Kingdom [এনিমে রিভিউ] — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
Kingdom
জনরাঃ অ্যাকশান, হিস্টোরিকাল, মিলিটারি, সেইনিন
স্টুডিওঃ Pierrot
এপিসোডঃ ৭৭ (৩৮+৩৯)
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ১ম সিজন (৮.২৫), ২য় সিজন (৮.৫৯)
আমার রেটিংঃ ১ম সিজন (৯/১০), ২য় সিজন (১০/১০)

K 1

আমরা ছোট থাকতে কমবেশি সবাই অনেক রাজা-বাদশার গল্প পড়েছি। আর এসব গল্পতে বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহের যে কাহিনীগুলো ছিল সেগুলো কিন্তু বেশ মজারই ছিল। যাদের ইতিহাসের প্রতি লোভ বেশি, তাদের আবার এইসব টপিক আরও বেশি পছন্দের। হ্যাঁ! আমি এখন সেই ‘রাজা-বাদশার’ ও ‘যুদ্ধ-বিগ্রহের’ কাহিনীসম্পর্কিত এক এনিমের কথা বলতে যাচ্ছি, যার নাম ‘কিংডম’। তবে তা কোন কাল্পনিক গল্প না বরং ইতিহাসের সত্য কাহিনীর উপর নির্ভর করে এর কাহিনী রচিত।

অনেকদিন (৪৭৫-২২১ খ্রিষ্টপূর্ব) আগের কথা। তৎকালীন চীন সাম্রাজ্য সবসময় যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত। আর তখন সমাজে দাস প্রথা থেকে শুরু করে নানাধরেণের প্রথা প্রচলিত ছিল। সেই যুগে, চীনের কিন (Qin) সাম্রাজ্যের দাস প্রথার স্বীকার দুই বালক শিন (Li Xin) আর হিও (Piao) এক বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তাদের স্বপ্ন ছিল “Great Generals of the Heavens” তথা চীনের অন্যতম শক্তিশালী জেনারেল হওয়ার। কিন্তু তা হওয়া চারটে খানিক কথা না?! সমাজের অনেক প্রভাবশালী ব্যাক্তিরাও এই পদে কিন্তু সহজে যেতে পারে না। এই দাসের কাজ খেটে বেড়ানো এতিম ছেলে দুইজন জানত তাদের জন্য এই স্বপ্ন অসম্ভব। তারপরেও তারা তাদের এই অসম্ভব স্বপ্নকে সম্ভব করতে দৃঢ়প্রত্যয়ই ছিল। যাই হোক একদিন হটাৎ করেই রাজার লোকজন হিওকে কোন এক অজ্ঞাত কাজের জন্য ধরে নিয়ে যায়। হিও চলে যাবার পর শিন আবার নিজের মতো করে গ্রামে কাজ করা শুরু করে। এভাবে কয়েক মাস পার হয়ে গেল। এরপর একদিন হিও মৃত্যুমুখে হুট করেই আবার গ্রামে এসে হাজির হল শিনের সাথে দেখা করতে। সে বেশি কথা না বাড়িয়ে শিনকে এক নির্দিষ্ট ঠিকানায় যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। এরপর তার অনুরোধে শিন সেখানে গিয়ে দেখতে পেল ঠিক হিওর মতো দেখতে এক বালককে যার নাম জেং (Ying Zheng), যে কিনা, কিন (Qin) সাম্রাজ্যের রাজপুত্র। কিন্তু এখন সে নিজের ক্ষমতা হারিয়ে জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে তার ভাইয়ের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এরপর ঘটনাক্রমে শিন, জেং এর সাথে যোগ দেয়। আর দুইজনে দুইধরণের শপথ গ্রহণ করে। জেং শপথ গ্রহণ করে “Unifying China” গড়ে তুলতে তথা সকল সাম্রাজ্য মিলে একটি মাত্র যুক্তরাষ্ট্র গড়ে তুলতে; আর অপরদিকে শিন শপথ গ্রহণ করে জেংকে তার স্বপ্নবাস্তবায়নে সাহায্য করে শুধুমাত্র “Great Generals of the Heavens” না বরং “Great General of the World” হতে। এভাবে দুই বালকের শপথ গ্রহণ মাধ্যমেই শুরু হয় ‘কিংডম’ এনিমের গল্প।

K 2

‘কিংডম’ এনিমে নিয়ে আমার নিজের অনুভূতি প্রকাশের আগে কয়েকটা মন্দ কথা বলে নেই। কিংডম এনিমের যে জিনিসটি আমার কাছে প্রথমত বিরক্তিকর লেগেছে তা হল “CGI animation” বা থ্রিডি ইফেক্টের ব্যাবহার। শুধু আমি না, আমার মতো অনেকেই হয়ত এই একই কারণে প্রথম এপিসোড শুরু করার সাথে সাথেই ড্রপ মারেবে। একে তো থ্রিডি ইফেক্ট তার উপর আবার হিস্টোরিকাল-সেইনিন এনিমে। তাই এই সিরিজ দেখার আগ্রহ বেশিরভাগ মানুষই হারিয়ে ফেলে। আর এখানেই আমাদের বোকামি। আমরা সিরিজটা ভালভাবে যাচাই না করেই, আর দ্বিতীয়বার না দেখার সিদ্ধান্তটা নিয়ে বসি। ইংরেজিতে আমরা একটা প্রবাদ প্রায়ই শুনে থাকি – “Don’t judge a book by its cover.”। ‘কিংডম’ এনিমের ক্ষেত্রেও কিন্তু সেই একই প্রবাদ খাটে। প্রথম প্রথম থ্রিডি ইফেক্ট কিছুটা বিরক্তিকর লাগবে কিন্তু একবার কাহিনীর মধ্যে আপনার মন ঢুকে পড়লে আর সহজে কিংডম দেখা ছাড়তে পারবেন না। ১১-১২ এপিসোড পার হবার পর দেখেবেন এই থ্রিডি ইফেক্টের মাত্রা আস্তে আস্তে কমে গেছে। আর ২য় সিজনে বলতে গেলে কোনই থ্রিডি ইফেক্ট নেই। তাই শুরুতে থ্রিডি ইফেক্ট দেখে বিরক্ত না হয়ে নিশ্চিন্তে ‘কিংডম’ দেখা শুরু দিন।

এই একটা কারণ ছাড়া কিংডম এনিমের আর কোন ত্রুটি দেখি নি। এখন যদি প্রশ্ন করে বসেন যে, কিংডমে ভাল লাগার মতো কি আছে? আমি বলব যে ভাল লাগার মতো নাই কি। বরং আরও বলতে পারি কিংডমের মতো আরও দু-চারটা এনিমে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল প্রথম এপিসোড থেকেই আপনার আকর্ষণ ধরে রাখবে। কিভাবে যে একটার পর একটা এপিসোড দেখে যাবেন টেরই পাবেন না। আর এখানেই কিংডমের সার্থকতা। কাহিনী থেকে শুরু করে প্রতিটা চরিত্রই কিন্তু মারাত্মক। আর শিনের স্বপ্নযাত্রা দেখতে দেখতে আপনি নিজেও অন্যান্য ক্যারেক্টারের ভক্ত হয়ে যাবেন। বিশেষ করে শিনের বীরত্ব আর জেংএর আত্মপ্রত্যয়ই মন যে কাউকেই অবাক করে দিবে।

K 3

কিংডম এনিমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হল এর যুদ্ধক্ষেত্রগুলো। প্রতিটা যুদ্ধ এত সুন্দরভাবে ডিটেইলস করে দেখানো হয়েছে তা আর বলার মতো না। আর যুদ্ধ-স্ট্রাটেজিগুলাও অসাধরন। যুদ্ধে স্ট্রাটেজিগুলো এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে যেন দেখার সময় আপনি একটার পর একটা টুইস্ট পান। আর যুদ্ধেক্ষেত্রের ইন্টেনসিটিও অনেক তীব্র। বিশেষ করে যখন একপক্ষের জেনারেলের সাথে অপরপক্ষের জেনারেলের ফাইট শুরু হয়, তখন আপনার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে। কিংডমে আরও রয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা, আপন মানুষ হারানোর বেদনা, প্রতিশোধ, বীরত্ব, ধ্বংসলীলাসহ এইরকম অনেক থিম। কখনো হয়ত শিনের বীরত্ব দেখে আপনার শরীরের রক্ত গরম হয়ে যাবে, আবার কিছু কিছু বীর-আত্মদান দেখে অনায়সে আপনার চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়বে। এভাবে মানুষের মনের আবেগ টেনে আনার মতোই এনিমে হল কিংডম।

এখন এনিমের সাউন্ডট্রাক নিয়ে কিছু কথা বলি। এই কিছুক্ষণ আগে মনের আবেগ নিয়ে যে কথা বলেছিলাম তার পিছনে কিন্তু সাউন্ডট্রাকগুলোর দারুন ভূমিকা রয়েছে। কেননা, কিংডমে সঠিক দৃশ্য অনুযায়ী সঠিক সাউন্ডট্রাক ব্যাবহার করা হয়েছে। ও.এস.টি গুলো মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দের “Shin Main Theme” (https://goo.gl/ndBWBw)। এই ও.এস.টি শুনে মনে অন্যরকম প্রশান্তি আসে। আর কিংডমের ওপেনিং আর এন্ডিং সংএর পিছনে রয়েছে Nothing’s Carved In Stone, The Sketchbook ও D☆DATE এর মতো ব্যান্ডগুলো। প্রতিটা গানই দারুন কিন্তু আলাদা করে ওপেনিং সং এর মধ্যে “Pride” by Nothing’s Carved In Stone (https://goo.gl/hIaAA2) আর এন্ডিং সং এর মধ্যে “21” by The Sketchbook (https://goo.gl/UQK1dS) বেশি ভাল লেগেছে। তারপরেও “Voice of Soul” by Takumi Ishida (https://goo.gl/SOqo24) এবং “Destiny Sky” by Yuki Wakai (https://goo.gl/DlVUL1) গান দুইটাও কিন্তু মারাত্মক সুন্দর। সবমিলিয়ে কিংডমে খুবই চমৎকার চমৎকার গান ব্যাবহার করা হেয়েছে।

K 4

কিংডমের ভয়েস অ্যাক্টিং রোলগুলাও কিন্তু চমৎকার। যেমন, এনিমের মূল চরিত্রগুলো – Li Xin, Ying Zheng, Lei Qiang ও He Liao Diao এর ভয়েস অ্যাক্টিং রোলে ছিলেন যথাক্রমে Masakazu Morita, Jun Fukuyama, Yoko Hikasa ও Rie Kugimiya। এছাড়া বাকি ক্যারেক্টারগুলোতেও বেশ ভাল ভাল ভয়েস অ্যাক্টিং রোল আছে।

কিংডম এনিমে দেখে কিন্তু প্রাচীন চীনের অনেক ঐতিহাসিক ধারণাও পাওয়া যায়। এই এনিমের ক্যারেক্টারগুলো সব হিস্টরিকাল ক্যারেক্টার। সম্রাট Ying Zheng এর চীন রিইউনাইটেড করার সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কিংডম মাঙ্গা/এনিমে তৈরি করা হয়েছে। (আরও জানতে – https://goo.gl/DmnZjr)

K 5

যাই হোক, ‘কিংডম’ নিয়ে অনেক কথাই লিখালাম। এখন পর্যন্ত আমার দেখা সেরা হিস্টোরিকাল এনিমে হল কিংডম। আমার মতে এটি ‘মাস্টারপিস’ এনিমের কাতারে পড়ে। আপনারা যারা এর আগে কখনো হিস্টরিকাল এনিমে দেখেন নি বা দেখতে চান না তারা একবার হলেও এটা দেখার চেষ্টা করুন। একসময় আপনার ঠিকই ভাল লাগবে। আশা করি রিভিউটা পড়ে ভাল লেগেছে, আর অবশ্যই কিংডম দেখবেন। তাহলেই আমার রিভিউটি লেখা সার্থক হবে।

K 6

 

Kingdom রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

অনেক অনেএএএএক ছোটবেলায় যখন সমাজ বইয়ে বঙ্গদেশের ইতিহাসে পড়তাম “বখতিয়ার খিলজী মাত্র ১৮ জন ঘোড়সওয়ার নিয়ে নদীয়া প্রাসাদ আক্রমণ করে বাংলা বিজয় করেন” তখন মনে হইত, আইসসালা, সিরাম কাবিল লুক তো ! কি সুন্দর সিস্টেমে ১৫-২০ জন নিয়া একটা দেশ গাপ কইরা দিল। তারপর কিছুদিন পরে বিটিভিতে “সোনারগাঁয়ের পথে পথে” নামক একটা ধারাবাহিক নাটক প্রচার হইসিল, ২০০৫-০৬ এর দিকে সম্ভবত। বন্ধু বান্ধবদের পচানি শুনেও নিয়ম করে ওইটা দেখতাম। মোদ্দাকথা হইল, মুখস্ত করার পেইনের না থাকলে আমার ইতিহাস ভাল্লাগে, বিশেষ কইরা যুদ্ধের ইতিহাস, ট্যাক্টিক্সের ইতিহাস। নিজে ভাল রকম ভীতু মানুষ দেইখাই হয়ত – বীরত্বের কাহিনী বড় ভাল্লাগে, সেইটা খিলজী ভাইয়ের চিপা দিয়া বাংলা ঘাপায় নেওয়ার কাহিনী হোক, কিংবা কড়া নিরাপত্তার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের আশেপাশে একটু বুমা টুমা মাইরা আওয়াজ তোলার কমান্ড পাইয়া ক্র্যাক প্লাটুনের একেবারে হোটেলে হামলা করার মতন এপিক কাহিনী হোক।

আসল কিচ্ছায় ফেরত আসি। কিংডম এনিমটা দেখলাম; প্রথম সিজন। ইতিহাস ভিত্তিক একটা সিরিজ, তবে জাপানের না, চায়নার ইতিহাস। পটভুমি ৪৭৫ খ্রিস্টপূর্ব যুদ্ধপ্রবণ চায়না। শিন(Xin/Shin) এবং হিয়ো(Pyou/Hyou) কিন(Qin) রাজ্যের দুই অনাথ শিশু। যুদ্ধে বাবা মা নিহত হবার পর তাদের ঠাই হয় এক বড়লোকের বাড়িতে, দাস হিসেবে। দুজনের মনে স্বপ্ন, একদিন বড় জেনারেল হয়ে নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করার; তাও যে সে জেনারেল না; দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ জেনারেল। তাদের ভাগ্যে কি ঘটল, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র আর যুদ্ধপ্রবণ সময়ে Qin এর রাজা সেই (Zheng) কীভাবে পাহাড়ী লোকজনের সহায়তায় সৎভাই এর হাত থেকে রাজ্য উদ্ধার করলেন, ধীরে ধীরে পরিণত রাজা হয়ে উঠতে লাগলেন – এইরকম বেশ কিছু গল্প নিয়েই তৈরি করা হয়েছে সিরিজটি।

পুরো সিরিজটা বেশ খানিকটাই আপডাউনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তবে নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখলে খারাপ লাগার এলিমেন্টই খুজে পাওয়া যাবে বেশি। একে একে ব্যবচ্ছেদ করা যাক। তবে তার আগে একটা জিনিস পরিষ্কার করে নেওয়া ভাল; আমি শুধু প্রথম সিজন শেষ করেছি। নিচে অনেকগুলো নেগেটিভ দিকের কথা এসেছে; যেগুলোর অনেকটাই নাকি দ্বিতীয় সিজন কাটিয়ে উঠেছে। আর মাঙ্গা নাকি মোটামুটি এপিকের পর্যায়ে চলে গিয়েছে। নিচের রিয়েকশন শুধু প্রথম সিজনের জন্য প্রযোজ্য হবে।

সিরিজের সবচেয়ে বিরক্তিকর দিক CGI এনিমেশন। বাজেট সঙ্কটের কারণে হোক কিংবা এক্সপেরিমেন্টাল পারপাসে হোক, 3D এনিমেশন দেখলে মনে হয়েছে যেন বহু পুরোনো কোন ভিডিও গেইমের ক্লিপ দেখছি। সব কিছুই কেমন যেন আর্টিফিশিয়াল আর ক্রুড। কিছু কিছু ফাইট সিনে ব্যাপারটা ভাল লাগলেও ওভারওল ভাল রকম বিরক্তি উদ্রেক করেছে সারা সিরিজ জুড়ে।

সাউন্ডট্র্যাক খুবই সাধারণ মানের। দ্বিতীয়বার শোনার বদার করার কথা না কারো।

ভয়েস এক্টিং সিরিজের চমৎকার একটা দিক। শিনের ভয়েস এক্টর ইচিগোর ভয়েস এক্টর, আর সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড ধারাভাষ্যকার খুব সম্ভবত ওয়ান পিসের জন; সুতরাং ভয়েস এক্টিং নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট।

প্রচুর একশন সিন থাক্লেও সবই বেসিক। এবং বেশির ভাগ একশন সিনই জঘন্য CGI এর জন্য বিরক্তির উদ্রেক করেছে। মেইন ক্যারেক্টারগুলোর ফাইটগুলো যথেষ্ট ইলাবোরেট এবং ভাল হলেও সাইড ক্যারেকটারদের মুড়ি মুড়কির মতন উড়ে যাওয়াগুলো ভয়াবহ রকমের আনরিয়েলিস্টিক ছিল। লাখে লাখে সৈনিক যুদ্ধ করলেও এবং মারা যেতে থাকলেও মোটেও সেই ফিলটা আসে নি; খুব সম্ভবত এনিমের টার্গেট অডিয়েন্স ইয়াং টিনএজার ছিল। রেজাল্ট? কিঞ্চিত লেইম ব্যাটেলস। তবে চালায়ে নেওয়া যায়; আহামরি না হলেও এভারেজ মার্ক্স দেওয়া যাবে।

স্টোরি – পুরো সিরিজটা এক নিঃশ্বাসে দেখেছি এবং রিভিউও লিখতে বসেছি – একমাত্র কারণ বোধহয় স্টোরি। প্রায় বাস্তব একটা ইতিহাসের গল্প আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা খুব চাট্টিখানি কথা না; সেটা বেশ মুন্সিয়ানার সাথেই করতে পেরেছে এই সিরিজ। যুদ্ধের ময়দানে ব্যাবহার করা ট্যাক্টিক্স, মুহূর্তে মুহূর্তে রঙ বদলানো যুদ্ধে কমান্ডিং জেনারেলদের বুদ্ধি, ক্ষমতা আর স্ট্র্যাটেজির খেলা – চমৎকার স্টোরি। যদিও স্টোরির উৎকর্ষতা যুদ্ধের ঘটনার সাথেই শেষ; ক্যারেকটারগুলোর ব্যাক স্টোরি দেখানোর বা তাদেরকে লাইকেবল করার জন্য মোটেও চেষ্টা করা হয় নি সিরিজে। ফলাফল – শিন ছাড়া আর কোন ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্ট একেবারে শূন্যর ঘরে। বিশেষত ভিলেনগুলো মনে ভীতি বা শ্রদ্ধা এধরণের অনুভুতির বদলে চরম বিরক্তির উদ্রেক করে। এছাড়া যুদ্ধ বা স্ট্যান্ড এলোন ব্যাটলের সময় ক্যারেকটারগুলোর বন্ধু বান্ধবদের লাইন ধরে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ উপভোগ এবং ধারাভাষ্য বর্ণনা – খুব ভাল ইম্প্রেশন ফেলে না।

এখন বার্নিং কোশ্চেন। সিরিজটা দেখা উচিত কি না? I absolutely loved the series; mostly because of its story, war tactics and history. এই জিনিসগুলো সমন্ধে আলাদা করে ইন্টারেস্ট না থাকলে এবং আর্টস্টাইল এবং সাউন্ডট্র্যাক এর মতন বিষয়গুলো নিয়ে নমনীয় না হলে আমার পরামর্শ থাকবে না দেখার জন্য।

Kingdom রিভিউ — Gourab Roy

Kingdom:

টেকনোলজির এই যুগে এসব ঢাল তলোয়ারের পিটোপিটি কি ভাল লাগে? হাহ!।এই মনোভাব নিয়ে দেখতে বসলাম কিংডম…তারপরে চোখের নিচে কালি ফেলে ৩ দিনে শেষ করে ফেললাম
আমার দেখা অন্যতম intense এনিমে কিংডম।একশন, মিলিটারি,হিস্টোরিকাল,সেইনেন এর পারফেক্ট সমন্বয়।চাইনিজ ইতিহাসের পরতে পরতে যে এমন টুইস্ট লুকিয়ে আছে যা দেখার সময় মিস্টার
টুইস্ট এর টুইস্ট ও নস্যি মনে হবে।
গল্পের নায়ক xin একজন স্লেভ এবং আহোবাকা।আর আহো বাকা নায়ক দের সবাই বেশ পছন্দ করে ।তার জানের জান ,প্রানের প্রান বন্ধু হিও ও একজন স্লেভ।তাদের এক্টাই লক্ষ্য,আর তা হল এই পৃথিবীর সবচেয়ে হ্যাডা জেনারেল হওয়া।চাইলেই তো হয়না।
ঘটনার পরিক্রমায় হিও আর জিন এর একসাথে থাকা আর হয়ে ওঠেনা।জিন এর তখন পরিচয় হয় গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র Zheng এর সাথে,যে কিনা তরুন বয়সে রাজা হয় এবং কুটিল রাজনীতি এর
শিকার হয়।অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে জিন আর Zheng এর সেই রাজ্য উদ্ধার এবং রাজা হওয়ার পরে রাজ্য রক্ষা এবং জিনের সর্ব শ্রেষ্ঠ জেনারেল হওয়ার কাহিনী নিয়ে চলতে থাকে কিংডম এনিমে এর ঘটনাপ্রবাহ।ডুয়েল,এসেসিনেশন
ফুল স্কেল ব্যাটেল সিন,ব্যাড ass কুল ass,ও কিছু assহীন চরিত্রের ছড়াছড়ি আর অসংখ লোম খাড়া করা সিন ও ডায়ালগ দেখতে দেখতে কখন যে চাইনিজ খেতে মন চাইবে টের ও পাবেন না

এ এনিমের এক্টাই খারাপ দিক,তা হল এনিমেশন।প্রথম এক দুই এপিসোড দেখার পরে সেটাও আর খারাপ লাগবেনা।ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক মানানসই। ওপেনিং আর এন্ডিং সং দুটোই ওয়ার থিমের
সাথে ভাল যায়।ভয়েস এক্টিং যেখানে যেরকম দরকার সেখানে সেরকম একদম।নায়ক জিনের আর ইচিগোর ভয়েস এক্টর একই।তাই ব্লিচ এর ফিলিংস পেতে পারেন মাঝে মদ্ধে।গল্পে নায়িকা নেই
বললেই চলে।তবে কিছু শক্তিশালী নারী চরিত্র আছে,যাদের চেহারা দেখে সাথে সাথে ক্রাশ খেয়ে যাওয়া বিচিত্র নয়।সিজন ১ এর সিজন ফিনালে আমার দেখা অন্যতম সেরা সিজন ফিনালে।
স্টোরি ছাড়া আমার এ এনিমের যেটা বেশ ভাল লাগে তা হল ওভারহোয়েল্মিং কিছু চরিত্র।দেখা যাবে বেশিক্ষনের জন্য তারা স্ক্রিন টাইম না পেলেও তারা আপনার কোকোরো কে ডমিনেট
করবে।একবার ঢুকে গেলে এনিমের মদ্ধে, পুরোটা না খেয়ে আপ্নি আর উঠতে পারবেন না,এবং নিজেকে আরো একবার এনিমখোর হিসেবে আবিষ্কার করবেন।
আমার রেটিং :৯.৯৯।(.০১ এনিমেশনের জন্য কাটা) :v
আর এটা পুরোপুরি বায়াসড রিভিউ,ব্যাক্তিগত এনিমে লিস্টে এটা টপ ৫ এ চলে যাওয়ার জন্য অনেক টুক টাক ভাল না লাগা ও বাদ দিয়ে গেছি সানন্দে।
তো আর দেরি না করে দেখে ফেলুন কিংডম,আর ভুলে যান দম ফেলতে কারন এটা যে রুদ্ধশ্বাস এনিমে।

এফ এ সি ৪০

রান্ডম টপিক

ধর্ম

 

জাপানের বেশিরভাগ মানুষ শিন্তো আর বৌদ্ধ ধর্মের সংকরের অনুসারী। খ্রিস্ট ধর্ম আছে এর পরেই, তবে তারা বড়দিন সামাজিকভাবে পালন করে. মুসলিমও আছে, যারা বেশিরভাগই অন্য দেশ থেকে মাইগ্রেট করেছেন। আছে হাতে গোনা ইহুদী আর হিন্দু ধর্মের অনুসারীও।

 

আনিমে সাজেশন

কিংডম[Kingdom]

গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে ছোটবেলার বন্ধুকে চোখের সামনে মরতে দেখল জিন। কিন্তু দমে গেলো না সে, তার বন্ধুর স্বপ্ন হৃদয়ে রেখেই পথ চলা শুরু করল সে। কি সেই স্বপ্ন? চীনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ওয়ার জেনারেল হওয়া।

কেন দেখবেনঃ ঐতিহাসিক টাচ আছে, খুব ভালো সেইনেন, শউনেন ভাইবও আছে, মানে দুর্বল অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হওয়া। একবার শুরু করলে শেষ না করে ওঠার জো নেই।

কেন দেখবেন নাঃ এনিমেশন একটু অদ্ভুত গোছের।

 

ম্যাল রেটিং ৮.২৮+৮.৬৫

আমার রেটিং ৮+৯

 

মাঙ্গা সাজেশন

 লাইচি হিকারি ক্লাব[Litchi☆Hikari Club]

মানসিকভাবে বিকৃত কয়েকজন জার্মান তরুণের এক ক্লাবে ঘটনাচক্রে এসে হাজির হল ভাগ্যাহত এক তরুণী। এতে ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে কি পরিবর্তন আসল? আর ক্লাবের রেসিডেনট রোবটের মেয়েটাকে ভালবেসে ফেলার পরিণতিই বা কি হবে?

 

কেন পড়বেনঃ একটু অন্যরকম কাহিনী, ডার্ক, গোর। এর একটা আনিমে ছিল, সেটা মাঙ্গাকে কোনোভাবেই জাস্টিফাই করতে পারেনি।

কেন পড়বেন নাঃ কেন পড়বেন অংশটার দিকে তাকান। ক্লাবের সদস্যরা সবাই মানসিকভাবে বিকৃত। খুবই জঘন্য গোছের কিছু প্যানেল আছে।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৮০

আমার রেটিং ৮