Rose of Versailles [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Rose of Versailles

এনিমে: Rose of Versailles
পর্ব সংখ্যা: ৪০
জনরা: হিস্টোরিকাল রোমান্টিক-ড্রামা

ইতিহাস কবে থেকে এতো বিনোদনময়ী এবং চিত্তাকর্ষক? ছোটবেলায় আম্মু যখন জোড় করে সমাজ বইয়ে বাংলার নবাবদের কাহিনী পড়াতো, তখন তো এরকম আগ্রহ নিয়ে বসে থাকতে পারি নি। সতেরশ শতাব্দীর ফ্রেঞ্চ বিদ্রোহের উপর ভিত্তি করে এই এনিমেটা তৈরি। এনিমে ইতিহাসের সেরা কাজগুলোর মধ্যে একটি এই এনিমে এবং সকল এনিমে ভক্তদের দেখা উচিৎ এনিমেটি।

কাহিনীঃ ১০/১০
খুব কম এনিমের কাহিনী আপনার চোখকে টিভির পর্দার সাথে এভাবে লাগিয়ে রাখবে। প্রতিটা পর্ব শেষ হবার পরেই পরবর্তীতে কি হবে এটি জানার জন্যে যে আপনি কখন পরের পর্বটি শুরু করে দিয়েছেন তা আপনি নিজেও টের পাবেন না। কাহিনীগত দিক থেকে এনিমেটি সাধারণত সত্য তথ্য ব্যাবহার করে থাকে, যদিও কাহিনীতে ছোট-খাটো বহু জিনিস আছে যা বাস্তবে ঘটে নি এবং কিছু নতুন চরিত্র আছে যাদেরকে এই কাহিনীটির জন্যে লেখা হয়েছে। তবে মূলত এনিমেটি সঠিক ইতিহাসটিকেই ফুটিয়ে তুলেছে। দর্শক হিসেবে আমরা নিজেদের চোখের সামনে দিয়েই দেখতে পাই শাসকদের জুলুমের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের সাধারণ জনগণের বিদ্রোহ এবং ফ্রেঞ্চ শাসকতন্ত্রের পতন। অসাধারন ভাবে এনিমেটি এই বড় ইতিহাসটিকে ফুটিয়ে তুলেছে। এনিমের কাহিনীটি ২০ বছরের ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এতো বড় কাহিনীর উপর ভিত্তি করে চিত্রনাট্য লেখা চারটি খানি কথা নয় অথচ এই এনিমেটি এই কঠিন জিনিসটিকে চমৎকার ভাবে প্রদর্শন করেছে। কাহিনীগত দিক থেকে এটি এনিমের সেরা কাহিনী মনস্টার, লেজেন্ড অফ দা গ্যালাক্টিক হিরোস, নিওন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিওনের কাতারেই নিজের জায়গা করে নেয়।

চরিত্রঃ ১০/১০
চরিত্র যেকোনো লেখার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। একটি ভালো কাহিনী হচ্ছে একটি মানুষের মস্তিস্ক এবং এর চরিত্রগুলো হচ্ছে দেহের অঙ্গ। ভালো চরিত্র ছাড়া একটি ভালো কাহিনী কখনই ফুটে উঠতে পারে না। ৪০ পর্বের এই এনিমেটির চরিত্রায়ন যেভাবে করা হয়েছে, আমার মনে হয় না যে, খুব বেশি নোবেল জয়ী লেখকও এত চমৎকার ভাবে কাজটি করতে পারবেন। অস্কার সম্ভবত এনিমে ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা নারী চরিত্র। চরিত্রায়নের দিক থেকে সম্ভবত আসুকা লেঙলেয় সরইয়ুই একমাত্র নারী চরিত্র যে অস্কার থেকে উত্তম। Rose of Versailles এনিমেটিতে প্রায় ২০ টির মতো মূল চরিত্র রয়েছে যারা সকলেই কাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। মূল চরিত্রের অস্কার,আন্দ্রে,আন্তইন্নে ছাড়াও জিন, রোসালি, দি ব্রুর মতো পার্শ্ব চরিত্রগুলোও চমৎকার চরিত্রায়ন লাভ করে।

এনিমেশন এবং সাউন্ডট্র্যাকঃ ৯/১০
১৯৭৯ সালের এনিমেশন হওয়া সত্ত্বেও এর চিত্রায়ন মনোমুগ্ধকর। চরিত্রগুলোকে চমৎকার ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এনিমেশন খুবই স্বচ্ছন্দগতিবিশিষ্ট। এনিমেটার ওপেনিং “Bara wa Utsukushiku Chiru” আমার খুবই প্রিয়। এনিমেটার সাউন্ডট্র্যাকের গানগুলি যদিও এনিমের বাইরে খুব বেশি শুনতে ইচ্ছে হবে না কিন্তু এনিমের প্রতিটি মুহূর্ত ফুটিয়ে তুলতে এটি দুর্দান্ত ভুমিকা পালন করেছে।

Revolutionary Girl Utena এই এনিমেটি থেকে অনেক প্রভাবিত। উতেনা চরিত্রটি বলতে গেলে অস্কার কে উৎসর্গ করেই লেখা। Rose of Versailles এনিমের ইতিহাসে একটি অনন্ন্য অর্জন। কেবল ৭০ এর দশকেই নয়, বর্তমান সময়েও এই মানের এনিমে পাওয়া দুর্লভ। সময়ের সাথে সাথে হয়তবা এই এনিমের বয়স বেড়েছে কিন্তু এর চমত্কারী মহত্ত্ব এখনো অক্ষুন্ন আছে।

আমার রেটিংঃ ১০/১০

এফ এ সি ৫৩

রান্ডম টপিক

:3

সম্ভবত একমাত্র ইমোটিকন যেটা আনিমে থেকে এসেছে। এর অর্থ হল বিড়ালের মুখ। কিউট কোন কিছু বোঝাতে এর ব্যবহার। যেমনঃ “এই এই দ্যাখো, ওই পিচ্চিটা কি কিউট! :3”

আমাদের দেশে অনেকেই এর অর্থ না বুঝে তাদের চ্যাটে বা ফেসবুক পোস্টে এই ইমো ব্যবহার করেন। ব্যাপারটা অনেকটা “জানিস, আজকের হ্যাংআউটটা না জোস হইসে! :'( 🙁 :I” স্ট্যাটাস দেয়ার মতই।

এরকম মুখওয়ালা আনিমে ক্যারেক্টার আছে প্রচুর, সবচেয়ে জনপ্রিয় আর পরিচিত সম্ভবত লাকি স্টার এর ইজুমি কোনাতা।

 

আনিমে সাজেশন

 রোজ অব ভারসাইলেস[Rose of Versailles]

ফরাসী বিদ্রোহের আনিমে টেইক। মানব-মানবীর সম্পর্কের এক দারুন উপাখ্যান।

কেন দেখবেনঃ ঐতিহাসিক আনিমে এম্নিতেই কম, সেদিক থেকে এই আনিমে যথেষ্ট ইউনিক। ক্লাসিক এক আনিমে, যার আছে আকর্ষণীয় কাহিনীবিন্যাস আর চরিত্রায়ন। অবশ্যই এটা ইতিহাস নয়, ঐতিহাসিক উপন্যাসের মতই এতে কল্পনার রঙ চড়ানো, কিন্তু এতে জিনিসটা হয়েছে আরও স্বাদু।

কেন দেখবেন নাঃ আর্ট স্টাইল বাজে লাগতে পারে। বিশাল বিশাল চোখের পাপড়ি, স্পারক্লিং ক্যারেক্টার, এদের দেখতে খুব একটা ভালো লাগার কথা না। এছাড়া মেরি আঁতোয়ানেতের চরিত্রের উপর মাঝে মাঝে মেজাজ খারাপ করে কম্পিউটার ভাঙার ইচ্ছা হতে পারে।

ম্যাল রেটিং: ৮.৪৩

আমার রেটিং: ৮

 

মাঙ্গা সাজেশন

জোজো’স বিজার এডভেঞ্চার পার্ট ৫:ভেনটো ওরেও[JoJo’s Bizarre Adventure Part 5: Vento Aureo]

জিওরনো জিওভান্নার একটা স্বপ্ন আছে, সে মাফিয়া গ্যাঙের সদস্য হয়ে এর চূড়ায় উঠবে, আর এর মাধ্যমে পাল্টে দেবে পুরো ইতালির খোলনলচে। ডিও ব্র্যান্ডোর ছেলে যখন, বিদ্রোহ তো তার রক্তেই, তাই না? সদস্য হিসেবে তার উপর প্রথম দায়িত্ব পড়ল গ্যাঙের বসের মেয়েকে প্রটেকশন দিয়ে তাকে বসের কাছে নিয়ে যাওয়া। লঞ্ছ থেকে উধাও হয়ে গেলো তার সহকর্মীরা, ট্রেনে তাদের উপর আক্রমণ করল জরা, এমনকি আকাশপথে গিয়েও নেই শান্তি! শুরু হল পুরো ইতালি জুড়ে এক রোলারকোস্টার রাইড! অবশেষে রোমের কলাসিয়ামে মুখোমুখি হল রক্তরাজ ডিয়াভলো আর জিওজিও!

এটুকু পড়েও নিশ্চিত হতে পারছেন না মাঙ্গাটা পড়বেন কিনা? কথা দিচ্ছি, এটা আপনার জন্য এক স্বর্ণালী অভিজ্ঞতা হয়েই থাকবে!

কেন পড়বেনঃ আরাকির আঁকা হয়েছে আরও আকর্ষণীয়, দারুন ডিটেইলড। ভেনটো ওরেওর জন্য আরাকির টেইক ছিল ভিন্ন, পুরো সিরিয়াস এক কাহিনী, পার্ট ৪ এর গ্যাগগুলোর কোন চিহ্নই এখানে নেই। টানটান উত্তেজনা, এক মুহূর্তের জন্যও দম ফেলার জো নেই। স্ট্যান্ড কনসেপ্টের পুরো ব্যাখ্যা এখানে আছে, সেই সাথে মেটালিকা, স্পাইস গার্ল এর মতো  নতুন সব স্ট্যান্ড তো আছেই।

কেন পড়বেন নাঃ তেমন কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।

ম্যাল রেটিং: ৭.৯৮

আমার রেটিং ৯