Baccano! [রিভিউ] — Mehedi Zaman

Baccano

Baccano!
পর্বঃ ১৩
জনরাঃ অ্যাকশান, কমেডি, সুপারন্যাচারাল, হিস্ট্রিকাল (Historical), মিস্ট্রি (Mystery), সেইনেন

আচ্ছা আপনারা কি “Pulp Fiction” মুভিটা দেখেছেন? যদি দেখে থাকেন তাহলে বলি, এনিমে জগতের “Pulp Fiction” হল Baccano! এবার যারা মুভিটা দেখেননি তাদের জন্য বলি, আমরা যখন Puzzle সাজাই তখন একটা ছবি পুরো এলোমেলো থাকে; কিন্তু সাজানো শেষ হলে পুরো ছবিটি পরিষ্কার হয়ে যায়। Baccano!-ও ঠিক এরকম। পুরো সিরিজটি একদম শেষ পর্যন্ত এলোমেলো থাকে, তবে শেষের দিকে মোটামুটি ধারনা পাওয়া যায় কোন পর্বের কোন অংশটি কোন অংশের পরে। কি? বেশ মজাদার মনে হচ্ছে? তাহলে দেরি না করে দেখে ফেলুন অসাধারন এই এনিমে যার নাম Baccano!

কাহিনীঃ ৯/১০
যেহেতু কাহিনীর শুরু এবং শেষ আপনার নিজেকে বের করতে হবে তাই আমি এর কাহিনীর সারসংক্ষেপ এখানে বলবো না। বরং আমার কাছে কাহিনীটি কেমন লেগেছে সেই সম্পর্কে বলি। যখন Baccano! দেখা শুরু করি তখন প্রথমেই মনে হচ্ছিলো এপিসোড নাম্বার ঠিক আছে তো? তারপর দুই-তিনটা এপিসোড দেখার পর বুঝলাম এইটার স্টোরিলাইন এলোমেলো। পুরো সিরিজটা যখন শেষ হল তখন বুঝলাম যে কাহিনীটা ততটা প্যাঁচালো না যতটা আমি ভেবেছিলাম। যাইহোক, এখানে Don-দের নিয়েও কিছু ব্যাপার-স্যাপার আছে যা একে দিয়েছে আরেকটি নতুন মাত্রা। এপিসোডের পেসিং নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না এবং পুরো কাহিনীটাই বেশ চমকপ্রদ ছিল। তাই রেটিংও ৯ পাওয়ার যোগ্য।

চরিত্রঃ ৮.৮/১০
প্রথম কথা, Baccano! এনিমেটিতে অনেক চরিত্র রয়েছে; এমনকি প্রধান চরিত্রেরও কমতি নেই। সবার কথা বলা সম্ভব না হলেও দুটো চরিত্রের কথা না বললেই নয়; Isaac এবং Miria। পুরো এনিমেটাতে হাস্যকর সব কাজ করে নিজেদেরকে বিখ্যাত চোর বলে দাবি করে এই দুজন। আবার, বিভিন্ন জায়গায় এরাই কাহিনীর মূল হোতা হয়ে দাঁড়ায়। মূলত, পুরো সিরিজটাকে মজাদার করার কাজ ছিল মনেহয় এই দুজনার। এছাড়াও মূল চরিত্রের প্রত্যেকেই অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল এবং চরিত্রের ক্ষেত্রে তেমন কোনো খুঁত না থাকলেও কিছু চরিত্রকে কিছুটা খাপছাড়া মনে হয়েছিল। তবে সবমিলিয়ে এই দিকটার বিচারেও এনিমেটি প্রশংসার দাবি রাখে।

এনিমেশনঃ ৯.৩/১০
এনিমেশনের কথা বলতে গেলে এককথায় অসাধারণ। অ্যাকশান সিনগুলো বেশ নিখুঁত ছিল এবং যেহেতু কাহিনীটি Chicago এবং New York – দুই জায়গা মিলিয়ে সেট করা হয়েছিল তাই উভয় শহরের প্রত্যেকটি বৈশিষ্ট্যই পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটে উঠেছিল। কিছু শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তের এনিমেশন আরো বেশি চমকপ্রদ করতে সক্ষম হয়েছিল এনিমেটি। তাই এখানে একটু বেশি রেটিং পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

সাউন্ডট্র্যাকঃ ৮.৮/১০
Baccano!-এর সাউন্ডট্র্যাকের মধ্যে যেমন Jazz আছে তেমনি বেশ কিছু সাধারণ মিউজিকেরও ছোঁয়া আছে। এর ওপেনিংটি আমার বেশ প্রিয় কেননা সেখানে পুরো এনিমেটির ভাবমূর্তি ফুটে উঠে। এন্ডিংটাও মোটামুটি ভালই ছিল। Cowboy Bebop এর মতো এখানেও Jazz মিউজিক এর উদাহরণ থাকায় এনিমেটি একটু বেশিই অনন্য হয়ে উঠেছে।

এঞ্জয়মেন্টঃ ৯/১০
Baccano! আমি একদিনে দেখে শেষ করি এবং সত্যি কথা বলতে এর আনন্দদানে কোনো ঘাটতি ছিল না। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমি উৎসুক চোখে এনিমেটি দেখেছি। বিশেষ করে কমেডি সিনগুলো অনেক মজার ছিল আর অ্যাকশান এর কথা তো বললামই না। সবমিলিয়ে Baccano! আমার অনেক প্রিয় একটি এনিমে।

সবকথার শেষ কথা হল আমি যেরকম Baccano! দেখে পুরো অন্যরকম আনন্দ পেয়েছি সেটি পেতে হলে এনিমেটি না দেখে উপায় নেই। যদি জিজ্ঞেস করেন সবমিলিয়ে আমি কত রেটিং দিব, তাহলে আমার উত্তর হবে ৮.৬/১০ যা আমার মতে Baccano! পাওয়ার যোগ্য।

এক ব্যক্তির অসাধারণ উক্তির দ্বারা আমি আমার রিভিউ শেষ করব। “Cast aside the illusion that there is a beginning and end to the story. The story has no beginning. And it has no end. All there is, is a performance of people connecting, living, influencing each other, and departing.”- Gustav St. Germain; যা Baccano! এনিমেটির ক্ষেত্রে পুরোপুরি খাটে।

Anohana: The Flower We Saw That Day [এনিমে রিভিউ] — Mehedi Zaman

এনিমে রিভিউ
Anohana: The Flower We Saw That Day
(Ano Hi Mita Hana no Namae wo Bokutachi wa Mada Shiranai)

পর্বঃ ১১
জনরাঃ জীবনের খণ্ডাংশ (Slice Of Life), অতিপ্রাকৃত (Supernatural)।

শৈশব, এক অসাধারণ আনন্দময় সময় আমাদের সকলের জন্য। এ সময় আমাদের থাকে কিছু অন্তরঙ্গ বন্ধু যাদের নিয়ে আমরা গড়ে তুলি আমাদের মনের মতো একটি দল। এই দলের জন্য সকলে মিলে ঠিক করি একটি আজগুবি নাম এবং ওই দলের মিটিং এর জন্য থাকে এক গুপ্ত স্থান। কিন্তু আমাদের সবার ক্ষেত্রেই কি শৈশব অত্যন্ত আনন্দের ছিল? আমাদের এই বন্ধুদের মাঝেও কিছু বন্ধুর শৈশবে হয়ত ঘটে গেছে কোন দুর্ঘটনা। যেই ঘটনা তাদের সুখময় শৈশবকে করে তুলেছিল দুঃসপ্নময়। যদি আপনারও এমন কিছু অভিজ্ঞতা থেকে থাকে অথবা আপনিও পেতে চান সেইসব অভিজ্ঞতা, তাহলে আপনারই জন্য আনোহানা।

কাহিনীঃ
ইয়াদমি, ছোটবেলায় যে জিনতান নামে পরিচিত ছিল এখন এক ঘরকুনো কিশোর, যে ঠিকমতো স্কুলেও যায় না। কিন্তু শৈশবে এই জিনতান-ই ছিল তার অন্তরঙ্গ দলের নেতা। তার দলের নাম ছিল “সুপার পিস বাসটারস্‌” (Super Peace busters)। সময় অনেক ভালই কাটছিল সুপার পিস বাসটারস্‌ -এর, হঠাৎ সেই দলের সবচেয়ে ছোট এবং পছন্দনীয় সদস্য, মেনমা, এক দুর্ঘটনায় তার জীবন হারায়। ভেঙ্গে যায় সুপার পিস বাসটারস্‌ এবং সকলে একে অপর হতে বিছিন্ন হয়ে যায়। বেশ কিছু বছর পর মেনমার ভূত (আত্মাও বলা যায়) জিনতান এর কাছে এসে হাজির হয়। প্রথমদিকে জিনতান নিজের দেখার ভুল বলে মেনমাকে এড়িয়ে চলে, কিন্তু কিছুদিন পর সে বাধ্য হয়েই মেনমার কথা শুনে এবং জানতে পারে যে মেনমার কোন এক ইচ্ছা অপূর্ণ থাকায় সে এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে পারছে না। জিনতান তার সকল বন্ধুদের একত্র করে মেনমার অজানা ও অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণে সচেষ্ট হয়। কিন্তু সে কি পেরেছিল তার শৈশবের বন্ধুদের একত্র করে মেনমাকে মুক্তি দিতে?

চরিত্রঃ
আনোহানা এনিমেটির মূল চরিত্র ছয়জন- জিনতান, মেনমা, আনারু, ইয়ুকিয়াটসু, সুরুকো এবং পোপ্পো। এদের প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য এবং সকলের জীবনধারণই ভিন্ন। তবে এরা সবাই ছেলেবেলায় ‘সুপার পিস বাসটারস্‌’- এর সদস্য ছিল। জিনতান এর কথা আগেই বলেছি এখন অন্যদের কথা বলি। মেনমা ছিল এক মিষ্টি মেয়ে। সে সবসময় সকলের কাছে অনেক ভাল বলে পরিচিত ছিল। আনারু শৈশবে ভাল থাকলেও পরবর্তীতে কিছু অসৎ বান্ধবীর সাথে মিশে তাদের মতো আচরণ শুরু করে। তবে সে তার পুরনো বন্ধুদের সঙ্গ পেয়ে আবার নিজের আগের পরিচয় ফিরে পায়। ইয়ুকিয়াটসু ও সুরুকো দুজনেই পড়াশোনায় মনোযোগী এবং এদের চরিত্র কিছুটা একে অপরের সাথে মিলে যায়। তবে আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে পোপ্পোকে। সে হচ্ছে সবকিছু মেনে নেওয়া রকমের এবং সবসময় হাসি-তামাশায় মেতে থাকার মতো ছেলে। তো, চরিত্র ভালোভাবে তুলে ধরার দিক দিয়ে আনোহানা চমৎকার কাজ করেছে মাত্র ১১ পর্বে।

এনিমেশনঃ
এনিমেশনের ক্ষেত্রে আমার তেমন কিছু বলার নেই কারণ এর এনিমেশন বেশ সাধারণ ছিল এবং আমার এটা ভালই লেগেছে। আর্ট ও পরিবেশ বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। প্রত্যেকটি চরিত্রের মুখভঙ্গি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে মেনমার বয়স বাড়ার পরও তাকে অনেকটা একই রকম লেগেছিল যা আমার কাছে একটু অস্বাভাবিক।

সাউন্ডট্র্যাকঃ
Kimi to natsu no owari shourai no yume Ookina kibou wasurenai
Juu nen go no hachigatsu mata deaeru no wo shinjite…
আনোহানার এই এন্ডিংটা আমার অনেক প্রিয়। এই অসাধারণ গানটি গেয়েছে Kayano Ai & Tomatsu Haruka & Hayami Saori। গানটি হল secret base ~Kimi ga Kureta Mono~ (10 years after ver.) । বুঝতেই পারছেন আনোহানার সাউন্ডট্র্যাক গুলো আমার কাছে মারাত্মক লেগেছে। ওপেনিং-ও বেশ ভাল ছিল এবং প্রায় প্রত্যেকটি পর্বের শেষে এন্ডিং থিম সং বাজানোর জন্য পরের পর্ব না দেখে থাকা যায় না। এককথায়, আনোহানা তার সাউন্ডট্র্যাক এর জন্য আমার কাছে আরও বেশি ভাল লেগেছে।

আনন্দঃ
আনোহানা এনিমেটি দেখার সময় আমি ভেবেছিলাম ১১টি পর্বে কিই বা আনন্দ দিবে? কিন্তু না, ১১টি পর্বে আনোহানা আমাকে এতো স্মৃতিকাতরতা, কান্না এবং আনন্দ দিয়েছে যে আমি পুরোপুরি মুগ্ধ। এছাড়াও, বাস্তবতার সাথে অতিপ্রাকৃতিক কিছু বিষয়ের মিশ্রণের ব্যাপারটি অনেক দুর্লভ এবং আমি এই এনিমেতে এই বিষয়ের একটি সেরা উদাহরণ পেয়েছি। তাই অবশ্যই আনোহানা আমাকে অনেক আনন্দের পাশাপাশি নতুন কিছু অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

সার্বিকঃ
সবকিছু মিলিয়ে আমি আনোহানাকে ৯/১০ দিব। আসলে এই এনিমেটি দেখার পর থেকেই আমি Slice Of Life জনরার ভক্ত হয়ে গিয়েছি। আনোহানার বাস্তবিক দৃশ্যপট, অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক, বিভিন্ন চরিত্রের মানসিকতা এবং আরও অনেক কিছুর দ্বারা এটি আমার মন জয় করেছে। সত্যি বলছি, হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি এনিমেই আনোহানার মতো আমার এতটা ভাল লেগেছে।

পরিশেষে আমি সকলকে (যারা আনোহানা দেখেননি) এটি দেখার জন্য আহ্বান জানাবো। যদি আপনি Slice Of Life এর ভক্ত না-ও হন তাও আনোহানা দেখার চেষ্টা করবেন, এতটুকু বলতে পারি যে এনিমেটি আপনার খারাপ লাগবে না। একটি উদ্ধৃতি দিয়ে আমার লেখা শেষ করব।
“I thought I could apologize to you tomorrow. But that tomorrow…never came.”-Jinta Yadomi.

anohana

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২৬: Death Note — Mehedi Zaman

ডেথ নোট (Death Note)
এপিসোডঃ ৩৭
জনরাঃ মিসটেরি, সাইকোলজিক্যাল, থ্রিলার, সুপারন্যাচারাল, পুলিশ।
Myanimelist Score: ৮.৭৬

ধরুন আপনি এমন এক নোটবই পেলেন, যেখানে কারো নাম লিখলে সেই ব্যাক্তি ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে মারা যাবে। তাহলে আপনি কি করবেন? এরকমই এক কঠিন প্রশ্ন নিয়ে শুরু হয় ডেথ নোট। এই এনিমেতে রয়েছে মানুষের বিবেকবোধ এবং ন্যায়বোধ এর এক চরম পরীক্ষা। যদি আপনি জানতে চান এরকম পরিস্থিতিতে পরলে একজন কি কি করতে পারে এবং এই এনিমের শেষ পরিণতি কি তাহলে অবশ্যই দেখবেন ডেথ নোট।

 

কাহিনী/প্লটঃ ১০/১০

ডেথ নোট এনিমেটির কাহিনী বেশিরভাগ এনিমে থেকে একটু ভিন্ন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘য়াগামি লাইট’, একজন ১৭ বছরের তরুণ একদিন স্কুল থেকে বাসায় ফেরার সময় একটি নোটবই পায়, যার শিরোনাম ছিল ‘ডেথ নোট’। সে ডেথ নোটের কার্যকারিতা যাচাই করে দেখল যে আসলেই এর মাধ্যমে যে কাউকে মারা যায়। এর জন্য শুধু প্রয়োজন সেই ব্যাক্তির সঠিক নাম। য়াগামি তখন এই পৃথিবীকে এক শান্তিময় স্থান বানানোর জন্য, অপরাধমুক্ত করার জন্য, অপরাধিদের নাম ডেথ নোটে লিখতে থাকে। তবে  তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এক রহস্যময় ডিটেকটিভ, এল(L)। ডেথ নোটএনিমের স্টোরি ডেভেলপমেন্ট সত্যিই তাক লাগিয়ে দেয়ার মতো যদিও ২৬ এপিসোডের পর এর আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।

 

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টঃ ৯.৫/১০

ডেথ নোট এনিমেটির মূল চরিত্র হল য়াগামি এবং এল। এরা দুজনই খুবই চালাক এবং চতুর। একদিকে য়াগামির ঠাণ্ডা মাথায় অপরাধিদের মেরে চলার প্রবণতা আবার আরেকদিকে এল – এর অদ্ভুত কিন্তু অসাধারণ কীর্তিকলাপ য়াগামিকে ধরার জন্য- সত্যিই আপনাকে জানিয়ে দিবে দুজনের চরিত্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও রয়েছে কিছু সাইড ক্যারেক্টার (মেইন ক্যারেক্টারও বলা চলে) যেমনঃ মিসা আমানে এবং রিউক। এই পয়েন্টে বলা চলে ডেথ নোট এর ক্যারেক্টারদের তারা ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছে যেটা অবশ্যই এনিমেটিকে করে তুলেছে আরও চমৎকার।

 

অ্যানিমেশনঃ ৯/১০

‘ডেথ নোট’ এর অ্যানিমেশন সম্পর্কে বলতে হলে প্রথমেই বলতে হয় এখানে নোটবইয়ে কলম দিয়ে লিখাকে তারা এতটা মজার করে তুলেছে যে, আমারও ইচ্ছে হয় খাতা কলম নিয়ে বসে পরি। অ্যানিমেশনে কিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন দৃশ্য ছিল যাএনিমের থিমের সাথে মিলে যায়।

 

সাউনডট্র্যাক/মিউজিকঃ ৯.৫/১০

‘ডেথ নোট’ এর সাউনডট্র্যাক গুলো  আমার  কাছে  খুবই  ভাল  লেগেছে। এক্ষেত্রে Yoshihisa Hirano এবং Hideki Taniuchi কম্পোসার হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ডেথ নোটের প্রথম ওপেনিং যেটা গেয়েছেNightmare ব্যান্ড, আমার খুবই পছন্দের। এনিমেটির কিছু শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তের মিউজিকগুলো ওই দৃশ্যগুলোকে করে তুলে আরও ইন্টারেস্টিং।

 

এঞ্জয়মেনটঃ ১০/১০

‘ডেথ নোট’ এর  একটি  শক্তিশালী  দিক হল এনিমেটির এপিসোডের গতি(pace)। এনিমেটি দেখা শুরু করলে শেষ না করে উঠতে ইচ্ছে করে না। কারণ, প্রত্যেকটি এপিসোডের শেষে এমন একটা সাস্পেন্স থাকে যে পরবর্তী এপিসোড না দেখে থাকা যায় না। তবে ২৬তম এপিসোডের পরে এই আকাঙ্ক্ষা কিছুটা কমে যায়। এনিমেটি দেখে বিড়াল এবং ইঁদুরের ছুটোছুটির কথা মনে পড়ে। এক কথায় ‘ডেথ নোট’ আপনাকে দিবে এক অবর্ণনীয় রোমাঞ্চ।

 

ওভারঅলঃ ৯.৫/১০

যারা যারা ডেথ নোট দেখেছেন বা দেখবেন তাদের মনে অবশ্যই একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে য়াগামি ডেথ নোট পেয়ে যা করল তা আসলে সঠিক কিনা। এই প্রশ্নের উত্তর আপনারা নিজেরাই দিবেন। তবে আমার কাছে য়াগামির চেয়ে এল এর কর্মকাণ্ড বেশি সঠিক বলে মনে হয়েছে। ওভারঅল ডেথ নোট এখন পর্যন্ত ওয়ান অফ দা বেস্ট এনিমে, আমার কাছে।

 

‘I will make the world a better place’- য়াগামি লাইট। আসলেই কি সে পেরেছিল তার স্বপ্ন পূরণ করতে?জানতে হলে দেখুন ‘ডেথ নোট’।

26 Death Note

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২০: Fairy Tail — Mehedi Zaman

ফেইরি টেইল (Fairy Tail)
এপিসোডঃ ২৪২+(চলমান)
জনরাঃ অ্যাকশান,এডভেনচার,ম্যাজিক,কমেডি,শাউনেন।
Myanimelist Score: ৮.৩৭

শুনে মনে হতে পারে এটি কোন রুপকথার এনিমে। আপনি যেমন সঠিক তেমনি ভুলও বটে। কারণ, বাক্যটি আসলে ‘ফেইরি টেল’ নয় ‘ফেইরি টেইল’।এইরকম অদ্ভুত নাম নিয়ে স্থাপিত হয়েছে একটি গি্লড। এই গিলডে যোগ দিতে আসা একজন তরুণীকে নিয়ে এনিমের গল্প শুরু। গিলডের এই নামের পেছনেও রয়েছে এক মজার গল্প আর এইসব জানতে এবং ম্যাজিকাল জগতে হারিয়ে যেতে দেখতে হবে ফেইরি টেইল।

 

কাহিনী/প্লটঃ ৮.৫/১০

লুসি হার্টফিলিয়া, ১৭ বছর বয়সী এক তরুণী, সে ফিওরে কিংডম এর মাগ্নলিয়া শহরের এক নামকরা গিলডে যোগ দেওয়ার জন্য আসে। আসার সময়ই তার সাথে দেখা হয় নাটসু দ্রাগ্নীলের, যে ফেইরি টেইল  এর একজন সদস্য। এভাবেই শুরু হয় ফেইরি টেইল এনিমেটির কাহিনী। এনিমেটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল  টিমওয়ার্ক ও বন্ধুত্ব। এনিমেটিতে রয়েছে ম্যাজিকের মাধ্যমে ফাইট করার এক দারুণ অভিজ্ঞতা।এর স্টোরির  রয়েছে বিভিন্ন আর্ক যার ফলে মেইন প্লটের আগে জানতে পারবেন কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি। প্রথমদিকে মনে হতে পারে এনিমেটির নির্দিষ্ট কোনও কাহিনী নেই, কিন্তু আসলে এনিমেটির রয়েছে একটি চমকপ্রদ প্লট যা আপনাকে একটির পর একটি এপিসোড দেখতে আগ্রহী করে তুলবে।

 

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টঃ ৯/১০

ফেইরি টেইল এমন একটি এনিমে যেখানে রয়েছে প্রচুর ক্যারেক্টার। তবে মেইন ক্যারেক্টার এর মধ্যে নাটসু, লুসি, গ্রে, এরজা, হ্যাপি এরা হল উল্লেখযোগ্য। ফেইরি টেইল এর একটি শক্তিশালী বিষয় হল এর ক্যারেক্টার দের তারা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রত্যেক ক্যারেক্টার এর পিছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী ব্যাকগ্রাউন্ড যা এনিমেটির ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টে রেখেছে এক অনন্য অবদান।

 

অ্যানিমেশনঃ ৮.৫/১০

ফেইরি টেইল এর অ্যানিমেশন কোয়ালিটি একটা বড় শো হিসেবে প্রশংসনীয়। এনিমেটির এনভাইরনমেনট অনেক কালারফুল যা ফেইরি টেইল এর স্টোরিলাইন এর সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ। ক্যারেক্টার দের ফেসিয়াল এক্সপ্রেসন ভালভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবং এর ফলে ফেইরি টেইল এর এত এত ক্যারেক্টার দেরকে খুব সহজেই মনে রাখা যায়।

 

সাউনডট্র্যাক/মিউজিকঃ ৯.৫/১০

ফেইরি টেইল এনিমেটির একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় দিক হল এর সাউনডট্র্যাক। ফেইরি টেইল এর সাউনডট্র্যাকগুলো আমার কাছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আমেযিং সাউনডট্র্যাক। তাদের প্রোডাকশন কোম্পানি A-1 Pictures এবং Yasuharu Takanashi (একজন মিউজিক ডিরেক্টর)এক্ষেত্রে গুরুদায়িত্ব পালন করে। বিশেষ করে Masayume Chasing & Strike Out ওপেনিং দুটো আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। আপনি ফেইরি টেইল এনিমেটি না দেখে থাকলে খুবই ভাল মিউজিক মিস করছেন।

 

এঞ্জয়মেনটঃ ৮.৫/১০

ফেইরি টেইল এনিমেটি দেখে আপনি খুবই মজা পাবেন। কারণ এই এনিমেটির বেশ কিছু সিরিয়াস পার্টেও রয়েছে মেইন ক্যারেক্টারদের বিভিন্ন হাস্যকর কার্যকলাপ। আপনি যদি কমেডি জনরার ভক্ত হন তবে অবশ্যই আপনার কাছে ফেইরি টেইল ভাল লাগবে।

 

ওভারঅলঃ ৮.৫/১০

এই রেটিংটি আমার ব্যক্তিগত রেটিং। সবমিলিয়ে আমার কাছে ফেইরি টেইল এনিমেটি অনেক ভাল লেগেছে। এটুকু বলতে পারি যে, এনিমেটি আপনাকে হতাশ করবে না। তবে যারা খুব সাস্পেন্সের ভক্ত তাদের কাছে ফেইরি টেইল মাঝে মাঝে কিছুটা বোরিং লাগতে পারে। অনেকে বলে থাকেন যে, ফেইরি টেইল এর ফাইটগুলো শুধু নাকামা পাওয়ার আপ দিয়ে জেতা হয়। কিন্তু Erza vs Midnight, Natsu vs Jackal এই ফাইটগুলো সহ আরও অনেক ফাইটই Strategy বেসড।

 

ফেইরি টেইল হয়তবা সেরাদের সেরা নয় তবে এর বেশ কিছু নিজস্ব গুণ রয়েছে যা নিঃসন্দেহে এনিমেটিকে করে তুলে চমকপ্রদ এবং ইন্টারেস্টিং। সবশেষে একটা কথাই বলতে পারি যে, ‘I will fight for my friend  than watching them get hurt, I will fight for those I love.’- এরজা স্কারলেট, এরকমই কিছু অসাধারণ মুহূর্তের জন্য শুরু করে দিন ফেইরি টেইল।

20 Fairy Tail