Monster [Review] — Naziur Rahman Nayem

Monster
Writer: Naoki Urasawa
Original Run: 7 April, 2004 – 28 September, 2005
Rating: 8.8/10
 
*Spoiler Alert
 
Tsugumi Ohba- এর Death Note এর পর Psychological-Mystery genre তে Naoki Urasawa-এর আরেকটা মাস্টারপিস হল এই “Monster” নামক এনিমে। এর এপিসোড মোট ৭৪ টা। যা “Death note”- এর তুলনায় দ্বিগুণ। এটা হল মিস্ট্রি সাইকো থ্রিলার জনরার এনিমে। এর জন্য এটা দেখা আরকী। ভাবলাম বহুত গভীর চিন্তা হইছে,,, এবার একটু বিনোদন নিয়ে আসি। তবে বিনোদন আর নেওয়া হইলো না। এটাতেও ডিপ ফিলোসফিকাল ব্যাপার স্যাপারের সম্মুখীন হতে হইল।
নাম শুনে মনে হতে পারে এটার মধ্যে সুপারন্যাচারাল ব্যাপার স্যাপার আছে। কিন্তু আদপে এর ভেতর তা নেই। এখানে কাহিনীকে যেভাবে টেনে নিয়ে যাওয়া হইছে ও যে চরিত্রগুলো যেভাবে দেখানো হইতে তা একদম বাস্তবভিত্তিক। তারপরও সাউন্ড ইফেক্ট ও এর স্লো পেসের জন্য এটা যেকোন হরর ও থ্রিলিং এনিমের থেকেও কম না। বাস্তবভিত্তিক হয়েও এটা আপনাকে যথেষ্ট থ্রিল প্রদান করবে। আর তার কারণ হলো এর প্লট ও কেন্দ্রীয় ভিলেন চরিত্রকে নিয়ে টুইস্ট।
এটি হল দুটি বিপরীত চরিত্রের ফিলোসফি নিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্বমূলক এনিমে। এই এনিমে নায়কের নাম থাকে হল ড. টেনমা যে কীনা একজন স্পেশালিষ্ট নিউরোসার্জন এবং যে ভিলেন তার নাম হল ইয়োহান লিবার্ট(যদিও এটা তার প্রকৃত নাম নয়!! এনিমে দেখলে ঘটনা বোঝা যাবে) এবং সে চরম এন্টাগনিষ্ট ও নিহিলিস্ট প্রকৃতির। অপরদিকে ড. টেনমা তিনি হলেন অপটিমিস্টিক ও জাস্টিস- এর প্রতীক।
কিন্তু ইনিই ঘটনাচক্রে একদিন যে হাসপাতালে তিনি কাজ করতেন সেখানে দুটো বাচ্চা ছেলে ও মেয়ে আহত হয়ে আসে। ছেলেটির মাথায় গুলি লাগে। আর এ চিকিৎসা ভার নায়কটি নেয়। যেহেতু তিনি বেশ দক্ষ সার্জন তিনি ছেলেটির সফলতার সাথে অপারেশন করেন।
কিন্তু বিপত্তী ঘটে পরবর্তীতে গিয়ে এ অপারেশন হবার কিছুদিন পর ছেলেটি হঠাৎ করে হাসপাতাল বেডের থেকে উধাও হয়ে যায় ও যে মেয়েটি ছিল সেও উধাও হয়ে যায়। সবাই সন্দেহ করতে থাকে এ হল খুনীর কাজ, খুনীই ছেলে ও মেয়েটিকে কিডন্যাপ করেছে।
এরপর রহস্যজনকভাবে হাসপাতালেরই ৩ জন মারা যায়। এসব কাহিনী ঘটার পর পুলিশী তদন্ত চলে এবং একজন দক্ষ গোয়ন্দা এ কেস সমাধানের দায়িত্ব নেয়। এ ঘটনায় গোয়েন্দাটির সন্দেহ গিয়ে পড়ে ড. টেনমার উপর। কেননা যে তিনজন মারা যায় তার ভেতর একজন হলেন হাসপাতালের ডিরেক্টর যিনি ড. টেনমাকে চক্রান্ত করে তার পদ থেকে ডিমোশন দিয়ে দেয়। আর এ ডিমোশনের কারণ হলো ঐ দুটি বাচ্চা ছেলে, মেয়েকে অপারেশনের সময় একজন মেয়রের অপারেশন করার জন্য ডিরেক্টর নির্দেশনা দিয়েছিলো।
এখন অন্যান্য ডাক্তারও ছিল কিন্তু নায়কের দক্ষতা মারাত্মক লেভেলের হওয়ায় এবং মেয়রের চিকিৎসা করলে হাসপাতালের রেপুটেশন বাড়বে ও ডোনেশন পাওয়া যাবে এটা ছিল ডিরেক্টরের হাবভাব। কিন্তু ড. টেনমা এটা বুঝতে পেরে এবং সে যেহেতু প্রথমে ঐই বাচ্চা দুটির কেসই হাতে পায় সে নির্দেশ অমান্য করে ঐ ছেলের অপারেশন করে। এর ফলে তার পদ থেকে তাকে ডিমোশন দেওয়া হয়। এতে ডাক্তার যে নতুন গবেষণা করছিলেন এটার সাহায্যও বন্ধও হয়ে যায়।
আর ডিরেক্টরের মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, এটাও ভেঙ্গে যায়। সবমিলিয়ে প্রচন্ড ক্ষোভ আর হতাশা জন্মে ড. টেনমার মনে। এটাকেই গোয়েন্দা হত্যাকান্ডের মোটিভ হিসেবে ধরে নেন। কিন্তু তারপরও সুযোগ্য প্রমাণ ও খুনের সময় ডাক্তারের অন্য জায়গায় উপস্থিতির কারণে ব্যাপারটা প্রায় নয় বছর স্থগিত থাকে। আর এ নয়বছর পর তেমন খুনটুন আর হতে দেখা যায় না।
কিন্তু নয়বছর পর। ডিরেক্টর মারা যাবার পর নতুন ডিরেক্টর আসে ও ড. টেনমা তার পুরনো পদ আবার ফিরে পায়। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলছিলো, কিন্তু এরপরই আসে ঘটনার আসল টুইস্ট… হঠাৎ আরেকটা খুন হয় এবং সে খুনের সাক্ষী একজন চোর মারাত্মকভাবে আহত হয় ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে।
ড. টেনমা তাকে সুস্থ করে তোলার পর যেই চোরটি খুনীর বর্ণনা বলবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় ঠিক সেই রাতেই খুনীকে যে গার্ড নজরদারির মধ্যে রাখত সে মারা যায় ও চোরটি আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যায়। এরপর সেইসূত্র ধরে ড. টেনমাও চোরকে তাড়া করলে নয় বছরের সেই পুরনো স্মৃতি ফিরে আসে।
ভিলেনের সাথে তখন ডক্টরের মোলাকাত হয়। ভিলেনকে এত তাড়াতাড়ি দেখানো হবে এটা আমি আশা করিনি। তারপর ভিলেনটি বলে সে হল সেই বাচ্চা ছেলেটি যাকে টেনমা নয় বছর আগে অপারেশন করে বাঁচিয়েছিলো। এরপর যে খুনগুলো হয় এটা তারই করা। এরপর ড. টেনমার নৈতিকতা, ভ্যালু তাকে হন্টিং করা শুরু করে।
সে তো একজন ডাক্তার, মানুষ বাঁচানোই তার কাজ… কিন্তু তার বাঁচানো মানুষটাই আজ এসব ভয়ানক কাজ করছে। সে কী আসলেই ঠিক করেছে। তখন তার কাছে ভালো-খারাপের যে নৈতিকতা রয়েছে এই দ্বন্দ্ব এর যাতনায় সে প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। সে ভিলেনকে থামাবার চেষ্টা করে কিন্তু তার চোখের সামনে সে ঐ সাক্ষীকে খুন করে চলে যায়।
আর এরপরে ডক্টর হতাশ হয়ে গোয়েন্দাটিকে সমস্ত কথা বললে গোয়েন্দাটি তারপরও একে কাহিনী বলে সন্দেহ করতে থাকে ও মনে করতে থাকে ড. টেনমার নিশ্চয়ই দ্বৈত চরিত্র তথা ডাবল ক্যারেক্টার রয়েছে। সে সবার সামনে ভালো মানুষ কিন্তু যখন তার ক্যারেক্টার জেগে ওঠে তখন সে খুন করে ও আবার ভালো মানুষ হয়ে উঠে।
এরপর ডক্টর হাসপাতালের কাজ ছেড়ে দিয়ে ভিলেনকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে ও তাকে খুন করার কামনা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এতে পুলিশদের সন্দেহ বেড়ে গেলে ও তার এভাবে হঠাৎ উধাও হয়ে যাবার কারণে সে হয়ে যায় মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল।
এভাবেই অপরাধী হয়ে পালিয়ে বেড়িয়ে সেই ভিলেনকে খুঁজতে বেরিয়ে আরও ভয়ানক সব তথ্য বেরিয়ে আসে ও বেরিয়ে আসে গোপন অর্গানাইজেশনের কথা। ভিলেনের সম্বন্ধে মর্মান্তিক ও ভয়ানক সব তথ্য বের হতে থাকে। এবং এর সাথে আরও যুক্ত হতে থাকে অনেক চরিত্রের।
এ এনিমের মূল বিষয়ই হল ভিলেন। মানে ইয়োহানকে ঘিরে সমস্ত ঘটনা আবর্তিত হয়। আর এই চরিত্রকে এত সুন্দর করে চিত্রায়িত করা হয়েছে এটি আমাদের ভেতরকার শূন্যতা, একটা মানুষ যখন জীবনের অর্থ খুঁজে না পায় সে কিরূপ অসহায় হতে পারে ও শিশুমনে ভুল শিক্ষার কী পরিমাণ মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে তা আমাদেরে স্মরণ করিশে দিবে। ইয়োহান কে বলা যায় সে হল “Pessimistic nihilist” অর্থাৎ নেতিবাচক নৈরাশ্যবাদীর প্রতীক আর এর পেছনে রয়েছে তার অতীত জীবনের পারিপার্শ্বিক বিশাল প্রভাব যা ধীরে ধীরে এই চরিত্রটিকে গড়ে দেয়।
অপরদিকে ডক্টর এখানে আশাবাদী তার কথা হল একদিন না একদিন সুদিন আসবেই। সকল মানুষের জীবনের মূল্য সমান।
কিন্তু ইয়োহানের ধারণা হল মানুষ শূন্য,, এখানে মৃত্যু ছাড়া কিছুই নেই। তাই সবকিছু সে ধ্বংস করে দিতে চায় এমনকী নিজেকেও।
এভাবে পরস্পর দুটি ধারণা আমাদের এই এনিমের শেষে নিয়ে গিয়ে একটি গভীর বার্তা প্রদান করে যায়। নায়ক ও ভিলেন ছাড়াও এ এনিমে আরও যেকজন চরিত্র আছে তাদের নাম হলো – ডিটেক্টিভ লুংগে, এভা হাইনাম্যান, উলফ গ্রিমার, রবের্টো, নিনা, ডিটার, ফ্রান্স বোনাপার্টা ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মধ্যে থেকে আমাদের পছন্দের চরিত্রটি হল উলফ গ্রিমার। আর সবচেয়ে অপছন্দ হয়েছে রবের্টো কে। ডিটেক্টিভ লুংগে প্রথম প্রথম ভালো না লাগলেও পরবর্তীতে যেয়ে ভালো লেগেছে। ভিলেনকেও ভালো লেগেছে তবে তার থেকে বেশী লেগেছে ভয়। এরকম ইমোশনলেস ভিলেন হলে তা খুবই স্বাভাবিক, আর কথা তো বলে না যেন ঠান্ডা ছুরি। সবমিলিয়ে অনবদ্য ছিল এই এনিমে টি।
সবশেষে বলা যায়, এই এনিমে পরবর্তীতে গিয়ে আমাদের শেখায় ভালো-খারাপের দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে গিয়ে একটা পর্যায়ে এক চরম শূন্যতার মুখোমুখি হতে হয়। আর তখন জীবনের জন্য কিছু ভ্যালু বা অর্থ (meaning) এর প্রয়োজন হয় যা চূড়ান্ত ভালোবাসা থেকে আসে, ক্ষমা থেকে আসে, সমস্ত দ্বন্দ্বের উর্ধ্বে থেকে আসে।
 

One Outs [রিভিউ] — Naziur Rahman Nayem

One Outs

WRITTEN BY: SHINOBU KAITANI
DIRECTED BY: YŪZŌ SATŌ, TADAO IWAKI
ORIGINAL RUN: 2008-2009
GENRE: PSYCHOLOGY, STRATEGY, WIT, SPORTS
PERSONAL RATING: 9.5/10

এনিমেটি মূলত বেসবলকেন্দ্রিক ও এরসাথে যুক্ত হয়েছে গেম্বলিং ও সাইকোলজিক্যাল বিষয়াদি। এনিমেটির প্রতিটি পর্বে তাই রয়েছে সাইকোলজিক্যাল ও স্ট্র্যাটেজিক্যাল ব্যাখ্যা ও টুইস্ট। এখন তাহলে এর একটু ভেতরে প্রবেশ করা যাক।
 
জাপানের ওকিনওয়া নামক স্থানে যেখানে খেলোয়াড়রা প্রফেশনাল বেসবল থেকে একটু অন্য আঙ্গিকে বেসবল খেলে থাকে। এবং এ খেলাতে চলে মিলিয়ন মিলিয়ন ইয়েনের গেম্বলিং অর্থাৎ জুয়া। এ খেলার নাম তাই বেসবল নয়, এর নাম ওয়ান আউট।
 
খেলার নিয়মও বেসবল থেকে বেশ ভিন্ন। নিয়মটি পিচার অর্থাৎ যে বল ছোড়ে সে যদি নির্দিষ্ট জায়গায় বল ছুড়ে পরপর তিনবার ব্যাটসম্যানকে স্ট্রাইক করাতে পারে তথা মিস করাতে পারে তাহলে তার বিপক্ষে যারা বাজি ধরেছে তার সব ইয়েন তার। অন্যদিকে ব্যাটসম্যান যদি একটি বলও হিট করতে পারে এবং তার বল যদি বেসবলের ইনফিল্ডের সীমানা অতিক্রম করে তাহলে সে জয়ী এবং তার বিপক্ষের ইয়েনগুলো সব তার হয়ে যাবে।
 
তো দুজন বেসবল খেলোয়াড় যারা লায়াকুন টিমের হয়ে প্রফেশনাল বেসবল খেলে থাকে যাদের টিমে একজন পিচারের স্বল্পতা দেখা দিলে ওকিনওয়া গ্রাউন্ডের একজন গেম্বলার তাদের পিচারের সন্ধান দেবার নাম করে তাদের ফিল্ডে নিয়ে গেলে তারা এই জুয়া খেলার খপ্পরে পড়ে যায়। তার আগে একটু বলে নেওয়া ভালো লায়াকুন টিমের সেলিব্রিটি টাইপের একজন খেলোয়াড় আছে যার নাম হল কোজিমা। এই খেলোয়াড়টি হল এমন একজন দূর্ভাগা ব্যাটসম্যান যে সব ধরনের খেলায় জয়ী হলেও নিজের টিমের হয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ ট্রফি জেতাতে পারেনি। তার সারাজীবনের আফসোস এটি।
 
তো লায়াকুন টিমেরই দুজন খেলোয়াড় ওকিওয়া ফিল্ডে গেলে তারা বাজি লাগায় এমন একজন পিচারের বিরুদ্ধে যে কীনা এ পর্যন্ত একটি বাজিও হারেনি। এই পিচারটির নাম হল তকুচি তোয়া। মূলত এই হল এনিমেটির মূল চরিত্র। এ চরিত্রটি সম্পর্কে কিছু বলা যাক।
 
তকুচি তোয়া প্রফেশনালি একজন গেম্বলার ও মানুষের সাইকোলজি সম্পর্কে তার বেশ ধারণা রয়েছে। আর এই ধারণা দিয়ে সে বেসবলের ওয়ান আউট গেমের বাজিতে সকলকে কুপোকাত করে দেয়। তার প্রতিটি বাজির স্ট্র্যাটেজি সাইকোলজিক্যাল ট্রিকে ভরপুর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু সেট করে নিয়ে সে প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়।
 
তো এরপর যথারীতি বাজি শুরু হয়ে যায়। ঐ দুজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন তকুচি’র বিপক্ষে ব্যাটসম্যানের পক্ষ হয়ে ৪০০০ ইয়েনের বাজি লাগিয়ে গো হারা হেরে যায়। এরপর এই সব অর্থ হারানোর ব্যাপারটা জানতে পারে দূর্দান্ত বেসবল ব্যাটসম্যান কোজিমা। সে পরবর্তীতে আসে এর শোধ নিতে ও বেসবল নিয়ে জুয়া খেলে প্রফেশনাল বেসবলের অসম্মান করার সমুচিত শিক্ষা দেবার জন্য।
 
কিন্তু এখানেও সেই তকুচি তোয়ার ট্রিকের কাছে তাকে নাস্তানাবুদ হতে হয় ও ৪ লক্ষ ইয়েন বাজি সে হেরে যায়। এরপর কোজিমা দূরে কোন জঙ্গলে চলে যায় ও সেখান থেকে আরও অনুশীলনের পর ফেরত আসে আবার তকুচি তোয়ার সাথে ওয়ান আউট গেম খেলার জন্য। বলে নেওয়া ভাল যে এ গেমটি আবার তকুচি তোয়ার নিয়মে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ধাঁচে সংঘটিত হয়।
 
তকুচি তোয়া বাজি আগে বলে যে যদি সে তার বল কেবলমাত্র টাচ করতে পারে তাহলে সে জিতে যাবে। এ নিয়ম মেনে নিয়ে কোজিমা তার প্রথম গেম হারার পর আরও অনুশীলন করে আসে দ্বিতীয় গেমের জন্য। গতবারের গেমে চরম অপমানের পর এবারের গেমে সে তার ক্যারিয়ারকে বাজি ধরে। যদি সে হারে তাহলে তাহলে সে বেসবল খেলা থেকে রিটায়ার্ড করবে। আর তকুচি জিতে গেলে কোজিমা তার জুয়া খেলার হাত ভেঙ্গে দিবে।
 
এমন একটা থমথমে অবস্থায় বাজির দুটি বল হয়ে যায় এবং দুটিই স্ট্রাইক হয়। পরবর্তী শেষ বলটির জন্য ওকিনওয়া মাঠের চারদিকে তখন টানটান উত্তেজনা, কী জানি কী হয় কেউ জানে না। যথারীতি তৃতীয় বলটি গেল কোজিমা এবারও বলটি ব্যাট দিয়ে হিট করতে পারলো না। সবাই তকুচির জয়ে যখন লাফাচ্ছে তখন তকুচি বলল কোজিমা জিতে গেছে। কেননা সে ব্যাট দিয়ে বল আঘাত না করলেও হাত দিয়ে বল ঠেকিয়েছে আর নিয়মানুযায়ী বল টাচ করতে পারলেই হল সেটা ব্যাট কিংবা যা দিয়েই হোক না কেন।
 
এ হিসেবে তোয়া স্বীকার করে নেয় যে তার এ খেলার জীবনে এটাই তার প্রথম হার। সে চাইলে তার হাত ভেঙ্গে দিতে পারে। এই বলে সে তার হাত কোজিমার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। কোজিমাও তার হাত ধরে,,,,
 
কী ভাবছেন কাহিনী এটাই,,, না কাহিনী এটা নয়, এটা কেবল কাহিনীর শুরু।
 
কোজিমা, তকুচির হাত ধরে বলে তোমার এ হাত ভাঙ্গার জন্য নয়, এ হাত হলো প্রফেশনাল বেসবল খেলার জন্য। তুমিই আমাদের টিমে খেলবে ও তোমার মনস্তাত্ত্বিক ভেলকীবাজি দেখিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ টুর্নামেন্টে টিম লায়াকুনের হয়ে খেলবে। এভাবে তকুচি তোয়া সুযোগ পেয়ে যায় ওয়ান আউট গেম থেকে প্রফেশনাল গেম খেলার। তারপর কোজিমা টিমের মূল যে ম্যানেজার তার সাথে তাকে বলে তকুচিকপ টিমে নেবার জন্য।
 
কিন্তু ম্যানেজার প্রথমে তকুচিকে নিতে চায় না তার উদভ্রান্ত ও কেয়ারলেসনেস আচরণের জন্য। এরপর তকুচি তোয়া অদ্ভুত এক প্রস্তাব দিয়ে বসে। প্রস্তাবটি হল যতজনকে সে আউট করবে তার প্রতিটি আউটের জন্য তাকে ৫ মিলিয়ন ইয়েন দিতে হবে। অন্যদিকে সে যত রান খাবে তার বিনিময়ে ম্যানেজারকে সে ৫০ মিলিয়ন ইয়েন দিবে। এভাবে একটা ওয়ান আউট কনট্রাক্ট সাইন হয় ম্যানেজার ও তকুচির মধ্যে।
 
ম্যানেজার প্রচন্ড ধূর্ত ও লোভী প্রকৃতির লোক। নিজের টিম বারবার লাস্টে আসার পরও কেবলমাত্র বাজিতে জেতার জন্য সে তকুচিকে যত প্রকার ফাঁদে ফালানো যায় তার ব্যাবস্থা করে। আর তকুচি! সেও কম নয় প্রতিটা ফাঁদের জবাব সে পাক্কা সাইকোলজিক্যাল মাস্টারমাইন্ডদের মত করে একের পর এক ম্যানেজারকে রিটার্ন করতে থাকে।
 
সেইসাথে কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী তরতর করে তার ইয়েন বেড়ে গিয়ে ৪.৬ বিলিয়নে গিয়ে দাঁড়ায়।
 
এখন হয়তো ভাবছেন আমি স্পয়লার দিয়ে ফেলছি। কিন্তু নাহ! এ এনিমের স্পয়লার দেওয়া মোটেই সম্ভব নয়। কারণ কীভাবে তকুচি তোয়া ট্রিক প্রয়োগ করে ভেলকী দেখাচ্ছে তার বিশ্লেষণ এই এনিমে না দেখলে আপনারা বুঝতেই পারবেন না। কিছুটা শার্লক হোমসের মত অপরাধী কে তা আন্দাজ করা গেলেও কীভাবে যে অপরাধী নির্দিষ্ট ব্যক্তিটিই হবে তার ব্যাখ্যার জন্য আপনাকে শেষ পর্যন্ত যেমন গল্পগুলো পড়তে হয়, তেমনভাবে এই এনিমে আপনাকে শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে।
 
মোট ২৫টি এপিসোড রয়েছে এ এনিমেটিতে। তবে শেষে এটা যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়। এরজন্য আপনার মাঙ্গা কমিক পড়তে হবে। তাহলে আপনি শেষ অব্দি কী হল এই কৌতূহল মেটাতে পারবেন।
 
এই এনিমেটি দেখতে দেখতে অনেক নতুন নতুন সাইকোলজিক্যাল পার্সপেক্টিভ আমি খুঁজে পেয়েছি। এনিমেটির মাঝে কোন রংচংয়ে ব্যাপার নাই, কোন ইমোশনের আদিখ্যেতা নাই। পুরোদমে প্রাকটিকাল ও স্ট্র্যাজেজিক্যাল। আর ব্যাখ্যার কথা কী আর বলব! এককথায় অসাধারণ। এনিমেটি দেখতে দেখতে বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল চীনা দার্শনিক লাওৎসু ও “Art of War”- এর লেখক সানজু’র কথা।
 
আর মনে পড়বে নাইবা কেন এইসব ট্যাকটিকগুলোর জন্য তো এনারা ওস্তাদ। কিছু কিছু মার্ক করে রাখবার মত। নিচে একটু উল্লেখ করছি সেগুলো-
 
তকুচি তোয়াকে যখন তার টিমমেটরা এসে তাদের বিপক্ষদলের অতীতের বীরত্বপূর্ণ রেকর্ড দেখাচ্ছিল ও এরকম বলাবলি করছিলো যে, ওরা এত ভালো খেলে, আমরা কী পারব ওদের সাথে? এমন সময় তকুচি বলে যে, ” দেখো তোমরা আজকে যাদের সাথে খেলতে নামবে ওরা হল আজকের দল।
 

যেগুলো তোমরা আমায় দেখাচ্ছো ওগুলো অতীতের কাহিনী। তাই আমাদের প্রতিযোগিতা অতীতের টিমের সাথে নয়, আজকের টিমের সাথে। তাই অতীতের রেকর্ড ঘেঁটে ভীত না হয়ে বরং আজকের ওদেরকে দেখো ও ওদের দূর্বলতাগুলো খুঁজে বের করো। অতীত দেখে বৃথা আতঙ্কিত হয়ে ওদের আজকের দূর্বলতাকে দৃষ্টিগোচর হতে দিও না।

 

আরেক জায়গার একটি ঘটনাতে যখন লায়কুন টিম এখনও জিতে নি তবে জিতে যাবে এমন একটি মুহূর্তে টিমের সবাই উল্লাস করতে আরম্ভ করে দিলো তখন তকুচি তাদেরকে বলে, “আমরা এখনও জিতে যাইনি বিজয়ের আগে বোকারাই তা সেলিব্রেট করে।” এখানে এই কথাটা সানজু’র আর্ট অব ওয়ারের সাথে মিলে যায়।

 
সবশেষে একটা চরম ট্রিকি টিমের সাথে লায়াকুন টিমের খেলা হয়। এটা ছিল তাদের হোম গ্রাউন্ড। ফলে তারা পুরো স্টেডিয়ামে তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে রেখেছিল। এটা টিমের প্রায় সবাই জেনে বিপক্ষ টিমকে দোষারোপ করলেও তকুচি বলে যে তাদের ওপর দোষারোপ না করে ওদের চালাকি ও ষড়যন্ত্রকে কীভাবে ওদের থেকে ভালো কোন ট্রিক দিয়ে কিংবা বলা যায় চোরের উপর বাটপারি অথবা টিট ফর ট্যাট আকারে কীভাবে ফেরত দেয়া যায় তা করাটাই সমীচিন।
 
এভাবে দূর্বল হয়ে দোষারোপ করলে ওদের এতে কিছু যাবেও না আসবেও না; উল্টো আমরা চ্যাম্পিয়নশীপ থেকে বেরিয়ে যাবো। তাই খেলায় জিততে হলে ওইভাবে তোমাকে জাল বিছাতে হবে।
 
এতক্ষন যা বললাম তা কিছুই নয়। এ এনিমের মূল আকর্ষণ হলো এর সাইকোলজিক্যাল ব্যাখ্যাগুলো। আর প্রতিপক্ষকে কীভাবে হতভম্ব করে দেয় তকুচি তা দেখবার মত।
 
সবশেষে এই এনিমেটি বেসবল খেলাভিত্তিক হলেও এর প্রতিটি মুহূর্তে আপনি থ্রিল, রোমাঞ্চ, রহস্যের স্বাদ পাবেন। একটা স্পোর্টস জনরার এনিমেকে যেভাবে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার আকারে রূপ দেওয়া হয়ে হয়েছে তা সত্যিই অনবদ্য।

Violet Evergarden [রিভিউ] — Naziur Rahman Nayem

 

খুব সুন্দর একটি এনিমে। মূলত দেখতে বসেছিলাম ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো শোনার জন্য। কিন্তু এখান থেকে কিছু ইন্টারেস্টিং বিষয় শিক্ষা করা গেলও বটে।

মানুষের চরিত্রগুলো রহস্যময় হয়ে ওঠে তার ভাবের কারণে। যৌক্তিকভাবে সব সোজাসাপটা কথা বলে দিলে মানুষে মানুষে সম্পর্কটা কেমন পানসে হয়ে ওঠে। আমরা যখন একে অপরের সাথে কথা বলি তখন এর শব্দের মাঝের অর্থ বুঝতে হয়। অথচ এটা যদি বলে দেওয়া হয় তখন সে ম্যাজিক আর কাজ করেনা।

এরজন্য যে দক্ষতাটার প্রয়োজন হয় তা হল ইনটুইশনাল দক্ষতা। তোমাকে আমি যা বলছি তা হুবুহু বলছি না বরং এর মাঝের আমার ভাবটা তোমায় দেখতে হবে এবং তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেখতে হবে তবেই না তুমি একটি সুন্দর চিঠি, সুন্দর বার্তালাপ করতে পারবে। অতিরিক্ত বুদ্ধিপ্রবনতা তথা মেকানিকাল প্রবণতা দিয়ে হৃদয়গত ইনটিউশন ধরা যায় না; যেমনটা এই এনিমের শুরুতে ধরতে পারেনি ভায়োলেট এভারগার্ডেন। কিন্তু ধীরে ধীরে “I Love You” বাক্যটির অর্থ খুঁজতে গিয়ে সে যে বিষয়গুলো অতিক্রম করে অবশেষে খুঁজে পায় তার উত্তর তা সত্যিই চমৎকার।

যন্ত্রগত ধাঁচে গড়ে ওঠে মানুষ তার হৃদয়টাকেই খুইয়ে বসে। এখানে সেই খুইয়ে বসা হৃদয়কেই পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছে ভায়োলেট তার মেজর গিলবার্টের ভালোবাসার অর্থ অনুসন্ধান করতে যেয়ে।

এই এনিমেতে যে চিঠি লেখার যে প্রফেশন দেখানো হয়েছে তা সত্যিই বেশ সৃষ্টিশীল। একজন মানুষের বাক্যের মাঝের ভাবগুলোকে বুঝে তার হয়ে চিঠি লেখা সত্যিই দারুণ।

এরজন্য প্রচুর এমপ্যাথিক্যাল(সহমর্মিতাসম্পন্ন) হৃদয় লাগে। একটা আনন্দও আছে। অন্যের ঘটনাগুলোকে নিজের মাঝে প্রবেশাধিকারের অনুমতি দিয়ে সেই ঘটনাগুলির, ভাবগুলির আনন্দ, সুখ, বেদনা, দুঃখ ইত্যাদি দেখা, অনুভব করা ও তাতে সমৃদ্ধ হওয়া; এই শত মানুষের জানালা দিয়ে দেখা পৃথিবী আমাদের ভেতর যখন আমরা দেখতে পাই আমরা সহমর্মী হয়ে উঠি, অন্যের মাঝে আমাকে খুঁজে নিই। তখন যাকে হারিয়েছে তাকেও মনে হয় সে কখনো চলে যায়নি আমার কাছ থেকে আমার পাশেই সে দাড়িয়ে আছে; যেমনটা ভায়োলেট উপলব্ধি করেছিল এই এনিমেটির শেষে।

এজন্যই হয়তো মাঝে মাঝে ভাব প্রকাশের জন্য বড় বড় লেখা, কঠিন শব্দ কিংবা বাক্য এসব নয় খুব ছোট্ট করে, এক লাইন কিংবা এক শব্দেও গভীর অনুভূতি বলে দেওয়া যায়। যা হয়তো লক্ষ, কোটি মানুষ পেরিয়ে দুজন মানুষকে কাছে এনে দেয়, নিঃশব্দতায় ফেলে দেয়।