প্রতিটি অ্যানিমে ভক্তের জন্য যে দুটো অ্যানিমে দেখা বাধ্যতামূলক; অ্যানিমে সাজেশন দিয়েছেন ইশমাম আনিকা

PicsArt_08-14-04.21.40

অ্যানিমে গ্রুপে যারা নিয়মিত ঘোরাঘুরি করেন, এই দৃশ্যগুলোর সাথে তারা সবাই মোটামুটি পরিচিত –

“নারুতো না দেখলে জীবন বৃথা”
“ওয়ান পিস দেখনি মানে তুমি কিছুই দেখনি”
“ড্রাগন বল ভাল লাগেনা? তুমি অ্যানিমে বুঝই না”

এছাড়াও জনরাভিত্তিক, পার্সোনাল চয়েস ভিত্তিক, এমন আরও অনেকভাবে সর্ট আউট করে অনেক মানুষ বিভিন্ন অ্যানিমেকে অবশ্য দেখনীয় (জানিনা শব্দটা ঠিক হল কিনা) বলে দাবি করে থাকেন।

আমি মোটামুটি নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ (হেহে, বিশ্বাস করার দরকার নেই, তবে কথাটা সত্যি), কোনদিন নিজের পছন্দের অ্যানিমেকে বিশ্বসেরা বলে দাবি করার দুঃসাহস দেখাইনি। তবে আমার নজরেও এমন দুটো অ্যানিমে এসেছে, যে দুটো হয়ত আমি টপ ১০, ২০ লিস্ট বানালে সেখানে স্থান পাবে না, তারপরেও বলব, কেউ যদি অ্যানিমে ভক্ত হয়ে থাকে, অর্থাৎ বিনোদনের এই মাধ্যমের সাথে তার মোটামুটি পরিচয় থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই তার এই অ্যানিমে দুটো দেখা উচিৎ। অ্যানিমে দুটো হল বাকুমান এবং শিরোবাকো।

কেন এ দুটো অ্যানিমেকে এত গুরুত্ব দিচ্ছি? কারণ আছে। আপনাদের সকলেরই তো জানা আছে, অ্যানিমের সিংহভাগ তৈরি হয় কোন একটা মাঙ্গার গল্পকে কেন্দ্র করে। আগে মাঙ্গা বা জাপানী কমিক বের হয়, সেটা মোটামুটি জনপ্রিয়তা পেলে সেখান থেকে অ্যানিমে বানানো হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে মাঙ্গার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেও অ্যানিমে বানানো হয়। তো এই যে মাঙ্গাকে ঘিরে এত কাহিনী, সেই কাহিনীটার বাস্তব চিত্রটা আসলে কেমন, আপনাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করে! যে ব্যক্তি মাঙ্গা লিখছে, তার জীবনটা আসলে কেমন, বা মাঙ্গা যে প্রকাশনী থেকে বের করা হয়, তারা কিভাবে কাজ করে, কিভাবে একটা মাঙ্গা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বা কিভাবে একটা মাঙ্গার অজনপ্রিয়তা দুর্ভাগ্য ডেকে আনে, এসব কিছুর চিত্র অসম্ভব নৈপুণ্য এবং যত্নের সাথে তুলে ধরা হয়েছে যে অ্যানিমেতে, তার নাম বাকুমান। “বাকুমান” শব্দটি দুটো শব্দের সমষ্টি; বাকুচি+মাঙ্গা। বাকুচি অর্থ গ্যাম্বল বা জুয়াখেলা; মাঙ্গা লিখে জীবিকা অর্জন করা জুয়াখেলার মত বিপদজনক একটা পেশা, এখানে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে।

আবার একইভাবে এটাও চিন্তা করুন, এই যে এত স্টুডিও পিয়েরট বা তোয়েই অ্যানিমেশন এর ওপর আপনারা মহা বিরক্ত, কিংবা শ্যাফট, পিএ ওয়ার্কস, কিয়োটো অ্যানিমেশন বা সিলভার লিঙ্কের আর্টের মহাভক্ত আমি; বা ব্যতিক্রমধর্মী অ্যানিমে বানানোর জন্য পরিচিত স্টুডিও ম্যানগ্লোবের যে করুণ দশা- এদের পেছনের কাহিনীটা কী? কারা এই স্টুডিওগুলোতে রাতদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যাচ্ছে প্রোপার ফিডব্যাক ছাড়া, কেন এখনকার অ্যানিমেগুলোতে অযথা ফ্যানসার্ভিস দিয়ে ভরিয়ে তোলা হচ্ছে, বা কি উপায়ে এক টুকরো কাগজে আঁকা একটা সাদাকালো চরিত্র আমাদের চোখের সামনে হেটে বেড়াচ্ছে; কিভাবে প্রাণ পাচ্ছে সেই জড়পদার্থগুলো, যারা এই আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কাজটাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের জীবনটা কেমন – সেটা নিশ্চয়ই কখনো না কখনো জানতে ইচ্ছে করে! এই প্রতিটি কৌতুহল নিবারণ করবে যে অ্যানিমে, তার নাম শিরোবাকো।

অসম্ভব সুন্দর আর্ট আর ওএসটি রয়েছে দুটি অ্যানিমেতেই, আর মূল যে ব্যাপারটা রয়েছে, অ্যানিমেদুটি দেখার পর নিশ্চিতভাবে আপনি একটা অ্যানিমে/মাঙ্গাকে ট্র্যাশ বলার আগে দুবার ভেবে নেবেন। আপনি যদি এই ইন্ডাস্ট্রিকে সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করতে চান, এ দুটি অ্যানিমে দেখা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক!

Studio Monogatari: Prologue

আজকের এই Prologue পর্বের জন্যে থাকছে জাপানের আনিমে ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সর্বপ্রথম আনিমে স্টুডিওটির কথা —

Kitayama Eiga Seisakujo

জাপানের সর্বপ্রথম সত্যিকার অর্থের অ্যানিমেশন স্টুডিও হল কিতায়ামা এইগা সেইসাকুজো (Kitayama Eiga Seisakujo), বিংশ শতাব্দীর একদম শুরুর দিকের জনপ্রিয় অ্যানিমেটর Seitaro Kitayama ১৯২১ সালে এই স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন। সেইতারো কিতায়ামাকে বলা হয় আনিমে নির্মাণের সর্বপ্রথম পথিকৃৎদের একজন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ কিছু আনিমে তৈরি করলেও তিনি এই স্টুডিও-এর অধীনে ৩টি আনিমে তৈরি করেন: Kiatsu to Mizuage Ponpu (Atomospheric pressure and suction pumps) (1921), Shokubutsu Seiri: Seishoku no Maki (Plant Physiology: Story of Reproduction) (1922), Usagi to Kame (Rabbit and Tortoise) (1924)

kitayama

[বহু বছর পূর্বের এই ছবিটি সেইতারো কিতায়ামা-এর]

দুঃখের কথা হল, স্টুডিওটি বেশিদিন টিকতে পারে নি। ১৯২৩ সালের এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের (Great Kanto Earthquake) জন্যে এবং এরপর বাণিজ্যিক সাফল্য না আসার কারণে ১৯২৪ সালে স্টুডিওটি বন্ধ হয়ে যায়।
সেই সময়ে কিতায়ামা আনিমে তৈরির জন্যে ব্যবহার করতো Chalkboard Technique, এবং পরবর্তীতে Paper Technique যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকতো প্রিন্ট করা দৃশ্য এবং কাগজ কেটে তৈরি করা চরিত্রের নড়াচড়ার মাধ্যমে অ্যানিমেশন চলতো।

Segmentটির Prologue শেষ হবার আগে থাকছে একটি আনিমে সাজেশন। আনিমে স্টুডিও নিয়ে সেগমেন্টটি শুরু করবার আগে আগেই স্টুডিওগুলিতে কিরকম কাজ চলে, কাজের চাপ কেমন থাকে, আনিমে নির্মাতাদের জীবন কিরকম এসব নিয়ে জানতে চাইলে এবং একই সাথে বাস্তব জীবনের নামকরা কয়েকজন আনিমের সাথে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিদের আনিমেতে দেখতে চাইলে জলদি দেখে ফেলুন Shirobako

Shirobako