সাইকো পাস সিজন ২ আলোচনা; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

psy

একটা অ্যানিমে যখন আমাদের ভাল লাগে, তখন আমরা সবাই আশা করি যে ঐ অ্যানিমেটার আরেকটা সিজন আসুক, এবং একই রকম চমক উপহার দিক আমাদের। আর অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রি চলেই আমাদের এই এক্সপেকটেশনের ওপর নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে সাইকো পাসের সফলতার পরে যখন সিজন ২ আসার খবর পাওয়া যায়, আমরা আগ্রহ নিয়ে দেখব এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে এটা আমাদের আশা পূর্ণ না করে যদি শুধু নাম ভাঙিয়ে খাওয়ার একটা প্রচেষ্টা হয়, তাহলে বিরক্ত লাগাটাও স্বাভাবিক। এখন প্রশ্ন হল, সাইকো পাস সিজন ২ আগের সিজনের সেই চমৎকার এক্সপেরিয়েন্সটা দেয়ার ক্ষমতা রাখে কিনা।

প্রথমে দেখা যাক, কি কি কারণে সিজন ২ অনেকের দেখতে ইচ্ছা না হতে পারে।

# প্রথম সিজনটা ছিল গেন উড়োবুচির সৃষ্টি। কিন্তু পরেরটায় তিনি কোন কাজই করেননি। এটা খুব সহজেই ধরে নেয়া যায় যে অন্য কেউ তার লেখা গল্প তার মত করে এক্সিকিউট করতে পারবে না, কাজেই সবচেয়ে বড় রিস্কটা ওখানেই। তবে শেষমেশ অবস্থা কি হল, তা জানতে হলে তো দেখতেই হবে।

# Studio পাল্টে গেছে। এটা যদিও আমার কাছে তেমন বড় ফ্যাক্ট না, তবে বাজেট, গ্রাফিক্স আরও যা যা একটা অ্যানিমে বানাতে প্রয়োজন, সেটা তো এরই সাথে পাল্টাবে। তবে এইক্ষেত্রে আমার চোখে গ্রাফিক্সে খুব পার্থক্য ধরা পড়েনি, হয়ত এপিসোড সংখ্যা কমিয়ে সেটা ম্যানেজ করা গেছে।

# শিনিয়া কৌগামি। সবচাইতে বড় পার্থক্যটা সে একা গড়ে দিয়েছে। এই সিজনে একমাত্র আকান সুনেমোরির কল্পনাতে ছাড়া কোথাও তার দেখা নেই। একটা প্রধান চরিত্রের অনুপস্থিতিটা অনাগ্রহ জাগিয়ে তোলার জন্যে যথেষ্ট।

# Storyline এ আগের সিজনের সাথে ধরতে গেলে কোন সম্পর্কই নেই। আবার সেই সিবিল সিষ্টেমকে চ্যালেঞ্জ, এটাকে জাজ করার প্লট, আকানে সুনেমোরির ওপর প্রেশার। ক্রাইম সিনে মারামারি কাটাকাটি যা হয় তা এই সিজনের চরিত্রগুলোর মাঝেই সীমাবদ্ধ। সম্ভবত গেন উড়োবুচি নিজের সৃষ্ট চরিত্রগুলোকে নিজহাতে খুন করতে চান।

# আগের সিজনের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্রুটাল করার চেষ্টা করেছে। এবং তাতে কিছুটা মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

# ক্যারেক্টার ডিজাইন কিছুটা বিরক্তিকর। প্রায় সব ফিমেল ক্যারেক্টার দেখতে একই রকম। আমি শেষ এপিসোড পর্যন্ত তাদের চিনতে ভুল করেছি বারবার।

# শুরুর দিকে কাহিনীটা একটু জট পাকিয়ে গিয়েছিল। পরে যেটা শুধরে নেয়।

# সবশেষে আবার স্টোরিটাকে মোটামুটি ঐ সিজন ১ যেখানে শেষ হয়েছে ঐরকমই একটা পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যদিও এটা কেবল একটা অনুমান মাত্র, ঠিক নাও হতে পারে।

এবার বলি কেন আমার কাছে সাইকো পাস সিজন ২ কে ভাল লেগেছে।

# কৌগামি নেই, মাকিশিমা নেই, তো কে আছে? কিরিতো কামুই। মাকিশিমা যদি ক্রিমিনালি অ্যাসিম্পটোম্যাটিক হয়, তো কামুই আরেক আশ্চর্য বস্তু। কামুই এর কাজকর্ম দেখার জন্য হলেও এটা দেখা উচিৎ।

# স্টোরিলাইন। সিবিল সিস্টেমকে বেশ ভালভাবে সংশয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে কিরিতো। টানটান উত্তেজনাটা ধরে রাখতে পেরেছে।

# আকানে সুনেমোরি। সে যেভাবে ল’ কে প্রতিনিয়ত বুদ্ধিমত্তার সাথে রক্ষা করে যাচ্ছে, তার প্রমাণ আরও একবার পেতে ভালই লাগবে।

# আমি নিশ্চিত সুনেমোরির কালার নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন আছে। ওর কালার কি আসলেই কখনো পাল্টাবে না? Well, there is a surprize for you regarding that fact!

# নতুন ইনস্পেক্টর এবং এনফোর্সার আছে বেশ কয়েকজন, তারা যদি হঠাৎ করে মুভিতে এসে পড়ে, চিনতে কষ্ট হবে। তারওপর একরকম দেখতে, ঐ ব্যাপারটা তো আছেই।

# সিবিলকে কামুই এর শেষমূহুর্তে ছুড়ে দেয়া প্রশ্নটা। এটা মুভির সাথে সিজন ২ কে জুড়ে দিতে পারে।

# সিবিল নিজেকে কিভাবে পাল্টাবে কামুইকে জাজ করতে। এটা জানাটা বোধহয় সবারই উচিৎ।

# মাত্র ১১টা এপিসোডের মাঝে অনেক কিছুই দেখিয়ে ফেলেছে, যে সময়টা দেখতে ব্যয় হবে, তা মোটেই নষ্ট হবেনা।

সবমিলিয়ে সাইকো পাস সিজন ২ কে আমার কাছে অনেকটা ফিলার সিজনের মত মনে হয়েছে। কিন্তু এঞ্জয়েবল, ভাল স্টোরিলাইনের এবং চমৎকার ওএসটি যুক্ত একটি ফিলার এবং আমি বেশ উপভোগ করে দেখেছি। আবার বলাও যায়না, কোন না কোনভাবে মুভির কাহিনী যদি এর সাথে জুড়ে যায়, তাহলে এটা মাস্ট ওয়াচে পরিণত হবে। কাজেই, আমার মতে, মুভি আসতে আসতে একটু কষ্ট করে এটা দেখে নেয়াটাই উচিৎ।

কুরোশিতসুজি- সার্কাস পর্ব; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10734268_420565528107959_2014149067390686627_n

Genres- Comedy, Demons, Fantasy, Historical, Shounen, Supernatural
Episodes- 10
Score- 8.41
Ranked- 145

 

কুরোশিতসুজি বা ব্ল্যাক বাটলার। অ্যানিমেটির এ পর্যন্ত সর্বমোট তিনটি সিজন বেরিয়েছে; বুক অফ সার্কাস তার মাঝে তৃতীয়টি। এটি মাঙ্গার “Noah’s Ark Circus” আর্কটি অনুসরণ করে বানানো।

কাহিনীর সময়কাল সেই পরিচিত সুপ্রাচীন ভিক্টোরিয়ার আমলের অভিজাত লন্ডনে, যেখানে বাস করে ফ্যান্টমহাইভ কোম্পানির মালিক, অভিজাত এই বংশের কিশোর উত্তরাধিকারী এবং কুইন ভিক্টোরিয়ার গার্ড ডগ- সিয়েল আর্ল ফ্যান্টমহাইভ। তার পরিবার এক দুর্ঘটনায় মারা যায়, এবং নিজের জীবন ও সম্মান রক্ষা করার জন্য সে ডেমন বাটলার সেবাস্টিয়ান মিখাইলস এর সাথে নিজের আত্মার বিনিময়ে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।

শহরে হঠাৎ করেই এসে হাজির হয় এক সার্কাস দল। অতি অল্পসময়ের মাঝে এই সার্কাস দলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। কিন্তু প্রায় একই সময়ে শহর থেকে একের পর এক ছোট ছেলেমেয়ে হারিয়ে যেতে থাকে। তাহলে কি এই সার্কাস দল এবং বাচ্চাদের হারিয়ে যাওয়ার মাঝে কোন যোগসূত্র আছে? রাণী ভিক্টোরিয়া আদেশ করেন এ ব্যাপারে তদন্ত করতে। রাণীর আদেশে সিয়েল তার ডেমন বাটলারকে নিয়ে ছদ্মবেশে ঐ সাকার্স তদন্ত করতে নামে।

কাহিনীতে বরাবরের মতই টিপটপ বাটলার সেবাষ্টিয়ানের নিখুঁত কাজের চমক এবং আনুগত্যের দেখা পাওয়া যায়, সেইসাথে পাওয়া যায় অদ্ভুতুড়ে ফ্যান্টমহাইভ সার্ভেন্টদের উল্টোপাল্টা কাজ। আর্ট, ক্যারেক্টার ডিজাইন সবই প্রায় আগের মতই, তবে কিছুটা উন্নত। এই সিজনের অন্যতম আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ছদ্মবেশী সিয়েল, সার্কাসের ভেতরে সেবাষ্টিয়ান ও সিয়েলের অভিযান, গ্রীম রিপাররা এবং অবশ্যই- ফ্যান্টমহাইভ সার্ভেন্টরা! শেষের দিকে কাহিনীটা একটু ডার্ক থিমের দিকে মোড় নেয়, যার কারণে এন্ডিংটা বেশ ভাল হয়েছে এবং পুরো অ্যানিমেটাই যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়েছে। মাত্র ১০ পর্বের অতি অল্প সময়ের মাঝে খুব সুন্দরভাবে কাহিনীটা এক্সিকিউট করা হয়েছে। সেইসাথে রয়েছে মানানসই ওএসটি এবং ভয়েস অ্যাক্টরদের চমৎকার কাজ।

সবমিলিয়ে অ্যানিমেটা বেশ উপভোগ্য হয়েছে। কুরোশিতসুজি প্রথম সিজনটির প্রথম ১৫ টি এপিসোড মাঙ্গা অনুসরণ করে; এরপর “কারি কনটেষ্ট আর্ক” এর পর থেকে বাকিটা এবং পুরো সিজন ২ মাঙ্গা অনুসরণ করে না। বুক অফ সাকার্সের কাহিনী মাঙ্গার কারি কনটেষ্ট আর্কের ঠিক পরের আর্ক থেকে শুরু, কাজেই ধরে নেয়া যায় যে এটি এপিসোড ১৫র পরের কন্টিনিউয়েশন।

তাই আমি বলব, যাদের কুরোশিতসুজির আগের সিজনগুলো ভাল লাগেনি, তারাও এই ছোট আর্কটা দেখে ফেলতে পারেন, ভালই লাগবে আশা করি!

Movie Time With Yami – Special Episode (টিং টং মুভি টাইম)

Perfect Blue

Genres: Drama, Horror, Psychological
Runtime: 80 minutes
Score: 8.13
Ranked: 375

দেখলাম সাতোশি কন এর বিখ্যাত অ্যানিমে মুভি Perfect Blue. জনপ্রিয় পপ আইডল কিশোরী মিমা স্বপ্ন দেখে বিখ্যাত অভিনেত্রী হওয়ার। সেজন্য সে যেকোন উপায়ে তার আইডল পরিচয় মুছে ফেলতে সচেষ্ট। তার ভক্তরা এই সংবাদ পেয়ে যথেষ্ট মনোঃক্ষুণ্ণ হয়। কিন্তু অভিনেত্রী হিসেবে নতুন পরিচিতি পাওয়ার আশায় বেপরোয়া হয়ে মিমা কিছু আপত্তিকর কাজ করে ফেলে, যা তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খেতে থাকে। এরই মাঝে সে ইন্টারনেটে একটি ওয়েবসাইটের সন্ধান পায়, যেখানে তার রোজনামচা একদম নিখুঁতভাবে লেখা, যেন মিমা নিজেই ওগুলো লিখছে। সবদিক থেকে আসা এত মানসিক চাপ সইতে না পেরে মিমা কল্পনা ও বাস্তবতার পার্থক্য বুঝতে অপারগ হয়ে পড়ে।

মুভিটির কাহিনী অনেক গভীর এবং থট প্রভোকিং, মুভিটির কাহিনীর পেছনে লুকানো একধরনের বার্তা আছে যা নিজে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়। আর্ট একটু পুরনো, কিন্তু সবমিলিয়ে অত্যন্ত চমৎকার একটি মুভি। এক্সপ্লিসিট কন্টেন্ট আছে কিছু, তাই আমি অবশ্যই ছোটদের সতর্ক করব যে শুধু বয়স না, মানসিক পরিপক্কতা আসার আগে কেউ মুভিটি দেখো না; কিন্তু এটি মাস্ট ওয়াচ ফিল্মের পর্যায়েই পড়ে।

গিন নো সাজি- রূপার চামচের গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

000

কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “অ্যানিমে কেন দেখ?” অনেক ধরণের উত্তরের মাঝে সবচেয়ে বেশি যে উত্তরটা পাওয়া যায়, তা হল, “অ্যানিমে / মাঙ্গা থেকে আমি অনুপ্রেরণা পাই।” এই উত্তরটা আমাকে সবসময় খুব অবাক করত, কারণ আমি অ্যানিমে / মাঙ্গাকে সবসময় বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু অন্তত এই একটি অ্যানিমে আমার ধারণার ব্যতিক্রম ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তাই অ্যানিমেটা শেষ করার পর আমি মাঙ্গাটাও পড়ে ফেলি। তাই এই রিভিউটি গিন নো সাজির অ্যানিমে এবং মাঙ্গা দুটিই কভার করবে।

প্রথমে মাঙ্গা সম্পর্কে কিছু তথ্য দেই-
Genres: Comedy, Drama, School, Shounen
Authors: Arakawa, Hiromu (Story & Art)
Status: Publishing
Score: 8.26
Ranked: 428

Gin-no-Saji-Ep-2-Img-0016-1024x576

হাচিকেন ইয়্যুগো একজন শহুরে কিশোর। বলতে গেলে তার সারাজীবন কেটেছে চার দেয়ালের মাঝে। বাসা, স্কুল এবং পড়াশোনা ছাড়া তার জীবনে আর কিছুই ছিল না। এই শহুরে ছেলেটা হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেয়, সে কোন শহুরে হাইস্কুলে পড়বে না; বরং টোকিও থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত একটি অ্যাগ্রিকালচারাল স্কুলে পড়বে, এবং সেখানে ডর্মিটরিতে থাকবে।

স্কুলের প্রথম দিন থেকেই হাচিকেন একের পর এক উদ্ভট পরিস্থিতির সামনে পড়ে! তার সহপাঠীরা সবাই খামারের কাজে ওস্তাদ; তারা সবাই এই স্কুলে এসেছে, কারণ তারা কৃষিকাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের পরিবারকে ব্যাবসায় সাহায্য করতে চায়। সেখানে হাচিকেন জীবনে কোনদিন কাছ থেকে গবাদি পশুও চোখে দেখেনি; অন্যদের কাছে যা স্বাভাবিক ঘটনা, হাচিকেনের কাছে সেগুলোই একেকটা নতুন চ্যালেঞ্জ!

1

জীবনের টুকরা জনরার বিরূদ্ধে একটা সাধারণ অভিযোগ, এগুলো নাকি বোরিং। কিন্তু রূপার চামচের বিরূদ্ধে আমার অভিযোগ, এটা দেখতে বসলে খিদে পায়! আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে কাজগুলো শুধু করার জন্য করি, সেগুলো যে আনন্দ নিয়েও করা যায়, তা গিন নো সাজি থেকে শিখেছি। একজন শহুরে ছাত্রের অ্যাগ্রিকালচার স্কুলে পড়তে যাওয়া, সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে টিকে থাকার প্রচেষ্টা, বন্ধুত্ব এবং বাস্তব জীবনের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক কিছু কথা- সব মিলিয়ে এই গল্পটি রূপার চামচের মতই এক টুকরো সম্পদ। সামান্য ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনারও যে কতটা উপভোগ্য হতে পারে, আমরা যে পিজা দোকানে গিয়ে কিনে খাই, তা সবাই মিলে বানিয়ে খাওয়া কতটা মজার হতে পারে… একটা পশুকে নিজে হাতে যত্ন করে বড় করার পর তাকে খাদ্যে পরিণত হতে দেয়াটা একইসাথে কত কষ্টের এবং আনন্দের হতে পারে- জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলোর গুরুত্ব এই গল্পটি আমাকে মনে করিয়েছে। সেইসাথে খামার বা কৃষিকাজ করে যারা জীবন যাপন করে, তাদের জীবনের সুখদুঃখটা খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন মাঙ্গাকা, আর তা পারবেনই বা না কেন! এর আগে তিনিই যে আমাদের উপহার দিয়েছিলেন ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্টের মত অসাধারণ এক গল্প!

014

মাঙ্গাটি আরাকাওয়া সেনসেই এর কাজ, কাজেই আর্ট এবং গল্প বলার স্টাইলের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই, প্রতিটা পৃষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা হয়। আর গল্পের ফাঁকে ফাঁকে তিনি হালকা হাস্যরস তৈরি করেছেন, পড়ার সময় তা মনটাকে হালকা করে তোলে। সেইসাথে অ্যানিমেটিও কম যায়না, এর ঝকঝকে মন ভাল করা আর্ট এবং অসাধারণ ওএসটির কারণে।

একজন মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, সেগুলো মাঝে গল্প উপন্যাসকেও হার মানায়! সেই চ্যালেঞ্জ পার করতে “ও পারলে আমি পারব” ধরণের মানিসকতা কাজে দেয়না; বরং নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে সেখান থেকেই যা করা সম্ভব তা করতে হয়। নাকামা পাওয়ার নয়, এনিথিং ফর মাই নাকামা নয়, সাধ্যমত সাহায্য করা এবং না পারলে নিজের অক্ষমতা মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। গিন নো সাজিতে এই বার্তাটি খুব সুন্দর একটা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

তাই, পারলে আজই পড়া শুরু করে দিন মাঙ্গাটি এবং আবিষ্কার করুন স্লাইস অফ লাইফ জনরার একটি অমূল্য রত্ন!

10847473_407429682754877_2032844622808354923_o

বর্ষাস্নাত আইরিশ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10882306_419249071572938_7703574320598321572_n

সেই সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই মানব প্রজাতির শখ, ভবিষ্যত পৃথিবী কেমন হতে পারে তা কল্পনা করা। সেখান থেকেই উৎপত্তি ঘটেছে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বা সায়েন্স ফিকশনের। কেমন হতে পারে ভবিষ্যতের পৃথিবী? কল্পকাহিনী লেখকেরা তাদের কল্পনার মাধ্যমে বারবার এই প্রশ্নের জবাব দিতে চেষ্টা করেছেন। এই কল্পনাগুলোতে যে ব্যাপারটা মোটামুটি কমন পাওয়া যায়, তা হল রোবটের আধিপত্য। বর্ষাস্নাত দিনের আইরিশের গল্পেও লেখক তার কল্পনাতে রোবটের সুখ দুঃখ পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন।

নভেলটির আদ্যোপান্তের কিছু তথ্য দেয়া যাক-
Genres: Drama, Romance, Sci-Fi, Slice of Life, Psychological
Authors: Matsuyama, Takeshi (Story), Hirasato (Art)
Volumes: 1
Chapters: 5
Score: 8.40
Ranked: 243 (MyAnimeList)

গল্পটি শুরু হয় এক অজানা আশঙ্কার আভাস দিয়ে। একটি রোবটের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। তার মেন্টাল সার্কিট রিড করতে থাকেন রালফ সিয়েল নামের এক ব্যক্তি। কাহিনী শুরু হয় ধ্বংসপ্রাপ্ত রোবটটির ডিসম্যান্টলিং এর ৭ দিন আগে থেকে।

গল্পটি ওভাল নামের এক আধুনিক শহরের। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির শীর্ষে পৌছেছে যে শহর। সাজানো গোছানো এ শহরটি পৃথিবীতে পরিচিত এর রোবট রিসার্চ সেন্টারের কারণে। শুধু রোবট নিয়ে গবেষণা চলে না এখানে, বরং বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার জন্য নিখুঁতভাবে রোবট তৈরিও করা হয়।

এই রিসার্চ সেন্টারের একজন প্রফেসর মিস ওয়েন্ডি ভন আমব্রেলা। অত্যন্ত সুন্দরী, মেধাবী এবং বিচক্ষণ এই প্রফেসর রোবটদের সাহায্য করার জন্য সবসময় ব্যতিব্যস্ত থাকেন। আর তার দেখভাল করার জন্য যে সবসময় ব্যস্ত থাকে, তার নাম আইরিশ রেইন আমব্রেলা।

আইরিশ হাসিখুশি এক কিশোরীর আদলে তৈরি রোবট। তাকে হঠাৎ দেখলে বোঝার কোন উপায় নেই যে সে আসলে এক হিউম্যানয়েড রোবট। সে প্রফেসর ওয়েনডির বাড়ি আমব্রেলা রেসিডেন্সে থাকে এবং তার দেখাশোনা করে। প্রফেসর ওয়েনডিও তাকে অত্যন্ত ভালবাসেন।

সবকিছুই তো ঠিকঠাক মতনই চলছিল। তাহলে কি এমন ঘটতে পারে আমব্রেলা রেসিডেন্সে? ধ্বংসপ্রাপ্ত রোবটটি কে? তার এই অবস্থা হল কিভাবে? গল্প যত এগিয়ে যায়, একের পর এক রহস্যের পরত খুলে যেতে থাকে।

গল্পটি আইরিশের।
গল্পটি অনুভূতির।
গল্পটি বেঁচে থাকার।
গল্পটি নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার।
গল্পটি উপলব্ধির।

রোবটের যদি অনুভূতি থেকে থাকে, তাহলেও কি তাকে ঘরের আর দশটা যন্ত্রের মত করেই ব্যবহার করে ফেলে দেয়া যাবে? পরিবারের এক অপরিহার্য সদস্য হয়ে যে এতদিন ছিল, কাজ শেষ হলে তাকে ফেলে দিতে কি একটুও কষ্ট হবেনা?

মানুষ এবং রোবট। অনুভূতির প্রশ্ন এলে তাদের আলাদা করাটা মাঝে মধ্যে কঠিন হয়ে দাড়ায়। নভেলটি পড়তে পড়তে সবকিছু কখন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, টের পাইনি। চমৎকার বর্ণনাশৈলী, পড়ার সময় মনে হয়েছে যেন চোখের সামনে দৃশ্যগুলো ভেসে উঠছে। শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত গল্পে ডুবিয়ে রাখার সব উপাদানই আছে এতে, সেই সাথে চমৎকার এন্ডিং!

তাই, আশা করব, যারা নভেলটি পড়বেন, তাদেরও আমার মতই ভাল লাগবে এবং পছন্দের নভেলের তালিকায় যুক্ত হবে।

লাইট নভেল রিভিউ; গেক্কোউ/চন্দ্রালোক – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

800px-Gekkou-006

“Gekkou” শব্দটার অর্থ করলে দাড়ায় চাঁদের আলো। যে আলোর তেজ নেই, তারপরেও সবার নজর কেড়ে নেয় তার মোহনীয় তীব্রতা দিয়ে। চাঁদ শুধু তার আলোকিত ঝলমলে চেহারাটা সবাইকে দেখায়। তার ঔজ্জ্বল্য দেখে বাকি সবাই সবকিছু ভুলে যায়। কিন্তু চাঁদেরও একটা অন্ধকার দিক আছে। সেই দিকটা সযত্নে গোপন রাখে সে। এমন চাঁদের মত একটি মেয়ে এবং আপাতদৃষ্টিতে নির্বিকার মনে হওয়া একটি ছেলের জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় এই নভেলটির কাহিনী।

কিছু তথ্য দেয়া যাক-
Genres: Comedy, Mystery, Romance, School, Shounen
Authors: Mamiya, Natsuki (Story), Shiromiso (Art)
Volumes: 1
Chapters: 11
Score: 8.33
Ranked: 326 (MyAnimeList)

শুরুটা খুব সাদামাটা। মোটামুটি যেকোন হাইস্কুল অ্যানিমেতে খুঁজে পাওয়া যায়, এমন একটি ক্লাসরুম, দৈনন্দিন একঘেয়ে জীবনের ওপর বিতৃষ্ণ গল্পের নায়ক নোনোমিয়া এবং ক্লাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবদিক থেকে প্রায় নিখুঁত নায়িকা ইয়োকো সুকিমোরি। নোনোমিয়ার দিন কাটে তার ক্লাসের প্রতিবেশী এবং বান্ধবী উসামির সাথে ঠাট্টা করে এবং সহপাঠীদের সাথে গল্প করে, যাদের গল্পের বিষয়বস্তু বেশিরভাগ সময়ই ইয়োকো সুকিমোরি এবং তাকে নিয়ে বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন গুজব।

আপাতদৃষ্টিতে ইয়োকো এবং নোনোমিয়ার মাঝে কোন ধরনের যোগসূত্র নেই এবং হওয়ার কোন সম্ভাবনাও নেই। ইয়োকো ক্লাসের সবচেয়ে নিখুঁত মেয়েটি, ঘরে বাইরে সবখানেই সে এলিগেন্ট। অপরদিকে নোনোমিয়া আপাতদৃষ্টিতে অতি সাধারণ। কিন্তু একটি ছোট্ট ঘটনা তাদেরকে একদিন গেঁথে দেয় একসূত্রে।

একদিন ক্লাস শেষে বইখাতা গুছানোর সময় নোনোমিয়া হঠাৎ দেখতে পায় মেঝেতে একটি নোটবুক পড়ে আছে। কৌতুহলবশত নোটবুকটি হাতে তুলে নেয় সে।

35488

আপনারা যা ভাবছেন তা নয়, ওটা ডেথনোট ছিল না!! ওটা ছিল ইয়োকো সুকিমোরির নোটবুক! এবং ঐ নোটবুকের ভেতর একটা কাগজ খুঁজে পায় নোনোমিয়া, যাতে হাতে লেখা বেশ কিছু পয়েন্ট গুছানো আছে। কাগজের ওপর শিরোনাম লেখা” “মার্ডার রেসিপি”.

এর মানে কি? ইয়োকোর কাছে মার্ডার রেসিপি কেন? সে কি কাউকে খুন করতে চায়? হেসেই উড়িয়ে দিল সেই সম্ভাবনাটা নোনোমিয়া। হয়ত এ ধরণের জিনিস নিয়ে গবেষণা করা ইয়োকোর শখ। কিন্তু এরপরেই একদিন সকালে ঘটল এমন একটা ঘটনা, যাতে মার্ডার রেসিপিটার দিকে নতুন নজরে তাকাতে বাধ্য হল নোনোমিয়া।

নভেলটি যখন প্রথম পড়া শুরু করি, প্রথম দুএক পৃষ্ঠা পড়ে আমি মনে করেছিলাম, হয়ত হাইস্কুলের প্লটে টিনেজ ছেলেমেয়েদের জীবনের ঘটনাগুলো নিয়ে গড়ে ওঠা নভেল হবে, এবং হ্যা, গল্পটা আসলেও তাই। কিন্তু শুধু সেটা নয়, বরং আরও কিছু। সামান্য একটা মার্ডার রেসিপি থেকে রহস্য শুরু হয়, যার কোনো ভিত্তিও হয়ত নেই, কিন্তু এখানেই লেখকের সার্থকতা। পুরোটা সময় পাঠককে উত্তেজনার মধ্যে রাখার সব উপকরণ এই নভেলে আছে, সেইসাথে রোমান্স এবং হাইস্কুল জীবনের জটিলতাগুলোও আছে।

প্রতিটা ক্যারেক্টারের এবং দৃশ্যের বর্ণনা চমৎকার, তাদের কল্পনা করে নিতে কোনই অসুবিধা হয়না। আমি নভেলটি পড়ার সময় একমূহুর্তের জন্যও বোর হইনি এবং চমৎকৃত হয়েছি বারবার!

যারা এই নভেলটি পড়েননি, আমি বলব তাড়াতাড়ি শুরু করে দিন, এবং জানুন এটি কত সুন্দর একটা রত্ন। এর কোন খুঁত আমার চোখে পড়েনি এবং আমি নিশ্চিত আর যারা পড়েছেন বা পড়বেন, তারাও খুব বেশি পছন্দ করবেন এটাকে।

Gekkou_ss1

Hyouka / Koten-bu Series রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

অ্যাডভেঞ্চার অথবা মিস্ট্রি জনরা চোখে পড়লে সাধারণত আমাদের মনে একধরণের ধারণা আসে, এই নভেলটির কাহিনী সেই ধারণার সাথে একেবারেই খাপ খায়না। কিন্তু তারপরেও, এই নভেলটি একটি নয়, বরং অনেকগুলো চমৎকার রহস্যের কাহিনী উপহার দিয়েছে পাঠকদেরকে।

প্রথমে কিছু তথ্য উপাত্ত দেয়া যাক-
Genres: Adventure, Mystery, School
Authors: Yonezawa, Honobu
Status: Publishing
Published: Oct 31, 2001
Score: 8.44
Ranked: 205 (MyAnimeList)

সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে, হাইস্কুল জীবন হল একজন মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। পড়াশোনা, খেলাধুলা, বন্ধুবান্ধব অথবা নতুন কোন অভিজ্ঞতা অর্জন- সবকিছু মিলিয়ে এই জীবনটার জন্য প্রচলিত কথাটি হল “Rose-coloured life”. এবং, ধরে নেয়া হয় যে, এই গোলাপ রঙা জীবনই যেকোন মানুষের সবচেয়ে আরাধ্য বস্তু।

কিন্তু কারও যদি এই রোজ কালারড লাইফ ভাল না লাগে? কারও যদি এই সবকিছুকে শুধু শক্তির অপচয় বলে মনে হয়, তাহলে তার জীবনকে কি বলা যায়? “Grey coloured”?

ওরেকি হোতারু নিজেকে তেমনই মনে করে। সে এই রোজ কালারড লাইফের প্রতি কোন আকর্ষণ অনুভব করেনা। এমন নয় যে সে যারা এভাবে জীবনযাপন করে তাদের অপছন্দ করে। তবে সে নিজে এসব থেকে দূরে থেকে নিজের শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে চায়, কারণ, নিজের সম্পর্কে তার নিজের বক্তব্য হল, সে একজন “Energy Saver”.

Hyouka-hyouka-33509469-1024-768

হোতারুর জীবনের motto হল, “If I don’t have to do it, I won’t do it, If I have to do it, make it quick”. যদিও এই ব্যাপারটা নিয়ে তার একমাত্র কাছের বন্ধু সাতোশি ঠাট্টা করার সুযোগ পেলে কখনো ছাড়েনা। সাতোশি নিজে হল ডেটাবেইস। পৃথিবীর যতধরণের তথ্য, সবই সাতোশির ঝুলিতে সযত্নে সংরক্ষিত থাকে। আর যেকোন কিছুতে বিশ্বাসযোগ্য ঠাট্টা করতে তার জুড়ি নেই। হোতারুর সম্পর্কে তার ধারণা, হোতারু নিজের ক্ষমতাকে ঠিকমত ব্যবহার করে না। করলে সে অনেক কিছু খুব সহজেই অর্জন করতে পারত।

এই নির্বিবাদ, শক্তি সঞ্চয়কারী হোতারুর জীবন পাল্টে দিল, বেনারস থেকে আসা একটি চিঠি।

হোতারুর বড়বোন তোমোয়ে হোতারুকে চিঠি পাঠায় একটি অদ্ভুত অনুরোধ (অথবা আদেশ) করে। হোতারুর বড়বোন হাইস্কুলের যে ক্লাবের সদস্য ছিল, সেই ক্লাবটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হবে। হোতারুর মত এনার্জি সেভারের জন্য এটা খুবই অপ্রয়োজনীয় একটি অনুরোধ, তাও বড়বোনের কথায় রাজি হয়ে হোতারু পা বাড়ায় ক্লাসিকস ক্লাবকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে।

কিন্তু ক্লাবরুমে পা দেয়ার সাথে সাথে হোতারুর জীবন ওলটপালট হয়ে যায়। কে জানত, স্পেশাল ব্লকের চারতলার শেষমাথার ঐ গোধূলীর স্নিগ্ধ আলোয় স্নান করা আলোকিত ঘরের কোনায় দাড়িয়ে থাকা এলিগেন্ট দেখতে বড় বড় কৌতুহলী চোখের শান্তশিষ্ট মেয়েটি এভাবে ঝড় তুলে দেবে ওরেকি হোতারুর জীবনে! কে জানত, এনার্জী কনসার্ভিং হোতারু একের পর এক কাজ করে যাবে চিতান্দা এরুর ইচ্ছায়, যা তার স্বভাবের পুরো বিপরীত! কি এমন আছে সেই মিষ্টি স্বরের “কিনিনারিমাস” এ?!

আমার মতে, নভেলটির একইসাথে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং দুর্বল দিক হল এর ট্যাগ। আমি নিজে যখন প্রথম শুরু করেছিলাম, আমার এক্সপেকটেশন ছিল মিস্ট্রি জনরার অন্যান্য কাহিনীর মতই মাথা ঘুরিয়ে দেয়া এবং প্লট টুইস্ট যুক্ত কোন কাহিনী হবে এবং পড়তে গেলে প্রতিটা লাইন গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে ক্লু বোঝার জন্য। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা আসলে একেবারে উল্টো। একদম চিন্তাভাবনা ছাড়া হালকা মেজাজে যেকোন অবস্থায় পড়ার উপযোগী একটি নভেল এটি। প্রতিটা ক্যারেক্টারের নিজস্ব চার্ম আছে এবং আলাদাভাবে মনে ছাপ ফেলে দেবে। তাদের কথাবার্তা, কাজকর্ম নিজের অজান্তেই মনে একটা প্রশান্তির ভাব এনে দেবে। কিন্তু একইসাথে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব বলে মনে হওয়া সমস্যাগুলো যখন খুব সহজে সমাধান হতে দেখা যায়, চমৎকৃত না হয়ে পারা যায়না।

এর একটা দুর্বল দিক হল, ট্যাগ দেখে এক্সপেকটেশন নিয়ে পড়তে শুরু করার পরে প্রথম কয়েকটা চ্যাপ্টার একটু ধীরগতির এবং বোরিং মনে হতে পারে, যদি আপনি ধীরগতির কাহিনীতে অভ্যস্ত না হন। কিন্তু যত কাহিনী যত এগিয়ে যাবে, পাঠককে এর ভেতরে তত বেশি টেনে নেবে, তা নিশ্চিত।
নভেলটির এ পর্যন্ত তিনটি ভলিউম ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে, তবে আশার কথা হল, এর অনুবাদ এখনো চলছে, তাই আশা করছি এটা সম্পূর্ণ অনূদিত হবে কোন একদিন।আরেকটা কথা না বললেই নয়, এর অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন প্রায় নিখুঁত। স্টোরিতে দুএকটা ছোটখাট পার্থক্য আছে, তবে দুটো থেকেই একইরকম আবহ পাওয়া যায়।

কাজেই, আমার মতে, সকলের জন্য, বিশেষ করে যারা কখনো লাইট নভেল পড়েননি, তাদের শুরু করার জন্য এ নভেলটি আদর্শ। যদি পড়ে না থাকেন তাহলে আজই পড়া শুরু করে দিতে পারেন।

বি. দ্র. – “হিওকা” এই নামটিই একটি বড় রহস্য।

সাইকো পাস – সিস্টেম সিবিল এবং বাস্তবতার সংঘর্ষ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

maxresdefault

 

এপিসোড সংখ্যা- ২২
জনরা- একশন​, সাই-ফাই, পুলিশ​

আমাদের পৃথিবী সাধারণত যে নিয়মটা ফলো করে- অপরাধ আগে ঘটবে, তারপর অপরাধীকে শাস্তি দেয়া হবে। অপরাধের প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেয়া যাবেনা। কিন্তু কখনো কি কারও মনে হয়েছে, যদি এরকম কোন ব্যবস্থা থাকত যে কোন অপরাধ ঘটার আগেই সেটাকে কোনভাবে ঠেকানো যাবে? বা এমন কোন যন্ত্র থাকবে, যা দিয়ে স্ক্যান করে অপরাধ ঘটার আগেই অপরাধীকে সনাক্ত করে তাকে বিরত করা যাবে?

আমাদের আনিমেটির কাহিনী ভবিষ্যতে, যখন এইরকম একটি যন্ত্র আসলেই আবিষ্কৃত হয়েছে। এবং শুধু আবিষ্কার বললে ভুল হবে, জাপানে এই যন্ত্রেরই রাজত্ব চলছে। যন্ত্রের নাম সাইকো পাস, আর পুরো ব্যাবস্থাটার নাম সিবিল সিস্টেম। প্রত্যেকটা মানুষের একটা করে সাইকো পাস রয়েছে। এটা দিয়ে তাদের অপরাধ প্রবণতা পরিমাপ করা হয়। যদি অপরাধ প্রবণতা কোন কারণে বিপদসীমা অতিক্রম করে তাহলে তার সাইকো পাস ঘোলাটে হয়ে যায় এবং রাস্তায় রাস্তায় বসানো শত শত স্ক্যানারে তা ধরা পড়ে। সেই মানুষটিকে চিকিৎসা দেয়া হয়, যাতে তার সাইকো পাস ঘোলাটে থেকে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। আর যদি বোঝা যায় যে তার সাইকো পাস কোনভাবেই আর ক্লিয়ার হবেনা, তাহলে তাকে সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করা হয়। দেশে কোন আইন আদালত নেই, পুলিশদের হাতেও এখন আর পিস্তল বা রিভলবার নেই, আছে ডমিনেটর। এই যন্ত্র সাইকো পাসকে স্ক্যান করে অপরাধের মাত্রা নির্ধারণ করে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে। কেউ বড় কোন অপরাধ করতে চেষ্টা করলে ডমিনেটর তাকে এলিমিনেট করে দেয়, আবার অপরাধ ছোট হলে বা অন্য কোন কারণে সাইকো পাস ঘোলা হলে প্যারালাইজড করে দেয় যাতে তাকে চিকিৎসা দেয়া যায়। বিচার করার সব দায়িত্ব এখন সিবিল সিস্টেমের।

এই সময়ে জাপানের পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগ দেয় আকানে সুনামোরি। এরপর সে পরিচিত হয় ডমিনেটর যন্ত্রটার সাথে এবং তার কলিগ ইন্সপেক্টর এবং এনফোর্সারদের সাথে। এনফোর্সার তাদের বলা হয়, যাদের সিবিল সিস্টেম সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করেছে, কিন্তু ইন্সপেক্টরের খবরদারিতে রেখে তাদের অপরাধ প্রবণতাকে কাজে লাগানো হয় অপরাধী ধরতে। তাদের সাথে আকানে সুনামোরি কাজ করতে থাকে এবং দক্ষতা অর্জন করতে থাকে।

কিন্তু যত সময় যেতে থাকে, সমস্যা দেখা দেয়। একটা যন্ত্র কি আসলেই অপরাধী সনাক্ত করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়, বা যন্ত্র যাকে সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করেছে, সে কি আসলেই অপরাধী, নাকি অন্য কোন কারণে তার সাইকো পাস ঘোলা হয়েছে… এই প্রশ্নগুলো উকি দিতে থাকে। আবার উল্টো প্রশ্নও সামনে এসে পড়ে। যদি কখনো এমন হয়, কোন মানুষ এমন উপায় খুঁজে বের করে ফেলেছে, যাতে তার সাইকো পাস সবসময় পরিষ্কার থাকে, তাহলে কি হবে? তার মাঝে যদি সিবিল সিস্টেম অপরাধ প্রবণতা খুঁজে না পায়, তাহলে তাকে কিভাবে ধরা হবে??

এভাবে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা প্লট নিয়ে এবং খুব চমৎকার কিছু ক্যারেক্টার নিয়ে গড়ে উঠেছে সাইকো পাস আনিমেটি। প্রতিটা ক্যারেক্টার অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আনিমেটি তার প্রমিস ধরে রেখেছে বলে আমি মনে করি। শিনিয়া কোগামি চরিত্রটি আমার পছন্দের চরিত্রের তালিকায় খুব দ্রুতই জায়গা করে নিয়েছে।

এই আনিমের আরেকটা ব্যাপার উল্লেখ না করাটা অন্যায় হবে, তা হল এর ওএসটি। প্রতিটা গান পাল্লা দিয়ে সুন্দর এবং মনে ছাপ ফেলে দেয়। আমার ব্যাক্তিগত পছন্দ প্রথম এন্ডিং সং “নামায়ে নো নাই কাইবুতসু বাই ইগোইস্ট”। শোনার পর থেকে ইনফিনিট লুপে দিয়ে রেখেছি।

খুব জলদি এই আনিমেটার সেকেন্ড সিজন বের হতে যাচ্ছে, কাজেই যারা এখনো প্রথম সিজন দেখেননি, তারা দেখে ফেলতে পারেন। আর যারা দেখেছেন তারা তো সবাই জানেনই এটা কতটা ভালো একটা আনিমে!

সাইকো পাস

যেতসুয়েন নো টেম্পেস্ট রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

394399

Genres: Action, Mystery, Drama, Fantasy, Magic, Shounen, Psychological
Score: 8.24
Ranked: 255
Episodes: 24

Yoshino_Takigawa

কাহিনীটা অদ্ভুত। ইওশিনো তাকিগাওয়া, একজন হাইস্কুল ছাত্র। একা একা ঘুরে বেড়ায় সব জায়গায়। কারো সাথেই যেন তার সম্পর্ক নেই। তার একমাত্র বন্ধু মাহিরো, যে কিছুদিন আগে নিখোঁজ হয়েছে, তার এবং তার বোন আইকার সাথে কাটানো বিভিন্ন সময়ের কথা সে বারবার মনে করতে থাকে। এমন সময় একদিন সে যখন গ্রেভইয়ার্ড ভিজিট করতে যায়, তখন হঠাত আক্রমণের শিকার হয় সে। তাকে রক্ষা করতে হঠাতই এসে হাজির হয় মাহিরো। এবং জাদুর সাহায্যে সে রক্ষা করে ইওশিনোকে।

625612-zetsuen_no_tempest___14___large_16

সমুদ্র। একটা ব্যারেল ভেসে ভেসে গিয়ে ঠেকল একটা জনমানবহীন দ্বীপে। তার ভেতর থেকে বেরোল রাজকন্যা হাকাজে, যাকে তার ক্লানেরই এক সদস্য এভাবে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। “Tree of Exodus” এর উত্থানের সময় হয়েছে, রাজকন্যা উপস্থিত থাকলে তা সম্ভব হবে না।

মাহিরো ইওশিনোকে বাঁচায়, ঠিক তখনি হঠাত কোত্থেকে হাজির হয় অনেকগুলো প্রজাপতি। তারপরেই তারা দেখতে পায় এক বিশাল আজব ফল সমুদ্রের ভেতর থেকে উঠে চোখ মেলে তাকায়। আর সাথে সাথে শহরের সব মানুষ আস্তে আস্তে ধাতুতে রূপান্তরিত হয়ে যেতে থাকে। ইওশিনো মাহিরোর কাছে জানতে চায় কি হচ্ছে সেই ব্যাপারে। ইওশিনো তাকে জানায় নির্বাসিত রাজকন্যার কথা। যার সাথে চুক্তি করেছে মাহিরো। মাহিরো তাকে সাহায্য করবে “Tree of Exodus” এর উত্থান ঠেকাতে এবং দ্বীপ থেকে ফিরে আসতে। এর বদলে রাজকন্যা মাহিরোকে সাহায্য করবে প্রতিশোধ নিতে।

Zetsuen no Tempest 01

“Tree of Genesis”. এই পৃথিবীর লজিক রক্ষা করে চলা এক শক্তি। যাকে ব্যাবহার করা হয় পৃথিবীর উপকারের জন্যে। এই ট্রিকে রক্ষা করার দায়িত্ব কুসারিবে ক্লানের। এই ক্লানেরই রাজকন্যা হাকাজে। তাকে Tree of Genesis সবসময় রক্ষা করে এবং ট্রির ক্ষমতার প্রতি হাকাজের রয়েছে অগাধ বিশ্বাস। আর তাই তার উপস্থিতিতে এর বিরুদ্ধ শক্তি “Tree of Exodus” এর উত্থান সম্ভব নয়। এজন্যেই হাকাজেকে নির্বাসনে পাঠায় “সামোন কুসারিবে”। ট্রির ক্ষমতায় আর বিশ্বাস নেই তার।

এতসব জটিলতার মাঝে কিভাবে জড়িয়ে যায় ইওশিনো? মাহিরো কিসের প্রতিশোধ নিতে চায়? শহরের মানুষ কেন ধাতুতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে? রাজকন্যা কি পারবে দ্বীপ থেকে শহরে ফিরে আসতে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে দেখে ফেলতে হবে এই চমৎকার আনিমেটা।

আনিমেটার একটা স্পেশাল দিক হল, নামের প্রতি সুবিচার করে আনিমেটায় শেকসপীয়ারের হ্যামলেট এবং দ্য টেম্পেস্ট থেকে অনেক quote ব্যাবহার করা হয়, যা আনিমেটার মূল চরিত্রদের ব্যাক্তিগত অনুভুতি এবং দুঃখ, কষ্ট, হতাশা (যা আনিমেটার একটা গুরুত্বপূর্ণ এলিমেন্ট) খুব কাব্যিকভাবে ফুটিয়ে তোলে।

একশন, রহস্য এবং তাদের লজিকাল ব্যাখ্যাই যথেষ্ট ছিল, সেই সাথে ইমোশন এবং ব্যাক্তিগত মূল্যবোধের সাথে নিজেদের লড়াই আনিমেটাকে আরও পরিপূর্ণ করেছে। প্রায় প্রতিটি পর্বেই কোন না কোন চমক, সহজেই আপন করে নেয়ার মত ক্যারেক্টার এবং একটি সুন্দর এন্ডিং … ভালো আনিমের জন্যে আর কি চাই!! সেই সাথে সুন্দর OST তো আছেই!! 

কাজেই, আশা করব যারা দেখেননি এখনো আনিমেটা, তারা সময় করে দেখে ফেলবেন। ভালো লাগবেই। আর যারা দেখেছেন তারা তো জানেনই আনিমেটা কত ভালো!

caption_753759_20121001050313

The Story of Cinderella/Cinderella Monogatari: চেনা গল্পের অচেনা মোড়; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Cinderella-cinderella-monogatari-25018918-1024-768

 

“অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক দেশে ছিল এক লক্ষ্মী মেয়ে। তার নাম সিন্ডারেলা। সিন্ডারেলার বাবা তাকে খুব ভালবাসত। তাই তিনি ব্যবসার কাজে দূরে গেলে যেন সিন্ডারেলার অসুবিধা না হয়, সে জন্যে সিন্ডারেলার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আবার বিয়ে করেন। এতে সিন্ডারেলা একজন সৎমা ও দুজন সৎবোন পায়। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! বাবা দূর দেশে যাওয়ার পর সিন্ডারেলার সৎমা ও বোনেরা তাকে খুব অত্যাচার করা শুরু করল ….”

কি ভাবছেন? ওয়াল্ট ডিজনির সিন্ডারেলার কাহিনী এখানে কেন বলছি? তার কারণ হল, ওয়াল্ট ডিজনির চিরায়ত কাহিনী অবলম্বনে নব্বইয়ের দশকের তৈরি হয়েছিল চমৎকার একটা আনিমে। ছাব্বিশ পর্বের এ আনিমের নাম “সিন্ডারেলা মনোগাতারি”।

শুরুতেই মাই আনিমে লিস্ট থেকে কিছু অগুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেই-

Aired: Apr 4, 1996 to Oct 3, 1996
Genres: Adventure, Fantasy, Romance
Score: 7.52
Ranked: 1357
Episodes: 26

hqdefault (1)

কাহিনীর শুরুটা সবারই জানা। শুধু সূচনা নয়, কাহিনীর আদ্যোপান্ত প্রায় সবকিছুই আসলে ওয়াল্ট ডিজনির কল্যাণে সবারই জানা। এ কারণে এই আনিমেটা চোখের সামনে পড়লেও হয়ত অনেকেই দেখতে আগ্রহী হননি। কিন্তু মনোগাতারির মাহত্ত্ব্য এখানেই। শুরুটা হয় প্রচলিত গল্পের মত করেই। এরপর ২য় এপিসোড থেকেই মোড় ঘুরে যায় দারুণভাবে। কখনো কি এই প্রশ্নটা মাথায় এসেছে; আচ্ছা, সিন্ডারেলাকে যে ওর সৎমা তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে দিল, এরপর প্রিন্স চার্মিংকে এসেই কেন তাকে উদ্ধার করতে হবে? নিজের দুরবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কি নিজেই খুঁজে নেয়া সম্ভব নয়? ঘরের কাজের মাঝে বা যে দুরবস্থাই হোক, তার মাঝে কি আনন্দ খুঁজে নেয়া যায়না? কিংবা জুতার মাপই কেন হবে একজন মানুষের জীবনসঙ্গী নির্ধারণের মাপকাঠি?? রাজকুমারের কি ভালবাসার অধিকার নেই? কেন এক রাতের সুন্দরী নাচের সঙ্গীকেই বাকি জীবনের সঙ্গী বানাতে হবে?

এই সব প্রশ্নের উত্তর আনিমেটি খুব সুন্দরভাবে দিয়েছে। রূপকথার গল্পের গতানুগতিক পথ অবলম্বন না করে আনিমেটি দেখিয়েছে, সিন্ডারেলার আত্মসম্মান কতটা মজবুত এবং সে কতটা বাস্তববাদী একটা মেয়ে। আরও দেখিয়েছে, রাজকুমার মানেই সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে না আসা বিলাসিতায় মেতে থেকে জীবন কাটানো অকর্মণ্য ব্যাক্তি নয়। আমাদের গল্পের রাজকুমার তার প্রাসাদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থেকে প্রজাদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে বসে থাকেনা।

 

Cinderella-cinderella-monogatari-33956575-636-462

 

সিন্ডারেলার সৎমা তার কাছ থেকে সব সুযোগ সুবিধা কেড়ে নেয়। তাতে দমে যায়না সে। বরং তার সামনে আসা চ্যালেঞ্জকে হাসিমুখে মোকাবেলা করতে বদ্ধপরিকর হয়। তাকে সাহায্য করার জন্যে তার “ফেইরি গডমাদার” মিস পল তার পোষা প্রাণীগুলোকে কথা বলার ক্ষমতা দিয়ে দেন। তাদের সাথে নিয়ে সিন্ডারেলা প্রতিদিন তার সৎমার তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার আশায় ধুলো দিয়ে প্রতিটা কঠিন কাজ সঠিকভাবে করে যেতে থাকে।

রাজকুমার চার্লস। “পান্না মহল” (Emerald Castle) এ তার বাস। রাজার একমাত্র সন্তান এবং উত্তরাধিকারী। তাকে রাজ্য পরিচালনার জন্যে তৈরি করে তুলতে রাজার চেষ্টার অন্ত্য নেই। অসিচালনায় রাজকুমারের তুলনা নেই। একদিন বন্ধু অ্যালেক্সকে রাজকুমার জানায় তার মনের কথা। এভাবে গতানুগতিক পথে শিখতে তার ভালো লাগছে না। যে রাজ্যটায় সে একদিন রাজত্ব করবে, সেই রাজ্যটাকে সে কাছ থেকে দেখতে চায়। রাজ্যের মানুষদের চিনতে চায়। আর তাই অ্যালেক্সের পুরনো কাপড় ধার নিয়ে প্রহরীদের ফাঁকি দিয়ে প্রায় প্রতিদিন ছদ্মবেশী চার্লস বেরিয়ে পড়ত রাজ্য পরিদর্শনে।

large

এভাবে শহরে ঘুরতে ঘুরতে একদিন রাজকুমারের দেখা হয়ে যায় সিন্ডারেলার সাথে। বিভিন্ন ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে আস্তে আস্তে তাদের দুজনের মাঝে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়।

তারা দুজন একসাথে বিভিন্ন মজার এবং ইন্টারেস্টিং ঘটনার মধ্য দিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বাড়াতে থাকে। সিন্ডেরেলার অসুস্থতার সময় যেমন চার্লসকে ঘরের কাজ করা শিখতে হয়, তেমনি চার্লস সিন্ডারেলাকে শেখায় অসিচালনা।

সবশেষে বলব, যদি গতানুগতিক কাহিনীর বাইরের একটি রূপকথা দেখার ইচ্ছা থাকে, তাহলে এই আনিমেটি দেখে ফেলতে পারেন।

Cinderella.Monogatari_Cover