হল এই আনিমের স্টোরিলাইন। তবে এই এনিমের সবচাইতে ভাল লাগতে পারে যে জিনিসটা আপনাদের তা হল দেখার সময় কখনও এমন মুহূর্তে পরবেন যে না হেসে পারবেন না। কখনও আবার মন খারাপ করার মত অবস্থাই পরবেন, হয়ত কেদেও দিতে পারেন কে জানে? তবে যে জিনিসটা আপনি এই এনিম থেকে আবিস্কার করবেন তা হল এইটা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে, যেইটা এই এনিমের সবচাইতে বড় বিশেষত্ব।

এবার আসি গ্রাফিক্স, ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড, ওপেনিং আর এন্ডিং গানের দিকে- স্পেস ব্রাদার্সের গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর। মহাকাশ, নাসা, জাক্সা, এস্ট্রোনটদের প্রয়োজনীয় সকল জিনিস খুব সুন্দর ও নিখুঁতভাবে দেখানো হয়েছে। এর গ্রাফিক্স এমন যে আপনি দেখার সময় এক ধরনের আকর্ষণ অনুভব করবেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে যে স্লো মিউজিক ব্যাবহার করা হয়েছে তা প্রতিটা মুহূর্তের সাথে মানানসই। ওপেনিং আর এন্ডিং গানগুলো অসাধারণ রকম সুন্দর। যে গানগুলা ব্যবহার করা হয়েছে চোখ বন্ধ করে শুনে দেখতে পারেন, ভাল না লেগে যাবেনা।

স্পেস ব্রাদার্স আসলেই অসাধারণ একটি আনিমে। যদি কোন নতুন আনিমে খুঁজছেন দেখার জন্য বা সুন্দর একটা আনিমে দেখতে চান তাহলে আমি এই আনিমেটাকে দেখার কথা বলবো, দেখলেই বুঝবেন এই আনিমেটা কতটা সুন্দর। তাই হাতে কোন কাজ না থাকলে দেখা শুরু করে দিন আনিমেটা।

2 Uchuu Kyoudai

Donten ni Warau রিভিউ — Hussain Shoykot Ash

Name- Donten ni Warau/Laughing under the clouds
Episodes- 12
MAL Score- 7.64
Ranked- 1103
Genres- Action, Historical, Shoujo

দোন্তেন নি ওয়ারাউ। এটা একটি হিস্টোরিকাল এনিম, এখানে তিন ভাইয়ের কথা বলা হয়েছে, যারা সামুরাই এবং তারা একটি গ্রামের রক্ষাকর্তা ও সেইখানকার প্রধান হিসেবে আছে, সেখানে কোনোরকমবিশৃঙ্খলা দেখা দিলে রক্ষা করে। পদে পদে নানা ধরণের বিপদ দেখা দেয়, তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই সবচাইতে শক্তিশালী সামুরাই সে তার দুই ভাইকে অনেক ভালবাসে এবং সব ধরনের বিপদ থেকে আগলিয়ে রাখে। কিন্তু মেজ ভাই তার বড় ভাইয়ের থেকেও শক্তিশালী হতে চায় এবং পদে পদে বিপদে পড়ে, মূলত এইএনিমটার কাহিনী গড়ে উঠেছে Good vs Evil এইভাবে।

এই এনিমটা আমার ভাল লেগেছে মূলত এর কাহিনীটা যেভাবে গড়ে উঠেছে, এর অসাধারণ soundtrack, opening song এগুলার জন্য আর মাত্র ১২টা পর্বের মধ্যে এর সম্পূর্ণ কাহিনীটা যেভাবে শেষ করা হয়েছে সেইটা দেখে।

যদি আপনি নতুন কোন এনিমে দেখতে চান, তাহলে আজই এই এনিমটা দেখা শুরু করতে পারেন।

Anime Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Donten-ni-Warau

D.Gray-man রিভিউ — Hussain Shoykot Ash

Name- D.Gray-man
Episodes- 103
Mal Score- 8.23
Ranked- 272
Genres- Action, Adventure, comedy, shounen

আচ্ছা যদি মানুষকে এমন সুযোগ দেওয়া হত যে সে তার প্রিয়জন, যে মারা গেছে তাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে, তাহলে সে কি করত? তাহলে সে নিশ্চয়ই দ্বিতীয়বার না ভেবে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যা করতে বলা হয়েছে, তাই করত।

হ্যা, ডি.গ্রে-ম্যান এ ঠিক তাই দেখানো হয়েছে। এখানে কেউ মারা গেলে সাথে সাথে মিলিনিয়াম আর্ল নামক একজনের আবির্ভাব হয়, যে মৃত ব্যক্তির আপনজনের কাছে এমন একটি যন্ত্র নিয়ে আসে, যার সাহায্যে সেই ব্যক্তি তার সদ্য মৃত আত্মীয়ের আত্মাকে ডেকে আনতে পারবে। এবং এখানেই ভুল করে ফেলে মানুষ, ডেকে নিয়ে আসে তার মৃত প্রিয়জনকে।

এখন বলে দিই, যেই যন্ত্রের সাহায্যে আত্মাকে ডেকে আনা হয়, তাকে বলা হয় আকুমা। এই যন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে আত্মা আটকা পড়ে যায় এবং আত্মা মিলিনিয়াম আর্ল এর কথা শোনে। কিন্তু আত্মার মুক্তি হয়না, তাই সে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মিলিনিয়াম আর্লের কথা শুনে এবং ইভিল স্পিরিট হয়ে আটকা পড়ে যায় পৃথিবীতে আকুমা নামক যন্ত্রের
মধ্যে।

এখন আসি, স্বভাবতই আমাদের জানা মতে যখন কেউ মারা যায় তখন সে মুক্তি চাইবেই, কিন্তু তাকে যদি আটকে রাখা হয় তখন সে মনোঃক্ষুণ্ণ হবে। মিলিনিয়াম আর্ল যখন মৃত ব্যক্তির আত্মাকে তার প্রিয়জনের সাহায্যে আকুমাতে পরিণত করেছে, তখন আকুমাকে যাতে সাধারণ মানুষ চিনতে না পারে তাই তাকে আদেশ দেয়, যেন সে যে তাকে ডেকে এনেছে তার শরীর ধারণ করে।

এ তো গেল আকুমাতে পরিণত হওয়ার ঘটনা, কিন্তু যখন ইভিল থাকবে তখন নিশ্চয়ই হিরোও থাকবে যারা পৃথিবীকে রক্ষা করবে!

হ্যা, এখানেও তেমন আছে এবং তাদেরকে এক্সরসিস্ট বলা হয়। এদেরকে গড এমন পাওয়ার দেন যাতে তারা আকুমা ধ্বংস করতে পারে। এদেরকে যে পাওয়ার দেওয়া হয় তাকে বলা হয় ইনোসেন্স। যেই সংগঠন আকুমা ধ্বংসের কাজ করে তাদের নাম হচ্ছে ব্ল্যাক অর্ডার। ইনোসেন্স নিয়ে গবেষণা করে এমন বিজ্ঞানী, এক্সরসিস্ট এবং আকুমা শনাক্ত করে এমন রিসার্চ টিম থাকে। মূলত এই নিয়েই গঠিত ব্ল্যাক অর্ডার। বিভিন্ন এক্সরসিস্টের বিভিন্ন পাওয়ার আছে, এবং বিভিন্ন আকুমার বিভিন্ন পাওয়ার।

 

অন্যান্য বিভিন্ন শৌনেন এনিমের মতো এখানেও একজন কেন্দ্রীয় নায়ক চরিত্র আছে। তার নাম হচ্ছে এলেন ওয়াকার, তিনি অন্যান্য এক্সরসিস্ট থেকে আলাদা। তার ওপর একটা অভিশাপ আছে, যার কারণে সে তার বাম চোখের সাহায্যে মানুষের ছদ্মবেশে আকুমা থাকলে তা দেখতে পারে। এবং যেই অস্ত্র সে আকুমা মারতে ব্যবহার করে, তা আর কিছুই না; তার নিজের হাত। হ্যা, তার হাত একটা অস্ত্র। যখন কোনও আকুমা শনাক্ত হয় তখন এটা একটিভেট হয় এবং এলেন আকুমা মারতে তা ব্যবহার করে।

প্রথম ৫ টা পর্ব একটু বোরিং, কারণ এখানে নায়কের প্রবেশ হয় এবং শুধু আকুমা বনাম এক্সরসিস্টের সংঘর্ষ হয়, তাই প্রথম প্রথম মনে হতে পারে যে এটা এমন এনিম যেখানে প্রতিটা পর্বে এক্সরসিস্ট আকুমা হান্টে বের হবে এবং একটা পর্ব একটা মিশন নিয়ে গঠিত, কিন্তু ৫ টা পর্ব ধৈর্য নিয়ে দেখুন, আর তার পর দেখুন কিভাবে কাহিনী ডালপালা মেলে আপনার সামনে উপস্থিত হয়। এনিমটার গ্রাফিক্স একটু খারাপ, তবে পুরানো এনিম হিসেবে ভালই বলতে হয়। ওপেনিং এবং এন্ডিং গানগুলি অসাধারণ। তবে যেই জিনিসটা আমার এই এনিমের সবচাইতে ভাল লেগেছে সেইটা হচ্ছে যেভাবে স্টোরি গড়ে উঠেছে এবং যেভাবে কাহিনী অগ্রসরহয়েছে।

যদি এই এনিমটা না দেখে থাকেন তাহলে আপনি বুঝবেন না কি মিস করেছেন, তাই যদি কোন নতুন স্বাদের শৌনেন এনিম দেখতে চান, তাহলে আজই দেখা শুরু করতে পারেন অসাধারণ এই এনিমটি

Anime download link-http://kissanime.com/Anime/D-Gray-man