Space Battleship Yamato 2199 [রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

Space Battleship Yamato 2199

Space Battleship Yamato 2199 || Uchuu Senkan Yamato 2199

Episodes: 26
Genres: Action, Drama, Military, Sci-Fi, Space
MAL Score: 8.56/10
Personal Score: 9/10 (Story: 8.5; AnA: 9.5; Character: 8.5: Sound: 9; Enjoyment: 9.5/10)

নামের মধ্যেই একটা গ্রেটনেস আঁচ করা যায়। ইয়ামাতো নামের যে ব্যাটলশিপ নিয়ে এ অ্যানিমের কাহিনী তা শাব্দিক এবং আক্ষরিক- দু অর্থেই ‘গ্রেট’। ৩৬৬ মিটার লম্বা এ যুদ্ধজাহাজ আর তার নাবিকদের ওপরই নির্ভর করছে মানবসভ্যতার ভবিষ্যত। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আগে মানুষের হাতে সময় আছে এক বছর।

এ অ্যানিমের অরিজিনাল রান শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। তখন এর নাম থাকে স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো। পরবর্তীতে ২০১২ সালে আসে এর সফল রিমেইক, নাম দেয়া হয় স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো ২১৯৯। ষাট-সত্তরের দশকে তখন স্পেস অপেরার জয়জয়কার। ১৯৬৬ সালে শুরু হয় স্টার ট্রেক, ১৯৭৭ সালে আসে স্টার ওয়ার্স। আশি-নব্বই দশকের দিকে আরো কিছু শর্ট সিরিজ আসে। ২০০৪ সালে আসে ব্যাটলস্টার গ্যালাক্টিকা, মোবাইল স্যুট গান্ডাম। অ্যানিমের ইতিহাসে স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো-র গুরুত্ব অনেক। ১৯৭৯ সালে Star Blazers নামে আমেরিকায় এয়ার শুরু হয় এ অ্যানিমের। প্রথম স্পেস রিলেটেড অ্যানিমে হিসেবে এর জনপ্রিয়তা পরবর্তীতে এ ধরণের শতাধিক অ্যানিমে সিরিজ আর মুভির জন্য পথ খুলে দেয়। পরবর্তীতে আমরা পাই আরো কিছু সফল আর জনপ্রিয় সিরিজ যার মধ্যে Legend of Galactic Heroes, Macross, Cowboy Bebop বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাই দ্য ওয়ে, আমার এ পোস্ট ২০১২ সালে রিলিজ হওয়া একই অ্যানিমের রিমেইক নিয়ে।

একটি আদর্শ স্পেস অপেরায় যা থাকে তার সবই আছে ইয়ামাতো ২১৯৯-এ। সায়েন্স ফিকশন, আন্তঃগ্রহ এবং আন্তঃগ্যালাক্টিক ওয়ারফেয়ার, রোমান্স, মিলিটারি, রাজনীতি তার সবই পাওয়া যায় এটিতে। প্লাসপয়েন্ট হলো অন্যান্য স্পেস অপেরার তুলনায় এ অ্যানিমেতে মেলোড্রামা নেই বললেই চলে।

সময়টা ২১৯৯ সালের। এর আট বছর আগেই মানবজাতির সাথে যোগাযোগ হয় গামিলাস (Gamilas) নামক ভিনগ্রহবাসীর। তারপর থেকেই তাদের উপর্যুপরি আক্রমণে হুমকির মুখে পড়ে যায় পুরো পৃথিবীবাসীর ভবিষ্যত। গামিলানদের প্লুটো বেইজ থেকে একের পর এক রেডিওঅ্যাক্টিভ বম্বার্ডিং এর ফল হিসেবে পুরো পৃথিবী ওয়েস্টল্যান্ড-এ পরিণত হয়। বিলীন হয়ে যায় বেশিরভাগ জীবনের অস্তিত্ব, প্রাণের অভাবে নীলসবুজ গ্রহটি লালচে রংধারণ করে। সারফেস বসবাসের অনুপোযগী হয়ে পড়ে; মানুষ বাধ্য হয় আন্ডারগ্রাউন্ডে আশ্রয় নিতে। বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতবাণী করেন এভাবে চললে আর এক বছরের মধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে মানবজাতি।
এরকম সময়েই ইস্কান্দার নামক এক বন্ধুভাবাপন্ন এলিয়েন গ্রহ থেকে এগিয়ে আসে সাহায্যের হাত। তারা মানুষকে এমন প্রযুক্তি দেয় যা দিয়ে পৃথিবীবাসী তৈরি করে ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো, যেটি কিনা ১৬৮০০০ আলোকবর্ষ পাড়ি দিয়ে সুদূর ইস্কান্দার থেকে ‘কসমো রিভার্স সিস্টেম’ নামক এক ডিভাইস আনার ক্ষমতা রাখে। এ ডিভাইস পৃথিবীকে রিস্টোর করে দেবে পুরোনো সজীব রূপে। প্রস্তুত করা হয় প্ল্যান ইয়ামাতো। অবশেষে ২১৯৯ সালে ইস্কান্দারের রাণী স্টারশা তার বোনকে দিয়ে পাঠান প্ল্যানের ফাইনাল পিস ‘ওয়েভ মোশন ইঞ্জিন’। মঙ্গল গ্রহ থেকে এটি উদ্ধার করে পৃথিবীতে নিয়ে যায়, এ অ্যানিমের অন্যতম প্রোটাগনিস্ট, দুই বন্ধু সুসুমু কোদাই আর দাইসুকে শিমা। স্বল্পসময় পরই গামিলানদের আক্রমণের মুখেই যাত্রা শুরু হয়, ইয়ামাতো-র, নেতৃত্বে আন্তঃগ্রহ যুদ্ধের হিরো কমান্ডার ওকিতা।

এ সুদীর্ঘ যাত্রাপথের ক্ষণেই ক্ষণেই মুখোমুখি হতে হয় গামিলান যুদ্ধজাহাজের। হয় অনেকগুলো খন্ড খন্ড যুদ্ধ। দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগে এত বাধা অতিক্রম করে ইয়ামাতো কি পৌঁছুতে পারবে তার গন্তব্যে? গামিলানরা নিশ্চয়ই এত সহজে ছেড়ে দেবে না। যুদ্ধ করে এগিয়ে যাওয়াই কি একমাত্র উপায়? বন্ধুত্ব স্থাপনের সুযোগ কি আছে? গন্তব্যের দিকে ইয়ামাতো-র এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা দেখি কিভাবে আনফোল্ড করে অ্যানিমের কাহিনী। শুরুতে কিছুটা এপিসোডিক হলেও শীঘ্রই ইন্টেন্সিটি বাড়তে থাকে। বিশ্বাসঘাতকতা, গামিলানদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, চরিত্রগুলোর সাইকোলজি এবং কনশাইন্সের এক্সপ্লোরেশন, ক্ষেত্রবিশেষে দার্শনিকতা, শেষের দিকের কিছু চমক- সবকিছুই অন্যমাত্রা দেয় সিরিজটিকে। কাহিনীতে একবার ঢুকে গেলেই বোরড হওয়ার ন্যুনতম সুযোগ পাওয়া যায় না।

২৬ এপিসোডের অ্যানিমেটি চরিত্র নির্মাণের কাজটি বেশ ভালোভাবেই করে। এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ মিশনেও চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত এজেন্ডা কিভাবে তাদের চালিত করে তা দেখি আমরা। মিলিটারি মানেই যে আবেগ বিবর্জিত রোবট নয়, অতি অভিজ্ঞরাও যে ভুল করতে পারে, মানুষ মানেই যে নীতিনিষ্ঠ আর শত্রু এলিয়েন মানেই খারাপ এ ট্রেডিশনাল অ্যাপ্রোচের বাইরে গিয়ে গিয়ে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে এর কাহিনীতে। অল্প সময় ধরে রোবটের মনস্তত্ত্ব আর চেতনা নিয়েও এক্সামিন করা হয়েছে। What makes us human? Is it our heart or our consciousness? কেবল মানবচরিত্রগুলোই নয়, ভালো ডেভেলপমেন্ট করা হয়েছে শত্রুপক্ষের বেশ কিছু চরিত্রেরও, বিশেষ করে Domel এর চরিত্রটি অসাধারণ।

অ্যানিমেশন এ অ্যানিমের সবচেয়ে স্ট্রং স্যুট। এত ভালো কাজ লাইভ অ্যাকশন স্পেস অপেরাগুলোতেও দেখা যায় না। প্রথম দৃশ্যটিই আমার মন জয় করে নিয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, ফাইটারগুলোর ডিজাইন এত নিখুঁত যে মাঝে মাঝে এটা যে অ্যানিমেশন তা-ই বোঝা যায় না। পরিপূর্ণ মজা নিতে চাইলে দেখতে হবে ১০৮০-পিক্সেল রেজোল্যুশনে।

মিউজিক নিয়ে বলতে গেলেই আসে এন্ডিং গুলোর কথা। দশটা এন্ডিং এর সবগুলোই অসাধারণ মনে হয়েছে আমার কাছে। এ প্রথম আমি ২৬টা এপিসোডের সবগুলোরই এন্ডিং একাধিকবার করে শুনেছি। ঘটনাপ্রবাহের সাথে মিল রেখে কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে হাই টেম্পো, বিশেষ করে ব্যাটলের শেষে, কোথাও স্লো মিউজিক এনে দিয়েছে বিষণ্নতা। সে সাথে ওল্ড স্কুল মিউজিক একটা নস্টালজিয়া সৃষ্টি করে দেয়। দুর্ভাগ্যবশত আমার ডাউনলোড করা সিরিজটায় ওপেনিং ছিল না একটা এপিসোডেও তাই বলা যাচ্ছে না ওপেনিং কেমন। কিছুক্ষণ আগে ইউটিউবে শুনে খুব একটা ভালো না লাগলেও টেরিবল বলা যায় না ঠিক। এখানে একটা ব্যাপার উল্লেখ করতে হয়। রিমেইক অ্যানিমের কোন একটা (যেটা অরিজিনালে ছিল) স্কোরের কম্পোজিশন করেছেন অরিজিনাল সিরিজের কম্পোজারেরই ছেলে। স্কোরশীট হারিয়ে যাওয়ায় নিজের স্মৃতি থেকেই পুনরুদ্ধার করে স্কোরটি কম্পোজ করতে হয়েছে তাকে।

আয়রনিক ব্যাপার হচ্ছে অক্ষশক্তি হওয়া সত্ত্বেও এ অ্যানিমের গঠনপ্রকৃতিতে গামিলানদের মধ্যে একটা নাৎসী ভাইব পাওয়া যায়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কণ্ঠস্বর এবং কথা বলার ভঙ্গীতে নাৎসী নেতাদের প্রভাব স্পষ্ট। এদের ইউনিফর্ম, অনেকটা স্বস্তিকা টাইপের লোগো, স্যাল্যুটের ধরণ, তাদের নামগুলোও -যেমন, Goer, Domel, Schultz- উচ্চপদস্থ নাৎসী নেতাদের মেটাফর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গামিলান শাসক Dessler এর চরিত্রটি হিটলারের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা অ্যানিমে। সাই-ফাই ভালো লাগে এমন যে কারো জন্যই আদর্শ একটা সিরিজ। আমার খুব ভালো লেগেছে বলেই পোস্টে সব পজিটিভ কথাবার্তা বলেছি, যা বায়াসড মনে হতে পারে। কিন্তু ছোটখাটো কিছু ফ্যানসার্ভিসের কথা বাদ দিলে আসলেই এর কোন ডাউনসাইড নেই। খুব বেশি ইন্টেন্সিটি নেই যা কিনা মাথা ধরিয়ে দিতে পারে (তবে এপিসোড ১৪-তে বাড়তে মনোযোগ দিতে হবে), আবার এমন হালকাও নয় যে ভালো লাগবে না। স্ট্র্যাটেজিকাল এলিমেন্ট আর ক্লাইম্যাক্স আরেকটু বেশি থাকলে আমি একে ১০/১০ দিতাম। এখন খুব করে অপেক্ষায় আছি স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো ২২০২ এর যা সম্ভবত আগামী বছরেই আসবে।

যতটুকু বুঝলাম অ্যানিমেটি অরিজিনাল সিরিজের সোর্স ম্যাটেরিয়াল খুব একটা চেঞ্জ করেনি। অনেক নতুন কারেক্টার যুক্ত হয়েছে। কিছু মাইনর চেঞ্জ করা হয়েছে যুদ্ধগুলোর ক্ষেত্রে। ইয়ামাতো-র শেইপে পরিবর্তন করা হয়েছে কিছু। সায়েন্টিফিক ফ্যাক্ট আপডেটেড করা হয়েছে যেখানে দরকার। আরও কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

[এটা স্কিপ করলেও চলবে; পুরাই nerdy ব্যাপার-স্যাপার]
এত কিছুর বাইরেও যেটা আমাকে বিশেষভাবে ইম্প্রেস করেছে তা ছিল এ অ্যানিমের বৈজ্ঞানিক রেফারেন্সগুলো এবং বাস্তবসম্মত সেটিং। যদিও অবৈজ্ঞানিক দিকও কম না, সায়েন্স ফিকশনে এগুলো থাকবেই, তারপরও স্টার এবং প্ল্যানেটগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব এমন একটা ইল্যুশন সৃষ্টি করে যে মনে হয় এমনটা বুঝি সত্যিকার অর্থেই ঘটছে। যেমনঃ

১. প্রথম এপিসোডে দেখানো প্ল্যানেট বম্বগুলো বস্তুত Kuiper Belt Objects কে রিফার করে।

২. এপিসোড তিন এ মঙ্গল গ্রহ অতিক্রম করার সময় একটা সাগর দেখানো হয় যা মঙ্গল গ্রহে থাকা অ্যামাজনিস প্ল্যানিশিয়া (Amazonis Planitia) এর অনুরূপ।

৩. এপিসোড আট এ ইয়ামাতো Gliese 581 নামক একটি রেড ডোয়ার্ফ এর আয়োনাইজড গ্যাস এর মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য হয় যা কিনা আসলেই এক্সিস্ট করে। এবং আমাদের সূর্যের মতই একটা গ্রহ হওয়ায় এতে অনুরূপ ঘটনা ঘটা খুবই সম্ভব।

৪. এপিসোড ১৩ তে দেখানো হয় একটা প্রোটোপ্ল্যানেটারি সিস্টেম। আমাদের সোলার সিস্টেম ৫ বিলিয়ন বছর আগে এমনই ছিল।

৫. এপিসোড ১৫ তে দেখানো হয় একটা নিউট্রন স্টার। নামটা বানানো হলেও বিজ্ঞানীরা এমন স্টারের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন।

৬. Large Magellanic Cloud (LMC), যেখানে ইস্কান্দার গ্রহের অবস্থান, বাস্তব একটি গ্যালাক্সি। এটি মিল্কিওয়ের পাশেই অবস্থিত এবং মিল্কিওয়ের একটা স্যাটেলাইট।

৭. এপিসোড ১৯ এ দেখানো ট্যারান্টুলা নেবুলা LMC এরই একটি H2 রিজিয়ন।