এনিমে সায়েন্স ২ – স্পাইস এন্ড উলফ ট্রেনি কাহিনী ২

গত পর্বে আমরা অর্থের অর্থ, অর্থ হিসেবে কি এবং কেন ব্যাবহার করি, কিভাবে এর মূল্য নির্ধারণ এবং কেনইবা করি এসম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম। এছাড়াও জানতে পেরেছিলাম যে কেন এই সেগমেন্টের উৎপত্তি হয়েছে এবং এর নাম কেন এনিমে সায়েন্স রাখা হয়েছে।

as2

আর যা আমরা জানতে পারিনি অর্থাৎ যেখানে এসে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত হুট করে সেগমেন্টটি শেষ হয়ে গিয়েছিল তা হল,

এই গুজব ছড়িয়ে লাভটা কি?

এর উত্তরে আপনাদেরকে একদিনে বেশি ডোজ না নিয়ে যা পেয়েছেন তাই নিয়ে সন্তুষ্টচিত্তে জীবনধারণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

কিন্তু অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে!

সময় হয়েছে আরও একটি নতুন ডোজ নেওয়ার!!

নতুন করে ডোজ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমি পাভেল আহমেদ সকল সম্মানিত এনিমখোরের সামনে পুনরায় হাজির হয়েছি সেগমেন্টের ২য় পর্ব নিয়ে।

তাহলে শুরু করছি গত পর্বের সেই রহস্যঘেরা প্রশ্নটি দিয়ে যার উত্তর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি (অন্তত এই সেগমেন্টে!)।

তবে তার আগে

যারা যারা স্পাইস এন্ড উলফ এখনও দেখেনি তাদের জন্য স্পয়লারএলারট >>>>>

.

.

.

.

.

এখন প্রশ্ন হল যে ট্রেনি সিলভার কয়েনের পিউরিটি বৃদ্ধি পাচ্ছে এই গুজব ছড়িয়ে তাদের লাভটা কি?

যখন মানুষ জানতে পারবে যে ট্রেনি সিলভার কয়েন নতুন করে ছাড়া হচ্ছে সিলভারের পরিমান বৃদ্ধি করে তখন তারা বুঝতে পারবে যে তাদের কাছে থাকা ট্রেনি সিলভার কয়েনের মূল্য খুব শীঘ্রই নিচে নেমে যাবে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা চেষ্টা করবে যত দ্রুত সম্ভব তাদের কাছে থাকা ট্রেনি কয়েন বিক্রি করে দেওয়ার যাতে করে তারা আসন্ন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। এমনকি ক্ষতি যাতে তুলনামূলক কম হয় সেজন্য তারা বর্তমান বাজারদর থেকে সামান্য কমেও বিক্রি করতে রাজি হতে পারে।

ওভারঅল প্ল্যানটা হল এরকম যে, মেডিও কোম্পানি যতরকমভাবে সম্ভব ট্রেনি কয়েনের পিউরিটি বৃদ্ধির গুজব বিভিন্ন ব্যাবসায়িদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইছিলো। ব্যাবসায়িরা একারনে পুরানো ট্রেনি কয়েন জমানো শুরু করে দিবে। কিন্তু যখন তারা টের পাবে যে কয়েনের পিউরিটি বরং কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে তখন তারা ওই কয়েন বিক্রির জন্য তোড়জোড় শুরু করে দিবে। এবস্থায় মেডিও কোম্পানি এক ধাক্কায় সব কয়েন কিনে নিবে। ধরা খাওয়া ব্যাবসায়িরাও কখনই তাদের এই ধরা খাওয়ার কথাটা কারও সামনে উচ্চারন করবে না তাদের প্রেস্টিজ পাংচার হওয়ার ভয়ে। এরপরে মেডিও কোম্পানি একটি বিশেষ মেথডে এই কয়েন থেকে প্রফিট করবে যে সম্পর্কে পরে আলোচনা করা হবে।

কয়েনের গুজব ছড়ানোর পিছনে খুব সম্ভব মেডিও কোম্পানির আরও একটি উদ্দেশ্য জড়িত ছিল। আর সেটি হল, রাজ্যের অভ্যন্তরে কয়েনের দাম উপর্যুপরি কমিয়ে নিয়ে আসা। যখন কোন বস্তুর সাপ্লাই অতিরিক্ত পরিমানে হয় তখন সেই বস্তুর দাম অনেক কমে যায়। কয়েনের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি কিছুটা সেভাবেই হয়। সাধারণত যখন একটি দেশের সম্পদের তুলনায় টাকা বা অর্থ বেশি বেড়ে যায় তখন সেই অর্থের মূল্য নিচে নেমে যায়। অর্থের মূল্য কমে যাওয়ার এই ব্যাপারটিকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। তবে অর্থ বা মুদ্রার আধিক্যই কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির একমাত্র কারন নয়। তবে আমরা এখানে আমরা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে কথা বলছি না। এখানে আমরা বলছি সাপ্লাই এর সাথে ডিমান্ডের সম্পর্ক নিয়ে। যখন সাপ্লাই বৃদ্ধি পায় তখন ডিমান্ড আস্তে আস্তে কমে যেতে থাকে। আর ডিমান্ড কমে যেতে থাকলে আস্তে আস্তে সাপ্লাই করা বস্তুর মূল্যও কমে যেতে থাকে। কারন মানুষের চাহিদার তুলায় দ্রব্য বেশি হয়ে গিয়েছে। ঠিক এই ট্রিকটিই ক্রাফট লরেনস ২য় সিজনের শুরুর দিকে খাটিয়েছিল। সে প্ল্যান করেছিল যে মার্কেটে পাথরের সাপ্লাইয়ের ওভার ফ্লো দিয়ে পাথরের মার্কেটকে ধসিয়ে দিবে যাতে ওই পুচকা মাছ ব্যাবসায়ি ধরা খায়! সাথে অবশ্য আরও একটি ট্রিকও ছিল!!

বিঃদ্রঃ একই টেকনিক ব্যাবহার করে সেয়ার বাজারেও ধ্বস ঘটানো সম্ভব তবে পকেটে বেশ ভালো পরিমানে পাত্তি থাকতে হবে!

যাই হোক, মেডিও কোম্পানির গুজবের কারনে অনেকেরই ট্রেনি সিলভার কয়েন বিক্রি করে দেওয়ার কথা। কয়েনের প্রতি ব্যাবসায়িদের হারানো ট্রাস্ট ইস্যু এবং অধিক পরিমানে সাপ্লাই এই দুইয়ের কারনে কয়েনের প্রাইজ নতুন কয়েন সার্কুলেশন আসার আগেই নিচের দিকে নেমে যাওয়ার কথা (অন্তুত যারা যারা এসম্পর্কে যানে তাদের কাছে)। সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে যে মেডিও কোম্পানি আরও বড় একটা দাঁও মারার চিন্তাভাবনা করছিল। কারন মানুষ যদি বর্তমান বাজারদরের থেকেও কমে তাদের কাছে কয়েন বিক্রি করে তাহলে কোম্পানির প্রফিটের পরিমান আরও বেশি থাকবে। অবশ্য এই ব্যাপারটি হয়তো নাও হতে পারে। এটি হয়তো শুধু একটি স্পেকুলেসনমাত্র।

আরেকটি প্রশ্ন এখন আমাদের সামনে এসে পড়েছে।
আর সেটি হল, কেন ট্রেনি সিলভার কয়েনের পিউরিটি কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে?

এর কারন হিসেবে স্পাইস এন্ড উলফ এ বলা হয়েছে যে রাজ পরিবার অর্থ সংকটে ভুগছে। তাই তারা কয়েন প্রস্তুত করার প্রোডাকশন কস্ট কমানোর জন্য কয়েনে সিলভার ব্যাবহারের হার কমিয়ে দেয়। উদাহরণঃ আগে নির্দিষ্ট পরিমান সিলভার দিয়ে যদি ১০টি কয়েন তৈরি করা সম্ভব হয় পিউরিটি কমানোর পরে তাহলে সেখানে ১০ এর অধিক কয়েন প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। ১০ টি কয়েনের সিলভার দিয়ে যদি ১৩টি কয়েন তৈরি করা হয় তাহলে অতিরিক্ত তিনটি কয়েন পাওয়া যাচ্ছে একই পরিমান সিলভার দিয়ে।

আচ্ছা এখন কয়েন প্রোডাকশন কস্ট নাহয় কমিয়ে দিলাম কিন্তু মোট কয়েনের পরিমান বাড়লেও মোট সিলভারের পরিমান তো আর বৃদ্ধি পায়নি।

তাহলে লাভটা কি হল?

এখানে আমি পুনরায় কয়েনের ফেস বা ব্র্যান্ড ভ্যালুর কথাটি নিয়ে আসতে চাই। মানুষ ট্রেনি সিলভার কয়েনকে নির্দিষ্ট একটি মূল্যের সমপরিমান হিসেবে ট্রাস্ট করে। বাজারে যদি কম পিউর কয়েনও ছাড়া হয় মানুষের কিন্তু বোঝার উপায় নেই যে এটি কম পিউর। তারা যখন কয়েনে ট্রেনি কিংডমের রাজার মুখের ছাপ মারা দেখবে তখনই আনন্দে বিগলিত হয়ে সেটাকে নির্দিষ্ট মূল্যের জন্য ব্যাবহার শুরু করবে। এভাবেই ট্রেনি রাজ্যের ইমিডিয়েট ক্যাপিটাল বা সম্পদের পরিমান বহুলগ্নে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু লং টার্মের জন্য এই কাজ মোটেও ভালো হবে না। কারন আন্তর্জাতিক মার্কেটে একসময় না একসময় ধরা পড়বেই যে এই কয়েনের পিউরিটি কম। যেহেতু মানুষজন আসলে বেকুব না এবং কয়েনের পিউরিটি মাপার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তাদের কাছে আছে সেহেতু ব্যাপারটি ধরা পড়তে বাধ্য এবং সেটা খুব দ্রুতই।

আন্তর্জাতিক মার্কেটে এই ব্যাপারটি ধরা পড়ার সাথে সাথে মার্কেটে বেশি পিউর, কম পিউর নির্বিশেষে সকল ট্রেনি কয়েনের মূল্য নিচের দিকে নেমে যাবে। মানুষ তখন আর মেপে দেখতে যাবে না যে কোন ট্রেনি কয়েনে সিলভার বেশি আর কোন কয়েনে কম। ট্রেনি রাজার খোমার ছাপ্পাটা কয়েনে দেখা মাত্রই তারা বুঝে নিবে যা বোঝার। নির্বিচারে সকল ট্রেনি কয়েনকে তারা নিচু জাত হিসেবে বিবেচনা করবে। পাতিলের একটা ভাত টিপলেই বাকিগুলোর অবস্থা টের পাওয়া যায় এই নীতিতে তাদেরকে কঠোরভাবে অবস্থান করতে দেখা যাবে! অর্থাৎ এখানে কয়েনের কোয়ালিটি মেইনটেইন করতে না পারার কারনে ট্রেনি কয়েনের ব্র্যান্ড জনগনের সেই আস্থাটা আর পাবে না। একবার এভাবে ব্র্যান্ড থেকে মানুষের আস্থা উঠে যাওয়া শুরু করলে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন। তার মানে ভবিষ্যতে যদি ট্রেনি কয়েনের পিউরিটি বৃদ্ধিও করা হয় তাহলেও মানুষকে এসসম্পর্কে কনভিনস করানোটা অত্যন্ত কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ একটি ব্যাপার হবে। এভাবেই ট্রেনি রাজ্যের জন্য এই সিদ্ধান্ত লং টার্মে অনেক ক্ষতিকর হয়ে দেখা দিবে। তবে এত কিছু বিবেচনা করেও যেহেতু তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মানে তাদের আসলে  অবস্থা কেরোসিন।

একারনেই বলা হয় ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না!
আবার এটাও বলা হয় যে অর্থই অনর্থের মূল!!
এদিকে আবার এটাও বলা হয় যে অর্থই সকল সুখের মূল!!!
অর্থ নিয়ে এতসব কথার অর্থটা কি কে যানে?

এবার তাহলে অর্থ নিয়ে এতসব অনর্থ করার পিছনে মেডিও কোম্পানির অনৈতিক অর্থনৈতিক কাজগুলোর মূল অর্থটা এক্সপ্লেইন করি।

ট্রেনির রাজা আসলে আদেশ দিয়েছিল যে পুরানো সকল ট্রেনি কয়েনকে গলিয়ে নতুন করে কম পিউর কয়েন তৈরি করতে। কিন্তু সেজন্য প্রচুর পরিমানে পুরানো ট্রেনি কয়েন তাদের প্রয়োজন। যে বা যারা রাজাকে বিশাল পরিমানে কয়েন সাপ্লাই দিতে পারবে সে বা তারা ওই কয়েনের বিনিময়ে রাজার সাথে নেগোসিয়েসন বা দরাদরি করে বিভিন্ন ধরনের স্পেশাল রাইট বা অধিকার আদায় করতে পারবে যেগুলো একটি কোম্পানির জন্য অত্যন্ত পরিমানে লাভজনক হয়ে দেখা দিবে। এদিকে আবার পুরানো কয়েনের সাথে তারা নতুন কয়েন এক্সচেঞ্জ করে আরও বেশি সংখ্যায় কয়েন পাবে। এদিক থেকেও তারা লাভবান। কারন পুরানো ১০টি কয়েনের পরিবর্তে তারা যদি ১৩টি কয়েন পায় তাহলে তৎক্ষণাৎ মার্কেটে ব্যাবহার করলে পুরানো ১৩টি কয়েনের সমানই মূল্য পাবে।

এই পর্যন্ত বিশ্লেষণ দিয়ে লেখাটি এখানেই শেষ করছি।

আশা করা যায় যে আর কোন সমস্যা থাকবে না।

তবে!
কেউ যদি আর কোন প্রশ্নের উত্তর চান মশলা এবং নেকড়ে সম্পর্কিত তাহলে কমেন্টে প্রশ্ন করে রাখতে পারেন। যথাসাধ্য যত দ্রুত সম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। কমেন্টে উত্তর দেওয়া সম্ভব না হলে ঠিক এরকমই আরেকটি সেগমেন্ট আপনাকে Dead E Cat করে লেখা হবে!

তাহলে আজকের মত এখানেই B দায় জানাচ্ছি।

ভালো থাকুন

সুস্থ থাকুন

সুখে থাকুন

শান্তিতে থাকুন এবং …..

এনিম দেখুন!

তথ্যসূত্র জানতে হলে যেতে পারেন –

এখানেঃ
http://spiceandwolf.wikia.com/wiki/Currency

ওখানেঃ
https://bignanime.wordpress.com/2008/02/09/wolf-spice-and-currency-the-economics-of-wolf-and-spice/

এবং

সেখানেঃ
https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AB%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF

THE END (আপাতত)

Comments