And Yet The Town Moves/Circles [সাজেশন] — Prottoy Rahman

and yet the town moves circles

১৬৩৩। গালিলেও গালিলেইকে সদ্য বাধ্য করা হয়েছে তার অলক্ষুণে বাণী অস্বীকার করতে: পৃথিবী নাকি সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। তা সে জীবন বাঁচাতে নাহয় করল। কিন্তু পরে আসমানের দিকে অতঃপর জমিনের দিকে তাকিয়ে সে ঠিকই চিন্তামগ্ন স্বরে বলল “Eppur si muove”, ইংরেজিতে যা দাঁড়ায় “And yet it moves”। যেন সেই সুশীল সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জানায় ‘তোমরা যা খুশি বিশ্বাস করো, সত্যের এতে কিছু যায় আসে না’। তা এসব অনেক আগের কথা, তখন আমার দাদার দাদা, বা তার দাদারও জন্ম হয় নি। প্রত্যক্ষ না করায় এর শুদ্ধতা যাচাই করাও আমার সাধ্যের বাইরে।

সাল এবার ২০১০। এনিমে মিডিয়ামটা কৈশরের গন্ডি পেরিয়েছে অনেক আগেই। পরিপক্কভাবে ভিত গেঁথে কয়েক দশক থেকেই অনেক শিল্পকর্ম উপহার দিয়ে এসেছে যা বিশ্বসেরা গল্পগুলোকেও টেক্কা দিতে পারে। এমন সময় আবির্ভাব ঘটে ২০০৫ সাল থেকে চলে আসা এক মাঙ্গার অ্যাডাপটেশন, স্টুডিও হলো Bakemonogatari-এর টানে সদ্য উঠে আসা শ্যাফ্ট। নতুন এই এনিমের নামটি ছিল ‘সোরেদেমো মাচি ওয়া মাওয়াত্তেইরু’, যার ইংরেজি করলে দাঁড়ায় And Yet The Town Moves/Circles. কিন্তু এ যুগে তো কোনো ধর্মালয় এসে কোনো কিছুতে বাঁধা দিচ্ছিলো না। তবে কার উদ্দেশ্যে এই নগর ঘুরানো নামটি এল?

এনিমটির মূল চরিত্র কাজের জন্য গর্ধভ, অকাজের জন্য চতুর; এর কমেডি slapstick ধাঁচের, কৌতুকগুলো ক্লিশে, ঘটনাচক্র কোনো এক দুনিয়ার নিয়ম মানে না, একেক অংশ একেক রকমের গল্প ধারণ করে, আর সাথে আছে উদ্ভট সব ক্যামেরা দৃষ্টিকোণ। সূক্ষ্মদর্শীতার দৃষ্টিতে এসব ধর্মকে একটু নিচু চোখেই দেখা হয়, প্রস্তুতিতে অলসতার চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়। সাধারণত তা-ই বাস্তব। কিন্তু তা যে যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য তা অনেকেই উপলব্ধি করতে পারে না। সঠিকভাবে ও অনুরাগের সাথে বাস্তবায়ন করলে যেকোনো কিছুই শিল্পের পর্যায়ে অধিষ্ঠিত হতে পারে। এই নতুন এনিমটি সেটিই প্রমাণ করে অসাধারণ নৈপুণ্যের সাথে। প্রকৃতপক্ষে এটি কাঁচকলা দেখায় convention জিনিসটাকেই। এর সকল দিক যে শুধু চমৎকার কারুকর্মের নিদর্শন তাই না, সকলের সমষ্টিতে এর সৌন্দর্যের বহুগুণ বৃদ্ধিও লক্ষ্য করার মতো।

অবশ্য সে যুগের এনিমে দর্শক না হওয়ায় ও এর লেখক ও অন্যান্য প্রস্তুতকারকদের না চেনায় এর নামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে করা সকল উক্তিই আমার ব্যক্তিগতভাবে ধরে নেওয়া। যাই হোক, প্রচলিত ধারা ভঙ্গ করে ধারণা পাল্টানো এনিমের অভাব এসময় ছিলো না। বরং গত শতকেই বেশ কিছু ব্যাপক রকমের ভিন্ন ধাঁচের এনিমে পুরো ইন্ডাস্ট্রি কাঁপিয়েছে। কিন্তু সোরেমাচির মতো খাঁটি সোনা বেশ কমই পরখ করেছি গত ৬-৭ বছরের অভিজ্ঞতায়। তবুও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এটি খুব একটা দৃষ্টি আকর্ষণ করে নি। যদি আপনার সর্ব প্রকার কমেডি ও প্যারোডি একটি মোহনীয় ন্যারেটিভের ভেতর মজাদার ও প্রাণবন্ত চরিত্রের মধ্য দিয়ে অসম্ভব নৈপুণ্যের সাথে উপস্থাপনের প্রতি কৌতুহল থাকে… you know it.

চটপট দেখা শুরু করুন, শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামতে পারবেন না। যদিও মাঙ্গা পুরো এডাপ্ট করে নি, থামার জন্য বেশ ভালো জায়গাই বেছে নিয়েছে। মাত্র ১২ পর্বের, তাই বেশি সময় লাগবে না।

Welcome to the NHK [রিভিউ] — Prottoy Rahman

স্বাগতম এক অতি সাধারন বাস্তবতার উপর নির্মিত এক সাধারন গল্পের অসাধারন উপস্থাপনায়। জাপানের হিকিকুমোরি অর্থ্যাৎ কর্মবিমুখী shut-in জনগণ, বিষয়টি খুব সাধারনই বটে। কিন্তু স্বাভাবিক না। এরা দেশের বোঝাবৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদেরও যে ক্ষতি করে, তা একটি ভালো রকমের সমস্যা।

এই এনিমটি এরকমই এক NEET shut-in সাতৌ তাতসুহিরো কে অনুসরণ করে একটি গল্প তুলে ধরে। তো, কেমন কাজ করে এই এনিম, তারই একটু ছোট বর্ণনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই পোস্ট।

প্রথমেই যা চোখে পড়ার মতো, তা হলো সাতৌর জীবনযাপনের পরিবেশন। মাত্র কয়েক মিনিটে তার মানসিক, আচরণগত এবং জীবনযাপনমূলক বৈশিষ্ট পরিষ্কার হয়ে ওঠে। এক সামাজিক সমস্যার উপর তৈরি, সমস্যাটি তুলে না ধরলে কেমন দেখায়? হ্যা, এনিমটি এই hikikumori-র আগা, গোড়া, কান্ড, চূড়া, সব চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছে। সমস্যার উৎপত্তি, কারণ, প্রভাব, উত্তরণের উপায়, কোনো কিছুই বাদ দেওয়া হয় নি। তবে শুধু এই বিষয়টি তুলে ধরেছে, তা বললে আমার জীবনে বলা অন্যতম বিশাল ভুল হবে। এই এনিমকে সামাজিক সমস্যার অ্যালবাম বললেও কম হবে। সাতৌর হিকিকুমরি অবস্থার উন্নতির প্রচেষ্টায় সে মুখোমুখী হয় সমাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আরো অনেক সমস্যার। যদিও এটি বেশ repetitive, তবুও এর গল্পলিখনে মোটামুটি সামঞ্জস্য আছে। প্রতিটি ঘটনার অবতারনা করতে পূর্বের ঘটনাবলী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে যা এটিকে ভালোই উপভোগ্য করে তোলে।

এর মূল গল্পের সাথে সাথে চলে চরিত্রায়ন। ঘটনার স্রোতে আমরা দেখতে পাই চরিত্রদের জীবনের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের মধ্যবর্তী খুঁতগুলোকে পুঁজি করে চমৎকারভাবে একে অপরের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা এবং চরিত্রের ডেভলপমেন্ট দেখানো হয়েছে। একে অনায়াসে অন্যতম সাইকোলজিকাল এনিম এর কাতারে ফেলা যায়। এটি শুধু যে চরিত্রগুলোর মানসিক অবস্থা ফুটে তোলে তা নয়, এই এনিম বিভিন্ন mental phenomena ও পরিবেশন করে।

এই এনিমের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর বাস্তবতা। বেশ কিছু জায়গায় অবিশ্বাস্য আচরণ দেখা গেলেও সর্বোপরি এটি বাস্তবতাকে তুলে ধরে। এটি দেখায় মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে চমৎকার কাজ করলেও নিয়তির কাছে মাঝেমাঝে হার মানতে হয়। তবে তার থেকেও বেশি এই এনিমের আকর্ষণীয় দিক হলো মন্তব্য দেওয়ার সাহসিকতা। Welcome to the NHK বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য প্রদান করে যার মধ্যে ধর্মীয় চিন্তাধারাও পড়ে।

এই এনিমটির আর্ট বেশ চমৎকার। এর এনিমেশনও উল্লেখযোগ্য। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলো অতি চমৎকার এবং এনিমটিকে উপভোগ্য করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ওপেনিং সং একদিকে বেশ এন্জয়েবল্ এবং দৃশ্যগুলো দেখতে অসাধারণ, অপরদিকে অনেক অর্থবহ। YouTuber “Mother’s basement” এর চ্যানেলে এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সহ একটি ভিডিও আছে।

যাই হোক, বাংলা টাইপ করার খুব একটা অভ্যাস নেই বলে আর বেশিকিছু বলব না। এটা অত্যন্ত ভালো একটি এনিম এবং আমার দেখা সেরাদের মধ্যে একটি। স্কোর দেব ১০ এর মধ্যে দৃঢ় ৯।

ওহ হ্যা, এতকিছুর মধ্যে প্রশ্ন জাগতে পারে যে NHK জিনিসটা কি? খায় না মাথায় মাখে? NHK তেমন বিশেষ কিছু না, তবে একই সাথে এটি অনেক কিছু। এটা খেতে পারেন, মাথায় মাখতে পারেন, উপাসনা করতে পারেন, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা, এর দ্বারা মনের ভার কমাতে পারেন। যেমন এই পোস্ট আমার এন এইচ কে।