Sakib’s Hidden Gems – Episode #04

আনিমে: Seirei no Moribito (Moribito – Guardian of the Spirit)

জানরা: ফ্যান্টাসি, একশন, এডভেঞ্চার, জোসেই
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
 
আজ লিখব একটি সত্যিকার অর্থেই হিডেন জেম সম্পর্কে। এই অসামান্য গল্পটি আবর্তিত হয়েছে মহিলা রক্ষী (Bodyguard) বালসা ও ইয়াগু রাজ্যের ছোট রাজকুমার চাগুমকে কেন্দ্র করে। বালসা ওর জীবনের প্রথমভাগে কাজের প্রয়োজনে আটজনের প্রাণ নিয়েছিল। পরে অনুতপ্ত হয়ে সে তার প্রায়শ্চিত্ত হিসাবে আটজনের জীবন রক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে ঘটনাচক্রে চাগুমের শরীরে প্রবেশ করেছে একটি Water Spirit এর ডিম, যেটা থেকে কিনা এমন একটি Spirit জন্ম নিবে, যা সারা দেশে ভয়াবহ খরা ডেকে আনবে। তাই বাধ্য হয়ে ওর নিজের বাবা (অর্থাৎ রাজ্যের রাজা) ওর প্রাণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন ছেলের প্রাণ বাঁচাতে ওর মা বালসাকে অনুরোধ করে চাগুমকে নিয়ে কোথাও চলে যেতে এবং ওকে একরকম মায়ের মতই আগলে রাখতে। বালসা রাজি হয় এবং এভাবেই গল্প এগোতে থাকে।
 
 
 
 
 
এই আনিমের সব জায়গায় আপনি যত্নের ছোঁয়া পাবেন। ব্যাকগ্রাউন্ড ও ক্যারাকটার ডিজাইন খুবই এস্থেটিক (আমার কাছে কেন জানি Avatar কার্টুনটার মতো লেগেছে)। গল্পটি বলা হয়েছে সময় নিয়ে ও যত্নের সাথে। চরিত্র গঠন, ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং স্রেফ অপূর্ব। প্রতিটি চরিত্রের (ভালো হোক বা মন্দ হোক) চিন্তাভাবনা ও ধ্যানধারণা নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আনিমেটিতে খুবই সুদিং ফোক ঘরানার ওএসটি ব্যবহার হয়েছে, যা আপনাকে এনে দেবে প্রশান্তি (নিচের ভিডিওটি দেখলে আপনি একটি ভালো নমুনা পাবেন) । আর সর্বোপরি আছে ফিমেইল লিড বালসা – যার মানবতা, বৈষয়িক জ্ঞান, কঠোরতা, কোমলতা, ও মাতৃত্বের অনন্য মিশেল অনায়াসে আনিমে ইতিহাসের সেরা নারীচরিত্রের দলে নিজের স্থান করে নিয়েছে। আর চাগুমও বুদ্ধি ও মনের জোরের দিক দিয়ে কম যায় না।
 

 
একটি ফ্যান্টাসি আনিমে হওয়া সত্ত্বেও আনিমেটিতে আপনি জীবনের ছোঁয়া পাবেন সবক্ষেত্রে। এটি আমি সব্বাইকে সাজেস্ট করলাম। আর এর সাথে একই লেখিকার আরেকটি মাস্টারপিস Kemono no Souja Erin ও দেখতে ভুলবেন না। এটি নিয়ে সুযোগ পেলে লিখব।

Seirei no Moribito [রিভিউ] — Urmi Nishat Nini

Seirei no Moribito

এনিমে রিভিউ
নামঃ Seirei no Moribito / Guardian of the Spirit
Genre: Action, Adventure, Fantasy, Historical
MAL ranking: 8.25
personal rating: 9
Episode number : 26
Release year: 2007

শিন ইয়োগো রাজ্যের ইতিহাস হল, প্রথম রাজা, সাথে আরও ৮ জন সৈনিক মিলে এক পানির অপদেবতাকে হারায় , রাজ্যকে ভবিষ্যতের খরা এর হাত থকে বাঁচাতে। এর পর এর ই উপর ভিত্তি করে এই রাজ্য গড়ে উঠে। কিন্তু, ইতিহাস অনুযায়ী, আরেকবার এই অপদেবতা আবার ফিরে আসবে এই রাজ্যে।
বর্তমান রাজা মিকাডোর ছোট ছেলে চাগুম। তার মধ্যে একদিন এই পানির অপদেবতা ভর করে অথবা বলা যায় এই অপদেবতার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই রাজপুত্রের মাঝে বেড়ে উঠতে দেখা যায়। রাজা এবং রাজ্যের জ্ঞানী ব্যাক্তিরা ব্যাপারটা জানার পর রাজ্যের ভবিষ্যতের কথা ভেবে রাজপুত্রকে মেরে ফেলার নির্দেশ দেয়।

বালসা নামের এক রহস্যময়ি নারী ,যে মূলত একজন দেহরক্ষীর কাজ করে, ঘটনাক্রমে তাঁর দেখা হয় রাজপুত্র চাগুম এর সাথে, এক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে যেয়ে। পরবর্তীতে চাগুমের মা বা দ্বিতীয় রানী বালসাকে রাজপ্রাসাদে ডাকে এবং বলে তাঁর ছেলের বিপদের কথা। বালসাকে দায়িত্ব দেয় তাঁর ছেলের জান বাঁচানোর জন্য। বালসা প্রথমে না করলেও পরবর্তীতে বালসার নিজস্ব কিছু কারনে দায়িত্ত্ নিতে রাজি হয়।

এর পর শুরু হয় বালসা আর চাগুম এর কাহিনি। একে তো রাজ প্রাসাদের পক্ষ থেকে বিপদ আছেই, তাঁর উপর চাগুম এর কাছে বাইরের পৃথিবীর একদম নতুন। বালসা আর চাগুম একের পর এক বিপদ এর মোকাবেলা করতে থাকে, চাগুম শিখে পৃথিবীতে মানিয়ে চলতে। এর মধ্যে নতুন কতগুলো প্রশ্ন দেখা দেয়, আসলেই কি শিন ইয়োগো রাজ্যের ইতিহাস সঠিক? নাকি কাহিনি পুরই ভিন্ন বা বানানো? বালসা এর অতীত কি ? বালসা কেনই বা চাগুম এর দায়িত্ব নিতে রাজি হল?
কাহিনিতে বালসা আর চাগুম, এই ২জনের সম্পর্কের বেড়ে উঠা , তাঁদের যাত্রা আপনাকে টানবে এই গল্পের দিকে। সময়ে সময়ে উত্তেজনা কাজ করবে যা পরবর্তীতে কি হবে তা জানতে অনেকটা বাধ্য করে। পুরো এনিমে দেখে মনে হয়েছে এ এক সুন্দর ছোট কাহিনি যাতে ভালোবাসা, কল্পনা , প্রাচীন পৌরাণিক বিশ্বাস, ইতিহাস সব মিশে এক হয়ে গেছে।এছাড়া পুরো এনিমেতে দৃশ্য গুলো দেখার মত। গ্রাম থেকে শুরু করে পাহাড়ি এলাকা, নদী , বন সব নজরকারা দৃশ্য একরকম প্রশান্তি এনে দেয়।

যদি আপনি এই ধরনের গল্পের ভক্ত হন, তাহলে এই এনিমেটা দেখে ফেলুন।