ইফ ইউ লাইকড ‘Mahou Shoujo Madoka★Magica’ ইউ মে অলসো লাইক ‘Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru’

বাংলায় এনিমে নিয়ে আড্ডার কমিউনিটি
ইফ ইউ লাইকড ‘Mahou Shoujo Madoka★Magica’ ইউ মে অলসো লাইক ‘Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru’
ইফ ইউ লাইকড ‘Mahou Shoujo Madoka★Magica’ ইউ মে অলসো লাইক ‘Selector Infected WIXOSS’

আপনার কাছে ‘Mahou Shoujo Madoka★Magica’ ভালো লাগলে ‘Selector Infected WIXOSS’ ও ভালো লাগতে পারে
কারণ-
‘Mahou Shoujo Madoka★Magica’ ও ‘Selector Infected WIXOSS’ এর মধ্যে মিল-
* সেইম জনরা এর। সাইকোলোজিকাল, ড্রামা।
* শুধু ৫ টা মেইন মেয়ে ক্যারেক্টার নিয়ে কাহিনি।
* নরমাল অ্যানিমেই হিসেবে শুরু হয়ে কাহিনি ক্রমাগত ডার্ক হতে থাকে।
* কাহিনির থিম অনেকটা এক।
*কোন মেয়ের একটা নির্দিষ্ট ইচ্ছা পূরণ করা, সেই ইচ্ছা পূরণের জন্য অনেক বড় স্যাক্রিফাইস করা আর ইচ্ছা পূরণ করতে না পারার ফলাফল নিয়ে কাহিনি।
* কিউট গার্লস ফাইটিং এন্ড সাফারিং।
* মেইন ক্যারেক্টার এর মিল।
* সাসপেন্স, মিস্টেরি আর প্লট টুইস্ট আছে।
* সেইম ডার্ক এটমোস্ফিয়ার।

‘Mahou Shoujo Madoka★Magica’ ও ‘Selector Infected WIXOSS’ এর মধ্যে অমিল-
* ‘Mahou Shoujo Madoka Magica’ ‘Selector Infected WIXOSS’ এর চেয়ে তুলনামূলক বেশি ডার্ক।
* ‘Mahou Shoujo Madoka Magica’ তে মেয়েদের উইচ দের বিরুদ্ধে ফাইট করতে হয় আর ‘Selector Infected WIXOSS’ এ কার্ড গেইম এর জগতে একটা মেয়ে আরেকটা মেয়ের বিরুদ্ধে ফাইট করে তাদের কার্ড এর ভিতরে থাকা মেয়েদের (LRIG) কমান্ড করে।


















[এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। নিরপেক্ষ সমালোচনা/রিভিউ ভাবলে ভুল হবে।]
Anime: Mahou Shoujo Madoka Magica
Type: Anime Television Series
Episodes: 12
Release: 2011
Director: Akiyuki Shinbo
Writer: Gen Urobuchi
MAL Rating: 8.68, Ranked:39
My Rating: 8.00, Ranked: 16
Plot: উইকিপিডিয়াঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Mahou_Shoujo_Madoka_Magica#Plot
ম্যাজিকাল গার্ল জাপানি অ্যানিমের বেশ পুরানো আর পপুলার জেনার।(আমি আসল ফ্রেঞ্চ উচ্চারণটা পারিনা/ করতে ভাল্লাগেনা) ম্যাজিকাল গার্ল অ্যানিমের ‘প্রোটোটাইপ’ হল ‘প্রিন্সেস নাইট’ নামের একটা মাঙ্গা, ১৯৫৩ সালে রিলিজ হয়। এরপরে ১৯৬১ সালে ‘হিমিৎসু নো আক্কো চান’ নামে একটা সিরিজ বের হতে শুরু করে রিবন [ http://en.wikipedia.org/wiki/Ribon ] ম্যাগাজিনে। এটাকেই সবচেয়ে পুরোনো ম্যাজিকাল গার্ল মাঙ্গা হিসেবে ধরা হয়। মেইনস্ট্রিম ম্যাজিকাল গার্ল অ্যানিম কিন্তু জাপানিদের পুরোপুরি নিজস্ব সৃষ্টি বলা যাবে না। সত্তরের দশকে অ্যামেরিকান ফ্যান্টাসি সিটকম ‘বিউইচড’ [ http://en.wikipedia.org/wiki/Bewitched ]এর জাপানি ডাব সেখানকার মেয়েদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় হয়। সেখান থেকে ইন্সপায়ার্ড হয়ে তৈরি করা হয় ‘মাহউৎসুকাই স্যালি’ [ http://en.wikipedia.org/wiki/Sally_the_Witch ], প্রথম ম্যাজিকাল গার্ল অ্যানিম।
এই ধরনের অ্যানিম সম্বন্ধে আমি খুব বেশি জানতাম না। পরে একটু আধটু জানার পরে আর দেখার ইচ্ছা হয় নাই। আমি বেশি ছোট থাকতেও মনে হয় দেখার ইচ্ছা হত না। এর থেকে আমাদের মীনা কার্টুন অনেক চিত্তাকর্ষক।
মাহউ শোজো মাদোকা ম্যাজিকা দেখতে হল আসলে এটা গেন উরোবুচির লেখা বলে। আর দশটা ম্যাজিকাল গার্ল অ্যানিমের মত হবে না এটা ধরেই নেওয়া যায়। গ্রুপে একদিন এটা কে যেন আমাকে সাজেস্ট করল। পিসিতে ছিল, দেখে ফেললাম। ব্যস, কাহিনী শেষ।
কাহিনী আসলে পুরাপুরি শেষ না, তাহলে আমি এইটা নিয়ে লিখতে বসতাম না। দেখার পরে মাথার ভিতরে বহুদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছিল জিনিসটা।
উরোবুচির অ্যানিমের সাথে পরিচয় মূলত ফেট/জিরো দেখা দিয়ে। এই একটা দেখলেই মনে হয় চলে, উরোবুচির সম্বন্ধে ভাল ধারণা হয়ে যায়। উরোবুচির ট্রেডমার্ক দুইটাঃ এক. ডিস্টোপিয়া, দুই. ‘হার্ডকোর’ নিহিলিজম। আমার দেখা তিনটা অ্যানিমেই(Fate/Zero,Psycho-Pass, Madoka Magica) এই ধরনের প্যাটার্ন। ডেভিল উইদাউট ইভিল, সুপারহিউম্যান, অস্তিত্ববাদ– এসব কনসেপ্ট খুব ভালভাবেই উঠে এসেছে।
উরোবুচির এতকিছু থাকতে মাহউ শোজো নিয়ে লিখার কারণ হল এই অ্যানিমটা পুরাপুরি মডার্ণ ফিলোসফি নিয়ে করা। ম্যাজিকাল গার্ল কনসেপ্টটাকে বলা যায় একটা ক্যামোফ্লেজ। মূল থিম হল এক্সিস্টেশিয়াল নিহিলিজম [ http://en.wikipedia.org/wiki/Existential_nihilism ]. ঘটনা স্বাভাবিক জগতে শুরু হলেও এটা অ্যানিমের আসল জগতটা হল মাহউ শোজোদের জগত– ডিস্টোপিয়া তৈরির জন্য অসাধারণ আর চমকপ্রদ এক আইডিয়া।
অ্যানিমে দেখা যায়, মাদোকার ফেট বা নিয়তি হল তাকে একটা ম্যাজিকাল গার্ল হতেই হবে। অথচ এর জন্য সে নিজে দায়ী নয় কোনভাবেই। She has to suffer from choices not made by her. ম্যাজিকাল গার্লদের জগতের সাথে পরিচিত হবার সাথে সাথে সে জানতে পারে ম্যাজিকাল গার্ল হবার পরিণতি। তাদের একসময় রূপান্তরিত হতে হয় ডাইনিতে, যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করাই হল ম্যাজিকাল গার্লদের জীবনের লক্ষ্য। তবে তাদের অস্তিত্ব, বা তাদের existence এর অর্থ কী? ধ্বংস অনিবার্য হলে অস্তিত্ব থাকাটা কি একদিক থেকে নিরর্থক হয়ে পড়ে না? অ্যানিমে মাদোকাকে বারবার দেখা যায় এই প্রশ্ন নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে।
ম্যাজিকাল গার্ল হওয়ার বদলে প্রত্যেক জাদুকরীকে একটা ইচ্ছাপূরণের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু মাদোকা একসময় বুঝতে পারে এই ইচ্ছার কোন মূল্য নেই, ম্যাজিকাল গার্লদের জগত আদতে একটা হেল। তাদের নিয়তি অবধারিত। এই ডিস্টোপিয়ায় নেই কোন কামি-সামা, যে তাদের রক্ষা করবে। অবশেষে মাদোকা বুঝতে পারে Gott ist tot, God is dead. And she killed Him herself. নিরর্থককে অর্থবহ করে তুলতে সে হয়তো মনে করেছিল কোন এক কামি-সামার কথা। সে হতে পারে ইনকিউবেটর, হতে পারে অন্য কেউ। কিন্তু অবধারিত ভাগ্যকে সে আর বদলাতে পারে না। তখন সে বুঝে যায় এই জগতে কোন কামি-সামা নেই। তবে তার অস্তিত্বের অর্থ কে দেবে? একটা রাস্তার কুকুর যেরকম কুকুর, বিড়াল যেরকম বিড়াল, ম্যাজিকাল গার্লও সেরকম ম্যাজিকাল গার্ল। এর আলাদা কোন বৈশিষ্ট্য নেই। তবে সে কী করতে পারে? অবশেষে মাদোকা বুঝতে পারে, যদি তার অস্তিত্বকে অর্থ দিতে হয়, তাকে হতে হবে অতিমানবীয়, Übermensch. সে তখন ইনকিউবেটরের সাথে কন্ট্রাক্ট করে, ইচ্ছাপূরণের মাধ্যমে নিজেকে করে তোলে অতিমানবীয় ম্যাজিকাল গার্ল, যেন সে নিজেই এখন মাহউ শোজো-দের কামি-সামা। শেষ পর্বে দেখা যায়, মাদোকা সমস্ত ম্যাজিকাল গার্লদের অবধারিত ফেট পরিবর্তন করে দেয় তার সুপারহিউমেন অ্যাবিলিটি দিয়ে। অবশ্য স্টোরিলাইন সেখানেই শেষ হয় নি। মাহউ শোজো মাদোকা ম্যাজিকা-র যে দুইটা নতুন ফিল্ম রিলিজ হয়েছে, সেগুলোতে সম্ভবত স্টোরিলাইন শেষ হয়েছে।
এছাড়া ছোটখাট যেসব ব্যাপার উল্লেখ করা যায়ঃ অ্যানিমের স্টোরিলাইন অনেক ভাল। সাউন্ডের কাজ ভাল। আকিয়ুকি শিনবোর ডিরেক্টিং অ্যানিমে যেমন একটা ‘typical girl-ish’ ভাব আনে, তেমনি একটা প্যারানরমাল আবহ তৈরি করে। মাদোকার মাহউ শোজো আউটফিটটা বেশ ভাল লেগেছে। মিকি সায়াকার শেষ দৃশ্যে কেন দ্বিতীয়বার মৃত্যু হয় সেটা বোঝা গেল না। আমার ধারণা সে স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নেয়। হোমুরা চরিত্রটা ছিল খুবই মানবিক।
আমার দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ ডিস্টোপিয়া কোন অ্যানিম না, স্ট্যানলি কুব্রিকের ‘A Clockwork Orange’. ডিস্টোপিয়া হিসেবে তর্কসাপেক্ষে পরের পজিশনটা মাহউ শোজো মাদোকা ম্যাজিকা-কে দিতে পারি।
শেষ কথাঃ অনেকে হয়তো বলতে পারে একটা সহজ জিনিসকে আমি এরকম দাঁতভাঙ্গা ব্যাখ্যা কেন দিলাম? দেওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত? হ্যাঁ, কেউ চাইলে সে সহজ একটা ব্যাখ্যা দিতে পারে। সেটা তার ইচ্ছা, তার ভাললাগার উপর নির্ভরশীল। আমার এইভাবে ব্যাখ্যা করতে ভাল লাগল, তাই এভাবে করলাম। সবকিছু যে একইরকম হতে হবে সেটা কে বলেছে? আমার ব্যাখ্যা কারো কাছে ভাল না-ও লাগতে পারে। খ্যাত-ও মনে হতে পারে। সেটা অস্বাভাবিক কিছু না। তবে বেশি প্রতিক্রিয়াশীলতা অস্বাভাবিক। সেটা ক্ষতিকর।
আসলে জীবনে এত ismএর হয়তো কোনই দরকার নাই। সহজ-সুন্দর করে চিন্তা করলে সেটা অনেক সুন্দর। একটা অ্যানিম দেখলাম। ভাল লাগলে হাসব। খারাপ লাগলে মন খারাপ করব, হয়তো একটু কাঁদব। তারপর রাস্তায় গিয়ে খানিক হাঁটাহাঁটি করব। চা-ওয়ালার চা বানানো দেখব। টুং টুং করে চলে যাওয়া রিক্সাটা দেখব। স্কুলফেরত বাচ্চাদের লাফাতে লাফেতে বাড়িফেরা দেখব। উউই বিলবোর্ডের উপরে দেখব হয়তো কাকদের সভা, কিংবা চড়ুই দম্পতির খুনসুটি। তারপর মন ভাল হয়ে গেলে একটা হাসি দিব। এই তো… সব জীবন সাতাশে শেষ হয়ে যাবে, এটা কি কোন কথা হল?