রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩৮: Shin Sekai Yori [From the New World] — Hasin RA Aunim

এনিমে রিভিউঃ শিন সেকায়ি ইয়োরি (ফ্রম দ্যা নিউ ওয়ার্ল্ড)
পর্বসংখ্যাঃ ২৫
ম্যাল রেটিংঃ ৮.৫৪
আমার রেটিংঃ ৮.৭

“Which came first, the chicken or the egg? Either way, we are like bubbles on the surface of a pond”

শিন সেকায়ি ইয়োরি ইয়ুস্কে কিশি রচিত একটি উপন্যাস, যা পরবর্তীতে মাঙ্গা ও এনিমে রূপ পায়!

 

কাহিনীঃ

শিন সেকায়ি ইয়োরি এনিমেটির সময়কাল ঠিক এক সহস্রাব্দ পর, ২১১১ সালের দিকে। সভ্যতায় বিপ্লব জাগিয়েছে মনের সাহায্যে সব কিছুকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করার এক অভাবনীয় ক্ষমতা, যার নাম ক্যানটাস (জুওরিয়োকু)। সর্বপ্রথম মানুষের মাঝে এই ক্ষমতার প্রকাশ ঘটে ২০১১ সালে।

কেন্দ্রীয় চরিত্র সাকি ওয়াতানাবের মাঝে এই শক্তির আবির্ভাব ঘটে অন্যদের চেয়ে একটু দেরিতে। তবে অবশেষে সেও অন্যদের মত ক্যানটাস ব্যবহারে সক্ষম হয় এবং বন্ধুদের সাথে সেও একটি বিশেষ স্কুলে যাওয়া শুরু করে যেখানে এর ব্যবহারের যথাযথ কৌশলাদি শিখানো হয়।

সাকি আর তার বন্ধু সাতোরু আসাহিনা, শুন আওনুমা, মামোরু ইতোও আর মারিয়া আকিযুকির হাত ধরেই কাহিনীর অবতারণা। তাদের নানা অভিযান, অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধির মিশেলে এনিমেটি হয়েছে শিল্পসুন্দর।

প্রত্যেকটি চরিত্র অংকনে বিশেষ মুন্সিয়িনার পরিচয় পাই আমরা এনিমেটিতে। এতে আমরা কুইর‍্যাট (বাকেনেযুমি) নামের এক ধরণের প্রাণীর দেখা পাই যারা অবলীলায় কাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়ে।

সাকি আর তার বন্ধুদের নানা ঘাত প্রতিঘাত, একটি অতি রক্ষণশীল ও পাষাণহৃদয় সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাদের নিরন্তর সংগ্রাম কাহিনীকে যেমন করেছে অনবদ্য সেই সাথে চরিত্র চিত্রায়ন হয়েছে অনিন্দ্যসুন্দর।

ছোটখাটো ডিটেইলের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে, ফলে কাহিনীটি সমৃদ্ধ হয়েছে। সেই সাথে পরতে পরতে বিস্ময়, কাহিনী কোন দিকে মোড় নিবে তা অনুমান করতে গেলে বেশ বেগ পেতে হবে।

 

আর্টওয়ার্ক ও এনিমেশনঃ

শিন সেকায়ি ইয়োরির আর্টওয়ার্ক সত্যিই মনোমুগ্ধকর ও চোখের জন্য আরামদায়ক। চরিত্রগুলো আঁকা হয়েছে সুচারুরূপে, ফলে তারা হয়েছে চিত্তাকর্ষক। প্রথম এন্ডিং এর এনিমেশন টি একেবারেই আলাদা যা ভাল লাগার মত। নিসর্গশোভা অংকনে এনিমেটর ছিলেন তুখোড়।

 

শব্দ সংযোজনঃ

পরিবেশ ও ঘটনাপ্রবাহের সাথে যুতসই ছায়াসংগীতের ব্যবহার দেখা যায় এনিমেটিতে। অনবদ্য সব সুরের ব্যবহার এনিমেটিকে অন্য উচ্চতা দিয়েছে। এনিমেটিতে কোন ওপেনিং এর ব্যবহার করা হয়নি যা কিছুটা অদ্ভুত লাগলেও দুটি মনে রাখার মত এন্ডিং সেই অভাব অনেকাংশে মিটিয়ে দেয়।

 

কন্ঠাভিনয়ঃ

এনিমেটিতে কানা হানাযাওয়া, ইয়ুকি কাজি, আয়া এন্দো প্রমুখের মত প্রথিতযশা কন্ঠাভিনেতাদের সমাবেশ ঘটেছে। সাকির কন্ঠে রিসা তানাদে সুদক্ষ ছিলেন। অন্যদের কাজ ও প্রশংসনীয়।

এনিমেটির ৮ম পর্বে কিছু অপ্রীতিকর দৃশ্যের দেখা মিলবে যার কারণে অনেকে এনিমেটি ড্রপ করতে পারেন। তবে ঐ বিষয়গুলো এসেছে কাহিনীর প্রয়োজনেই, আর কিছুদূর আগালেই যা বুঝা যাবে।

শিন সেকায়ি ইয়োরি আপনাকে ভাবাবে। প্রশ্ন করাবে। উত্তর খুঁজাবে। ঠিক ভুলের দ্বন্দ্ব, আলো আঁধারির মাঝের আবছায়া, সাদা কালোর ছেদের ধূসর জায়গাটার দিশা দিবে কতগুলো উচ্ছ্বল কিশোরকিশোরীর সাথে নেমে পড়ুন সমাজের স্বরূপ উদঘাটনে, তাদের সাথেই পেয়ে যান চূড়ান্ত অভিজ্ঞান – “নতুন পৃথিবী থেকে।”

38 Shisekai Yori

Shinsekai Yori রিভিউ — Amin Haque Isha

tumblr_na4i54LQie1taipg7o1_1280

Anime Walkthrough With Shadowgear #1
Anime Name : Shinsekai Yori
English Synonym: From The New World
Episode: 25
Mal Score: 8.52
Ranked: #89
Personal Rating: 9/10
Genres: Drama, Horror, Sci-Fi, Supernatural

ভবিষ্যৎ। শব্দটা শুনলেই চোখে ভাসে সুউচ্চ দালান,অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, স্বয়ংক্রিয় জীবন ব্যবস্থা । উন্নত এক সমাজ। কিন্তু এমন ভবিষ্যৎ কি কল্পনা করা যায় যেখানে মানুষ বাস করছে গ্রাম্য এক পরিবেশে । গ্রামীণ এক সমাজ ব্যবস্থা যেখানে মানুষ মানুষ এর কোন ক্ষতি করতে পারে না। সমাজে এ অসাধারণ শান্তি বিরাজ করছে। কিন্তু তাতেও রয়েছে এক অকল্পনীয় কাল রহস্য । আর এই এক অসম্ভব অদ্ভুত এক কাহিনি নিয়ে হাজার বছর পরের ভবিষ্যৎ কে ঘিরে গরে উঠেছে Shinsekai Yori এর স্টোরি।

হাজার বছর আগের মানুষ এর গবেষণার সফলতায় মানুষ পায় cantus নামক এ ক্ষমতা। আর এই ক্ষমতাকে নিয়েই সৃষ্টি হয় মানব্জাতির এক রক্তাক্ত অতিত। হাজার বছরের পথচলায় মানুষ গড়ে তোলে হানাহানিবিহীন এক নতুন গ্রাম্য সমাজ । এই গ্রামের ই এক মেয়ে ওয়াতানাবি সাকিকে ঘিরেই গল্পের সূচনা। ভয়ঙ্কর এক নিয়মের মাঝে নিজেদের জীবনের এক অকল্পনীয় সত্য জানতে পারা ও নিজেদের বন্ধুত্ত কে অটুট রাখার এক সুন্দর চাওয়াকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চমৎকার ভাবে। ভয়, ক্ষতি, আশা , বিশ্বাসঘাতকতা. ইচ্ছা, ক্ষমতা, মিথ্যা, এবং পরিপূর্ণতা এর এক অসাধারণ সুন্দর মিশ্রণে আনিমে টি সত্তিই অতুলনিও হয়ে উঠেছে।

আনিমে টিতে চরিত্র গুলকে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে । প্রতিটি চরিত্রেরই ছিল নিজস্ব বিচিত্রতা ও গুরুত্ত। প্রতিটি ডায়ালগ ছিল সুন্দর ও সার্থক। বাকগ্রাউনড মিউজিক গুলো স্টোরি কে ফুটিয়ে তুলেছে অসাধারণ ভাবে। তাছারা কান্না করানোর মত সিন এর নিশ্চয়তা তো আছেই! [আমার নিজেকেই কাঁদতে হয়েছে অনেকবার]

আনিমেটির গ্রাফিক্স অত্তন্ত মনমুগ্ধকর । বিশেশত ব্যাকগ্রাউন্ড Scenery গুলো তো এক কথায় চমৎকার। আর স্টোরি টা তো অবিশ্বাসো রকম অস্থির। প্রতিটা এপিসোড শেষে পরের এপিসোডে না দেখলেই নয়। [আমি নিজে ৬ ঘণ্টা টানা দেখে শেষ করসিলাম 😛 ] ইউনিক ক্যারেক্টার ডিসাইন, অসাধারণ আর্ট ও সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আনিমেতাকে এক অন্য লেভেল দিয়েছে। মজার বেপার হল আনিমে টিতে কোন ওপেনিং মিউজিক নেই । তবে এইনডিং মিউজিক টা জটিল। প্রতিটা এপিসোড এই আমাকে এই মিউজিক টা শোনা লেগেছে আর এন্দিং টাতো আপনাকে নিয়ে যাবে ভাললাগার এক অন্য দুনিয়ায় টা তো নিশ্চিত।

তাই এই কথাটা বলতে পারি, নানান টুইস্ট , ফিলস, ট্রাজেডি, হ্যাপিনেস, সেডনেস , অশাধারন ব্যাক গ্রাউন্দ এ ভরপুর এই আনিমে টি দেখার সময় কাউকেই নিরাশ হতে হবে না।
তাই দেরি না করে দেখে নিন আপনার জীবনের এক অসম্ভব ভাল লাগার মত আনিমে।
[আমাকে পরে ধন্নবাদ দিলেও হবে 😛 ]

এফ এ সি ১৩ by Farsim Ahmed

রান্ডম টপিক

হানাকো-সান

hanako

জাপানের স্কুলে থার্ড ফ্লোরে মেয়েদের টয়লেটের থার্ড স্টলে যদি তিন বার নক করে বলেন, ”হানাকো-সান, তুমি কি ওখানে আছ?” জবাব পাওয়া যাবে, ”হ্যা।” স্টলে ঢুকলে আপনি দেখতে পাবেন লাল স্কার্ট পরা এক ছোটো মেয়েকে, যে কিনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মারা গেছে।

জাপানের সবচেয়ে সেলিব্রেটেড ভূতগুলোর মধ্যে একটা হলো হানাকো সান। একে নিয়ে মাঙ্গা হয়েছে, আনিমে হয়েছে, মুভিও হয়েছে। ফ্র্যান্কলি, সবচেয়ে পিকুলিয়ার ভূতের গুজব আছে সম্ভবত মালয়েশিয়াতে, এরপরে জাপানে। জাপানের ভুত্গুলোকে নিয়ে আরো জানতে চলে যান এই লিঙ্কে।http://www.cracked.com/funny-7186-8-scary-japanese-urban-legends/

 

 

 

আনিমে সাজেশন

শিনসেকাই ইওরী(Shinsekai Yori)

shinsekai yori

বর্তমান সময়  থেকে এক মিলেনিয়াম পরে জাপানে এক সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এই ব্যবস্থায় শাসক শ্রেণী হলো কান্তাস(এক ধরনের সাইকিক পাওয়ার) ব্যবহার করতে পারদর্শী মানুষ, আর শাসিত শ্রেণী হচ্ছে বাকেনেজুমি(ইঁদুরমুখো দু-পেয়ে এক প্রজাতি )। কাহিনীর নায়িকা সাকি তার কান্তাসকে আরো ভালোভাবে ব্যবহার করতে শেখার জন্য ট্রেনিং স্কুলে গেল তার বন্ধুদের সাথে। এই অবস্থায় তারা এক যন্ত্রের কাছ থেকে আবিষ্কার করলো, তাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে ১০০০ বছরের রহস্যময় ইতিহাস, যা প্রকাশ পেলে পাল্টে ফেলতে পারে পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই। সাকির দুই বন্ধু নৃশংসভাবে খুন হলো, আরেক বন্ধু রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেল। কি করবে এখন সাকি?

কেন দেখবেনঃ সাইকোলজিক্যাল-হরর ঘরানার এই আনিমের সবচেয়ে স্ট্রং পয়েন্ট হলো এর প্লট, এটা বলে দেয়া যায়, এরকম ইউনিক প্লট খুব কম পাবেন। অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক সঠিক সব জায়গায়, সেই সাথে ভয়াবহ শকিং লাস্ট এপিসোড, এক কথায় ২০১৩ এর টপ ১০ এ থাকার মত এই আনিমে। এর প্রশংসা একটু বেশিই করছি, কারণ আনিমেটা বাংলাদেশে রীতিমত আন্ডার এপ্রিশিয়েটেড।

কেন দেখবেন না: বিল্ডিং আপ একটু স্লো, আর খানিকটা ইয়াওই এবং ইউরি এলিমেন্ট আছে, তবে সবই কাহিনীর প্রয়োজনে, এবং কখনোই মাত্রাতিরিক্ত নয়।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৪৬

আমার রেটিং ৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

নব্লেস(Noblesse)

노블레스2-1표지.indd

হান শিনউর হঠাত দেখা হয়ে গেল বোকাসোকা রাইয়ের সাথে। তার স্কুলের হেডমাস্টার ফ্র্যান্কেনস্টাইনের কথামত রাইকে সে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করলো, চমত্কার বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো তাদের মধ্যে। কিন্তু শিনউ কি জানত, রাই আসলে ৮২০ বছরের দীর্ঘ নিদ্রাভঙ্গ করে কফিন থেকে উঠে আসা এক ভয়াবহ অতিপ্রাকৃত ক্ষমতাশালী নোবেল, কাদিস এত্রামা ডি রাইজেল? আর সে হচ্ছে সব নোবেলদের রক্ষক, সবচেয়ে শক্তিশালী নোবেল, ”নব্লেস”?

 

কেন পড়বেনঃদারুন কাহিনী, কোথাও ঠেকে যাবার জো নেই, চমত্কার সব ফাইটিং সিন, প্রয়োজনে জায়গামত কোয়ালিটি গ্যাগ এলিমেন্ট আছে। ওয়েবটুন্, তাই পুরোটাই রঙিন, আনিমে দেখার স্বাদ মাঙ্গা পড়ে পাওয়া যায়। এছাড়া টিপিক্যাল সৌনেন মাঙ্গাতে যেমন নায়ককে যথেষ্ঠ স্ট্রাগল আর ট্রেনিং করে শক্তিশালী হতে হয়, এখানে নায়ক অলরেডি সবচেয়ে শক্তিশালী, কাজেই অন্য রকম একটা টেস্ট পাওয়া যাবে।

 

কেন পড়বেন নাঃনা পড়ার কোনো কারণ নেই। 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৬৯

আমার রেটিং নেই, যেহেতু কমপ্লিট হয়নি।