কোবাতো বন্দনা – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

download

“কোবাতো” আনিমেটা দেখে শেষ করলাম মাত্র। এবং বলতেই হবে, অসাধারণ আনিমে ছিল। এত বেশি ভাল লেগেছে যে দৌড় দিয়ে মিথিলার পোস্টে কমেন্ট লিখা শুরু করে দিয়েছিলাম, কারণ মিথিলার সুন্দর রিভিউটা পড়েই এই আনিমে দেখতে বসেছিলাম। পরে আবিষ্কার করলাম বেশি উত্তেজনায় রচনা লিখে ফেলেছি, তাই সেই রচনা একটু বাড়িয়ে চাড়িয়ে এখানে আবার পোস্ট করছি।

কোবাতো আনিমেটা শুরুর দিকে মনে হচ্ছিল, চিনির শিরার মধ্যে সারারাত ডুবিয়ে রেখে সকালে প্রেজেন্ট করেছে। কোবাতো অতিরিক্ত বেশি সুইট, এত বেশি যে সেটা দমবন্ধ করে দেয়ার মত অবস্থা করে। শুরুতে কোবাতোকে একটা এয়ারহেড, কিছুটা এনোয়িং কেয়ারলেস একটা মেয়ে ছাড়া কিছুই মনে হয়না, এবং হানাযাওয়া কানা ইউজলেস ক্যারেক্টার যে খুব ভালভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন, তা এই আনিমে দেখে সবচেয়ে বেশি বোঝা যায়। প্রথম দু-তিনটা পর্ব দেখে যদি কেউ বিরক্ত হয়ে আনিমেটা ড্রপ দেয়ার কথা ভাবে, সত্যি বলছি অবাক হব না।

এরপর আনিমেটা দেখা চালিয়ে যেতে থাকলাম, কোবাতোর স্বভাব চরিত্রে কোন পরিবর্তন এল না। কিন্তু আমি একটা ব্যাপার উপলব্ধি করলাম। তা হল, আমাদের সবার জীবনেই আসলে একজন কোবাতো প্রয়োজন, যে তার সারল্য, উচ্ছলতা, প্রাণবন্ততা দিয়ে আমাদের ম্যাড়মেড়ে মানসিকতাটা পালটে দেবে। কোবাতো সরল হতে পারে, কিন্তু বোকা নয়। সে একটা কাজ অসম্ভব জেনেও হাত গুটিয়ে বসে থাকে না, শুধুমাত্র তার সদিচ্ছার জোরে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে সে। কাজের ক্ষেত্রে হাজারটা গোলমাল করে, কিন্তু তাও সে হাত গুটিয়ে বসে থাকে না, কাজটা করেই ছাড়ে। কোবাতোর ওপর বিরক্ত হওয়া যায়, কিন্তু সেটা প্রকাশ করা যায় না। তার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালে সব বিরক্তি চলে যেতে বাধ্য।

13b605e23ec7ae50a8b6f6b56bde4dbd

কোবাতো বন্দনা বেশি করে ফেলছি, কারণ আমার এই ইউজলেস মেয়েটাকে দেখে খুব বেশি ভাল লেগেছে। এখন একটু অন্যদের কথাও বলা যাক!

আমি ফুজিমোতো আর কোবাতোকে শুরুতে দেখে, এমনকি প্রায় ১৯-২০ এপিসোড পর্যন্ত দেখেও কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না যে এই দুটোকে কিভাবে কাপল হিসেবে কল্পনা করব। কিন্তু শেষের দুই এপিসোড যা দেখাল :’) আমার পছন্দের কাপলগুলোর একটা (অ্যাজ ইফ আমার আর কোন পছন্দের কাপল আছে :v) হয়ে গেল কোবাতো – কিওকাযু। মাঝে অল্প সময় সেকেন্ড লিড সিন্ড্রোম ধরি ধরি করছিল, এখন সেটা পালিয়ে গেছে।

আর সবচেয়ে বড় কথা, একটা স্টোরি খালি বানালেই হয়না, সেটার এক্সিকিউশন সেইরকম না হলে আলটিমেটলি অত উপভোগ্য হয়না। কোবাতোকে প্রথমে দেখে তার অতি এন্থুসিয়াস্টিক আচরণ দেখে মেয়েটাকে এনোয়িং লাগছিল, কিন্তু আনিমে আগাতে আগাতে পুরাই “I want to protect that smile” ফিল এনে দিল, যেমনটা কিওকাযুর সাথে ঘটল, সেটা যেন আমার সাথেও ঘটল। বিরক্ত লাগে, কিন্তু সামহাউ রাগ ওঠে না। আনিমের প্রতিটা চরিত্রকেই কাহিনীর প্রয়োজনে খুব দ্রুত, কিন্তু সুচারুভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, এতে পরিবর্তনটা চোখে লাগে না, কিন্তু মনে প্রভাব ফেলে। ফুজিমোতো কিওকাযুর ডেভেলপমেন্টটা বিশেষ করে আমার খুব ভাল লেগেছে। ওর শূণ্যতাগুলো যেন নিজে অনুভব করতে পারছিলাম।

আর ক্ল্যাম্পের মেয়েগুলাকে পেলে যে কি করব 😐 😐 প্রত্যেকটা ছেলেকে এত বেশি ইকেমেন বানাতে কে কইসে এদের :’| কিওকাযু চেতলেও চেহারা কি সুন্দর দেখা যায় <3

আর হ্যাঁ, ক্ল্যাম্প ভার্সের ইস্টার এগ!! ওয়াতানুকিকে দেখাল, তাও আবার তার কুল ফর্মে <3 আবার সুবাসার ক্যারেক্টারদের নিয়ে আস্ত একটা পর্বই দিয়ে দিল!! খুব ভাল লেগেছে :’) ফাইকে আবার দেখলাম <3 এছাড়া চবিটস এর মেইন ক্যারেক্টাররা এখানে পার্মানেন্ট চরিত্র হিসেবে আছে, সেটিং এও মিল আছে দুই আনিমের।

সবমিলিয়ে কোবাতো আনিমেটি আমার খুবই ভাল লেগেছে। সুইট একটা স্টোরি, মন ভাল করে দেবার মত মিষ্টি একটা আনিমে।

07a75ed2b83a14c71e191566552f29d1

Kobato [রিভিউ] — Mithila Mehjabin

Kobato 1

আকাশ থেকে টুপ করে একটি পরী নামল! পরনে লম্বা জামা, সাথে বড় একটা সুটকেস, আর ছোট্ট ব্যাগে একটা ছোট্ট নীলরঙা পুতুল, যেটার গলার আওয়াজ শুনলে তার খেলনা আকৃতিটা একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার বলে মনে হয়! মেয়েটার লম্বা চুলগুলো পা ছুঁইছুঁই করছে, দু চোখে অদ্ভুত সারল্য..অথচ সেটাই যেন তার দোষ! খেলনা পুতুলটা সারাক্ষণই বকছে তাকে। সুরেলা কন্ঠের সুকেশী ও সুবেশী পরী Hanato Kobato, আর তার ঐ পুতুল আকৃতির Iyorogi সান এর সম্পর্কটা কিন্তু যেমনটা দেখা যায় তার চেয়ে অনেক বেশী উষ্ণ! 😀 ^_^

রিভিউ: Kobato
এপিসোড: ২৪
জনরা: কমেডি, ড্রামা, ফ্যান্টাসী
ম্যাল রেটিং: ৮.১

আক্ষরিক অর্থেই আকাশ থেকে নামে Kobato নামের অদ্ভুত সারল্যে ভরা চঞ্চল মেয়েটি! কোথাকার কিসের সাথে কি যেন একটা চুক্তি হয়েছে তার, চুক্তিটা পূরণ করতে পারলে তার পছন্দের জায়গাটিতে যেতে পারবে সে, আর না পারলে কোথায় যেন আবার ফিরে যেতে হবে তাকে! 🙁

কে শোনে কার কথা, টুপ করে পড়েই সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে গেল Kobato! একদিকে কানের কাছে Iyorogi সান এর কান ঝালাপালা করা বকবকানি, অপরদিকে কি করবে না করবে কিছুই বুঝতে না পেরে চোখে সর্ষে ফুল দেখছে সে! চুক্তি অনুযায়ী হাতে যাদুর বোতল নিয়ে অ্যাডভেঞ্চারে বেরিয়ে পড়ল Kobato, সাথে Iyorogi সান। চুক্তিটা হলো, ঐ যাদুর বোতল টা “কনফেট্টি” দিয়ে ভরতে হবে! জার্মান শব্দ কনফেট্টি এর বাংলা অর্থ মিষ্টি। তার মানে কি…বোতলটা মিষ্টি দিয়ে ভরবে Kobato?! মোটেই না! দুঃখ ভরাক্রান্ত হৃদয়ের সকল ব্যাথা-বেদনা দূর করে দিলে মানুষের সরল মন যে উষ্ণ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা দিয়েই ভরতে হবে তাকে ঐ বোতল, Kobato যেই আরোগ্য লাভ করা উষ্ণ হৃদয়গুলোর নাম দিয়েছে “কনফেট্টি”! এটাই তার চুক্তি, ঐ বোতলটা যেন ভরে, অন্তত সেই পরিমাণ ফুটো হৃদয় সেলাই করতে হবে তাকে, ভালো করতে হবে ক্লান্ত মনের বিভ্রান্ত মানুষগুলোকে, একটা নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর!

শুনতে যতই কম্পলিকটেড বা খাপছাড়া লাগুক, Kobato তার মিষ্টি, সরল, ও পরিশ্রমী আচরণের মধ্যমে সহজেই আনন্দে ভরিয়ে তোলে যেকোন দুঃখী হৃদয়! তার ভালো করে দেয়া মনের মানুষের তালিকাটা বড় হয় দিন দিন, “কনফেট্টি” দিয়ে ভরতে থাকে যাদুর বোতল। চলার পথে তার পরিচয় হয় Fujimoto সান, Sayaka সান, Kohaku চান সহ আরো বিভিন্ন দুঃখী হৃদয়ের মানুষের সাথে…যাদেরকে বিভিন্নভাবে হৃদয়রোগ থেকে আরোগ্য লাভে সহায়তা করে ও, এবং এমনকি সবচেয়ে কঠিনতম হৃদয়ের মানুষটির মনেও সবচেয়ে উষ্ণ জায়গাটিও দখল করতে সক্ষম হয় সে, যে মানুষটি অনেক আগেই দখল করেছে তার মনের উষ্ণতম জায়গাটি। 🙂 শেষ পর্যন্ত কি সময় ফুরোনোর আগে যাদুর বোতলটি ভরতে পারে Kobato? নাকি যাকে নিজের সবটুকু উষ্ণতা উজাড় করে দিয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ একা করে দিয়ে সৃষ্টির সবকটি অস্তিত্বের বুক থেকে হারিয়ে যায় সে কোনো এক অজানায়? জানতে হলে দেখে ফেলতে হবে Kobato! 🙂 ^_^

অদ্ভুত একটা প্লটকে হৃদয়ছোঁয়া করে উপস্থাপন করার সবচেয়ে সুন্দর উদাহারণগুলোর একটি হতে পারে Kobato। 🙂 ক্যারেক্টারগুলো খুবই পছন্দনীয়। Fujimoto, Sayaka, Kohaku ও মূল কমিক রিলিফ Iyorogi সান! :3 বিশেষত Kobato কে খুবই ভালোলাগে! তার সরল, চঞ্চল এবং কেয়ারিং আচরণ যে কারো মনে জায়গা করে নেয় খুব সহজেই। ^_^ স্পেশালি তার গানটা বহুদিন মনে রাখার মত একটা গান, ঠিক কোকোরোতে গিয়ে লাগে! :’) একটা গাছের ইতিহাস কিভাবে মানুষকে দুচোখ ভরে কাঁদিয়ে ছাড়তে পারে, অন্তত সেটা জানার জন্য হলেও দেখা উচিৎ এনিমেটা! T^T

ওএসটিগুলোয় একটা চাইমিক ভাব আছে, ক্যারেক্টার ডিজাইনগুলো খুবই দৃষ্টিনন্দন। CLAMP এর সিরিজ বলেই কিনা, Holic আর Tsubasa এর মত Chobits এবং Kobato তেও ক্যারেক্টার ক্রসওভার ব্যাপারটা আছে! কাস্টের মেইন দুজনের মূলে আছেন Kana Hanazawa এবং Tomoaki Maeno!

চমৎকার একটা রিফ্রেশিং এনিমে Kobato, সবার জন্য রেকমেন্ডেড!

Kobato 2

এফ এ সি ৫৯

রান্ডম টপিক

হানামি[花見]

মার্চের শেষ থেকে মে এর শুরু-এই সময়ে জাপানে ফোটে চেরিব্লসম, যার আরেক নাম “সাকুরা”। এই সময় লোকজন সাকুরা গাছের নিচে জড়ো হয়, চমত্কার পার্টি হয়, সাকের সাপ্লাই থাকে পরিমাণমত, আর চলে ফুল দেখা। জাপানের সার্বজনীন+সর্বজনীন এই উত্সবের নাম হানামি, বা ফুল দেখা।

উত্সবের সূচনা হয়েছিল নারা পিরিয়ডে[৭১০-৭৯৪], ফসলে যাতে দেবতাদের আশীর্বাদ থাকে তার জন্য। এখনো এই উত্সব জোরেসোরে চলে, তবে এক্ষেত্রে বন্ধুবান্ধবের সাথে আনন্দ করাটাই মুখ্য।

জাপানে চেরি গাছের নিচে বসে সাকে পান করার সময় সাকের পেয়ালায় ফুলের পাপড়ি পড়াকে সৌভাগ্যের প্রতীক ধরা হয়।

 

আনিমে সাজেশন

 কোবাতো[Kobato]

হৃদয় জোড়া লাগানো কি এতই সহজ? মোটেই না. আর এই দুরূহ কাজ করতে পারার পুরস্কার কিনা একটা ক্যান্ডি?! ভীষণ মিষ্টি আর বোকাসোকা মেয়ে কোবাতো পৃথিবীতে নেমে এসেছে শুধু এই ক্যান্ডি যোগাড় করার উদ্দেশ্যেই। একটা বোতল ক্যান্ডি দিয়ে পূর্ণ করতে পারলে তার বহুদিনের লালিত ইচ্ছা হবে পূরণ। কি সেই ইচ্ছা?

কেন দেখবেন: ক্ল্যাম্পের তৈরী,  এপিসোডিক, তাই ভেঙ্গে ভেঙ্গে দেখলেও সমস্যা নেই. কাহিনী অনেকটা মুশি-শি গোছের। এর চেয়ে বড় প্রশংসা করা আমার পক্ষে সম্ভব না.

কেন দেখবেন না: কোনো অ্যাকশন নেই, স্লাইস অব লাইফ।

ম্যাল রেটিং: ৮.১৩

আমার রেটিং ৮

 

মাঙ্গা সাজেশন

 দ্য ফ্লাওয়ারস অব ইভিল[The Flowers of Evil]

দুই ভাইবোনের মধ্যে সম্পর্কটা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশিই অদ্ভুত। ওভারলি এটাচড বোনের অনুভূতি যখন ভাই শেয়ার করে না, বোনের সাইকো কাজকারবার ভাই কিভাবে সামাল দেবে?

কেন পড়বেন: সাইকোলজিকাল, মানহুয়া, আঁকা বেশ ভালো। ডার্ক “রোমান্স(?)”. আর না, এটা ইনসেস্ট না.

কেন পড়বেন না: কাহিনী বেশ জটিল, শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার মত এলিমেন্ট কম, মনে রাখার মত তেমন কোনো চরিত্র নেই.

ম্যাল রেটিং: ৮.১০

আমার রেটিং ৭