সেইশুন কৌরয়াকুহন (Seishun Kouryakuhon)
জানরাঃ শৌজো, স্লাইস অফ লাইফ
ভলিউমঃ ১
চ্যাপ্টারঃ ৮
মাঙ্গাকাঃ আকিযুকি সোরাতা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.০৫
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০
শৌজো মাঙ্গাগুলোতে সাধারণত মেয়েরাই হয় প্রধান চরিত্র। মেয়েগুলোও আবার সব একই রকম ব্যক্তিত্বের। যে কারণে ঘুরেফিরে সবগুলো মাঙ্গাই একই রকম লাগে এবং অনেকেই, বিশেষ করে ছেলেরা পড়তে চায় না। তাই আপনাদের ছোট একটা শৌজো মাঙ্গার কথা জানাব যেটা শুধু ছেলেদেরকে নিয়েই। অনেকটা নিজীরো ডেইয ধাঁচের। নিজীরো ডেইযের তো ভালোই প্রশংসা শোনা যায়। তাই আশা করছি এটা পড়তেও আগ্রহী হবেন।
মাঙ্গাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে ৪ জন বন্ধুকে নিয়ে। একেকটি চ্যাপ্টার এদের একেক জনকে নিয়ে বানানো। প্রথমে কাহিনী শুরু হয় যখন ইসেযাকি একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে পাশের মেয়েদের স্কুলের বিল্ডিংয়ের জানালায় একটা মেয়েকে পানি খেতে দেখে হা করে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটি ইসেযাকিকে লক্ষ্য করে কঠোর দৃষ্টিতে তাকালে ইসেযাকি ভড়কে গিয়ে শুধু হাত নাড়ে। মেয়েটিও উত্তরে ইসেযাকির দিকে হাত নাড়ে। এরপর থেকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে ইসেযাকি কাগজে লিখে লিখে মেয়েটির সাথে কথা বলে। নাগিসে, ইসেযাকি’র সিনিয়র মেয়েটি পড়ে মেয়েদের সাকুরানো হাই স্কুলে যেখানে মেয়েদের ছাত্রীনিবাসে থেকে পড়ালেখা করতে হয়। ইসেযাকি পড়ে ঠিক তার পাশের ছেলেদের কামিয়ামা প্রাইভেট হাই স্কুলে। কিন্তু এই দুই স্কুলের মাঝে বিশাল বড় দেয়াল তৈরি করে আলাদা করে রাখা। নাগিসের সঙ্গে ইসেযাকির দেখা করা সম্ভব না। এর উপর হঠাৎ করেই নাগিসের আর দেখা পাওয়া যায় না। সাকুরানোর আরেকটি নিয়ম হল সিনিয়ররা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ছাত্রীনিবাস ছেড়ে চলে যায় এবং স্কুলে আসে না। এটা আগে না জানা থাকায় ইসেযাকির মাথায় হাত! এখন সে কিভাবে তার ম্যাডোনার দেখা পাবে?! আর ১০টা ছেলে যেমন মরিয়া হয়ে উঠত ইসেযাকিরও ঠিক তাই হয়। সে বুদ্ধি করে আসছে গ্র্যাজুয়েশন সেরেমোনির সময় নাগিসে যখন প্রথম হেঁটে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরবে তখন ইসেযাকিও তার সঙ্গে হাঁটবে। কিন্তু ঠিক সেদিনই আবার তার পরীক্ষা পরে। পরীক্ষা দিয়ে বহু বাধা পেরিয়ে পৌঁছুতে পৌঁছুতে ততক্ষণে অনুষ্ঠানই শেষ হয়ে যাবে! ভাগ্য তার সহায় হয় না। তাই বলে ভালবাসার শক্তিকে অবমুল্যায়ন করা ঠিক না মোটেও! এই দুই স্কুলের মাঝে একমাত্র যোগসূত্র হল একটি কমন ইমার্জেন্সি হলওয়ে যেটা সবসময় বন্ধ রাখা। আরও আছে সাকুরানোর বিশাল গেট আর দেয়াল। এতকিছুর বাধা পেরোতে ইসেযাকি তার দুই বন্ধু নোগামি, উয়েমুরা আর ক্লাসমেট ইয়ুইয়ের সাহায্য চায়। কিন্তু কিভাবে কি করবে তারা…?
উত্তরটা আমি বলব না অবশ্যই। প্রথমে মনে হতে পারে এটার একটু বেশিই লুতুপুতু কাহিনী। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও তেমন না। এরপরের চ্যাপ্টারগুলো কোনটা শুধু বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে আবার কোনটা আরেকটি প্রেমের গল্প নিয়ে। ইসেযাকি আর তার বন্ধুদের কান্ডকির্তী দেখে আমি হেসেছি পাগলের মত। পুরোটা পড়ার সময় শুধু একটা জিনিসই মাথায় ঘুরত। ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এরকম দৈনন্দিন জীবনের ঘটনাগুলো দেখা যে এত মজার তা কখনো ভাবিইনি। আর প্রেম কাহিনী হলে তো কথাই নেই! মেয়েরা সাধারণত ছেলেদের চিন্তাভাবনাগুলোর সাথে অত পরিচিত না। তাই আপনি যদি মেয়ে হয়ে থাকেন এবং এসব জানতে আগ্রহী হন তাহলে বলব অবশ্যই অবশ্যই এটা পড়তে। ছেলেরা প্রেমে পড়লে কি করে তা একদম দেখার মত জিনিস! আর ছেলে হলে তো ছোটবেলায় করে আসা কোন অকাম-কুকামের সাথে মিল খুঁজে পেলেও পেতে পারেন! ইসেযাকির দলটার পাগলামি দেখে মাঝে মাঝে মনে হবে আপনিও তাদের সাথে কোন অ্যাডভেঞ্চারে বেড়িয়ে পরেছেন। কিসমাঙ্গাতে আক্ষরিক অর্থেই এটার জন্য অ্যাডভেঞ্চার ট্যাগ মারা আছে! এরকম মজার আর অ্যাডভেঞ্চারাস হলে শৌজো মাঙ্গার মত কাহিনী যে কেউই চাবে তার জীবনে।
মাঙ্গাটির আর্টও বেশ সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। আমি মাঙ্গাটি প্রথম পড়তে গিয়েছিলাম শুয়ে থাকা অবস্থায়। তারপরেও মাঙ্গার কভার দেখে মনে হল আমি উল্টায় গেলাম! হতে পারে সেটা ফ্যানগার্ল ফিলিং। কিন্তু ছবিগুলো আসলেই খুব সুন্দর। আর হবে নাই বা কেন? এ যে আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমের মাঙ্গাকার আঁকা! যারা আকা-শিরা পরেছেন তারা তো আকিযুকি সোরাতার আর্ট আর গল্পের ধরণের সাথে পরিচিত। এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেন আমি এত এই মাঙ্গার প্রশংসা করছি। বিশেষ করে আর্টের দিক থেকে তার আঁকাআকির ছাপ স্পষ্ট। ইসেযাকিকে দেখে পুরো ‘যেন উইস্তালিয়া’র মত লাগে। আবার উয়েমুরা দেখতে পুরোই ওবির মত। ইয়ুই আর নোগামির মাঝেও এই ভাবটা কিছুটা হলেও আছে।
বেশির ভাগ স্লাইস অফ লাইফ গল্প বুলিং, দুঃখ, কষ্ট, সংগ্রাম ইত্যাদির কথা বলে। আর শৌজোগুলো শুধু সুদর্শন ছেলে x একটু অন্যরকম মেয়ের গল্প বলতে ব্যস্ত। সেখানে সেইশুন কৌরয়াকুহন কিশোর বয়সের ছেলেদের ছোট ছোট ঘটনার মাঝে খুঁজে পাওয়া উন্মাদনার চিত্র দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এটার থিমটা যদি মনে ধরে কিংবা আপনি যদি নিজীরো ডেইয, কিমি তো বকু’র ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে এই মাঙ্গাটি পড়তে ভুলবেন না।

