The Tatami Galaxy রিভিউ — Asfina Hassan Juicy

4

The Tatami Galaxy
Episodes: 11

জনৈক দার্শনিক বলেন “মানুষ মাত্রই অসন্তুষ্ট।” মানুষ এক মূহুর্ত হাসে,পরমূহুর্তেই নাসিকা দিয়ে ফোঁস করে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করে বলে “হুম,আমি অসন্তুষ্ট।” মানুষের মনের এই অসন্তোষের কক্ষে এসে যোগ দেয় অতীতকে দোষারোপ,নিজেকে দোষারোপ,মানুষকে দোষারোপের এক ধরণের প্রবণতা এবং একটি ‘যদি’র কাল্পনিক কোর্ট।‘যদি এই কাজটা না করতাম’, ‘যদি এই জিনিসটা না হইত’, ‘যদি এই ব্যাটা এই আকাম না করত’…কিন্তু এই ‘যদি’ই যদি বাস্তব হত তবে কি জীবনের সব অসন্তোষ ঘুঁচে গিয়ে চিরকাঙ্খিত ‘rose coloured life’ এর আগমন ঘটত?
গল্পের ন্যারেটর কলেজের নতুন জীবনের দ্বারকোঠায়।আর দশজন স্বাভাবিক যুবকের মত সেও এক গ্যালন বসন্তপূর্ণ ফুলেল জীবনের আশা নিয়ে প্রবেশ করে তার ক্যাম্পাসে।অজস্র নব নব ক্লাব বা অতিরঞ্জিত করে বললে ‘জীবনের দরজা’র মধ্যে থেকে সে পছন্দ করে নিল টেনিস ক্লাব।কিন্তু হ্যাঁ, জীবন তাকে স্বভাবতই কচু দেখিয়ে সব আকাঙ্খা পণ্ড করে দিল।আর কচু দেখাতে সাহায্য করল টেনিস ক্লাবের নিন্দনীয় এক চরিত্র Ozu। তবে যদি সে প্রথমে টেনিস ক্লাব না নিয়ে অন্য কোন ক্লাব বেছে নিত? যদি তার জীবনের choice এবং activity ভিন্ন হত? সে কি পেত চিরকাঙ্খিত ‘rose coloured life’ ?

মানুষ আকাশের দিকে তাকালে তার জীবন নিয়ে ভাবে,ঘুমানোর সময় তার জীবন নিয়ে ভাবে,খামোখা বসে থাকলেও তার জীবন নিয়ে ভাবে।ভাবে নিজের choice এর কথা আর পাল্টে দিতে চায় অতীতের হতাশাময় ব্যাপারগুলোকে।ঘরের বাইরের ঘাসের উপর শিশির না দেখে আকাশ পাতাল ঘুরাঘুরির মতই আমরা আমাদের আশেপাশের রঙ্গিন ব্যাপারগুলো না দেখে খুঁজে বেড়াই এক অস্তিত্বহীন ঝলমলে জীবনকে।কিন্তু আমরা ভুলে যাই চিরসত্যটি।১০০০/২০০০ প্যারালাল পৃথিবী ঘুরে আসলেও,শত শতবার নিজের choice, অতীত পরিবর্তন করলেও সর্বশেষে আমাদের অবস্থান অপরিবর্তনীয়।সব ক্ষেত্রেই আমাদের হতাশা,কষ্ট সমানুপাতিক। যেখানে জীবন আছে সেখানে হাসির কলরব আছে,আবার যেখানে জীবন আছে সেখানে সমপরিমাণে অবশ্যই আছে অসন্তোষ এবং ব্যর্থতা।
জীবনের এই চিরন্তন ব্যাপার এবং জীবনের দর্শনপাত না করা সুন্দর জিনিসগুলিই এই এনিমেতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চমৎকার স্টোরি ন্যারেশন, চমৎকার ভয়েস অ্যাক্টিং, চমৎকার ইলাস্ট্রেশন(পড়ুন মাসাকি ইয়ুয়াসার হা করে দেয়া ব্যাপার স্যাপার) এবং আটকে রাখা এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে।

MAL rating: ৮.৬১
আমার রেটিং : ১০ বললে কম মনে হচ্ছে।
http://myanimelist.net/anime/7785/Yojouhan_Shinwa_Taikei

5

Beck মাঙ্গা রিভিউ — Asfina Hassan Juicy

1

‘BECK’
প.স.- আমি এনিমেটা দেখিনাই তাই খালি মাঙ্গার রিভিউ দিলাম।

অনেকদিন ধরে শখ একটা গিটার কিনবেন?যারা গিটার বাজায় তাদেরকে কার না ‘কুল’ লাগে তাইনা?শেষ পর্যন্ত একটা গিটার কিনেই ফেললেন।এখন ‘গিটার’ এর সাথে ‘ব্যান্ড’ শব্দটাতো আসেই।তো আর কি,একে ওকে ধরে একটা ব্যান্ডও বানিয়ে ফেললেন।বুকে ভালোবাসা সঙ্গীতের প্রতি আর চোখে স্বপ্ন সবার হৃদয় ‘আপনার গান’ দিয়ে ছুঁয়ে দেয়ার।তারপর কিছুদিন পর দেখলেন ভার্সিটির এক্সাম হলে বসে মাথার চুল ছিঁড়ছেন আর চোখে দেখছেন খালি সরষে ফুল।“ব্যান্ড?সেটা আবার কি?”
একটা মিউজিক ব্যান্ড কত শখ,কত স্বপ্ন থেকেই শুরু হয়।কিন্তু কয়টা ব্যান্ড সেই উচ্চ আলোকিত স্টেজে উঠে তাদের সৃষ্ট ‘মিউজিক’দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারে?কয়জন পারে মানুষের হৃদয় চিন্তার সাথে তাদের ‘মিউজিক’ একাত্ম করে তাদের ভালোবাসা কেড়ে নিতে?মিউজিকের সাথে মানুষের অন্তরের সম্পর্ক অনেক গভীর।নিজের হৃদয়ের সুগভীরের অনুভূতি,কথা আরেকজনের মনে সুর তুলে তাকেও তা অনুভূত করানোটাকি একটু জাদুময়ী না?
মিউজিকের এমন চমৎকার জগত সম্পর্কে একদমই অবগত ছিলনা জাপানের এক ‘boring’ এবং ‘good for nothing’ বাবু চেহারার স্কুল স্টুডেন্ট কোয়ুকি।মিউজিক বলতে সে খালি বোঝে জাপানি আইডলদের গান।একদিন তার পুরনো ক্রাশ এবং সেনপাইয়ের বদৌলতে তার পরিচয় ঘটে ওয়েস্টার্ন এক বিখ্যাত রক ব্যান্ডের মেম্বারের বন্ধু গিটারিস্ট রিয়ুসুকের সাথে।এই পরিচয় থেকেই কোয়ুকির প্রবেশ ঘটে রক মিউজিকের পৃথিবীতে।তারপর কোয়ুকি রিয়ুসুকের ব্যান্ডে যোগ দিল আর কিছুদিন পরেই পৃথিবী মাতিয়ে দিল?না।‘Beck’ এনিমে/মাঙ্গার চমৎকারত্ব এখানেই।
‘Beck’ কোয়ুকির গল্প।
‘Beck’ একটা ব্যান্ডের গল্প।
‘Beck’ মিউজিকের গল্প।
‘Beck’ বাধা এবং স্ট্রাগলিং-এর গল্প।
‘Beck’ স্বপ্ন এবং হৃদয়ের সুরের গল্প।
আবার ‘Beck’ একটা ভালোবাসার গল্পও।
তো কেন এমন চমৎকার একটা পিস দেখবেন না/পড়বেন না?এখনি বসে পড়ুন আর অংশ নিন ‘Beck-Mongolian Chop Squad’ নামক ব্যান্ডের সেই উচ্চ আলোকিত স্টেজে উঠে মানুষের হৃদয় স্পর্শের যাত্রায় যেখানে আছে আনন্দ,হতাশা,বাধা,জাদুময়ী মিউজিক জগতের কিছু অন্ধকার দিক এবং জীবনের স্বপ্ন পূরণের অসাধারণ উদ্যম।আরেকটা জিনিস হল ‘Beck’ মেইন্সট্রিম মিউজিককে ফোকাস না করে ক্লাসিক রক বা ইন্ডির দিকে ফোকাস করে।একজন ক্লাসিক রক ফ্যান হয়ে থাকলে অবশ্যই নিজের কাছের এক কাহিনী মনে হবে এবং অবশ্যই নিজের পছন্দের অনেক ব্যান্ড এবং গায়কের প্রচুর রেফারেন্স পাবেন।
সবশেষে ‘Beck’ এর একটা কুয়োট দিয়ে যাই-
“If you’ve never been at the bottom, you can’t get to the top.. If you’ve never been to the right, you can’t go to the left.. If you’ve never lost hope, you can’t understand what is truly important.”
MAL Rating: মাঙ্গা-৮.৭৩
এনিমে-৮.৪৫
আমার রেটিং : নাই কারণ আমি দ্বিধা দ্বন্দে ভুগি।

2

মাঙ্গা- ওয়াতাশিতাচি নো শিয়াওয়াসে না জিকান/ Watashitachi no Shiawase na Jikan রিভিউ by Asfina Hassan Juicy

(Our Happy Hours/Our Happy Time)
ভলিউম- ১টি (৮ চ্যাপ্টার- মাত্র !!)
জেনরা- স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্স, সেইনেন, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা

রোমান্স মাঙ্গা পড়তে গেলেই বেশিরভাগ সময় মাথায় প্রথম যে ধারণা আসে তা হল স্কুল সেটিং-য়ে একটা একটু অন্যরকম মেয়ে আর বেশ সুদর্শন একটা ছেলের ভালোবাসার কাহিনি।তবে রোমান্স জেনরারই এই মাঙ্গা আপনাকে নিয়ে যাবে এর থেকে সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে…বাস্তবতার অনেক কাছে কিন্তু অনেক গভীরে…উপলব্ধি করাবে জীবনের কিছু পরম সত্য, কিছু নিষ্ঠুর দিক ও কিছু সুন্দর আশাপূর্ণ মুহূর্ত…

মুতোউ জুরি একজন মাঝবয়সী ফর্মার পিয়ানিস্ট যিনি ৩ বার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন। জুরির মা তার কন্যার এরূপ আচরণ সহ্য করতে না পেরে তাকে তার আন্টি মনিকার তত্ত্বাবধানে রেখে আসেন, যিনি একজন চার্চের পাদ্রী। আন্টি মনিকার সাথে জুরি আগে থেকেই পরিচিত এবং বলা যায় তিনিই জুরির সবচেয়ে আপনজন, এমনকি তার নিজের মা থেকেও। আন্টি মনিকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মানসিক সাহায্য করত। জীবনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য জুরিকে তিনি তার সাথে জেলে নিয়ে যান তেমনি এক আসামীর সাথে দেখা করতে। সেখানে জুরি পরিচিত হয় ইয়ু নামের সেই আসামীর সাথে যে তিনজন মানুষকে একবারে খুন করেছে এবং তার দন্ডের দিনগোনার সময় আবার বেশ কয়েকবার নিজেকেই খুন করতে চেষ্টা করেছে ! কি ধরনের নিষ্ঠুরতা জুরি আর ইয়ুকে ফেলে দিয়েছে এমন আশাহীন কষ্টকর জীবনে? কি তাদের পেছনের কাহিনী? এবং কিভাবে তারা রক্ষা পাবে পৃথিবীর এই ঘৃণা ও কষ্টের বেড়াজাল থেকে?

ডার্ক থিমের হলেও মাঙ্গাটির প্রতিটি চ্যাপ্টার রিফ্রেশিং ! সবার জীবনেই এক ধরনের কষ্ট, না পাওয়া থেকে থাকে কিন্তু আবার সবার জীবনেই থাকে একটু সুখ। স্বল্পক্ষণের জন্য হলেও প্রত্যেকের জীবনেই আসে একটু আশা, একটু ভালোবাসা, একটু মুক্তি। কষ্টের জন্য জীবনের প্রতি, মানুষের প্রতি ঘৃণা থেকে মুক্তি দিতে পারে সামান্য এসব জিনিসই। মাত্র ৮ চ্যাপ্টারের মধ্যে জীবনের এই বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে চমৎকারভাবে! এই মাঙ্গাতে আপনি পাবেন না কোনো মাথা উল্টানো প্লট টুইস্ট, জটিল অ্যাকশন বা থ্রিল…এমনকি পাবেন না কোন মন ছুঁয়ে যাওয়া রোমান্টিক মুহূর্ত, গভীর ভালোবাসার বন্ধন বা তীব্র আকাঙ্ক্ষা… শুধু পাবেন দুইজন মানুষের অতি সাধারণ কিন্তু একইসাথে অসাধারণ জীবনের এক অধ্যায়।

মাঙ্গার আর্টের কথা বলতে গেলে সহজভাবে বেশ সিম্পল কিন্তু সুন্দর। কাহিনীর সাথে বেশ ভালই সমন্বয় করেছে। কাহিনির জন্য একদম পর্যাপ্ত ও পারফেক্ট করে এভাবে আঁকা তবে অভাব না রাখা আসলে খুব কম মাঙ্গাকাই পারেন।

শেষে বলা যায়, এক কথায়, চমৎকার স্লাইস অফ লাইফ। ৮ চ্যাপ্টার- একদিন বসলেই খতম! মাঙ্গা পড়েন আর না পড়েন ট্রাই করে দেখতে পারেন। দিনশেষে হয়ত দিতে পারে আপনার জীবনেরই কোন প্রশ্নের উত্তর, করে তুলতে পারে আবেগি ও অনুপ্রেরণা দিতে পারে এগিয়ে যাওয়ার পথে

পরিশেষে রেটিং-
মাল রেটিং – ৯.১০
আমার রেটিং – ১০ (কাটার কিছু পাইলাম না )