জিগোকু শৌজো রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

জিগোকু শৌজো / হেলগার্ল সিজন ১ দেখে শেষ করলাম। শুরু করেছিলাম অনেকদিন আগে, প্রায় আট নয়মাস হবে। শুরুর দিকে খুব ইন্টারেস্টিং লাগছিল, কারণ মানুষের মনের কদাকার রূপগুলোকে খুব বাস্তবসম্মত ভাবে তুলে আনা হয়েছিল, মনে কিছুটা চাপও পড়ছিল। কিন্তু ১০-১১ টা পর্যন্ত দেখার পর আবিষ্কার করলাম, জিনিষটা বেশ বোরিং হয়ে গেছে, কারণ প্রতি এপিসোডের কাহিনী একইরকম। ভয়াবহ রিপিটেশন দেখে বোর হয়ে তখন আপাতত বাদ দিয়েছিলাম, এতদিন পর অবশেষে বাকি এপিসোড গুলো দেখলাম। এবং দেখে স্বস্তি পেলাম যে, রিপিটেশন পুরোপুরি দূর না হলেও, শেষদিকে হাজিমে ও তার মেয়ে সুগুমির কাহিনী ইনক্লুড হওয়ার কারণে জিনিষটা অনেক ইন্টারেস্টিং ভাবে শেষ হয়েছে।

ভেবেছিলাম অল্প কথায় রিএকশন লিখে পোস্ট করব, এখন দেখছি বলার মত অনেক কথা মাথায় ঘুরছে। রিভিউ লিখেই ফেলি ছোট করে।

Enma.Ai.full.722587

পৃথিবীতে যতদিন মানুষ থাকবে, ততদিন অন্যায়, অত্যাচারও থাকবে। দুর্বলেরা নির্যাতিত হবে, তাদের অধিকার খর্ব করা হবে, আর সবলেরা অন্যায়ভাবে সুবিধা ভোগ করবে। ন্যায়বিচার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক দিবাস্বপ্ন; নির্যাতিতের মনে তাই জ্বলতে থাকে প্রতিশোধের আগুন। ক্লাসে আপনার পাশে বসা মেয়েটিই হয়ত আরেকটি মেয়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইচ্ছামত তাকে দিয়ে অন্যায় করিয়ে নিচ্ছে, আপনি টেরও পাচ্ছেন না। অথবা পাশের বাড়ির যে মহিলাটিকে কিছুদিন আগে দুশ্চরিত্রা অপবাদ দেয়া হল, কেউ খোঁজ নিয়েও দেখল না যে বাস্তবে সে কত বড় ষড়যন্ত্রের শিকার। কিংবা হাসিমুখে আপনাকে সাহায্য করতে আসা প্রতিবেশীটি হয়ত মনে মনে আপনার ক্ষতি করার প্ল্যান নিয়ে এসেছে, আপনি যখন জানবেন, ততক্ষণে সব শেষ, কিচ্ছু করার নেই।

এইসব মানুষ কি তাহলে কোনদিন ন্যায়ের দেখা পাবে না? এভাবে অত্যাচারিত হয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে তাদের?

তাদের জন্য রয়েছে হেল লিঙ্ক। এমন একটি ওয়েবসাইট, যা শুধুমাত্র রাত ১২ টায় একসেস করা যায়, আর যা শুধু অত্যাচারিত মানুষই একসেস করতে পারে। আপনার সাথে যে অন্যায় করেছে তার নামটা লিখে দিন সেখানে, নরক কন্যা এনমা আই আপনার হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। কিন্তু সেজন্য মূল্য দিতে হবে আপনাকে। আপনার মৃত্যুর পর অনন্তকালের জন্য আপনার আত্মার ঠাঁই হবে নরকে।

অ্যানিমেটির যে দিকটা আমার ভাল লেগেছে, আপনার নৈতিকতা, বিবেকবোধ এবং মনুষত্ব্যের মাঝে একটা ছোটখাটো গৃহ যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে অ্যানিমেটি, যা হয়ত ডেথ নোট, কোড গিয়াসও করতে পারেনি। কিরকম? আপনাকে প্রথমে নির্যাতিতের কষ্টটা প্রত্যক্ষভাবে দেখানো হবে। নির্যাতিতের ক্ষোভ আপনি নিজে অনুভব করবেন। আর যখন ভাগ্যের সেই লাল সুতো টেনে খুলতে সে দ্বিধাবোধ করবে, আপনার নিজেরই ইচ্ছে হবে যে গিয়ে সুতোটা খুলে দিয়ে আসি।

কিন্তু যদি ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করা হয়, তাহলে ব্যাপার টা কি দাড়াতে পারে? এভাবে নিজের আত্মাকে অনন্তকালের জন্য বিসর্জন দিয়ে ক্ষণিকের মুক্তির জন্য প্রতিশোধ নেয়াটা কতখানি যৌক্তিক? প্রতিশোধের এই মরণচক্র তো তাহলে কোনদিন শেষ হবে না! রিপোর্টার হাজিমে ও তার মেয়েকে এনে অ্যানিমেটার কাহিনী আরও জটিল হয়েছে, কিন্তু সেইসাথে আরেকটা দৃষ্টিভঙ্গি দর্শকের সামনে উঠে এসেছে, তাই কাহিনীটা আরও ভাল লেগেছে।

অ্যানিমেটার আর্ট ভালই, ওএসটি অনেক সুন্দর। কাহিনীর পেসিং এ একটু সমস্যা আছে, এছাড়া ওভার অল এটি অবশ্যই সবার দেখার মত অ্যানিমে। শেষ দিকে জিগোকু শৌজোর লাইফ নিয়ে কিছু ঘটনা দেখানো হয়, এটা ভাল লেগেছে। সিজন টু দেখার জন্য আগ্রহ বেড়ে গেছে এখন।

jigoku_shoujo_sakura_kimono_girl_brunette_posture_29489_1920x1080

আন্নারাসুমানারা- স্বপ্নভঙ্গ, প্রত্যাশা ও বড় হওয়ার গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

আচ্ছা, বড় হওয়ার মানে আসলে কি? শরীরটা আকারে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে মানুষের মনটায় কি এমন পরিবর্তন আসে, যার কারণে একসময় তার কাছে যা খুব আকর্ষণীয় ও আরাধ্য মনে হত, তা হঠাৎ করে যুক্তিহীন ও হাস্যকর লাগতে থাকে? প্রাপ্তবয়স্ক হলেই কেন মানুষকে স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিতে হয়? নাকি স্বপ্ন দেখা ছাড়তে তাকে বাধ্য করা হয়! স্বপ্ন দেখলে যে সমাজ তোমাকে পাগল বলবে! তোমার দিকে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে বলবে, দেখ, সে এখনও বড় হতে পারল না! সে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হতে ব্যর্থ। কারণ সে সমাজের ঠিক করে দেয়া নিয়ম মেনে বড় হয়ে ওঠেনি। সে সাহস করেছিল তার জন্য সাজিয়ে রাখা চকচকে পথ ছেড়ে নেমে নতুন করে পৃথিবীটাকে দেখার।

ইউন আই মেয়েটিকে এই সত্যের মুখোমুখি হতে হয় খুব অল্পবয়সে। ঋণের বোঝায় জর্জরিত বাবাকে ছেড়ে চলে যায় তার মা, আর পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়ায় তার বাবা। নিরুপায় আই তার এবং তার ছোটবোনের জীবন চালানোর জন্য তাই অমানুষিক পরিশ্রম করে। নিজে না খেয়ে থাকে, যেন ছোটবোন স্কুলে টিফিন নিয়ে যেতে পারে। স্কুল শেষ হওয়ার পর অনেক রাত পর্যন্ত একের পর এক পার্টটাইম জব করে, যেন বাড়িভাড়াটা সময়মত দিতে পারে। এতকিছুর সাথে সে কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশুনা করে নিজের গ্রেডটাও ঠিক রাখে, কারণ আই জানে, গ্রেড ভাল রাখলে একসময় হয়ত সে একটা ভাল চাকরি করে এই অভাবী জীবনটাকে পরিবর্তন করতে পারবে। ছোট্ট বয়সে বড় হয়ে ওঠা এই মেয়েটি জানে, তার কাছে যা বিলাসিতা, অন্যদের কাছে তা স্বাভাবিক জীবনের অংশ। আর সেই স্বাভাবিক জীবন পাওয়ার জন্য যা কিছু করা সম্ভব, আই সে সবই করবে।

profile_picture_by_no_hurry_to_shout-d6y3rlz

আই এর ক্লাসমেট ইল দং। সবকিছু আছে তার। ধনী পিতামাতা, বিলাসবহুল জীবন, স্কুলে ভাল গ্রেড – সবকিছু। আই এর আরাধ্য জীবন জন্মগত ভাবে পাওয়া ইল দং কখনো জীবনে না শব্দটি শোনেনি। এতকিছু থাকার পরেও কোন না কোন দিক দিয়ে ইল দং ও খুশি নয়। কারণ তার উপরে রয়েছে সীমাহীন প্রত্যাশার পাহাড়। ক্লাসে সবসময় ফার্স্ট হতে হবে, দেশের সেরা ল’ স্কুলে ভর্তি হতে হবে, বাবা-মায়ের মুখ সমাজের সামনে রক্ষা করতে হবে; এর অন্যথা হলে যে সে পরিণত মানুষ হতে ব্যর্থ হবে!

সমাজের সেট করে দেয়া স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নিজেদেরকে গড়ে তুলতে চেষ্টা করা এই মানুষদের ভীড়েও রয়েছে কিছু অলস মস্তিস্কের স্বপ্নবাজ মানুষ। এরা এখনো স্বপ্ন দেখা ভোলেনি। এদের চোখে পৃথিবীটা এখনো রঙিন এক আনন্দময় ভুবন। সমাজ তাদের আখ্যায়িত করে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হিসেবে; তাতে তাদের থোড়াই কিছু আসে যায়! এমনই একজন মানুষ হল শহরের পরিত্যক্ত থিম পার্কে এক পুরনো তাবুতে বাস করা “ম্যাজিশিয়ান”। প্রতিটি মানুষের পরিত্যক্ত স্বপ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করা সত্যিকারের জাদু জানা এই ম্যাজিশিয়ান প্রথম দেখাতেই আইকে প্রশ্ন করে, “Do you believe in magic?”

tumblr_ngp0pu5g9Y1s2jureo1_1280

মানহোয়াটি পড়ার আগে এটির বেশ কিছু রিভিউ পড়েছিলাম, সেগুলো পড়ে আমার ধারণা হয়েছিল যে গরীব এবং খুব সিরিয়াস টাইপের একটি মেয়ে ও লেইড ব্যাক জাদুকরকে নিয়ে কাহিনী হবে, মাঝে থার্ড পার্টি হিসেবে বড়লোকের ছেলের উপস্থিতি থাকবে। আমি যে আসলে কতটা ভুল ধারণা করেছিলাম, সেটা কয়েক চ্যাপ্টার পড়েই বুঝতে পারি। শুরুর দিকে মজা লাগছিল, ইউন আই এর জীবনটা অনুভব করছিলাম, আর জাদুকরের প্রশ্নে আই এর মত আমারও মনে হচ্ছিল, জাদুবিদ্যা হল একধরণের ভ্রম। কিন্তু মানহোয়াটি যত এগিয়ে যেতে থাকে, কাহিনীটা যেন আরও গভীর হতে থাকে। প্রতিটি মানুষের আলাদা আলাদা কাহিনী গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠতে থাকে। কে জানত, এতদিন পরে একটা মানহোয়া পড়ে এভাবে নিজের সাথে মিল খুঁজে পেয়ে কাঁদব! ইল দং ও ম্যাজিশিয়ান এর পরিপূর্ণ রূপটা আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম ও অনুভব করতে পারলাম। আর তাই শেষ দিকে গিয়ে বলতে ইচ্ছে করছিল, “I do believe in magic!”

মানহোয়াটি সম্পূর্ণ রঙিন, আর্টওয়ার্ক খুবই সুন্দর। পৃষ্ঠাগুলোতে রঙের কারুকাজের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। মানহোয়াটির আর্ট দেখে বারবার শ্যাফটের কথা মনে পড়ছিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর, যদিও ইল দং ও তার বাবা-মাকে দেখে শুরুতে প্রচণ্ড হাসি পাচ্ছিল!! কাহিনীর পেসিং খুবই ভাল, একটার পর একটা পৃষ্ঠা উলটে গেছি বিরতিহীন ভাবে, একটুও ক্লান্ত বা বোরড না হয়ে। কাহিনী, এই আর্ট আর পেসিং এর পারফেক্ট কম্বিনেশন এই মানহোয়াটি; দেখে মনে হচ্ছিল কাহিনীটা যেন জীবিত হয়ে চোখের সামনে ভেসে উঠছে। শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত একইরকম ভাবে মুগ্ধ করেছে এটি আমাকে।

সবমিলিয়ে মাত্র ২৭ চ্যাপ্টারের মাস্টারপিস লেভেলের এই মানহোয়াটি আমার খুব বেশি ভাল লেগেছে, তাই আমি রিকমেন্ড করছি, হাতে সময় নিয়ে টানা ২৭ টা চ্যাপ্টার শেষ করে ফেলুন, খুব ভাল সময় কাটবে আশা করি।

045

xxxHOLiC, একটি অলীক দিবাস্বপ্নের গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

কখনো চিন্তা করেছেন, আমাদের সাথে প্রতিদিন যে বিভিন্ন ধরণের ঘটনা ঘটে, সেগুলোর পেছনে ভাগ্যের হাত না থেকে অন্যকিছুর হাত থাকতে পারে? হয়ত আমাদেরই অসতর্কতাবশত করা কোন ভুলের মাশুল এই ঘটনাগুলো! কর্মফলের কথা না ভেবে আপনি যে পিঙ্কি প্রমিসটা অতি সহজে ভেঙে ফেললেন, তা কিন্তু ডেকে নিয়ে আসতে পারে জীবন সংশয়ে ফেলার মত বিপদ! কিংবা খুব চেনা একটা প্রবচন – “রাতে নখ কাটলে আপনি আপনার বাবা মায়ের ফিউনারেলে উপস্থিত থাকতে পারবেন না”; কখনো কল্পনা করেছেন যে এই বাক্যটার পেছনে কোন গূঢ় অর্থ থাকতে পারে? ইচিহারা ইউকো সান কিন্তু তাই বলেন- “There is no such thing as coincidences in this world. There is only the inevitable.”

হলিকের পৃথিবীটা খুবই আজব। এখানে রয়েছেন ইচিহারা ইউকো সান, সৌন্দর্য ও জ্ঞানের সংমিশ্রণ একইসাথে যার মাঝে বিদ্যমান। পৃথিবীর সব ধরণের সুপারন্যাচারাল ঘটনার ব্যাখ্যা মিলবে ইউকো সানের ইচ্ছাপূরণ দোকানে; যে দোকানের দেখা শুধু তারাই পায়, যাদের কোন অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। যে কোন আশা পূর্ণ করতে পারবেন ডিমেনশনাল উইচ ইউকো সান, যদি আশার সমপরিমাণ মূল্য তাকে দেয়া হয়। এবং সেই মূল্য কখনোই অর্থ দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। এমনও হতে পারে, আপনার মৃত দাদার রেখে যাওয়া একমাত্র স্মৃতিটা, কিংবা আপনার মাথার প্রিয় চুলগুলোই হল আপনার আকাঙ্ক্ষার মূল্য!

635814093931043176

এই আজব পৃথিবীর এক আজব বাসিন্দা ওয়াতানুকি কিমিহিরো। ছোটবেলায় বাবা মা হারানো হাইস্কুল পড়ুয়া এই ছেলেটির দুর্ভাগ্য, সে ইয়োকাই দেখতে পায়। ইয়োকাইরা তাকে তাড়া করে প্রায়ই, আর তাই প্রাণের ভয়ে দৌড়াতে থাকা ওয়াতানুকিকে দেখে সাধারণ মানুষের তাকে পাগল বলে মনে হয়।

এভাবে এক সকালে দৌড়াতে দৌড়াতে ওয়াতানুকি পৌছে যায় ইউকো সানের দোকানে; কে জানে, হয়ত ইয়োকাইয়ের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষাই তাকে টেনে নিয়ে যায় ওখানে!

অ্যানিমেটির কাহিনী আবর্তিত হতে থাকে ওয়াতানুকিকে ঘিরে। শান্তশিষ্ট, সোজা সরল, কর্মঠ এবং কিছুটা শর্ট টেম্পার্ড এই ছেলেটিকে বড় বোনের মত আগলে রাখেন ইউকো সান, অ্যানিমে যত সামনে আগায়, তত তা স্পষ্ট হয়। সবসময় বিভিন্নভাবে ওয়াতানুকির সাথে খুনসুটি করতে থাকা ইউকো সানের ব্যক্তিত্ব পুরোপুরি পালটে যায়, যখন তিনি আশা নিয়ে দোকানে পা রাখা কাষ্টোমারদের ইচ্ছা পূরণ করেন। তার সাথে আরও রয়েছে মারু-মোরো এবং মোকোনা, যাদের ছাড়া হলিক অ্যানিমেটি অপূর্ণ রয়ে যেত।

এছাড়া হলিকে আরও দুজন ইমপর্ট্যান্ট ক্যারেক্টার রয়েছে, দৌমেকি শিজুকা এবং ওয়াতানুকির ক্রাশ হাসিখুশি এবং মিশুক হিমাওয়ারি কুনোগী। দৌমেকিকে বলা যায় ওয়াতানুকির বিপরীত; অ্যাভারেজ মানুষের আইডিয়াল অ্যানিমে ক্যারেক্টার। ওয়াতানুকিকে জ্বালানো তার অন্যতম প্রধান কাজ, কিন্তু তা তো ভাল বন্ধুত্বেরই একটা সাইন! তিনজনেই একে অন্যের বিপদে নিজের জীবন বিপন্ন করতে কখনো পিছপা হয়না।

হলিক অ্যানিমেটির সিজন ১ এর কাহিনী এপিসোডিক, দেখে মনে হতে পারে যে এই অ্যানিমেটার মূল থিম হল “ডেইলি লাইফ অফ ওয়াতানুকি অ্যান্ড ইউকো”। কোন একজন মানুষের উইশ এবং সেটার সাথে জড়িত ঘটনা বা দুর্ঘটনা একটা এপিসোডেই শেষ হয়ে যায়। এতে ঘটনাগুলো অনেক ইন্টারেস্টিং, কিন্তু অনেকের মনে হতে পারে, “when does the story actually kick off?” তাদের জন্য বলছি, এপিসোডিক ব্যাপারটা সিজন ১ এই শেষ। হলিকের দুনিয়ার সাথে সিজন ১ এ পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর সিজন ২ তে শুরু হয় ওয়াতানুকিকে ঘিরে সব টুইস্ট। এই সিজনে কাহিনীটা বেশ ডার্ক একটা মোড় নেয়, বেশ বড় একটা ধাক্কা ছিল সেটা আমার জন্য। সব ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্ট শুরু হয়, আর সেটার পরিণতি দেখা যায় এর ওভিএ, রৌ তে। ওয়াতানুকির ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আমার দেখা অন্যতম সেরা। দুই পর্বের ওভিএটি শুরু হয় একটি দুঃখের সংবাদ দিয়ে, আর শেষ হয় একটি আশার আলো দেখিয়ে।

হলিক অ্যানিমের দূটি স্ট্রং পয়েন্ট হল এর আর্ট এবং ওএসটি। ক্ল্যাম্পের ডিজাইন করা চিকন চিকন হাত পা দেখে অনেকেরই হয়ত অদ্ভুত লাগে, কিন্তু এই বৈশিষ্ট্যটির জন্যেই ক্ল্যাম্পের আর্ট আমার পছন্দ। সিজন ১ এর শুরুর দিকে আর্টে কিছুটা ঘাটতি ছিল, এটা অস্বীকার করব না, তবে প্রোডাকশন আইজি সেটাও পরে ঠিক করে নিয়েছে, সিজন ২ এবং ওভিএগুলোর আর্ট নিখুঁত; মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকার মত। আর ওএসটির যত প্রশংসা করা যায় কম হয়ে যায়, সুগা শিকাও এর পার্ফরম্যান্সে প্রতিটা ওপেনিং সুন্দর এবং সেইসাথে এন্ডিং গুলোও পাল্লা দিয়ে সুন্দর, এমনকি ওভিএগুলোর ওএসটিও একটাও স্কিপ করার মত না। প্রতিটা দৃশ্যের সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পারফেক্টভাবে মানিয়ে গিয়েছে, আর ওপেনিং এন্ডিং গুলোর সুর আর ভিজ্যুয়াল যে রহস্যময় ভাইবটা দেয়, এককথায় অসাধারণ!

আরেকটা কথা উল্লেখ করাটা এখানে আবশ্যক, তা হল সেইয়্যু কাস্ট, অর্থাৎ কণ্ঠশিল্পীদের অবদান। ওয়াতানুকি চরিত্রটিকে প্রাণ দিয়েছেন জুন ফুকুয়ামা; আমার দেখা তার সেরা চরিত্র এটি। প্রথম এপিসোডের শুরুতেই ওয়াতানুকি যখন আয়াকাশিদের হাত থেকে পালাতে থাকে, এই একটা সিনই কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ফুকুয়ামা সানের দক্ষতা প্রমাণ করে দেয়। চঞ্চল হাইস্কুল পড়ুয়া কিশোর এবং পরিণত যুবক; দুটি রূপকেই তিনি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়া ইউকো সান চরিত্রে ওহারা সায়াকা, দৌমেকি শিজুকা চরিত্রে নাকাই কাজুয়া, হিমাওয়ারি কুনোগী চরিত্রে ইতোও শিজুকা, মোকোনা চরিত্রে কিকুচি মিকা; সবাই চমৎকার কাজ করেছেন।

xxxHOLIC 3

হলিকের মাঙ্গাটি পুরোটা পড়া হয়নি, তবে যেটুকু পড়েছি, তাতে বলতে পারি, মাঙ্গাটি আর্ট ও স্টোরির দিক থেকে অনন্য। তবে একে প্রাণ দিয়েছে অ্যানিমেটি।

সবমিলিয়ে সাইকোলজিক্যাল, মিস্ট্রি এবং সুপারন্যাচারাল জনরার এই অ্যানিমেটি আমার জীবনে দেখা অন্যতম সেরা অ্যানিমেগুলোর একটি; হিওকার সাথে যদি কোন অ্যানিমেকে স্থান দেই, তবে সেটা হলিক। আপনারা যারা দেখবেন, তাদের জন্য একটি সাজেশন, সিজন ১ এ থেমে যাবেন না, কারণ সিজন ২ থেকে কাহিনী জমে উঠতে শুরু করে। এই সিরিয়ালে দেখবেন –
xxxHOLiC – ২৪ এপিসোড
xxxHOLiC Kei – ১৩ এপিসোড
xxxHOLiC Shunmuki – ২ এপিসোড
xxxHOLiC Rou – ২ এপিসোড

এছাড়া এটির একটি মুভি আছে, xxxHOLiC Movie: Manatsu no Yoru no Yume; এটি সিজন ১ দেখার পরই চাইলে দেখতে পারবেন। এখানেও কিছু টুইস্ট আছে, যার রিভিউ আমি “মুভি টাইম উইথ ইয়ামি” তে দিয়েছিলাম।

শর্ট অ্যানিমে সাজেশনঃ মিস মোনোক্রোম; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

12628369_588377794660064_1367290930225803933_o

ভয়েস অ্যাক্ট্রেস হোরিয়ে ইউইকে আপনারা অনেকেই হয়ত চিনে থাকবেন, এই অ্যাক্ট্রেস এর অরিজিনাল ক্যারেক্টার ডিজাইন হল মিস মোনোক্রোম। এটিকে তিনি তার কনসার্টে থ্রিডি ভার্চুয়াল সিঙ্গার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এরপর এটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গেম “গার্লফ্রেন্ড” এও অ্যাপিয়ার করে। এরপরে ২০১৩ সালে প্রথম এয়ার হয় ৪ মিনিট করে মোট ১৩ এপিসোডের অ্যানিমে “মিস মোনোক্রোম”। আর ২০১৫ সালে যথাক্রমে এয়ার হয় সিজন ২ ও ৩, এবার প্রতিটি এপিসোডের রানটাইম ডাবল, অর্থাৎ ৮ মিনিট করে। এছাড়া অ্যানিমেটির একটি ওভিএ এবং একটি ওএনএ আছে।

মিস মোনোক্রোম একজন অ্যান্ড্রয়েড। নামের মত তার জীবনটাও মোনোক্রোম; সে সাদাকালো পছন্দ করে সবকিছু। তার জীবনের স্বপ্ন হল একজন জনপ্রিয় আইডল হওয়া এবং তার সময়কার বিখ্যাত আইডল কিকুকোর সাথে প্রতিযোগিতা করা। মিস মোনোক্রোম কি পারবে তার স্বপ্ন সত্যিতে রূপান্তর করতে? এই কাহিনী নিয়েই অ্যানিমেটি আবর্তিত হয়।

অ্যানিমেটিতে মিস মোনোক্রোমের কণ্ঠ দিয়েছেন হোরিয়ে ইউই, তার এই যান্ত্রিক কণ্ঠটা আমার খুব ভাল লেগেছে। এছাড়াও বাকি চরিত্রগুলোও অল্প সময়ের মাঝেই মনে ছাপ ফেলেছে। সিজন ১ এর এন্ডিং সংটায় মিস মোনোক্রোমের নাচটা স্কিপ করতে পারিনি, এত কিউট লেগেছিল। প্রতিটি ওপেনিং আর এন্ডিং এর নাচগুলো অনেকটা বার্বিডলের মত। অ্যানিমেশন বেশ সুন্দর, আর সবচেয়ে বড় কথা, শর্ট ডিউরেশনের অ্যানিমে হলেও এতে একটা চলমান কাহিনী রয়েছে।

সবমিলিয়ে মিস মোনোক্রোম আমার খুব ভাল লেগেছে। হাতে তিন-সাড়ে তিন ঘন্টা নিয়ে দেখে ফেলতে পারেন মোট ৪১ টি ছোট্ট এপিসোড।

12513517_588377821326728_8563363540658660651_o

Movie Time With Yami – টিং টং মুভি টাইম

12633583_591294291035081_5444090378713510034_o

টিং টং মুভি টাইম!!! (not really ;-;)

অনেকদিন কোন মুভি নিয়ে কথাবার্তা বলি না, আজকে তাই সুন্দর একটা শর্ট মুভি সাজেস্ট করি সবাইকে।

মুভির নাম- Aki no Kanade

আকি নামের মেয়েটি যখন এলিমেন্টারী স্কুলে পড়ত, তখন থেকেই তার স্বপ্ন যে সে তাইকো ড্রামার হবে। সেজন্য সে হাইস্কুলের পাঠ চুকে যাওয়ার পর তার গ্রাম ছেড়ে টোকিওতে চলে আসে এই স্বপ্নটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে। কিন্তু বিধি বাম!! চাইলেই যে সবকিছু মনমত হবে তা তো নয়। টোকিওতে থাকার খরচ জোগাতে পার্ট টাইম চাকরী, সেই সাথে ড্রাম বাজানোর ট্রেনিং – এ দুটো ব্যালান্স করতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছিল আকিকে।

এর মাঝে আকিকে হঠাৎ তার হাইস্কুলের শিক্ষক ফোন করে একটি অনুরোধ নিয়ে। প্রিয় শিক্ষকের অনুরোধে তাই গ্রামে ফিরে আসে আকি, হাইস্কুলের ড্রামস ক্লাবের সদস্যদের ট্রেনিং এ সাহায্য করতে। এরপর ঘটে সুন্দর কিছু ঘটনা, এবং আকির মনে পড়ে যায় তার নিজের ছোটবেলার কথা।

আমি জানিনা আপনাদের কি মনে হচ্ছে, তবে উপরে যা বর্ণনা দিলাম, তাতে আমার মনে হয় এটির একটা পূর্ণ ২ ঘন্টার মুভি, এমনকি ১২ এপিসোড এর অ্যানিমে হওয়ার মত পটেনশিয়াল রয়েছে। ২৫ মিনিট অনেক অল্প সময়, কিন্তু অ্যানিমে মিরাই প্রজেক্ট ট্রেইনিদেরকে এইটুকুই সময় বরাদ্দ করে, আর এই অল্প সময়ের মাঝে মুভিটিতে যেভাবে কাহিনীটা দেখানো হয়েছে, আমি চমকে গেছি যে এত সুন্দর করে এত অল্প সময়ে কিভাবে এতকিছু দেখাল। আমার আকির ছোটবেলার ঘটনাগুলো আরও ডিটেইল জানতে ইচ্ছে করছিল, টোকিওতে ওর স্ট্রাগলগুলো, আনাড়ি থেকে প্রফেশনাল ড্রামার হয়ে যাওয়ার গল্প, গ্রামে তার ড্রামের সাথে জড়িত স্মৃতিগুলো, এরপর নিজেকে আবার ফিরে পাওয়ার গল্প- এ সবই আরেকটু ডিটেইলে দেখতে পেলে হয়ত ভাল লাগত। ড্রামের বাদ্যগুলো আমার এক্সেপশনালি ভাল লেগেছে, সারাদিন ধরে শুনতেও আপত্তি নেই। আশা করে লাভ নেই জানি, তাও ক্ষীণ একটা ইচ্ছা কাজ করছে মনে, যদি ডেথ প্যারেডের মত এই মুভিটাও একটা ফুল লেংথ অ্যানিমে পেত, ভাল লাগত।

আর হ্যা, ভাল কথা, মুভির শুরুতেই ওরেকি হৌতারোকে হঠাৎ দেখে চমকে গিয়েছিলাম!! ও দেখি এখন এনার্জি কনসার্ভিং ছেড়ে ড্রাম বাজানো শুরু করেছে!!

রোমিও এক্স জুলিয়েট রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

12513956_586684758162701_8807651964706537406_o

নায়ক এবং নায়িকা, দুজনেই শহরের দুই অন্যতম প্রভাবশালী গৃহস্থের সন্তান। এই দুই পরিবারের মাঝে আবার সাপে-নেউলে সম্পর্ক। কিন্তু তারপরেও ঘটনাক্রমে (!) নায়ক-নায়িকার সখ্যতা গড়ে ওঠে। এরপর শুরু হয় লড়াই ও যত দুনিয়ার ঝামেলা।

শেকসপীয়ার সাহেব সেই কবে এই এক কাহিনী শুরু করে দিয়ে গেছেন, এরপরে এই কাহিনীই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে সারা দুনিয়াতে অন্তত কয়েক হাজারবার ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য মুভি/সিরিজ। আর এই নতুন মোড়কে পুরান কাহিনী সিরিজেরই আরেকটি হল আজকের আলোচ্য অ্যানিমে, “রোমিও এক্স জুলিয়েট”।

প্রশ্ন জাগতে পারে, রোমিও জুলিয়েট এর প্রেমকাহিনী তো জানিই, তাহলে আর এই অ্যানিমে নিয়ে এত ভেজাল করার দরকার কি? ২৪ এপিসোড সময় নষ্ট করে সেই “হোয়্যারফোর দাউ আর্ট রোমিও?” র গাপানি ভার্শন কে দেখে?

এখানেই মজাটা। সেটিংটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, আপনার মনেই হবে না যে এটা আসলে শেকসপীয়ার সাহেবের কাছ থেকে ধার করা কাহিনী। কারণ এই অ্যানিমেতে শেকসপীয়ার সাহেব নিজেই যে একজন চরিত্র!! সেটিং টা এমনভাবে করা, যেন মনে হয় যে এই ঘটনার থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই উইলিয়াম শেকসপীয়ার তার বিখ্যাত উপন্যাসটি লিখেছেন।

12604943_586684761496034_684024832718483953_o

অনেক অনেক কাল আগে, মানুষ লাপুতার মত এক ভাসমান রাজ্য নিও ভেরোনাতে বসবাস করত। সেখানকার দয়ালু শাসক ছিলেন ক্যাপিউলেট পরিবারের প্রধান। কিন্তু এক রাতে অতর্কিতে ক্যাপিউলেটদের প্রাসাদে হামলা চালায় মন্টাগিও ফ্যামিলি। নৃশংসভাবে তারা খুন করে ক্যাপিউলেট পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে ক্যাপিউলেট পরিবারের কয়েকজন ফলোয়ার চেষ্টা করে উদ্ধার করে আনে এই পরিবারের উত্তরাধিকারী জুলিয়েট ফিয়াম্মাটা অ্যাস্টো ক্যাপিউলেটকে।

এরপর কেটে যায় ১৪ টি বছর। রাজ্যে অত্যাচারী মন্টাগিও পরিবারের শাসন প্রতিষ্ঠিত। জুলিয়েটের বিরূদ্ধে জারি করা হয়েছে মৃত্যু পরোয়ানা। জুলিয়েটকে তাই মানুষ করা হয় পুরো পৃথিবীর থেকে লুকিয়ে; মেয়ে নয়, তাকে সবাই চেনে ওডিন নামের এক বালক হিসেবে।

এই ওডিনের সাথে ঘটনাক্রমে দেখা হয়ে যায় মন্টাগিও পরিবারের দয়ালু সন্তান রাজপুত্র রোমিওর। এই এনকাউন্টার কি প্রভাব ফেলবে তাদের জীবনে? বিশেষত যখন ক্যাপিউলেট পরিবারের ফলোয়াররা একত্রিত হচ্ছে, জুলিয়েটকে নতুন লীডার বানিয়ে মন্টাগিও পরিবারের পতন নিশ্চিত করার আশায়?

অ্যানিমেটির শুরুটা খুবই ভাল ছিল, শুরুর ৮-১০ টা এপিসোড দেখার সময় আমি চোখের পলক ফেলতে ভুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। জুলিয়েটের দ্বৈত জীবন, অত্যাচারী মন্টাগিও পরিবারের কাজকর্মের নমুনা, সেখান থেকে শহরবাসীকে বাঁচানোর জন্য জুলিয়েটের আপ্রাণ প্রচেষ্টা, রোমিওর সাথে পরিচয়, বন্ধুত্ব; আর নিজের অতীত জানার পর একটু একটু করে পরিণত হতে থাকা জুলিয়েট – সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল যে সে জুলিয়েট ড্যামসেল ইন ডিস্ট্রেস হবে না, সে স্বাবলম্বী এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে।

কিন্তু এরপর কাহিনীটা কেমন যেন খাপছাড়া হয়ে যেতে থাকে। ক্যাপিউলেটদের সম্মান ফেরত নেয়ার যুদ্ধ হঠাত করে রূপ নেয় জার্নি টু সেভ জুলিয়েটে। এর মাঝে রাজকুমার রোমিও তার বাবার সাথে কলহের পরিণামে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ে যায়, সেখান থেকে পৃথিবীকে সে নতুন রূপে চিনতে শেখে। শেষের দিকে এসে কাহিনীটা আবার লাইনে ফেরত আসে, এবং এপিসোড ২৩ এ যদি কাহিনীটা শেষ করে দিত, তাহলে এটি আমার অন্যতম পছন্দের একটি অ্যানিমের তালিকায় যুক্ত হত। কিন্তু সুপারন্যাচারাল ফেনোমেনা ঢুকিয়ে যেভাবে কাহিনীর এন্ডিং দেয়া হয়, আমার ভাল লাগেনি, তবে এটা কেবলমাত্র আমার অভিমত, অনেকের ভাল লাগতেও পারে।

স্টুডিও গনজোর এই অ্যানিমেটার আর্ট ভালই, ওএসটি খুবই সুন্দর, মনে রাখার মত। ওভার অল অ্যানিমেটা ভালই, সোর্ডফাইটগুলো দেখার মত ছিল। আপনি রোমান্স ফ্যান হয়ে থাকলে এই অ্যানিমেটি নিশ্চিতভাবে ভাল লাগবে।

12509602_586684801496030_1513153742687139574_n

অ্যানিমে সাজেশনঃ সাকুরাকো সান নো আশিমোতো নি ওয়া শিতাই গা উমাত্তেইরু; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10014955_577552792409231_3034083471763853742_o

অ্যানিমে- সাকুরাকো সান নো আশিমোতো নি ওয়া শিতাই গা উমাত্তেইরু / এ কর্পস বারিড আন্ডার সাকুরাকোস ফিট

অ্যানিমেটি যখন দেখা শুরু করি, এর তিন মাইল লম্বা নাম দেখে মেজাজ খারাপ হয়েছিল, ভাবতাম যে এত বড় নাম হয় কেন রে বাবা লাইট নভেল গুলার!! কিন্তু আজ শেষ পর্বটি দেখার পর মনে হচ্ছে, নাহ!! এই নামকরণ আসলেই সার্থক। ওয়ান পাঞ্চ ম্যান বা নোরাগামী আরাগোতোর হাইপের আড়ালে ঢাকা পড়ার কারণে অনেকেই হয়ত অ্যানিমেটির নামও শোনেননি, কিন্তু মিস্ট্রি জানরার ফ্যানদের জন্য এটি একটি মাস্ট ওয়াচ অ্যানিমে।

1412744_577554125742431_4213871888005648295_o

কাহিনী আবর্তিত হয় কুজোও সাকুরাকো নামের সুন্দরী অস্টিওলজিস্ট এবং তার হাইস্কুল পড়ুয়া অ্যাসিস্ট্যান্ট শৌতারোকে ঘিরে। হাড়প্রেমী খামখেয়ালী সাকুরাকো সান হাড়ের সন্ধান পেলে দুনিয়া ভুলে যান, আর তার এই খামখেয়ালীপনার লাগাম টেনে ধরে শৌতারো। মৃতদেহ কথা বলে তার সাথে; হাড়ের অবস্থা দেখে সাকুরাকো সান সমাধান করে রহস্যের, বের করে আনে লুকিয়ে থাকা চাবিকাঠি।

অ্যানিমেটির গ্রাফিক্স অনেক বেশি সুন্দর, আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার পার্ফেক্ট। অ্যানিমেটিতে দেখানো মিস্ট্রিগুলো খুবই চমকপ্রদ, সেকেন্ড সিজনের জন্য অনেক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।

মাত্র ১২ পর্বের এই অ্যানিমেটি যারা দেখেননি এখনও, দেখে ফেলতে পারেন, ভাল লাগবে আশা করি। আমার কাছে এটি এ বছরের সেরা অ্যানিমেগুলোর একটি।

1933220_577553085742535_1007971363804566011_o

Tsuritama অ্যানিমে রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Tsuritama.full.1107613

জনরাঃ কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ, স্পোর্টস, সাই-ফাই

“Even if the world ends tomorrow, I just want to fish!”

আচ্ছা, আপনারা কেউ কখনো বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছেন? কেমন লাগে ব্যাপারটা? কাঠির গায়ে সুতো বেঁধে পানিতে টোপ ফেলে চুপ করে বসে বোরিং সময় কাটানোর মাঝে কি এমন থাকতে পারে, যা নিয়ে হারু আর কোকো এত হাইপড? কিংবা বড়শিতে মাছ গাঁথার পর সেটাকে খেলিয়ে ডাঙায় তোলা কি এমন কঠিন কাজ, যার জন্যে নাতসুকিকে “প্রিন্স” উপাধি দেয়া হয়েছে?কি এমন রয়েছে এই মাছধরাতে, যে দুনিয়া উল্টে গেলেও কিছু যায় আসে না??

কিংবা মনে করুন, আপনি একজন ট্রান্সফার স্টুডেন্ট। কিন্তু অনেক লোকজনের সামনে আপনি অত্যন্ত অকওয়ার্ড ফিল করেন। তাও কষ্টেসৃষ্টে ফার্স্ট ইমপ্রেশনটা ঠিক রাখার জন্য অনেক প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে গেলেন। বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুনতে শুনতে আপনি স্পীচ দেয়া শেষ করে কেবল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন, এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে এসে উদয় হল রাস্তায় দেখা হওয়া সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন ছেলেটি! কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজেকে আবিষ্কার করলেন পুরো ক্লাসের সামনে, হাত নেড়ে এনোশিমা ডান্স করা অবস্থায়!! গেল আপনার সাধের ফার্স্ট ইম্প্রেশন!

HorribleSubs_Tsuritama_-_10_720p.mkv_snapshot_04.04_2012.06.16_13.44.05
অথবা, সবসময় একটা হাঁস বগলদাবা করে ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাদার আসল উদ্দেশ্যটা কি? হারুর ব্যাপারে সে এত সতর্ক কেন? ইউকি আর নাতসুকিকে জোর করে মাছ ধরতে নিয়ে যাওয়ার মত পাগলামি ছাড়া তো আর তেমন কিছুই করেনা সে। কিংবা হারুই বা সমুদ্রে মাছ ধরতে এত আগ্রহী কেন? এনোশিমার প্রাচীন লোকগাঁথার সাথে কি ওদের কোন সম্পর্ক আছে?

অ্যানিমেটার শুরুটা এমনই ওলট পালট মার্কা, কোথা থেকে কি হচ্ছে আমি কিছু ঠাহর করে উঠতে পারছিলাম না। মাথায় মাছের জার নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন হারুর কাজকর্ম দেখে হাসি পাচ্ছিল, আবার ওর সরলতা দেখে মায়াও লাগছিল। কিন্তু যত এগোলাম, তত যেন কাহিনীটা আমাকে ভেতরে টানতে থাকল! ভেবেছিলাম কি, আর শেষে হলটা কি! সিম্পল একটা মনকে খুশি করে দেয়া হাসিখুশি স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে হঠাৎ হয়ে গেল একটি জমজমাট রূদ্ধশ্বাস সাইফাই অ্যানিমে! এবং সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপারটি হল, এতকিছুর মধ্যেও অ্যানিমেটা আমার মুখ থেকে একবারের জন্যেও হাসিটা মুছতে দেয়নি!
tsuritama_by_squ_chan-d56d05l
অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত সুন্দর। উজ্জ্বল, ঝলমলে রঙ ব্যবহার করে এনোশিমা নামক সমুদ্র উপকূলের শহরটিকে খুব মনোমুগ্ধকর উপায়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে; দেখে যে কারও মনে হতে বাধ্য, একবার যদি এনোশিমায় যেতে পারতাম! ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ উদ্ভট, আর এই উদ্ভট ডিজাইনের কারণেই যেন অ্যানিমেটা প্রাণ পেয়েছে। নাতসুকির মাছধরা বিষয়ক জ্ঞান, ইউকি ও হারুর এ বিষয়ে অজ্ঞানতা, শুধুমাত্র এই ফিশিং এর কারণে চারটা ছেলের জীবনে পরিবর্তন, তাদের মানুষ হিসেবে পরিণত হয়ে উঠতে দেখলে নিজের অজান্তেই তাদেরকে আপন মনে হতে থাকবে!

অ্যানিমেটার ওএসটি খুবই চমৎকার, ওপেনিং এন্ডিং একটাও স্কিপ করার মত না। আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক প্রতিটা সিচুয়েশনে পার্ফেক্টভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। মাছধরা থেকে শুরু করে ক্লাইম্যাক্স, সবখানেই নিখুঁত আবহ তৈরি করেছে এর ওএসটি।

সবমিলিয়ে অ্যানিমেটা আবার খুবই ভাল লেগেছে, ভিন্নধাঁচের স্লাইস অফ লাইফ ও সাই-ফাইয়ের মিশ্রণ দেখে আরও বেশি ভাল লেগেছে। অনেকদিন পরেও তাপিওকার “ডাক” মনে করে আমি হাসব, নাতসুকি, ইউকি, হারু আর ইয়ামাদার বন্ধুত্বের কথা মনে করে আনন্দ পাব। আর ক্লাইম্যাক্সের সেই লোম খাড়া করা মূহুর্তগুলো তো কখনোই পুরনো হবার নয়!

tsuritama_wallpaper_by_chatlantic-d5974r8

অ্যানিমে রিভিউঃ বারটেন্ডার; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

lunar-bartender-01-x2641280x7201639e648-mkv_snapshot_04-25_2011-03-19_02-30-54

আজ দেখে শেষ করলাম “বারটেন্ডার”। রাফিউলের ভাষায় বলি, “বাউরে বাউ, কি যে দেখলাম এইটা!!” হার্ড লিকারের উপর কেউ পিএইচডি করতে চাইলে এই অ্যানিমে দেখা আবশ্যক!!

সাসাকুরা রিউ একজন বারটেন্ডার। টোকিও শহরের গিনজা নামক এলাকায় অবস্থিত তার বার, “এডেন হল।” রিউ অত্যন্ত দক্ষ একজন বারটেন্ডার, যে কারণে তার তৈরি করা ককটেলকে বলা হয় “গ্লাস অফ গড”। প্রতিদিন বিভিন্ন ক্যারেক্টারিস্টিকের এবং ভিন্ন ভিন্ন সোশ্যাল স্ট্যাটাসের মানুষ আসে বারে, আর এক গ্লাস ককটেলের সাথে উঠে আসে তাদের সুখ-দুঃখের গল্প। সাসাকুরা রিউ নৈপুণ্যের সাথে ককটেলের গ্লাসে ফুটিয়ে তোলে তার শিল্পকর্ম, আর সেইসাথে এর সাথে সম্পর্কিত একেকটি অদ্ভুত গল্প দিয়ে মুগ্ধ করে অতিথিকে, কারণ, একজন বারটেন্ডারের যে দায়িত্ব এটা, অতিথি যেন যাওয়ার সময় একটি সুন্দর সময়ের স্মৃতি সাথে করে নিয়ে যান।

অ্যানিমের কাহিনী এপিসোডিক, প্রতিটা পর্বে বিভিন্ন ধরণের ককটেল আর তার সৃষ্টির ইতিহাস বেশ ইন্টারেস্টিংভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সাসাকুরা রিউ যখন ককটেলগুলো বানায়, ঐ দৃশ্যটা বেশ অ্যামেজিং। আর প্রতিটা মানুষের মনের ভেতরের কথা সে যেভাবে টেনে বের করে আনে, এটাও ইন্টারেস্টিং।

অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অনেক ভাল, সঙ্গত কারণেই “ডেথ প্যারেড” এর কথা বারবার মনে পড়ছিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন চমৎকার, আর ওএসটিও বেশ ভাল। এন্ডিং সংটা একবারও স্কিপ করতে পারিনি।

সবমিলিয়ে খুবই এক্সেপশনাল এবং ইন্টারেস্টিং একটি অ্যানিমে এটি, ১১ টা এপিসোড বেশ উপভোগ করেছি।

12022554_555071621324015_3926291896555078707_o

অ্যানিমে রিঅ্যাকশন- শার্লট; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

charlotte

অবশেষে শার্লট দেখে শেষ করলাম। কালকেই শেষ হত আসলে, একেবারে শেষ এপিসোডের সাবটাইটেলে গন্ডগোল থাকায় সম্ভব হয়নি।

শুরুতে তেমন আহামরি লাগেনি, হাইস্কুলের স্টুডেন্টদের চূনিবিও সিন্ড্রোমের মত কিছু অস্বাভাবিক ক্ষমতা প্রাপ্তি ঘটে, সেগুলো ব্যবহার করে একদল শয়তানি করে বেড়ায়, আর আরেকদল সেটা থামিয়ে তাদের পথে আনে। মনে হচ্ছিল, “ওকে, দেখা চলে, দেখা যাক এই চূনিবিওর দৌড় কতদূর।”

এরপর আগাতে থাকলাম, জিনিসটা ইন্টারেস্টিং হওয়া শুরু করল। নতুন নতুন পাওয়ার আসে, তাদের সাথে এবং স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সদস্যদের নিজেদের মাঝে সম্পর্কের উন্নতি দেখে বেশ ভাল লাগছিল।

তারপর, এলো এপিসোড ৬!! হঠাৎ করে একটা হাসিখুশি অ্যানিমে পুরো ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেল। ব্যাপারটা এতটা আচমকা ঘটে যে আমারই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। এরপর ইউ এর অবস্থা, রিকভারী, ঘটনাগুলো কষ্টদায়ক ছিল, আবার সুইট ছিল (ইউ নো হোয়াই)। ভাবলাম যে হ্যা, এখন বোধহয় লাভ ষ্টোরি ঢুকায়ে দিবে।

কিন্তু আবার চমক, কিসের লাভ স্টোরি, কিসের নরমাল লাইফ!! কাহিনী তো কেবল শুরু!! একের পর এক টার্ন অফ ইভেন্ট, মানসিক চাপ আর দুঃখজনক ঘটনা। এপিসোড ১২ তে পৌছে অনেক ভাল লাগল, এটা ভেবে অবাক লাগল যে এই অল্প কয়টা এপিসোডের মাঝে এতকিছু কিভাবে দেখাল!!

তবে একেবারে লাস্ট এপিসোডটার কোন প্রয়োজনীয়তা আমি খুঁজে পেলাম না। সারা দুনিয়া ঘোরাটা যেন ডাল মাখায়ে ভাত খাওয়ার মত সহজ, তাই এত ডেঞ্জারাস একটা কাজে জনাব নায়ক একাই বের হয়ে পড়লেন, জাস্ট লাইক দ্যাট!!

যাহোক, ভালই লেগেছে সবমিলিয়ে, আর্টওয়ার্ক, ওএসটি অনেক ভাল, আর স্টোরিটাও ঘোটপাকানো হলেও ভাল।

 

628927