True Tears by Kazi Rafi

 

2 True Tears

“The you inside me is always crying. I wanted to wipe away your tears. But I never got to know the feeling of wiping the tears away from your soft cheeks.”

এভাবেই শুরু হয় True tears নামের রোমান্স, ড্রামা, স্কুল জেনার এর এনিমেটা। কাহিনী মূলত গড়ে উঠেছে Nakagami Shinchiro নামের এক (ইডিয়ট) ছেলে, Isurugi Noe (<3), Yusa Hiromi নামের দুটি মেয়ে আর Raigomaru আর Jibeta নামের দুইটা মুরগী কে নিয়ে !!!! কি চমকে গেলেন নিশ্চয়ই ??? চিন্তা করতেছেন যে চোখে ভুল দেখলেন কিনা ? ভাবতেছেন যে দুইটা মেয়ে আর একটা ছেলে কে নিয়ে একটা রোমান্স এনিমের মধ্যে দুইটা মুরগী আসে কোত্থেকে ??? আসে রে ভাই আসে, কিভাবে আসে সেইটা এই এনিমেটা দেখলেই বুঝবেন।
এনিমেটার কাহিনী নিয়ে বেশি কিছু বলব নাহ কারন সেটা বললে এনিমেটা দেখা শুরু করার মজা কিছুটা হলেও ফিকে হয়ে যাবে। খুবই সংক্ষেপে কাহিনী মোটামুটি হচ্ছে এই- Yusa Hiromi নামের এক মেয়ের বাবা মা রোড এক্সিডেন্টে মারা যাবার পর তাকে তাঁর বাবার এক বন্ধুর বাসায় নেওয়া হয় থাকার জন্য। সেই বন্ধুর ছেলে, Nakagami Shinchiro, পছন্দ করে Hiromi কে, কিন্তু জানে না এই ভালো লাগা আওদো পারস্পারিক কিনা, নাকি শুধুই একপেশে ! এটা মনে করার কারন, তাদের বাসায় আসার পরে হটাৎ ই কোন এক কারনে Yusa কেমন যেন বদলে যায়, হয়ে যায় কেমন যেন নির্জীব, সবসময় থাকে মনমরা হয়ে; যার কারনে Shinchiro কখনোই বুঝতে পারেনা Yusar মনের গভীরে আসলে কি চলতেছে। এমনি সময়, স্কুলে একদিন দেখা মেলে খুবই, খুবই অদ্ভুত চরিত্রের একটি মেয়ে, Isururgi Noe এর সাথে এবং সেইসাথে আবির্ভাব হয় Raigomaru আর Jibeta নামের দুই মুরগীর !!!!!! কি হয় এরপর তা জানতে আপনাকে এনিমেটা দেখা শুরু করতে হবে।

 

True Tears (Complete) (720p - BD - 70MB - Encoded)
কাহিনী সংক্ষেপ শেষে এইবার আসি গল্পের চরিত্রদের প্রসঙ্গে। এই এনিমের প্রতিটি চরিত্রের রয়েছে খুবই ভিন্ন ভিন্ন আলাদা কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, রয়েছে তাদের নিজেদের এবং অন্যদের জীবনের উপর, দুটি মানুষের মধ্যের সম্পর্কের উপর, সেই সম্পর্ক তাদের নিজেদের এবং সেইসাথে অন্যদের কাছে কি ধরনের গহির্ত অর্থ বহন করে তাঁর উপর তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, যা আপনার প্রত্যেক সময়, প্রত্যেক চরিত্রের উপস্থিতির সময় আলাদা ভাবে দৃষ্টি কাড়বে, যা একেকজনের থেকে একেকজনকে প্রিথক ভাবে আপনাকে চরিত্রগুলকে খুব ভালভাবে চিনতে, বুঝতে সাহায্য করবে, সবমিলিয়ে যা এদেরেক দিয়েছে একধরনের জীবন্ত রুপ, যেন এটা আপনারই আশেপাশের পরিচিত কিছু মানুষের গল্প ! এতকিছুর পরে আপনার হয়তো কোন চরিত্র কে ভালো না লাগতেও পারে তাদের কিছু কিছু ক্রিয়াকলাপের কারনে আবার হয়তো আপনি এক বা একাধিক কোন চরিত্রর প্রেমেও পরে যেতে পারেন, যেটা আসলে নির্ভর করে একজনের, একেক চরিত্রের প্রতি তাঁর নিজের দৃষ্টিভঙ্গির উপর। আমার কথা জিজ্ঞেস করলে আমি বলব এই এনিমের আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র হচ্ছে Isurugi Noe, যার ব্যক্তিত্ব, মন মানসিকতা, উদ্দেশ্য, জীবনের প্রতি তাঁর বিচিত্র দৃষ্টিভঙ্গি আমার মন কেঁড়ে নিয়েছে, নাড়া দিয়েছে মেয়েটির দুঃখ, কষ্ট আর বেদনার প্রতিটা মুহূর্ত, চোখে এনে দিয়েছে পানি, আবার সেইসাথে মনটা খুশিতে উঠেছে নেচে যখন দেখেছি মেয়েটিকে সবকিছু ভুলে হেসে উঠেছে মনকাড়া, প্রান প্রাচুর্যে ভরা এক হাশিতে !!! এবং আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, Isurugi Noeর চরিত্রটির নতুনত্ব, তাঁর দুঃখ কষ্ট বেদনা, অভিজ্ঞতাগুলো আপনার মনকেও দিয়ে যাবে এক প্রবল আবেগের নাড়া যা আপনার মনে থাকবে অনেকদিন ।। এ তো বললাম আমার প্রিয় চরিত্রের কথা। এইবার আসি বাকি দুজন মেইন চরিত্রের ব্যাপারে। Nakagami Shinchiro আর Yusa Hiromi এদেরকে আমার চরিত্র হিসেবে খুবই দুর্বল লেগেছে। এরা দোনোজনেই এক ধরনের বিচিত্র মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় ভোগে যার মধ্যে Hiromir ব্যাপারটায় অউদো কিছুটা হলেও রিলেট করা গেলেও Shichiror কাহিনীটা আমার মোটেও বোধগম্য হইনি। এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে হলে এনিমেটা দেখতে হবে।
যাইহোক। এতক্ষন যাদের কথা বললাম এরা হচ্ছে গল্পের আসল চরিত্র দের কথা। এরা ছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু পার্শ্ব চরিত্র যাদের তেমন খুব একটা ভুমিকা নেই গল্পে। কিন্তু এদের মধ্যেও এমন একজনের কথা না বললেই নয় যে সম্পূর্ণ তাঁর নিজে গুনে জয় করে নিবে আপনার মন, সে হচ্ছে shinchiro’র বেস্ট ফ্রেন্ড Nobuse Miyokichi। প্রথম দিকে হয়তো মনে হবে এরা আছেই শুধু মেইন চরিত্র গুলোকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য, কিন্তু এরি মাঝেও Nobuse আস্তে আস্তে ভালো লাগার একজন হয়ে উঠবে অন্যসব চরিত্রের পাশাপাশি, Shinchiroর প্রতি তাঁর বন্ধুত্তের নিদর্শন দেখে যা আপনাকে করে তুলবে বিস্মিত !!!!!
গল্পের কাহিনী এবং তাঁর চরিত্রের বর্ণনা শেষে এবার আসি এনিমের এনিমেশন আর সাউন্ড প্রসঙ্গে। True Tears ছিল এই এনিমের অন্যতম প্রডিউসার P.A. Works এর প্রথম প্রজেক্ট এবং সেই কথা মাথায় রেখে বলতেই হয় যে তারা বিরাট রকমের বিশাল এক প্রশংশার দাবীদার, এর কারন হচ্ছে এই এনিমের অপূর্ব সুন্দর এনিমেশন এবং সেইশঙ্গে অসাধারন শ্রুতিমধুর সাউন্ড এফেক্ট, যা একসঙ্গে মিলে, একেকটা বিশেষ বিশেষ মুহূর্ত আপনার ভাবাবেগের উপর যে প্রভাব ফেলবে তা বাড়িয়ে তুলবে ১০০ গুন।
পরিশেষে যেটা নিয়ে কথা বলতে চাই তা হচ্ছে, এনিমেটার এন্ডিং। এই এনিমের একমাত্র অংশ যেটা আমার মোটেও ভালো লাগেনাই; একদমই নাহ ! কিন্তু তাই বলে আপনাদের দুশ্চিন্তায় পড়ার কোনই কারন নাই, কারন আমার কাছে যেটা খারাপ লাগছে আপনাদের সেইটা খারাপ নাও লাগতে পারে, তো খামাকা আমার কথা শুনে এতো টেনশনে পড়ার দরকার নাই। এন্ডিং খারাপ হইছে নাকি ভালো হইছে সেইটা আপনারা দেখেই নাহয় বিচার করবেন, শুধু এইটাই বলব যে সবার সবকিছুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই এক থাকে নাহ, আমার কাছে যে জিনিসটা সুন্দর লাগবে সেইটা অন্যজনের কাছে নাও লাগতে পারে,সবটাই নির্ভর করে সম্পূর্ণ নিজের দৃষ্টিভঙ্গির উপর !!!!!!!!

এন এনিমে বের হইছে ২০০৬ সালে, মোট ১৩টা পর্ব এবং সেই সাথে একটি ৩ মিনিটের এপিলোগ যেটা আপনার দেখতে হলে ইউটিউব এ গিয়ে সার্চ দিতে হবে ‘True Tears Epilogue’ নামে; অথবা নিচের যে ডাউনলোড লিঙ্কটি দেয়া আছে তাঁর শেষ পর্বের একদম শেষে দেখেবন এপিলোগটি জোড়া লাগান আছে।
লোল !!! এখন নিশ্চয় আপনি চিন্তা করতেছেন যে ব্যাপারটা কি হইল, সবকিছু নিয়ে অনেক কথা বলা হইলেও মুরগী দুইটার ব্যাপারে কোন কিছু বলা হইল নাহ কেন ! বলি নাই, এর কারন, Raigomaru আর Jibeta এই কাহিনীর খুবই বিশাল এবং খুবই, খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুইটা চরিত্র যাদের ব্যাপারে আমি কিছু বলে কাহিনীর সবচেয়ে অসাধারন অংশগুলির মজা নষ্ট করতে চাচ্ছি নাহ !!!!!!!!!!!!

( রিভিউ তে কোন ভুল ত্রুটি থাকলে তাঁর জন্য দুঃখিত ! দয়া করে সেটা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ! এবং এতো বড় একটা রিভিউ পড়ার জন্য আগাম ধন্যবাদ !!!! )