একটি বাড়াবাড়ি রকমের ভাল এবং ফাটাফাটি রকমের জোস এনিম-Death Note – লেখক মোঃ আসিফুল হক

আমার চেনাজানা যাদের সাথে এনিম নিয়ে কথা বলেছি তারা মুলত ২ ভাগে বিভক্ত। একদল হইল চরম এনিমখোর, আরেকদল ঘোর বিরোধী। এনিমের ব্যাপারে দেখি মাঝামাঝি অবস্থানে তেমন কেউ নাই !!! যাই হোক, যারা বিরোধী তাদের বিরোধের প্রধান কারন গুলার মধ্যে একটা হইল তাদের মতে এনিম হইল ” পুরাই বাচ্চাদের জিনিস।” আপনি যদি এই দলের লোক হন তাইলে এই এনিম দেখা আপনার জন্য ফরজ। এইটা দেখার পরেও যদি কেউ বলেন এনিম শুধু ” বাচ্চাদের জিনিস” তাইলে বলব এখন পর্যন্ত দুনিয়াতে বড়দের জিনিস বইলা কিছু তৈরি হয় নাই। আর যারা এখনও এনিম এর সাথে তেমন পরিচিত না এবং চিন্তা করতেছেন খুব হালকা কিছু দিয়ে এনিম দেখা শুরু করব তাদের জন্য এই এনিম না। কারন এইটার বেশ কিছু জায়গা হজম করতে অনেক এনিমখোরকেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

কাহিনীতে যতই শিনিগামি ( Death God) থাকুক, যতই অতিপ্রাকৃত বিষয় আষয় থাকুক, দিনশেষে এইটা একটা ডিটেকটিভ এনিম। ইয়াগামি লাইট, যে কিনা সমগ্র জাপানের সবচেয়ে মেধাবি ছাত্র, একদিন একটা ডায়েরীর সন্ধান পায়। এইখানে কারো নাম লিখলে সেই লোক হার্ট এটাকে মারা যায়। এই ডায়েরি দিয়ে লাইট দুনিয়াটাকে শুদ্ধ করার স্বপ্ন দেখে। এই কেইস নিয়ে দুনিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা যখন দিশেহারা, তখন দেখা দেয় গোয়েন্দা “L”। তার আসল নাম কেউ জানে না। তদন্তের এক পর্যায়ে সে অনেকটা সিউর হয় ইয়াগামি লাইটই এই সিরিয়াল কিলিঙের মুল হোতা। এবং তা প্রমাণের জন্য ইয়াগামি লাইটের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। এইদিকে লাইটও বুঝতে পারে এই লোক তাকে ধরার চেষ্টা করতেছে। কিন্তু তাকে মারার জন্য তার আসল নাম জানতে হবে। এক পর্যায়ে দেখা যায়, L চিন্তা করতেছে, ” কিভাবে প্রমাণ করা যায় ইয়াগামি লাইটই দায়ী?” আর লাইট চিন্তা করতেছে,” এলের আসল নাম কি?” এই যুদ্ধে যে পরে উত্তর পাবে সেই মারা যাবে। এইরকম চরম টানটান উত্তেজনার মধ্যে আগায় কাহিনী।

কাহিনীতে ২-১ টা জায়গা আছে যেখানে আপনি চমকে উঠতে বাধ্য। অবাক হয়ে বসে চিন্তা করতে তাকবেন, ” এও কি সম্ভব? এত প্ল্যান, এত ভবিষ্যতের চিন্তা মানুষ কিভাবে করে?” এল এবং ইয়াগামি লাইটের প্রতিটা স্টেপ দাবার চালের মত, অনেক ভাবনা চিন্তার ফসল এবং গভীর অর্থপূর্ণ। মাঝখানে ৩-৪ টি পর্ব হয়ত মনে হবে কাহিনী হালকা ঝুলে গেছে, তবে ওইটা মেনে নিয়ে দেখতে থাকেন। পরে আরও অনেক টুইস্ট পাবেন। এই এনিমের আরেকটা অসাধারণ জিনিস, কে ভাল কে খারাপ আপনি ঠিক করতে পারবেন না। এক সময় এর পক্ষ নিবেন তো আরেক সময় ওর পক্ষ নিতে মন চাইবে। আর বোনাস হিসেবে এনিমটার সাউন্ড ট্র্যাক অসাধারণ। তাহলে দেখা শুরু করে দিন “Death Note”।

Comments

comments

Leave a Reply