Gankutsuou: The Count of Monte Cristo [রিভিউ] — Siam Maksud

Gankutsuou 1

Gankutsuou: The Count of Monte Cristo

Episodes: 24
Genre: Sci-fi(!)
MAL Rating: 8.4

আলেকজান্ডার দ্যুমার “দ্যা কাউন্ট অফ মন্টে ক্রিস্টো” বইটি হয়ত অনেকের পড়া। পড়ে না থাকলে বলব কপাল অনেক ভাল। পুরোপুরি এঞ্জয় করতে পারবেন এনিমেটি। বইটির প্লটকেই স্কেলেটন ধরেই এগিয়ে গেছে গল্প। একজন দুর্ভাগা মানুষের চূড়ান্ত প্রতিশোধের গল্পই এটা। এখন জনরায় সাই ফাই দেখে অনেকের চোখ কপালে উঠতেই পারে। ১৮০০ সালের প্লটকে রূপ দেয়া হয়েছে ৫০৫৩ সালের মহাকাশে বিস্তৃত সভ্যতার গল্পে। এখানেই জাদু-কোনো আবেদনই কমেনি তাতে, বরং বেড়েছে।

অল্প কথায় প্লট বলতে গেলে, ৫০৫৩ সালে পৃথিবীর বাইরে লুনায় (সম্ভবত আমাদের চাঁদই) বেড়াতে যায় ফরাসী এরিস্টোক্র‍্যাট ফ্রাঞ্জ ও তার বন্ধু আলবার্ট। তাদের পরিচয় হয় অদ্ভূত রহস্যময় চরিত্রের লর্ড কাউন্ট অফ মন্টে ক্রিস্টোর সাথে। সে পরিচয়ের জের ধরেই প্যারিসে আসেন তিনি। সম্ভ্রান্ত ফরাসী সমাজের অনেক উচ্চমহলে জায়গা করে নেন তিনি। ধীরে ধীরে বুনতে থাকেন বিশাল এক জাল । এরপর বললে স্পয়লার হয়ে যাবে।

এনিমেটির সবচেয়ে সুন্দর দুটি বস্তু হচ্ছে ভিজুয়াল আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। এত কালারফুল সাররিয়েল আর্টস্টাইল, আভিজাত্য আর প্রযুক্তির এত সুন্দর মিশেল আমি অন্য কোনো এনিমেতে পাইনি। দেখতে দেখতে কিছুক্ষণের জন্য ধুলোমাখা আর ধূসর পৃথিবী থেকে দূরে চলে যাওয়া যায়। কাহিনীবিন্যাস বেশ ভাল। যদিও শেষের দিকে এসে কয়েক এপিসোড বেশি টানা হয়ে গেছে লাগে৷ কিন্তু শেষটা বেশ সুন্দর আর ভাল লাগার মতো৷ রাজনীতি, মানুষের অভ্যন্তরীণ লোভ, আভিজাত্যের মুখোশে ঢাকা পরা পাপ, বন্ধুত্ব আর বিশ্বাসঘাতকতার এক অনিন্দ্যসুন্দর মিশেল পাওয়া যায় এতে।

যারা এনিমেতে ম্যাচিউরড গল্প খোঁজে আর ভালবাসে ভিন্ন ঘরানার ভিজুয়াল, তাদের জন্য মাস্টওয়াচ।

বিঃদ্রঃ হাই রেজ্যুলিউশনে দেখার অনুরোধ করব।

Gankutsuou 2

Kino’s Journey: The Beautiful World [রিভিউ] — Siam Maksud

Kino no Tabi 1

কিনো নো তাবি – একটি অসাধারণ গোলমেলে যাত্রার গল্প
The world is not beautiful ; And that, in a way, lends it a sort of beauty…..

জনরাঃ এডভেঞ্চার ফিকশন, ফ্যান্টাসি, সায়েন্স ফিকশন
এপিসোড সংখ্যাঃ ১৩ + ২ টি মুভি
ম্যাল রেটিংঃ ৮.৫
আই এম ডি বি রেটিংঃ ৮.৫
আমার রেটিংঃ আহা! রেটিং নিয়ে ঝামেলা ক্যান? অতি ভাল এনিমে তো………

কল্পনা করা যাক এমন একটি সমাজের কথা যেখানে মানুষকে জীবিকার জন্য লড়াই করতে হয় না, তারা সবদিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু তাদের কাছে কি জীবনের আর কোনো অর্থ থাকবে? অথবা এমন কোনো জায়গা যেখানে কেবল শিশু আর প্রাপ্তবয়স্কদের বাস, বারো বছরের যেখানে পরেই যেখানে সরিয়ে ফেলা হয় অপ্রয়োজনীয় সব অনুভূতি, শিশুটি পরিণত হয় সমাজের ‘আদর্শ নাগরিকে’। এটা কি আসলেই সমাজের ভাল করছে? কিংবা চিরকাল সুখে থাকা এক কবি কি পারবে তার কবিতায় মানুষের দুঃখ কে তুলে ধরতে, এমনকি তাকে বাধ্য করা হলেও? এক উদ্দেশ্যহীন ভ্রমণকারীর যাত্রাপথের এমন সব গোলমেলে গল্প নিয়েই এগিয়ে চলে Kino’s Journey: The Beautiful World (Kino no Tabi)।

গল্পের শুরু কিনোকে নিয়ে, ভাবলেশহীন মুসাফির, যে কিনা একটি কথা বলা মোটরবাইক নিয়ে দেশে দেশে ঘুরে বেড়ায়।
– কেন?
– কে জানে কেন? উদ্দেশ্য নেই।

কাজের কথায় আসি। তো কিনোর গুণাবলির মাঝে একটি অনন্য গুণ হচ্ছে বেচে থাকার প্রয়োজনে অনায়াসে মানুষ খুন করতে পারা। আর তার নির্মম নির্লিপ্ততা। সে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষকে বাচিয়ে তোলে , আবার সে মানুষটা বিশ্বাসঘাতকতা করলে তাকে নির্দ্বিধায় মেরে ফেলতেও বাধে না। যাত্রাপথের কারো সমস্যাতেই নিজেকে জড়ায় না, পাশ কাটিয়ে চলে যায়।এ পাশ কাটানো কখনো মনে হয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয়, কখনো চরম নিষ্ঠুরতা। কিন্তু এটাই তার চরিত্রের বড় আকর্ষন। কিনো কিন্তু একা নয় এ যাত্রায় । তার সংগী মোটরবাইকের নাম হেরমেস। অতি ভাল যন্ত্র, কিনোর সব কথা শোনে। কথা বলে প্রচুর । তো এ দুজনের যাত্রার সংগী হিসেবে কিনো নো তাবি দেখার জন্য আমন্ত্রণ।

আমার কাছে অনেক ভাল লেগেছে এনিমেটি। এমন কিছু এনিমে মাঝে মাঝে পাওয়া যায় যা শেষ হয় কিছু চিন্তার খোরাক যুগিয়ে। হয়তো বদলে দেয় কোনো বিষয়ে পুরো দৃষ্টিভংগি। কিনো নো তাবিও এমনি একটি এনিমে কিন্তু পার্থক্যটা হলো এ পরিবর্তন ঘটবে প্রতি এপিসোডে । এপিসোডিক এনিমে, প্রতি এপিতেই নতুন নতুন গল্প, নতুন নতুন শহরের নতুন মানুষদের সাথে পরিচয়, বিভিন্ন ধরণের সমাজব্যবস্থার দেখা পাওয়া । এসবের মাঝেই কিনোর অতীত খুজে ফেরা, অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়া। মানুষের ভাল দিকগুলোর সাথে বিভৎস রূপটাও এখানে বেশ ভালভাবে দেখানো হয়েছে। ভালবাসা, করুণা , দয়ার সাথেই দেখা যায় ভয়াবহ স্বার্থপরতা, বিশ্বাসঘাতকতা, অন্যায়ের অদ্ভূত মিশেল। এ যাত্রাপথে দেখা হয় কোনো এক ভবঘুরে, স্মৃতি হারিয়ে ফেলা এক জীবন্ত কিংবদন্তি, প্রেমে পড়ে যাওয়া খুনী, ধ্বংসপ্রাপ্ত এক সভ্যতার সর্বশেষ জীবিত মানুষটির মতোই আরো অনেকের সাথে। সমাজের বিভিন্ন নিয়মের সীমাবদ্ধতাকে নগ্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে এনিমেটিতে। দেখতে দেখতে একসময় নিজের কাছে মনে হবে “ আরে! এটাতো এভাবেও চিন্তা করা যায়!” অন্যরকম এক বিষন্ন ভাললাগার মাঝেই যাত্রাপথ উপভোগ্য হয়ে উঠবে।

গ্রাফিক্স আহামরি কিছু নয়, কিন্তু গল্পের সাথে চমৎকার ভাবে মানিয়ে গিয়েছে । আর সাউন্ডট্র্যাক অসাধারণ। বিশেষ করে এন্ডিং সং টি আমি অনেকবার ইনফিনিট লুপে বাজিয়েছি। গল্পের সাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অন্যরকম ভাললাগার জন্ম দেবে। এটা দেখে না থাকলে এনিমে ইন্ডাস্ট্রির একটি মাস্টারপিস মিস করা হবে, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

বি.দ্রঃ মুশিশি ফ্যানদের জন্য এটা মাস্ট ওয়াচ এনিমে। মুশিশি টাইপের ভাইভ পাওয়া যাবে। তবে তা অনেকটাই ডার্ক।

বি.দ্র ২ঃ মুড ভাল হয়ে যাবে এ আশা নিয়ে বসলে পস্তাবেন। বিষন্নতা, হতাশা বেড়ে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

Kino no Tabi 2

“Yowamushi Pedal : হে দুর্বল প্যাডাল ঘুরা” — Siam Maksud

ভূমিকা: কবি বলেছেন
‘ইচ্ছে করে লিখি একটা গান”
আমার ইচ্ছা করছে রিভিউ লেখতে। কাজেই লিখে ফেললাম। given below-
বিষয়বস্তু: একখানা স্পোর্টস এনিমে। নাম তাহার Yowamushi Pedal”
সিজন: 2 খানা।
খেলার নাম : রোড রেস( সাইকেল দিয়া যে আগে দাগ পার হইবে সে ভাব নিয়া জিতিতে পারিবে)

সাইকেল কি: ইহার বাংলা নাম দ্বিচক্রযান। দুই চাক্কার রিকশা। পেডেল ঘুড়াইয়া চালাইতে হয়।শিখিতে বহুত কসরত করিতে হইবে।মানুষ সাধারনত নিজে চালায় কেউবা আবার ড্রাইভার রাখিয়া পেছনে বসে। সুবিধা- তেলের খরচ নাই।

এনিমের প্লট : অনেক অনেক দিন আগের কথা( 2014 maybe). ওনাদা সাকামিচি নামের এক বিশিষ্ট ওতাকু বালক জাপানে বসবাস করত। তার কোনো বন্ধু ছিল না কারন সে এনিমে ভালবাসত আর মিডল স্কুলের পোলাপান এনিমে দেখত না। বহু কষ্টে মিডল স্কুল পাশ করিয়া সে সোউহোকু হাই স্কুলে ভর্তি হইয়াছে। প্রথমদিনে সে অতি খুশি মনে স্কুলে গেল। মনে বড় আশা সে এনিমে ক্লাবে জয়েন করিবে। এনিমে নিয়া গল্পগুজব করিবে( এনিমখোরের মেম্বার হইলে এই কষ্ট করতে হতো না) । কিন্তু হায় ‘ অভাগা যেদিকে চায়, বুড়িগঙ্গা ট্যানারি বর্জ্যে দূষিত হয়ে যায়।’ কাজেই হতভাগা ওনাদা এনিমে ক্লাবের সামনে গিয়া দেখিল এনিমে ক্লাব লোকস্বল্পতায় ভুগিয়া দেউলিয়া হইয়া গিয়াছে। হতাশ ওনাদার সাথে তখনই দেখা হইল নায়িকা( যার প্রেমিক বাইসাইকেল) মিকির। ওনাদা সাহেবের একখানা ব্যাক স্টোরি আছে। সে বাসের পয়সা বাচাইয়া প্রতি সপ্তাহে তাহার mommy bike নিয়া 45 km দূরের আকিহাবারায় যাতায়াত করিত আর পয়সা দিয়া তৈজসপত্র কেনাকাটা করিত( আক্ষরিকভাবেই ওতাকু) । কাজেই নিজের অজান্তেই দ্বিচক্রযানে অভিজ্ঞ হইয়া গিয়াছিল।ইহা সহ্য হয় না সিরিয়াস রেসার ইমাইজুমির ( ওরফে হটশট) । ওনাদার হাসিখুশি স্পিডিং তার অহমে আঘাত দেয়। সে তাকে রেসে আহবান করে। টিলার ঢালের রেস বাইসাইকেল ক্লাবের কর্তাব্যাক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। যাইহোক, ঘটনাবহুল রেসের পর ওনাদা বাইসাইকেল ক্লাবে যোগদিতে আগ্রহী হয়( সব বলনা কারন স্পয়লার খেতে পারেন।[মূল কথা টাইপ করা কষ্টকর কাজ।])তারপর দিন যায় রাত যায় ওনাদা এগিয়ে চলে। সৌহোকু এগিয়ে চলে। ইমাইজুমিরা এগিয়ে চলে……… তারপর আসে ইন্টার হাই চ্যাম্পিয়নশিপ…..
এই হইল মূল প্লট।

কেন দেখবেন:
আমার বর্ননা শুনে যতটা ক্লিশে হবে বা খ্যাত হবে ভাবছেন আসলে এনিমেটা ততটাই বেশি ইন্টারেস্টিং। লেখকের দোষে এনিমেটিকে বঞ্চিত করবেন না। একের পর এক টুইস্ট কাহিনীর মোড় ঘুরায়। আর আছে প্রতি এপিসোডের শেষের দিকের কয়েক মিনিটের হাস্যরস যা যথেষ্ট উপভোগ্য। বিপক্ষ দলের প্রতিটি রাইডারো অসাধারণ। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল এনিমেতে প্রতিটা চরিত্রের ব্যাক স্টোরি দেখানো হয়েছে। এমনকি মহাভিলেন মিদৌসুজি আকিরার ব্যাক স্টোরিটি চোখে পানি এনে দেবার মত। কাজেই রেসে কার পক্ষে থাকবেন এই
সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কষ্টকর হবে। থ্রিল, উপভোগ্য কাহিনী, মানানসই মিউজিক , অসাধারণ ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট সব মিলিয়ে এক টানে দেখে ফেলার মতYowamushi Pedal