*** ঈদ স্পেশাল এনিমে রিকমেন্ডেশন+ ছোট এনিমে রিভিউ****
এনিমে: প্লানেটিস (Planetes)
জনরা: সাই-ফাই,ড্রামা,রোমান্স,সেইনেন,স্পেস
এপিসোড: ২৬
স্টুডিও: সানরাইজ
মহাকাশ নিয়ে মানুষের আকর্ষণ সেই আদিমকাল হতেই। মানুষ প্রতিনিয়তই চাইছে মহাকাশের সকল অজানাকে জানতে, মহাকাশের অজানা স্থানগুলো সবার আগে আবিষ্কার করতে ।যা Star Trek এর Captain Kirk এর ভাষায়, “To boldly go where no man has gone before”। ভবিষ্যতে কোনো এক সময় হয়ত মানুষ এতে সফলও হবে। যখন মহাকাশ যাত্রা শুধু স্বপ্ন থাকবে না, হবে বাস্তব। তখন কিরকম হবে আজকের পৃথিবী? তখন মানুষের জীবনধারাই বা কেমন হবে?
Synopsis:
সাল ২০৭৫। মানুষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক উন্নতি করেছে। চাঁদ কিংবা মঙ্গলে যাওয়া এখন আর কোনো স্বপ্ন নয় বরং অনেক বাস্তব! এতটাই বাস্তব যে চাঁদ এখন মানুষের ছুটি কাটানোর জনপ্রিয় জায়গা!! কি নেই এখানে? দালানকোঠা, হাসপাতাল,গবেষণাগার সবই আছে।আরও আছে এই চাঁদ আর পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থানরত অসংখ্য স্পেস স্টেশন ও কৃএিম উপগ্রহ। মানুষ আছে, এতশত জিনিশ আছে, আর আবর্জনা থাকবে না? তা কখনো সম্ভব?
আবর্জনাও আছে। কিন্তু এই আবর্জনা স্পেস ডেভেলপমেন্টের জন্য একটি বড় বাধা কেননা সামান্য আবর্জনা থেকেও ঘটতে পারে বিশাল দূর্ঘটনা। আর এসব আবর্জনা পরিষ্কারের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত, তাদের বলা হয় ডেব্রি(Debris) কালেক্টর।
স্পেস স্টেশনগুলোতে থাকা হাজারো কোম্পানীর মাঝে একটি – “টেকনোরা”-‘র ডেব্রি সেকশনে নতুন যোগদান করল জাপানী তরুণী ‘আই তানাবে’। তার নতুন কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে যা ধারনা ছিল তা প্রথম দেখাতেই তা সম্পূর্ণ বদলে গেল।পৃথিবীতে আবর্জনা পরিস্কারকারীদের মত মহাকাশের আবর্জনা পরিস্কারকারীরাও অবহেলিত,সকলের হাসির পাত্র।যদিও তারাই জীবন বাজী রেখে এই কঠিন কাজ করে যাচ্ছে। এই অচেনা পরিবেশে, অচেনা সহকর্মীদের সাথে জীবনযাপন, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার – ‘আই তানাবে’ এর এই পথচলাকে কেন্দ্র করেই তৈরি ‘প্লানেটিস’, যা একইসাথে স্বপ্ন,জীবন,বাস্তবতা আর একটি মিষ্টি ভালোবাসার গল্প।
স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
‘প্লানেটিস’ এর বড় শক্তি এবং আকর্ষনীয় দিক এর গল্পের বাস্তবিকতায়। সাল ২০৭৫ নিয়ে চিন্তা করতে গেলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে হাই টেক গ্যাজেট কিংবা সম্পূর্ন রোবট নির্ভর একটি পৃথিবীর চিত্র। কিন্তু আদতেই কি আমরা তাই পাব? উত্তরটা না বোধকই হওয়ার কথা।কেননা এত স্বল্প সময়ে এতটা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। কেমন পৃথিবী পাবো সম্ভবত তার সবচেয়ে আদর্শ রূপটাই তুলে ধরেছে প্লানেটিস।তাছাড়াও প্লানেটিস বিজ্ঞাননির্ভর।প্রায়ই সাই-ফাই এনিমেতে বিজ্ঞানের সূত্রকে তূড়ি মেরে বিভিন্ন কাজ করতে দেখা যায়।কিন্তু প্লানেটিসে অনেকটা বিজ্ঞানসম্মত ভাবেই সবকিছু যেমন: গ্র্যাভিটি, স্পেস স্টেশন,স্পেস ওয়াক, স্পেস সিকনেসের মত বিষয়গুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এবার আসি গল্পে। পুরো এনিমেকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম অংশকে অনেকটা এপিসোডিক স্লাইস অফ লাইফ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু এই এপিসোডিক পর্বের মধ্যে চরিত্রদের মধ্যকার ইন্টারেকশন গুলোই গল্পের পরবর্তী অংশের জন্য শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।দ্বিতীয় অংশ টা অনেক ডার্ক, রোমান্চকর এবং চিন্তাউদ্দোপক। যাতে আছে পুঁজিবাদ,সাম্রাজ্যবাদ, রাজনীতি,জীবন শিক্ষা এবং মিষ্টি ভালোবাসার ছোয়াঁ। এত সবকিছু খুব সুন্দরভাবে কোনো ফ্ল ছাড়াই তুলে ধরা হয়েছে। এ অংশ অনেকটা এই বার্তাই দিয়ে যায় যে, পৃথিবীর বাহ্যিক পরিবর্তন যতই ঘটুক না কেন ভেতরটা সেই আগের মতই থাকবে।আর এন্ডিং নিখুঁত।এর থেকে ভালো এন্ডিং হতে পারেনা।
ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
এনিমেতে প্রধান ক্যারেক্টার হিসেবে তানাবে আর হাচিমাকিকে দেখানো হলেও এনিমের প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং প্রায় প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্টই ছিল অসাধারন যা সচরাচর দেখা যায় না। স্পেশালি হাচিমাকির ডেভেলপমেন্ট আমার দেখা বেস্ট ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের মধ্যে একটি।একগুঁয়েমিতা ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পিছনে দৌড়ানো, নিজের ভয়কে জয় কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন সবকিছুই একটা নির্দিষ্ট পেসে খুব সুনিপুন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া তানাবে, ফি, ইউরিরাও ক্যারেক্টার হিসেবে ছিল অসাধারন।
আর্ট ও আ্যনিমেশন:
নিঃসন্দেহে সানরাইজ স্টুডিও এর বেস্ট কাজগুলোর একটি প্লানেটিস। আর্ট, আ্যনিমেশন, ক্যারেক্টার ডিজাইন, ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইন সবকিছুই টপনচ ছিল।
কিছু কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড এনিমেশন যেমন স্পেস থেকে দেখা সূর্যোদয়ের দৃশ্য, স্পেস স্টেশনের দৃশ্যগুলো দূর্দান্ত ছিল।
সাউন্ড ও মিউজিক:
এনিমেতে ওপেনিং হিসেবে আছে Mikio Sakai এর “Dive in the Sky” এবং ১ম এন্ডিং হিসেবে আছে একই গায়িকার “Wonderful Life”। দুটোই মোটামুটি ভালো। তবে প্লানেটিসের আসল আকর্ষণ এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে ‘Hitomi Kuroishi’ অসাধারন কাজ করেছেন। ইন্সার্ট সং হিসেবে থাকা তার গাওয়া “A secret of the moon” এবং দ্বিতীয় এন্ডিং “Planetes” সারাদিন লুপ দিয়ে শোনার মত গান।
এন্জয়মেন্ট:
ভাল এনিমে খুজঁছেন? সাই-ফাই লাভার? স্পেস বিষয়ক জিনিস ভালো লাগে? হলিউডের “গ্র্যাভিটি” মুভির ভক্ত? ক্লিশে শৌনেন, স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের প্রেম দেখতে দেখতে বিরক্ত? প্রিয়তমাকে ভিন্নভাবে প্রেম নিবেদন করতে চান?
সোজা দেখতে বসে যান এই মাস্টারপিস এনিমেটি।ইউনিক স্টোরি, অসাধারন এক্সিকিউশন,সুথিং মিউজিক, দূর্দান্ত ক্যারেক্টার সমৃদ্ধ এই এনিমেটি আপনাকে হাসাবে,নতুন করে ভাবাবে,মনে রোমান্চ জাগাবে এবং শেষে প্রশান্তি জোগাবে। এজন্যই ‘প্লানেটিস’ অনন্য, পার্ফেক্ট এনিমে এবং ট্রু মাস্টারপিস। তাই দেরী না করে দেখে ফেলুন ‘প্লানেটিস’।
MyAnimelist Rating: 8.30
Ranked: #160
Personal Rating: 10




