Ouran High Host Club [রিভিউ] — Mahedi Hasan

Ouran

Anime: Ouran High Host Club
Episode: 26
Genre: Comedy, Harem, Romantic
Rating: (আমার কাছে) 6.8/10

আমাদের আশেপাশেই এমন কিছু শিক্ষার্থী থাকেন যারা আমাদের শান্তির ঘুম হারায় করে দেন । কারণ, তারা ভাল ফলাফল করেন আর তার জন্য আমাদের বকা খেতে হয় ।
কেমন হবে যদি এই ব্রিলিয়েন্টদের শায়েস্তা করা যেত ?

এমন ই এক ব্রিলিয়েন্ট এর নাম হল হারুহি ফুজিওকা (Haruhi Fujioka)। এই মেয়ে টার কাজ একটাই!!!পড়া! পড়া! পড়া!
যে সেই বই না। ক্লাস এর প্রতিটি টেক্সট বই সে মুখস্ত করবে।

এ এনিমে তে যে স্কুলের কথা বলা হয়েছে তা আমাদের দেশের বুয়েটের সাথে তুলনা করতে হবে। (এতে আপনার কাছে বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হবে। কিন্তু বুয়েট ভাববেন না) এনিমে তে এটিকে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়েছে। যেখানে শুধু মাত্র ধনী লোকের ছেলে-মেয়েরা পড়তে পারেন। এখানে পড়াশোনা চেয়ে আরাম-আয়েশ বেশি। গরীবের সন্তানের জন্যও এখানে জায়গা আছে। কিন্তু প্রতি বছর একজন করে শিক্ষার্থী নেওয়া হয়। এ বছর তাদের একজন হচ্ছেন আমাদের এই হারুহি।

হারুহি ফুজিওকার পরিবার সচ্ছল নয়। সে তার পরিবারের একমাত্র সন্তান। ছোট বেলা থেকেই তার স্বপ্ন বড় হয়ে নিজের পায়ের উপর উঠে দাড়ানো। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সে পড়ুয়া হয়ে ওঠে। না, সে খারাপ শিক্ষার্থী তা না। বরং অনেক মেধাবী।

সে আজ হাই স্কুল এ পড়ে। একদিন শান্তিতে পড়াশোনা করার জন্য সে ওরান হাই একাডেমী এর লাইব্রেরিতে যায়। কিন্তু সেখানে ছেলে মেয়ে রা বইপড়ার নামে গল্প করছে। হারুহি এতো সোরগোলে পড়তে পারল না। এজন্য সে সিদ্ধান্ত নিল যে, সে এমন জায়গায় পড়বে যেখানে কেউ তাকে বিরক্ত করতে পারবে না।

হারুহি ফুজিওকা চলে গেলেন ওরান হাই একাডেমী এর 3 নম্বর মিউজিক রুমে । এ রুম অনেক দিন ধরেই পরে আছে । কেউ এর ধারের কাছেও আসে না । কিন্তু রুমের দরজা খোলার সাথে সাথেই হারুহি ফুজিওকা পেলো নতুন এক জীবন ও পরিচয় । কি ছিল ঐ রুমে ?

রুমে ঢুকে সে দেখতে পেল কয়েক জন ছেলে তাকে উষ্ণতার সাথে গ্রহণ করল । তারা হারুহিকে নানা ভাবে আপপায়ন করতে থাকে । কিন্তু এটি হারুহির মোটেও ভালো লাগলো না । কারণ, সে এখানে পড়তে এসেছে । তার সময়ের মূল্য আছে ।

এক পর্যায়ে সে দেখতে পেল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট টামাকি কে । টামাকি নাছড়বান্দা , সে বিভিন্ন ভাবে হারুহিকে আপপায়ন করে। এতে হারুহি বিরক্ত হয়ে যায় । এতে সে ভয় পেয়ে আরেক কাহিনী রচনা করে । ক্লাবের সামান্য একটা শো-পিচ ভেঙ্গে ফেলে । তা দাম কত এই শো-পিচের ? 45,000,000 টাকা (ইয়েন)!!!!

বেচারা হারুহি এতো টাকা পাবে কোথায় ? সে টাকার অভাবে স্কুল এর ইউনিফর্ম কিনতে পারে না । আর সে দিবে এত জরিমানার টাকা !

কিন্তু ক্লাবের ম্যানেজার কিঊই বলে তাকে এখনই টাকা পরিশোধ করতে হবে । এ কথা শুনে হারুহি ভয়ে সাদা হয়ে যায় । হারুহির এ অবস্থা দেখে তারা তাকে বিশেষ অফার দেয় ! অফারটি হল, ” হারুহি কে এই ক্লাবের সদস্য হতে হবে পাশাপাশি পুরানো সদস্যদের কাছে দাস হয়ে থাকতে হবে ।

হারুহি রাজি না হয়ে পারে না ।
হারুহি হয়ে গেলেন তাদের দাস ও ক্লাবের সদস্য ।

ক্লাবের নাম হল ওরান হাই হোস্ট ক্লাব । এই ক্লাবের সদস্যদের কোনো কাজ নেই। কিন্তু উদ্দেশ্য একটাই, ক্লাবে যারা বেড়াতে আসে তাদের বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা করা। এজন্য তাদের আপনি বিভিন্ন পোষাকেও দেখতে পারবেন । আসলে যারা বেড়াতে আসেন তাদেরও কোন কাজ নেই! আসবেই না কেন, এখানে তাদের সময়টাও ভালো যায় । এখানে প্রায়ই মেয়েরা এসে থাকেন । তাদেরকে খুশি ও আনন্দ দেয়ার জন্য এই ক্লাবের সদস্যরা বিভিন্ন কার্য কলাপ করে থাকে ।

আসুন, দেখি তারা কে কি করে????

এই ক্লাবের অন্যতম সদস্য ও প্রেসিডেন্ট টামাকি এর কাজ এই ক্লাবে আসা সবাইকে খুশি করানো । এ আবার কেমন কথা? কিন্তু লাইফে কাউকে খুশি করানো চারটি খানি কথা না। এনিমেতে নানা অংশে খুব ভালো করে তা উপলব্ধি করা যাবে ।

ক্লাবের ম্যানেজার কিঊই হলেন চতুর ও ভয়াবহ মেধাবী ছাত্র । ক্লাবের লাভ লোকসান সে নিজেই সামাল দেয় । কিন্তু অন্যান্য সদস্যদের মত সে পাগল নয় । একটু ভদ্র ভদ্র ভাব আছে তার । আলাদা থাকতে বেশি পছন্দ করেন ।

দুই যমজ ভাই আছে! নাম হিকারু ও কারু । এনিমেতে এই দুই ভাইকে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ কার্যকলাপ করতে দেখবেন ।

3য় বর্ষের ছাত্র আছে এখানে । হানি সেনপাই এর চেহারার সাথেই তার রুচি নিহিত । সে কেক ও পেস্টি খেয়ে থাকে ।
তার বন্ধুর নাম মরি সেনপাই । তিনি গুরুগম্ভীর এবং কম কথা বলেন। কিন্তু তার মধ্যে জেন্টাল জেন্টাল ভাব আছে ।

আর কি ধরনের পাগলামী করে তা আপনারা নিজেরাই এনিমেতে দেখে নিন । আমি বেশি কথা বললে সব কাহিনীই ফাঁস হয়ে যাবে ।

এরকম অদ্ভুত সদস্যদের হাতে আটকা পড়েছে আমাদের ব্রিলিয়েন্ট শিক্ষার্থী হারুহি ফুজিওকা । সে কি তার জরিমানা শোধ করতে পারবে? নাকি আজীবন এদের দাস হয়ে থাকবেন? বন্দি এ কারাগারে কিভাবে বেঁচে থাকবেন হারুহি তা জানার জন্য আপনাকে এই এনিমেটা দেখার জন্য অনুরোধ রইল ।

Ouran Highschool Host Club রিভিউ — Mithila Mehjabin

প্রথমে যখন এই এনিমে টা দেখতে শুরু করলাম, মেজাজটা খুব খারাপ হচ্ছিল, কারণ সহজকথায়, এহেন ছাগলমার্কা এনিমে আর দেখিনি।
আর যখন দেখা শেষ করলাম তখনও মেজাজ খারাপ হচ্ছিল, কারণ পাগলামি-ছাগলামি যে এত মজার হতে পারে, তার নমুনাগুলো আর দেখা হবেনা…!

হ্যা…বলছি Ouran Highschool Host Club এর কথা!
আসলে এই এ্যানিমে সম্পর্কে বেশী কিছু বলতে গেলে Spoiler হয়ে যায়…আর না বললে বোধহয় অবিচার হয়ে যায়..তাই একটুকিছু বলা উচিৎ..
কাহিনীর শুরু এরকম: ধনী এবং উচ্চবংশীয় ছেলে-মেয়েদের অভিজাত স্কুল Ouran Academy তে স্কলারশিপ পাওয়া একজন মধ্যবিত্ত স্টুডেন্ট Haruhi Fuziwoka পড়ার সুবিধার্থে একটু নিস্তব্ধতার আশায় একটি পরিত্যাক্ত মিউজিক রুম এ ঢুকে পড়ে, এবং অবাক হয়ে যায় ৬ জন অত্যন্ত ধনী এবং উচ্চবংশীয় স্টুডেন্ট তাকে ওয়েলকাম করছে দেখে, যা সে মোটেই আশা করেনি। সেখানে সে জানতে পারে যে এই ৬ জন স্টুডেন্ট মিলে গড়ে তুলেছে একটি হোস্ট ক্লাব, Ouran Highschool Host Club, যেখানে উচ্চবংশীয় সুদর্শন হোস্টরা অনেক অবসর সময় নিয়ে সেসকল উচ্চবংশীয় মেয়েদের এন্টারটেইন করে যাদের হাতেও অনেক অবসর সময় রয়েছে! পুরো ব্যাপারটাই Haruhi’র কাছে খাপছাড়া লাগে, কিন্ত ঘটনাচক্রে একটা অত্যন্ত দামী ভাস্ ভেঙে ফেলায় তার দায় মেটানোর জন্য তাকে বাধ্য হয়েই ক্লাবটিতে জয়েন করতে হয়। প্রখমে তাকে ঠুনকো কাজ করার জন্য রাখা হলেও পরে সে যে অত্যন্ত কাওয়াই, সেটা আবিষ্কার করে ক্লাবের হেড তাকে হোস্ট হিসেবে নিয়োগ করে, তারপর একটি চমক, এবং এখান থেকেই গল্পটির যাত্রা শুরু….:)

জীবনে যে হাসেনাই, এই এনিমেটি দেখে এমনকি সেও হাসতে বাধ্য! 😀

এনিমেটা মূলত কমেডি, তবে হালকে রোমান্স এর ছোয়াঁটা খুবই আবেদনময়। হোস্টক্লাবটির হেড Tamaki Suo এবং অন্যন্য সদস্য…Kyoya Outory, Hikaru এবং Kaoru Hitachi, Hanni Nozuka, Mory Nozuka এবং Haruhi Fuziwoka…এদেরকে ঘিরে যত কীর্তিকারখানাই এনিমেটার কাহিনী।

এনিমেটাতে মূলত বড়লোকদের বড়লোকীয় কাজকারবারের অর্থ বুঝতে অনভিজ্ঞ একজন মধ্যবিত্তের মিশেলে অম্ল-মধূর মুহুর্তগুলোর মধ্য দিয়ে দু’দলের কাছে পরস্পরকে বোঝার এবং পরস্পরের কাছে পরস্পরের প্রয়োজনীয়তা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। এই আদর্শটিই এনিমেটাকে আরও ইন্টারেস্টিং করে তুলেছে… 🙂

২৬ টি এপিসোড এর এনিমেটাতে পাগলামি-ছাগলামির কোনো অভাব নেই! ডাব এবং সাব দুটোই আছে। তাড়াহুড়ো করে দেখতেও মন চাইবে না…যখন খুশি তখন দেখাতেও মজা বাড়বে বৈ কমবে না।

সো, হাতে অবসর থাকুক বা না থাকুক, যারা দেখনি তারা দেখে ফেলতে পারো! এনিমেটা যদিও নতুন নয়, আর এর একেকটা পর্ব দেখা মানেই অবসর সার্থক! বলে রাখা ভালো, এনিমেটার আসল স্বার্থ জাস্ট্ ফান্ …আর কিছু নয়। 🙂

এনিমেটা নতুন কিছু নয়, তারপরও এতকিছু লিখে যাদের বিরক্তি ধরিয়ে ফেললাম, তাদেরকে আগে থেকেই সরি বলে রাখছি! গোমেন্নাসাই!

Arigatou Minna!