এনিমে সাজেশন: Psycho-Pass — Fahmida Ahmed Mou

সাইকো পাস (Psychopass)
জনরাঃ সাইফাই সাইবারপাংক
সিজন ২টা।
#১ম‬ সিজনে ২২টা এপিসোড আর #‎২য় সিজনে ১১টা।
#‎স্টোরি_সংক্ষেপঃ‬
জাপান এখন বহুত উন্নত, হাইলি ডিজিটালাইজড।
[ছোট্ট মেকাপ বক্সের মত একটা জিনিসে ইচ্ছামত পোশাক চুজ করে রাস্তাঘাটেও ইজিলি পোশাক চেঞ্জ করা যায় 😀 (এইটা কিউট লাগছে) ]
একমাত্র অপরাধী হচ্ছে সাইকো-পাস যারা।
সিভিল-সিস্টেম কঠোর হাতে দমন করে আসছে অপরাধীদের।

PP 1

পুলিশের পিস্তলগুলা দিয়ে আর ঠাইঠাই গুলি করতে হয়না এবং একজনের পিস্তল আরেকজন ব্যাবহার করতে পারেনা!
পিস্তল আগে ব্যাবহারকারীর আইডেন্টিটি কমফার্ম করে, কারো দিকে তাক করলে তার সাইকো-পাস পার্সেন্টেজ দেখে যদি পজিটিভ আসে তবেই লক খোলে এবং গুলি করা যায়!
ঠু ফার!
সব এতবেশি যান্ত্রিক না দেখলে ভাবা যায়না!
কিন্তু
সবসময় ল সবার ক্ষেত্রে খাটেনা। কিছু মানুষ হঠাৎ জন্মে যারা যেকোনো সমাজের সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে।
এ ঘটনা সৃষ্টির আদি থেকেই ঘটছে।
তবে মানবিকতা বা নীতিবোধ না থাকলে সচারচর সেসব ধোপে টেকেনা যদি আইন প্রয়োগ সংস্থায় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মত কেউ থাকে।
তেমনি এই অ্যানিমেতে….
মাকাশিমা সমাজের লেইম সিস্টেম চেঞ্জ করতে প্ল্যান করে এবং সেটা যেইসেই প্ল্যান না! আমার দেখা ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট ভিলেন 😀
আমি অবশ্য মাকাশিমার সাথে একমত ছিলাম কেবল কাজের ধরণটা নেগেটিভ!
মাকাশিমার দিকে পিস্তল তাক করলে সবসময় পিস্তল লক থাকে কারণ তার সাইকো-পাস কখনোই পজিটিভ আসেনা 😛 হাউ হাইলি সেল্ফ পারসোনালাইজড হি ইজ! 😀
ডিটেকটিভ
*গিনোজা এবং *আকানে সিনোমোরি!
আরো থাকে ★ইনফোর্সার
[ইনফোর্সার হলো
যারা একসময় অপরাধী হিসাবে জেলে আসে এবং পরে তাদের অপরাধী ধরতে ইউজ করা হয় অপরাধী মাইন্ডের জন্য। অনেকটা আর্মিতে ব্যাবহৃত কুকুরদের মতো ]
এদের মাঝে থাকে
কোগামি, কাসাওকা, কুনোজাকি, কারানোমোরি, কাগারি।
সিজন ১ এবং ২ এর থিম একই মোটামুটি স্টোরি আর চরিত্র ভিন্ন হয়।
২তে একটা হালকা টুইস্ট আছে।

PP 2

★আপনি সাইকো-পাস কেনো দেখবেন?
এটা ওটাকুদের কাছে স্টোরি বেজলাইনে, প্লটে বা থিমে খুব আহামরি লাগবেনা কারণ এর থেকে বহু হাইরেটেড অ্যানিমে আপনি দেখেছেন
কিন্তু একটা কথা সিউর…
আপনি সবসময় ভাববেন “আরে জানি এরপর এই হবে” কিন্তু হবেনা 😛 এখানে খুব স্পেশাল যেকেউই মারা যাবে দুম করে আপনি বুঝে ওঠার আগেই, চেঞ্জ হবে অন্য চরিত্রে মানে টোটালি আন প্রেডিকটেবল ঘটনা আর স্ট্রং ভিলেন মিলিয়ে আপনাকে শেষ পর্যন্ত দেখেই যেতে হবে 😀 এবং টুইস্ট দেখে চমকে যাবেন দূর্বল হার্ট হলে বমিও করতে পারেন 😛
তাছাড়া ডায়লগ গুলোও বেশ স্ট্রং। মনযোগ দিয়ে শুনলে ভালো লাগবে।

PP 3
★আমার অভিমতঃ
ভালো লেগেছে। বলা যায় এক বসাতেই শেষ করেছি পরপর দুটো সিজনই :v
প্রথম কথা হলো আই এডোর কোগামি ভেরি মাচ।
আকানের উইক আর হাস্যকর ক্যারেক্টারটা দেখে প্রথমে প্রচন্ড বিরক্ত আসছিলো।
[ ব্লাড+দ্যা লাস্ট ভ্যাম্পায়ার এর নায়িকা “ছায়া”কে দেখে যেমনটা আসছিলো ]
বাট পরে যাইহোক ভালো লেগেছে। আলটিমেটলি যে যারযার চরিত্রে পারফেক্ট ছিলো দোষ-ত্রুটি মিলিয়ে।
আর
সিজন-২ তেঃ
আই হ্যাভ ব্যাডলি মিসড কোগামি! প্রত্যেক পর্বের, প্রতি মোমেন্টে চাইছিলাম কোগামি আসুক
ও আরেকটা ব্যাপার
পিস্তলগুলার সিস্টেমটা জঘন্য কেনো বলছি দেখলেই বুঝবেন।

ভালো থাকুন সবাই
ধন্যবাদ 😀

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১২: Psycho-Pass — Maliha Mahjabin

অ্যানিমে: Psycho-Pass
জনরা: অ্যাকশন, পুলিশ, সাইকোলজিক্যাল, সাই-ফাই
এপিসোড সংখ্যা: ২২
MyAnimeList রেটিং: ৮.৬
ব্যাক্তিগত রেটিং: ৮.৫

সাধারন দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধীর সংজ্ঞা কি? খুব সহজেই বলা যায়, যে অপরাধ করে সে-ই অপরাধী। আর আমাদের সমাজের নিয়ম অনুসারে তাকে শাস্তি পেতেই হবে, কিন্তু তা নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়ার পরই। আসলে এটাই তো হওয়া উচিত, তাই না!

আচ্ছা, ধরুন, এমন কোনো একটি পদ্ধতি আবিষ্কৃত হলো যার মাধ্যমে কেউ অপরাধ করার আগেই বলে দেওয়া যেতো কে অপরাধ করতে পারে, বা কে অপরাধী; এমন কোনো প্রযুক্তি যা মানুষের অপরাধ প্রবণতা পরিমাপ করে বলে দিতে পারতো, তাহলে কেমন হতো? তখন অপরাধ কর্মকান্ডহীন শান্তিপূর্ণ সমাজের ধারনা শুধু ধারনাই থাকতো না, বাস্তবে রূপ নিতো।ঠিক এমন এক সমাজ নিয়েই Psycho-Pass অ্যানিমে টির কাহিনী।

 

স্টোরি/প্লট :

সুদূর ভবিষ্যতের জাপান, যখন এ স্বপ্নসম প্রযুক্তি শুধু আবিষ্কৃতই হয়নি, রীতিমতো রাজত্ব করছে! পুরনো আমলের প্রায় সব কিছু উঠে গেছে এ সিস্টেমটি চলে আসায়। সিস্টেম এর নাম সিবিল সিস্টেম। আর সাইকো পাস হলো মানুষের মানসিক অবস্থার একটি পরিমাপ রাশি।কার কখন কী লাগবে, কার মানসিক অবস্থা কীরূপ, কার জন্য কী পেশা উপযুক্ত সবই নির্ধারণ করে দিতে পারে এই সিস্টেম।মানুষের জীবন তো অনেক সহজ হয়ে গেলো, কিন্তু সিস্টেম টি কীভাবে কাজ করছে তা নিয়ে কারো কোনো প্রকার মাথা ব্যাথা নেই। আসলে এটা নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজনই কেউ বোধ করে না। রাস্তায় রাস্তায় স্ক্যানার বসানো, স্ক্যান করে বলে দেয় মানুষের মানসিকতা। কিন্তু কারো সাইকো পাস বিপজ্জনক মাত্রায় চলে গেলে আর তা স্ক্যানার এ ধরা পড়লেই শেষ! শৃঙ্খলা বাহিনী এসে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়ে নিবে। পুলিশ দের হাতে আর আগের মতো পিস্তল নেই, আছে Dominator নামক অস্ত্র, যা স্বয়ংক্রিয় ভাবে স্ক্যান করেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিবে কাকে কী শাস্তি দেওয়া দরকার। পুরনো আমলের কোর্ট কাচারির কোনো ঝামেলা-ই নেই!

এমনই এক সময়ে জাপানের পুলিশ ডিভিশন এ ইন্সপেক্টর হিসেবে জয়েন করে আকানে সুনেমরি। সে এবং তার সহকর্মী ইন্সপেক্টর গিনোযা ও এনফোর্সার্স দের নিয়েই আবর্তিত হয় সিরিজটির কাহিনী।

আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, ”কী সুন্দর একটি ব্যবস্থা! এতে তো কোনো প্রকার সমস্যাই নেই!”কিন্তু আসলেও কী নেই? সত্যিকার অর্থে কোনো যন্ত্র কী পারে মনের জটিলতা কে বিচার করতে? তার সিদ্ধান্ত কতোটা যৌক্তিক? আর সিস্টেম যাকে অপরাধী হিসেবে শনাক্ত করছে সে আসলেও অপরাধ করতো কিনা তা যাচাই করারও তো কোনো উপায় নেই।আবার এ প্রশ্নও মাথায় চলে আসে, কেউ যদি কখনো স্ক্যানার এর চোখ এড়িয়ে অপরাধ করার উপায় খুঁজে নেয়, তখন যন্ত্রের প্রতিক্রিয়া কী হবে? সে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? এ যন্ত্র নির্ভর সমাজে মানুষের মূল্যায়ন কী শুধুই যান্ত্রিকতায় সীমাবদ্ধ? প্রযুক্তি কি এতোটাই নিখুঁত? এ কৌতুহলগুলো মেটাতে হলে দেখতে হবে সাইকো পাস!

প্রশ্ন উঠতে পারে, কে কিভাবে সিবিল সিস্টেম গঠন করেছিলো! এর উত্তর অ্যানিম এ না পাওয়া গেলেও তা স্টোরি তে তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না।

 

ক্যারেক্টার:

সাইকো পাস এর চরিত্রগুলোর কথা বলতে গেলে বলা যায় প্রত্যেকটি চরিত্রই বেশ যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে শিনয়া কোগামি এবং শোগো মাকিশিমা চরিত্র দুটির কথা উল্লেখ না করলেই নয়। দুজনই আমার পছন্দের চরিত্রের তালিকায় সহজেই জায়গা করে নিয়েছে। এ দুজনের মধ্যকার মুখোমুখি, মনস্তাত্বিক ও বুদ্ধির লড়াই-ই পুরো সিরিজ এর উত্তেজনার একটি মূল উপজীব্য। কেউ কারো চেয়ে কম নয়! সিরিজটিতে কারো ভাবনা কেই জোর দিয়ে ভুল বলা যায় না। কে আসলে সঠিক এবং কে নয় এ প্রশ্ন দর্শক দের জন্যই ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে!

 

মিউজিক:

সিরিজটির কথা বলতে গেলে আর একটি কথা না উল্লেখ করলেই নয়, তা হলো সিরিজটির মিউজিক! এন্ডিং ও ওপেনিং সং গুলো চমৎকার ছিলো; বিশেষ করে ১ম ওপেনিং, Ling Tosite Sigure’র abnormalize গানটি। পুরো অ্যানিমে’র সেটিং টাকেই যেন সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে গানের কথা গুলোতে। শুনতে শুনতে আসক্ত হয়ে যাবার মতো গান আমার মতে।

 

ওভারঅল:

কৌতুহলোদ্দীপক প্লট নিয়ে তৈরি অ্যানিমেটি মোটামুটি সবার-ই ভালো লাগবে। বিশেষ করে ক্রাইম থ্রিলার জনরার ভক্তদের জন্য রিকমেন্ডেড। সিরিজটির ইংরেজি ডাবড ভার্সনও বেশ ভালো, কেউ চাইলে ডাবড ভার্সন ও দেখতে পারেন। যারা এখনো দেখেননি তারা দেরি না করে দেখে আসতে পারেন অ্যানিমেটি। আশা করি ভালো লাগবে!

 

শেষ করছি সিরিজটি থেকে আমার পছন্দের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে,

“I think the only time people really have value is when they act according to their own will.” -Shougo Makishima.

12 Psycho-Pass

Psycho-Pass Movie রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

কি দেখলামঃ Psycho pass movie

নিহঙ্গদেশ। চারিদিকে শুধু সুখ আর আনন্দ; দুঃখ কষ্টের কুনু বালাই-ই নাই। সিবিল সিস্টেম দেশের শান্তি রক্ষার কার্জ সমাধা করিয়া আপাতত ঘটক পাখি ভাইয়ের ভাত মারার কাজেও নিয়োজিত হইয়াছে। সুনেমরি আকানে এই দেশের একজন সৎ ঈমানদার পুলিশ অফিসার। দেশে অন্যায় অপরাধের ঘাটতি হেতু উনি বান্ধবীর সাথে বিয়ের মার্কেটিং করিয়া বেড়ান, নিজের বিশাল এপার্টমেন্টে একা একা খান, ঘুমান, টিভি টুভি দেখেন আর মাঝে মাঝে সঙ্গী রোবটের সাথে কুস্তি খেলিয়া শরীরটাকে চাঙ্গা রাখেন।
বিশাল আরামের লাইফ !

PP 1

কিন্তু নিহঙ্গদেশ আর সুনেমরি; কারো কপালেই এই সুখ শান্তি বেশিদিন সহিল না। হটাত করিয়া ট্রলার ভর্তি একঝাক রিফিউজি গেরিলা আসিয়া উপস্থিত হইল সীমান্তে। চোখে তাদের একরাশ স্বপ্ন; আর তার উপরেই কুটি টেকার দামী সানগ্লাস। সুনেমরি ম্যাডাম ছুটিয়া আসিলেন খবর পাইয়াই; একগাদা লোক মারিয়া মুরিয়া দুই একটারে ধরিয়া নিয়া আসিলেন; সানগ্লাস সমেতই। স্বপ্ন পর্যন্ত ঠিকই ছিল; কিন্তু গরীব দুখী অসহায় এইসব রিফিউজির কুটি টাকার সরঞ্জাম উনাকে বড়ই চিন্তায় ফালাইয়া দিল। উনি ভাবিতে লাগিলেন এবং শেষে ভাবিয়া ভাবিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন “কুছ তো গড়বড় হ্যায়।”

এরই মধ্যে আরেক অফিসার পাকনামো করিয়া মেমোরি থেরাপি দিয়া বসিলেন একটারে; উপরমহলের আদেশে। সুনেমরি এতে গোস্বা করিলে উপরমহল জানাইলেন; থেরাপিতে কোগামির দর্শন লাভ হইয়াছে। কোগামির চেহারা দেখিয়াই সুনেমরি সব ভুলিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন, উনি ব্যাপারখানা “তদন্ত” করিতে বিদ্রোহীদের আদি নিবাস SEAUn এ পাড়ি জমাইবেন। পারমিশন মিলিল। তিনি একখানা স্যুটকেস বগলদাবা করিয়া দামী জেট প্লেনে চড়িয়া বসিলেন।

সিওনের অবস্থা অনেকটা গুলশানের মতন। একপাশে বিশাল বিশাল অট্টালিকা; আর তার পাশেই বস্তি। বস্তি এলাকায় চলিতেছে তুমুল বিদ্রোহ। এইরকমই এক বস্তির সর্দার, জনদরদী, গরীবের বন্ধু, মজলুমের সহায় কোগামি; যার লড়াই অভিজাত সম্প্রদায়ের সাথে; যারা নিজেদের সুখ শান্তির জন্য সিবিল সিস্টেম ব্যাবহার করিয়া বাকিদের নির্বিকারে হত্যা করিতেসে। কোগামি মুলত বস্তির সাধারণ মানুষকে হাতে কলমে ড্রোন মোকাবেলার জন্য কুংফু কারাতে শিক্ষা দেন; যদিও পুরো মুভিতে গুলি আর গ্রেনেড ব্যাবহার করিয়াও ড্রোন ঠ্যাকানি যায় নাই। যাই হোক; কাহিনীতে ফেরত যাই।

কোগামির দলের সাথে সিওনের মিলিশিয়া বাহিনীর লড়াইয়ের মাঝেই কোগামিকে স্ক্রিনে দেখিয়া সুনেমরি নামিয়া গেলেন গাড়ি থেকে, “তদন্তের” জন্য। কোগামির সাথে দেখা হইল, কথাও হইল। কথাবার্তা অনেকটা এইরকম –
– কোগামি সান; আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না; ইউ আর আন্ডার এরেস্ট।
– এহ; মজা নেও?
– মজা নিমু ক্যান, আপনি সন্ত্রাসী পাচার করেন না জাপানে?
– নাহ; আমি তো কিছু জানিই না। তাও এরেস্ট করবা?
– না; তাইলে করতাম না। লন; আপ্নের বাসা দেইখা আসি।
– চল; দুইটা ডাইল ভাতও খাইয়া আসবা নে।
– জোস; চলেন যাই।

PP 2

এর মধ্যে মিলিশিয়া একদল গুন্ডাপান্ডা ভাড়া করিল এই দুইজনকে মারিবার জন্য। বিপুল অঙ্কের টাকার প্রতিশ্রুতি পাইয়া তারা তাদের সকল অস্ত্র সস্ত্র ও সরঞ্জাম সহ রওনা হইয়া গেল। এবং একদিনের ভিতর আস্তানা খুজিয়া আক্রমণও করিয়া বসিল। সুনেমরি পালাইয়া গেলেন; কোগামি জীবিত অবস্থায় ধরা পড়িলেন। তারে নিয়া গিয়া গুন্ডাদল আচ্ছামত বাঁশডলা দিয়া বলিল, “আমাদের দলে আইসা পড়; অন্নেক মগা হবে।” কোগামি জানাইল “কাভি নেহি।” গুন্ডাদলের সর্দার কহিল; “যাও তুমারে খেলায় নিব না। নিকোলাস ভাইয়ের কাছে তুলিয়া দিব; তখন দেখবা; কি হয়।”

সুনেমরি পালাইয়া আসিয়া নিজের রুমে বসিয়া ফন্দি আটিতেসিলেন; কী করিয়া ইহাদিগকে মজা দেখানো যায়। এরই মধ্যে তিনারে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়ে অজ্ঞান করিয়া ফেলিল মিলিশিয়া বাহিনী। উনাকে আর কোগামিকে একখানা বিমানে তুলিয়া দিয়া সেইখানা উড়াইয়া দেওয়া হইবেক; যাতে করিয়া কেউ বুঝিতে না পারে যে উনারা এত্তগুলা খারাপ। যেই ভাবা; সেই কাজ। কিন্তু শেষ মুহুর্তে গিয়া শুভ কাজে বাঁধা পড়িল। একঝাক পুলিশ অফিসার বিমানে করিয়া আসিয়া গুলি করিয়া সব খারাপ মানুষ মারিয়া সাফ করিয়া ফেলিতে লাগিলেন। সুনেমরি গেলেন নেতার কাছে; গিয়া বুঝাইয়া বলিলেন; “এইগুলা খারাপ; এইগুলা করতে হয় না; লোকে পচা বলে।” নেতা বুঝিলেন; এবং “সাধারণ নির্বাচন” এর ঘোষণা দিয়া ক্ষমতা ছাড়িয়া দিলেন।

অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলেন।

নটে গাছটি মুড়ালো, আমার কথাটি ফুরালো।

PP 3

Psycho-Pass: The Movie রিভিউ — Rafiul Alam

PP 1

এটা বছরের সবচাইতে প্রতিক্ষিত মুভি ছিল আমার কাছে।সেই জানুয়ারি মাস থেকে অপেক্ষা করার মেওয়া ফল পেলাম কয়েকদিন আগে।বুঝাই যাচ্ছে,ব্যাপক এক্সপেকটেশন ছিল।তাই প্রশ্ন হল এই মুভির জন্য এত অপেক্ষা স্বার্থক ছিল কিনা।আসছি সে কথাতেই।

Synopsis:যারা আনিমের প্রথম সিজন দেখেন নি,তারা না দেখলেই ভাল হয়।কাহিনী মূলত ১ম সিজনের সিকুয়াল।তো যাই হোক,ঘটনার শুরুতে দেখা যায় যে একদল বিদেশী জাপান আক্রমণ করতে আসে।আগে থেকে ঘটনা আঁচ করতে পেরে তাদের থামাতে উদ্যত হয় আকানে সুনেমরি ও তার দল।ঝটিকা মিশনে একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় তারা।সুনেমরির অজান্তে মেমরি স্কুপ প্রযুক্তি ব্যাবহার করে সেই বন্দীর মাথা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন ইন্সপেক্টর সিমোটসুকি।বোঝা যায় যে সেই লোক পলাতক শিনয়া কোগামীর সাথে পরিচিত।এখন কোগামীকে ফিরিয়ে আনতে আকানে রওনা দেয় গৃহযুদ্ধরত দ্বীপ SEAUn এর উদ্দেশ্যে।যেখানে পরিক্ষামূলকভাবে জাপানের মত সিবিল সিস্টেম কার্যকর করা হয়েছে।কিন্তু আকানে যেমনটা চেয়েছিল,তেমন সহজে কোগামীকে ধরতে পারে না,বরং সেই দেশের বিশ্রি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে,তার সাথে উন্মোচিত করে সিবিলের আরো একটি রহস্য।
উল্লেখ্য,সম্পূর্ণ কাহিনীতেই ২য় সিজনের ভাইব স্পষ্ট।সিবিলের ও আকানের ভুমিকা আগের মতই ছিল।বোনাস ছিল কোগামীর ফিরে আসা।

PP 2

Characters Setup:মূলত সব আগের চরিত্রই।নতুন সাইড ক্যারেক্টার ছিল প্রচুর,জানি না ৩য় সিজনে (যদি বের হয়) তাদের আদৌ কোন আগমণ ঘটবে কিনা।তবে চরিত্রগুলোর বেশ ভাল সম্ভাবনা আছে।সবচেয়ে অপ্রিয় নতুন চরিত্র নিকোলাস ওং,প্রিয় কেউ নেই।আগেই জানতাম,শোগো মাকিশিমার মত অসাধারণ কেউ থাকবে না।কোগামিকে দেখার জন্যই যে আগ্রহ ছিল,ধুন্ধুমার একশনে সেই ক্ষুধা লাঘব হয়েছে আমার ক্ষেত্রে।তবে চরিত্রে বড় কোন পরিবর্তন ছিল না।আকানে সুনেমরিকে যেরকম আশা করেছিলাম,তেমনই “রেডী ফর একশন” মুডে পেয়েছি।আর ডাব দেখা ভাল অপশন হবে বলে মনে হচ্ছে।জাপানী ভয়েস এক্টরদের গলায় ইংরেজি শোনা বরাবরই পীড়াদায়ক।যদিও এর বাইরে কোন অভিযোগ করার সুযোগ নেই।সব চরিত্রই জীবন্ত লেগেছিল।

PP 3

Theme setup, Music and Animation:গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত দেশ SEAUn.দরিদ্রতা,বৈষম্য এবং সিবিলের শোষণ।পাশাপাশি মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু লোকের মরিয়া চেস্টা।নতুন প্রেক্ষাপটই বলা চলে।তবে আনিমের সাথে খুবই মানানসই, সন্দেহ নেই।ভাওলেন্স আগের তুলনায় পরিমিত ছিল।তবে একশনের কমতি ছিল না।সবচাইতে প্রিয় মুহূর্ত ছিল কোগামির বাহিনীর সাথে নিকোলাস বাহিনীর দুধর্ষ যুদ্ধ এবং পিছনে অসাধারণ ক্লাসিকাল মিউজিক, destruction goes on. শুধুমাত্র এই কয়েক মিনিটের জন্যই পুরো মুভির ভুল-ত্রুটি মাফ করে দেয়া যায়। মুভির এন্ডিংয়ে নতুন কোন গান ব্যবহার করলে আরও ভাল হত হয়ত।তবে যেটা ব্যবহার করা হয়েছে, ইগোইস্টের Namae no nai Kaibutsu গানটি আমার,সবারই অনেক প্রিয়। আর আনিমেশন,আর্টওয়ার্ক নিয়ে কি আর বলব? Production I.G আমাকে সবসময়ই ইম্প্রেস করতে সক্ষম হয়েছে,এবারও ব্যতিক্রম হয় নি।এই বছরের আমার দেখা মুভিগুলার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় আনিমেশন সো ফার।আর এই আনিমেশনে দূর্দান্ত একশন চোখের ব্যায়াম ছিল।

Overall Rating:
MAL Rating: 8.15
My Rating: 8.6

PP 4

সব মিলিয়ে বেশ হাই বাজেটের,হাইপড একটা মুভি।সেই হিসেবেও বেশ ভাল অঙ্কের আয় করতে সক্ষম হয়েছে এটি।সাইফাই কারিকুরি বরাবরের চেয়ে বেশি ভাল ছিল।তাই ১ম সিজন দেখা হয়ে থাকলে আর এক ঘন্টার বিনোদন পেতে চাইলে দেখে ফেলুন।

Destruction goes on-

https://www.youtube.com/watch?v=-cnly0dodeI

PP 5

Movie Time With Yami – 54

Name: Psycho-Pass Movie
Duration: 1 hr. 53 min.
MAL Score: 8.41
Ranked: 348
Genres: Action, Sci-Fi, Police

শুরুতেই বলে রাখি, আমি এই রিভিউটাতে কিছুটা ভেতরের স্টোরি আলোচনা করেছি, কাজেই মুভি দেখা না থাকলে আগে দেখে নেয়াটা ভাল হবে বোধকরি।

সাল, ২১১৬। জাপানে আধিপত্য চলছে সিবিল সিস্টেমের। এই সিস্টেমের অধীনে পুরো দেশটিতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে, যেখানে বাকি পৃথিবীর বেশিরভাগটাই ছেয়ে আছে অশান্তি ও যুদ্ধ-বিগ্রহ দিয়ে।

এমনই এক যুদ্ধ কবলিত এলাকা সাউথ ইস্ট এশিয়া ইউনিয়ন। তাদের এলাকায় যুদ্ধ মাত্রই শেষ হয়েছে। কিন্তু তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে তাদের প্রশাসন। তাই, দ্রুততম উপায়ে দেশটির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দেশটির প্রশাসন শরণাপন্ন হয় সিবিল সিস্টেমের। পরীক্ষামূলকভাবে সিবিলকে পাঠানো হয় জাপানের বাইরে, যেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে শাম্বালা- এক ভাসমান নগরী, যেখানে যুদ্ধ-বিগ্রহের চিহ্ন নেই, আছে শুধু সিবিলের অনুমোদিত শান্তিপ্রিয় ও কর্মঠ মানুষ।

কিন্তু এদের সাথে শিনিয়া কৌগামির সম্পর্ক কি? সে কেন এই SEAUn এ সন্ত্রাসীদের সাথে যোগ দিয়েছে? জাপান থেকে তদন্ত করতে SEAUn এ আসে ইন্সপেক্টর সুনেমোরি আকানে। অবশেষে কি জানতে পারা যাবে নিরূদ্দেশ হয়ে যাওয়া শিনিয়া কৌগামির আসল উদ্দেশ্য?

মুভিটি সাইকো পাস নামক বিখ্যাত অ্যানিমেটির সিক্যুয়াল, আর্টওয়ার্ক, ক্যারেক্টার ডিজাইন সবকিছুই আগের মতই আছে প্রায় (যদিও শিনিয়া কৌগামির সিক্সপ্যাক দেখে খুব একটা ভাল লাগেনি আমার)। ওএসটি আগের মতই অসাধারণ, লিং তোশিতে র করা ওপেনিংটা খুব আহামরি না লাগলেও যথেষ্ট ভাল, সেইসাথে ফ্ল্যাশি ভিজুয়াল একে আরও আকর্ষণীয় করেছে। এন্ডিং থিম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে সাইকো পাস সিজন ১ থেকে আমার অতিরিক্ত পছন্দের একটি গান, ইগোইস্ট এর করা “নামায়ে নো নাই কাইবুতসু”। মুভিতে মেকার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল, ক্ষেত্রবিশেষে সেটা মেনে নিতে একটু কষ্টই হচ্ছিল, তবে হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাটগুলো ভাল ছিল। SEAUn এর পরিবেশ দেখে আমার বারবার টেম্পল রান গেমটির কথা মনে পড়ছিল (:v), বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে তাই! কাহিনী সাইকো পাসের আগের দুটো সিজনের মতই, সিবিলের কার্যকারিতার দিকে ছুড়ে দেয়া প্রশ্ন এবং আকানে সুনেমোরির মানসিক যুদ্ধ। আর সেইসাথে বোনাস ছিল নিকোলাস ওয়াং এর কণ্ঠে হিরোশি কামিয়ারকে পাওয়া!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Psycho-Pass-Movie

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

সাইকো পাস সিজন ২ আলোচনা; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

psy

একটা অ্যানিমে যখন আমাদের ভাল লাগে, তখন আমরা সবাই আশা করি যে ঐ অ্যানিমেটার আরেকটা সিজন আসুক, এবং একই রকম চমক উপহার দিক আমাদের। আর অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রি চলেই আমাদের এই এক্সপেকটেশনের ওপর নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে সাইকো পাসের সফলতার পরে যখন সিজন ২ আসার খবর পাওয়া যায়, আমরা আগ্রহ নিয়ে দেখব এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে এটা আমাদের আশা পূর্ণ না করে যদি শুধু নাম ভাঙিয়ে খাওয়ার একটা প্রচেষ্টা হয়, তাহলে বিরক্ত লাগাটাও স্বাভাবিক। এখন প্রশ্ন হল, সাইকো পাস সিজন ২ আগের সিজনের সেই চমৎকার এক্সপেরিয়েন্সটা দেয়ার ক্ষমতা রাখে কিনা।

প্রথমে দেখা যাক, কি কি কারণে সিজন ২ অনেকের দেখতে ইচ্ছা না হতে পারে।

# প্রথম সিজনটা ছিল গেন উড়োবুচির সৃষ্টি। কিন্তু পরেরটায় তিনি কোন কাজই করেননি। এটা খুব সহজেই ধরে নেয়া যায় যে অন্য কেউ তার লেখা গল্প তার মত করে এক্সিকিউট করতে পারবে না, কাজেই সবচেয়ে বড় রিস্কটা ওখানেই। তবে শেষমেশ অবস্থা কি হল, তা জানতে হলে তো দেখতেই হবে।

# Studio পাল্টে গেছে। এটা যদিও আমার কাছে তেমন বড় ফ্যাক্ট না, তবে বাজেট, গ্রাফিক্স আরও যা যা একটা অ্যানিমে বানাতে প্রয়োজন, সেটা তো এরই সাথে পাল্টাবে। তবে এইক্ষেত্রে আমার চোখে গ্রাফিক্সে খুব পার্থক্য ধরা পড়েনি, হয়ত এপিসোড সংখ্যা কমিয়ে সেটা ম্যানেজ করা গেছে।

# শিনিয়া কৌগামি। সবচাইতে বড় পার্থক্যটা সে একা গড়ে দিয়েছে। এই সিজনে একমাত্র আকান সুনেমোরির কল্পনাতে ছাড়া কোথাও তার দেখা নেই। একটা প্রধান চরিত্রের অনুপস্থিতিটা অনাগ্রহ জাগিয়ে তোলার জন্যে যথেষ্ট।

# Storyline এ আগের সিজনের সাথে ধরতে গেলে কোন সম্পর্কই নেই। আবার সেই সিবিল সিষ্টেমকে চ্যালেঞ্জ, এটাকে জাজ করার প্লট, আকানে সুনেমোরির ওপর প্রেশার। ক্রাইম সিনে মারামারি কাটাকাটি যা হয় তা এই সিজনের চরিত্রগুলোর মাঝেই সীমাবদ্ধ। সম্ভবত গেন উড়োবুচি নিজের সৃষ্ট চরিত্রগুলোকে নিজহাতে খুন করতে চান।

# আগের সিজনের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্রুটাল করার চেষ্টা করেছে। এবং তাতে কিছুটা মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

# ক্যারেক্টার ডিজাইন কিছুটা বিরক্তিকর। প্রায় সব ফিমেল ক্যারেক্টার দেখতে একই রকম। আমি শেষ এপিসোড পর্যন্ত তাদের চিনতে ভুল করেছি বারবার।

# শুরুর দিকে কাহিনীটা একটু জট পাকিয়ে গিয়েছিল। পরে যেটা শুধরে নেয়।

# সবশেষে আবার স্টোরিটাকে মোটামুটি ঐ সিজন ১ যেখানে শেষ হয়েছে ঐরকমই একটা পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যদিও এটা কেবল একটা অনুমান মাত্র, ঠিক নাও হতে পারে।

এবার বলি কেন আমার কাছে সাইকো পাস সিজন ২ কে ভাল লেগেছে।

# কৌগামি নেই, মাকিশিমা নেই, তো কে আছে? কিরিতো কামুই। মাকিশিমা যদি ক্রিমিনালি অ্যাসিম্পটোম্যাটিক হয়, তো কামুই আরেক আশ্চর্য বস্তু। কামুই এর কাজকর্ম দেখার জন্য হলেও এটা দেখা উচিৎ।

# স্টোরিলাইন। সিবিল সিস্টেমকে বেশ ভালভাবে সংশয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে কিরিতো। টানটান উত্তেজনাটা ধরে রাখতে পেরেছে।

# আকানে সুনেমোরি। সে যেভাবে ল’ কে প্রতিনিয়ত বুদ্ধিমত্তার সাথে রক্ষা করে যাচ্ছে, তার প্রমাণ আরও একবার পেতে ভালই লাগবে।

# আমি নিশ্চিত সুনেমোরির কালার নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন আছে। ওর কালার কি আসলেই কখনো পাল্টাবে না? Well, there is a surprize for you regarding that fact!

# নতুন ইনস্পেক্টর এবং এনফোর্সার আছে বেশ কয়েকজন, তারা যদি হঠাৎ করে মুভিতে এসে পড়ে, চিনতে কষ্ট হবে। তারওপর একরকম দেখতে, ঐ ব্যাপারটা তো আছেই।

# সিবিলকে কামুই এর শেষমূহুর্তে ছুড়ে দেয়া প্রশ্নটা। এটা মুভির সাথে সিজন ২ কে জুড়ে দিতে পারে।

# সিবিল নিজেকে কিভাবে পাল্টাবে কামুইকে জাজ করতে। এটা জানাটা বোধহয় সবারই উচিৎ।

# মাত্র ১১টা এপিসোডের মাঝে অনেক কিছুই দেখিয়ে ফেলেছে, যে সময়টা দেখতে ব্যয় হবে, তা মোটেই নষ্ট হবেনা।

সবমিলিয়ে সাইকো পাস সিজন ২ কে আমার কাছে অনেকটা ফিলার সিজনের মত মনে হয়েছে। কিন্তু এঞ্জয়েবল, ভাল স্টোরিলাইনের এবং চমৎকার ওএসটি যুক্ত একটি ফিলার এবং আমি বেশ উপভোগ করে দেখেছি। আবার বলাও যায়না, কোন না কোনভাবে মুভির কাহিনী যদি এর সাথে জুড়ে যায়, তাহলে এটা মাস্ট ওয়াচে পরিণত হবে। কাজেই, আমার মতে, মুভি আসতে আসতে একটু কষ্ট করে এটা দেখে নেয়াটাই উচিৎ।

সাইকো পাস – সিস্টেম সিবিল এবং বাস্তবতার সংঘর্ষ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

maxresdefault

 

এপিসোড সংখ্যা- ২২
জনরা- একশন​, সাই-ফাই, পুলিশ​

আমাদের পৃথিবী সাধারণত যে নিয়মটা ফলো করে- অপরাধ আগে ঘটবে, তারপর অপরাধীকে শাস্তি দেয়া হবে। অপরাধের প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেয়া যাবেনা। কিন্তু কখনো কি কারও মনে হয়েছে, যদি এরকম কোন ব্যবস্থা থাকত যে কোন অপরাধ ঘটার আগেই সেটাকে কোনভাবে ঠেকানো যাবে? বা এমন কোন যন্ত্র থাকবে, যা দিয়ে স্ক্যান করে অপরাধ ঘটার আগেই অপরাধীকে সনাক্ত করে তাকে বিরত করা যাবে?

আমাদের আনিমেটির কাহিনী ভবিষ্যতে, যখন এইরকম একটি যন্ত্র আসলেই আবিষ্কৃত হয়েছে। এবং শুধু আবিষ্কার বললে ভুল হবে, জাপানে এই যন্ত্রেরই রাজত্ব চলছে। যন্ত্রের নাম সাইকো পাস, আর পুরো ব্যাবস্থাটার নাম সিবিল সিস্টেম। প্রত্যেকটা মানুষের একটা করে সাইকো পাস রয়েছে। এটা দিয়ে তাদের অপরাধ প্রবণতা পরিমাপ করা হয়। যদি অপরাধ প্রবণতা কোন কারণে বিপদসীমা অতিক্রম করে তাহলে তার সাইকো পাস ঘোলাটে হয়ে যায় এবং রাস্তায় রাস্তায় বসানো শত শত স্ক্যানারে তা ধরা পড়ে। সেই মানুষটিকে চিকিৎসা দেয়া হয়, যাতে তার সাইকো পাস ঘোলাটে থেকে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। আর যদি বোঝা যায় যে তার সাইকো পাস কোনভাবেই আর ক্লিয়ার হবেনা, তাহলে তাকে সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করা হয়। দেশে কোন আইন আদালত নেই, পুলিশদের হাতেও এখন আর পিস্তল বা রিভলবার নেই, আছে ডমিনেটর। এই যন্ত্র সাইকো পাসকে স্ক্যান করে অপরাধের মাত্রা নির্ধারণ করে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে। কেউ বড় কোন অপরাধ করতে চেষ্টা করলে ডমিনেটর তাকে এলিমিনেট করে দেয়, আবার অপরাধ ছোট হলে বা অন্য কোন কারণে সাইকো পাস ঘোলা হলে প্যারালাইজড করে দেয় যাতে তাকে চিকিৎসা দেয়া যায়। বিচার করার সব দায়িত্ব এখন সিবিল সিস্টেমের।

এই সময়ে জাপানের পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগ দেয় আকানে সুনামোরি। এরপর সে পরিচিত হয় ডমিনেটর যন্ত্রটার সাথে এবং তার কলিগ ইন্সপেক্টর এবং এনফোর্সারদের সাথে। এনফোর্সার তাদের বলা হয়, যাদের সিবিল সিস্টেম সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করেছে, কিন্তু ইন্সপেক্টরের খবরদারিতে রেখে তাদের অপরাধ প্রবণতাকে কাজে লাগানো হয় অপরাধী ধরতে। তাদের সাথে আকানে সুনামোরি কাজ করতে থাকে এবং দক্ষতা অর্জন করতে থাকে।

কিন্তু যত সময় যেতে থাকে, সমস্যা দেখা দেয়। একটা যন্ত্র কি আসলেই অপরাধী সনাক্ত করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়, বা যন্ত্র যাকে সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করেছে, সে কি আসলেই অপরাধী, নাকি অন্য কোন কারণে তার সাইকো পাস ঘোলা হয়েছে… এই প্রশ্নগুলো উকি দিতে থাকে। আবার উল্টো প্রশ্নও সামনে এসে পড়ে। যদি কখনো এমন হয়, কোন মানুষ এমন উপায় খুঁজে বের করে ফেলেছে, যাতে তার সাইকো পাস সবসময় পরিষ্কার থাকে, তাহলে কি হবে? তার মাঝে যদি সিবিল সিস্টেম অপরাধ প্রবণতা খুঁজে না পায়, তাহলে তাকে কিভাবে ধরা হবে??

এভাবে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা প্লট নিয়ে এবং খুব চমৎকার কিছু ক্যারেক্টার নিয়ে গড়ে উঠেছে সাইকো পাস আনিমেটি। প্রতিটা ক্যারেক্টার অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আনিমেটি তার প্রমিস ধরে রেখেছে বলে আমি মনে করি। শিনিয়া কোগামি চরিত্রটি আমার পছন্দের চরিত্রের তালিকায় খুব দ্রুতই জায়গা করে নিয়েছে।

এই আনিমের আরেকটা ব্যাপার উল্লেখ না করাটা অন্যায় হবে, তা হল এর ওএসটি। প্রতিটা গান পাল্লা দিয়ে সুন্দর এবং মনে ছাপ ফেলে দেয়। আমার ব্যাক্তিগত পছন্দ প্রথম এন্ডিং সং “নামায়ে নো নাই কাইবুতসু বাই ইগোইস্ট”। শোনার পর থেকে ইনফিনিট লুপে দিয়ে রেখেছি।

খুব জলদি এই আনিমেটার সেকেন্ড সিজন বের হতে যাচ্ছে, কাজেই যারা এখনো প্রথম সিজন দেখেননি, তারা দেখে ফেলতে পারেন। আর যারা দেখেছেন তারা তো সবাই জানেনই এটা কতটা ভালো একটা আনিমে!

সাইকো পাস

Psycho pass: সিস্টেম সিবিলাস কিংবা সংখ্যায় অস্তিত্বের পরমাপ– লেখক আসিফুল হক


“I want to see the splendor of people’s souls.” – Makishima shogo.

ধরুন; কোন এক সুন্দর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন দেশ থেকে সব মারামারি কাটাকাটি সব দূর হয়ে গেসে। পাব্লিক সব “আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” গান গাইতে গাইতে যার যার কাজে যাচ্ছে। কিভাবে? ধরুন; দেশ থেকে থানা পুলিশ কোর্ট কাচারি আদালত সব উঠে গেসে; এইগুলোর আসলে দরকারই নেই। এমন টেকনোলজি বের হয়েছে যে রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাগানো ক্যামেরা স্ক্যান করেই বলে দিতে পারবে কে কি অপরাধ করতে যাচ্ছে; কে মনে মনে কি ভাবছে; কার ট্যালেন্ট কি; এই মুহূর্তে কার কি করা দরকার – সব। যন্ত্রের স্ক্যানে একবার ধরা খেলেই সব শেষ; সেই লেভেলের সব অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হাজির; ধুমধাম যা ব্যাবস্থা নেওয়ার নিয়ে নিবে।

মোটামুটি এইরকম একটা প্লট নিয়েই শুরু হয়েছে “psycho pass” এনিমটার কাহিনী। দূর ভবিষ্যতে জাপান এমন একটা সময়ে বাস করতেসে যেখানে সব কিছুই কন্ট্রোল করে “সিবিল সিস্টেম” নামক একটা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম। যদিও সিস্টেমটি কিভাবে কাজ করে কিংবা আদৌ সিস্টেমের সব সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত কি না – সেটা কেউ ভেবে দেখে না; আসলে প্রয়োজন মনে করে না। কারন এই সিস্টেম সমাজে এক ধরণের কড়া “rules and order” maintain করতে সক্ষম হয়েছে। জনগন এই শান্তির বিঘ্ন কিছুতেই চায় না।


“The law doesn’t protect people. People protect the law. People have always detested evil and sought out a righteous way of living. Their feelings, the accumulation of those peoples feelings are the law. They’re neither the provisions, nor the system. They’re the fragile and irreplaceable feelings that everyone carries in their hearts.” – Tsunemori akane.

এই পর্যন্ত পরার পর প্রথম রিএকশন যেটা হওয়া স্বাভাবিক সেটা হল, “ভালই তো; প্রব্লেমটা কই? যন্ত্র সমাজ কন্ট্রোল করতেসে; শান্তি বজায় রাখতেসে; সমস্যাটা কই?” Well; দুইটা সমস্যা। এক – যন্ত্র কি আসলেই মানুষের মনের পরিমাপ করতে পারে? ভাল মন্দ অপরাধ শিল্প মানবিকতা – এই জিনিসগুলো কি আসলেই পরিমাপযোগ্য? কিছু certain criteria ধরে হয়ত একটা ঘটনাকে “অপরাধ” বলা যেতে পারে; কিন্তু অপরাধ ঘটার আগেই কি সেটা যন্ত্রের মাধ্যমে প্রেডিক্ট করা সম্ভব? কিংবা ভালর সংজ্ঞাটা আসলে কি? মন্দের সংজ্ঞাটাই বা কি? আইন কি? কোন অপরাধের কি শাস্তি হওয়া উচিত তা পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা না করে যন্ত্র কি সিদ্ধান্ত নিতে পারে নাকি নেওয়া উচিত? সমাজের চলার পথে মানুষের কিছু বিশ্বাস, কিছু আশা আকাঙ্খা, কিছু তৈরি করা নিয়মই কি আইন নয়? এধরণের বেশ কিছু rhetorical প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করা হয়েছে – কিংবা বলা ভাল – প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে এই এনিমে।

সমস্যা দুই – সিস্টেমেই সমস্যা। এনিমটা কিছু দূর আগানোর পর দেখা যায় এমন কেউ বা কিছু লোক আছে যারা দিব্যি অপরাধ করে যাচ্ছে – সিস্টেম তাদেরকে স্ক্যান করে সেখানে “অপরাধপ্রবনতা” খুজে পাচ্ছে না। কিসের জন্য? জানতে হলে দেখতে হবে এই এনিমটি।

স্টোরিলাইন নিয়ে খুব একটা গভীরে যাচ্ছি না; চরিত্র বিশ্লেষণ নিয়েও না। স্টোরিলাইন খুব একটা জটিল না; বর্ণনা করতে গেলেই প্রচুর স্পয়লার চলে আসবে। আর ক্যারেকটারের কথায় আসি – মুল ক্যারেক্টার আমার কাছে দুইজন। “Shinya Kōgami” আর “Shōgo Makishima”। যদিও দুই জনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক এবং বুদ্ধির লড়াই পুরো সিরিজের অন্যতম মুল উপজীব্য; কিন্তু এদের মধ্যে কে যে নায়ক আর কে যে ভিলেন পুরোপুরি কখনই নিশ্চিত হওয়া যায় না। জোরাজুরি করলে মাকিশিমা কে ভিলেন আখ্যা দেওয়া যায়; তবে পুরো সিরিজে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র ছিল এই মাকিশিমাই। যদিও ভাল মন্দ হিরো ভিলেন –রোলগুলো এই এনিমের প্রেক্ষিতে একটু টাফ। যারা ডেথ নোট দেখসেন তারা ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। যদিও psycho pass কোন দিক দিয়েই death note এর ধারেকাছেও না; জাস্ট dilemma টা বোঝানোর জন্যই এখানে death note এর reference টানা।


“Everyone is alone. Everyone is empty. People no longer have need of others. You can always find a spare for any replacement. Any relationship can be replaced.” – Makishima Shogo.” 

বাকি সব দিক গুলো নিয়ে এক কথায় বলতে গেলে – সুন্দর প্লট; মোটামুটি চলে টাইপ স্টোরি; adorable and likable ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এবং interesting এন্ডিং। খুব বেশি নাড়া দেওয়ার মত ঘটনা না হলেও চরিত্র রুপায়ন আর বাকি সব দিক মিলিয়ে ভালই উৎরে গিয়েছে। গানগুলো বেশ সুন্দর; এমনকি একটা এন্ডিং সং এখন আমার মোবাইলের রিংটোন এবং আমি আমার রিংটোন এর ব্যাপারে যথেষ্টই খুতখুতে।

সুতরাং দেরি না করে আজই দেখে ফেলুন এই জম্পেশ এনিমটি; আশা করি ঠকবেন না।

এনিম নিয়ে আড্ডা দিতে চাইলে; ছবি আঁকতে কিংবা দেখতে চাইলে; মজার সব কুইজে অংশ নিতে চাইলে জয়েন করতে পারেন ফেসবুকে “এনিমখোর” গ্রুপে।

শেষ করব এই এনিমে আমার অন্যতম প্রিয় একটা লাইন দিয়ে –
“Books are not something that you just read words in. They’re also a tool to adjust your senses.”

হ্যাপি এনিমিং।