Perfect Blue [মুভি রিভিউ] — শতদ্রু তালুকদার

perfect-blue

চিন্তা করুন, আপনি মানসিকভাবে এতোটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে আপনার পক্ষে ঠিক কল্পনা আর বাস্তবতা আলাদা করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। প্রতিটা দিনই আপনার কাছে বাস্তবতা আর কল্পনা মিলেমিশে ঘুরপাক খেয়ে যাচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে ততটাই আপনি এই কল্পনা-বাস্তবতার ঘুরপাকের অতলে তলিয়ে যাচ্ছেন।

Perfect Blue মুভিটার কাহিনীও মূলত তেমনই। মুভিটার প্রোট্যাগনিস্ট Mima Kirigoe একজন পপ আইডল গ্রুপের মেম্বার, নিজের ক্যারিয়ারকে আরও গড়ে তোলার করার জন্য সে পপ গ্রুপ ছেড়ে নিজেকে একজন এক্ট্রেস হিসেবে মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই তার কাল হয়ে দাঁড়ায়। একে একে তার সাথে এবং তার পরিচিতদের চারপাশে নানান রহস্যময় ঘটনা ঘটতে থাকে। এক পর্যায়ে Mima মানসিকভাবে এতোটাই ভেঙ্গে পড়ে যে তার পক্ষে আর কল্পনা-বাস্তবতা আলাদা করা সম্ভব হয় না। ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ থেকে খারাপতর হতেই থাকে। তার মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হওয়া কিংবা তার মানসিক বিপর্যস্ততা থেকে কাটিয়ে ওঠা, তার চারপাশের রহস্যময় ঘটনাগুলোর খোলাসা করা নিয়েই “Perfect Blue” অত্যন্ত চমৎকার একটা এনিমেটেড মুভি।

আপনি যদি অনেকদিন ধরে বেশ ভালো কোন থ্রিলার দেখার অপেক্ষায় থাকেন তাহলে আপনার জন্য Perfect Blue হাইলি রিকমেন্ডেড। মুভিটার টুইস্ট এন্ড টার্নগুলো আপনাকে ভাবাবে, মুভি শেষ হওয়ার পরও বেশ ভাবাবে। প্লাস বোনাস হিসেবে মুভিটা Paprika বা Millennium Actress এর জন্য সুপরিচিত Satoshi Kon এর ডিরেক্ট করা মুভি।

আমার রেটিং –

স্টোরি – ১০/১০
মুভিটার স্টোরি এতোই সুন্দর করে বিল্ডাপ করা হয়েছে যে আপনি না চাইলেও নিজেকে Mima’র অবস্থায় চিন্তা করবেন। Mima’র প্রতিটা চিন্তা আপনি চিন্তা করবেন, ওর প্রতিটা অবস্থা আপনাকে ভাবাবে। মোটকথা Mima’র সাথে আপনি সারা মুভি জুড়ে বলা যায় এক প্রকার একাত্ম হয়ে থাকবেন।

এনিমেশন – ৯/১০
১৯৯৭ এ রিলিজ হওয়া মুভির এনিমেশনের সাথে আজকের এনিমেশনের আলবত কিছু পার্থক্য থাকবেই, তবুও মুভিটা দেখার সময় আপনি স্টোরিতে এতোই ঢুকে থাকবেন যে এনিমেশন তেমন কোন ম্যাটার করবে না।

ক্যারেক্টার – ১০/১০
প্রোট্যাগনিস্ট হিসেবে Mima’র ক্যারেক্টার বিল্ডাপ আমার কাছে এতোটাই ফ্ললেস লেগেছে যে তা নিয়ে ঠিক নতুন কিছু বলার নেই। পাশাপাশি আরও নানান সাপোর্টিং ক্যারেক্টারদেরও চমৎকারভাবে মুভিটাতে উপস্থাপন করা হয়েছে। Satoshi Kon এর ডিজাইন করা ক্যারেক্টার, এটা বললেই আর ঠিক অন্য কিছু বলা লাগে না।

মিউজিক – ৯/১০

মুভিটার সাউন্ডট্রাকগুলো, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার খুবই চমৎকারভাবে করা হয়েছে। মুভিটার ভৌতিক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো মুভিটা শেষের পরও আপনার কানে বাজতে থাকবে । (Three cheers for Masafumi Mima!!!)

ওভারঅল – ৯.৫/১০
ইয়েপ মুভিটা নিঃসন্দেহে ৯.৫ থেকে ১০ পাওয়ার দাবিদার।

বিঃদ্রঃ মুভিটাতে কিছু নুডিটি, কিছুটা ভায়োলেন্স আছে। তাই ইয়ঙ্গার ভিউয়ারদের জন্য viewer discretion is advised.

কন আর্ট – স্বপ্ন, বিভ্রম আর চলচ্চিত্রের প্রতি প্রেমপত্র — Fahim Bin Selim

১৮ মে, ২০১০।

টোকিওর মুশাশিনো রেডক্রস হাসপাতালে সাতোশি কনের মৃত্যুপাঠ পড়ে শোনানো হল। সাথে ড্রিমিং মেশিন-এরও – স্ক্রিপ্ট আর ১৫০০ এর মধ্যে ৬০০ শট সম্পূর্ণ হওয়ার পরও – কারণ কাপ্তান কন তখন আর তার হাল ধরে থাকার মত অবস্থায় ছিলেন না – তাঁর দর্শন নিয়ে,  নির্দেশনাশৈলী নিয়ে – যে জাহাজ একমাত্র তিনিই সৈকতে ভেড়াতে পারতেন। তিনি যদিও আরও ৩ মাস বেঁচে থাকবেন, কখনো হাসপাতাল বিছানায়, কখনো নিজের বাসার; ক্যান্সারের আক্রমনে ক্রমাগত হার মানতে থাকা অগ্ন্যাশয় নিয়ে। একেবারে কাছের আত্নীয় আর সহকর্মী ব্যতীত বাকিদের কাছ থেকে এ খবর অজানা থাকবে একেবারে শেষ দিন পর্যন্ত।

এই টোকিওর মুশাশিনো আর্ট ইউনিভার্সিটিতেই সাতোশি কনের হাতেখড়ি, গ্রাফিক ডিজাইনিং এর উপর। যদিও তার জন্ম আর বেড়ে ওঠা হোক্কাইদোর সাপ্পোরোতে। ছোটবেলায় কনের সময় কাটতো ফিলিপ কে. ডিক(Blade Runner) আর ইয়াসুতাকা সুতসুই(The Girl Who Leapt Through Time, Paprika) এর সাই-ফাই উপন্যাস পড়ে, আর দেশী-বিদেশী চলচ্চিত্র দেখে – বিদেশীই বেশি। ১৯৭৪ সালে, কন খুঁজে পেলেন তাঁর পছন্দের দুইটি জিনিসের সংমিশ্রণ – সাইন্স ফিকশনের অবাধ্য কল্পনাশক্তি আর তার সাথে অ্যানিমেশনের চলচ্চৈত্রিক স্বাচ্ছন্দ্যতা, একই কাপে – স্পেস ব্যাটলশীপ ইয়ামাতোতে। সাতোশি কন অ্যানিমের প্রেমে পড়ে গেলেন।

 

অবশ্য তাঁর পেশাদারিত্বের শুরুটা হয়েছিলো মাঙ্গা দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই কনের প্রথম মাঙ্গা – Toriko(১৯৮৪) – কোদানশার তেৎসুয়া চিবা অ্যাওয়ার্ডে রানারআপের পুরস্কার পেয়ে গেল। সাথে তাঁর সুযোগ মিলল কাৎসুহিরো ওতোমোর(Akira, Patlabor, Memories) সহকারী হয়ে যাওয়ার। কন পরবর্তীতে শুধু মাঙ্গাতেই না, স্ক্রিপ্টরাইটার, অ্যানিমেশন ডিরেক্টর হিসেবে ওতোমোর বেশ কয়েকটি অ্যানিমে চলচ্চিত্রের কাজেও সহযোগী ছিলেন। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ১৯৯৫ এর তিনখন্ডের ওভিএ Memories-এর Magnetic Rose অংশ। কন তার প্রথম সিরিয়ালাইজড মাঙ্গা প্রকাশ করে্ন ১৯৯০ তে; Kaikisen – এর কাগজে কাগজে, সাদাকালোর কালির আঁচড়েও তার অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফির পরিচয় পাওয়া যাবে, যা পরবর্তীতে তার অ্যানিমে চলচ্চিত্রগুলোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে পরিচিতি পায়।

027 028

আর এর প্রথমটি ১৯৯৭ এর Perfect Blue। ইয়োশিকাজু তাকেউরার উপন্যাস অবলম্বনে তৈরী এ চলচ্চিত্র প্রথমে হওয়ার কথা ছিলো লাইভ-অ্যাকশনে। পরে কনের হাতে দায়িত্ব পরে ম্যাডহাউজের হয়ে এর অ্যানিমেটেড ওভিএ তৈরি করার। কন দায়িত্ব নিলেন ঠিকই, কিন্তু কাহিনীর মূল অংশ – আইডল, স্টকার আর হ্যালুশিনেশন – কেবল ঠিক রেখে গল্পের পুরো কাঠামোই বদলে নিলেন নিজের মত। যাতে যোগ হল সেসময়কার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা পেতে থাকা ইন্টারনেট। নিজের প্রিয় Slaughterhouse-Five বই থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে  Perfect Blue-র গল্প কন বললেন অনেকটা অসংযুক্ত আখ্যানে। যেখানে সময় কেবল সরলরৈখিক না, আর এতে দেখানো ঘটনাও ধ্রুবসত্য না। তা ব্যক্তি আপেক্ষিক। কল্পনা, স্বপ্ন, অবচেতন – সবই ব্যক্তির সময়ের অংশ, বর্তমান-এর অংশ।  পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলোতেও যা ঘুরেফিরে এসেছে।

ma

ওভিএ হিসেবে না, ম্যাডহাউজ Perfect Blue-কে মুক্তি দিলো প্রেক্ষাগৃহেই। প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েই কন পেয়ে গেলেন দেশি-বিদেশি সমালোচকদের প্রশংসা, । Perfect Blue ডাক পেল বিভিন্ন দেশের ফিল্ম-ফেস্টিভ্যালগুলোয় – পেল তাৎক্ষনিক কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা আর চিরদিনের জন্য কালজয়ী সব সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার মুভিদের পাশে স্থান।

2

চলচ্চিত্র-প্রেমিক কনের প্রথম মুভিতেই তুলে আনলেন বিনোদন-জগতের অন্ধকার দিক। যদিও ঠিক সামাজিক-ভাষ্য প্রদান  বা সমালোচনা   কখনোই তার মূল উদ্দেশ্য ছিলো না। Perfect Blue নিয়ে কনের চিন্তাভাবনা, আর মূলচরিত্র মি্মা কিরিগোয়ের পতন নিয়ে বরং সমান্তরাল টানা যায় । গল্পে মিমা সাধারন এক পপ-আইডল থেকে যতই বিনোদন জগতের উপরের তলায় আরোহণ করতে থাকে – মানসিক আর শারীরিক বিভিন্ন ত্যাগ সহ্য করে – ততই তার কাছে চেতন আর অবচেতনের বিভেদ ভাঙ্গতে শুরু করে। তার আকাংক্ষিত স্বপ্নালোক বিভীষিকায় রুপ নেয়।

আমি যখন Perfect Blue এর কাজ শুরু করি তখন আমার উদ্দেশ্য ছিল ইতিবাচক কিছু বানানো। কিন্তু আমি যতই সামনে আগাতে থাকলাম, ততই  গল্পটা আরো নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছিলো, আর গম্ভীর হয়ে যাচ্ছিলো। একদিক দিয়ে এটা নিয়ে আমি বেশ অসন্তুষ্ট ছিলাম। [১]

 

চলচ্চিত্রের প্রতি কনের ভালোবাসার প্রকাশ তার অন্য মুভিগুলোতেও বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে(Tokyo Godfathers একমাত্র ব্যতীক্রম)। Paprika(2005)-‘র স্বপ্ন আর বাস্তবতা একাকার হওয়ার গল্পে নায়ক কানোকাওয়া পেশায় গোয়েন্দা হলেও, ছিলো ফিল্মস্কুলের ছাত্র। তাই তো তার ঘুমের মাঝে হানা দেয় যৌবনের অপূর্ণ বাসনা – নিজেকে সে আবিষ্কার করে তার প্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর নায়কের ভূমিকায় – কখনো Tarzan-এ, From Russia With Love-এ, অথবা Roman Holiday-তে; কখনো বা আবার পরিচালক হওয়ার প্রচেষ্টায় ব্যার্থ কানোকাওয়া নিজেকে কল্পনা করে স্ব্য়ং আকিরা কুরোসাওয়ার জায়গায়!paprika5

তবে চলচ্চিত্রের প্রতি কনের অকৃত্রিম ভালোবাসার সবচেয়ে বড় নিদর্শন তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র, তার সবচেয়ে সমালোচক-প্রশংসিত-ও, ২০০১ সালের Millennium Actress।

 

Perfect Blue নিয়ে কনের যে অসন্তুষ্টি ছিলো, তা দূর করার উদ্দেশ্যেই Millennium Actress-এর আগমন। এ দুটো মুভিকে যেন এক জোড়া, একই মুদ্রার দুই পিঠ। সাতোশি কন ফিরিয়ে আনলেন তার পুরোনো সেই মূল থিম – আইডল  আর অ্যাডমায়ারার-এর গল্প – কিন্তু এবার সম্পর্কটা অবশেসন এর না, বরং প্রকৃত ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার। কনের  আকাংক্ষিত ইতিবাচক এক ছবি।

আমি যখন প্রযোজকের সাথে Millennium Actress এর কাজ হাতে নিলাম, তখনই আমার লক্ষ্য ছিল আইডল-অ্যাডমায়ারার নিয়ে আরেকটি গল্প বলা। যেন  এদুটি সহোদর চলচ্চিত্র হবে।

শুধু গল্পের দিক দিয়েই না, আখ্যানেও Millennium Actress ছিলো Paprika আর Perfect Blue-‘র মত আনঅর্থডক্স(Tokyo Godfathers এখানেও ব্যতীক্রম!)। পাশাপাশি ভিজুয়ালেও কন নিয়ে আসলেন সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক সিনেমাটিক টেকনিক – Trompe-l’œil. দ্বিমাত্রিক চলমান ছবি দিয়ে ত্রিমাত্রিক বিভ্রম তৈরী করার এর চেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরন হয়তো বড় পর্দায় আর খুব বেশি পাওয়া যাবে না। Millennium Actress তার ৮৭ মিনিটের ব্যপ্তীকাল জুড়ে এক অনবদ্য ট্যুর-ডি-ফোর্স। চিয়োকো ভেসে বেড়ায় স্থান-কাল আর বাস্তব-রুপালী পর্দার রেখার উপর দিয়ে – কুরোসাওয়ার[২] এডোতে, মাঞ্চুরিয়ার প্রোপাগান্ডায়, যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া শহরে, ওযুর[৩] কোন প্রথম-গ্রীষ্ম অথবা বসন্ত-শেষের টোকিওতে, আবার অনেক অনেক দূরের কোন ভবিষ্যতের এক মহাকাশযাত্রায়।

Millennium Actress, সেতসুকো হারা[৪] আর হিদেকো তাকেমিনে[৫] – জাপানের দ্বিতীয় সহস্রাব্দের কালজয়ী সব নায়িকাদের প্রতি সশ্রদ্ধ-স্বীকৃতি, একই সাথে জাপানের ইতিহাস, তার চলচ্চিত্রের ইতিহাসের প্রতি “অ্যাডমায়ার” কনের প্রেমপত্র। সাতোশি কনের আর বাকি সব চলচ্চিত্রগুলো মতই তাতে লজিক গুরুত্বপূর্ণ না, ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মধ্য থেকে কোন বার্তা খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ না – এখানে যাত্রাটাই মুখ্য বিষয়।  আর এ যাত্রা এক অতুলনীয় অভিজ্ঞতা – যা বইয়ের পাতায় পাওয়া সম্ভব না, গানের সুরে পাওয়া সম্ভব না, মানব অভিনীত চলচ্চিত্রেও পাওয়া সম্ভব না।

 

নিশ্চিতভাবেই এই ধারা Dreaming Machine-এও বজায় থাকতো – যেমন কন তার দর্শকদের আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন Paprika-‘র শেষ দৃশ্যে।

drea

কিন্তু সেই সাতোশি কন কিনা ২০১০ এর আগষ্টে মারা গেলেন মাত্র ৪৭ বছর বয়সে!

Dreaming Machine  বের হওয়ার স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে। কিন্তু স্বপ্নই বা খারাপ কী? একটা জিনিস যদি  সাতোশি কনের মুভিগুলো শিখিয়ে দিয়ে থাকে, তবে তা হল: স্বপ্ন আর বাস্তবতা মিশে যেতে খুব বেশি কিছু লাগে না। তাই এখনই মাথায় স্বপ্ন-যন্ত্র চাপিয়ে বসুন আর ঝাঁপিয়ে পরুন কল্পনার জগতে; কে জানে, হয়তো আপনার স্বপ্নের সাথে কনের স্বপ্ন একাকার হয়ে বাস্তবে হানা দিবে টোকিওর রাস্তায় হাঁটতে থাকা কোন টেলিভিশনের পর্দায়।

Paprika-2

 

[১] http://www.midnighteye.com/interviews/satoshi-kon/

[২] আকিরা কুরোসাওয়া – কিংবদন্তী জাপানী চলচ্চিত্র নির্মাতা। উল্লেখযোগ্য কাজ – Seven Samurais, Ikiru, Rashomon.

[৩] ইয়াসুজিরো ওযু – কিংবদন্তী জাপানী চলচ্চিত্র নির্মাতা। উল্লেখযোগ্য কাজ – Late Spring, Early Summer, Tokyo Story.

[৪] সেতসুকো হারা – কিংবদন্তী জাপানী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। উল্লেখযোগ্য কাজ – Late Spring, Early Summer, Tokyo Story.

[৫] হিদেকো তাকামিনে – কিংবদন্তী জাপানী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। উল্লেখযোগ্য কাজ – Twenty-four Eyes, Floating Clouds.

Perfect Blue রিভিউ — Saqib Shadman

PB2

খুব কম সিরিজ/মুভি থাকে (শুধু এনিমের কথা বলছি না) যেইটার প্রথম ৫ মিনিট দেখে বলা যায় বাকি অংশ চরম হবে। গত রাত Princess Mononoke শেষ করেই দেখা শুরু করলাম Perfect Blue ।

Pop Idol জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে জনপ্রিয় নায়িকা হওয়ার প্রয়াস করে Mima Kirigoe। কিন্তু মিমার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে হতাশ অনেকেই। একজন stalker Pop-Idol মিমার প্রতি এতোই অন্ধকারাচ্ছন্ন, মিমার জীবনযাপন, চলাচল সব কিছুর দিকে নজর রাখে। ইন্টারনেটে সেসব আবার প্রকাশও করে। পাশে এই একি মানুষ মিমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে।

PB1

Perfect Blue হচ্ছে অন্ধকারাচ্ছন্নের গল্প, এবং তা মানুষকে কেমনে ধ্বংস করতে পারে। ফিল্ম দুনিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য মিমাকে অনেক কাজ করতে হয় যেইটা মিমা নিজের উৎসাহে করতে চায় না। এসবের জন্য মিমাকে প্রায় বিদ্রূপ করে মানসিক বিভ্রম।

ফিল্মের বেশির ভাগ অংশ দেখা হয় মিমার পরিপ্রেক্ষিত থেকে। আশেপাশের পরিস্থিতির কারনে মিমা বাতুলতার দিকে আগাতে থাকে। প্রায় যা বাস্তব ও যা বিকল্পিত তার মাঝের দাগটা অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং প্রশ্ন দারায়ঃ সবকিছু কি মিমাই করছে?

PB3

গল্প ও চরিত্রদের সাথে সঙ্গত করা আছে যথাযথ আর্টওর্য়াক ও মিউজিক। ডার্ক ও বর্ণহীন একটা রঙ প্যালেট একটা ভুতুরে পরিবেশের সৃষ্টি করে। মিউজিকও কম নয়, কার্যকরীভাবে টেনশনের মুহূর্তে উত্তেজনা আর বারায়।

ভাল সেইনেন এনিমে যদি খুজে থাকেন, পারলে দেখে নিয়েন। Psychological এনিমে ফ্যান্দের জন্য আমি মনে করি এই ফিল্ম আবশ্যক।

PB4

Movie Time With Yami – Special Episode (টিং টং মুভি টাইম)

Perfect Blue

Genres: Drama, Horror, Psychological
Runtime: 80 minutes
Score: 8.13
Ranked: 375

দেখলাম সাতোশি কন এর বিখ্যাত অ্যানিমে মুভি Perfect Blue. জনপ্রিয় পপ আইডল কিশোরী মিমা স্বপ্ন দেখে বিখ্যাত অভিনেত্রী হওয়ার। সেজন্য সে যেকোন উপায়ে তার আইডল পরিচয় মুছে ফেলতে সচেষ্ট। তার ভক্তরা এই সংবাদ পেয়ে যথেষ্ট মনোঃক্ষুণ্ণ হয়। কিন্তু অভিনেত্রী হিসেবে নতুন পরিচিতি পাওয়ার আশায় বেপরোয়া হয়ে মিমা কিছু আপত্তিকর কাজ করে ফেলে, যা তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খেতে থাকে। এরই মাঝে সে ইন্টারনেটে একটি ওয়েবসাইটের সন্ধান পায়, যেখানে তার রোজনামচা একদম নিখুঁতভাবে লেখা, যেন মিমা নিজেই ওগুলো লিখছে। সবদিক থেকে আসা এত মানসিক চাপ সইতে না পেরে মিমা কল্পনা ও বাস্তবতার পার্থক্য বুঝতে অপারগ হয়ে পড়ে।

মুভিটির কাহিনী অনেক গভীর এবং থট প্রভোকিং, মুভিটির কাহিনীর পেছনে লুকানো একধরনের বার্তা আছে যা নিজে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়। আর্ট একটু পুরনো, কিন্তু সবমিলিয়ে অত্যন্ত চমৎকার একটি মুভি। এক্সপ্লিসিট কন্টেন্ট আছে কিছু, তাই আমি অবশ্যই ছোটদের সতর্ক করব যে শুধু বয়স না, মানসিক পরিপক্কতা আসার আগে কেউ মুভিটি দেখো না; কিন্তু এটি মাস্ট ওয়াচ ফিল্মের পর্যায়েই পড়ে।

Perfect Blue (movie) suggestion by Monirul Islam Munna

Genre: Drama, Psychological

‘মিমা কিরিগোয়ে’ খুব পপুলার একটা পপ আইডল গ্রুপ ‘ চাম’ এর অন্যতম জনপ্রিয় মেম্বার। অন্যতম বলার চেয়ে সব চেয়ে পপুলার বলাটাই মনে হয় ঠিক হবে।, কারণ জনপ্রিয়তার অন্যতম বিড়ম্বনা বিশাল ফ্যান বেইস, স্টকার, ইন্টারনেট বিভিন্ন রকমের ফেন ওয়েবসাইট ( মিমা কি করছে না করছে, তার ফ্যান মেইড ডাইরি) সব জুড়ে গিয়েছিল তার জীবনের সাথে!!
তবে পপ আইডলের খ্যাতি ছেড়ে, অভিনেত্রী হওয়ার নতুন স্বপ্নের পথে পারি দিলো মিমা। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারে নি, মিমার পাগলা ফ্যান বেইস। ইন্টারনেটের তার সেই পেইজে কখনও কখনও উদ্ভট সব তথ্য, আবার কখনও মিমাকে হুমকি! আর স্বপ্নের পথে যতই এগিয়ে যেতে সাথে মিমা, একে একে খুন হতে থাকে কাছের মানুষগুলো!! আর বাস্তবতা এমন কঠোরতার কাছে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে থাকে মিমা। বাস্তব আর কল্পনিক জগতের এক মিশ্রণে হারিয়ে সে নিজেকে!!!

মুভি নিয়ে আর কিছু বলছি না। স্পয়লার হয়ে যাবে। তবে এই টুকু বলতে পারি, এটা একটা মাইন্ড ফ** এনিমে
চরিত্র, কাহিনী, মিউজিক সবই ভালো। এটা ১৯৯৮ সালের এনিমে,তাই আর্ট একটু পুরনো। তবে মুল চরিত্র ‘মিমা কিরিগোয়ে’ কাওাই
আর এনিমেতে নিউডিটি আছে, তাই সাবধানে দেখবেন
MAL rating: 8.1
আমার রেটিংঃ ৯.০

Perfect blue : Anime Review by Torsha Fariha

কিরিগোয়ে মিমা। জাপানের খুব জনপ্রিয় এই পপ আইডল হঠাৎ করেই তার ক্যারিয়ার চেঞ্জ করে ফেলে। অ্যাকট্রেস হবার ধ্যানজ্ঞান নিয়ে সে একদম গোড়া থেকে আবার তার ইমেজ গড়া শুরু করে। কিন্তু মিষ্টি মিষ্টি হাসিখুশি কিশোরী পপ আইডল ইমেজ যেন তাকে ছেড়েই যায় না। তাই বাধ্য হয়েই সে একসময় একটি ড্রামাতে রেপ সীন করতে রাজি হয়।

এই দৃশ্যে অভিনয় করে মিমা রাতারাতি তার আগের খোলস ছেড়ে মিডিয়ার লাইম লাইটে চলে আসে। শুরু হতে থাকে একের পর এক ইন্টারভিউ আর ফটোশ্যুট। এর মাঝে কিছু ন্যুড পিকও থাকে যার কারণে দর্শকরা তাকে নতুন করে পরিণত মিমা হিসেবে ধীরে ধীরে গ্রহণ করতে থাকে।

কিন্তু এতে করে খুব বাজে একটা ইফেক্ট পড়ে মেয়েটার উপর। তার ভেতর অপরাধবোধ জন্ম নেয় এই ধরণের কাজের জন্য। মনের গভীরে সে অনুতপ্ত হতে থাকে কেন সে আইডল মডেল থেকে অ্যাকটিং এর দিকে পা বাড়ালো।

ঠিক সেই সময় মিমা ইন্টারনেটে খোঁজ পায় ‘মিমা’স বেডরুম’ নামে একটা রহস্যময় হোমপেইজের। যেখানে একটা অপশন থাকে ‘মিমা’স ডায়েরি’। সে অবাক হয়ে দেখে ঠিক সে যা যা করেছিল গতকাল, কিংবা আজকে সবই নিখুঁত করে লেখা সেখানে। এবং সেই রেপ সীনের পরের দিন থেকে সেই ডায়েরিতে বারবার লেখা ‘হেলপ মি’ , ‘আমার এই জগতে আসাই ঠিক হয় নি…’ , ‘আমি পপ আইকন হিসেবেই ভালো ছিলাম…’ ইত্যাদি কথাবার্তা। ঠিক মনের গভীরে মিমা যেই সব কথা ভাবছিল সেইগুলাই সেখানে লেখা…

এভাবে ওর মনের ভেতর দুটো সত্ত্বার টানাপড়েন চলতেই থাকে । একসময় মিমা তার চারপাশের বাস্তবতা আর কল্পনাকে এক করে ফেলে…

তার মনে হতে থাকে ঘুমের মধ্যে সে যে স্বপ্নটা দেখেছে কিংবা মিমা’স ডায়েরিতে যেসব কথা লেখা হতে থাকে প্রতিদিন হয়তো সেগুলোই সত্যি… আর তার রিয়েলিটি দিন দিন ধোঁয়াটে হতে থাকে…

মোটামুটি এই রকম একটা কাহিনী নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘পারফেক্ট ব্লু’ অ্যানিমেশন মুভিটা। জ্যাপ অ্যানিমেশন মুভির মধ্যে এই ধরণের আর্ট আমার খুব ভালো লাগে। কাহিনীটা একটু গ্লুমি বাট আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।

 

http://www.youtube.com/watch?v=eN_XcMuvOz0