অ্যানিমে: Psycho-Pass
জনরা: অ্যাকশন, পুলিশ, সাইকোলজিক্যাল, সাই-ফাই
এপিসোড সংখ্যা: ২২
MyAnimeList রেটিং: ৮.৬
ব্যাক্তিগত রেটিং: ৮.৫
সাধারন দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধীর সংজ্ঞা কি? খুব সহজেই বলা যায়, যে অপরাধ করে সে-ই অপরাধী। আর আমাদের সমাজের নিয়ম অনুসারে তাকে শাস্তি পেতেই হবে, কিন্তু তা নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়ার পরই। আসলে এটাই তো হওয়া উচিত, তাই না!
আচ্ছা, ধরুন, এমন কোনো একটি পদ্ধতি আবিষ্কৃত হলো যার মাধ্যমে কেউ অপরাধ করার আগেই বলে দেওয়া যেতো কে অপরাধ করতে পারে, বা কে অপরাধী; এমন কোনো প্রযুক্তি যা মানুষের অপরাধ প্রবণতা পরিমাপ করে বলে দিতে পারতো, তাহলে কেমন হতো? তখন অপরাধ কর্মকান্ডহীন শান্তিপূর্ণ সমাজের ধারনা শুধু ধারনাই থাকতো না, বাস্তবে রূপ নিতো।ঠিক এমন এক সমাজ নিয়েই Psycho-Pass অ্যানিমে টির কাহিনী।
স্টোরি/প্লট :
সুদূর ভবিষ্যতের জাপান, যখন এ স্বপ্নসম প্রযুক্তি শুধু আবিষ্কৃতই হয়নি, রীতিমতো রাজত্ব করছে! পুরনো আমলের প্রায় সব কিছু উঠে গেছে এ সিস্টেমটি চলে আসায়। সিস্টেম এর নাম সিবিল সিস্টেম। আর সাইকো পাস হলো মানুষের মানসিক অবস্থার একটি পরিমাপ রাশি।কার কখন কী লাগবে, কার মানসিক অবস্থা কীরূপ, কার জন্য কী পেশা উপযুক্ত সবই নির্ধারণ করে দিতে পারে এই সিস্টেম।মানুষের জীবন তো অনেক সহজ হয়ে গেলো, কিন্তু সিস্টেম টি কীভাবে কাজ করছে তা নিয়ে কারো কোনো প্রকার মাথা ব্যাথা নেই। আসলে এটা নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজনই কেউ বোধ করে না। রাস্তায় রাস্তায় স্ক্যানার বসানো, স্ক্যান করে বলে দেয় মানুষের মানসিকতা। কিন্তু কারো সাইকো পাস বিপজ্জনক মাত্রায় চলে গেলে আর তা স্ক্যানার এ ধরা পড়লেই শেষ! শৃঙ্খলা বাহিনী এসে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়ে নিবে। পুলিশ দের হাতে আর আগের মতো পিস্তল নেই, আছে Dominator নামক অস্ত্র, যা স্বয়ংক্রিয় ভাবে স্ক্যান করেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিবে কাকে কী শাস্তি দেওয়া দরকার। পুরনো আমলের কোর্ট কাচারির কোনো ঝামেলা-ই নেই!
এমনই এক সময়ে জাপানের পুলিশ ডিভিশন এ ইন্সপেক্টর হিসেবে জয়েন করে আকানে সুনেমরি। সে এবং তার সহকর্মী ইন্সপেক্টর গিনোযা ও এনফোর্সার্স দের নিয়েই আবর্তিত হয় সিরিজটির কাহিনী।
আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, ”কী সুন্দর একটি ব্যবস্থা! এতে তো কোনো প্রকার সমস্যাই নেই!”কিন্তু আসলেও কী নেই? সত্যিকার অর্থে কোনো যন্ত্র কী পারে মনের জটিলতা কে বিচার করতে? তার সিদ্ধান্ত কতোটা যৌক্তিক? আর সিস্টেম যাকে অপরাধী হিসেবে শনাক্ত করছে সে আসলেও অপরাধ করতো কিনা তা যাচাই করারও তো কোনো উপায় নেই।আবার এ প্রশ্নও মাথায় চলে আসে, কেউ যদি কখনো স্ক্যানার এর চোখ এড়িয়ে অপরাধ করার উপায় খুঁজে নেয়, তখন যন্ত্রের প্রতিক্রিয়া কী হবে? সে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? এ যন্ত্র নির্ভর সমাজে মানুষের মূল্যায়ন কী শুধুই যান্ত্রিকতায় সীমাবদ্ধ? প্রযুক্তি কি এতোটাই নিখুঁত? এ কৌতুহলগুলো মেটাতে হলে দেখতে হবে সাইকো পাস!
প্রশ্ন উঠতে পারে, কে কিভাবে সিবিল সিস্টেম গঠন করেছিলো! এর উত্তর অ্যানিম এ না পাওয়া গেলেও তা স্টোরি তে তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না।
ক্যারেক্টার:
সাইকো পাস এর চরিত্রগুলোর কথা বলতে গেলে বলা যায় প্রত্যেকটি চরিত্রই বেশ যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে শিনয়া কোগামি এবং শোগো মাকিশিমা চরিত্র দুটির কথা উল্লেখ না করলেই নয়। দুজনই আমার পছন্দের চরিত্রের তালিকায় সহজেই জায়গা করে নিয়েছে। এ দুজনের মধ্যকার মুখোমুখি, মনস্তাত্বিক ও বুদ্ধির লড়াই-ই পুরো সিরিজ এর উত্তেজনার একটি মূল উপজীব্য। কেউ কারো চেয়ে কম নয়! সিরিজটিতে কারো ভাবনা কেই জোর দিয়ে ভুল বলা যায় না। কে আসলে সঠিক এবং কে নয় এ প্রশ্ন দর্শক দের জন্যই ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে!
মিউজিক:
সিরিজটির কথা বলতে গেলে আর একটি কথা না উল্লেখ করলেই নয়, তা হলো সিরিজটির মিউজিক! এন্ডিং ও ওপেনিং সং গুলো চমৎকার ছিলো; বিশেষ করে ১ম ওপেনিং, Ling Tosite Sigure’র abnormalize গানটি। পুরো অ্যানিমে’র সেটিং টাকেই যেন সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে গানের কথা গুলোতে। শুনতে শুনতে আসক্ত হয়ে যাবার মতো গান আমার মতে।
ওভারঅল:
কৌতুহলোদ্দীপক প্লট নিয়ে তৈরি অ্যানিমেটি মোটামুটি সবার-ই ভালো লাগবে। বিশেষ করে ক্রাইম থ্রিলার জনরার ভক্তদের জন্য রিকমেন্ডেড। সিরিজটির ইংরেজি ডাবড ভার্সনও বেশ ভালো, কেউ চাইলে ডাবড ভার্সন ও দেখতে পারেন। যারা এখনো দেখেননি তারা দেরি না করে দেখে আসতে পারেন অ্যানিমেটি। আশা করি ভালো লাগবে!
শেষ করছি সিরিজটি থেকে আমার পছন্দের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে,
“I think the only time people really have value is when they act according to their own will.” -Shougo Makishima.

