“শিনরেই তানতে ইয়াকুমো” – Psychic Detective Yakumo review by Shafiul Munir

 

shinrei 1

কেউ যদি বলে সে ভূত দেখতে পায়, তাদের সাথে কথা বলতে পারে, বিশ্বাস করবেন তাকে? নিশ্চয়ই কোন ভাওতাবাজি করে মানুষ ঠকানোর পায়তারা! আপনার সবচেয়ে আপনজন, আদরের ছোট্ট মেয়েটা না ফেরার দেশে চলে গেছে, কেউ যদি এসে বলে তার আত্মাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে সে, কিন্তু তার জন্য একটা কমপেটিবল মিডিয়াম দরকার, তাই খুন করতে হবে তার বয়সী মেয়েদের… কি করবেন? এভাবেই অলৌকিকতার মোকাবেলায় বিভ্রান্ত হয় সাধারণ মানুষ…

ইয়াকুমো অদ্ভুত এক ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে, তার একটা চোখ রক্তলাল রঙের, ঐ চোখ দিয়ে সে দেখতে পায় মৃত মানুষের আত্মা, কথা বলতে পারে তাদের সাথে। এটা কোন আশীর্বাদ না, একটা অভিশাপ, যেখানেই যায় মৃত আর অতৃপ্ত আত্মাদের দুর্দশা দেখতে পায়, শুনতে পায় তাদের হাহাকার। The essence of dead soul is darkness…কিন্তু ইয়াকুমো এক্সরসিসম পছন্দ করে না, তার মনে হয় এই মৃতের আত্মাগুলো যেন মানুষগুলোর রেখে যাওয়া স্মৃতি, সে তাদের সাথে কথা বলে, তাদের কষ্ট আর অনুভূতির কথা শুনে বিভিন্ন অসামঞ্জস্যপূর্ণ, অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার সমাধান করতে থাকে একের পর এক। আর সাইকিকদের দুনিয়ায় এই চোখ শুধু ইয়াকুমোর একার নয়, এই লালচোখের রহস্যটা আসলে কি? মৃত আর অশুভের অন্ধকার জগত থেকে এই রক্তচক্ষু কি ইয়াকুমোকে আলোর পথে নিয়ে আসবে, নাকি ঠেলে দিবে আরো গাঢ় অমানিশায়?

মিস্ট্রি আর সুপারন্যাচারাল জনরার মিক্সচার একটা বেশ মজার একটা এনিমে। মাত্র ১৩ পর্বের, কাহিনী বেশ ভাল, মিস্ট্রিগুলো বেশ স্ট্যান্ডার্ড, ডায়ালগ বেশ চমৎকার, স্মার্ট হিউমার আছে। গানগুলাও ভালো, না দেখার কোন কারণ নেই।
আমার রেটিং সাড়ে ৮…

shinrei 2

shinrei 3

shinrei 4

 

 

 

Spiral: Lines of Reasoning anime suggestion by Shafiul Munir

ছোটকাল থেকেই নারুমি আয়ামে বুঝতে পারে সে বাকিদের থেকে বেশ ভিন্ন, অসাধারণ বুদ্ধি, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা আর পিয়ানো বাজানোর অদ্ভুত দক্ষতায়। কিন্তু তারপরও কখনোই নিজের প্রতি আস্থা রাখতে পারে না সে, কারণ সে যে কাজটাই করতে যায়, তার হায়েস্ট লেভেল সেট করে রেখে গিয়েছে তার বড় ভাই কিয়োতাকা, অনন্য একজন ডিটেকটিভ, রহস্যময় ব্লেইড চিলড্রেনদের পিছু নিয়ে যে অনেকটা স্বেচ্ছা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে, পিছন পিছন হাঁটতে ক্লান্ত আয়ামে তাই কোনকাজেই আগ্রহ পায় না। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন একের পর অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে তার আশপাশে, আর সবক্ষেত্রেই কোন না কোনভাবে জড়িত এই ব্লেইড চিলড্রেনরা। নারুমির জীবন হঠাৎ করেই যেন বদলে যায়, সে জড়িয়ে পড়ে বিপজ্জনক ব্লেইড চিলড্রেনদের সাথে একের পর এক রহস্যে। এই ব্লেইড চিলড্রেন কারা? কেন তারা আয়ামের পিছু নিল? কিয়োতাকা কেন নিখোঁজ হল? ব্লেইড চিলড্রেনদের কেন কার্সড বলা হচ্ছে? একের পর এক অজানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে থাকে আয়ামে…
ডিটেকটিভ-মিস্ট্রি জেনারের এই ২৫ পর্বের এনিমেটি আশা করছি অনেকেরই ভালো লাগবে। মিস্ট্রি গেমগুলো বেশ ভালো, আনপ্রেডিক্টেবল। তবে এনিমেটিতে একটা দূর পর্যন্ত এগুলেও, কাহিনী শেষ হয়নি, মাঙ্গা পড়তে হবে।

আমার রেটিং সেন্স খুব খারাপ, ভালো লাগলেই ভালো মার্ক্স দেই, তাই এটা সাড়ে ৮।
আচ্ছা, এই জেনারের আরো দুটি এনিমে হলো হিউকা আর গসিক, সেগুলাও বেশ ভালো।

Kimi ni Todoke anime review by Shafiul Munir

পরীক্ষার আগ মুহূর্তের বন্ধ এমন একটা সময় যখন দুনিয়ার সব এনিমে ভালো লাগে, সে যত অদ্ভুতই হোক আর স্বজেনার বহির্ভূতই হোক। কিন্তু তারপর ও ভাবি নি এই ব্যস্ত সময়ে একটা সোজো এনিমে দেখা শুরু করব, এরকম আরো কিছু মাঝেমাঝে দেখা হইসে, কিন্তু তারপরও একটু পরপর ফুল-লতাপাতা, আসমান থেকে খসে পড়া তারা কিংবা লাল-নীল-সবুজ নানা বাতি এইসব এখনো সহ্য করতে কষ্ট হয়…যাই হোক, এনিমেটার কাহিনী খুব সহজ সরল, কিন্তু কেমন যেন হিন্দি সিরিয়ালের মত টানা-হ্যাঁচড়া করতে করতে ২টা সিজনে মোট ৩৭ টা পর্ব পর্যন্ত এক্সটেন্ড করেছে।

গল্পের আবর্তন একটা ডাইনীকে নিয়ে, যাকে দেখলেই অশুভ ছায়া পড়ে, তার সাথে চোখাচোখি হলে ৭ দিন ডায়রিয়া কিংবা সর্দি-কাশি হয়, আর আশপাশে আসলে ত মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়। তাই হাইস্কুলে সবাই তাকে এড়িয়ে চলে, ক্লাস কিংবা অন্য কোনখানে তার কোন বন্ধু-বান্ধব নেই। কিন্তু এই সাধারণ ভীতু আমজনতার মাঝে ছদ্মবেশে বাস করতেন একজন কামিসামা। তিনি প্রথম দৃষ্টিতেই বুঝতে পারেন এই মহামারী ছড়ানো ডাইনী আসলে অতি অতিমাত্রায় ভালো, সহজ-সরল স্ট্রেটফরোয়ার্ড একটা মেয়ে যে কোন জোক কিংবা ইঙ্গিতপূর্ন কথাই বুঝে না। তাই সবাই তাকে ভুল বুঝে, এজন্য কেউ তার সাথে মিশতে চায় না, তার নামে অদ্ভুত সব গুজব ছড়ায়।
কাজেহায়া (কামি) ক্লাসের-স্কুলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিক্ত, ছেলে-মেয়ে সবার সাথে তার অগাদ বন্ধুত্ব, সবাইকে সে আপন করে কাছে টানতে পারে, এভাবে সাওয়াকোকেও (ডাইনী) সে কাছে টানতে চায়। সবাই যেখানে তাকে দেখলেই এক মাইল দূরে চলে যায়, কাজেহায়া তার সাথে হাসোজ্জ্বল বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করে, সাওয়াকো’র সবসময়ের স্বপ্ন ক্লাসের সবার সাথে বন্ধুত্ব করবে, কাজেহায়ার সহযোগিতায় সে আসতে আসতে সবার সাথে পরিচিত হতে শুরু করে, বন্ধু-বান্ধবী পেতে শুরু করে।

আচ্ছা, মূল কথায় আসি, কাজেহায়া প্রথম থেকেই গ্লুমি-অদ্ভুত-কনফিউসড সাওয়াকোকে পছন্দ করত, কি জন্য কি জানি! তাই এত্ত সুন্দর কাওয়াই কুরুমি চানকেও তার পছন্দ হয় নাই (কষ্ট পাইসি কিছুটা), যাইহোক আর এদিকে সাওয়াকোও তাকে পছন্দ করে, তাহলে সমস্যাটা কোথায়?! একদুইটা মিসআন্ডারস্টেন্ডিং আর ঘটনা ত ১০-১২ এপিসোডেই শেষ হবার কথা…! কি দরকার ছিল সেকেন্ড সিজনটার?! কিন্তু হায়! তারা কেউ কাউকে মুখ ফুটে বলতে পারে না রিজেক্টেড হবার ভয়ে, অপরজনকে কষ্ট দেবার কিংবা এমব্রেস করার ভয়ে… হায়রে প্রেম-ভালুবাসা !! পুরা বিধ্বস্ত হয়ে গেলাম একবার এদিক, আরেকবার ওইদিক টানাটানি, প্যাঁচড়পোচড়ি দেখতে দেখতে। আদৌ কি তারা এক হতে পারবে? যথেষ্ট সন্দেহ আছে পারে কিনা…!!

তবে এনিমেটাতে বেশকিছু ভালো ক্যারেক্টার আছে, মজার চমৎকার একটা স্কুল এনিমে, ভালো লাগার উপকরণ আছে যথেষ্ট। রেটিং করা মুশকিল, যেহেতু আমার পছন্দের জনার না, তাই একটু ফেভার করতে হচ্ছে- ৮ …
ওহ, বাই দ্যা ওয়ে- এনিমেটার নাম এতক্ষণে নিশ্চয়ই সবাই বুঝতে পেরেছেন- “কিমি নি তোদোকে”…

Bleach anime review by Shafiul Munir

 

আমাদের আশপাশে প্রতিনিয়ত অনেক এক্সিডেন্ট হচ্ছে, কখনো গাড়ি খাদে পড়ে যাচ্ছে, কখনো নৌকাডুবি হচ্ছে। অনেকে মারা যাচ্ছে রহস্যজনকভাবে, অনেক সময়ই কারণগুলো ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। ধরুণ, একদিন হঠাৎ আপনার বন্ধু এসে আপনাকে বলল, আসলে এইসব দূর্ঘটনা আপনাআপনি হচ্ছে না, কেউ সম্পূর্ণ সচেতনভাবে এসব ঘটাচ্ছে, একদল অতৃপ্ত আত্মা, যারা আপনার কিংবা আপনার আশপাশের মানুষের আত্মা শুষে নিয়ে বাঁচতে চায়। আপনি কি বিশ্বাস করবেন তাকে? নাকি মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে উড়িয়ে দেবেন? হয়ত আপনার ওই বন্ধুই প্রতিনিয়ত রাতের গভীরে বিশাল কোন সোলেমানী তরবারী নিয়ে প্রাণপণে যুদ্ধ করছে সেই প্রেতাত্মাদের হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করতে !! অথবা যদি এমন হয় যে আপনি এতদিন ধরে জীবনে যা কিছু করে এসেছেন সবই কেউ আগে থেকেই প্ল্যান করে রেখেছিল?!

অপ্রতিদ্বন্দ্বী কাহিনী, এমনই যে, আপনার চিন্তাধারাকে সম্পূর্ণ অন্য জগতে নিয়ে যেতে পারে, প্রতিদিনের ঘটনাকে আপনি উপলব্ধি করবেন খুব কাছ থেকে, ঠিক যেমন হ্যারি পটার পড়তে গিয়ে আপনি হয়ে যান উইজার্ড-উইচ, এক্ষেত্রেও আপনি রুপান্তরিত হতে পারেন সেই তরবারীওয়ালা যোদ্ধায়। ফাইটিং সিনগুলো সম্পূর্ণ ইউনিক আর অসাধারণ, প্রায় প্রত্যেকটি ফাইট আপনাকে টেনে রাখতে সক্ষম।

 

এনিমে জগতের অন্যতম বিস্ময়, বিগ থ্রির গর্বিত সদস্য ব্লিচ নিয়ে যে কথা হচ্ছে তা ত সবাই বুঝতেই পারছেন। ফাইটিং সিনগুলোর পাশাপাশি ব্লিচের যে ব্যাপারটা অস্থির সেটা হলো ডায়লগের এক্সেপশনাল ডেপথ আর খুব স্মার্ট হিউমার, ২-৪ টা মনোবিজ্ঞানের বই না পড়ে আপনি ব্লিচের সাধারণ ডায়লগগুলো নিয়ে একটু ভাবলেই দর্শনের তৃপ্তি পেয়ে যাবেন। আর পরস্পর বিপরীতধর্মী ফিলোসফির দ্বন্দ্ব খুবই উপভোগ্য এই এনিমের বিভিন্ন অংশে।


‘You should not dwell on the betrayal that you can see. The truly terrifying betrayal is that which lies utterly hidden from your eyes.’
‘If I were the rain that binds together the earth and sky, which in all eternity will never mingle, would I be able to bind the hearts of people together?’
‘Those who do not know what love is likens it to beauty, those who claim to know what love is likens it to ugliness.’
ব্লিচের মূল চরিত্র ইচিগো একটা জলজ্যান্ত মাস্টারপিস, সম্ভবত বিগ থ্রির হিরোদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নায়কোচিত। তবু সময় সময় তাকে অনেক দূর ছাপিয়ে গেছে অনেকগুলো অসাধারণ ক্যারেক্টার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আর বৈচিত্র্য দিয়ে, আইজেন, জারাকি, ওলকিউরা, ইউরোইচি, গিন, উরোহারাসহ আরো অনেক অসাধারণ ক্যারেক্টারের জন্ম দেওয়া এনিমেটির অন্যতম সার্থকতা।

সবশেষে বলতে চাই, বিগ থ্রির মধ্যে কোন এক রহস্যময় কারণে ব্লিচকে আমার খুব কম পছন্দ, তাই খুব একটা বায়াসড মন্তব্য করতে পারি নি। যাদের আইজেনের শেষ দিনগুলো ভালো লাগে নি, আরো দ্বিগুণ বিরক্ত হয়েছেন ফুলব্রিং আর্ক দেখে, ছেড়ে দিয়েছেন ব্লিচ নিয়ে যাবতীয় আশা-ভরসা, তাদের বলছি, ব্লিচের বর্তমান আর্কটিই সম্ভবত সবচেয়ে ভালো, আশা করছি কুবো তার এই মহাকাব্য শেষ করতে যাচ্ছেন ম্যাজেস্টিক স্টাইলে, একটা বিগ ব্যাঙের মধ্য দিয়ে। তাই আমি অধীরভাবে আবার এনিমে স্ট্রিমিং শুরু হবার দিন গুনছি।
তবে বলা যায় না, এমন হতেও পারে, শিনিগামী-কুইঞ্চি আর অন্যান্যদের এত্ত জটিলতার পর আইজেন হঠাৎ একদিন এসে বলল, “হা হা হা ! It was all part of my plan….”!!

 

নারুতো (একটা প্রায় বায়াসড রিভিউ টাইপ লেখা) – Shafiul Munir

ফুটবল খেলায় হাফ টাইমে ৩-০ গোলে পিছিয়ে আছি, প্রতিপক্ষ একের পর এক আক্রমণ করছে, আমরা একটুও পেরে উঠছি না, সামনে হতাশা ছাড়া আর কিছু নেই। কি করব? হাল ছেড়ে দেব পরাজয় মেনে? নাকি অসম্ভবকে চ্যালেঞ্জ করে কোন বাধাকে পরোয়া না করে এগিয়ে যাব ‘হার না মানা’ মনোবল নিয়ে?

একের পর এক পরীক্ষা খারাপ হচ্ছে, টিউশন পাওয়া যাচ্ছে না, যাকে খুব ভালো ফ্রেন্ড ভাবতেন সেও দূরে সরে যাচ্ছে, যেটা করছেন সেটাতেই লুজার হচ্ছেন, জীবনের প্রতিটি প্রান্তে কুয়াশা ঢাকা অশুভের ছায়ায় দিশেহারা। কি করব? কি করবেন? সবকিছু ছেড়ে বনে বাদাড়ে চলে যেতে পারেন, আত্মহত্যা করতে পারেন, হতাশ হয়ে মদ-গাজায় দুঃখ ভুলতে পারেন, কিংবা উজুমাকি নারুতোর মত নিয়তির নিষ্ঠুরতা আর চারপাশের প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বলে উঠতে পারেন, “Give up trying to make me give up.”

শুধু মনোবলের দৃঢ়তা নয়, আছে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ট্যালেন্টের সুউচ্চ দেয়ালকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়া, অসম্ভব টার্গেটকে শয়নে-স্বপনে-জাগরণে বিশ্বাস করে প্রতি মুহূর্তে একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া। একটা এনিমে ক্যারেক্টার এভাবেই আমাদের নিতান্ত তুচ্ছ অবমানবতা আর মানবতার সন্ধিস্থলে নিয়ে আসতে পারে অতিমানবীয় দৃঢ়তা, আর হয়ত সত্যিই বদলে দিতে পারে অনেকগুলো জীবন। আমার কাছে তাই নারুতো এনিমেটা শুধু একটা ফিকশন নয়, আর নারুতো একটা কাল্পনিক নিনজা নয়, আমার প্রতিদিনের জীবনে একটা বিশাল অনুপ্রেরণা আর আইডল। সামুরাই এক্স, ডিবিজেড আর পোকেমন দিয়ে শুরু করলেও আমার এনিমে জগতের প্রথম প্রেম নারুতো, এরপর দেখেছি আরো অনেক ভালো কিছু এনিমেও, কিন্তু প্রথম ভালবাসায় আজো কেউ ভাগ বসাতে পারে নি।

যদি ফাইটিং আর কাহিনীর ব্যাপকতা ও সৌন্দর্য্যের কথা বলা হয় তাহলে সবসময় আসবে বিগ থ্রির সবচেয়ে বেশি সমালোচিত এই এনিমেটি, সমালোচনাগুলো যথেষ্ট যোক্তিক, বর্তমান নারুতো শিপ্পুডেনের নাম এখন অনেকে বলে থাকেন ফিলার শিপ্পুডেন কিংবা উচিহা শিপ্পুডেন। মূল কারণ, একের পর এক বিশাল বিশাল সব ফিলার আর কাহিনী নিয়ে অদ্ভুতভাবে ক্রমাগত মোচরানো। মূল চরিত্র নারুতোর চাইতে যেন উচিহারাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে একটা সময় পর, আর একদম বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে সেটাকে অস্বীকার করারও উপায় নেই। তবে একদিকে যেমন সাসকে, মাদারা, ওবিতো কিংবা ইটাচির মত উচিহারা আছে, তেমনি ছিল/আছে কাকাশি, জিরাইয়া, গারা, হাশিরামা, বি, সুনাদে, শিকামারু বা অন্যান্যরা।, এই যে এত্তগুলো চরিত্র একসাথে প্রাধান্য বিস্তার করতে পারাটাই, সম্ভবত এখানেই নারুতোর মূল সার্থকতা।

নারুতো ২০১৪ তে শেষ হতে যাচ্ছে। কিশি ফুরিয়ে গেছেন, তিনি এখন গাজা খেয়ে লিখেন, তার সবচেয়ে বেশি পছন্দের ক্যারেক্টার স্টুপিড সাসকে, তার কাছে ভালো আর কি আশা করা যায়? তবে তারপর আমি এটাও ভাবি যে লোকটা এত্ত অসাধারণ সব প্লট সৃষ্টি করেছে, ইটাচি, জিরাইয়া, শিকামারু, মাদারা, কাকাশিদের মত অস্থির সব ক্যারেক্টার সৃষ্টি করেছেন, লি-গারা, নারুতো-নেজি, নারুতো-গারা, পেইন-নারুতো, ইটাচি-সাসকে সহ অসংখ্য অস্থির লেভেলের ফাইটিং সিন দেখেয়িছেন তার কাছ থেকে একটা ভয়ংকর সুন্দর আর অদ্ভুত সমাপ্তি আশা করাটা কি খুব বেশি আশা করা??

যাই হোক, আমি খুব খুশি এবং কৃতজ্ঞ যে এরকম একটা জিনিস আমি আমার জীবনে দেখে যেতে পেরেছি।

“একজন এনিমখোরের জন্য ওয়ান পিসই যথেষ্ট” – Shafiul Munir

আপনার মন খারাপ, কোন কিছু ভালো লাগছে না? কনকনে ঠান্ডায় সমস্ত কাজের আগ্রহ হারিয়ে জমে বসে আছেন? বর্ষার বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় প্রকৃতির নিরন্তর অবরোধে আটকা পড়েছেন? অথবা খুব খুশিতে গদমদ হয়ে আছেন আকস্মিক সাফল্যের আতিশয্যে? যেমন থাকুন, যেখানে থাকুন, কোন কাজ না পেলে, কিংবা কোন কাজ করতে ইচ্ছা না করলে, বোরড ফিল করলে কোনরকম চিন্তা-ভাবনা না করে ‘ওয়ান পিস’ দেখতে বসুন। 

আপনার মন খারাপ থাকলে ভালো হয়ে যাবে, ভালো থাকলে আরো ভালো হবে, আর দূর্দান্ত সময় কাটবে সেটা ত বলার আপেক্ষাই রাখে না।

আপনি হাসবেন প্রাণখুলে, চিৎকার করবেন মনের আনন্দে, কখনো চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়বে জল মনের অজান্তে, নিতান্ত অনীহা থাকলেও, প্রতিটা পর্বের সাথে ভাসতে থাকবেন অদ্ভুত স্বপ্নময়তায়, বাস্তব থেকে চলে যাবেন অনেক দূরে মনের দোলনার সর্বোচ্চ বিস্তারে।

একটুও যে বাড়িয়ে বলি নি সেটা সবাই জানেন, কারণ, এই এনিমে কম বেশি সবাই দেখেছেন, সম্ভবত একাধিকবার, আর যারা দেখেন নি তারাও অপেক্ষায় আছেন উপযুক্ত সময়ের। তাই এই লেখার খুব একটা প্রয়োজন ছিল না। তবু নিজেকে আটকে রাখতে পারি নি।

হঠাৎ হার্ডডিস্কের এক কোণে আবিষ্কার করলাম ওয়ান পিসের প্রথমদিককার কিছু পর্ব, কুরো, ডন ক্রেইগ, আরলং আর লগটাউন আরো কিছু। তিনদিন-দুই রাত কিভাবে চলে গেল বুঝতেই পারলাম না, হেসেছি, কেঁদেছি আর একটা মুহূর্তেও ল্যাপটপের পর্দা থেকে চোখ সরাতে পারিনি নেহায়েত প্রয়োজন ছাড়া।

আইএমডিবির হায়েস্ট রেটেড মুভিটির কথা বলবেন? সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালের কথা বলবেন? অসাধারণ কোন গল্প-উপন্যাসের কথা বলবেন? আমার মনে হয়, একজন এনিমখোরের জন্য ওয়ান পিসই যথেষ্ট।

KenIchi the Mightiest Disciple by Shafiul Munir

Watch KenIchi the Mightiest Disciple online
“বছরদুয়েক আগে কেনিচি দেখেছিলাম, তখন মনে হয় ভালই লেগেছিল, এখন আবার দেখতে গিয়ে ফিল করছি কি পরিমাণ অসাম এই জিনিসটা, অনেক পুরনো এনিমে, এই গ্রুপের প্রায় সবাই হয়ত দেখে ফেলেছেন, তবে যারা দেখেননি তাদের অবশ্যই দেখা উচিত, ফিস্ট ফাইটিং, মার্শাল আর্ট বেইসড, অনেক হিউমার আছে, ডায়লগ, কন্সেপ্ট খুব ই ভালো, কাহিনীও আছে। 
কাহিনীটা এক হাইস্কুলের ফ্রেশম্যান কেনিচিকে নিয়ে, সব বিষয়েই যার ভয় আর দূর্বলতা, কেনিচি এই দূর্বলতা আর দূর্নাম কাটিয়ে উঠতে যোগ দেয় কারাতে ক্লাবে শুধু আরো অপদস্থ হবার জন্য, ঘটনাক্রমে সে মিও নামের এক মেয়ের সাথে পরিচিত হয় আর যোগ দেয় এক রহস্যময় ডোজোতে ( কারাতে শিক্ষাকেন্দ্র) যেখানকার মানুষগুলো অদ্ভুত আর অবিশ্বাস্য রকম শক্তিশালী, তারপর থেকে কেনিচির জীবন পালটে যেতে থাকে একদমই। 
কোনরকম ট্যালেন্ট কিংবা ন্যাচারাল ইন্সটিংক্ট ছাড়া শুধু কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল দিয়ে যে প্রতিকূলতাকে জয় করা যায় তার জলজ্যান্ত প্রমাণ কেনিচি।
মাত্র ৫০ এপিসোডেই সমাপ্ত এনিমেটি দেখলে সবারই আফসোস হবে কেন আরো বানানো হলো না। মাঙ্গায় কাহিনী এগিয়ে চলছে বহুদূর, তবে সেটা এনিমে সিরিজের মত মজাদার নয়। এখনো মাঝে মাঝে আশা জাগে হয়ত কখনো এই সিরিজের দ্বিতীয় সিজনটা দেখতে পাব।